📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 ঘর বন্ধ করে কামাই

📄 ঘর বন্ধ করে কামাই


এ জগতে বাস করতে গিয়ে বালা-মসিবত কার না আসে? বিপদ-আপদ দিয়ে মুমিনকে পরীক্ষা করা হয়। যেমন প্রত্যেক ঘরেই তো দূরের কথা প্রত্যেক মানুষের সাথে শয়তান বাস করে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ঐ বালা-মসীবত, বিপদ-আপদ ও শয়তান থেকে রক্ষা করেন। আর যাকে ইচ্ছা তাকে ঐ সব দিয়ে পরীক্ষা করেন। অবশ্য ঐ সব দূর করার শরয়ী পদ্ধতিও আছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, কিছু অল্প বিদ্যার মানুষ ঐ সব দূর করার জন্য নব আবিষ্কৃত শিকী পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে। সৃষ্টি করে থাকে দুর্বল ঈমানের মানুষদের মনে নানা ভয় ও ত্রাস। অতঃপর পয়সার বিনিময়ে তাদের সে ভয় ও ত্রাস দূর করার ঠিকেদারিও করে থাকে। ফলে সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝেড়ে বাতিল উপায়ে অর্থ উপার্জন করে খায়। ভূত ও শনির ভয় দেখিয়ে মনগড়া পদ্ধতিতে তা দূর করার অপচেষ্টা করে শির্ক ও বিদআত করে অভর ভুঁড়ির ভাঁড় ভরতি করে!
ঘর বন্ধ করার কাজে পীরের পাদুকা, মাটির ভাঁড়, পেরেক, সিঁদুর, আগর বাতি ইত্যাদি ব্যবহার দেখে প্রত্যেক তওহীদবাদী মুসলিম আন্দাজ করতে পারবে যে, মুসলিম ঘরে শির্কের প্রচলন বাড়িয়ে চলেছেন ঐ শ্রেণীর ওঝা হুযুরের দল। অথচ যে ঘর এবং যে ঘরের মানুষের মন শির্ক বরণ করে নিতে সর্বদা মুক্ত বা খোলা থাকে, সে ঘর শির্ক দিয়ে বন্ধ করা যায় না। পেশাব দিয়ে পায়খানা ধুলে কি পবিত্রতা আসে?

পক্ষান্তরে সমাজ যদি খেয়াল করে, তাহলে দেখতে পাবে যে, ঘর বন্ধ করার জন্য ঐ খরচের পদ্ধতি কোন ওঝা হুযুর নিজে ব্যবহার করছেন না। ঘরে বর্কত আনয়ন করার জন্য কোন মীলাদী হুযুর নিজের ঘরে মীলাদ পড়াচ্ছেন না। আর তার মানে কি এই নয় যে, চাঁড়ালের ঘরের চালে কাক বসলে, তা চাঁড়ালের পাপের কারণে বসে। পক্ষান্তরে বামনের ঘরের চালে কাক বসলে, কাক নিজের পাপ খন্ডন করাবার উদ্দেশ্যে বসে?

