📄 দেনমোহর
স্বামীর জন্য বৈধ নয় স্ত্রীর মাল বা মোহর অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা।
বিবাহের সময় স্ত্রীকে যে মোহর দিতে হয়, তা প্রতিপালক আল্লাহর তরফ থেকে ফরয। যে পরিমাণ চুক্তি ও ধার্য হয় তা সৌজন্যের সাথে আদায় করা জরুরী। পরন্ত তা আদায় করতে কোন প্রকার ছল-চাতুরি করা অথবা মাফ করতে চাপ প্রয়োগ করা মুসলিমের জন্য বৈধ নয়।
মোহর ধার্য করে সবাই যে নগদ আদায় করতে পারে, তা নয়। অনেকেই বরং বাস্তবে অধিকাংশ বরই মোহর বাকী বা ধার রাখে। আর তখনই সে মোহর 'দেন-মোহর' (বা দাইন-মোহর অর্থাৎ ঋণ-মোহর) এ পরিণত হয়ে যায়। এই 'দাইন' বা ঋণ স্ত্রীর হলেও তা আদায় করা ফরয। অবশ্য স্ত্রী সন্তুষ্টচিত্তে তা মাফ করে দিলে সে কথা ভিন্ন।
(وَآتُوا النَّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا)
অর্থাৎ, তোমরা স্ত্রীগণকে তাদের মোহর খুশী মনে দিয়ে দাও। আর যদি তারা সন্তুষ্টচিত্তে তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তাহলে তা তোমরা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর। (সূরা নিসা ৪ আয়াত)
মহানবী বলেন, "যে সকল শর্ত তোমাদের জন্য পালন করা জরুরী, তন্মধ্যে সবচাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল তাই-যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের লজ্জাস্থান হালাল করে থাক।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩১৪৩ নং) আর তা হল মোহর। যা সবার আগে পূরণ করতে হয়।
তিনি আরো বলেন, "আল্লাহর নিকট সব চাইতে বড় পাপী সেই ব্যক্তি যে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার নিকট থেকে তার প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়ে তাকে তালাক দেয় এবং তার মোহর আত্মসাৎ করে নেয়। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে একটি লোককে কাজে খাটিয়ে তার মজুরী আত্মসাৎ করে নেয়। আর তৃতীয় সেই ব্যক্তি যে খামাখা প্রাণী হত্যা করে।” (হাকেম, বাইহাকী, সহীহুল জামে' ১৫৬৭ নং)
স্ত্রীকে যে মোহর দেওয়া হয়, প্রয়োজনে তালাক দেওয়ার পরেও সে মোহর ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়। যেমন স্বামীর আত্মীয়র জন্য বৈধ নয়, সেই মোহরের মালিক হওয়ার জন্য ঐ মহিলাকে স্বামী গ্রহণ করতে না দেওয়া অথবা নিজেকে বিবাহ করতে বাধ্য করা। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا النِّسَاءِ كَرْهاً وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بَعْضٍ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْراً كَثِيراً (۱۹) وَإِنْ أَرَدتُّمُ اسْتَبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْماً مُّبِينًا (۲۰) وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيْثَاقًا غَلِيظًا)) (۲۱) سورة النساء
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! জোরজবরদস্তি করে তোমাদের নিজেদেরকে নারীদের উত্তরাধিকারী গণ্য করা বৈধ নয়। তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে অন্য স্বামী গ্রহণে বাধা দিও না; যদি না তারা প্রকাশ্যে ব্যভিচার (বা স্বামীর অবাধ্যাচরণ) করে। আর তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন কর; তোমরা যদি তাদেরকে ঘৃণা কর, তাহলে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন তোমরা তাকে ঘৃণা করছ। আর যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাক তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না, তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা তা গ্রহণ করবে? কিরূপে তোমরা তা গ্রহণ করবে, যখন তোমরা পরস্পর সহবাস করেছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছে? (সূরা নিসা ২০-২১ আয়াত)
অবশ্য তালাকের ব্যাপারে দোষ যদি স্ত্রীর হয় অথবা স্ত্রী নিজে তালাক নেয়, তাহলে সে কথা ভিন্ন। মহান আল্লাহ বলেন,
((وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ الله فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ به تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ الله فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ)) (۲۲۹) سورة البقرة
অর্থাৎ, আর স্ত্রীগণকে দেওয়া কোন কিছু ফেরৎ নেওয়া তোমাদের পক্ষে উচিত নয়; তবে যদি তাদের উভয়ের আশংকা হয় যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না। সুতরাং তোমরা যদি আশংকা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা (বাস্তবিকই) রক্ষা করে চলতে পারবে না, তবে (সে অবস্থায়) স্ত্রী কোন কিছুর বিনিময়ে (স্বামী থেকে) নিষ্কৃতি পেতে চাইলে তাতে (স্বামী-স্ত্রীর) কারো কোন পাপ নেই। এ সব আল্লাহর সীমারেখা। অতএব তা তোমরা লংঘন করো না। আর যারা আল্লাহর (নির্দিষ্ট) সীমারেখা লংঘন করে, তারাই অত্যাচারী। (সূরা বাক্বারাহ ২২৯ আয়াত)
