📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 সোনা-চাঁদির পাত্রে পানাহার

📄 সোনা-চাঁদির পাত্রে পানাহার


সোনা বা চাঁদির প্লেটে খাওয়া হারাম। এমন প্লেটে কোন হালাল খাবার খেলেও জাহান্নামের আগুন খাওয়া হয়। যেহেতু সোনা-চাঁদির অযথা ব্যবহার অহংকারীদের তথা কাফেরদের আচরণ।

আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমরা সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করো না। কারণ, তা দুনিয়াতে কাফেরদের জন্য এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য।” (বুখারী ৫৬৩৩, মুসলিম ২০৬৭নং)

তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি চাঁদির পাত্রে পান করে, আসলে সে ব্যক্তি নিজ উদরে জাহান্নামের আগুন ঢক্ করে পান করে।” (বুখারী ৫৬৩৪, মুসলিম ২০৬৫নং) প্রকাশ থাকে যে, প্লেটের মতই সোনা-চাঁদির চামচ, লবণদান প্রভৃতি ব্যবহারও হারাম।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 বিশেষ কয়েকটি অবস্থায় পানাহার

📄 বিশেষ কয়েকটি অবস্থায় পানাহার


বাম হাতে পানাহার করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যেন তার বাম হাত দ্বারা অবশ্যই না খায় এবং পানও না করে। কারণ, শয়তান তার বাম হাত দিয়ে পানাহার করে থাকে।" বর্ণনাকারী বলেন, (ইবনে উমার এর স্বাধীনকৃত দাস তাবেয়ী) নাফে' (রঃ) দুটি কথা আরো বেশী বলতেন, "কেউ যেন বাম হাত দ্বারা কিছু গ্রহণ না করে এবং অনুরূপ তার দ্বারা কিছু প্রদানও না করে।” (মুসলিম ২০২০, তিরমিযী ১৮০০, মালেক, আবু দাউদ ৩৭৭৬ নং)

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানাহারও অবৈধ। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। কেউ ভুলে গিয়ে পান করে থাকলে সে যেন তা বমি করে ফেলে।” (মুসলিম ২০২৬নং)

আনাস বলেন, নবী নিষেধ করেছেন যে, কোন লোক যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। আনাস-কে দাঁড়িয়ে খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, 'এটা তো আরো খারাপ ও আরো নোংরা।” (মুসলিম ২০২৪নং)

কিন্তু বসার জায়গা না থাকলে অথবা অন্য কোন অসুবিধায় বা প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে পানাহার করা হারাম নয়। যেহেতু দাঁড়িয়ে পান বৈধ হওয়ার হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী ১৬৩৭, ৫৬১৫, মুসলিম ২০২৭, ইবনে মাজাহ ৩৩০১নং প্রমুখ)

সরাসরি মশক বা কলসীর মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী এভাবে পান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ৫৬২৭, ৫৬২৯, মুসলিম ১৬০৯নং প্রমুখ)

উল্লেখ্য যে, 'মোছের পানি হারাম' কথাটি দলীল-সাপেক্ষ্য।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 যাকাতের মাল

📄 যাকাতের মাল


যাকাত ইসলামের তৃতীয় রুক্ন। ইসলামী অর্থনীতির একটি সুন্দর বিধান এই যাকাত। যাকাত বিধিবদ্ধ হয়েছে দারিদ্র দূরীকরণ ও ইসলামী সংগ্রাম চিরন্তন রাখার মত মহান উদ্দেশ্য সাধনের জন্য।

মহান আল্লাহ যাকাতের হকদার যারা, তাদের কথা কুরআন মাজীদে উল্লেখ করে দিয়েছেন; তিনি বলেছেন,
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ))
অর্থাৎ, সাদকাহ কেবল ফকীর (নিঃস্ব), মিসকীন (অভাবগ্রস্ত), সাদকার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের মনকে (ইসলামের প্রতি) অনুরাগী করা আবশ্যক তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী ও মুসাফিরের জন্য। এ হল আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবাহ ৬০)

১। অতএব যে ব্যক্তি উক্ত ৮ প্রকার মানুষের মধ্যে কোন এক প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার জন্য ওশর-যাকাতের কোন মাল খাওয়া বৈধ নয়।

২। মহানবী-এর বংশধর; বানী হাশেম, আলী, আকীল, জা'ফর, আব্বাস ও হারেষের বংশধরের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয়। অতএব যে ব্যক্তি নিজেকে নবী-এর বংশধর বলে মনে করে, তার জন্য ওশর-যাকাতের মাল খাওয়া হারাম।

