📄 কসম খেয়ে পণ্য বিক্রয়
সাধারণতঃ সকল মানুষই জানে যে, ব্যবসায়ীরা বিনা লাভে কোন পণ্য ক্রেতাকে দিতে পারে না। কথায় বলে, পাইকার বাপের কাছেও লাভ নেয়। তাদের মধ্যে কেউ কম নেয়, কেউ বেশী। সুতরাং ব্যবসায়ী সাধারণতঃ সমাজে অবিশ্বস্ত। আর সেই জন্য দরকার পরে মানুষের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করার। অন্য দিকে প্রত্যেক মুসলিমই কসমের মান জানে। কোন কথা বিশ্বাস না হলে তা যদি কসম করে বলা হয়, তাহলে শ্রোতা তা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে নেয়। আর সেই জন্যই বহু অসৎ ব্যবসায়ী আছে, যারা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করে। নিজের ধান্দা চালাবার জন্য কসমের ধাঁধাঁয় ফেলে ক্রেতাকে অনায়াসে শিকার করে। সামান্য দুনিয়ার ফায়দা লুটার জন্য মহান আল্লাহর নামকে ব্যবহার করে।
মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের মাল অনধিকার আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে কসম করে, সে ব্যক্তি এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন।” আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, অতঃপর আল্লাহর রসূল এ কথার সমর্থনে আল্লাহর কিতাব থেকে এই আয়াত আমাদের জন্য পাঠ করলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَنِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُوْلَئِبِكَ لَا خَلَقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ )
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আ-লি ইমরান ৭৭ আয়াত) (বুখারী ৬৬৭৬, ৬৬৭৭, মুসলিম ১১০নং, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
মহানবী বলেন, "তোমরা ব্যবসা-বণিজ্যে অধিকাধিক কসম খাওয়া থেকে দূরে থেকো। কারণ, কসম পণ্যদ্রব্য চালু করে ঠিকই, কিন্তু তা উপার্জনের (বর্কত) বিনষ্ট করে দেয়।” (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সহীহ তারগীব ১৭৯৫নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "চার ব্যক্তিকে আল্লাহ ঘৃণা করেন; অত্যধিক কসম খেয়ে পণ্য বিক্রয়কারী ব্যবসায়ী, অহংকারী গরীব, ব্যভিচারী বৃদ্ধ এবং অত্যাচারী রাজা (শাসক)। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে' ৮৮০নং)
তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি নিজের কসম দ্বারা কোন মুসলিমের অধিকার হরণ করে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ দোযখ ওয়াজেব এবং বেহেশ্ হারাম করে দেন।” লোকেরা বলল, 'যদিও সামান্য কিছু হয় তাও, হে আল্লাহর রসূল?!' বললেন, "যদিও বা পিলু (গাছের) একটি ডালও হয়।” (মালেক, মুসলিম ১৩৭, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ২৩২৪নং)
অনেক ব্যবসায়ী আবার মিথ্যা কসম খেয়ে মাল বিক্রি করে। মিথ্যা কসম করে বলে, আল্লাহর কসম! আমি এতে লাভ করছি না, অথচ সে করছে। বলে, আল্লাহর কসম! আমি এততে কিনেছি, অথচ সে কিনেছে তার কমে। বলে, আল্লাহর কসম! এ জিনিস বাজারের সেরা, অথচ তা সেরা নয়। বলে, আল্লাহর কসম! শুধু আপনার জন্য এই রেট, অথচ ঐ রেটে অনেককেই দেয়।
বলা বাহুল্য, অনেক মানুষ ব্যবসায়ীর কসমের চমক ও নিশ্চয়তায় বিশ্বাস করে পণ্য ক্রয় করে এবং অনেকে ধোকাও খায়। আসলে এই শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা স্বল্প পার্থিব লাভের জন্য আল্লাহর নামকে মিথ্যায় ব্যবহার করে এবং নিজেদের আখেরাত বরবাদ করে। এই পন্থায় যে অর্থ উপার্জন করে, তা হারাম অর্থ হয়। ব্যবসায়ীর ব্যবসা চলে, মাল কাটে ও লাভ হয় বটে, কিন্তু তার বর্কত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
আল্লাহর রসূল বলেন, "ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত (ক্রয়- বিক্রয়ে তাদের) এখতিয়ার থাকে। সুতরাং তারা যদি (ক্রয়-বিক্রয়ে) সত্য বলে এবং (পণ্যদ্রব্যের দোষ-গুণ) খুলে বলে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বর্কত দেওয়া হয়। অন্যথা যদি (পণ্যদ্রব্যের দোষ-ত্রুটি) গোপন করে এবং মিথ্যা বলে তাহলে বাহ্যতঃ তারা লাভ করলেও তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বর্কত বিনাশ করে দেওয়া হয়। আর মিথ্যা কসম পণ্যদ্রব্য চালু করে ঠিকই, কিন্তু তা উপার্জনের (বর্কত) বিনষ্ট করে দেয়।” (বুখারী ২১১৪, মুসলিম ১৫৩২, আবুদাউদ ৩৪৫৯, তিরমিযী ১২৪৬নং, নাসাঈ)
