📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 মাযার ও নযর-নিয়ায

📄 মাযার ও নযর-নিয়ায


এক শ্রেণীর সূফীপন্থী মুসলমান আধ্যাত্মিকতার নামে বুযুর্গ সেজে সাধারণ মানুষের নযর-নিয়ায গ্রহণ করেন। অনেকে কোন রোগ থেকে মুক্তি লাভের আশায়, অনেকে সন্তান লাভের আশায়, অনেকে সুখ-সমৃদ্ধি লাভের আশায় তাঁদের কাছে এলে তাঁদের জন্য বিশেষ উপঢৌকন ও নযরানা পেশ করলে, তাতেও তাঁদের বেশ ধনাগম হয়। কেরামতি ও বুযুর্গির প্রচার-কার্যের প্রবাহ সৃষ্টি করে তাঁদের সে ব্যবসা সহজ করে তোলা হয়। কল্পনাপ্রসূত অথবা সত্যই কোন আল্লাহর অলীর কবরকে মাযার বানিয়ে সেখানেও ঐ ধরনের নানা কেরামতি ও আশাপূর্ণ হওয়ার কথা লোকমাঝে প্রচার করে দুর্বল, কম অথবা নেই ঈমানের সাধারণ মানুষদের বিশাল সমাগম ঘটিয়ে প্রচুর ধনাগম করা হয়। আর শির্কের আড্ডাকে কেন্দ্র করে উপার্জিত ঐ অর্থ কি হালাল বলতে পারেন? এটা কি বাতিল উপায়ে মানুষের ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করার অন্যতম পন্থা নয়? মহানবী বলেন, “-আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে (অথবা নিজেকে) সুনাম ও লোক-প্রদর্শনের জায়গায় রেখে (তার ভুয়া প্রশংসা ও মিথ্যা কারামত ও বুযুর্গী বর্ণনা করে উপার্জন করবে), আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন অনুরূপ (মিথ্যুক বলে) প্রচার ও প্রসিদ্ধির জায়গায় রাখবেন।” (আহমাদ, আবু দাউদ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৬০৮৩নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 গণক ও দৈব-চিকিৎসা

📄 গণক ও দৈব-চিকিৎসা


এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা, গায়বী খবর জানে বলে দাবী করে, গায়বী খবর বলে এবং গায়বী খবর জানতে, রোগ জানতে, হারিয়ে যাওয়া জিনিসের স্থান জানতে, চোর চিহ্নিত করতে হাত, বাতা, বা বাটি চালায়, বদনা ঘোরায়, দাগ টানে, কড়ি চালে, ফালনামা খোলে, রোগীর মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে, তার ব্যবহৃত জামা আনতে বলে, কারো পায়ের ধুলো আনতে বলে, মাসিকের জন্য ব্যবহৃত নোংরা ন্যাকড়া (!) আনতে বলে এবং এ সবের মাধ্যমে রোগ ও চোর ধরে ও চিকিৎসা করে। আর তার বিনিময়ে ভালো পয়সা ইনকাম করে। এই শ্রেণীর ওঝারা গায়বী খবর রাখার দাবী করে। সুতরাং তার নিকট চিকিৎসা করানো বৈধ নয়। যেমন তার নিকট যাওয়া, তাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করাও অবৈধ।

যেহেতু মহানবী বলেন, "যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তার চল্লিশ রাত নামায কবুল করা হয় না।” (মুসলিম)
গণক, দৈবজ্ঞ ও যাদুকরের নিকট যেতে, তাদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাদের ঐ কথাকে সত্যায়ন বা বিশ্বাস করতে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মহানবী থেকে একাধিক হাদীস শুদ্ধভাবে প্রমাণিত আছে। তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসে এবং সে যা বলে তা সত্য বলে মানে তবে সে মুহাম্মাদ-এর প্রতি অবতীর্ণ বিষয় (কুরআনের) সাথে কুফরী করে (অস্বীকার করে)।” (সহীহুল জামে' ৫৯৩৯নং)

সুতরাং যে ব্যক্তি পাথর মেরে, কড়ি খেলে, মাটিতে দাগ টেনে অথবা রোগীকে তার ও তার মায়ের নাম অথবা কোন আত্মীয়র নাম জিজ্ঞাসা করে গায়বী (অদৃশ্য) জ্ঞানের দাবী করে তবে এসব এই কথারই দলীল যে, সে গণক ও দৈবজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। যাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এবং তাদের কথা সত্যায়ন করতে মহানবী নিষেধ করেছেন। অতএব ওদের থেকে এবং কোন গায়বী খবর জানতে ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে; বরং ওদের নিকট চিকিৎসা করানো থেকে সাবধান হওয়া ওয়াজেব।
বলা বাহুল্য, ঐ শ্রেণীর ফকীরী চিকিৎসকদের উপার্জিত অর্থ কি হালাল হতে পারে বলছেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00