📄 স্বামীর মাল
স্ত্রী স্বামীর মালের খাজাঞ্চী। ঘরের ভিতর অথবা তার হাতে রাখা স্বামীর যে মাল থাকে সে মালের যিম্মেদার সে। অতএব তার বিনা অনুমতিতে তা নিজের ইচ্ছামত খরচ করলে অথবা কাউকে দান করলে, নিশ্চয় তার আমানতে খেয়ানত করা হবে।
আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (কিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীলা, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরের কিছু খরচ না করে।” বলা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! খাবারও না?' তিনি বললেন, "তা তো আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাল।” (তিরমিযী, সহীহ তারগীব ৯৩১নং)
পক্ষান্তরে স্বামীর অনুমতি থাকলে সে প্রয়োজনমত খরচ করতে পারে এবং দানও করতে পারে। দান করলে স্বামীর সাথে সেও সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, প্রভৃতি, সহীহ তারগীব ৯২৬-৯৩০নং)
যেমন স্বামী ব্যয়কুণ্ঠ কৃপণ হলে এবং স্ত্রী ও সন্তানের জন্য যথার্থ খরচাদি না দিলে, স্ত্রী গোপনে শুধু ততটুকুই নিতে পারবে যতটুকু নিলে তার ও তার সন্তানের প্রয়োজন মিটানোর জন্য যথেষ্ট হবে। এর বেশী নিলে অবৈধ মাল নেওয়া হবে। (ইরওয়াউল গালীল ২৬৪৬নং)
📄 হকদারের হক মারা মাল
বহু মানুষ আছে, যারা হকদারের হক মেরে খায়, অথচ তা তাদের জন্য হারাম যেহেতু মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার ন্যায়সঙ্গত হক প্রদান করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর সেই ভাগ-বন্টন বিধানে কারো হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। বৈধ নয় সেই মারা হক খেয়ে যাওয়া, যেমন শুদ্ধ নয় সেই হক তার হকদারকে ফেরৎ না দিয়ে করা তওবা।
অনেকে নিজ বোনকে পিতা-মাতার মীরাস থেকে বঞ্চিতা করে। কেউ করে পিতামাতাকে হাতে করে নিজ ভাইকে বঞ্চিত। কেউ করে যাবতীয় সম্পত্তি নিজের মেয়ের নামে লিখে দিয়ে (মেয়ের) চাচাকে বঞ্চিত।
মহান আল্লাহ মীরাস ভাগ-বন্টন করার ব্যাপারে বলেন,
((تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (١٣) وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ)) (١٤) سورة النساء
অর্থাৎ, এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। এবং যে আল্লাহ ও রসূলের অনুগত হয়ে চলবে আল্লাহ তাকে বেহেস্তে স্থান দান করবেন, যার নীচে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এ মহা সাফল্য। পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করবে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা-দায়ক শাস্তি। (সূরা নিসা ১৩-১৪ আয়াত)
কোন পাপের কারণে অথবা অবাধ্য হওয়ার জন্য নিজ ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করে মীরাস থেকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়। ছেলে যদি কাফের হয়ে যায়, তাহলে ইসলামী আইনানুসারে সে এমনিই মীরাস থেকে বঞ্চিত হবে। তার জন্য দলীল বা উইল-পত্র লিখার প্রয়োজন নেই। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১০/৭৮)
মরার পূর্বে মীরাস ভাগ করে লিখে দেওয়া কারো জন্য উচিত নয়। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৫/১২পৃঃ) কারণ ভাগবন্টনের পর যদি কোন ওয়ারেস মারা যায়, তাহলে ঘুরে সেই ওয়ারেস হয়, অথবা অন্য ওয়ারেসের ভাগে কম অথবা বেশী পড়ে। আবার এমনও হতে পারে যে, একদিন এমন আসবে, যেদিন ওয়ারেসরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেবে। তার মরার পর ওয়ারেসদের মাঝে ঝগড়া হওয়ার আশঙ্কা হলেও, তাদের ভুলের জন্য সে জিজ্ঞাসিত হবে না। সুতরাং উত্তম হল নিজের মাল হাতছাড়া না করা এবং আল্লাহর ভাগ-বন্টনের উপর ভরসা রাখা।
📄 এতীম, পাগল ও নির্বোধের মাল
এতীম, পাগল ও নির্বোধ মানুষের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা হারাম। ইসলামে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এতীমের মাল সম্বন্ধে বলেন,
(( وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ)) (৩৪) سورة الإسراء
অর্থাৎ, পিতৃহীন বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। (সূরা ইসরা ৩৪ আয়াত)
(( وَآتُواْ الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُواْ الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلاَ تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كبيرًا)) (২) سورة النساء
অর্থাৎ, আর তোমরা পিতৃহীনকে তাদের ধন-সম্পদ সমর্পণ কর এবং উৎকৃষ্টের সাথে নিকৃষ্ট বদল করো না, এবং তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদকে মিশ্রিত করে গ্রাস করো না; নিশ্চয় তা মহাপাপ। (সূরা নিসা ২ আয়াত)
(( وَابْتَلُواْ الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبَدَارًا أَن يَكْبَرُوا وَمَن كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَن كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا))
অর্থাৎ, তোমরা পিতৃহীনদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয়; এবং তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অন্যায়ভাবে তা তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে অভাবমুক্ত সে যেন যা অবৈধ তা থেকে নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবী সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদের সম্পদ সমর্পণ করবে তখন সাক্ষী রেখো। আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা নিসা ৬ আয়াত)
(( وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا (٩) إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سعيرًا)) (١٠) سورة النساء
অর্থাৎ, আর (পিতৃহীনদের সম্পর্কে) মানুষের ভয় করা উচিত, যদি তারা পিছনে অসহায় সন্তান ছেড়ে যেত (তাহলে) তারাও তাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হত। অতএব লোকের উচিত যে, (এতীম-অনাথ সম্পর্কে) আল্লাহকে ভয় করা এবং ন্যায়-সঙ্গত কথা বলা। নিশ্চয় যারা পিতৃহীনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে। আর তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসা ৯-১০ আয়াত)
মহানবী বলেন, “সাতটি সর্বনাশী কর্ম হতে দূরে থাক।” সকলে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! তা কি কি?' তিনি বললেন, “আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যাদু করা, ন্যায় সঙ্গত অধিকার ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সূদ খাওয়া, এতীমের মাল ভক্ষণ করা, (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সতী উদাসীনা মুমিনা নারীর চরিত্রে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।” (বুখারী ২৭৬৬, মুসলিম ৮৯নং, আবু দাউদ, নাসাঈ)
মহানবী বলেন, “হে আল্লাহ! আমি দুই দুর্বল; এতীম ও নারীর অধিকার নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে পাপ হওয়ার কথা ঘোষণা করছি।” (আহমাদ ২/৪৩৯, ইবনে মাজাহ ৩৬৭৮নং)
অতএব সাবধান হোক সেই অভিভাবকরা যারা অনাথ-এতীমের প্রতিপালন-দায়িত্ব নিয়ে থাকেন, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের দায়িত্ব নিয়ে তা পরিচালনা বা জমি-জায়গার দায়িত্ব নিয়ে চাষাদি করে থাকেন এবং তাঁরাও সাবধান হন যাঁরা এতীমখানা খুলে এতীমের মাল হরফ করে থাকেন।
📄 হালাল জিনিস হারাম করা
কোনও কারণবশতঃ আল্লাহর দেওয়া হালাল জিনিসকে নিজের জন্য বা অপরের জন্য হারাম করা বৈধ নয়। একদা মহানবী কিছু স্ত্রীর উপর রাগ করে মধু খাওয়া হারাম করেছিলেন। তার জন্য মহান আল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন,
(يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ)
অর্থাৎ, হে নবী! আল্লাহ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন, তুমি তোমার স্ত্রীদের খুশী করার জন্য তা অবৈধ করছ কেন? (সূরা তাহরীম ১ আয়াত, বুখারী ৫২৬৭নং)
