📄 চালবাজি করে ব্যবসা
কিছু ব্যবসায়ী আছে, যারা ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভের জন্য চালাকির আশ্রয় নেয়। ক্রেতাকে নানাভাবে ধোকায় ফেলে তার অর্থ শিকার করে।
মহানবী ﷺ বলেন, "ধোকাবাজি ও চালবাজি জাহান্নামে হবে।” (বাইহাকী, সহীহুল জামে' ৬৭২৫নং)
ঠকবাজ ও ধরিবাজ সব ব্যাপারে ও সব সমাজেই ঘৃণ্য। ধোকাবাজি কোন ক্ষেত্রেই বৈধ নয়; বৈধ নয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, বহু ব্যবসায়ী ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে হারাম অর্থ কামিয়ে আনন্দবোধ করে থাকে। যেমনঃ-
১। দালাল লাগিয়ে জিনিসের দাম বাড়ানো। নির্দিষ্ট ভাড়াটে দালাল লাগিয়ে খদ্দের লাগার সময় পাশ থেকে এসে যে জিনিস খদ্দের কিনতে চায় সেই জিনিসই কিনবার আগ্রহ দেখিয়ে দালাল তার মনে বিশ্বাস জন্মায় এবং মাঝখান থেকে দাম বাড়িয়ে সতর্কতার সাথে সরে পড়ে।
অনেক ক্ষেত্রে কোন মাল নিলামে বিক্রি হওয়ার সময় ঐ শ্রেণীর ভাড়াটে দালাল ভুয়া ডাক দিয়ে কেবল দাম বাড়িয়ে বড় কৌশলের সাথে কেটে পড়ে। পরিশেষে সাধারণ ক্রেতা ধোকায় পড়ে সেই মাল চড়া দামে ক্রয় করতে বাধ্য হয়।
অথচ আমাদের দয়ার নবী এইভাবে পণ্য ক্রয় করার নিয়ত ছাড়া তার মূল্য বৃদ্ধি করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম প্রমুখ) সুতরাং বিক্রেতা ও দালাল উভয়েই উক্ত হারামে সমানভাবে শরীক।
২। দামী কিছু খাইয়ে খদ্দের বাঁধা। কোন কোন অসৎ ব্যবসায়ী আছে, যারা তাদের দোকান ঢুকতেই মিষ্টি অথবা পেপসী খাইয়ে বাহ্যতঃ বড় সম্মান প্রদর্শন করে। অবশ্য তারা যে নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে না, তা সুনিশ্চিত। যেহেতু তারা যখনই খদ্দেরকে খাইয়ে আপ্যায়ন করবে, তখন কোন্ লজ্জায় খদ্দের তাদের দোকানে মাল না কিনে বের হতে পারবে? আর মাল কিনলেই তার আপ্যায়নের পয়সা সূদ সহ ওসূল করে নেবে ঐ শ্রেণীর ধোকাবাজ ব্যবসায়ীরা।
৩। ব্যবসার পণ্য খাদ্যদ্রব্য হলে যথেষ্ট পরিমাণ টেষ্ট করতে দিয়ে ক্রেতাকে বেঁধে নিয়ে ইচ্ছামত দামে তা বিক্রয় করা।
৪। প্যাঁচের কথা বলে খদ্দের শিকার করা। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী এমনভাবে কথা বলে, যাতে মনে হয় জিনিস সস্তা। অতঃপর ওজন করা, প্যাকিং খোলা বা খাওয়ার পর বেশী দাম চেয়ে বসে। ৫ টাকা কেজি শুনে দাম দেওয়ার সময় যখন ৫ টাকা পোয়া চায় তখন লজ্জায় আপনি দিতে বাধ্য। নতুবা ঝগড়া সৃষ্টি হয়ে গালিমন্দ খেয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় মারও খেতে পারেন।
৫। অনেক হারামখোর ব্যবসায়ী আছে, যারা তাদের দোকানে ঢুকলে এবং পছন্দ না হয়ে পণ্য না নিতে চাইলে লজ্জা বা গালি দিয়ে কিনতে বাধ্য করে। আর মান রক্ষার জন্য তাদের কথা উপেক্ষা করে আপনি দোকান থেকে বের হয়ে আসবেন তার উপায় নেই। অবশেষে পছন্দ ও মাপ মত না হলেও কথার বাঁধুনি ও বিঁধুনির জ্বালায় তাই কিনে আনতে বাধ্য হবেন।
৬। চোখে ধুলো দিয়ে, যুবতীর ইজ্জত দেখিয়ে দাঁড়ি মেরে ব্যবসা হারাম ব্যবসা সে কথা অন্যত্র আলোচিত হয়েছে।
৭। তদনুরূপ একটি তার জুড়ে ম্যাকানিকদের মোটা পারিশ্রমিক নেওয়া হারাম, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
📄 নিষিদ্ধ সময় ও স্থানে ব্যবসা
শরীয়তের আইনে যে কাল-পাত্রে ব্যবসা নিষেধ, সে কাল-পাত্রে ক্রয়-বিক্রয় করলে তা হারাম এবং শরীয়তের কথা লংঘন করার ফলে সে উপার্জন হারাম।