আসলে এক বামন এক চাঁড়ালের ঘরের চালে কাক বসতে দেখে তার কাছ থেকে কিছু বাগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা হল। বামন চাঁড়ালকে ডেকে বলল, তোর ঘরের চালে কাক বসেছে, তুই কি পাপ করেছিস বল তো?
চাঁড়াল হতভম্ব হয়ে বলল: আজ্ঞে আমার জানা মতে আমি কোন পাপ তো করিনি। বামন বললঃ নিশ্চয় করেছিস। তাছাড়া তোর ঘরের চালে কাক বসবে কেন? চাঁড়াল বলল: তাহলে মশায়, তা খন্ডন করার উপায় কি? বামন বলল: উপায় খুব সহজ। কাল সকালে একটা মোরগ আর এক সের আতপ চাল নিয়ে আসবি। তোর পাপ খন্ডন করিয়ে দেব।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভয়ে ভয়ে চাঁড়াল কষ্টেসৃষ্টে তা যোগাড় করে বামনের ঘরে পৌঁছে দিয়ে পাপ বা দোষ খন্ডনের ব্যবস্থা করতে বলে এল। কিন্তু তার মনে একটি 'কিন্তু' থেকেই গেল?
একদিন সে লক্ষ্য করল যে, বামনের ঘরের চালে কাক বসেছে। ভাবল, কি ব্যাপার? তাহলে কি বামনও পাপ করলেন, নাকি তাঁর ঐ কথা মিথ্যা ও ভাঁওতা মাত্র। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাহস করে বামনকে ডেকে সভয়ে বলল, আজ্ঞে! কিছু মনে করবেন না, আমি একটি কথা বলব।
বামন তাকে অভয় দিয়ে বলতে আদেশ করল। সে বলল, আজ্ঞে আমার পাপের কারণে আমার ঘরের চালে কাক বসেছিল। কিন্তু আপনি আবার কি পাপ করলেন যে, আপনার ঘরের চালে আজ কাক বসেছে?
বামন বললঃ নিশ্চয় তুই ভুল দেখেছিস। ওটা হয়তো কাক নয়, পায়রা। চাঁড়াল বলল: আজ্ঞে না। আমার চোখের কোন দোষ নেই। আপনি নিজে দেখুন, বুঝতে পারবেন।
বামন দেখল, যুক্তির ফাঁসে সে ফেঁসে গেছে। মনে মনে এই ফাঁস থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করল এবং কৌশলের সাথে বলল, আরে সত্যই তো কাক। কিন্তু আমার চালে ও কেন বসেছে, তা যদি তুই বুঝবি, তাহলে আমি বামন আর তুই চাঁড়াল হবি কেন? আসলে তোর পাপের কারণে তোর ঘরের চালে কাক বসেছিল। কিন্তু এ কাক নিজ পাপ খন্ডন করানোর জন্য আমার চালে এসে বসেছে।
বেচারা চাঁড়াল নাজবাব হয়ে ফিরে গেল। কিন্তু তার মন কি তা মেনে নিতে পেরেছিল। কক্ষনই না।
আপনি কি বুঝতে পারছেন যে, আমাদের সমাজেও অনুরূপভাবে অসৎ উপায়ে সাধারণ মানুষের ধন লুটে খাবার মত লোক বর্তমান রয়েছে?

আনুষঙ্গিকভাবে সঠিক পদ্ধতিতে ঘর বন্ধ করার পদ্ধতি উল্লেখ্যঃ-
শয়তান এমন এক সৃষ্টি যে মানুষের রক্তশিরায় প্রবাহিত হতে পারে, সুতরাং কোন বাঁধ দিয়ে তাকে রোখা, কোন বাধ সেধে তাকে বাধা দেওয়া অথবা কোন বাঁধন দিয়ে তাকে বাঁধা সম্ভব নয়। সে অদৃশ্য জিনিসকে আধ্যাত্মিক কিছু দিয়ে প্রতিহত করতে হয়।
অবশ্য শয়তানকে রাজি ও খোশ করে ভাগানো যায়। কিন্তু সে মানুষের ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হবার নয়। শির্ক করলে সে রাজি হয়, অতএব শির্ক করে তাকে খোশ করে বিদায় জানাতে অনুরোধ করা যায়। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তা বৈধ নয়। কারণ শির্ক সবচেয়ে বড় পাপ।
আর দ্বিতীয় পদ্ধতি হল, সে যা পছন্দ করে না, তা দিয়ে ভাগানো। সে যাতে কষ্টবোধ করে তা দিয়ে তাড়ানো। যেমন মরিচের ধোঁয়া মানুষের কাছে বড় কষ্টকর। কোন ঘরে মরিচের ধোঁয়া দেওয়া হলে সে ঘরে কোন মানুষ টিকতে পারবে না। তেমনি শয়তানের জন্য মরিচের ধোঁয়া হল, মহান আল্লাহর যিকর। আল্লাহর যিকরে সে জ্বলে ওঠে। আল্লাহর আযান শুনে সে পাদতে পাদতে পলায়ন করে। বলাই বাহুল্য যে, ঘর থেকে তাকে বিতাড়িত করতে, অন্য কথায় শয়তান থেকে 'ঘর বন্ধ' করতে আপনি নিম্নলিখিত আধ্যাত্মিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন:-

১। বাড়ি প্রবেশের সময় 'বিসমিল্লাহ' বলুন।
২। পানাহার শুরু করার আগে 'বিসমিল্লাহ' বলুন।
তিনি আরো বলেন, "তোমাদের কেউ যখন নিজ বাড়ি প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলে, তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে, 'তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।' যখন সে বাড়ি প্রবেশ করার সময় আল্লাহর নাম নেয় এবং রাতে খাবার সময় না নেয়, তাহলে শয়তান বলে, 'তোমরা রাতের খাবার পেলে, কিন্তু রাত্রিযাপনের জায়গা নেই।' আর যখন সে খাবার সময়েও আল্লাহর নাম না নেয়, তখন শয়তান বলে, 'তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং খাবারও পেলে।” (মুসলিম ২০১৮, আবু দাউদ ৩৭৬৫নং)

