📄 শির্কী ঝাড়ফুঁক ব্যবসা
তাবীযের বিকল্প ব্যবস্থা স্বরূপ কুরআনী আয়াত বা সহীহ দুআ ও যিক্র দ্বারা ঝাঁড়-ফুঁক করা জায়েয। তবে শিকী বাক্য-সম্বলিত ঝাঁড়-ফুঁক বা মন্ত্র দ্বারা রোগী ঝাড়া শির্ক। যেমন দেব-দেবী, ফিরিশ্তা, জিন, শয়তান, অলী-আওলিয়া প্রভৃতির নাম নিয়ে অথবা আবোল-তাবোল অবোধগম্য মনগড়া বাক্য দিয়ে ঝাঁড়-ফুঁক করা শির্ক। আর শিকী মন্ত্রে যে কাজ হয়, তা হল শয়তানের কারসাজি।
শরয়ী মতে ঝাড়ফুঁক করার উপর পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ। শরয়ী মতে জিন ছাড়িয়ে বিনিময় নেওয়া হালাল। যাঁরা মানুষের উপকার করতে চান তাঁদের উচিত, এই শরয়ী চিকিৎসা শিক্ষা করা। পক্ষান্তরে শিকী পদ্ধতিতে ঝাড়ফুঁক করে, বেগানা মহিলার গায়ে হাত দিয়ে তেল মালিশ করে ঝাড়ফুঁক করে, চেহারায় আঘাত করে বা আগুন দিয়ে, পশু বা পাখী যবাই করে জিন ছাড়িয়ে কামানো পয়সা হারাম পয়সা।
📄 পাপ-খন্ডন বা নামাযের কাফফারা
সমাজের কোন কোন পরিবেশে এই পাপ-খন্ডনের প্রথা প্রচলিত। অবশ্য সবাই যে পাপ খন্ডনের ঐ বিধান দিয়ে নিজেই সেই অর্থ বা চাল ভক্ষণ করে তা নয়। কিন্তু যারা করে, তাদের জন্য আমাদের এ উপদেশ অধিক প্রযোজ্য।
পক্ষান্তরে নামাযের অনুরূপ কোন কাফ্ফারা নেই। জ্ঞান থাকতে নামায কোন সময় মাফ নেই। পবিত্রতা অর্জন করতে না পারলেও নামায মাফ নয়। কষ্টের সময়ও আল্লাহর বান্দারা নামায পড়ে থাকেন এবং তারই মাধ্যমে ধৈর্য ও আরোগ্যের জন্য আবেদন করে থাকেন। আর তা করা আবশ্যক।
সুতরাং নামায বাদ যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। আর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাদ চলেই গেলে, তা কাযা তোলা ছাড়া অন্য কোন কাফ্ফারা নেই। প্রিয় নবী বলেন, “যে ব্যক্তি কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে তার কাফ্ফারা হল স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।” অন্য এক বর্ণনায় বলেন, "এ ছাড়া তার আর কোন কাফ্ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬০৩ নং) বৈধ কারণে ছুটে যাওয়া অনেক নামাযের কাযা না থাকলেও তার কোন কাফ্ফারা নেই।
পক্ষান্তরে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করে বেনামাযী থেকে মারা যায়, তাহলে তার ঐ হিসাব করা কাফফারার কয়েক কিলো চাল বা কয়েক শত কিংবা হাজার টাকা তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার সারা সম্পদ দিলেও আল্লাহ মাফ করবেন না। ইল্লা মা-শাআল্লাহ! যেহেতু (অনেকের মতে) বেনামাযী কাফের। সুতরাং কাফেরের জন্য কাফফারা, দান বা দুআ কোনই কাজে দেবে না।
এই সুযোগে গরীবরা উপকৃত হয় ঠিকই। কিন্তু এই সুযোগ সৃষ্টি করার সুযোগ্য বিধানদাতা আপনি কে?
