📄 ২। মূর্তি বা ছবির ব্যবসা
ইসলাম মূর্তির ঘোর বিরোধী। যেহেতু ইসলামের মূল বুনিয়াদ হল তওহীদ। আর শির্কের মূল উৎপত্তিস্থল হল মূর্তি। আল্লাহর রসূল বলেছেন, "নিশ্চয় যারা এই ছবি (বা মূর্তিসমূহ) নির্মাণ করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে; বলা হবে, 'তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তা জীবিত কর।” (বুখারী)
আবু জুহাইফা বলেন, নবী রক্ত ও কুকুরের মূল্য এবং বেশ্যার উপার্জন গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর সুদখোর, সুদদাতা, চেহারা (নকশা করার জন্য) দাগে বা দাগায় এমন নারী এবং মূর্তি (বা ছবি) নির্মাতাকে অভিসম্পাত করেছেন। (বুখারী)
ইবনে আব্বাস বলেন, আমি রসূল-কে বলতে শুনেছি যে, "যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন ছবি বা মূর্তি নির্মাণ করবে (কিয়ামতে) তাকে ওর মধ্যে রূহ ফুঁকতে (প্রাণ দিতে) আদেশ করা হবে। অথচ সে ফুঁকতেই পারবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)
বলা বাহুল্য, যে কোন মূর্তি ও ছবি প্রস্তুত ইসলামে অবৈধ। তার মধ্যে সব থেকে বেশী হারাম হল শিকী মূর্তি বা ছবি; কোন ফিরিশ্তা, নবী, সাহাবী বা অলীর কাল্পনিক মূর্তি বা ছবি। অতঃপর এমন মূর্তি বা ছবি যাতে আছে নগ্নতা ও অশ্লীলতা।
সুতরাং কোন মুসলিম মূর্তি বা ছবি প্রস্তুত করতে পারে না। পারে না মূর্তির রূপে কোন অলঙ্কার প্রস্তুত করতে, পারে না তার ব্যবসা করতে, তার ব্যবসার জন্য ঘর, দোকান বা গাড়ি ভাড়া দিতে।
প্রাণীর মূর্তিবিশিষ্ট বাচ্চাদের খেলনার ব্যবসা একটি সন্দিগ্ধ ব্যবসা, অতএব তা প্রস্তুত ও তার ব্যবসা করা থেকে দূরে থাকাই উচিত। যেহেতু অনেক উলামার মতে বর্তমান যুগের খেলনা ও পুতুল বৈধতার আওতাভুক্ত নয়। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১১/২৬৩)
ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলা বা তার জন্য স্টুডিও খোলাও তেমনিই একটি সন্দিগ্ধ ব্যবসায়। যদিও প্রয়োজনে ছবি তোলা বৈধ এবং সেই বৈধতার জন্য স্টুডিও প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হল, সেই স্টুডিওতে অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলার লোকও তো ছবি তুলতে আসবে? ছবি তুলতে আসবে প্রেমিক-প্রেমিকারা। তখন কি আপনি হারাম থেকে বাঁচতে পারবেন? অতএব উপার্জনের এ পথ বর্জন করাই উচিত।
সিনেমা বা ভিডিও হল খোলা, নোংরা ফিল্মের ব্যবসা, তার জন্য গাড়ি বা ঘর ভাড়া দেওয়া ইত্যাদিও বৈধ নয়। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সবের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র ধ্বংস হয়।
📄 ৩। বাদ্য যন্ত্র তৈরী ও তার ব্যবসা, অন্যান্য ব্যবসা
৩। বাদ্য যন্ত্র তৈরী, তার ব্যবসা, তার জন্য গাড়ি বা ঘর ভাড়া দেওয়া, ভিডিও বা গানের ক্যাসেট প্রস্তুত, তার ব্যবসা ও তার জন্য গাড়ি বা ঘর ভাড়া দেওয়া হারাম। যেহেতু ইসলামে গান-বাজনা হারাম। (এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুনঃ 'যুব-সমস্যা ও তার শরয়ী সমাধান')
৪। সেলুন খুলে তাতে লোকের দাড়ি চেঁছে নেওয়া অর্থ হারাম। হারাম পুরুষ হয়ে মহিলার এবং মহিলা হয়ে পুরুষের চুল কেটে এবং ঐ শ্রেণীর সেলুন খোলার জন্য ঘর ভাড়া দিয়ে কামানো পয়সা।
৫। রূপমহলে মহিলাদের অবৈধ রূপ আনয়ন করে পয়সা কামানো বৈধ নয়, কালো কলপ দিয়ে চুল রঙিয়ে, দেগে নক্সা করে, ভ্রূ চেঁছে, দাঁত ঘসে পাতলা করে, নাভির নিচের লোম সাফ করে অথবা উক্ত রূপমহল খোলার জন্য ঘর ভাড়া দিয়ে অর্থ কামানো।
৬। অবৈধ খেলার সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে ব্যবসা অবৈধ।
৭। মেলা চালিয়ে অর্থ উপার্জন বৈধ নয়; যে মেলায় থাকে নানা নোংরা প্রদর্শনীর আকর্ষণ। যে মেলা হয় জুয়া ও প্রেমিকদের প্রেমের আড্ডা।
