📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 তাবীয ব্যবসা

📄 তাবীয ব্যবসা


তাবীয ব্যবসা একটি বিনা পুঁজির ব্যবসা, তাতে সবটাই লাভ এবং তার পরিমাণও মন্দ নয়। কিন্তু তা যে বৈধ ও তার কামাই যে পবিত্র নয়, তা আমাদের অনেকেই মানতে রাযী নন।

তাবীয সাধারণতঃ ৩ প্রকার হয়ে থাকেঃ-
(ক) কিছু তাবীয নক্সা বানিয়ে সংখ্যা দ্বারা লিখা হয়, কোন ফিরিশ্তা, জিন কিংবা শয়তানের নাম দ্বারা তৈরী করা হয় অথবা কোন তেলেস্মাতি জাদুবিদ্যার সাহায্য নিয়ে অবোধগম্য বাক্য দ্বারা লিখা হয়। অনেক সময় তাতে হযরত আলীর মদদ চেয়ে, অনেক সময় পাক পাঞ্জন (মুহাম্মাদ, আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইন) কে অসীলা বানিয়ে, অনেক সময় আব্দুল কাদের জীলানীর অসীলা নিয়ে লিখা হয় বিভিন্ন তাবীয।
(খ) কিছু তাবীয কোন ধাতু, পশু-পাখীর হাড়, লোম বা পালক কিংবা গাছের শিকড় দিয়ে বানানো হয়, মসজিদ, পীরতলা, কবর বা মাযারের ধুলো দিয়ে, কোন বুযুর্গের মাথার পাগড়ী, কবরে চড়ানো চাদরের অংশ, কা'বাগৃহের গিলাফের সুতো, মক্কা-মদীনার মাটি ইত্যাদি দিয়ে বানানো হয়। কোন কোন তাবীয গাঁজাখোর ফকীরদের গাঁজার ছাই বা কোন নোংরা জিনিস দিয়ে তৈরী করা হয়।

উক্ত দুই প্রকার তাবীয লিখা ও ব্যবহার করা যে শির্ক তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
আর ঐ শ্রেণীর তাবীয ব্যবহার করে আসলে লাভ কিছু হয় না। মানুষ ধারণা করে যে, তার রোগ-বালা ঐ তাবীযে দূর হয়েছে; কিন্তু আসলে তা নয়। বরং রোগ-বালা দূর হওয়ার কারণ অন্য কিছু; হয় বৈজ্ঞানিক নতুবা শয়তানী।
আল্লাহর নবী বলেন, "কবজ, বালা, নোয়া ইত্যাদি ব্যবহারে লাভ তো কিছুই হয় না বরং ক্ষতিই হয়।” (আহমাদ ৪৪৫, ইবনে মাজাহ ৩৫৩১নং)
উকবাহ বিন আমের আল্লাহর রসূল-এর নিকট (বাইআত করার উদ্দেশ্যে) ১০ জন লোক উপস্থিত হল। তিনি ন'জনের নিকট থেকে বাইয়াত নিলেন। আর মাত্র একজন লোকের নিকট হতে বাইআত নিলেন না। সকলে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি ন'জনের বাইআত গ্রহণ করলেন, কিন্তু এর করলেন না কেন?' উত্তরে তিনি বললেন, "ওর দেহে কবচ রয়েছে তাই।” অতঃপর তিনি নিজ হাতে তা ছিঁড়ে ফেললেন। তারপর তার নিকট থেকেও বাইআত নিলেন এবং বললেন, “যে ব্যক্তি কবচ লটকায়, সে ব্যক্তি শির্ক করে।” (আহমাদ, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪৯২নং)