📄 মীলাদ-ব্যবসা
মীলাদ বা মৌলুদ পাঠ ধর্মে একটি নব আবিষ্কৃত বিদআত। এ কথা অনেক মৌলবী, ইমাম বা মোল্লা স্বীকার করা সত্ত্বেও কেবল এক পাত মুরগী-পোলাও ও কয়টি টাকার লোভে তা করে থাকেন। ওঁদের মধ্যে অনেকেই নাস্তিক ও বেনামাযীর জানাযা পড়েন না, কিন্তু তার চালসের দাওয়াত গ্রহণ করতে ভুল করেন না। সুতরাং হায়রে অভর পেট! পেটের এমন জ্বালা?
তাঁদেরকে বুঝাতে গেলে বুঝ মানেন না। অনেকে বিদআত স্বীকার করেও 'বিদআতে হাসানাহ' বলে উত্তম মনে করেই করে থাকেন। অনেকে তা সুন্নত প্রমাণ করার অপচেষ্টা করে এদিক-সেদিক থেকে অপ্রাসঙ্গিক দলীল উপস্থাপিত করে থাকেন। পরন্তু সমাজে প্রচলিত ঐ বিদআতের কথা বললে নাকি তাঁদের পেটে ছুরি মারা হয়! অনেকে জামাআতের দোহায় দিয়ে বলেন, তিনি যদি মীলাদ না পড়েন, তাহলে জামাআত তাঁকে রাখবে না। যেন ঐ জামাআত তাঁর রুযীর ভার নিয়ে রেখেছে এবং অন্য কোন জামাআত বা মসজিদে তাঁর চাকরি মিলবে না।
বলাই বাহুল্য যে, মুসলিম সমাজে ঐ শ্রেণীর মৌলবী ও হুযুররা মানুষের নিকট থেকে মীলাদ ইত্যাদি বিদআতী ধর্মানুষ্ঠান করে অসৎ উপায়ে অর্থ গ্রহণ করছেন এবং নিজ ভক্তদেরকে সঠিক পথে আসতে বাধা দিচ্ছেন। সত্য পথকে 'ওয়াহাবী' ইত্যাদি নাম দিয়ে তাদের কানে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। অতএব যে সরিষায় ভূত ছাড়বে, সেই সরিষাতেই যদি ভূত জেঁকে বসে, তাহলে সমাজের ভূত আর ছাড়বে কিভাবে?
সমাজের সাধারণ মানুষের উচিত, ধর্মব্যবসায়ীদের ঐ সকল ব্যবসা সম্বন্ধে সচেতন হওয়া। তাদেরকে মুরগী-পোলাও খাইয়ে ফালতু পয়সা খরচ না করা। যাতে আপনার মৃত মাতা-পিতার কোন লাভ হবে না, তা করা ফালতু বৈকি? আর খবরদার! ঐ ধরনের মীলাদে হাযির হবেন না। নাই বা শুনলেন বিদআতী মজলিসে ভালো কথা? ভালো কথা শোনার কি আর কোন উপলক্ষ্য নেই?
📄 ঘর বন্ধ করে কামাই
এ জগতে বাস করতে গিয়ে বালা-মসিবত কার না আসে? বিপদ-আপদ দিয়ে মুমিনকে পরীক্ষা করা হয়। যেমন প্রত্যেক ঘরেই তো দূরের কথা প্রত্যেক মানুষের সাথে শয়তান বাস করে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ঐ বালা-মসীবত, বিপদ-আপদ ও শয়তান থেকে রক্ষা করেন। আর যাকে ইচ্ছা তাকে ঐ সব দিয়ে পরীক্ষা করেন। অবশ্য ঐ সব দূর করার শরয়ী পদ্ধতিও আছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, কিছু অল্প বিদ্যার মানুষ ঐ সব দূর করার জন্য নব আবিষ্কৃত শিকী পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে। সৃষ্টি করে থাকে দুর্বল ঈমানের মানুষদের মনে নানা ভয় ও ত্রাস। অতঃপর পয়সার বিনিময়ে তাদের সে ভয় ও ত্রাস দূর করার ঠিকেদারিও করে থাকে। ফলে সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝেড়ে বাতিল উপায়ে অর্থ উপার্জন করে খায়। ভূত ও শনির ভয় দেখিয়ে মনগড়া পদ্ধতিতে তা দূর করার অপচেষ্টা করে শির্ক ও বিদআত করে অভর ভুঁড়ির ভাঁড় ভরতি করে!