৩। যথানিয়মে কুরআন এবং বিশেষ করে সূরা বাক্বারাহ তেলাঅত করুন।
মহানবী বলেন, "তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিও না (অর্থাৎ কবরে যেমন নামায বা তেলাঅত হয় না তেমনি বিনা নামায ও তেলাঅতে ঘরকেও তার মত করো না; বরং তাতে নামায ও তেলাঅত করতে থাক।) অবশ্যই শয়তান সেই ঘর হতে পলায়ন করে যে ঘরে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়।” (মুসলিম)
তিনি আরো বলেন, "তোমরা তোমাদের গৃহে সূরা বাক্বারাহ পাঠ কর। কারণ, যে ঘরে ঐ সূরা পাঠ করা হয় সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।” (সহীহুল জামে' ১১৭০নং)
তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা আকাশমন্ডলী ও ধরণী সৃষ্টির দুই সহস্রবৎসর পূর্বে এক গ্রন্থ (লওহে মাহফুয) লিপিবদ্ধ করেন, যা আরশের নিকট অবস্থিত। তিনি ঐ (গ্রন্থ) হতে দুটি আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার দ্বারায় সূরা বাক্বারার সমাপ্তি করেন। যে গৃহে ঐ আয়াত দুটি তিন দিন পঠিত হবে, শয়তান সে গৃহের নিকটবর্তী হবে না। (আহমাদ ৪/২৭৪)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, সূরা বাক্বারাহ কোন বাড়িতে পাঠ করা হলে তিন দিন পর্যন্ত শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হয় না। (সহীহ তারগীব)

৪। বাড়ি থেকে বাজনা দূর করুন।
মহানবী বলেন, "সেই সফর কাফেলার সঙ্গে (রহমতের) ফিরিস্তা থাকেন না, যে কাফেলায় ঘন্টা থাকে।” (আহমাদ, আবু দাউদ) অন্য এক বর্ণনায় আছে, "সেই ঘরে (রহমতের) ফিরিস্তা থাকেন না, যে ঘরে ঘন্টা থাকে।
বলাই বাহুল্য যে, যে বাড়িতে ঘুঙুর-ঘন্টা থেকে আরো বড় আকর্ষণীয় বাজনা-বাদ্য ধ্বনিত হয়, সে বাড়িতে রহমতের ফিরিস্তা থাকতে পারে না। আর তার মানেই শয়তান ও বর্কতহীনতা সে ঘর হতে বিদায় গ্রহণ করে না।

৫। বাড়ি থেকে মানুষ বা কোন প্রাণীর মূর্তি ও ছবি বা ফটো দূর করুন।
মহানবী বলেন, “যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করে না।” (বুখারী, মুসলিম)

৬। বাড়ি থেকে কুকুর দূর করুন। বিশেষ করে কালো কুকুর শয়তান।
মহানবী বলেন, “যে ঘরে কুকুর বা মূর্তি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশা প্রবেশ করে না।” (বুখারী, মুসলিম)
একদা মহানবী -এর গৃহে একটি কুকুর প্রবেশ করলে জিবরীল প্রবেশ করেননি। কারণ জিজ্ঞাসা করলে জিবরীল বলেছিলেন, "আমরা সে ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর অথবা মূর্তি (বা ছবি) থাকে।” (বুখারী, মুসলিম)

সুতরাং ভাড়াটিয়া ওঝার উপর ভরসা করে শির্ক-বিদআত না করে, নিজের বাড়ি নিজেই বন্ধ করুন। বাড়ি থেকে জিন, শয়তান ও বর্কতহীনতা পলায়ন করবে ইন শাআল্লাহ।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 কুরআন খানী

📄 কুরআন খানী


কুরআন-খানী, ফাতেহা-খানী, কুল-খানী, খতমে কুরআন, শবীনা পাঠ প্রভৃতির মাধ্যমে ঈসালে সওয়াব করার কোন ভিত্তি শরীয়তে নেই, বিধায় তা বিদআত। কিন্তু সে কথায় কান না দিয়ে, এক পাত গোশুভাত ও কয়েকটি টাকার লোভে কুরআনকে কামায়ের মাধ্যম বানায় এক শ্রেণীর হাফেয ও ক্বারীর দল। যাদের জন্য দুআ করা হারাম, তাদের জন্যও কুরআন-খানী করে; এমনকি অনেকে রাজনৈতিক খাতিরে অমুসলিমের নামেও কুরআনখানী করে! করবেই তো। তারা তো আর সে কাজ মন থেকে করে না। তারা তো আসলে ভাড়াটিয়া মুটে। ভাড়ার জন্য যে কোন মোট বইতে তারা রাযী।
ওদের মধ্যে যাদের মোটেই আল্লাহর ভয় নেই, তারা আবার ভাড়া গিয়েও কাজে ফাঁকি দিয়ে থাকে। গড়গড় করে পড়তে পড়তে জানতে অজানতে মাঝে-মধ্যে কয়েক পাতা বাদ দিয়ে দিয়ে স্বল্প সময়ে কুরআন খতম করে! ফলে তারা ধোকা দেয় আল্লাহকে, ধোকা দেয় সমাজকে এবং নিজেদেরকেও। ফাল্লাহুল মুস্তাআন!