যেমন জুমআর দিন দ্বিতীয় আযানের (অর্থাৎ খুতবার আযানের) পর ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ নয়। বৈধ নয় কোন প্রকার কাজ করতে থাকা। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ))
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর দিন নামাযের জন্য আহবান করা হবে, তখন তোমরা সত্বর আল্লাহর স্মরণের জন্য উপস্থিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন কর। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সূরা জুমআহ ৯ আয়াত)
অনুরূপভাবে ফরয নামাযের আযান শোনার পর কোন মুসলিমের জন্য ক্রয়-বিক্রয়ে বিভুল থাকা বৈধ নয়। বৈধ নয় 'হাইয়া আলাস স্বালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ'র আহ্বানে সাড়া না দিয়ে দুনিয়াদারি কাজে ব্যস্ত থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
(( فِي بُيُوتِ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ (٣٦) رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ)) (۳۷) سورة النور
অর্থাৎ, আল্লাহ যে সব গৃহকে (মর্যাদায়) উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, এমন লোকেরা যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামায কায়েম এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ ভীতি-বিহ্বল হয়ে পড়বে। (সূরা নূর ৩৬-৩৭ আয়াত)
যেমন মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে কেবল ইবাদত হয়। সেখানে দুনিয়াদারি নিষিদ্ধ। তাই মসজিদের ভিতর ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
আল্লাহর রসূল বলেন, "যখন তোমরা মসজিদে কাউকে কেনা-বেচা করতে দেখবে তখন বলবে, 'আল্লাহ তোমার ব্যবসায় যেন বর্কত না দিন।' আর যখন কাউকে কোন হারানো জিনিস খুঁজতে দেখবে তখন বলবে, 'আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দিন।' (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে খুযাইমা, হাকেম, সহীহ তারগীব ২৮৭নং)
যে জায়গায় শির্ক ও বিদআত ও পাপাচরণের আড্ডা, সে জায়গায়, সে (মূর্তি, মাযার, উরস, আস্তানার) মেলায় জন-সমাবেশের সুযোগ গ্রহণ করে কোন কিছু বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা মুসলিমের জন্য বৈধ নয়।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, সূর্য ওঠার পূর্বে কোন জিনিসের দর-দাম নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস সহীহ নয়। (সিলসিলাহ যয়ীফাহ ৪৭১৯নং)
📄 অপরের ব্যবসার উপর ব্যবসা
কোন পণ্যের উপর ক্রেতা-বিক্রেতার দর-দাম চললে তৃতীয় ব্যক্তির বিক্রেতার কাছে উপস্থিত হয়ে দাম বেশী দিয়ে ক্রয় করা অথবা ক্রেতার কাছে উপস্থিত হয়ে তার থেকে কম দামে পণ্য বিক্রয় করা এবং পূর্বের ঐ চুক্তি ভঙ্গ করা ইসলামে বৈধ নয়।
যেমন শামসুল জমি বিক্রয় করবে কামরুলকে। দাম-দর ও কথাবার্তা এক রকম পাকাপাকি। মাঝখান থেকে বদরুল শামসুলের কাছে গিয়ে বলল, তুমি যে দামে জমিটা দিচ্ছ, আমি তার থেকে ১০ হাজার টাকা বেশী দেব। আর তার ফলে শামসুল কামরুলের সাথে কথা ভঙ্গ করে বদরুলকে জমিটা বিক্রয় করে বসল।
অথবা শামসুল ধান বিক্রয় করবে কামরুলকে। দাম-দর ও কথাবার্তা এক রকম পাকাপাকি। মাঝখান থেকে বদরুল কামরুলের কাছে গিয়ে বলল, তুমি যে দামে ধান নিচ্ছ, আমি তার থেকে ১০ টাকা রেট কম নেব। আমার কাছ থেকে ধান নাও। আর তার ফলে কামরুল শামসুলের সাথে কথা ভঙ্গ করে বদরুলের কাছে ধান ক্রয় করে বসল।
অথবা কারীমুল আরিফুলের কাছে একটি জিনিস কেনার জন্য দাম-দর করছে। মাঝখান থেকে হাফিযুল বলল, এই দামে এর চাইতে ভালো জিনিস আমি তোমাকে দিতে পারি। ফলে কারীমুল সেই ভাঙ্গানিতে কান দিয়ে আরিফুলের নিকট সেই জিনিস না নিয়ে হাফিযুলের নিকটেই নিল।
এমন ধরনের ব্যবসা ও খদ্দের ভাঙ্গানো ইসলামে বৈধ নয়। প্রিয় নবী বলেন, "এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সুতরাং তার জন্য তার ভায়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় এবং বিবাহ-প্রস্তাবের উপর বিবাহ প্রস্তাব-তার ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত- হালাল নয়। (বুখারী, মুসলিম ১৪১৪নং)
📄 (২) মিথ্যা বলে কামাই
মিথ্যা বলা মানুষের একটি কদর্য ও ঘৃণ্য আচরণ। মিথ্যার মাধ্যমে মানুষের হক নষ্ট করা হয়। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে নাহক অর্থ হরণ করা হয়। এমন উপার্জন যে হারাম তা বলাই বাহুল্য।
মিথ্যুক ব্যক্তি যে ঘৃণ্য ও তুচ্ছ সে ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,
(( إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ)) (۲۸) سورة غافر
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সৎপথে পরিচালিত (হেদায়াত) করেন না। (সূরা মু'মিন ২৮ আয়াত)
আবু বাকরাহ বলেন, একদা আমরা আল্লাহর রসূল -এর নিকট (বসে) ছিলাম। তিনি বললেন, "তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় (কাবীরা) গোনাহর কথা বলে দেব না কি?” এরূপ তিনবার বলার পর তিনি বললেন, "আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। শোনো! আর মিথ্যা সাক্ষি দেওয়া ও মিথ্যা কথা বলা।"
ইতিপূর্বে তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন, কিন্তু শেষোক্ত কথাটি বলার সময় হেলান ছেড়ে উঠে বসলেন। অতঃপর এ কথা তিনি বারবার পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন, শেষ অবধি আমরা বললাম, 'হায় যদি তিনি চুপ হতেন!' (বুখারী ৫৯৭৬, মুসলিম ৮৭নং, তিরমিযী)
আল্লাহর রসূল বলেন, অবশ্যই সত্যবাদিতা পুণ্যের প্রতি পথপ্রদর্শন করে এবং পুণ্য পথপ্রদর্শন করে বেহেশ্বের প্রতি। আর মানুষ সত্য বলতে থাকে, পরিশেষে সে আল্লাহর নিকট দারুন সত্যবাদী হয়ে যায়। পক্ষান্তরে মিথ্যাবাদিতা পাপের প্রতি পথপ্রদর্শন করে এবং পাপ পথপ্রদর্শন করে দোযখের প্রতি। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকলে অবশেষে সে আল্লাহর নিকট ভীষণ মিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়।” (বুখারী ৬০৯৪ নং, মুসলিম ২৬০৭ নং, আবু দাউদ, তিরমিযী)
মিথ্যা বলার অভ্যাস কোন মুসলিমের হতে পারে না। তার কর্ম ও পেশা যাই হোক, কোন ক্ষেত্রেই সে মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে না। আসলে মিথ্যা বলা মুনাফিকদের হীন চরিত্রের একটি নিকৃষ্ট গুণ।
আল্লাহর নবী বলেন, "মুনাফিকের লক্ষণ হল তিনটি; কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা দিলে খেলাপ করে এবং চুক্তি করলে ভঙ্গ করে।” (বুখারী ৩৩, মুসলিম ৫৯নং) মুসলিমের এক বর্ণনায় এ কথা বেশী আছে, "যদিও সে ব্যক্তি নামায পড়ে রোযা রাখে এবং নিজেকে মুসলিম মনে করে।"
বহু উকীল আছেন, যাঁরা মুআক্কেলকে কেসে জিতাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ব্যবহার করেন। বহু লেখক আছেন, যাঁরা মিথ্যা কথা বানিয়ে বানিয়ে লিখে লোককে হাসিয়ে অর্থ উপার্জন করে থাকেন। বহু ব্যবসায়ী আছে, যারা মিথ্যা বলে নিজেদের পণ্য বিক্রয় করে থাকে। এরা বলে 'মিথ্যা না বললে কি ব্যবসা চলে নাকি?' আসলে মিথ্যা বলাটা এদের নিকট ব্যবসার একটা 'টেকনিক।'
বহু ব্যবসায়ী পণ্যের মিথ্যা গুণ বর্ণনা করে পণ্য বাজারে চালু ও প্রসিদ্ধ করে। বাণিজ্য-বিজ্ঞাপনে অতিরঞ্জিত মিথ্যা উপকারিতার কথা প্রচার করে জন-সাধারণের দৃষ্টি ও মন আকর্ষণ করে। সকল কোম্পানীর পণ্যের চাইতে তার কোম্পানীরই পণ্য শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করে অনেক সময় মিথ্যা বলে। ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির সময় মিথ্যা বলে লাভ করে এরা। মিথ্যা করে বলে, আমার ১০ টাকায় কেনা, আপনি আমাকে ১ টাকা লাভ দিয়ে ১১ টাকা দিন। এর দাম ২৫ টাকা, শুধু আপনাকে ২০ টাকায় দিচ্ছি। (অথচ ২০ টাকায় অনেককেই দেয়।) অমুক বা অমুকের মাল অপেক্ষা আমার মাল বেশী ভালো। আমার মালে কোন প্রকার ভেজাল নেই। ইত্যাদি।
অনেক সময় ক্রেতাও বিক্রেতাকে মিথ্যা বলে চমক ধরিয়ে দেয়। বলে, ওমুক দোকানে সস্তা, অথচ আপনার দোকানে আক্রা। এই জিনিসই অমুক দোকানে ১০ টাকায় দেয়, আর আপনি ১৫ টাকা বলছেন? আমরা আপনার দোকান ছাড়া অন্য দোকানে মাল নিই না। ইত্যাদি।
আল্লাহর রসূল বলেন, "ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত (ক্রয়-বিক্রয়ে তাদের) এখতিয়ার থাকে। সুতরাং তারা যদি (ক্রয়-বিক্রয়ে) সত্য বলে এবং (পণ্যদ্রব্যের দোষ-গুণ) খুলে বলে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বর্কত দেওয়া হয়। অন্যথা যদি (পণ্যদ্রব্যের দোষ-ত্রুটি) গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তাহলে বাহ্যতঃ তারা লাভ করলেও তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বর্কত বিনাশ করে দেওয়া হয়।---” (বুখারী ২১১४, মুসলিম ১৫৩২, আবুদাউদ ৩৪৫৯, তিরমিযী ১২৪৬নং, নাসাঈ)
'মিথ্যা না বললে কি ব্যবসা চলে নাকি?'-এ কথা ওদের নিকট ঋব ও চিরন্তন সত্য বলেই আমাদের মহানবী আমাদের ব্যবসায়ীদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, "ব্যবসায়ীরাই 'ফাজের' (পাপাচারী)।” সাহাবাগণ বললেন, 'আল্লাহ কি ব্যবসাকে হালাল করেননি?' তিনি বললেন, "অবশ্যই। কিন্তু তারা কসম করে পাপ করে এবং কথা বলতে মিথ্যা বলে।” (আহমাদ, হাকেম, সহীহ তারগীব ১৭৮৬নং)
তিনি আরো বলেন, "ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন ফাজের (পাপাচারী) হয়ে (কবর থেকে) উঠবে। তবে সে নয়, যে (তার ব্যবসায়) আল্লাহকে ভয় করে, (লোকের প্রতি) এহসানী করে এবং সত্য কথা বলে।” (তিরমিযী, হাকেম প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৯৯৪নং)
লক্ষ্যণীয় যে, মহান আল্লাহ আল-কুরআনে এক শ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করে বলেন,
((أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ (٤) لِيَوْمٍ عَظِيمٍ (٥) يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ (٦) كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الفُجَّارِ لَفِي سِجِّين)) (۷) سورة المطففين
অর্থাৎ, ওরা কি বিশ্বাস করে না যে, ওরা পুনরুত্থিত হবে, সে মহান দিবসে? যেদিন সকল মানুষ সারা জাহানের প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হবে। না, কক্ষনই না! পাপাচারী (ফাজের) দের আমলনামা নিশ্চয়ই সিজ্জীনে--। (সূরা মুত্বাফফিফীন ৪-৭ আয়াত)