📘 হারাম রুযী ও রোযগার 📄 কুরআন খানী

📄 কুরআন খানী


কুরআন-খানী, ফাতেহা-খানী, কুল-খানী, খতমে কুরআন, শবীনা পাঠ প্রভৃতির মাধ্যমে ঈসালে সওয়াব করার কোন ভিত্তি শরীয়তে নেই, বিধায় তা বিদআত। কিন্তু সে কথায় কান না দিয়ে, এক পাত গোশুভাত ও কয়েকটি টাকার লোভে কুরআনকে কামায়ের মাধ্যম বানায় এক শ্রেণীর হাফেয ও ক্বারীর দল। যাদের জন্য দুআ করা হারাম, তাদের জন্যও কুরআন-খানী করে; এমনকি অনেকে রাজনৈতিক খাতিরে অমুসলিমের নামেও কুরআনখানী করে! করবেই তো। তারা তো আর সে কাজ মন থেকে করে না। তারা তো আসলে ভাড়াটিয়া মুটে। ভাড়ার জন্য যে কোন মোট বইতে তারা রাযী।
ওদের মধ্যে যাদের মোটেই আল্লাহর ভয় নেই, তারা আবার ভাড়া গিয়েও কাজে ফাঁকি দিয়ে থাকে। গড়গড় করে পড়তে পড়তে জানতে অজানতে মাঝে-মধ্যে কয়েক পাতা বাদ দিয়ে দিয়ে স্বল্প সময়ে কুরআন খতম করে! ফলে তারা ধোকা দেয় আল্লাহকে, ধোকা দেয় সমাজকে এবং নিজেদেরকেও। ফাল্লাহুল মুস্তাআন!

সমাজে এক শ্রেণীর বোকা মানুষ আছে, যারা মনে করে যে, তাদের আত্মীয় শির্ক করে অথবা ইসলামের বিরোধিতা করে অথবা নামায-রোযা না করে মারা গেলেও যদি তার নামে কুরআন-খানী করিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ভাড়াটিয়া ঐ শ্রেণীর হাফেয বা কারী ভাড়া করে আত্মীয়র জন্য বেহেশুগামী পথ অতিক্রম সহজ করার মানসে বুরাক অথবা দুলদুল ভাড়া করে দেওয়া হয়!
অথবা তারা জানে যে, এটা তার আত্মীয়র কোন কাজে আসবে না। তবুও সমাজের চাপে, সমাজে সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে, সমাজের একটি প্রচলিত রসম-রেওয়াজ পাঁচজনের খাতিরে পালন করার উদ্দেশ্যে কুরআন-খানী করিয়ে থাকে। আর এ নিয়তে উক্ত কাজ যে বৃথা ও ফালতু-তা বলাই বাহুল্য।
সুতরাং যে কাজ বিদআত, যে কাজে নোকসান ছাড়া কোন লাভ নেই, সে কাজে ভাড়া খেটে অর্থ উপার্জন ও উদরপূর্তি কি ইসলামে বৈধ হতে পারে? (দেখুন: মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/৩৭৯, ২৮/১১০, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ১/৪২)

প্রকাশ থাকে যে, কুরআন দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে অথবা নিয়ত ঠিক রেখে কুরআন শিক্ষা দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা অবৈধ নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩১/১০৯)

মুফতী মুহাম্মাদ শাফী' সাহেব মাআরিফুল কুরআনে বলেন, 'ঈসালে সওয়াব উপলক্ষ্যে খতমে-কোরআনের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সর্বসম্মতভাবে না-জায়েয: আল্লামা শামী 'দূরে মুখতারের শরাহ' এবং 'শিফাউল আলীল' নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে এবং অকাট্য দলীলাদিসহ এ কথা প্রমাণ করেছেন যে, কোরআন শিক্ষাদান বা অনুরূপ অন্যান্য কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের যে অনুমতি পরবর্তীকালের ফকীহগণ দিয়েছেন, তার কারণ এমন এক ধর্মীয় প্রয়োজন যে, তাতে বিচ্যুতি দেখা দিলে গোটা শরীয়তের বিধান-ব্যবস্থার মূলে আঘাত আসবে। সুতরাং এ অনুমতি এ সব বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা একান্ত আবশ্যক। এ জন্যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মৃতের ঈসালে-সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরআন খতম করানো বা অন্য কোন দোয়া-কালাম বা অযিফা পড়ানো হারাম। কারণ এর উপর কোন ধর্মীয় মৌলিক প্রয়োজন নির্ভরশীল নয়। এখন যেহেতু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন পড়া হারাম, সুতরাং যে পড়বে এবং যে পড়াবে, তারা উভয়ই গোনাহগার হবে। বস্তুতঃ যে পড়েছে সে-ই যখন কোন সওয়াব পাচ্ছে না, তখন মৃত আত্মর প্রতি সে কি পৌঁছাবে? কবরের পাশে কোরআন পড়ানো বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন খতম করানোর রীতি সাহাবী, তাবেয়ীন এবং প্রথম যুগের উম্মতগণের দ্বারা কোথাও বর্ণিত বা প্রমাণিত নেই। সুতরাং এগুলো নিঃসন্দেহে বেদ'আত।' (তফসীর মাআরিফুল কুরআন, বাংলা অনূদিত, সউদী আরব ছাপা ৩৫পৃঃ)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার 📄 মাযার ও নযর-নিয়ায