সমাজে এক শ্রেণীর বোকা মানুষ আছে, যারা মনে করে যে, তাদের আত্মীয় শির্ক করে অথবা ইসলামের বিরোধিতা করে অথবা নামায-রোযা না করে মারা গেলেও যদি তার নামে কুরআন-খানী করিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ভাড়াটিয়া ঐ শ্রেণীর হাফেয বা কারী ভাড়া করে আত্মীয়র জন্য বেহেশুগামী পথ অতিক্রম সহজ করার মানসে বুরাক অথবা দুলদুল ভাড়া করে দেওয়া হয়!
অথবা তারা জানে যে, এটা তার আত্মীয়র কোন কাজে আসবে না। তবুও সমাজের চাপে, সমাজে সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে, সমাজের একটি প্রচলিত রসম-রেওয়াজ পাঁচজনের খাতিরে পালন করার উদ্দেশ্যে কুরআন-খানী করিয়ে থাকে। আর এ নিয়তে উক্ত কাজ যে বৃথা ও ফালতু-তা বলাই বাহুল্য।
সুতরাং যে কাজ বিদআত, যে কাজে নোকসান ছাড়া কোন লাভ নেই, সে কাজে ভাড়া খেটে অর্থ উপার্জন ও উদরপূর্তি কি ইসলামে বৈধ হতে পারে? (দেখুন: মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/৩৭৯, ২৮/১১০, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ১/৪২)

প্রকাশ থাকে যে, কুরআন দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে অথবা নিয়ত ঠিক রেখে কুরআন শিক্ষা দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা অবৈধ নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩১/১০৯)

মুফতী মুহাম্মাদ শাফী' সাহেব মাআরিফুল কুরআনে বলেন, 'ঈসালে সওয়াব উপলক্ষ্যে খতমে-কোরআনের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সর্বসম্মতভাবে না-জায়েয: আল্লামা শামী 'দূরে মুখতারের শরাহ' এবং 'শিফাউল আলীল' নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে এবং অকাট্য দলীলাদিসহ এ কথা প্রমাণ করেছেন যে, কোরআন শিক্ষাদান বা অনুরূপ অন্যান্য কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের যে অনুমতি পরবর্তীকালের ফকীহগণ দিয়েছেন, তার কারণ এমন এক ধর্মীয় প্রয়োজন যে, তাতে বিচ্যুতি দেখা দিলে গোটা শরীয়তের বিধান-ব্যবস্থার মূলে আঘাত আসবে। সুতরাং এ অনুমতি এ সব বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা একান্ত আবশ্যক। এ জন্যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মৃতের ঈসালে-সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরআন খতম করানো বা অন্য কোন দোয়া-কালাম বা অযিফা পড়ানো হারাম। কারণ এর উপর কোন ধর্মীয় মৌলিক প্রয়োজন নির্ভরশীল নয়। এখন যেহেতু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন পড়া হারাম, সুতরাং যে পড়বে এবং যে পড়াবে, তারা উভয়ই গোনাহগার হবে। বস্তুতঃ যে পড়েছে সে-ই যখন কোন সওয়াব পাচ্ছে না, তখন মৃত আত্মর প্রতি সে কি পৌঁছাবে? কবরের পাশে কোরআন পড়ানো বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন খতম করানোর রীতি সাহাবী, তাবেয়ীন এবং প্রথম যুগের উম্মতগণের দ্বারা কোথাও বর্ণিত বা প্রমাণিত নেই। সুতরাং এগুলো নিঃসন্দেহে বেদ'আত।' (তফসীর মাআরিফুল কুরআন, বাংলা অনূদিত, সউদী আরব ছাপা ৩৫পৃঃ)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 মাযার ও নযর-নিয়ায