(গ) কুরআনী আয়াত দ্বারা লিখিত তাবীয প্রসঙ্গে উলামাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে তাও ব্যবহার না করাটাই সঠিক। কারণ, প্রথমতঃ আল্লাহর রসূল তাবীয ব্যবহারকে শির্ক বলেছেন। তাতে সমস্ত রকমেরই তাবীয উদ্দিষ্ট হতে পারে।
দ্বিতীয়তঃ, কুরআনী আয়াত দ্বারা লিখিত তাবীয ব্যবহারকারী গলায়, হাতে কিংবা কোমরে বেঁধেই প্রস্রাব-পায়খানা করবে, স্ত্রী-মিলন করবে, মহিলারা মাসিক অবস্থায় ও অন্যান্য অপবিত্রতায় ব্যবহার করবে। অনেক ক্ষেত্রে কাফের ব্যবহার করবে এবং তাতে কুরআন মাজীদের অসম্মান ও অমর্যাদা হবে।
আশ্চর্যের কথা যে, ওঁদের মতে তাবীয বেঁধে মড়াঘর বা আঁতুড়ঘর গেলে তাবীয ছুত হয়ে যায়। কিন্তু অদ্ভুতের গায়ে ঐ তাবীয ছুত না হয়ে যথার্থরূপে উপকার করতে থাকে!
তৃতীয়তঃ, যদি এরূপ তাবীয ব্যবহার বৈধ করা যায়, তাহলে অকুরআনী তাবীযও ব্যবহার করতে দেখা যাবে। তাই এই শির্কের মূলোৎপাটন করার মানসে তার ছিদ্রপথ বন্ধ করতে কুরআনী তাবীয ব্যবহারও অবৈধ হবে।
চতুর্থতঃ, নবী করীম ঝাড়-ফুঁক করেছেন, করতে আদেশ ও অনুমতি দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের উপরেও ঝাড়-ফুঁক করা হয়েছে। অতএব যদি কুরআনী তাবীয ব্যবহার জায়েয হত, তাহলে নিশ্চয় তিনি এ সম্পর্কে কোন নির্দেশ দিতেন। অথচ কুরআন ও সুন্নায় এ ধরনের কোন নির্দেশ পাওয়া যায় না। (ইবনে বায ২/৩৮৪)
অনুরূপভাবে কোন লকেটের উপর 'আল্লাহ' বা 'মুহাম্মাদ' বা কোন কুরআনী আয়াত বা দুআ লিখে ব্যবহার করাও এই পর্যায়ে পড়ে।
দেখা যায় যে, সাধারণ মানুষ আল্লাহর উপর আস্থা না রেখে তাবীয ও তাবীযদাতার উপর আস্থাশীল হয়ে পড়ে। আর তা শির্কের দিকে মানুষকে আকর্ষণ করে।
বলাই বাহুল্য যে, যা ব্যবহার করা হারাম তা ক্রয় করা, লিখা, প্রচার করা, তার দ্বারা অর্থ উপার্জন করা এবং তার ব্যবসা করাও হারাম।
হারাম মানুষকে অতিরিক্ত ও মিথ্যা ভয় দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করা। 'তোমার ব্যাপারটা বড় শক্ত, অতএব তোমাকে শক্ত জিনিস দিতে হবে' বলে খদ্দেরকে আরো আকর্ষণ ও ভয় প্রদর্শন করা হয়। আর তখনই খদ্দের বুঝতে পারে যে, শক্ত জিনিস নিতে হলে শক্ত পয়সাও লাগবে। ফলে পাঁচের জায়গায় পঞ্চাশ দিতে বাধ্য হয় সে!

দুঃখের বিষয় ও হাস্যকর একটি উল্লেখ্য তাবীয ব্যবসা; যা আমার স্মৃতিপটে বারবার ভেসে ওঠে, আর তা এই যে, হঠাৎ একদিন আমার ছেলেবেলার এক সহপাঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। কুশলবাদ জিজ্ঞাসা করার পর, সে এখন কি করছে তা জানতে চাইলাম। মুচকি হেসে বলল, পড়াশোনা তো করতে পারলাম না। পেট চালাবার জন্য ট্রেনে হকারি করছি। আমি প্রশ্ন করলাম, কিসের? একটু উদাস হয়ে বলল, বিনা পুঁজির ব্যবসা; তাবীয বিক্রি করি। নাছোড় বান্দা হয়ে আমি আবার প্রশ্ন করলাম, কিসের তাবীয? সে বলতে না চেয়েও সরস মেজাজে বলল, হুদুল কুতকুতের বাচ্চার লোমের তাবীয। আমি অবাক হয়ে বললাম, লোকে ভালুক জ্বর দূর করতে ভালুকের লোমের তাবীয ব্যবহার করে শুনেছি। কিন্তু 'হুদুল কুতকুত' আবার কোন প্রাণী, যার লোম তাবীযে ব্যবহার হয়? এবার সে আর কিছুতেই সেই প্রাণীর খবর বলতে রাযী হল না। পরিশেষে আমার পীড়াপীড়িতে সত্য কথা বলেই ফেলল; বলল, ক্ষ্যাপা! ওটা একটা খেয়ালি নাম। আসলে আমি আমার বগলের লোম ছিঁড়েই তাবীয বানিয়ে বিক্রি করি। হিন্দু-মুসলমান সবাই কিনে আমার তাবীয!
আসলে যেখানকার পরিবেশ ও মনে-মগজে শির্কের বাসা আছে, সেখানে ঐ শ্রেণীর ব্যবসা চলা যে কত সহজ তা তো ব্যবসায়ীরা ভালোভাবেই জানে। আর সেই সুযোগ গ্রহণ করে কত যে ঐ শ্রেণীর ভন্ডরা ধর্ম-ব্যবসা করে খাচ্ছে, তা মূর্খ মানুষরা না জানলেও শিক্ষিত ও জ্ঞানীরা ভালোভাবেই জানেন।