📄 মাযার ও নযর-নিয়ায


এক শ্রেণীর সূফীপন্থী মুসলমান আধ্যাত্মিকতার নামে বুযুর্গ সেজে সাধারণ মানুষের নযর-নিয়ায গ্রহণ করেন। অনেকে কোন রোগ থেকে মুক্তি লাভের আশায়, অনেকে সন্তান লাভের আশায়, অনেকে সুখ-সমৃদ্ধি লাভের আশায় তাঁদের কাছে এলে তাঁদের জন্য বিশেষ উপঢৌকন ও নযরানা পেশ করলে, তাতেও তাঁদের বেশ ধনাগম হয়। কেরামতি ও বুযুর্গির প্রচার-কার্যের প্রবাহ সৃষ্টি করে তাঁদের সে ব্যবসা সহজ করে তোলা হয়। কল্পনাপ্রসূত অথবা সত্যই কোন আল্লাহর অলীর কবরকে মাযার বানিয়ে সেখানেও ঐ ধরনের নানা কেরামতি ও আশাপূর্ণ হওয়ার কথা লোকমাঝে প্রচার করে দুর্বল, কম অথবা নেই ঈমানের সাধারণ মানুষদের বিশাল সমাগম ঘটিয়ে প্রচুর ধনাগম করা হয়। আর শির্কের আড্ডাকে কেন্দ্র করে উপার্জিত ঐ অর্থ কি হালাল বলতে পারেন? এটা কি বাতিল উপায়ে মানুষের ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করার অন্যতম পন্থা নয়? মহানবী বলেন, “-আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে (অথবা নিজেকে) সুনাম ও লোক-প্রদর্শনের জায়গায় রেখে (তার ভুয়া প্রশংসা ও মিথ্যা কারামত ও বুযুর্গী বর্ণনা করে উপার্জন করবে), আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন অনুরূপ (মিথ্যুক বলে) প্রচার ও প্রসিদ্ধির জায়গায় রাখবেন।” (আহমাদ, আবু দাউদ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৬০৮৩নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার 📄 গণক ও দৈব-চিকিৎসা

📄 গণক ও দৈব-চিকিৎসা


এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা, গায়বী খবর জানে বলে দাবী করে, গায়বী খবর বলে এবং গায়বী খবর জানতে, রোগ জানতে, হারিয়ে যাওয়া জিনিসের স্থান জানতে, চোর চিহ্নিত করতে হাত, বাতা, বা বাটি চালায়, বদনা ঘোরায়, দাগ টানে, কড়ি চালে, ফালনামা খোলে, রোগীর মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে, তার ব্যবহৃত জামা আনতে বলে, কারো পায়ের ধুলো আনতে বলে, মাসিকের জন্য ব্যবহৃত নোংরা ন্যাকড়া (!) আনতে বলে এবং এ সবের মাধ্যমে রোগ ও চোর ধরে ও চিকিৎসা করে। আর তার বিনিময়ে ভালো পয়সা ইনকাম করে। এই শ্রেণীর ওঝারা গায়বী খবর রাখার দাবী করে। সুতরাং তার নিকট চিকিৎসা করানো বৈধ নয়। যেমন তার নিকট যাওয়া, তাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করাও অবৈধ।

যেহেতু মহানবী বলেন, "যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তার চল্লিশ রাত নামায কবুল করা হয় না।” (মুসলিম)
গণক, দৈবজ্ঞ ও যাদুকরের নিকট যেতে, তাদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাদের ঐ কথাকে সত্যায়ন বা বিশ্বাস করতে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মহানবী থেকে একাধিক হাদীস শুদ্ধভাবে প্রমাণিত আছে। তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসে এবং সে যা বলে তা সত্য বলে মানে তবে সে মুহাম্মাদ-এর প্রতি অবতীর্ণ বিষয় (কুরআনের) সাথে কুফরী করে (অস্বীকার করে)।” (সহীহুল জামে' ৫৯৩৯নং)

সুতরাং যে ব্যক্তি পাথর মেরে, কড়ি খেলে, মাটিতে দাগ টেনে অথবা রোগীকে তার ও তার মায়ের নাম অথবা কোন আত্মীয়র নাম জিজ্ঞাসা করে গায়বী (অদৃশ্য) জ্ঞানের দাবী করে তবে এসব এই কথারই দলীল যে, সে গণক ও দৈবজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। যাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এবং তাদের কথা সত্যায়ন করতে মহানবী নিষেধ করেছেন। অতএব ওদের থেকে এবং কোন গায়বী খবর জানতে ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে; বরং ওদের নিকট চিকিৎসা করানো থেকে সাবধান হওয়া ওয়াজেব।
বলা বাহুল্য, ঐ শ্রেণীর ফকীরী চিকিৎসকদের উপার্জিত অর্থ কি হালাল হতে পারে বলছেন?

ফন্ট সাইজ
15px
17px