স্ত্রীকে তালাক দিলে মোহর ফেরৎ নেওয়া সম্ভব নয়। অথবা বাকী মোহর আদায় দেওয়ার চাপ আসতে পারে। এই ভয়ে তালাক না দিয়ে স্বামী স্ত্রীকে এমন ব্যবহার প্রদর্শন করে, যাতে স্ত্রী নিজে (খোলা) তালাক নিতে বাধ্য হয় এবং সেই সময় স্বামীকে তার মোহর ফেরৎ দিতে হয়। এইভাবে মোহর ফেরৎ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং যাতে সে অন্য স্বামী চট্ করে গ্রহণ না করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে ঝুলিয়ে রাখা শরীয়তে নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন,
((وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النَّسَاءِ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفِ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفِ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضَرَارًا لِّتَعْتَدُوا وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا))
অর্থাৎ, যখনই তোমরা স্ত্রীদের (অস্থায়ী) তালাক দাও এবং তারা 'ইদ্দত' (নির্দিষ্ট সময়) পূর্ণ করে তখন তাদেরকে বিধিমতে বহাল কর অথবা ভালভাবে বিদায় দাও, তাদের প্রতি নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে আটক করে রেখো না, যে ব্যক্তি এমন করে সে নিজের ক্ষতি করে এবং তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে ঠাট্টা-তামাশার বস্তু করো না। (সূরা বাকারাহ ২৩১ আয়াত)
প্রকাশ থাকে যে, মোহর যেমন স্ত্রীর ধন, তেমনি মহিলার নিজের কামাই বা বেতন মহিলারই অধিকারভুক্ত; তাতে স্বামীর কোন অধিকার নেই। অতএব তাও স্ত্রীর বিনা সম্মতিতে যেন-তেন প্রকারে ভক্ষণ করা স্বামীর জন্য বৈধ নয়।
যেমন বৈধ নয় মহিলার মোহরের ধন তার অভিভাবকের আত্মসাৎ করা।
📄 স্বামীর মাল
স্ত্রী স্বামীর মালের খাজাঞ্চী। ঘরের ভিতর অথবা তার হাতে রাখা স্বামীর যে মাল থাকে সে মালের যিম্মেদার সে। অতএব তার বিনা অনুমতিতে তা নিজের ইচ্ছামত খরচ করলে অথবা কাউকে দান করলে, নিশ্চয় তার আমানতে খেয়ানত করা হবে।
আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (কিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীলা, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরের কিছু খরচ না করে।” বলা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! খাবারও না?' তিনি বললেন, "তা তো আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাল।” (তিরমিযী, সহীহ তারগীব ৯৩১নং)
পক্ষান্তরে স্বামীর অনুমতি থাকলে সে প্রয়োজনমত খরচ করতে পারে এবং দানও করতে পারে। দান করলে স্বামীর সাথে সেও সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, প্রভৃতি, সহীহ তারগীব ৯২৬-৯৩০নং)
যেমন স্বামী ব্যয়কুণ্ঠ কৃপণ হলে এবং স্ত্রী ও সন্তানের জন্য যথার্থ খরচাদি না দিলে, স্ত্রী গোপনে শুধু ততটুকুই নিতে পারবে যতটুকু নিলে তার ও তার সন্তানের প্রয়োজন মিটানোর জন্য যথেষ্ট হবে। এর বেশী নিলে অবৈধ মাল নেওয়া হবে। (ইরওয়াউল গালীল ২৬৪৬নং)
📄 হকদারের হক মারা মাল
বহু মানুষ আছে, যারা হকদারের হক মেরে খায়, অথচ তা তাদের জন্য হারাম যেহেতু মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার ন্যায়সঙ্গত হক প্রদান করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর সেই ভাগ-বন্টন বিধানে কারো হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। বৈধ নয় সেই মারা হক খেয়ে যাওয়া, যেমন শুদ্ধ নয় সেই হক তার হকদারকে ফেরৎ না দিয়ে করা তওবা।
অনেকে নিজ বোনকে পিতা-মাতার মীরাস থেকে বঞ্চিতা করে। কেউ করে পিতামাতাকে হাতে করে নিজ ভাইকে বঞ্চিত। কেউ করে যাবতীয় সম্পত্তি নিজের মেয়ের নামে লিখে দিয়ে (মেয়ের) চাচাকে বঞ্চিত।
মহান আল্লাহ মীরাস ভাগ-বন্টন করার ব্যাপারে বলেন,
((تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (١٣) وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ)) (١٤) سورة النساء
অর্থাৎ, এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। এবং যে আল্লাহ ও রসূলের অনুগত হয়ে চলবে আল্লাহ তাকে বেহেস্তে স্থান দান করবেন, যার নীচে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এ মহা সাফল্য। পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করবে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা-দায়ক শাস্তি। (সূরা নিসা ১৩-১৪ আয়াত)