📄 মাযার ও নযর-নিয়ায


এক শ্রেণীর সূফীপন্থী মুসলমান আধ্যাত্মিকতার নামে বুযুর্গ সেজে সাধারণ মানুষের নযর-নিয়ায গ্রহণ করেন। অনেকে কোন রোগ থেকে মুক্তি লাভের আশায়, অনেকে সন্তান লাভের আশায়, অনেকে সুখ-সমৃদ্ধি লাভের আশায় তাঁদের কাছে এলে তাঁদের জন্য বিশেষ উপঢৌকন ও নযরানা পেশ করলে, তাতেও তাঁদের বেশ ধনাগম হয়। কেরামতি ও বুযুর্গির প্রচার-কার্যের প্রবাহ সৃষ্টি করে তাঁদের সে ব্যবসা সহজ করে তোলা হয়। কল্পনাপ্রসূত অথবা সত্যই কোন আল্লাহর অলীর কবরকে মাযার বানিয়ে সেখানেও ঐ ধরনের নানা কেরামতি ও আশাপূর্ণ হওয়ার কথা লোকমাঝে প্রচার করে দুর্বল, কম অথবা নেই ঈমানের সাধারণ মানুষদের বিশাল সমাগম ঘটিয়ে প্রচুর ধনাগম করা হয়। আর শির্কের আড্ডাকে কেন্দ্র করে উপার্জিত ঐ অর্থ কি হালাল বলতে পারেন? এটা কি বাতিল উপায়ে মানুষের ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করার অন্যতম পন্থা নয়? মহানবী বলেন, “-আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে (অথবা নিজেকে) সুনাম ও লোক-প্রদর্শনের জায়গায় রেখে (তার ভুয়া প্রশংসা ও মিথ্যা কারামত ও বুযুর্গী বর্ণনা করে উপার্জন করবে), আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন অনুরূপ (মিথ্যুক বলে) প্রচার ও প্রসিদ্ধির জায়গায় রাখবেন।” (আহমাদ, আবু দাউদ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৬০৮৩নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 গণক ও দৈব-চিকিৎসা

📄 গণক ও দৈব-চিকিৎসা


এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা, গায়বী খবর জানে বলে দাবী করে, গায়বী খবর বলে এবং গায়বী খবর জানতে, রোগ জানতে, হারিয়ে যাওয়া জিনিসের স্থান জানতে, চোর চিহ্নিত করতে হাত, বাতা, বা বাটি চালায়, বদনা ঘোরায়, দাগ টানে, কড়ি চালে, ফালনামা খোলে, রোগীর মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে, তার ব্যবহৃত জামা আনতে বলে, কারো পায়ের ধুলো আনতে বলে, মাসিকের জন্য ব্যবহৃত নোংরা ন্যাকড়া (!) আনতে বলে এবং এ সবের মাধ্যমে রোগ ও চোর ধরে ও চিকিৎসা করে। আর তার বিনিময়ে ভালো পয়সা ইনকাম করে। এই শ্রেণীর ওঝারা গায়বী খবর রাখার দাবী করে। সুতরাং তার নিকট চিকিৎসা করানো বৈধ নয়। যেমন তার নিকট যাওয়া, তাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করাও অবৈধ।

যেহেতু মহানবী বলেন, "যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তার চল্লিশ রাত নামায কবুল করা হয় না।” (মুসলিম)
গণক, দৈবজ্ঞ ও যাদুকরের নিকট যেতে, তাদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাদের ঐ কথাকে সত্যায়ন বা বিশ্বাস করতে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মহানবী থেকে একাধিক হাদীস শুদ্ধভাবে প্রমাণিত আছে। তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসে এবং সে যা বলে তা সত্য বলে মানে তবে সে মুহাম্মাদ-এর প্রতি অবতীর্ণ বিষয় (কুরআনের) সাথে কুফরী করে (অস্বীকার করে)।” (সহীহুল জামে' ৫৯৩৯নং)

সুতরাং যে ব্যক্তি পাথর মেরে, কড়ি খেলে, মাটিতে দাগ টেনে অথবা রোগীকে তার ও তার মায়ের নাম অথবা কোন আত্মীয়র নাম জিজ্ঞাসা করে গায়বী (অদৃশ্য) জ্ঞানের দাবী করে তবে এসব এই কথারই দলীল যে, সে গণক ও দৈবজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। যাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এবং তাদের কথা সত্যায়ন করতে মহানবী নিষেধ করেছেন। অতএব ওদের থেকে এবং কোন গায়বী খবর জানতে ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে; বরং ওদের নিকট চিকিৎসা করানো থেকে সাবধান হওয়া ওয়াজেব।
বলা বাহুল্য, ঐ শ্রেণীর ফকীরী চিকিৎসকদের উপার্জিত অর্থ কি হালাল হতে পারে বলছেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00