📄 সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত সকাল ও বিকালে পঠিতব্য দু‘আ ও যিকিরসমূহ
১
আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারাহ ২৫৫ নং আয়াত) ১ বার পাঠ করা। সহীহ তারগীব-১/২৭৩
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, সে জিন শয়তান থেকে বিকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিকালে পাঠ করবে, সে জিন শয়তান থেকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। ত্ববারানী-৫৪২, হাকেম-১/৫৬২
২
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস সকাল ও বিকালে ৩ বার করে পঠনীয়। বুখারী-৫০১৭
ফযীলত: উহা পড়লে যাবতীয় অনিষ্ট (জ্বিন, সাপ-বিচ্ছু, যাদুর প্রভাব ইত্যাদি) হতে নিরাপদ থাকা যায়। আবু দাউদ-৫০৮২, তিরমিযী-৩৫৭৫
৩
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাযী লা য়্যাদুরু মা'আসমিহী শাইউন ফিল আরদি অলা ফিসসামাই অহুওয়াস সামীউল আলীম।
অর্থ: আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে পৃথিবী ও আকাশের কোন জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা।
ফযীলত: এই দু'আ'টি সকাল ও বিকালে ৩ বার করে পাঠ করলে হটাৎ কোন বিপদে পড়বে না কোন কিছু তার ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। আবু দাউদ-৫০৮৮, তিরমিযী-৩৩৮৮
৪
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিয়্যাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু অহুয়া রব্বুল আরশিল আযীম।
অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই, তাঁর প্রতি ভরসা করেছি, তিনি মহান আরশের অধিপতি। আবু দাউদ-৫০৮১
ফযীলতঃ এই দু'আ'টি সকাল ও বিকালে ৭ বার করে পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তাশীল সকল বস্তুর ক্ষেত্রে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবে।
৫
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শারি মা খালাক।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মুসলিম-২০৮০
ফযীলত: এই দু'আটি বিকাল সন্ধ্যার সময় ৩ বার পড়লে ঐ রাতে সকল প্রকার ক্ষতিকারক ও কষ্টদায়ক বস্তু থেকে রক্ষা পাবে।
৬
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা অবিকা আমসাইনা অবিকা নাহয়্যা অবিকা নামৃত অ ইলাইকান নুশুর।
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন। আবু দাউদ-৫০৬৮, তিরমিযী-৩৩৯১
(উক্ত দু'আটি সকাল বেলা পাঠ করা। বিকালে দু'আ'টি পাঠ করার সময় "আসবাহনা অবিকা আমসাইনা" এর পরিবর্তে "আমসাইনা অবিকা আসবাহনা" বলতে হবে।)
৭
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ، اَصْلِحُ لِي شَانِي كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنِ
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীস, আসলিহ লী শা'নী কুল্লাহ, অলা তাকিলনী ইলা নাফসী তারফাতা আইন্।
অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর! আমি তোমার করুণার অসীলায় ফরিয়াদ করছি। তুমি আমার সকল বিষয়কে সংশোধন করে দাও। আর চোখের এক পলক বরাবরও আমাকে আমার নিজের প্রতি সোপর্দ করে দিও না। হাকেম-১/৫৪৫
৮
أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ وَعَلَى دِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى مِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
উচ্চারণ: আসবাহনা আলা ফিতরাতিল ইসলামি অআলা কালিমাতিল ইখলাস, অ আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন (সা.), অ আলা মিল্লাতি আবীনা ইবরাহীমা হানীফাম মুসলিমাঁউ অমা কানা মিনাল মুশরিকীন।
অর্থ: আমরা সকালে উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী (সা.)-এর দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ.)-এর ধর্মাদর্শের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (সকালে ১ বার পাঠ করা। বিকালে দু'আটি পাঠ করার সময় "আসবাহনা” এর পরিবর্তে "আমসাইনা" বলতে হবে।) সহীহুল জামি-৪/২০৯, আহমদ-১৫৩৬০
৯
সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার;
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাকতানী, অ আনা আব্দুকা অ আনা আলা আহদিকা অ অদিকা মাসতাতা'তু, আউযুবিকা মিন শারি মা সানা'তু, আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা আলায়য়্যা অ আবূউ বিযামবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা য়্যাগফিরুষ যুনূবা ইল্লা আন্তা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার দাস। আমি তোমার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি, তার মন্দ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমার উপর তোমার যে সম্পদ রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও আমি স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমাকে মার্জনা করে দাও, যেহেতু তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ মার্জনা করতে পারে না।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই ইস্তিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার পূর্বে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই দু'আ পড়বে আর সে সকাল হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে। বুখারী-৬৩০৬
১০