ঘর বন্ধ করার কাজে পীরের পাদুকা, মাটির ভাঁড়, পেরেক, সিঁদুর, আগর বাতি ইত্যাদি ব্যবহার দেখে প্রত্যেক তওহীদবাদী মুসলিম আন্দাজ করতে পারবে যে, মুসলিম ঘরে শির্কের প্রচলন বাড়িয়ে চলেছেন ঐ শ্রেণীর ওঝা হুযুরের দল। অথচ যে ঘর এবং যে ঘরের মানুষের মন শির্ক বরণ করে নিতে সর্বদা মুক্ত বা খোলা থাকে, সে ঘর শির্ক দিয়ে বন্ধ করা যায় না। পেশাব দিয়ে পায়খানা ধুলে কি পবিত্রতা আসে?
পক্ষান্তরে সমাজ যদি খেয়াল করে, তাহলে দেখতে পাবে যে, ঘর বন্ধ করার জন্য ঐ খরচের পদ্ধতি কোন ওঝা হুযুর নিজে ব্যবহার করছেন না। ঘরে বর্কত আনয়ন করার জন্য কোন মীলাদী হুযুর নিজের ঘরে মীলাদ পড়াচ্ছেন না। আর তার মানে কি এই নয় যে, চাঁড়ালের ঘরের চালে কাক বসলে, তা চাঁড়ালের পাপের কারণে বসে। পক্ষান্তরে বামনের ঘরের চালে কাক বসলে, কাক নিজের পাপ খন্ডন করাবার উদ্দেশ্যে বসে?
আসলে এক বামন এক চাঁড়ালের ঘরের চালে কাক বসতে দেখে তার কাছ থেকে কিছু বাগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা হল। বামন চাঁড়ালকে ডেকে বলল, তোর ঘরের চালে কাক বসেছে, তুই কি পাপ করেছিস বল তো?
চাঁড়াল হতভম্ব হয়ে বলল: আজ্ঞে আমার জানা মতে আমি কোন পাপ তো করিনি। বামন বললঃ নিশ্চয় করেছিস। তাছাড়া তোর ঘরের চালে কাক বসবে কেন? চাঁড়াল বলল: তাহলে মশায়, তা খন্ডন করার উপায় কি? বামন বলল: উপায় খুব সহজ। কাল সকালে একটা মোরগ আর এক সের আতপ চাল নিয়ে আসবি। তোর পাপ খন্ডন করিয়ে দেব।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভয়ে ভয়ে চাঁড়াল কষ্টেসৃষ্টে তা যোগাড় করে বামনের ঘরে পৌঁছে দিয়ে পাপ বা দোষ খন্ডনের ব্যবস্থা করতে বলে এল। কিন্তু তার মনে একটি 'কিন্তু' থেকেই গেল?
একদিন সে লক্ষ্য করল যে, বামনের ঘরের চালে কাক বসেছে। ভাবল, কি ব্যাপার? তাহলে কি বামনও পাপ করলেন, নাকি তাঁর ঐ কথা মিথ্যা ও ভাঁওতা মাত্র। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাহস করে বামনকে ডেকে সভয়ে বলল, আজ্ঞে! কিছু মনে করবেন না, আমি একটি কথা বলব।
বামন তাকে অভয় দিয়ে বলতে আদেশ করল। সে বলল, আজ্ঞে আমার পাপের কারণে আমার ঘরের চালে কাক বসেছিল। কিন্তু আপনি আবার কি পাপ করলেন যে, আপনার ঘরের চালে আজ কাক বসেছে?
