📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 অসিয়ত করা মাল

📄 অসিয়ত করা মাল


মৃত্যুর পূর্বে যে ধনী ব্যক্তি তার এক তৃতীয়াংশ মালের ভিতরে (ওয়ারেস নয় এমন) কোন আত্মীয়কে বা কোন প্রতিষ্ঠানকে বৈধ অসিয়ত (উইল) করে যায়, তাহলে তার মরণের পর সে অসিয়ত পালন করা ওয়াজেব এবং তাতে রদ্দ-বদল করা হারাম। বলা বাহুল্য, যার বা যে প্রতিষ্ঠানের জন্য অথবা যে কাজে অসিয়ত করা হয়েছে, তা পালন না করে নিজে ভক্ষণ করা হারাম।

যেমন কোন ওয়ারেসের নামে অসিয়ত করা হলে ওয়ারেসের সে মাল খাওয়া হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ (۱۸۰) فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ) (۱۸۱) فَمَنْ خَافَ مِن مُوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (۱۸۲) سورة البقرة
অর্থাৎ, তোমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে যখন কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে যদি ধন-সম্পত্তি রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও আত্মীয়-সুজনের জন্য বৈধভাবে 'অসিয়ত' করার বিধান দেওয়া হল। সাবধানীদের পক্ষে এটা অবশ্য পালনীয়। অতঃপর এ (বিধান) শোনার পরও যে এটিকে পরিবর্তন করে, তবে যে পরিবর্তন করবে তার উপরেই অপরাধ বর্তাবে। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। তবে যদি কেউ অসিয়তকারীর (সম্পত্তি বন্টনের নির্দেশদাতার) পক্ষপাতিত্ব অথবা অন্যায়ের আশংকা করে, অতঃপর সে তাদের পরস্পরের মধ্যে (কিছু রদ-বদল করে) সন্ধি করে দেয়, তবে তার কোন দোষ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা বাকারাহ ১৮০-১৮২)

প্রকাশ থাকে যে, পিতামাতা বা কোন ওয়ারেসের জন্য অসিয়ত করা বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী অতিরিক্ত নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে নিজ নিজ হক দিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং কোন ওয়ারেসের জন্য অসিয়ত নেই।” (আহমাদ, আবু দাউদ ২৮৭০নং, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

অসিয়তের গুরুত্ব আছে বলেই। মহান আল্লাহ মীরাসের আয়াতে মীরাস বন্টনের পূর্বে অসিয়ত পালন ও ঋণ পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা নিসা ১১-১২ আয়াত)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 ওয়াকফের মাল

📄 ওয়াকফের মাল


যে মাল আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াক্ফ করা হয়, সে মাল মালিকের হাত থেকে বের হয়ে যায় এবং সে মাল তার হকদার ছাড়া অন্যের ভক্ষণ করা বৈধ নয়। সুতরাং মসজিদ, মাদ্রাসা, এতীমখানা, হাসপাতাল প্রভৃতি ওয়াকফের মালে যাদের অধিকার নেই তারা তা ভক্ষণ করতে পারে না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৩/৯১, ২৪/৫৯)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 পরের হক গ্রহণ

📄 পরের হক গ্রহণ


অনেক সময় জমি-জায়গা বা টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। সেই বিবাদ মীমাংসার জন্য অনেক সময় থানা-পুলিস ও কোর্ট-হাকিমের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু সেখানে দলীল-প্রমাণ ও সাক্ষী-সবুত ছাড়া মীমাংসা হয় না। নিজের হক হলেও তা হাকিমের কাছে দলীল বা সাক্ষী দ্বারা প্রমাণ করতে না পারলে বাহ্যতঃ সে হক তার নয়। বাহ্যতঃ যার হাতে আছে, মাল তারই। দলীল বা সাক্ষী ছাড়া ভিতরের খবর কে বলতে পারে? দলীল-সাক্ষী কিছু না থাকলে কসমের পালা আসে। প্রতিবাদী নির্দোষ বলে অথবা সে মাল তার বলে কসম খেতে পারলে তা তারই হয়ে যায়।