أَمْسَيْنَا وَ أَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَ شَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ فِي النَّارِ وَعَذَابِ فِي الْقَبْرِ
উচ্চারণ: আস্সাইনা অ আমসাল মুলকু লিল্লাহ, অলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। রাব্বি আলুকা খাইরা মা ফী হাযিহিল লায়লাতি অ খাইরা মা বা'দাহা, অ আউযু বিকা মিন শারি মা ফী হাযিহিল লায়লাতি অ শারি মা বা'দাহা, রাব্বি আউযুবিকা মিনাল কাসালি অ সূইল কিবার, রাব্বি আউযু বিকা মিন আযাবিন ফিন্নারি অ আযাবিন ফিল কার।
অর্থ: আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় স্তুতি, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি। (উক্ত দু'আ'টি সন্ধ্যার সময় পাঠ করা। সকাল বেলায় দু'আটি পাঠ করার সময় শুরুতে "আমসাইনা অ আমসাল" এর পরিবর্তে "আসবাহনা অ আসবাহাল" বলতে হবে।) মুসলিম- ২০৮৮
১১
اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আলিমাল গায়বি অশশাহাদাহ, ফাতিরাস সামাওয়াতি অল আরদি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন অমালীকাহ, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আন্তা আউযু বিকা মিন শারি নাফসী অশারিশ শায়ত্বানি অশির্কিহ।
অর্থ: হে উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শিরক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আবু দাউদ-৫০৬৭
১২
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اَللَّهُمَّ اسْتُرُ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أَغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনয়্যা অলআখিরাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আআলুকাল আফওয়া অল আফিয়াতা ফী দ্বীনী অদুনয়্যায়্যা অ আহলী অমালী, আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতী অ আমিন রাওআতী, আল্লাহুম্মাহফাযনী মিম বাইনি য়্যাদাইয়্যা অমিন খালফী অ'আঁই য়্যামীনী অআন শিমালী অমিন ফাউকী, অআউযু বিআযামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতী।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ইহকালে ও পরকালে নিরাপত্তা চাচ্ছি। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার ধর্ম ও পার্থিব জীবনে এবং পরিবার ও সম্পদে ক্ষমা ও নিরাপত্তা ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার লজ্জাকর বিষয়সমূহ গোপন করে নাও এবং আমার ভীতিতে নিরাপত্তা দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাৎ, ডান ও বাম এবং উপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কর। আর আমি তোমার মাহাত্ম্যের অসীলায় আমার নিচে ভূমি ধ্বসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ইবনু মাজাহ-৩৮৭১
১৫
اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أَمْسَيْتُ) أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসবাহতু (আমসাইতু) উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা 'আরশিকা ওয়া মালাইকাতিকা ওয়া জামীআ খালকিকা, আন্নাকা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি আপনার আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সৃষ্টিকে যে নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোন হকু ইলাহ নেই, আপনার কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মদ(ﷺ) আপনার বান্দা ও রাসূল।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি সকালে অথবা বিকালে এটা চার বার বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন। আবু দাউদ-৫০৭১
১৬
اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ (أَمْسَ) بِي مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكُرُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা মা আসবাহা (আমসা) বী মিন নি'মাতিন আউ বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়ালাকাশ শুকরু।
অর্থ: হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছে বা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে এসব নেয়ামত শুধুমাত্র আপনার নিকট থেকেই; আপনার কোন শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি সকালে উক্ত দু'আ পাঠ করলো সে যেন সেই দিনের শুকরিয়া আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি বিকালবেলা উক্ত দু'আ পাঠ করলো সে যেন রাতের শুকরিয়া আদায় করলো। আবু দাউদ-৫০৭৫
১৭
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمُعِى اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ . تُعِيدُهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা 'আফিনী ফী বাদানী, আল্লাহুম্মা 'আফিনী ফী সামঈ, আল্লাহুম্মা 'আফিনী ফী বাসারী। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকুরি ওয়া আউযু বিকা মিন 'আযাবিল ক্বাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোন হকু ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফরি ও দারিদ্রতা থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোন হকু ইলাহ নেই।
ফযীলত: সকালে ও বিকালে তিন বার করে পাঠ করবে। আবু দাউদ-৫০৯২
১৮