৩। যে ব্যক্তি কোন হাতের কাজ কিংবা দৈনিক অথবা মাসিক বেতন দ্বারা রুযীপ্রাপ্ত হয়, অথবা ইচ্ছা করলে প্রাপ্ত হতে পারে, এমন উপার্জনশীল ব্যক্তির জন্য যাকাতের মাল খাওয়া বৈধ নয়। মহানবী বলেন, “এ মালে ধনী এবং কর্মক্ষম উপার্জনশীল ব্যক্তির জন্য কোন অংশ নেই।” (আবু দাউদ ১৬৩৩নং)

সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আরকাম-এর মতে যারা হকদার নয় অথচ যাকাতের মাল খায়, তারা আসলে গরমের দিনে মোটা লোকের শরমগাহ ও বোগল ধোওয়া পানি খায়। (মালেক, সহীহ তারগীব ৮০৭নং)

কোন প্রকারে যাতে নিজের আদায় করা ওশর-যাকাতের মাল খাওয়া না হয়ে যায়, তার জন্য শরীয়ত (গরীব হলেও) এমন আত্মীয়-স্বজনকে যাকাত দিতে নিষেধ করেছে যার ভরণ-পোষণ করা যাকাতদাতার উপর ফরয। যেমন পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, দাদা-দাদী, নানা-নানী, পোতা-পোতিন, নাতিন-নাতনী, স্ত্রী প্রভৃতি।

tদনরূপ নিষেধ করেছে নিজের আদায় করা যাকাতের মাল ক্রয় করতে। একদা উমার আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করলেন। অতঃপর দেখলেন সেই ঘোড়া বিক্রয় হচ্ছে। তিনি তা ক্রয় করতে চাইলেন। এ ব্যাপারে আল্লাহর রসূল -কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "তুমি তা ক্রয় করো না (যদিও তা তোমাকে এক দিরহামে দেয়) এবং তোমার দানে তুমি ফিরে যেয়ো না (ফিরিয়ে নিও না)।” (বুখারী ১৪৮৯, মুসলিম ১৬২১, আবু দাউদ ১৫৯৩নং)

ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা যাকাত-ওশর না দিয়ে মাল ভক্ষণ করে, তাদেরও কিন্তু আসলে যাকাত-ওশর (হারাম) খাওয়া হয়।
যাকাত এক অর্থে পবিত্রতার নাম। যাকাত দিয়ে মালকে পবিত্র করতে হয়। আর তার মানেই, যাকাত না দিলে মাল অপবিত্র থাকে এবং সেই অপবিত্র মাল ভক্ষণ করা হয়। (যাকাত সম্বন্ধে বিস্তারিত দেখুনঃ 'যাকাত ও খয়রাত')

যাকাতের মতই কুরবানীর চামড়া বিক্রয় করে তা খাওয়া বৈধ নয়। যেহেতু তাও মিসকীনদের হক। (আবু দাউদ ১৭৬৯নং)
কুরবানীর হাড় বিক্রি করে খাওয়া বৈধ নয়। কারণ তাও চামড়ার মতই। সুতরাং সেই হাড় বিক্রি করা অর্থ গরীবদেরকে দান করতে হবে।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 দান করে ফেরৎ নেওয়া মাল

📄 দান করে ফেরৎ নেওয়া মাল


যে জিনিস আল্লাহর রাস্তায় অপরকে দান করে দেওয়া হয়, উপহার ও উপঢৌকন স্বরূপ অপরকে দেওয়া হয়, তা তারই হয়ে যায়। সুতরাং দেওয়ার পর তা আর ফেরৎ নেওয়া যায় না। পক্ষান্তরে ব্যক্তিগত কোন দ্বন্দ বা আঘাতের ফলে যাদের মন ও মত পাল্টে যায় এবং সেই দেওয়া জিনিস ফেরৎ নেয়, তারা কিন্তু ভালো লোক নয়। তাদের জন্য সে মাল বৈধও নয়; কারণ তা হল স্বকৃত বমির মত।

মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি তার দানকৃত জিনিস ফেরৎ নেয়, সে ব্যক্তির উদাহরণ ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে অতঃপর সেই বমি আবার চেঁটে খায়।” (বুখারী ২৬২১, ২৬২২, মুসলিম ১৬২২নং, আসহাবে সুনান)

অবশ্য এ ক্ষেত্রে পিতা-পুত্রের ব্যাপারটা আলাদা। যেহেতু পিতা তার পুত্রকে কোন জিনিস হেবা করে, তা ফেরৎ নিতে পারে। (সহীহুল জামে' ৭৬৫৫, ৭৬৮৬নং) যেহেতু পুত্রের সম্পত্তি পিতারই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00