মহান আল্লাহ বলেন,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ الله )) (٣٤) سورة التوبة
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! অনেক পাদরী ও ধর্মযাজকই অসৎ উপায়ে মানুষের ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করে এবং আল্লাহর পথ হতে বিরত রাখে।” (সূরা তাওবাহ ৩৪ আয়াত)
ঐ শ্রেণীর পাদরী, পুরোহিত ও উলামা নিজেদের হাতে কিছু লিখে আল্লাহর নামে চালিয়ে দিত। তার উপর মানুষের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করত, মানুষের নিকট ঘুস নিয়ে আল্লাহর বিধানে হেরফের করত এবং ইসলামে দীক্ষিত হতে সকলকে বাধা দিত।
আর মুসলিম সমাজে ঐ শ্রেণীর উলামা ও সূফীরা মানুষের নিকট থেকে অসৎ উপায়ে অর্থ গ্রহণ করছে এবং তওহীদের পথে আসতে তাদেরকে বাধা দিচ্ছে।
সুতরাং সমাজের মানুষকে বেবে দেখা দরকার। সমাজের চিন্তা ও চেতনার আমূল পরিবর্তন আসা দরকার। যে সমাজের মানুষের মনে তাবীযের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা আছে সে সমাজে অসাধু তাবীয-ব্যবসায়ী থাকাটা কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। সুতরাং সমাজকে সচেতন না করে সে ব্যবসা বন্ধ হবে কিভাবে? প্রকাশ্যে না চললেও গোপনে চলার পথ বন্ধ করবে কে?!
তাঁরা বলেন, কাজ তো হয়?
কাজ তো হবেই। বাতিল মা'বুদ, গাছ-পাথর ও জন্তু-জানোয়ারের কাছে সন্তান লাভ হয়, রোগমুক্তি পাওয়া যায়। তা বলে বাতিলকে কি হক বলে স্বীকার করে নেবেন? অধিকাংশ যে সকল রোগ তাবীযে ভালো হয়, তা মানসিক রোগ। আর মানুষের মনছবি ও প্রত্যয় অনুযায়ী তা ঘটে থাকে। কাউকে যদি জিন পায় এবং তার দৃঢ় প্রত্যয়ে সে মনে করে যে, তাবীয ছাড়া তার জিন যাবে না বা ভয় দূর হবে না, তাহলে সত্যই তা হবে না। বলা বাহুল্য, রোগীর মনেও তওহীদ বদ্ধমূল করতে হবে, তবেই ফলবে বিশুদ্ধ আকীদার সুপক্ক ফল।