৮। মূর্তি ও মাযার পূজার শিকী মেলায় দোকান করে অর্থ উপার্জন বৈধ নয়।
৯। ইন্টারনেটের দোকান খোলা; যে ইন্টারনেটে নোংরা জিনিস দেখা হয় এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হয়।
১০। সূদী ব্যাংকে যে কোন পদের চাকুরী করা; অফিসার, ড্রাইভার, ঝাড়ুদার, পাহারাদার হওয়া হারাম। তার জন্য গাড়ি বা ঘর ভাড়া দেওয়া ইত্যাদি যে কোন প্রকারের সহযোগিতা করা হারাম। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৬৮১পৃঃ)
১১। প্রেস খুলে শিকী ও বিদআতী তথা নোংরা ছবি সম্বলিত অশ্লীল বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ছাপা, অবৈধ কিছুর বিজ্ঞাপন ছাপা, এমন ছাপাখানায় চাকরি করা, শির্কী, বিদআতী ও নোংরা বই-এর দোকান বা স্টল খুলে তার ব্যবসা করা, তার জন্য গাড়ি বা ঘর ভাড়া দেওয়া, কম্পিউটার বা টাইপ-রাইটারে অবৈধ লেটার ছেপে অর্থ কামানো অবৈধ।
১২। শির্ক বা বিদআতের সহযোগিতা করে এমন যে কোন জিনিসের ব্যবসা বৈধ নয়। বৈধ নয় তসবীহ-দানার ব্যবসা, মূর্তি বা মাযারের পাশে ফুল ব্যবসা, কবরে চড়ানোর জন্য চাদর ব্যবসা, কবরে দেওয়ার জন্য ধূপ ও বাতির ব্যবসা, মাদুলি নির্মাণ ও তা ক্রয়-বিক্রয়, তাজিয়ার সাজ-সরঞ্জাম বিক্রয় ইত্যাদি অবৈধ।
১৩। যা ইসলামে ব্যবহার করা বৈধ নয়, তার ব্যবসা করা যেমন; পরচুলা (টেসেল), কালো কলপ, ইত্যাদি প্রস্তুত ও তা দোকানে বিক্রয় করা অবৈধ।
১৪। এমন হোটেলে (পরিচ্ছন্নতার) কাজ করা উচিত নয়, যে হোটেলে মদও বিক্রয় ও পরিবেশন করা হয়। আর যাকে সরাসরি মদ পরিবেশন করতে হয় তার জন্য ঐ কাজ হারাম। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৫৭২পৃঃ)
১৫। জেনেশুনে চুরির মাল ক্রয় করা বৈধ নয়। কারণ তাতে চুরির এক প্রকার সহযোগিতা এবং তাতে সম্মতি প্রকাশ করা হয়। বৈধ নয় চুরির মালের ব্যবসা করা; চাহে সে মাল সরকারী হোক অথবা বেসরকারী।
১৬। গান-বাজনার জন্য মাইক ভাড়া দেওয়া, শির্ক বিদআত বা অন্যায় কোন কাজে গাড়ি ভাড়া দেওয়া, প্যান্ডেল ভাড়া দেওয়া, বাঁশ ভাড়া দেওয়া, ঘর ভাড়া দেওয়া ইত্যাদি হারাম।
১৭। এমন হালাল জিনিসও এমন লোককে বিক্রি করা বৈধ নয়, যে লোক সম্বন্ধে বুঝা যাবে যে, সে ঐ জিনিস হারাম কাজে ব্যবহার করবে। যেমন গুড় হালাল জিনিস, কিন্তু যে মদ তৈরী করবে তাকে তা বিক্রয় করা হারাম। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে বলে যাকে সন্দেহ হয় তাকে বিষ বিক্রয় করা হারাম। পুরুষকে (তার নিজের ব্যবহারের জন্য আংটি, বোতাম কলম ইত্যাদি) স্বর্ণ বিক্রয় হারাম। শির্ক বা হারাম কাজে ব্যবহার করবে বলে যার ব্যাপারে নিশ্চয়তা থাকে, তাকে সেই ধরনের কোন যন্ত্র বিক্রয় হারাম।
১৮। আমাদের দেশে যে সকল ফিল্ম দেখানো হয়, তা সাধারণতঃ নারীর রূপ, যৌবন, প্রেম ও যৌন আবেগ নিয়ে গঠিত। তার উপর থাকে লজ্জাকর কথোপকথন, চরিত্র ধ্বংসকারী ফ্যাক্ট ও দৃশ্য, মন-মাতানো প্রেমের গান ও অর্ধনগ্ন পোশাকের নৃত্য ও অঙ্গভঙ্গি। বলাই বাহুল্য যে, সুরুচিসম্মত ধর্ম ইসলামে এ সবের কিছুই বৈধ নয়। সুতরাং ফিল্ম-ইন্ডাষ্ট্রিজের মালিক হয়ে, সিনেমা বা ভিডিওর হল খুলে, ভিডিও বা সিডি-প্লেয়ার যন্ত্র ফিল্ম দেখার জন্য ভাড়া দিয়ে কামানো অর্থ হারাম। হারাম ফিল্মের পরিচালক, সংযোজক, অভিনেতা, অভিনেত্রী, ক্যামেরা-ম্যান, কর্মচারী বা অন্য কোন প্রকার চাকরি করে কামানো পয়সা। (*)
১৯। গান-বাজনা বা অবৈধ ও নোংরা কোন ফিল্মের ক্যাসেট বা সিডি রেকর্ড করে দেওয়ার মাধ্যমে কামানো অর্থ হালাল নয়।
২০। মুসলিমদের গৃহযুদ্ধের সময় অস্ত্র বিক্রি করা অবৈধ। (আল-মুলাখখাসুল ফিকহী ২/১২)
টিকাঃ
(*) বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য 'আদর্শ পরিবার ও পরিবেশ'।