আবু যার বলেন, একদা নবী বললেন, "তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকিয়েও দেখবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য হবে যন্ত্রণাপ্রদ শাস্তি।” তিনি এ কথাটি পুনঃপুনঃ তিনবার বললেন। আমি বললাম, 'ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারা কারা হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন, "তারা হল, যে ব্যক্তি গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে 'দিয়েছি-দিয়েছি' বলে প্রচার করে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম করে যে তার পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করে।” (মুসলিম ১০৬, আবু দাউদ ৪০৮৭, তিরমিযী ১২১১, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ২২০৮নং)
মহানবী বলেন, "কাবীরা গোনাহ হল, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতামাতার অবাধ্যাচরণ করা এবং মিথ্যা কসম করা।” (বুখারী ৬৬৭৫, তিরমিযী ৩০২১নং, নাসাঈ)
আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি কোন এমন বিষয়ে (জেনে-শুনে) মিথ্যা কসম খেল; যে বিষয়ে কাফফারা অথবা গোনাহ অনিবার্য, সে যেন নিজের ঠিকানা দোযখে বানিয়ে নিল।” (আবু দাউদ ৩২৪২নং, হাকেম ৪/২৯৪, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৩৩২নং)
অনেক বিক্রেতা আছে, যারা ক্রেতার মনে চমক ধরানোর জন্য কসম করে বলে, এ জিনিস এত দাম ছাড়া বিক্রি করব না। কিন্তু পরক্ষণে কসম ভঙ্গ করে তা তার থেকে কম দামে বিক্রি করে। কখনো কসম করে বলে, এই দামে বিক্রি করব না। কিন্তু পরক্ষণে সে সেই দামেই বিক্রি করে। এমন ব্যবসায়ীরা যে আল্লাহর মর্যাদা ও কসমের মান রক্ষা করে না এবং দুনিয়ার বদলে আখেরাতকে বিক্রি করে, তাতে কি কারো সন্দেহ থাকতে পারে?
আবু সাঈদ খুদরী বলেন, একদা এক বেদুঈন একটি বকরী নিয়ে (আমার) পাশ দিয়ে গেল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'তুমি এটাকে ৩ দিরহামে বিক্রি করবে?' উত্তরে সে বলল, 'না, আল্লাহর কসম!' অতঃপর সে সেটাকে (ঐ ৩ দিরহামেই) বিক্রি করল। আমি এ খবর আল্লাহর রসূল-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “সে তার দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে বিক্রি করেছে।” (ইবনে হিব্বান, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৬৪নং)
গোদের উপর বিষফোঁড়া, অনেকে আবার গায়রুল্লাহর নামে কসম খেয়ে মাল বিক্রি করে। কেউ খায় কা'বার কসম। কেউ বলে কিবলার দিকে মুখ করে। কেউ করে ছেলের দিব্যি। কেউ খায় পীর বা মাযারের শপথ! সুতরাং এ ক্ষেত্রে এ আচরণ হারাম ও কাবীরা গোনাহ থেকে যে শির্কের পর্যায়ে পৌঁছে থাকে তা বলাই বাহুল্য।
মহানবী বলেন, "তোমরা তোমাদের বাপ-দাদা, মা-নানী বা গায়রুল্লাহর কসম খেয়ো না। আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম খেয়ো না এবং সত্য ছাড়া (মিথ্যা কসম) খেয়ো না।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৭২৪৯নং)
📄 দালালি করা
বিক্রেতার সাথে চুক্তি করে ক্রেতা ক্রয় করতে এলে পণ্যের ঝুটা প্রশংসা করে অথবা নিজে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে এক শ্রেণীর দালাল। যার ফলে সে বিক্রেতার নিকট কমিশন বা বখশিস পায়। অথচ এমন দালালি আমাদের শরীয়তে নিষেধ। মহানবী দালালি করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী)
বলা বাহুল্য, এমন কামাই যে হারাম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, ব্যবসায়ীকে খদ্দের যোগাড় করে দিয়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা কমিশন নেওয়া হারাম নয়।
📄 (৩) অবৈধ কাজে সহায়তা করে ব্যবসা
ইসলামের একটি নীতিগত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই যে, যা হারাম, তার ব্যবসা হারাম; যা খাওয়া ও ব্যবহার করা হারাম তার ব্যবসা করা হারাম। যেহেতু সেই হারাম বস্তু নিজে ভক্ষণ না করলেও অপরকে ভক্ষণ করতে সাহায্য করা হয়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبَرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ )
অর্থাৎ, তোমরা সৎকার্য ও আল্লাহভীতির ব্যাপারে একে অপরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরা মাইদাহ ২ আয়াত)
বলা বাহুল্য, এটি একটি চিরন্তন নীতি, আর তা হল এই যে, ন্যায় ও সওয়াবের কাজে সহযোগিতা করতে হবে এবং অন্যায় ও গোনাহর কাজে কোন প্রকার সহযোগিতা করা যাবে না। অর্থাৎ, ন্যায় ও সওয়াবের কাজে সহযোগিতা করলে সওয়াব হবে এবং অন্যায় ও গোনাহর কাজে কোন প্রকার সহযোগিতা করলে গোনাহ হবে।