কোন পাপের কারণে অথবা অবাধ্য হওয়ার জন্য নিজ ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করে মীরাস থেকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়। ছেলে যদি কাফের হয়ে যায়, তাহলে ইসলামী আইনানুসারে সে এমনিই মীরাস থেকে বঞ্চিত হবে। তার জন্য দলীল বা উইল-পত্র লিখার প্রয়োজন নেই। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১০/৭৮)
মরার পূর্বে মীরাস ভাগ করে লিখে দেওয়া কারো জন্য উচিত নয়। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৫/১২পৃঃ) কারণ ভাগবন্টনের পর যদি কোন ওয়ারেস মারা যায়, তাহলে ঘুরে সেই ওয়ারেস হয়, অথবা অন্য ওয়ারেসের ভাগে কম অথবা বেশী পড়ে। আবার এমনও হতে পারে যে, একদিন এমন আসবে, যেদিন ওয়ারেসরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেবে। তার মরার পর ওয়ারেসদের মাঝে ঝগড়া হওয়ার আশঙ্কা হলেও, তাদের ভুলের জন্য সে জিজ্ঞাসিত হবে না। সুতরাং উত্তম হল নিজের মাল হাতছাড়া না করা এবং আল্লাহর ভাগ-বন্টনের উপর ভরসা রাখা।
📄 এতীম, পাগল ও নির্বোধের মাল
এতীম, পাগল ও নির্বোধ মানুষের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা হারাম। ইসলামে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এতীমের মাল সম্বন্ধে বলেন,
(( وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ)) (৩৪) سورة الإسراء
অর্থাৎ, পিতৃহীন বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। (সূরা ইসরা ৩৪ আয়াত)
(( وَآتُواْ الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُواْ الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلاَ تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كبيرًا)) (২) سورة النساء
অর্থাৎ, আর তোমরা পিতৃহীনকে তাদের ধন-সম্পদ সমর্পণ কর এবং উৎকৃষ্টের সাথে নিকৃষ্ট বদল করো না, এবং তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদকে মিশ্রিত করে গ্রাস করো না; নিশ্চয় তা মহাপাপ। (সূরা নিসা ২ আয়াত)
(( وَابْتَلُواْ الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبَدَارًا أَن يَكْبَرُوا وَمَن كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَن كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا))
অর্থাৎ, তোমরা পিতৃহীনদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয়; এবং তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অন্যায়ভাবে তা তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে অভাবমুক্ত সে যেন যা অবৈধ তা থেকে নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবী সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদের সম্পদ সমর্পণ করবে তখন সাক্ষী রেখো। আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা নিসা ৬ আয়াত)
(( وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا (٩) إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سعيرًا)) (١٠) سورة النساء
অর্থাৎ, আর (পিতৃহীনদের সম্পর্কে) মানুষের ভয় করা উচিত, যদি তারা পিছনে অসহায় সন্তান ছেড়ে যেত (তাহলে) তারাও তাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হত। অতএব লোকের উচিত যে, (এতীম-অনাথ সম্পর্কে) আল্লাহকে ভয় করা এবং ন্যায়-সঙ্গত কথা বলা। নিশ্চয় যারা পিতৃহীনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে। আর তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসা ৯-১০ আয়াত)
মহানবী বলেন, “সাতটি সর্বনাশী কর্ম হতে দূরে থাক।” সকলে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! তা কি কি?' তিনি বললেন, “আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যাদু করা, ন্যায় সঙ্গত অধিকার ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সূদ খাওয়া, এতীমের মাল ভক্ষণ করা, (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সতী উদাসীনা মুমিনা নারীর চরিত্রে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।” (বুখারী ২৭৬৬, মুসলিম ৮৯নং, আবু দাউদ, নাসাঈ)
মহানবী বলেন, “হে আল্লাহ! আমি দুই দুর্বল; এতীম ও নারীর অধিকার নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে পাপ হওয়ার কথা ঘোষণা করছি।” (আহমাদ ২/৪৩৯, ইবনে মাজাহ ৩৬৭৮নং)
অতএব সাবধান হোক সেই অভিভাবকরা যারা অনাথ-এতীমের প্রতিপালন-দায়িত্ব নিয়ে থাকেন, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের দায়িত্ব নিয়ে তা পরিচালনা বা জমি-জায়গার দায়িত্ব নিয়ে চাষাদি করে থাকেন এবং তাঁরাও সাবধান হন যাঁরা এতীমখানা খুলে এতীমের মাল হরফ করে থাকেন।