أَصْبَحْنَا (أَمْسَيْتُ) وَأَصْبَحَ (أَمْسَ) الْمُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَتْحَهَا وَنَصْرَهُ وَنُورَهُ وَبَرَكَتَهُ وَهُدَاهُ (نَصْرَهَا وَنُورَهَا وَبَرَكَتَهَا وَهُدَاهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ
উচ্চারণ: আসবাহনা (আমসাইনা) ওয়া আসবাহাল (আমসাল) মূলকু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা হাযাল ইয়াওমি ফাতহাহু (হাযিহিল লাহিলাতি ফাতহাহা) ওয়া নাসরাহু ওয়া নুরাহু ওয়া বারাকাতাহু ওয়া হুদাহু (নাসরাহা ওয়া নুরাহা ওয়া বারাকাতাহা ওয়া হুদাহা)। ওয়া আ'উযু বিকা মিন শাররি মা ফীহি ওয়া শাররি মা বা'দাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছি, অনুরুপ সকল রাজত্ব সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কামনা করি এই দিনের কল্যাণ, বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত, ও হেদায়েত। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এই দিনের ও পর দিনের অকল্যাণ থেকে।
ফযীলত: সকালে ও বিকালে একবার করে পাঠ করবে। আবু দাউদ-৫০৮৪
১৯
اللهم صَلِّ وَسَلِّمُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম 'আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি স্বলাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ(ﷺ) এর উপর।
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত দু'আ সকালে ১০বার বিকালে ১০বার পাঠ করবে কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ দ্বারা সৌভাগ্যবান হবে। সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীত-১/২৭৩
২০
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সর্বোপরি শক্তিমান।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি (সকালে ও বিকালে) ১০০বার বলবে, তার জন্য ১০জন গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হবে, তার জন্য ১০০টি পুণ্য লেখা হবে ও ১০০টি পাপ মোচন করা হবে এবং শয়তান থেকে বিকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করতে পারবে না তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি যে এর চেয়ে বেশি আমল করবে। বুখারী-৩২৯৩, আবু দাউদ-৫০৭৭, ইবনে মাজাহ-৩৭৯৮
২১
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত দু'আ সকালে ১০০বার বিকালে ১০০ বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি উৎকৃষ্ট কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি যে তার মত বলবে বা তার চেয়ে বেশি আমল করবে। মুসলিম-৪/২০৭১, ২৬৯২
২২
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল 'আযীম অ বিহামদিহী।
অর্থ: আমি মহান আল্লাহর প্রশংসার সহিত পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত দু'আ সকালে ১০০বার বিকালে ১০০বার বলবে, তার জন্য এমন মর্যাদা দেওয়া হবে, যে মর্যাদা সৃষ্টিকুলের আর কোন ব্যক্তিকে দেওয়া হবে না। আবু দাউদ-৫০৯১
২৩
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ অ আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তওবা করছি।
ফযীলত: রাসূল(ﷺ) প্রত্যহ ৭০ এর অধিক (অপর এক হাদীসে ১০০ বার) তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। বুখারী-৬৩০৭
📄 একনজরে উমরাহ ও হজ্জ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় দু‘আসমূহ
■ উমরাহ বা হজ্জ সফরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের জন্য দু'আ:
أَسْتَوْدِعُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ
"আসতাওদি'উ কুমুল্ল-হাল্লাযী লা তাদী'উ ওয়াদায়ী উহ”।
"আমি তোমাদেরকে আল্লাহর হেফাজতে রেখে যাচ্ছি যার হেফাজতে থাকা কেউই ক্ষতিগ্রস্থ হয় না"। ইবনে মাজাহ-২৮২৫
■ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পঠিত দু'আ:
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
"বিসমিল্লাহি তাওক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"।
"আল্লাহর নামে, সকল ভরসা তারই উপর এবং আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারোর ভালো কর্ম করার এবং খারাপ কর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই”। আবু দাউদ-৫০৯৫
■ রিকশা, ট্যাক্সি, কার, বাস, ট্রেন ও বিমানে আরোহন করে যাত্রা পথের দু'আ: তিরমিযী-৩৪৪৬
اللَّهُ أَكْبَر، اللَّهُ أَكْبَر، اللَّهُ أَكْبَر سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ
"আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর,"
"সুবহানাল্লাযি সাখারালানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকুরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবুন"।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান"। "পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি এ বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। একে বশীভূত করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাবো"। সুরা-আল যুখরুফ, ৪৩:১৩-১৪, আবু দাউদ-২৬০২
■ নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজে উঠে যাত্রা পথের দু'আ:
بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরছাহা ইন্না রাববিলা গাফুরুর রাহিম”।
"আল্লাহর নামেই এই বাহন চলাচল করে এবং থামে, নিশ্চয়ই আমার প্রভু ক্ষমাশীল ও দয়ালু"। সুরা-হুদ; ১১:৪১
