📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 বিড়ি বাঁধা

📄 বিড়ি বাঁধা


পেশা হিসাবে বিড়ি বাঁধাকে গ্রহণ করা কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। যেহেতু বিড়ি পান করা ইসলামে হারাম এবং স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানে ধূমপান বিষপান করার সমান। অতএব হারাম ও বিষপানে সহযোগিতা কোন মুসলিম নরনারী করতে পারে না।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 খেলোয়াড়

📄 খেলোয়াড়


কেবলমাত্র খেলা ও খেলোয়াড় বলে ইসলামে কোন পেশা নেই। বিশেষ করে যে খেলা হারাম সে খেলার খেলোয়াড় হওয়াও হারাম। মুষ্টিযুদ্ধ, স্বাধীন মল্লযুদ্ধ বা কুশি খেলা, ষাঁড়-লড়াই ইত্যাদি খেলা - যাতে অঙ্গহানি ও প্রাণনাশের আশঙ্কা আছে এবং জিহাদী কোন কাজের সহায়ক নয় - সেসব খেলা ইসলামে বৈধ নয়। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ১৭৪৩পৃঃ)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 বক্তা

📄 বক্তা


বক্তৃতা করে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া পারতপক্ষে সকল মুসলিমের জন্য ওয়াজেব। কিন্তু বক্তৃতাকে পেশা ও উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে অবলম্বন করা এবং রেট বেঁধে তার বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ নয়। (দ্বীনী ইলমের নৈতিকতা দ্রষ্টব্য) অবশ্য সমাজ খুশী হয়ে যদি বক্তাকে অনেক কিছু দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করায় দোষ নেই। যেমন অসামর্থ্যবান বক্তার রাহাখরচ চেয়ে নেওয়াও দোষাবহ নয়। আর এতে তাঁর সমালোচনা হওয়া উচিত নয়। কারণ, দীপশিখা থেকে আমরা যদি কেবল আলো আশা করি এবং তাতে তেল ঢালার ব্যবস্থা না রাখি, তাহলে সে দীপ জ্বলবে কিভাবে?

অবশ্য বক্তাকে তাঁর বক্তৃতায় খেয়াল রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ বলেন, "সুতরাং যে ব্যক্তি বিনা ইলমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা আনআম ১৪৪ আয়াত) "বল যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা পরিত্রাণ পাবে না।” (সূরা ইউনুস ৬৯ আয়াত)

আর মহানবী বলেন, "মানুষের মিথ্যাবাদিতার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে, তাই বলে বেড়ায়।" (সহীহুল জামে' ৪৩৫৮নং) "সর্বনাশ সেই ব্যক্তির, যে লোককে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে। তার জন্য সর্বনাশ, তার জন্য সর্বনাশ।” (ঐ ৭০১৩নং)

প্রিয় নবী বলেন, "তোমরা আমার উপর মিথ্যা বলো না। যেহেতু যে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন দোযখে প্রবেশ করল।” (বুখারী, মুসলিম)
"যে ব্যক্তি আমি যা বলিনি তা বানিয়ে বলল, সে যেন নিজের ঠিকানা দোযখে বানিয়ে নিল। (বুখারী ১/২০১)
"যে ব্যক্তি আমার তরফ থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা তবে সে মিথ্যুকদের অন্যতম।” (মুসলিম)

বনী ঈসরাঈল লিখিত গ্রন্থ নিয়ে ব্যস্ত ছিল এবং আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব তাওরাতকে বর্জন করে বসেছিল। (সহীহুল জামে' ২০৪৪নং)
তারা যখন আসল হেদায়াতের কিতাবের উপর আমল ত্যাগ করে বসল, তখন কেচ্ছা-কাহিনী বলতে শুরু করল। (ঐ ২০৪৫নং)

বলাই বাহুল্য যে, বর্তমান যুগেও এমন অনেক বক্তা, দ্বীনের দায়ী, উলামা ও সাধারণ মানুষ আছেন, যাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন না করে যয়ীফ, জাল, মনগড়া কেচ্ছা-কাহিনী ও স্বপ্ন ইত্যাদি দ্বারা নিজেদের কিতাব ও মজলিস সরগরম করে রাখেন। সত্যই বলেছেন মহানবী, “অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির পথ অনুসরণ করবে বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাত (সম) পরিমাণ। এমনকি তারা যদি গো-সাপের (সান্ডা)র গর্তে প্রবেশ করে, তাহলে তোমরাও তাদের পিছনে পিছনে যাবে। (এবং তাদের কেউ যদি রাস্তার উপর প্রকাশ্যে সঙ্গম করে, তাহলে তোমরাও তা করবে!)" সাহাবাগণ বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ইয়াহুদ ও নাসারার অনুকরণ করার কথা বলছেন?' তিনি বললেন, "তবে আবার কার?" (বুখারী, মুসলিম ২৬৬৯, হাকেম, আহমাদ, সহীহুল জামে' ৫০৬৭ নং)

