📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 হারামকৃত বস্তু আল্লাহর সীমারেখা

📄 হারামকৃত বস্তু আল্লাহর সীমারেখা


মহান আল্লাহ চলার পথে আমাদের জন্য সীমারেখা নির্ধারিত করেছেন, আমরা তা উল্লংঘন করতে পারি না। বিভিন্ন বিধান দিয়ে তিনি বলেন,
تلْكَ حُدُودُ الله فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ))
অর্থাৎ, এ হল আল্লাহর সীমা, অতএব তোমরা তার নিকটেও যাবে না। (সূরা বাকারাহ ১৮৭ আয়াত)

তিনি আরো বলেন,
(( تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ))
অর্থাৎ, এ হল আল্লাহর সীমা, অতএব তোমরা তা অতিক্রম করো না। আর যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, বস্তুতঃ তারাই হল অত্যাচারী। (সূরা বাক্বারাহ ২২৯ আয়াত)

তিনি আরো বলেন,
(( تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (۱۳) وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ)) (١٤) سورة النساء
অর্থাৎ, এ হল আল্লাহর সীমা। অতএব যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিম্নে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর এটাই হল বড় সফলতা। পক্ষান্তরে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমাসমূহ লংঘন করে, তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে এবং তার জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। (সূরা নিসা ১৩-১৪ আয়াত)

মহানবী বলেন, “মহান আল্লাহ কিছু আমলকে ফরয বলে বিধান দিয়েছেন; সুতরাং তোমরা তা (পালন না করে) বিনষ্ট করো না, কিছু সীমারেখা নির্ধারিত করেছেন; সুতরাং তোমরা তা লংঘন করো না, তিনি অনেক কিছুকে হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছেন; সুতরাং তোমরা তা লংঘন (ও অমান্য) করো না এবং তিনি তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে ও না ভুলে গিয়ে অনেক কিছুর ব্যাপারে নীরব আছেন; সুতরাং তোমরা সে সব নিয়ে প্রশ্ন (বা খোঁজাখুঁজি) করো না।” (ত্বাবারানী, দারাক ত্বনী, আত্তারগীব ওয়াত তাহরীব ৩৩৮-পৃঃ)

বলাই বাহুল্য যে, যারা আল্লাহকে ভয় করে, তারাই আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ থেকে দূরে থাকে। আর হারাম থেকে দূরে থাকলে অবশ্য তাতে তাদের জন্য কল্যাণ আছে। মহান আল্লাহ বলেন,
((ذَلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّور)) (٣٠) سورة الحج
অর্থাৎ, এটিই বিধান, আর কেউ আল্লাহর নিষিদ্ধ বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য সেটিই উত্তম। তোমাদের নিকট উল্লেখিত ব্যতিক্রমগুলি ছাড়া অন্যান্য পশু তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা মূর্তিরূপ অপবিত্রতা বর্জন কর এবং মিথ্যা কথন হতে দূরে থাক। (সূরা হাজ্জ ৩০ আয়াত)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 অখাদ্য বা হারাম খাদ্য