সুতরাং উক্ত বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রচলিত যে সকল ব্যবসা ও উপার্জন হারাম তার কিছু নিম্নরূপঃ-
📄 (৪) আমানতে খেয়ানত করে উপার্জন
আমানত নষ্ট করা বা আমানতে খেয়ানত করা মুসলিমদের আচরণ নয়; বরং এ আচরণ মুনাফিকদের। মুসলিম বা মুমিনদের আচরণ সম্বন্ধে মহান আল্লাহ বলেন,
وَالَّذِينَ هُمْ لأَ مَنَتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ))
অর্থাৎ, (সফলকাম মু'মিন তারা) যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। (সূরা মু'মিনুন ৮, সূরা মাআরিজ ৩২ আয়াত)
আমানত রক্ষার ব্যাপারে মহান আল্লাহর ঘোষণা হল,
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا (5)
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ কর এবং তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার কর, তখন ন্যায় বিচার কর। অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম উপদেশ দান করেন, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা। (সূরা নিসা ৫৮ আয়াত)
فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَنَتَهُ، وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ وَاثِمٌ قَلْبُهُ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ )
অর্থাৎ, ---অনন্তর যদি তোমাদের একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তাহলে যাকে বিশ্বাস করা হয় তার উচিত, অন্যের গচ্ছিত (প্রাপ্য) প্রত্যর্পণ করা এবং স্বীয় প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করা ও সাক্ষী গোপন না করা। আর যে কেউ তা (সাক্ষ্য) গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। (সূরা বাক্বারাহ ২৮৩ আয়াত)
يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَخُونُواْ اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَنَتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ )
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ ও রসূলের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত (গচ্ছিত দ্রব্যের) খেয়ানত করো না। (সূরা আনফাল ২৭ আয়াত)
আমানতে খেয়ানত করে কেউ পরিত্রাণ পেয়ে যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
(( وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ))
অর্থাৎ, যে কেউ আত্মসাৎ করবে সে তার আত্মসাৎ করা (মাল) সহ কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা পূর্ণরূপে প্রদত্ত হবে এবং তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। (সূরা আলে ইমরান ১৬১ আয়াত)
মহানবী বলেন, "তোমার কাছে যে আমানত রেখেছে, তা তাকে প্রত্যর্পণ কর এবং যে তোমার খেয়ানত করেছে, তার খেয়ানত করো না।” (সিলসিলাহ সহীহাহ ৪২৩নং)
আমানতে খেয়ানত করা হল মুনাফিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও গুণ। নবী করীম বলেন, 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি; কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে।” (বুখারী, মুসলিম)
আল্লাহর রসূল প্রায় খুতবাতে বলতেন, "যার আমানতদারী নেই, তার ঈমান নেই। আর যে অঙ্গীকার পালন করে না, তার দ্বীন নেই।” (আহমদ, বাইহাকী, সহীহুল জামে' ৭১৭৯নং)
উবাদাহ বিন সামেত হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল যখন তাঁকে (যাকাত) সদকাহ আদায় করার জন্য প্রেরণ করলেন, তখন বললেন, "হে আবু অলীদ! তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তুমি যেন কিয়ামতের দিন (নিজ ঘাড়ে) কোন চিঁহি-রববিশিষ্ট উট, অথবা হাম্বা-রববিশিষ্ট গাই অথবা মে-মে রববিশিষ্ট ছাগল বহন করা অবস্থায় উপস্থিত হয়ো না। (উবাদাহ) বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! ব্যাপার কি সত্যই তাই?' বললেন, "হ্যাঁ, তাই। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে।” (উবাদাহ) বললেন, 'তাহলে সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যের সাথে প্রেরণ করেছেন! আমি আপনার (বাইতুল মালের) কোন ব্যাপারে কখনো চাকুরী করব না।' (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৭৭৫নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (কিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীলা, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯নং)