📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 নারীদেহের মাধ্যমে অর্থোপার্জন

📄 নারীদেহের মাধ্যমে অর্থোপার্জন


ইসলামে নারীর মর্যাদা রয়েছে বিশাল। কিন্তু অর্থলোভে বহু মুসলমানও নারীর কদর করে না। ব্যবহার করে নারী, তার দেহ, সৌন্দর্য ও যৌবনকে অর্থলাভের মাধ্যম ও অসীলারূপে। হীন চরিত্রের নীচ মনের ঐ নোংরা মানুষরা নারীকে পণ্য বানিয়ে অর্থ উপার্জন করে। চুক্তিবদ্ধ মালিক হয়ে, (আসল বা নকল) স্বামী অথবা ভাই হয়ে, এমনকি পিতামাতা হয়েও নারীকে ব্যবসায় নামাতে এতটুকু লজ্জাবোধ করে না। ইসলামে পর্দা ফরয। নারীদেহ প্রদর্শন হারাম। নারীর প্রতি কাম নজরে দৃষ্টিপাত হারাম। ব্যভিচার হারাম। কিন্তু তা হলে কি হয়? অর্থলোভ যে বড় ব্যারাম!

আমাদের প্রিয় নবী কুকুরের মূল্য, বেশ্যাবৃত্তির কামাই ও গণকের উপার্জন গ্রহণ ও ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহুল জামে' ৬৯৫১নং) তিনি বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে কামানো অর্থকে 'খাবীষ' বা অপবিত্র বলেছেন। (সহীহুল জামে' ৩০৭৭নং) কখনো বলেছেন ঐ উপার্জন হল হারাম। (সহীহুল জামে' ৩০৭৬নং) কখনো বলেছেন, “দেহব্যবসার অর্থ হালাল নয়।” (আবু দাউদ ৩৪৮৪নং)

বলা বাহুল্য, নারীর গুপ্তাঙ্গ ব্যবহার করে অর্থ হারাম তো বটেই, হারাম তার অন্যান্য অঙ্গ ব্যবহার করেও।
নারী নিজে দেহ-ব্যবসা করুক অথবা কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে করুক, সমাজ বা সরকার তাকে ঘৃণা করুক অথবা 'যৌনকর্মী' বলে সুন্দর নাম দিয়ে সমাদর করুক, সে ব্যবসা হারাম, হারাম তার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ।
হারাম কোন মুসলিমের পতিতালয় চালানো।
হারাম নারীর নগ্ন দেহ দিয়ে ফিল্ম, ব্লু ফিল্ম প্রস্তুত।
হারাম পুরুষমহলে নৃত্য করে পয়সা কামানো এবং হারাম যুবতী নর্তকী দিয়ে সংস্কৃতি (?) বার বা নৃত্যশালা চালানো।
হারাম সুন্দরী সেজে (চা, পান, মিষ্টি বা অন্য কোন) দোকান চালানো অথবা সুন্দরীকে বসিয়ে দোকান চালানো।
হারাম রূপসীকে পরিচারিকা রেখে হোটেল চালানো।
হারাম নারীর পুরুষের চুল কেটে সেলুন চালানো অথবা তাকে সেলুনে রেখে পুরুষের চুল কাটানো।
হারাম সুন্দরীর মুখশ্রী ও সুঠাম রম্য আবেদনময়ী দেহ প্রদর্শন করে কোন বাণিজ্য-বিজ্ঞাপন।
হারাম ব্যবসায় উন্নতির জন্য সুন্দরী যুবতীকে ম্যানেজার বানানো।
হারাম যে কোন ব্যবসায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুন্দরীকে পাঠানো।
হারাম কোন অফিসে কার্যসিদ্ধির জন্য নিজে না গিয়ে নিজের আধুনিকা 'মিসেস'কে পাঠানো।
হারাম যুবতীর দর্জি হয়ে সরাসরি পুরুষ দেহের মাপ নিয়ে জামা-প্যান্ট প্রস্তুত।
হারাম পত্রিকায় মডেল যুবতী বা হিরোইনের ছবি ছেপে পত্রিকার গ্রাহক-সংখ্যা বাড়ানো।