হাকিম বা বিচারক তো আর গায়বের খবর জানেন না। তিনি বাহ্যিক দলীল, সাক্ষী বা কসম দ্বারা বিচার করে দেন। কিন্তু অনেক সময় সে বিচার বাহ্যদৃষ্টিতে সঠিক হলেও বাস্তবদৃষ্টিতে বেঠিক হয়। হকদার দলীল বা সাক্ষী উপস্থিত করতে না পেরে নিজের হক থেকে বঞ্চিত হয়। অবশ্য সে হক কিয়ামতে তার জন্য সংরক্ষিত থাকে।

কিন্তু প্রতিবাদী জেনেশুনে যদি বাদীর হক ঐ ফায়সালা অনুযায়ী গ্রহণ করে, তাহলে তা বিচারকের দেওয়া ফায়সালা বলে তার জন্য ঐ মাল হালাল হয়ে যাবে না। বাহ্যতঃ বিচারকের ফায়সালা পরের (হারাম) মালকে হালাল করতে পারে না।

এ ব্যাপারে দ্বীনের নবী বলেন, "আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আর তোমরা আমার নিকট বিচার নিয়ে আসছ। সম্ভবতঃ তোমাদের কেউ কেউ একে অন্যের চাইতে দলীল ও প্রমাণ পেশকরণে অধিক পারদর্শী। ফলে আমি তার নিকট থেকে আমার শোনা মতে তার সপক্ষে ফায়সালা দিয়ে তার ভায়ের কিছু হক তাকে দিয়ে দিই, তাহলে সে যেন তার কিছুই গ্রহণ না করে। যেহেতু আমি তো (এ অবস্থায়) তার জন্য (জাহান্নামের) আগুনের একটি অংশ কেটে দিই।” (বুখারী, মুসলিম ১৭১৩নং)

আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি নিজের কসম দ্বারা কোন মুসলিমের অধিকার হরণ করে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ দোযখ ওয়াজেব এবং বেহেশ্ হারাম করে দেন।” লোকেরা বলল, 'যদিও সামান্য কিছু হয় তাও, হে আল্লাহর রসূল?!' বললেন, "যদিও বা পিলু (গাছের) একটি ডালও হয়।” (মালেক, মুসলিম ১৩৭, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ২৩২৪নং) তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি এমন জিনিস দাবী করে যা তার নয়, সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” (ইবনে মাজাহ, সহীহুল জামে' ৫৯৯০নং)

প্রকাশ থাকে যে, ইসলামে যার যে হক নেই, সেই হক যদি কোন তাগূতী সরকার দিয়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই তা নাহক। ইসলাম কারো হক নষ্ট করেনি। ইসলামের ভাগবন্টনে সম্পূর্ণটাই ইনসাফ। যেহেতু মহান সৃষ্টিকর্তা কারো প্রতি যুলম করেন না। (সূরা ইউনুস ৪৪ আয়াত) এখন যদি কোন মুসলিম তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাগূতী আইনের বলে নিজের নাহক অধিকার আদায় করে, তাহলে তা তার হারাম খাওয়া হবে।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 গুদামজাত করা মাল

📄 গুদামজাত করা মাল


আল্লাহর রসূল বলেন, "পাপী ছাড়া অন্য কেউ (দুষ্প্রাপ্যতার সময়) খাদ্য গুদামজাত করে না।” (মুসলিম ১৬০৫, আবু দাউদ ৩৪৪৭, তিরমিযী ১২৬৭, ইবনে মাজাহ ২১৫৪নং) বিশেষ করে দুষ্প্রাপ্যতার সময় খাদ্য গুদামজাত করে রেখে দাম বাড়ানো বৈধ নয়। মানুষ যখন খাদ্যের অভাবে পয়সা দিয়েও খাদ্য পায় না, তখন মজুদদারদের তা আটকে রাখা বৈধ নয়। বলা বাহুল্য, তারপরেই তা চড়া দামে বিক্রি করে প্রচুর লাভ করা অর্থ অবশ্যই হারাম।

অবশ্য দুষ্প্রাপ্যতার বাজার না হলে খাদ্য-শস্য বেঁধে রেখে মূল্য বৃদ্ধি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তা বিক্রয় করা অবৈধ নয়। তদনুরূপ দুর্ভিক্ষ, বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে জিনিসের দাম অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়ে ব্যবসা করা, ভিড়ের সুযোগের সদ্ব্যবহার করে গাড়ির ভাড়া সীমাহীনভাবে বাড়িয়ে দেওয়া বৈধ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00