অতঃপর তিনি তা হালাল করার বিধান দিয়ে বলেন,
((قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللَّهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ))
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদের জন্য কসম থেকে অব্যাহতি লাভের বিধান দিয়েছেন। (সূরা তাহরীম ২ আয়াত)
আর সে বিধানের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُواْ طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ (৮৭) وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ حَلَالاً طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ)) (৮৮) لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقْدتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَط مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كَسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ)) (৮৯) سورة المائدة
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ঐ সব পবিত্র বস্তু হারাম করো না, যেগুলিকে আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা লংঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা লংঘনকারীকে পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তোমাদেরকে যে সকল বস্তু রুযী স্বরূপ দান করেছেন তার মধ্য হতে হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর এবং তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী। তোমাদের অর্থহীন কসমের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে সেই কসমের জন্য পাকড়াও করবেন, যাতে তোমরা দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ। সুতরাং এর কাফ্ফারা হল, ১০ জন মিসকীনকে খাদ্যদান করা-সেই মধ্যম ধরনের খাদ্য যা তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনকে দান করে থাক, অথবা তাদেরকে বস্ত্রদান করা, অথবা ১টি দাসকে মুক্ত করা। (এ তিনের একটিতে) যদি কেউ অসমর্থ হয়, তাহলে সে তিন দিন রোযা পালন করবে। তোমরা কসম করলে এই হল তোমাদের কসমের কাফফারা। তোমরা তোমাদের কসমসমূহ রক্ষা কর। আল্লাহ এইভাবেই স্বীয় নিদর্শনাবলী বিবৃত করে থাকেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। (সূরা মাইদাহ ৮৭-৮৯ আয়াত)
বলাই বাহুল্য যে, 'আমার জন্য অমুক জিনিস হারাম, অমুক জিনিস খেলে আমি হারাম খাব, আল্লাহর কসম! আমি অমুক জিনিস খাব না, বা অমুকের বাড়ির জিনিস খাব না' ইত্যাদি বলে হারাম করলে তা খাওয়া হারাম। অবশ্য হারাম করা জিনিস কসমের কাফফারা দিয়ে হালাল করে নেওয়া উচিত।
তবে সতর্কতার বিষয় যে, জরিমানা ও প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ প্রথম তিন প্রকার কাফ্ফারা দেওয়ার সামর্থ্য থাকা অবস্থায় রোযা রাখা যথেষ্ট নয়।
মিসকীন খাওয়াবার পদ্ধতির ব্যাপারে উলামাগণ বলেছেন, কাফফারাদাতা ১০ জনকে দাওয়াত দিয়ে দুপুর অথবা রাতের মধ্যম ধরনের খাবার খাইয়ে দেবে অথবা প্রত্যেক মিসকীনকে সওয়া এক কিলো করে চাল দান করবে; যদি পরিবেশের প্রধান খাদ্য চাল হয়। নচেৎ ঐ পরিমাণ গম দান করবে; যদি দেশের প্রধান খাদ্য রুটি হয়।
১০ জনকে কাপড় দেওয়ার সময় সেই কাপড় দিতে হবে, যাতে নামায পড়া শুদ্ধ হয়। যেমন পুরুষকে দিলে একটি লুঙ্গি ও গেঞ্জি এবং মহিলাকে দিলে একটি (ফুলহাতা) ম্যাক্সি ও ওড়না দিলে যথেষ্ট হবে।
বর্তমানে যেহেতু ক্রীতদাস আমাদের দেশে নেই, পরন্তু তা মুক্ত করা ব্যয়বহুল ব্যাপার, সেই তুলনায় ১০ জন গরীবকে বস্ত্রদান করা সহজ। অবশ্য তার থেকেও সহজ ১০ জন মিসকীনকে খাদ্যদান করা। এখন যদি কেউ খাদ্যদান করতেও সক্ষম না হয়, তাহলে সে ৩ দিন রোযা পালন করে কাফফারা আদায় করবে।
তদনুরূপ কেউ যদি নযর মেনে বলে যে, আমি ভালো খাবার (মাছ-গোশ্ত) খাব না বা ফল খাব না, তাহলে তার এ ধরনের নযর বৈধ নয়। কিন্তু ঐ জিনিস খাওয়ার জন্য তাকে কসমের উক্তরূপ কাফ্ফারা দিতে হবে। (মিনহাজুল মুসলিম ৬৩৭পৃঃ)