মুতা (বা সাময়িক) বিবাহের মোহর মহিলার জন্য হারাম। যেহেতু ঐ বিবাহই ইসলামে অবৈধ।
কোন মুসলিম নারীর জন্য বৈধ নয় নিজের রেহেম (গর্ভাশয়) ভাড়া দেওয়া। সন্তানকামী পুরুষের সাথে সহবাস বা ব্যভিচার করে, তার জন্য সন্তান পেটে ধরা ও ভূমিষ্ঠ করা অথবা সন্তানকামী পুরুষের বীর্যপাত করে সেই বীর্য সিরিঞ্জের মাধ্যমে গর্ভাশয়ে স্থাপন করে তার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়া বৈধ নয়। বৈধ নয় তার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ ভক্ষণ করা।

মহানবী বলেন, তোমরা গায়িকা (ক্রীতদাসী) ক্রয়-বিক্রয় করো না এবং তাদেরকে (গান) শিক্ষা দিও না। গায়িকা দাসী ব্যবসায় কোন মঙ্গল নেই এবং তার মূল্য হারাম। আর অনুরূপ কারণে অবতীর্ণ হয়েছে (কুরআন মাজীদের) এই আয়াতঃ-
( (وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِين)) (٦) سورة لقمان
অর্থাৎ, এক শ্রেণীর লোক আছে, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অন্ধভাবে অসার বাক্য ক্রয় করে (বেছে নেয়) এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সূরা লুকুমান ৬ আয়াত, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৯২২নং)

টিকাঃ
(*) বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য 'আদর্শ পরিবার ও পরিবেশ'।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয়

📄 মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয়


মানুষ বড় সম্মানিত জীব। মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বড় সম্মানের অধিকারী করে সৃষ্টি করেছেন এবং সারা বিশ্বের সমস্ত জিনিসকে তারই খিদমতের জন্য অধীন করে দিয়েছেন। অতএব তার কেনা-বেচায় তার সম্মানহানি হওয়ার কথা অবশ্যই বটে। অনুরূপভাবে মানুষের কোন অঙ্গ ও অংশ বিক্রয় করাও বৈধ নয়। বৈধ নয় লাশ ও ভ্রূণ বিক্রয়। মানুষের রক্ত, চুল, চোখ, কিডনী প্রভৃতিও বিক্রয় করা হারাম।

তবে হ্যাঁ, রক্ত বা অঙ্গ দান করার পর যদি কোন পক্ষ খুশী হয়ে উপহার স্বরূপ দাতাকে কিছু দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করায় দোষ নেই। যেহেতু তা বিক্রয়ের পর্যায়ভুক্ত নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩৫/৩৪৩-৩৪৪)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 বীর্য বিক্রয়

📄 বীর্য বিক্রয়


এ কথা বিদিত যে, মানুষের কোন কিছু বিক্রয় বৈধ নয়; অতএব তার বীর্যও নয়। তাছাড়া তার বীর্য নিজ স্ত্রী ছাড়া অন্যের গর্ভে প্রক্ষেপ হারাম। সুতরাং তা কোন পর- মহিলার গর্ভের জন্য বিক্রয় করা হারাম।

গৃহপালিত পশুর বীর্যও বিক্রি করা বৈধ নয়। উট, ঘোড়া, ষাঁড় বা পাঁঠার বীর্য বিক্রি করে অর্থ বৈধ নয়। কোন মুসলিম ভাই তার গাভী বা ছাগীর মিলন সাধনের জন্য এলে বিনা পয়সায় ষাঁড় বা পাঁঠা ছেড়ে দেওয়া উচিত। যেহেতু আমাদের নবী ﷺ প্রজননের জন্য ষাঁড় ভাড়ায় দিতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম ১৫৬৫নং) ষাঁড় বা পাঁঠা মিলন ও প্রজনেনর জন্য কাউকে (পাল ধরাতে) দিয়ে তার মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন। (সহীহুল জামে' ৬৯৪৮-নং)

অবশ্য যদি কেউ স্বেচ্ছায় কেউ উপহার স্বরূপ কিছু দেয়, তাহলে ষাঁড় মালিকের তা গ্রহণ করায় কোন দোষ নেই। (তিরমিযী ১২৭৪, নাসাঈ, মিশকাত ২৮৬৬নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 চালবাজি করে ব্যবসা

📄 চালবাজি করে ব্যবসা


কিছু ব্যবসায়ী আছে, যারা ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভের জন্য চালাকির আশ্রয় নেয়। ক্রেতাকে নানাভাবে ধোকায় ফেলে তার অর্থ শিকার করে।

মহানবী ﷺ বলেন, "ধোকাবাজি ও চালবাজি জাহান্নামে হবে।” (বাইহাকী, সহীহুল জামে' ৬৭২৫নং)