কিন্তু আসল কথায় বন্ধু বেজার। উক্ত ফতোয়া আমার দ্বারা প্রচার হতে শুনে অনেক হযরত মন্তব্য করেছেন, 'আরব গিয়ে ফেরেস্তা হয়ে গেছে!'
আসলে প্রত্যেক আলেমকেই ফেরেস্তার মত না হলেও যথাসাধ্য পরহেযগার হওয়া দরকার। আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল না রাখতে পারলেও রুযী-রুটির জন্য কোন হালাল পথ বেছে নেওয়া উচিত।
সমালোচনায় অনেকে বলেন, দেশে আমাদের মত অল্প বেতনে চাকরি করলে কি এ ফতোয়া দিত?
আল্লাহর কসম! আরব আসার আগে মাসিক মাত্র ১৫০ (দেড়শত) টাকা বেতনে চাকরি করেও এ ফতোয়া দিয়েছি। আর শুধু এই 'আরবের ফেরেশ্তা' কেন? তার মত কত শত ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানেরও ফেরেস্তা মজুদ রয়েছেন, যাঁরা ঐ ফতোয়া দিয়ে থাকেন এবং তাঁরা অর্থাভাবে মরেননি। আসলে ভাইজান! অর্থলোভ মানুষকে অন্ধ, বধির ও হিংসুক করে তোলে।

আল্লাহর রসূল বলেছেন, "--- আর যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখবেন, যে ব্যক্তি (অপরের) অমুখাপেক্ষী থাকতে চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে (সকল থেকে) অমুখাপেক্ষী করে দেবেন এবং যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধরতে সাহায্য করবেন। আর ধৈর্যের চেয়ে অধিক উত্তম ও ব্যাপক দান কাউকে দেওয়া হয়নি।” (বুখারী ১৪৬৯ নং, মুসলিম ১০৫৩ নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 শির্কী ঝাড়ফুঁক ব্যবসা

📄 শির্কী ঝাড়ফুঁক ব্যবসা


তাবীযের বিকল্প ব্যবস্থা স্বরূপ কুরআনী আয়াত বা সহীহ দুআ ও যিক্র দ্বারা ঝাঁড়-ফুঁক করা জায়েয। তবে শিকী বাক্য-সম্বলিত ঝাঁড়-ফুঁক বা মন্ত্র দ্বারা রোগী ঝাড়া শির্ক। যেমন দেব-দেবী, ফিরিশ্তা, জিন, শয়তান, অলী-আওলিয়া প্রভৃতির নাম নিয়ে অথবা আবোল-তাবোল অবোধগম্য মনগড়া বাক্য দিয়ে ঝাঁড়-ফুঁক করা শির্ক। আর শিকী মন্ত্রে যে কাজ হয়, তা হল শয়তানের কারসাজি।

শরয়ী মতে ঝাড়ফুঁক করার উপর পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ। শরয়ী মতে জিন ছাড়িয়ে বিনিময় নেওয়া হালাল। যাঁরা মানুষের উপকার করতে চান তাঁদের উচিত, এই শরয়ী চিকিৎসা শিক্ষা করা। পক্ষান্তরে শিকী পদ্ধতিতে ঝাড়ফুঁক করে, বেগানা মহিলার গায়ে হাত দিয়ে তেল মালিশ করে ঝাড়ফুঁক করে, চেহারায় আঘাত করে বা আগুন দিয়ে, পশু বা পাখী যবাই করে জিন ছাড়িয়ে কামানো পয়সা হারাম পয়সা।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 পাপ-খন্ডন বা নামাযের কাফফারা

📄 পাপ-খন্ডন বা নামাযের কাফফারা


সমাজের কোন কোন পরিবেশে এই পাপ-খন্ডনের প্রথা প্রচলিত। অবশ্য সবাই যে পাপ খন্ডনের ঐ বিধান দিয়ে নিজেই সেই অর্থ বা চাল ভক্ষণ করে তা নয়। কিন্তু যারা করে, তাদের জন্য আমাদের এ উপদেশ অধিক প্রযোজ্য।