■ যাত্রা পথে কোথাও পৌঁছে/বিরতি/সাময়িক অবতরণ করে পঠিত দু'আ:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আউযু বিকালিমা তিল্লা-হিত তাম্মাতি মিন শাররি মা-খলাকু"। মুসলিম-৬৭৭১
"আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় কামনা করছি"।
■ মীকাতের কাছাকাছি পৌঁছলে উমরাহ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি:
لَبَّيْكَ عُمْرَةً
"লাব্বাইকা উমরাহ"
"আমি উমরাহ করার জন্য হাজির"।
■ উমরাহ ও হজ্জ পালনকালে ইহরামকালীন তালবিয়াহ:
لَبَّيْكَ اللهم لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'য়মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা- শারিকা লাক"।
"আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই এবং রাজত্বও তোমারই, তোমার কোনো শরীক নেই"। বুখারী-১৫৪৯, মুসলিম-২৭০১, তিরমিযী-৮২৬
■ উমরাহ বা হজ্জ সম্পন্ন করতে না পারার ভয় থাকলে (যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অসুস্থতার কারণ দেখা দেয়) তবে পাঠ করার দু'আ: মুসলিম-২৭৯৩
فَإِنْ حَبَسَنِي حَابِسٌ فَمَحِلِّي حَيْثُ حَبَسْتَنِي
"ফা ইন হাবাসানী হা-বিসুন, ফা মাহিল্লী হায়ছু হাবাসতানি"।
"যদি কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই, তাহলে যেখানে তুমি আমাকে বাধা দিবে, সেখানেই আমার হালাল হওয়ার স্থান হবে"। আবু দাউদ-১৭৭৬
■ মসজিদে প্রবেশকালে দু'আ:
بِسْمِ اللَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ اللهم افْتَحُ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
"বিসমিল্লাহি ওয়াস্সলাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা"। নাসাঈ-৭২৯
"আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। স্বলাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর। হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দিন"।
■ তাওয়াফে প্রত্যেক চক্করে ইয়েমেনী কর্ণার থেকে হাজারে আসওয়াদ কর্ণার এর মাঝামাঝি স্থানে নিম্নের দু'আ পাঠ করা: আবু দাউদ-১৮৯২
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াক্বিনা আযাবান নার"।
"হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন"। সূরা-আল বাকারা, ২:২০১
■ তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে গিয়ে নিম্নের দু'আ পাঠ করা:
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلَّى
"ওয়াত্তাখিযূ মিম মাক্বামি ইবরাহীমা মুসল্লা"।
"ইবরাহীমের দন্ডায়মানস্থানকে ইবাদতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো"। সূরা-আল বাকারা, ২:১২৫, বুখারী-১৬২৭, ইবনে মাজাহ-২৯৬০
■ সাফা পাহাড়ে পৌঁছে এই দু'আটি একবার পাঠ করা: তিরমিযী-৮৬২
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
"ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা'আয়িরিল্লাহ।
"নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। সূরা-আল বাকারা, ২:১৫৮
■ সাঈর করার সময় সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে কাবা ঘরের দিকে মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে এই দু'আটি তিনবার পাঠ করা: নাসাঈ-২৯৭১
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - أَنْجَزَ وَعْدَهُ - وَنَصَرَ عَبْدَهُ - وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমিতু, ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন ক্বদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু”।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহান। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেছেন এবং দুষ্কর্মের সহযোগীদের পরাস্ত করেছেন"। নাসাঈ-২৯৭৪
■ সাফা মারওয়ার মাঝে সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে দৌড়ানোর সময় দু'আ:
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ
"রাব্বিগফির ওয়ারহাম ইন্নাকা আনতাল আ'আযযুল আকরাম"
"হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।" ইবনে আবী শায়বাহ-৩/৪২০
■ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দু'আ:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক"।
“হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি”। নাসাঈ-৭২৯
■ ৮-যিলহজ্জ হজ্জ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি:
لَبَّيْكَ حَجًا
“লাব্বাইকা হাজ্জাহ”
"আমি হজ্জ করার জন্য হাজির"।
■ আরাফার দিনে পঠিত দু'আ:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَأْسٍ قَدِيرِ
"লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু, লা শারীকালাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন কুদীর।"
"আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। সকল সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান"। তিরমিযী-৩৫৮৫
■ ৯ যিলহজ্জ ফজরের পর থেকে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা:
اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ"।
"আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য"।
■ হজ্জ সফর শেষে নিজ এলাকায়/শহরে প্রবেশের সময় পঠিত দু'আ: মুসলিম-৩১৭১
آئِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
"আ-ইবুনা তাইবুনা 'আবিদুনা লিরব্বিনা হামিদুন"।
"আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী ও আমাদের রবের প্রশংসাকারী"।