📄 অখাদ্য বা হারাম খাদ্য


মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তার জীবন ধারণের জন্য এ পৃথিবীকে খাদ্য সম্ভার দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি পৃথিবীর সকল কিছুই মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সূরা বাক্বারাহ ২৯ আয়াত) অতএব যে কোন খাদ্যের আসল হল তা হালাল। কিন্তু মহান আল্লাহ বান্দার নিরাপত্তা ও ঈমান পরীক্ষার জন্য কোন কোন খাদ্যকে হারাম বা অপবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং সেই সাথে হালাল বা পবিত্র খাদ্য ভক্ষণ এবং হারাম বা অপবিত্র খাদ্য ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, (يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَكُمْ) অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে সব রুজী দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর---। (সূরা বাক্বারাহ ১৭২ আয়াত) তিনি আরো বলেন, ((يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ)) (٤) سورة المائدة অর্থাৎ, ওরা তোমাকে প্রশ্ন করে যে, ওদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে? বল, তোমাদের জন্য সকল পবিত্র বস্তু হালাল করা হয়েছে। (সূরা মাইদাহ ৪ আয়াত) সুতরাং আল্লাহর অনুগত প্রত্যেক সেই বান্দার জন্য (প্রাণী ও মাটি থেকে উৎপাদিত বস্তুসমূহের মধ্য হতে সকল পবিত্র ও ক্ষতিকর নয় এমন) খাদ্যকে বৈধ করা হয়েছে; যে বান্দা তাঁর দেওয়া সেই খাদ্য খেয়ে তাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করবে এবং কোন প্রকার অবাধ্যতা ও পাপাচরণ করবে না। পরন্তু তাঁর দেওয়া এই নেয়ামত সম্পর্কে কাল কিয়ামতে বান্দাকে প্রশ্ন করা হবে। (সূরা তাকাযুর ৮ আয়াত) অতএব বান্দার উচিত হল, মহান আল্লাহর খাদ্য প্রয়োজন মত ব্যবহার করা, তাতে তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, তা খেয়ে তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর ঘোষিত কোন নিষিদ্ধ বা অবৈধ খাদ্য ভক্ষণ না করা। বলা বাহুল্য, তাকে জানতে হবে যে, কোন্ কোন্ খাদ্যকে তিনি অবৈধ ঘোষণা করেছেন। অতঃপর যখন সে অবৈধ খাদ্য চিনে নেবে, তখন বাকী সমস্ত খাদ্যকে বৈধরূপে ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন, (( وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ)) (۱۱۹) سورة الأنعام
অর্থাৎ, আর তিনি তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে বিবৃত করে দিয়েছেন। (সূরা আনআম ১১৯ আয়াত)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 কোন্ কোন্ খাদ্য হারাম

📄 কোন্ কোন্ খাদ্য হারাম


১। অপরের মালিকানাভুক্ত খাদ্য, যা বাতিল পন্থায় অর্জন করা হয়, তা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا)) (۲۹) سورة النساء
অর্থাৎ, তোমরা পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসা ব্যতীত অন্যায়ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করো না এবং আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়াবান। (সূরা নিসা ২৯ আয়াত)

২। শরীয়তের ঘোষণা মতে প্রত্যেক পবিত্র, উপাদেয় ও (স্বাস্থ্য ও জ্ঞান ব্যাপারে) উপকারী খাদ্য আমাদের জন্য ভক্ষণ করা হালাল এবং প্রত্যেক অপবিত্র, অনুপাদেয় ও অপকারী খাদ্য আমাদের জন্য ভক্ষণ করা হারাম।

অপবিত্র, অনুপাদেয় ও অপকারী খাদ্য নিম্নরূপঃ-
(ক) প্রবাহিত রক্ত; পশু যবেহর পরে যে রক্ত প্রবাহিত হয় সেই রক্ত যে কোনভাবে খাওয়া হারাম। কিন্তু যে রক্ত গোস্তের সাথে লেগে থাকে, তা উত্তমরূপে পরিষ্কার করা জরুরী নয়। বরং ঐ সামান্য লেগে থাকা রক্ত গোস্তের সাথে রান্না করে খাওয়া বৈধ। রক্ত নিষিদ্ধ হওয়ার আওতা থেকে আরো দুটি জিনিস বহির্ভূত; কলিজা ও তিল্লী। (সিলসিলাহ সহীহাহ ১১১৮-নং)

(খ) বিষ খাওয়া হারাম। যেহেতু তাতে প্রাণহানি ঘটে। আর মহান আল্লাহ আত্মহত্যা করতে নিষেধ করেছেন; তিনি বলেন, وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا )
অর্থাৎ, আর আত্মহত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ২৯ আয়াত)
আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি কোন পাহাড় হতে নিজেকে ফেলে আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে ফেলে অনুরূপ শাস্তিভোগ করবে। যে ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা চিরকালের জন্য বিষ পান করে যাতনা ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন লৌহখন্ড (ছুরি ইত্যাদি) দ্বারা আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি জাহান্নামেও ঐ লৌহখন্ড দ্বারা সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে আঘাত করে যাতনা ভোগ করতে থাকবে।” (বুখারী ৫৭৭৮, মুসলিম ১০৯নং প্রমুখ)

