📄 একনজরে উমরাহ ও হজ্জ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় দু‘আসমূহ
■ উমরাহ বা হজ্জ সফরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের জন্য দু'আ:
أَسْتَوْدِعُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ
"আসতাওদি'উ কুমুল্ল-হাল্লাযী লা তাদী'উ ওয়াদায়ী উহ”।
"আমি তোমাদেরকে আল্লাহর হেফাজতে রেখে যাচ্ছি যার হেফাজতে থাকা কেউই ক্ষতিগ্রস্থ হয় না"। ইবনে মাজাহ-২৮২৫
■ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পঠিত দু'আ:
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
"বিসমিল্লাহি তাওক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"।
"আল্লাহর নামে, সকল ভরসা তারই উপর এবং আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারোর ভালো কর্ম করার এবং খারাপ কর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই”। আবু দাউদ-৫০৯৫
■ রিকশা, ট্যাক্সি, কার, বাস, ট্রেন ও বিমানে আরোহন করে যাত্রা পথের দু'আ: তিরমিযী-৩৪৪৬
اللَّهُ أَكْبَر، اللَّهُ أَكْبَر، اللَّهُ أَكْبَر سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ
"আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর,"
"সুবহানাল্লাযি সাখারালানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকুরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবুন"।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান"। "পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি এ বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। একে বশীভূত করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাবো"। সুরা-আল যুখরুফ, ৪৩:১৩-১৪, আবু দাউদ-২৬০২
■ নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজে উঠে যাত্রা পথের দু'আ:
بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরছাহা ইন্না রাববিলা গাফুরুর রাহিম”।
"আল্লাহর নামেই এই বাহন চলাচল করে এবং থামে, নিশ্চয়ই আমার প্রভু ক্ষমাশীল ও দয়ালু"। সুরা-হুদ; ১১:৪১
■ যাত্রা পথে কোথাও পৌঁছে/বিরতি/সাময়িক অবতরণ করে পঠিত দু'আ:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আউযু বিকালিমা তিল্লা-হিত তাম্মাতি মিন শাররি মা-খলাকু"। মুসলিম-৬৭৭১
"আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় কামনা করছি"।
■ মীকাতের কাছাকাছি পৌঁছলে উমরাহ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি:
لَبَّيْكَ عُمْرَةً
"লাব্বাইকা উমরাহ"
"আমি উমরাহ করার জন্য হাজির"।
■ উমরাহ ও হজ্জ পালনকালে ইহরামকালীন তালবিয়াহ:
لَبَّيْكَ اللهم لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'য়মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা- শারিকা লাক"।
"আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই এবং রাজত্বও তোমারই, তোমার কোনো শরীক নেই"। বুখারী-১৫৪৯, মুসলিম-২৭০১, তিরমিযী-৮২৬
■ উমরাহ বা হজ্জ সম্পন্ন করতে না পারার ভয় থাকলে (যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অসুস্থতার কারণ দেখা দেয়) তবে পাঠ করার দু'আ: মুসলিম-২৭৯৩
فَإِنْ حَبَسَنِي حَابِسٌ فَمَحِلِّي حَيْثُ حَبَسْتَنِي
"ফা ইন হাবাসানী হা-বিসুন, ফা মাহিল্লী হায়ছু হাবাসতানি"।
"যদি কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই, তাহলে যেখানে তুমি আমাকে বাধা দিবে, সেখানেই আমার হালাল হওয়ার স্থান হবে"। আবু দাউদ-১৭৭৬
■ মসজিদে প্রবেশকালে দু'আ:
بِسْمِ اللَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ اللهم افْتَحُ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
"বিসমিল্লাহি ওয়াস্সলাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা"। নাসাঈ-৭২৯
"আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। স্বলাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর। হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দিন"।
■ তাওয়াফে প্রত্যেক চক্করে ইয়েমেনী কর্ণার থেকে হাজারে আসওয়াদ কর্ণার এর মাঝামাঝি স্থানে নিম্নের দু'আ পাঠ করা: আবু দাউদ-১৮৯২
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াক্বিনা আযাবান নার"।
"হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন"। সূরা-আল বাকারা, ২:২০১
■ তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে গিয়ে নিম্নের দু'আ পাঠ করা:
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلَّى
"ওয়াত্তাখিযূ মিম মাক্বামি ইবরাহীমা মুসল্লা"।
"ইবরাহীমের দন্ডায়মানস্থানকে ইবাদতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো"। সূরা-আল বাকারা, ২:১২৫, বুখারী-১৬২৭, ইবনে মাজাহ-২৯৬০
■ সাফা পাহাড়ে পৌঁছে এই দু'আটি একবার পাঠ করা: তিরমিযী-৮৬২
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
"ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা'আয়িরিল্লাহ।
"নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। সূরা-আল বাকারা, ২:১৫৮
■ সাঈর করার সময় সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে কাবা ঘরের দিকে মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে এই দু'আটি তিনবার পাঠ করা: নাসাঈ-২৯৭১
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - أَنْجَزَ وَعْدَهُ - وَنَصَرَ عَبْدَهُ - وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমিতু, ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন ক্বদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু”।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহান। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেছেন এবং দুষ্কর্মের সহযোগীদের পরাস্ত করেছেন"। নাসাঈ-২৯৭৪
■ সাফা মারওয়ার মাঝে সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে দৌড়ানোর সময় দু'আ:
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ
"রাব্বিগফির ওয়ারহাম ইন্নাকা আনতাল আ'আযযুল আকরাম"
"হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।" ইবনে আবী শায়বাহ-৩/৪২০
■ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দু'আ:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক"।
“হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি”। নাসাঈ-৭২৯
■ ৮-যিলহজ্জ হজ্জ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি:
لَبَّيْكَ حَجًا
“লাব্বাইকা হাজ্জাহ”
"আমি হজ্জ করার জন্য হাজির"।
■ আরাফার দিনে পঠিত দু'আ:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَأْسٍ قَدِيرِ
"লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু, লা শারীকালাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন কুদীর।"
"আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। সকল সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান"। তিরমিযী-৩৫৮৫
■ ৯ যিলহজ্জ ফজরের পর থেকে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা:
اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ"।
"আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য"।
■ হজ্জ সফর শেষে নিজ এলাকায়/শহরে প্রবেশের সময় পঠিত দু'আ: মুসলিম-৩১৭১
آئِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
"আ-ইবুনা তাইবুনা 'আবিদুনা লিরব্বিনা হামিদুন"।
"আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী ও আমাদের রবের প্রশংসাকারী"।