বামন বললঃ নিশ্চয় তুই ভুল দেখেছিস। ওটা হয়তো কাক নয়, পায়রা। চাঁড়াল বলল: আজ্ঞে না। আমার চোখের কোন দোষ নেই। আপনি নিজে দেখুন, বুঝতে পারবেন।
বামন দেখল, যুক্তির ফাঁসে সে ফেঁসে গেছে। মনে মনে এই ফাঁস থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করল এবং কৌশলের সাথে বলল, আরে সত্যই তো কাক। কিন্তু আমার চালে ও কেন বসেছে, তা যদি তুই বুঝবি, তাহলে আমি বামন আর তুই চাঁড়াল হবি কেন? আসলে তোর পাপের কারণে তোর ঘরের চালে কাক বসেছিল। কিন্তু এ কাক নিজ পাপ খন্ডন করানোর জন্য আমার চালে এসে বসেছে।
বেচারা চাঁড়াল নাজবাব হয়ে ফিরে গেল। কিন্তু তার মন কি তা মেনে নিতে পেরেছিল। কক্ষনই না।
আপনি কি বুঝতে পারছেন যে, আমাদের সমাজেও অনুরূপভাবে অসৎ উপায়ে সাধারণ মানুষের ধন লুটে খাবার মত লোক বর্তমান রয়েছে?
আনুষঙ্গিকভাবে সঠিক পদ্ধতিতে ঘর বন্ধ করার পদ্ধতি উল্লেখ্যঃ-
শয়তান এমন এক সৃষ্টি যে মানুষের রক্তশিরায় প্রবাহিত হতে পারে, সুতরাং কোন বাঁধ দিয়ে তাকে রোখা, কোন বাধ সেধে তাকে বাধা দেওয়া অথবা কোন বাঁধন দিয়ে তাকে বাঁধা সম্ভব নয়। সে অদৃশ্য জিনিসকে আধ্যাত্মিক কিছু দিয়ে প্রতিহত করতে হয়।
অবশ্য শয়তানকে রাজি ও খোশ করে ভাগানো যায়। কিন্তু সে মানুষের ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হবার নয়। শির্ক করলে সে রাজি হয়, অতএব শির্ক করে তাকে খোশ করে বিদায় জানাতে অনুরোধ করা যায়। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তা বৈধ নয়। কারণ শির্ক সবচেয়ে বড় পাপ।
আর দ্বিতীয় পদ্ধতি হল, সে যা পছন্দ করে না, তা দিয়ে ভাগানো। সে যাতে কষ্টবোধ করে তা দিয়ে তাড়ানো। যেমন মরিচের ধোঁয়া মানুষের কাছে বড় কষ্টকর। কোন ঘরে মরিচের ধোঁয়া দেওয়া হলে সে ঘরে কোন মানুষ টিকতে পারবে না। তেমনি শয়তানের জন্য মরিচের ধোঁয়া হল, মহান আল্লাহর যিকর। আল্লাহর যিকরে সে জ্বলে ওঠে। আল্লাহর আযান শুনে সে পাদতে পাদতে পলায়ন করে। বলাই বাহুল্য যে, ঘর থেকে তাকে বিতাড়িত করতে, অন্য কথায় শয়তান থেকে 'ঘর বন্ধ' করতে আপনি নিম্নলিখিত আধ্যাত্মিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন:-
১। বাড়ি প্রবেশের সময় 'বিসমিল্লাহ' বলুন।
২। পানাহার শুরু করার আগে 'বিসমিল্লাহ' বলুন।
তিনি আরো বলেন, "তোমাদের কেউ যখন নিজ বাড়ি প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলে, তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে, 'তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।' যখন সে বাড়ি প্রবেশ করার সময় আল্লাহর নাম নেয় এবং রাতে খাবার সময় না নেয়, তাহলে শয়তান বলে, 'তোমরা রাতের খাবার পেলে, কিন্তু রাত্রিযাপনের জায়গা নেই।' আর যখন সে খাবার সময়েও আল্লাহর নাম না নেয়, তখন শয়তান বলে, 'তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং খাবারও পেলে।” (মুসলিম ২০১৮, আবু দাউদ ৩৭৬৫নং)
