📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 হস্তশিল্পী

📄 হস্তশিল্পী


এক শ্রেণীর মুসলিম আছে, যাদের পেশা হল, পাথর, মাটি, কাঠ বা কোন ধাতুর মূর্তি তৈরী করা, কোন বিচরণশীল প্রাণীর ছবি আঁকা, তোলা ইত্যাদি। এ ধরনের পেশা অবলম্বন করা কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়।
যেহেতু ইসলাম মূর্তি ও ছবির ঘোর বিরোধী। আল্লাহর রসূল বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, “তার চেয়ে অধিক সীমালংঘনকারী আর কে, যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করতে যায়? অতএব তারা একটিমাত্র শস্যদানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি মাত্র যব সৃষ্টি করুক তো।” (বুখারী, মুসলিম)

তিনি আরো বলেন, "কিয়ামতের দিন সব চেয়ে কঠিনতম আযাব ভোগকারী লোক হবে ছবি প্রস্তুতকারীরা।"
আল্লাহর রসূল আরো বলেছেন, "নিশ্চয় যারা এই ছবি (বা মূর্তিসমূহ) নির্মাণ করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে; বলা হবে, 'তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তা জীবিত কর।” (বুখারী, মুসলিম)

তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন ছবি বা মূর্তি নির্মাণ করবে (কিয়ামতে) তাকে ওর মধ্যে রূহ ফুঁকতে (প্রাণ দিতে) আদেশ করা হবে। অথচ সে ফুঁকতেই পারবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)

মহানবী রক্ত ও কুকুরের মূল্য এবং বেশ্যার উপার্জন গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর সুদখোর, সুদদাতা, চেহারা (নকশা করার জন্য) দাগে বা দাগায় এমন নারী এবং মূর্তি (বা ছবি) নির্মাতাকে অভিসম্পাত করেছেন। (বুখারী)

সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বলল, আমি ছবি (বা মূর্তি) নির্মাণ করি অতএব এ বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দিন। তিনি বললেন, আমার কাছে এস। লোকটি তাঁর কাছে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আরো কাছে এস। লোকটি আরো কাছে গেল। অতঃপর তার মাথায় হাত রেখে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রসূল-এর নিকট থেকে যা শুনেছি তাই তোমাকে জানাব; আমি আল্লাহর রসূল-কে বলতে শুনেছি যে, "প্রত্যেক মূর্তি বা ছবি নির্মাতা দোযখে যাবে। সে যে সব মূর্তি বা ছবি বানিয়েছে তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে এমন জীব তৈরী করা হবে যা তাকে জাহান্নামে আযাব দিতে থাকবে।” ইবনে আব্বাস বলেন, আর যদি তুমি একান্ত করতেই চাও তবে গাছ ও রূহবিহীন বস্তুর ছবি বানাও। (মুসলিম)

বিশেষ করে অশ্লীল ছবি; নগ্ন বা অর্ধনগ্ন ছবি, ব্যঙ্গচিত্র ইত্যাদি অধিক হারাম। অবশ্য প্রয়োজন ক্ষেত্রে ক্যামেরার সাহায্যে ছবি তোলাকে উলামাগণ বৈধ বলেছেন। অতএব সেই বৈধ সীমার ভিতরে যদি কেউ চলতে পারে, তাহলে তার কথা ভিন্ন।

প্রকাশ থাকে যে, হস্তশিল্পে শাড়ি বা শালের উপর নকশা করা বৈধ। কিন্তু তাতে মানুষ বা প্রাণীর ছবি তোলা বৈধ নয়। যেহেতু তাতে অন্যায়ের সহযোগিতা হবে তাই।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 দেহ-ব্যবসায়ী, যৌনকর্মী

📄 দেহ-ব্যবসায়ী, যৌনকর্মী


ইসলামে ব্যভিচার ও সমকাম হারাম। অতএব ব্যভিচার বা সমকামের মাধ্যমে উপার্জন হারাম। বলা বাহুল্য, দেহোপজীবিনী ও যৌনকর্মীর উপার্জিত অর্থ অপবিত্র ও হারাম।

মহানবী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী কুকুরের মূল্য, বেশ্যাবৃত্তির কামাই ও গণকের উপার্জন গ্রহণ ও ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহুল জামে' ৬৯৫১নং) তিনি বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে কামানো অর্থকে 'খাবীষ' বা অপবিত্র বলেছেন। (সহীহুল জামে' ৩০৭৭নং) কখনো বলেছেন ঐ উপার্জন হল হারাম। (সহীহুল জামে' ৩০৭৬নং) তিনি বলেছেন, “বেশ্যাবৃত্তির অর্থ হালাল নয়।” (আবু দাউদ ৩৪৮৪নং)
প্রকাশ থাকে যে, অনৈসলামী সরকার-অনুমোদিত পেশাদার বেশ্যাদের উপার্জন যেমন হারাম, তেমনই লুকোচুরি করে ঢেমনদের গোপনে দেহদানের বিনিময়ে নেওয়া অর্থও হারাম।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 কোটনা-কুটনী

📄 কোটনা-কুটনী


সমাজে কোন কোন পুরুষ অথবা মহিলা গোপন প্রণয় ও ব্যভিচারের দূত হিসাবে কর্ম করে উভয় পক্ষ থেকে অর্থ গ্রহণ করে থাকে এবং গোপন প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সতর্কতার সাথে মিলন সংসাধন করে। তাদের এ অর্থও খবীষ ও হারাম।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 গান-শিল্পী

📄 গান-শিল্পী


ইসলামে গান হারাম। অতএব গায়ক-গায়িকার পেশা অবলম্বন করাও ইসলামে হারাম। হারাম তার মাধ্যমে কামানো সকল অর্থ। (বিস্তারিত দ্রষ্টব্যঃ 'যুব-সমস্যা ও তার শরয়ী সমাধান')

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00