📄 পীর-দরবেশ
যে সকল পীর-দরবেশদের মাঝে শির্ক ও বিদআতের বেসাতি আছে, তাদের বেসাতি অবশ্যই হারাম। যারা সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অসৎ উপায়ে নযর ও নযরানার নামে টাকা-পয়সা উপার্জন করে দুনিয়া চালায়, তাদের সে পেশা অতি নিকৃষ্ট নিশ্চয়ই।
📄 দৈব বা ফকীরী চিকিৎসক
এক শ্রেণীর হাতুড়ে চিকিৎসক আছে, যারা ফকীরী চিকিৎসা করে থাকে। তাদের সেই চিকিৎসায় নানান শিকী পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। শিকী ঝাড়ফুঁক করে (মন্ত্র পড়ে), কখনো বা শিকী তাবীয লিখে। জিন ছাড়াতে পীরের পাদুকা ব্যবহার করে, পশু যবেহ করে, রোগীর দেহে লোহা বাঁধে, মাটির ভাঁড়, সিঁদুর ও পেরেক আদি দিয়ে ঘর বন্ধ করে, ভালোবাসা সৃষ্টি অথবা নষ্ট করার জন্য যোগ-যাদুর সাহায্য নিয়ে থাকে, কোন যুবতীর বিবাহের বয়স পার হতে গেলে তার সত্বর বিবাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে একাকী বন্ধ কক্ষে সেই অনুঢ়া পূর্ণযৌবনা যুবতীর পেটে তেল মালিশ করে চিকিৎসা করে, মহিলার মাসিকের ন্যাকরা নিয়ে চিকিৎসা, নোংরা জিনিস দিয়ে কুরআনের আয়াত লিখে চিকিৎসা, কোন অলীর কাপড়, কবরের ধুলো দিয়ে চিকিৎসা করে।
অনেকে চিকিৎসায় রোগীর মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে, তার পরিহিত জামা আনতে আদেশ করে, জিন ছাড়াতে গায়রুল্লাহর নামে পশুবলি করে, আগুন দ্বারা চিকিৎসা করে ইত্যাদি।
উক্ত শ্রেণীর ফকীরী চিকিৎসা যে হারাম এবং একজন মুসলিমের জন্য এ ধরনের পেশা অবলম্বন করা যে অবৈধ, তা কোন তওহীদবাদী মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়। জ্ঞাতব্য যে, যে ইমাম শিকী তাবীয লিখে, চিকিৎসায় অবৈধ শিকী পদ্ধতি ব্যবহার করে তার পিছনে নামায হবে না। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ১৪৩৮পৃঃ)
📄 ভিক্ষুক-ফকীর
সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা পেশাদার ভিখারী। অনেকের বংশই আবার ফকীর বংশ। তাদের নাকি ভিক্ষা ছাড়া অন্য কোন পেশা অবলম্বন করা বৈধই নয়। অনেকে তাওয়াক্কুলের সঠিক অর্থ না বুঝে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলের নাম নিয়ে দুনিয়াদারী বর্জন করে মানুষের উপর তাওয়াক্কুল করে হাত পেতে খায়। অনেকে আছে ব্যবসাদার ফকীর!
অথচ একান্ত নিরুপায় ছাড়া ইসলামে ভিক্ষা করা বা চাওয়ার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতা বৈধ নয়। বৈধ নয় উপায় থাকতে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করা।
📄 হস্তশিল্পী
এক শ্রেণীর মুসলিম আছে, যাদের পেশা হল, পাথর, মাটি, কাঠ বা কোন ধাতুর মূর্তি তৈরী করা, কোন বিচরণশীল প্রাণীর ছবি আঁকা, তোলা ইত্যাদি। এ ধরনের পেশা অবলম্বন করা কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়।
যেহেতু ইসলাম মূর্তি ও ছবির ঘোর বিরোধী। আল্লাহর রসূল বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, “তার চেয়ে অধিক সীমালংঘনকারী আর কে, যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করতে যায়? অতএব তারা একটিমাত্র শস্যদানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি মাত্র যব সৃষ্টি করুক তো।” (বুখারী, মুসলিম)
তিনি আরো বলেন, "কিয়ামতের দিন সব চেয়ে কঠিনতম আযাব ভোগকারী লোক হবে ছবি প্রস্তুতকারীরা।"
আল্লাহর রসূল আরো বলেছেন, "নিশ্চয় যারা এই ছবি (বা মূর্তিসমূহ) নির্মাণ করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে; বলা হবে, 'তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তা জীবিত কর।” (বুখারী, মুসলিম)
তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন ছবি বা মূর্তি নির্মাণ করবে (কিয়ামতে) তাকে ওর মধ্যে রূহ ফুঁকতে (প্রাণ দিতে) আদেশ করা হবে। অথচ সে ফুঁকতেই পারবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)
মহানবী রক্ত ও কুকুরের মূল্য এবং বেশ্যার উপার্জন গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর সুদখোর, সুদদাতা, চেহারা (নকশা করার জন্য) দাগে বা দাগায় এমন নারী এবং মূর্তি (বা ছবি) নির্মাতাকে অভিসম্পাত করেছেন। (বুখারী)
সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বলল, আমি ছবি (বা মূর্তি) নির্মাণ করি অতএব এ বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দিন। তিনি বললেন, আমার কাছে এস। লোকটি তাঁর কাছে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আরো কাছে এস। লোকটি আরো কাছে গেল। অতঃপর তার মাথায় হাত রেখে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রসূল-এর নিকট থেকে যা শুনেছি তাই তোমাকে জানাব; আমি আল্লাহর রসূল-কে বলতে শুনেছি যে, "প্রত্যেক মূর্তি বা ছবি নির্মাতা দোযখে যাবে। সে যে সব মূর্তি বা ছবি বানিয়েছে তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে এমন জীব তৈরী করা হবে যা তাকে জাহান্নামে আযাব দিতে থাকবে।” ইবনে আব্বাস বলেন, আর যদি তুমি একান্ত করতেই চাও তবে গাছ ও রূহবিহীন বস্তুর ছবি বানাও। (মুসলিম)
বিশেষ করে অশ্লীল ছবি; নগ্ন বা অর্ধনগ্ন ছবি, ব্যঙ্গচিত্র ইত্যাদি অধিক হারাম। অবশ্য প্রয়োজন ক্ষেত্রে ক্যামেরার সাহায্যে ছবি তোলাকে উলামাগণ বৈধ বলেছেন। অতএব সেই বৈধ সীমার ভিতরে যদি কেউ চলতে পারে, তাহলে তার কথা ভিন্ন।
প্রকাশ থাকে যে, হস্তশিল্পে শাড়ি বা শালের উপর নকশা করা বৈধ। কিন্তু তাতে মানুষ বা প্রাণীর ছবি তোলা বৈধ নয়। যেহেতু তাতে অন্যায়ের সহযোগিতা হবে তাই।