৩। যথানিয়মে কুরআন এবং বিশেষ করে সূরা বাক্বারাহ তেলাঅত করুন।
মহানবী বলেন, "তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিও না (অর্থাৎ কবরে যেমন নামায বা তেলাঅত হয় না তেমনি বিনা নামায ও তেলাঅতে ঘরকেও তার মত করো না; বরং তাতে নামায ও তেলাঅত করতে থাক।) অবশ্যই শয়তান সেই ঘর হতে পলায়ন করে যে ঘরে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়।” (মুসলিম)
তিনি আরো বলেন, "তোমরা তোমাদের গৃহে সূরা বাক্বারাহ পাঠ কর। কারণ, যে ঘরে ঐ সূরা পাঠ করা হয় সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।” (সহীহুল জামে' ১১৭০নং)
তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা আকাশমন্ডলী ও ধরণী সৃষ্টির দুই সহস্রবৎসর পূর্বে এক গ্রন্থ (লওহে মাহফুয) লিপিবদ্ধ করেন, যা আরশের নিকট অবস্থিত। তিনি ঐ (গ্রন্থ) হতে দুটি আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার দ্বারায় সূরা বাক্বারার সমাপ্তি করেন। যে গৃহে ঐ আয়াত দুটি তিন দিন পঠিত হবে, শয়তান সে গৃহের নিকটবর্তী হবে না। (আহমাদ ৪/২৭৪)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, সূরা বাক্বারাহ কোন বাড়িতে পাঠ করা হলে তিন দিন পর্যন্ত শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হয় না। (সহীহ তারগীব)
৪। বাড়ি থেকে বাজনা দূর করুন।
মহানবী বলেন, "সেই সফর কাফেলার সঙ্গে (রহমতের) ফিরিস্তা থাকেন না, যে কাফেলায় ঘন্টা থাকে।” (আহমাদ, আবু দাউদ) অন্য এক বর্ণনায় আছে, "সেই ঘরে (রহমতের) ফিরিস্তা থাকেন না, যে ঘরে ঘন্টা থাকে।
বলাই বাহুল্য যে, যে বাড়িতে ঘুঙুর-ঘন্টা থেকে আরো বড় আকর্ষণীয় বাজনা-বাদ্য ধ্বনিত হয়, সে বাড়িতে রহমতের ফিরিস্তা থাকতে পারে না। আর তার মানেই শয়তান ও বর্কতহীনতা সে ঘর হতে বিদায় গ্রহণ করে না।
৫। বাড়ি থেকে মানুষ বা কোন প্রাণীর মূর্তি ও ছবি বা ফটো দূর করুন।
মহানবী বলেন, “যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করে না।” (বুখারী, মুসলিম)
৬। বাড়ি থেকে কুকুর দূর করুন। বিশেষ করে কালো কুকুর শয়তান।
মহানবী বলেন, “যে ঘরে কুকুর বা মূর্তি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশা প্রবেশ করে না।” (বুখারী, মুসলিম)
একদা মহানবী -এর গৃহে একটি কুকুর প্রবেশ করলে জিবরীল প্রবেশ করেননি। কারণ জিজ্ঞাসা করলে জিবরীল বলেছিলেন, "আমরা সে ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর অথবা মূর্তি (বা ছবি) থাকে।” (বুখারী, মুসলিম)
সুতরাং ভাড়াটিয়া ওঝার উপর ভরসা করে শির্ক-বিদআত না করে, নিজের বাড়ি নিজেই বন্ধ করুন। বাড়ি থেকে জিন, শয়তান ও বর্কতহীনতা পলায়ন করবে ইন শাআল্লাহ।