📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 গণক ও জ্যোতিষী

📄 গণক ও জ্যোতিষী


সকল প্রকার ভূত-ভবিষ্যৎ ও অদৃশ্যের খবর একমাত্র আল্লাহই জানেন। (সূরা আনআম ৫৯, সূরা নামল ৬৫ আয়াত) আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ গায়বী খবর জানে বলে বিশ্বাস করলে মুমিন ঈমান থেকে খারিজ হয়ে যেতে পারে। (আহমাদ ২/৪০৮, আবু দাউদ ৩৮০৪নং) আল্লাহ তাআলা তারকারাজিকে আকাশমন্ডলীর সৌন্দর্য ও সুশোভনতার উপকরণ, গোপনে আসমানী তথ্য সংগ্রহকারী শয়তান দলকে বিতাড়িত করার জন্য তাদের প্রতি ক্ষেপণীয় অস্ত্র (উল্কা) স্বরূপ এবং অন্ধকারে জল ও স্থলপথের পথিকদের জন্য পথ নির্দেশক ও দিক নির্ণায়ক স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আনআম ৯৭, নাহল ১৬, স্বাফফাত ৬-১০, মুল্ক ৫ আয়াত) পৃথিবীর মঙ্গলামঙ্গল ঘটনাঘটনের সাথে তাঁর এই সৃষ্টি-বিচিত্রের কোন সম্পর্ক নেই। তাই মুসলিম জ্যোতিষবিদ্যার শুভাশুভ বিচারে বিশ্বাসী নয়। বৃষ্টি-বর্ষা ও ফল-ফসলের বিধাতাও আল্লাহই। কোন রাশিচক্রের বলে না বৃষ্টি হয়, না ফসল ফলে। সব কিছু তাঁরই ইঙ্গিতে ঘটে থাকে, মানুষ অনুমান ও ধারণা করে মাত্র।

কারো হস্তরেখা দেখে ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিরূপণ, দৈহিক কোন লক্ষণ যেমন, টেরা চক্ষু, জোড়া ভ্রূ, কুপগাল, ছয় আঙ্গুল, তিল, জড়ুল প্রভৃতি দেখে ভাগ্য বা চরিত্র বিচার, 'আবজাদি' হিসাব জুড়ে, ফালনামা খুলে, শুভাশুভের অক্ষর বা হরফ নির্দিষ্ট করে চক্ষু বুজে হাত দিয়ে, ফালকাঠি টেনে, বা পাখী উড়িয়ে ভাগ্য-ভবিষ্যৎ বা যাত্রা-কর্ম ইত্যাদির শুভাশুভ নির্ধারণ জাহেলিয়াতি ও মূর্খতা। ইসলাম এ সবকে সমর্থন করে না। (সূরা মাইদাহ ৯০ আয়াত দ্রঃ) মুসলিম এসবে বিশ্বাস করে না। তদনুরূপ হাত চালিয়ে, বদনা ঘুরিয়ে সাপ দেখা, চোর ধরা বা কিছু বলাও অনুমান মাত্র।

বলাই বাহুল্য যে, হাত গণা, ভাগ্য-গণনা ও ভাগ্যরাশির জ্যোতিষীর পেশার উপার্জন ইসলামে বৈধ নয়।
প্রকাশ থাকে যে, দিন পঞ্জিকার সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ প্রভৃতি হিসাবের জ্যোতিষ অবৈধ নয়।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 পীর-দরবেশ

📄 পীর-দরবেশ


যে সকল পীর-দরবেশদের মাঝে শির্ক ও বিদআতের বেসাতি আছে, তাদের বেসাতি অবশ্যই হারাম। যারা সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অসৎ উপায়ে নযর ও নযরানার নামে টাকা-পয়সা উপার্জন করে দুনিয়া চালায়, তাদের সে পেশা অতি নিকৃষ্ট নিশ্চয়ই।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 দৈব বা ফকীরী চিকিৎসক

📄 দৈব বা ফকীরী চিকিৎসক


এক শ্রেণীর হাতুড়ে চিকিৎসক আছে, যারা ফকীরী চিকিৎসা করে থাকে। তাদের সেই চিকিৎসায় নানান শিকী পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। শিকী ঝাড়ফুঁক করে (মন্ত্র পড়ে), কখনো বা শিকী তাবীয লিখে। জিন ছাড়াতে পীরের পাদুকা ব্যবহার করে, পশু যবেহ করে, রোগীর দেহে লোহা বাঁধে, মাটির ভাঁড়, সিঁদুর ও পেরেক আদি দিয়ে ঘর বন্ধ করে, ভালোবাসা সৃষ্টি অথবা নষ্ট করার জন্য যোগ-যাদুর সাহায্য নিয়ে থাকে, কোন যুবতীর বিবাহের বয়স পার হতে গেলে তার সত্বর বিবাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে একাকী বন্ধ কক্ষে সেই অনুঢ়া পূর্ণযৌবনা যুবতীর পেটে তেল মালিশ করে চিকিৎসা করে, মহিলার মাসিকের ন্যাকরা নিয়ে চিকিৎসা, নোংরা জিনিস দিয়ে কুরআনের আয়াত লিখে চিকিৎসা, কোন অলীর কাপড়, কবরের ধুলো দিয়ে চিকিৎসা করে।

অনেকে চিকিৎসায় রোগীর মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে, তার পরিহিত জামা আনতে আদেশ করে, জিন ছাড়াতে গায়রুল্লাহর নামে পশুবলি করে, আগুন দ্বারা চিকিৎসা করে ইত্যাদি।
উক্ত শ্রেণীর ফকীরী চিকিৎসা যে হারাম এবং একজন মুসলিমের জন্য এ ধরনের পেশা অবলম্বন করা যে অবৈধ, তা কোন তওহীদবাদী মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়। জ্ঞাতব্য যে, যে ইমাম শিকী তাবীয লিখে, চিকিৎসায় অবৈধ শিকী পদ্ধতি ব্যবহার করে তার পিছনে নামায হবে না। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ১৪৩৮পৃঃ)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 ভিক্ষুক-ফকীর

📄 ভিক্ষুক-ফকীর


সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা পেশাদার ভিখারী। অনেকের বংশই আবার ফকীর বংশ। তাদের নাকি ভিক্ষা ছাড়া অন্য কোন পেশা অবলম্বন করা বৈধই নয়। অনেকে তাওয়াক্কুলের সঠিক অর্থ না বুঝে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলের নাম নিয়ে দুনিয়াদারী বর্জন করে মানুষের উপর তাওয়াক্কুল করে হাত পেতে খায়। অনেকে আছে ব্যবসাদার ফকীর!
অথচ একান্ত নিরুপায় ছাড়া ইসলামে ভিক্ষা করা বা চাওয়ার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতা বৈধ নয়। বৈধ নয় উপায় থাকতে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00