📄 হারাম করার অধিকার কেবল সৃষ্টিকর্তার
কোন কিছুকে হারাম জানা, মানা ও বলার পূর্বে এ কথা জানতে হবে যে, হালাল অথবা হারাম করার অধিকার একমাত্র মহান আল্লাহর। কোন মানুষ নিজের তরফ থেকে কোন কিছুকে হারাম ঘোষণা করতে পারে না। যেহেতু প্রত্যেক জিনিসের সৃষ্টিকর্তা তিনিই এবং তিনিই মানুষকে আহার দান করে থাকেন। অতএব তাঁরই অধিকারে থাকবে হারাম-হালালের বিধান। তাছাড়া কোন সৃষ্টি সঠিকরূপে জানে না যে, কোন্ খাদ্যের ভিতর কোন্ শ্রেণীর অনিষ্টকারিতা বর্তমান আছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তা জানেন। আর এ কথা অবশ্যই জানতে হবে যে, যে জিনিস ইসলামে হারাম, অপবিত্র বা নিষিদ্ধ সে জিনিসের ভিতরে কোন না কোন অনিষ্টকারিতা ও ক্ষতি আছে বান্দার জন্য। মানুষ সৃষ্টি হয়েছে একমাত্র আল্লাহরই বন্দেগীর উদ্দেশ্যে। হারাম-হালালের বিধান দিয়ে তিনি তাঁর অনুগত ও অবাধ্য বান্দাকে পরীক্ষা ও পার্থক্য করে নিতে পারেন। ইসলাম এসেছে মানুষের ঈমান, জান, মান, জ্ঞান ও ধন এই ৫টি জিনিসের মঙ্গল সাধনের জন্য এবং যাতে উক্ত ৫টি বিষয়ে মুসলিম কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার বিশেষ বিধান নিয়ে। সুতরাং মহান আল্লাহই জানেন, মানুষের অমঙ্গল ও ক্ষতি কিসে। একমাত্র তিনিই আনুগত্য ও ইবাদতের যোগ্য। তিনিই মানুষকে পথ দেখান এবং অপূর্ণ জ্ঞানের মানুষ সে পথ চলতে বাধ্য। তাঁর সে পথে না চললে মানুষ অংশীবাদী বলে বিবেচিত হবে।
মহান আল্লাহ বলেন,
((قُلْ أَرَأَيْتُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ لَكُم مِّن رِّزْقِ فَجَعَلْتُم مِّنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا قُلْ اللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى الله تَفْتَرُونَ)) (৫৯) সূরা ইউনুস
অর্থাৎ, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রুযী অবতীর্ণ করেছেন, তার মধ্যে হারাম-হালাল নির্ধারিত করে নিয়েছ? বল, আল্লাহ কি তোমাদেরকে তা করার অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করছ? (সূরা ইউনুস ৫৯ আয়াত)
তিনি কিছু জিনিসকে হারাম ঘোষণা করার পর বলেন,
((وَلَا تَقُولُواْ لمَا تَصفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلاَلٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ لاَ يُفْلِحُونَ)) (১১৬) সূরা নাহল
অর্থাৎ, তোমাদের জিহবা থেকে মিথ্যা বের হয়ে আসে বলে তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তারা সফল হবে না। (সূরা নাহল ১১৬ আয়াত)
কোন মানুষ - সে যত বড়ই মর্যাদাবান হোক - হালাল-হারাম করার অধিকার তার নেই। এমনকি আল্লাহর হাবীব মহানবী -এরও সে ক্ষমতা ও অধিকার ছিল না। তাইতো একদা তিনি নিজের জন্য মধু খাওয়া হারাম করলে মহান আল্লাহ তাঁকে সতর্ক করে বলেন,
{يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (১)
অর্থাৎ, হে নবী! আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তুমি তা হারাম করছো কেন? তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছ; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা তাহরীম ১)
পক্ষান্তরে কেউ তা করলেও কোন মানুষের জন্য তা মেনে নেওয়া বৈধ নয়। আর তা মানলে যে আসলে তার ইবাদত করা হয়, সে কথা বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেন,
(( أَتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَها وَاحِدًا لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ)) (۳۱) سورة التوبة
অর্থাৎ, ওরা আল্লাহর পরিবর্তে ওদের পন্ডিত (পাদরী) ও সংসার বিরাগীদেরকে এবং মারয়্যাম-পুত্র মাসীহকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল কেবল একমাত্র মা'বুদের ইবাদত করার জন্য। তিনি ছাড়া কোন সত্য মা'বুদ নেই। ওরা যে অংশী সাব্যস্ত করে, তা হতে তিনি পবিত্র। (সূরা তাওবাহ ৩১ আয়াত)
ওরা ওদের এক প্রকার উপাসনা করত। যে উপাসনার ব্যাখ্যা হল, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ওদের কথামত হালাল মেনে নিয়ে এবং তিনি যা হালাল করেছেন তা ওদের কথামত হারাম মেনে নিয়ে পাপ কাজে ওদের আনুগত্য করা।
অথচ মহানবী বলেন, "স্রষ্টার অবাধ্যাচরণ করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।" (সহীহ, মুসনাদে আহমদ)
সাহাবী আদী বিন হাতেম বলেন, আল্লাহর নবী যখন ঐ আয়াত পাঠ করলেন, তখন আমি বললাম, (আল্লাহ তো ইবাদতের কথা বলেছেন। কিন্তু) আমরা তো পাদরীদের ইবাদত করতাম না। তিনি বললেন, "তারা যা হালাল বলত, তোমরা তাই হালাল এবং যা হারাম বলত, তাই হারাম বলে মেনে নিতে না কি?" আদী বললেন, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, “এটাই হল তাদের ইবাদত করা।” (তিরমিযী ৩০৯৫নং)
সুতরাং মহান আল্লাহর নির্দেশ হল,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُواْ طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ (۸۷) وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ حَلاَلاً طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ))
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ঐ সব পবিত্র বস্তু হারাম করো না, যেগুলিকে আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা লংঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা লংঘনকারীকে পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তোমাদেরকে যে সকল বস্তু রুযী স্বরূপ দান করেছেন তার মধ্য হতে হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর এবং তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী। (সূরা মাইদাহ ৮৭-৮৮- আয়াত)
📄 হারামকৃত বস্তু আল্লাহর সীমারেখা
মহান আল্লাহ চলার পথে আমাদের জন্য সীমারেখা নির্ধারিত করেছেন, আমরা তা উল্লংঘন করতে পারি না। বিভিন্ন বিধান দিয়ে তিনি বলেন,
تلْكَ حُدُودُ الله فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ))
অর্থাৎ, এ হল আল্লাহর সীমা, অতএব তোমরা তার নিকটেও যাবে না। (সূরা বাকারাহ ১৮৭ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
(( تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ))
অর্থাৎ, এ হল আল্লাহর সীমা, অতএব তোমরা তা অতিক্রম করো না। আর যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, বস্তুতঃ তারাই হল অত্যাচারী। (সূরা বাক্বারাহ ২২৯ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
(( تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (۱۳) وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ)) (١٤) سورة النساء
অর্থাৎ, এ হল আল্লাহর সীমা। অতএব যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিম্নে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর এটাই হল বড় সফলতা। পক্ষান্তরে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমাসমূহ লংঘন করে, তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে এবং তার জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। (সূরা নিসা ১৩-১৪ আয়াত)
মহানবী বলেন, “মহান আল্লাহ কিছু আমলকে ফরয বলে বিধান দিয়েছেন; সুতরাং তোমরা তা (পালন না করে) বিনষ্ট করো না, কিছু সীমারেখা নির্ধারিত করেছেন; সুতরাং তোমরা তা লংঘন করো না, তিনি অনেক কিছুকে হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছেন; সুতরাং তোমরা তা লংঘন (ও অমান্য) করো না এবং তিনি তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে ও না ভুলে গিয়ে অনেক কিছুর ব্যাপারে নীরব আছেন; সুতরাং তোমরা সে সব নিয়ে প্রশ্ন (বা খোঁজাখুঁজি) করো না।” (ত্বাবারানী, দারাক ত্বনী, আত্তারগীব ওয়াত তাহরীব ৩৩৮-পৃঃ)
বলাই বাহুল্য যে, যারা আল্লাহকে ভয় করে, তারাই আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ থেকে দূরে থাকে। আর হারাম থেকে দূরে থাকলে অবশ্য তাতে তাদের জন্য কল্যাণ আছে। মহান আল্লাহ বলেন,
((ذَلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّور)) (٣٠) سورة الحج
অর্থাৎ, এটিই বিধান, আর কেউ আল্লাহর নিষিদ্ধ বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য সেটিই উত্তম। তোমাদের নিকট উল্লেখিত ব্যতিক্রমগুলি ছাড়া অন্যান্য পশু তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা মূর্তিরূপ অপবিত্রতা বর্জন কর এবং মিথ্যা কথন হতে দূরে থাক। (সূরা হাজ্জ ৩০ আয়াত)
📄 অখাদ্য বা হারাম খাদ্য
মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তার জীবন ধারণের জন্য এ পৃথিবীকে খাদ্য সম্ভার দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি পৃথিবীর সকল কিছুই মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সূরা বাক্বারাহ ২৯ আয়াত) অতএব যে কোন খাদ্যের আসল হল তা হালাল। কিন্তু মহান আল্লাহ বান্দার নিরাপত্তা ও ঈমান পরীক্ষার জন্য কোন কোন খাদ্যকে হারাম বা অপবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং সেই সাথে হালাল বা পবিত্র খাদ্য ভক্ষণ এবং হারাম বা অপবিত্র খাদ্য ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, (يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَكُمْ) অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে সব রুজী দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর---। (সূরা বাক্বারাহ ১৭২ আয়াত) তিনি আরো বলেন, ((يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ)) (٤) سورة المائدة অর্থাৎ, ওরা তোমাকে প্রশ্ন করে যে, ওদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে? বল, তোমাদের জন্য সকল পবিত্র বস্তু হালাল করা হয়েছে। (সূরা মাইদাহ ৪ আয়াত) সুতরাং আল্লাহর অনুগত প্রত্যেক সেই বান্দার জন্য (প্রাণী ও মাটি থেকে উৎপাদিত বস্তুসমূহের মধ্য হতে সকল পবিত্র ও ক্ষতিকর নয় এমন) খাদ্যকে বৈধ করা হয়েছে; যে বান্দা তাঁর দেওয়া সেই খাদ্য খেয়ে তাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করবে এবং কোন প্রকার অবাধ্যতা ও পাপাচরণ করবে না। পরন্তু তাঁর দেওয়া এই নেয়ামত সম্পর্কে কাল কিয়ামতে বান্দাকে প্রশ্ন করা হবে। (সূরা তাকাযুর ৮ আয়াত) অতএব বান্দার উচিত হল, মহান আল্লাহর খাদ্য প্রয়োজন মত ব্যবহার করা, তাতে তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, তা খেয়ে তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর ঘোষিত কোন নিষিদ্ধ বা অবৈধ খাদ্য ভক্ষণ না করা। বলা বাহুল্য, তাকে জানতে হবে যে, কোন্ কোন্ খাদ্যকে তিনি অবৈধ ঘোষণা করেছেন। অতঃপর যখন সে অবৈধ খাদ্য চিনে নেবে, তখন বাকী সমস্ত খাদ্যকে বৈধরূপে ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন, (( وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ)) (۱۱۹) سورة الأنعام
অর্থাৎ, আর তিনি তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে বিবৃত করে দিয়েছেন। (সূরা আনআম ১১৯ আয়াত)
📄 কোন্ কোন্ খাদ্য হারাম
১। অপরের মালিকানাভুক্ত খাদ্য, যা বাতিল পন্থায় অর্জন করা হয়, তা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا)) (۲۹) سورة النساء
অর্থাৎ, তোমরা পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসা ব্যতীত অন্যায়ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করো না এবং আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়াবান। (সূরা নিসা ২৯ আয়াত)
২। শরীয়তের ঘোষণা মতে প্রত্যেক পবিত্র, উপাদেয় ও (স্বাস্থ্য ও জ্ঞান ব্যাপারে) উপকারী খাদ্য আমাদের জন্য ভক্ষণ করা হালাল এবং প্রত্যেক অপবিত্র, অনুপাদেয় ও অপকারী খাদ্য আমাদের জন্য ভক্ষণ করা হারাম।
অপবিত্র, অনুপাদেয় ও অপকারী খাদ্য নিম্নরূপঃ-
(ক) প্রবাহিত রক্ত; পশু যবেহর পরে যে রক্ত প্রবাহিত হয় সেই রক্ত যে কোনভাবে খাওয়া হারাম। কিন্তু যে রক্ত গোস্তের সাথে লেগে থাকে, তা উত্তমরূপে পরিষ্কার করা জরুরী নয়। বরং ঐ সামান্য লেগে থাকা রক্ত গোস্তের সাথে রান্না করে খাওয়া বৈধ। রক্ত নিষিদ্ধ হওয়ার আওতা থেকে আরো দুটি জিনিস বহির্ভূত; কলিজা ও তিল্লী। (সিলসিলাহ সহীহাহ ১১১৮-নং)
(খ) বিষ খাওয়া হারাম। যেহেতু তাতে প্রাণহানি ঘটে। আর মহান আল্লাহ আত্মহত্যা করতে নিষেধ করেছেন; তিনি বলেন, وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا )
অর্থাৎ, আর আত্মহত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ২৯ আয়াত)
আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি কোন পাহাড় হতে নিজেকে ফেলে আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে ফেলে অনুরূপ শাস্তিভোগ করবে। যে ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা চিরকালের জন্য বিষ পান করে যাতনা ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন লৌহখন্ড (ছুরি ইত্যাদি) দ্বারা আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি জাহান্নামেও ঐ লৌহখন্ড দ্বারা সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে আঘাত করে যাতনা ভোগ করতে থাকবে।” (বুখারী ৫৭৭৮, মুসলিম ১০৯নং প্রমুখ)
(গ) মাটি, পাথর, কয়লা প্রভৃতি জড়পদার্থ খাওয়া বৈধ নয়। যেহেতু তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং তা ভক্ষণে শরীরের কোন উপকার নেই।
(ঘ) প্রত্যেক (সুস্থ রুচিকর মানুষের কাছে) অরুচিকর জিনিস অবৈধ; যেমন আরশোলা প্রভৃতি পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি।
(ঙ) প্রত্যেক অপবিত্র জিনিস; যেমন পায়খানা প্রভৃতি খাওয়া হারাম।
(চ) প্রত্যেক সেই উপাদেয় খাদ্য, যার সাথে কোন অপবিত্র বা হারাম খাদ্য মিশ্রিত হয়ে গেছে, তা ভক্ষণ করা হারাম।