ঠকবাজ ও ধরিবাজ সব ব্যাপারে ও সব সমাজেই ঘৃণ্য। ধোকাবাজি কোন ক্ষেত্রেই বৈধ নয়; বৈধ নয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, বহু ব্যবসায়ী ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে হারাম অর্থ কামিয়ে আনন্দবোধ করে থাকে। যেমনঃ-

১। দালাল লাগিয়ে জিনিসের দাম বাড়ানো। নির্দিষ্ট ভাড়াটে দালাল লাগিয়ে খদ্দের লাগার সময় পাশ থেকে এসে যে জিনিস খদ্দের কিনতে চায় সেই জিনিসই কিনবার আগ্রহ দেখিয়ে দালাল তার মনে বিশ্বাস জন্মায় এবং মাঝখান থেকে দাম বাড়িয়ে সতর্কতার সাথে সরে পড়ে।
অনেক ক্ষেত্রে কোন মাল নিলামে বিক্রি হওয়ার সময় ঐ শ্রেণীর ভাড়াটে দালাল ভুয়া ডাক দিয়ে কেবল দাম বাড়িয়ে বড় কৌশলের সাথে কেটে পড়ে। পরিশেষে সাধারণ ক্রেতা ধোকায় পড়ে সেই মাল চড়া দামে ক্রয় করতে বাধ্য হয়।
অথচ আমাদের দয়ার নবী এইভাবে পণ্য ক্রয় করার নিয়ত ছাড়া তার মূল্য বৃদ্ধি করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম প্রমুখ) সুতরাং বিক্রেতা ও দালাল উভয়েই উক্ত হারামে সমানভাবে শরীক।

২। দামী কিছু খাইয়ে খদ্দের বাঁধা। কোন কোন অসৎ ব্যবসায়ী আছে, যারা তাদের দোকান ঢুকতেই মিষ্টি অথবা পেপসী খাইয়ে বাহ্যতঃ বড় সম্মান প্রদর্শন করে। অবশ্য তারা যে নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে না, তা সুনিশ্চিত। যেহেতু তারা যখনই খদ্দেরকে খাইয়ে আপ্যায়ন করবে, তখন কোন্ লজ্জায় খদ্দের তাদের দোকানে মাল না কিনে বের হতে পারবে? আর মাল কিনলেই তার আপ্যায়নের পয়সা সূদ সহ ওসূল করে নেবে ঐ শ্রেণীর ধোকাবাজ ব্যবসায়ীরা।

৩। ব্যবসার পণ্য খাদ্যদ্রব্য হলে যথেষ্ট পরিমাণ টেষ্ট করতে দিয়ে ক্রেতাকে বেঁধে নিয়ে ইচ্ছামত দামে তা বিক্রয় করা।

৪। প্যাঁচের কথা বলে খদ্দের শিকার করা। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী এমনভাবে কথা বলে, যাতে মনে হয় জিনিস সস্তা। অতঃপর ওজন করা, প্যাকিং খোলা বা খাওয়ার পর বেশী দাম চেয়ে বসে। ৫ টাকা কেজি শুনে দাম দেওয়ার সময় যখন ৫ টাকা পোয়া চায় তখন লজ্জায় আপনি দিতে বাধ্য। নতুবা ঝগড়া সৃষ্টি হয়ে গালিমন্দ খেয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় মারও খেতে পারেন।

৫। অনেক হারামখোর ব্যবসায়ী আছে, যারা তাদের দোকানে ঢুকলে এবং পছন্দ না হয়ে পণ্য না নিতে চাইলে লজ্জা বা গালি দিয়ে কিনতে বাধ্য করে। আর মান রক্ষার জন্য তাদের কথা উপেক্ষা করে আপনি দোকান থেকে বের হয়ে আসবেন তার উপায় নেই। অবশেষে পছন্দ ও মাপ মত না হলেও কথার বাঁধুনি ও বিঁধুনির জ্বালায় তাই কিনে আনতে বাধ্য হবেন।

৬। চোখে ধুলো দিয়ে, যুবতীর ইজ্জত দেখিয়ে দাঁড়ি মেরে ব্যবসা হারাম ব্যবসা সে কথা অন্যত্র আলোচিত হয়েছে।

৭। তদনুরূপ একটি তার জুড়ে ম্যাকানিকদের মোটা পারিশ্রমিক নেওয়া হারাম, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00