পক্ষান্তরে নামাযের অনুরূপ কোন কাফ্ফারা নেই। জ্ঞান থাকতে নামায কোন সময় মাফ নেই। পবিত্রতা অর্জন করতে না পারলেও নামায মাফ নয়। কষ্টের সময়ও আল্লাহর বান্দারা নামায পড়ে থাকেন এবং তারই মাধ্যমে ধৈর্য ও আরোগ্যের জন্য আবেদন করে থাকেন। আর তা করা আবশ্যক।
সুতরাং নামায বাদ যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। আর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাদ চলেই গেলে, তা কাযা তোলা ছাড়া অন্য কোন কাফ্ফারা নেই। প্রিয় নবী বলেন, “যে ব্যক্তি কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে তার কাফ্ফারা হল স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।” অন্য এক বর্ণনায় বলেন, "এ ছাড়া তার আর কোন কাফ্ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬০৩ নং) বৈধ কারণে ছুটে যাওয়া অনেক নামাযের কাযা না থাকলেও তার কোন কাফ্ফারা নেই।
পক্ষান্তরে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করে বেনামাযী থেকে মারা যায়, তাহলে তার ঐ হিসাব করা কাফফারার কয়েক কিলো চাল বা কয়েক শত কিংবা হাজার টাকা তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার সারা সম্পদ দিলেও আল্লাহ মাফ করবেন না। ইল্লা মা-শাআল্লাহ! যেহেতু (অনেকের মতে) বেনামাযী কাফের। সুতরাং কাফেরের জন্য কাফফারা, দান বা দুআ কোনই কাজে দেবে না।
এই সুযোগে গরীবরা উপকৃত হয় ঠিকই। কিন্তু এই সুযোগ সৃষ্টি করার সুযোগ্য বিধানদাতা আপনি কে?

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 মীলাদ-ব্যবসা

📄 মীলাদ-ব্যবসা


মীলাদ বা মৌলুদ পাঠ ধর্মে একটি নব আবিষ্কৃত বিদআত। এ কথা অনেক মৌলবী, ইমাম বা মোল্লা স্বীকার করা সত্ত্বেও কেবল এক পাত মুরগী-পোলাও ও কয়টি টাকার লোভে তা করে থাকেন। ওঁদের মধ্যে অনেকেই নাস্তিক ও বেনামাযীর জানাযা পড়েন না, কিন্তু তার চালসের দাওয়াত গ্রহণ করতে ভুল করেন না। সুতরাং হায়রে অভর পেট! পেটের এমন জ্বালা?

তাঁদেরকে বুঝাতে গেলে বুঝ মানেন না। অনেকে বিদআত স্বীকার করেও 'বিদআতে হাসানাহ' বলে উত্তম মনে করেই করে থাকেন। অনেকে তা সুন্নত প্রমাণ করার অপচেষ্টা করে এদিক-সেদিক থেকে অপ্রাসঙ্গিক দলীল উপস্থাপিত করে থাকেন। পরন্তু সমাজে প্রচলিত ঐ বিদআতের কথা বললে নাকি তাঁদের পেটে ছুরি মারা হয়! অনেকে জামাআতের দোহায় দিয়ে বলেন, তিনি যদি মীলাদ না পড়েন, তাহলে জামাআত তাঁকে রাখবে না। যেন ঐ জামাআত তাঁর রুযীর ভার নিয়ে রেখেছে এবং অন্য কোন জামাআত বা মসজিদে তাঁর চাকরি মিলবে না।

বলাই বাহুল্য যে, মুসলিম সমাজে ঐ শ্রেণীর মৌলবী ও হুযুররা মানুষের নিকট থেকে মীলাদ ইত্যাদি বিদআতী ধর্মানুষ্ঠান করে অসৎ উপায়ে অর্থ গ্রহণ করছেন এবং নিজ ভক্তদেরকে সঠিক পথে আসতে বাধা দিচ্ছেন। সত্য পথকে 'ওয়াহাবী' ইত্যাদি নাম দিয়ে তাদের কানে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। অতএব যে সরিষায় ভূত ছাড়বে, সেই সরিষাতেই যদি ভূত জেঁকে বসে, তাহলে সমাজের ভূত আর ছাড়বে কিভাবে?
সমাজের সাধারণ মানুষের উচিত, ধর্মব্যবসায়ীদের ঐ সকল ব্যবসা সম্বন্ধে সচেতন হওয়া। তাদেরকে মুরগী-পোলাও খাইয়ে ফালতু পয়সা খরচ না করা। যাতে আপনার মৃত মাতা-পিতার কোন লাভ হবে না, তা করা ফালতু বৈকি? আর খবরদার! ঐ ধরনের মীলাদে হাযির হবেন না। নাই বা শুনলেন বিদআতী মজলিসে ভালো কথা? ভালো কথা শোনার কি আর কোন উপলক্ষ্য নেই?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00