তিনি আরো বলেছেন, "পূর্ববর্তী জাতির সকল আচরণ এই উম্মত গ্রহণ করে নেবে।” (সহীহুল জামে' ৭২১৯ নং)

প্রিয় নবী বলেন, "অবশ্যই আল্লাহ এমন বাকপটু মানুষকে ঘৃণা করেন, যে জিহ্বা দ্বারা ভক্ষণ করে (এমন ঢঙে জিভ ঘুরিয়ে কথা বলে,) যেমন গাভী নিজ জিহ্বা দ্বারা সাপটে তৃণ ভক্ষণ করে।” (সহীহুল জামে' ১৮৭৫নং)

মহানবী বলেন, "এক সম্প্রদায় হবে, যারা নিজেদের জিহ্বা দ্বারা পেট চালাবে, যেমন গরু মাঠ থেকে (ঘাস) ভক্ষণ করে থাকে।” (আহমাদ, সহীহুল জামে' ৩৬৭০নং)
অর্থাৎ, তারা রুযী-রোযগারের জন্য নিজের জিহ্বাকে মাধ্যমরূপে ব্যবহার করবে, যেমন গরু তার একমাত্র অঙ্গ জিহ্বার সাহায্যে ঘাস বা লতাপাতা ভক্ষণ করে থাকে। গরু যেমন শুকনা ও ভিজা এবং তেঁতো-মিঠার মাঝে পার্থক্য করতে পারে না, বরং সামনে যা আসে তাই ভক্ষণ করে, অনুরূপ ঐ শ্রেণীর মানুষরা হক ও বাতিল এবং হালাল ও হারামের তমীয না করে নিজেদের জিহ্বায় যাচ্ছেতাই বলে শ্রোতাদের মন আবিষ্ট করে রুযী-রোযগার করে থাকে।

উল্লেখ্য যে, বক্তৃতার ডেট নেওয়ার সময় যে টাকা এ্যাডভান্স নেওয়া হয়, ডেট ফেল করলে সে টাকা বক্তার জন্য হালাল নয়। সে টাকা দাতাকে ফেরৎ দেওয়া জরুরী। অবশ্য দাতা মাফ করে দিলে সে কথা ভিন্ন।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 লেখক

📄 লেখক


লেখালেখির মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াত দেওয়াও যাঁরা পারেন তাঁদের জন্য ওয়াজেব। ইসলামের সৌন্দর্য বর্ণনা এবং ইসলামের প্রতি আরোপিত অপবাদ খন্ডন করে প্রত্যেক লেখাই প্রশংসিত।
পক্ষান্তরে ইসলাম-বিরোধী লেখা, কুফরী ও তাগুতের সপক্ষে লেখা, অশ্লীল ও নোংরা কথা, নৈতিকতা-বিরোধী কথিকা, গল্প, উপন্যাস, (আরব্য ও পারস্য উপন্যাসের মত) রূপকথা, কৌতুক প্রভৃতি লেখা, কারো সমালোচনা করার সময়, তার নাম নিয়ে, গালি দিয়ে, ব্যঙ্গ ও কটাক্ষ করে লেখা অবশ্যই বৈধ নয়। জনৈক আরবী কবি কি সুন্দরই না বলেছেন,
وَمَا مِنْ كَاتِبٍ إِلا سَيَفْنَى وَيُبْقِي الدَّهْرُ مَا كَتَبَتْ يَدَاهُ فَلا تَكْتُبْ بِكَفَكَ غَيْرَ شَيْءٍ يَسُرُّكَ فِي الْقِيَامَةِ أَنْ تَرَاهُ
অর্থাৎ, প্রত্যেক লেখকই এ দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে থেকে যাবে তা, যা তার হস্ত লিপিবদ্ধ করেছে। সুতরাং তুমি তোমার হস্ত দ্বারা এমন জিনিস ছাড়া অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করবে না, যা দর্শন করে কিয়ামতে আনন্দবোধ করতে পার।

এক নিকৃষ্ট লিখা ও তার মাধ্যমে উপার্জনের কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেন,
((فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ الله لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ )) (৭৯) سورة البقرة
অর্থাৎ, সুতরাং তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজ হাতে গ্রন্থ রচনা করে এবং অল্প মূল্য অর্জনের জন্য বলে, এটি আল্লাহর নিকট হতে এসেছে। তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের দুর্ভোগ এবং যা তারা উপার্জন করেছে তার জন্যও তাদের দুর্ভোগ (রয়েছে)। (সূরা বাকারাহ ৭৯ আয়াত)

কোন কোন লেখক নিজের কথা লিখে না, বরং তার বিক্রি করা কলম তাই লিখে যা ক্রেতা আদেশ করে। উৎকোচ, অনুগ্রহ বা কৃপাপ্রাপ্ত লেখক যেন মনে মনে বলে, 'দোষ-গুণ নাহি দেখি যে কিছু লেখাও লিখি, কলমে বসিয়া কৃপাময়।' এরা অন্যায়ে সহযোগিতাকারী এক শ্রেণীর সাহিত্য-ব্যবসায়ী। অপরাধে এরাও মূল অপরাধীর চাইতে কম নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00