(গ) মাটি, পাথর, কয়লা প্রভৃতি জড়পদার্থ খাওয়া বৈধ নয়। যেহেতু তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং তা ভক্ষণে শরীরের কোন উপকার নেই।
(ঘ) প্রত্যেক (সুস্থ রুচিকর মানুষের কাছে) অরুচিকর জিনিস অবৈধ; যেমন আরশোলা প্রভৃতি পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি।
(ঙ) প্রত্যেক অপবিত্র জিনিস; যেমন পায়খানা প্রভৃতি খাওয়া হারাম।
(চ) প্রত্যেক সেই উপাদেয় খাদ্য, যার সাথে কোন অপবিত্র বা হারাম খাদ্য মিশ্রিত হয়ে গেছে, তা ভক্ষণ করা হারাম।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 হারাম পানীয়

📄 হারাম পানীয়


১। এমন পানীয় পান করা হারাম, যা পান করার ফলে মানুষের জ্ঞানশূন্যতা ও মাদকতা আসে। যেমন মদ ও যাবতীয় মাদকদ্রব্য সেবন হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَـٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا
অর্থাৎ, লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে। বল, উভয়ের মধ্যে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য (যৎকিঞ্চিৎ) উপকারও রয়েছে, তবে ওগুলোর পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক বড়।” (সূরা বাক্বারাহ ২১৯ আয়াত)

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْخَمْرُ وَٱلْمَيْسِرُ وَٱلْأَنصَابُ وَٱلْأَزْلَـٰمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ ٱلشَّيْطَـٰنِ فَٱجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (ج) إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيْطَـٰنُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ ٱلْعَدَاوَةَ وَٱلْبَغْضَآءَ فِى ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! মদ জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর তো ঘৃণ্য বস্তু ও শয়তানী কাজ। সুতরাং সে সব হতে তোমরা দূরে থাক; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ-জুয়া দ্বারা তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাযে বাধা দিতে চায়! অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না? (সূরা মা-ইদা ৯০-৯১ আয়াত)

মদ পান করা কোন মুসলিমের কাজ নয়। কারণ, মাতাল যখন মদ পান করে, তখন সে মুমিন থাকে না। আল্লাহর রসূল বলেন, “কোন ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন মুমিন থাকা অবস্থায় সে ব্যভিচার করতে পারে না। কোন চোর যখন চুরি করে তখন মুমিন থাকা অবস্থায় সে চুরি করতে পারে না এবং কোন মদ্যপায়ী যখন মদ্যপান করে তখন মুমিন থাকা অবস্থায় সে মদ্যপান করতে পারে না।” (বুখারী ২৪৭৫, মুসলিম ৫৭নং, আসহাবে সুনান)
কেবল মদপানই নয়, বরং যে কোন কাবীরা গোনাহ করা অবস্থায় মুমিনের ঈমান বুক থেকে উড়ে যায়। পুনরায় পাপ থেকে বিরত হলে ঈমান ফিরে আসে। অন্যথা কাবীরা গোনাহের গোনাহগার ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়।

মদ্যপায়ী এবং তার সর্বপ্রকার সাহায্যকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত। আল্লাহর রসূল বলেন, "মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, তার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে, তার প্রস্তুতকারককে, যার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে, তার বাহককে ও যার জন্য বহন করা হয় তাকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন।” (আবু দাউদ ৩৬৭৪, ইবনে মাজাহ ৩৩৮০নং) ইবনে মাজার বর্ণনায় আছে, "তার মূল্য ভক্ষণকারীও (অভিশপ্ত)।” (সহীহুল জামে' ৫০৯১নং)

মদ্যপায়ী ব্যক্তি তওবা করে না মরলে বেহেস্তে যেতে পারবে না। আল্লাহর রসূল বলেন, “প্রত্যেক প্রমত্ততা (জ্ঞানশূন্যতা) আনয়নকারী বস্তুই হল মদ এবং প্রত্যেক প্রমত্ততা আনয়নকারী বস্তুই হল হারাম। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করতে করতে তাতে অভ্যাসী হয়ে মারা যায়, সে ব্যক্তি আখেরাতে (জান্নাতে পবিত্র) মদ পান করতে পাবে না।” (বেহেশে যেতে পারবে না।) (বুখারী ৫৫৭৫, মুসলিম ২০০৩নং প্রমুখ)

উক্ত হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, সর্বপ্রকার মাদকদ্রব্য মাত্রই হারাম। এ্যালকুহল মিশ্রিত যাবতীয় পানীয়, হিরোইন, মদ, ভাং, আফিং, তাড়ি ছাড়াও গুল, তামাক, গাঁজা, হুঁকা প্রভৃতি (বেশী পরিমাণ সেবন করলে) মাদকতা আনে। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত যে, “যে বস্তুর বেশী পরিমাণ মাদকতা আনে তার অল্প পরিমাণও হারাম।” (আহমদ, সুনান আরবাআহ, সহীহুল জামে' ৫৫৩০নং)

বিড়ি-সিগারেট অধিকমাত্রায় কোন অনভ্যস্ত ব্যক্তি পান করলে যদি তাতে তার মধ্যে মাদকতা আসে তবে তাও উক্ত বিধান অনুসারে হারাম। তাছাড়া এসব বস্তুতে রয়েছে নিশ্চিতভাবে অর্থ ও স্বাস্থ্যগত নানান ক্ষতি। আর ক্ষতিকর বস্তু সেবন করাও ইসলামে নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া মদ হল প্রত্যেক মন্দের চাবিকাঠি। যে কাজ হয়তো বা সুস্থ মস্তিষ্কে করতো না, সে কাজ মানুষ মাদকতার ফলে বিকৃত মস্তিষ্কে করে ফেলে। ফলে অনেক সময় দেখা যায়, মদের নেশায় ব্যভিচার করে, খুন করে, গালাগালি করে ইত্যাদি।

আবু দারদা বলেন, আমাকে আমার বন্ধু বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন যে, “তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না -যদিও (এ ব্যাপারে) তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ফরয নামায ত্যাগ করো না। কারণ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নামায ত্যাগ করে, তার উপর থেকে (আল্লাহর) দায়িত্ব উঠে যায়। আর মদ পান করো না, কারণ মদ হল প্রত্যেক অমঙ্গলের (পাপাচারের) চাবিকাঠি।” (ইবনে মাজাহ ৩০৪৩, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩২৫৯নং)

বানী ইসরাঈলের এক বাদশাহ এক ব্যক্তিকে ধরে এখতিয়ার দিল যে, তুমি মদ পান কর অথবা একটি শিশু হত্যা কর অথবা ব্যভিচার কর অথবা শূকরের মাংস খাও; এ সবের একটি করতে যদি তুমি অস্বীকার কর, তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব! সুতরাং সে (ছোট পাপ ভেবে) মদ পান করাকে এখতিয়ার করল। কিন্তু সে যখন তা পান করল, তখন বাকী অন্য কাজগুলি তাদের ইচ্ছামত করতে বিরত থাকল না। এ সময় আল্লাহর রসূল বললেন, "যে কেউ তা পান করবে, তার ৪০ দিনের নামায কবুল হবে না। যে ব্যক্তি তার মূত্রথলিতে ঐ মদের কিছু পরিমাণ রাখা অবস্থায় মারা যাবে, তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে এবং যে কেউ ঐ ৪০ দিনের ভিতরে মারা যাবে, সে জাহেলী যুগের মরণ মরবে।” (সিলসিলাহ সহীহাহ ২৬৯৫নং)

মদ যেহেতু নিকৃষ্ট পানীয়, তাই তার বিনিময়ে মদ্যপায়ীকে কাল কিয়ামতে তার থেকে নিকৃষ্ট পানীয় পান করতে দেওয়া হবে।
সাহাবী জাবের বলেন, এক ব্যক্তি ইয়ামানের এক শহর জাইশান থেকে (মদীনায়) আগমন করল। সে আল্লাহর রসূল-কে তার দেশের লোকেরা পান করে এমন ভুট্টা থেকে প্রস্তুত 'মিফ্র' নামক এক পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। আল্লাহর রসূল বললেন, "তা কি মাদকতা আনে?” লোকটি বলল, 'জী হ্যাঁ।' আল্লাহর রসূল বললেন, "প্রত্যেক মাদকতা আনয়নকারী বস্তু মাত্রই হারাম। আর যে ব্যক্তি মাদকদ্রব্য সেবন করবে তার জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি আছে যে, তাকে তিনি জাহান্নামীদের ঘাম অথবা পুঁজ পান করাবেন।” (মুসলিম ২০০২নং, নাসাঈ)

আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি মদ পান করবে সে ব্যক্তির ৪০ দিনের নামায কবুল হবে না। কিন্তু এরপর যদি সে তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা গ্রহণ করে নেবেন। অন্যথা যদি সে পুনরায় পান করে তাহলে অনুরূপ তার ৪০ দিনের নামায কবুল হবে না। যদি এর পরেও সে তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করে নেবেন। অন্যথা যদি সে তৃতীয়বার পান করে তাহলে অনুরূপ তার ৪০ দিনের নামায কবুল হবে না। কিন্তু এর পরেও যদি সে তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা গ্রহণ করে নেবেন। অন্যথা যদি সে চতুর্থবার তা পান করে তাহলে অনুরূপ তার ৪০ দিনের নামায কবুল হবে না। কিন্তু এরপরে সে যদি তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন না, তিনি তার প্রতি ক্রোধান্বিত হন এবং (পরকালে) তাকে 'খাবাল নদী' থেকে পানীয় পান করাবেন।"
ইবনে উমার-কে জিজ্ঞাসা করা হল, 'হে আবু আব্দুর রহমান! 'খাবাল-নদী' কি?' উত্তরে তিনি বললেন, 'তা হল জাহান্নামবাসীদের পুঁজ দ্বারা প্রবাহিত (জাহান্নামের) এক নদী।' (তিরমিযী, হাকেম ৪/১৪৬, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৬৩১২-৬৩১৩নং)

মদ পান করা একটি সামাজিক অপরাধও। তাই দুনিয়াতেও তার শাস্তি রয়েছে ইসলামী শরীয়ত মতে।
আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি মদ পান করবে তাকে চাবুক লাগাও। (তিনবার চাবুক মারার পরও) যদি চতুর্থবার পুনরায় পান করে তবে তাকে হত্যা করে দাও।” (তিরমিযী ১৪৪৪, আবু দাউদ ৪৪৮২, ইবনে হিব্বান ৪২ নং, অনুরূপ, ইবনে মাজাহ ২৫৭০, হাকেম ৪/৩৭২, সহীহুল জামে' ৬৩০৯নং, হাদীসটি মনসুখ)

মদ্যপানে অভ্যাসী মাতাল ব্যক্তি এত বড় পাপী যে, তাকে মুশরিকের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি মদ্যপানে অভ্যাস থাকা অবস্থায় মারা যাবে সে ব্যক্তি মূর্তিপূজকের মত (পাপী) হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।” (ত্বাবারানীর কাবীর, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৭৭নং)
বলা বাহুল্য, মাদকদ্রব্য সেবন কোন্ পর্যায়ের হারাম তা অনুমেয়।

২। কিশমিশ ও সদ্যপক্ক নরম খেজুর এক পাত্রে রেখে তাতে পানি মিলিয়ে শরবত বা জুস তৈরী করে খাওয়াও বৈধ নয়; যদিও তা তাড়িতে পরিণত না হয়। কারণ, এই ধরনের জুস তাড়ি হতে বেশী সময় নেয় না। তাই মদ পানের ছিদ্রপথ বন্ধ করার জন্য তা পূর্ব থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
৩। প্রত্যেক অপবিত্র পানীয় পান করা অবৈধ। যেমন, হারাম পশুর প্রস্রাব, মানুষের প্রস্রাব ইত্যাদি।
৪। প্রত্যেক হারাম প্রাণীর দুধ খাওয়া হারাম। অবশ্য মানুষের দুধ হালাল।
৫। প্রত্যেক সেই (ধূম বা পানি জাতীয়) পানীয় যাতে মানুষের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি আছে।
মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুজি দান করেছি তা হতে পবিত্র বস্তু আহার কর।--" (সূরা বাকারাহ ১৭২ আয়াত) "যে (নিরক্ষর রসূল) তাদের জন্য পবিত্র ও উত্তম বস্তু বৈধ করে এবং অপবিত্র ও নিকৃষ্ট বস্তু অবৈধ করে--। (সূরা আ'রাফ ১৫৭ আয়াত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00