📄 কুরআনে বর্ণিত দু‘আসমূহ (৪২টি দু‘আ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ - مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ - إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ - اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمُ - غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ - آمين
১] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে। ১. যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। ২. যিনি করুণাময় ও অতীব দয়ালু। ৩. যিনি প্রতিফল দিবসের মালিক। ৪. আমরা কেবল তোমরাই ইবাদাত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। ৫. আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন কর। ৬. তাদের পথ, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথ নয় যারা গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট। সুরা (১): ফাতিহা।
আদম(আঃ) এর দু'আ
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرُ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
২] হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের উপর যুলম করেছি। তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না কর, আমাদের প্রতি রহম না কর তাহলে নিশ্চিতই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। সূরা (৭) আল- আরাফ: ২৩।
নূহ(আঃ) এর দু'আ
رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرُ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنُ مِّنَ الْخَاسِرِينَ
৩] হে আমার রব! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে ব্যাপারে কিছু চাওয়া থেকে আমি তোমার কাছে পানাহ চাই। তুমি যদি আমাকে মাফ না কর এবং আমার প্রতি দয়া না কর তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাব। সূরা (১১) হুদ: ৪৭
رَبِّ اغْفِرُ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ
৪] হে আমার রব! আমাকে, আমার মাতা-পিতাকে, যারা মুমিন অবস্থায় আমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাদেরকে এবং সকল মুমিন পুরুষ-নারীকে তুমি ক্ষমা করে দাও। সূরা (৭১) নূহ: ২৮।
ইবরাহীম(আঃ) এর দু'আ
رَبَّنَا تَقَبَّلُ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
৫] হে আমাদের রব! আমাদের নেক আমলগুলো তুমি কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমিতো সবকিছু শোন ও সবকিছুই জান। সূরা (২) আল বাকারাহ: ১২৭
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبُ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
৬] হে আমাদের রব! 'আমাদেরকে তোমার আনুগত্যশীর বান্দা বানিয়ে দাও, আমাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্য থেকেও এমন একদল লোক সৃষ্টি করে দাও, যারা তোমার নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণকারী হবে আর আমাদেরকে ইবাদাতের নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দাও এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা কর, তুমিতো বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু'। সুরা (২) আল বাকারাহ: ১২৮
رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِناً وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ
৭] হে আমার রব! এ দেশকে তুমি নিরাপত্তার দেশে পরিণত কর এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততিদেরকে মূর্তিপূজা করা থেকে দূরে রেখ। সূরা (১৪) ইবরাহীম: ৩৫
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلُ دُعَاءِ
৮] হে আমার মালিক! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানাও এবং আমার ছেলে-মেয়েদেরকেও নামাযী বানিয়ে দাও। হে আমার মালিক! আমার দু'আ তুমি কবুল কর। সূরা (১৪) ইবরাহীম: ৪০
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
৯] হে আমাদের পরওয়ারদেগার! যেদিন চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ হবে সেদিন তুমি আমাকে, আমার মাতা-পিতাকে এবং সকল ঈমানদারদেরকে তুমি ক্ষমা করে দিও। সুরা (১৪) ইবরাহীম: ৪১
رَبِّ هَبْ لِي حُكْماً وَالْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ - وَاجْعَلْ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الآخِرِينَ - وَاجْعَلْنِي مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ - وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ
১০] (৮৩) হে রব! আমাকে জ্ঞান-বুদ্ধি দান কর এবং (দুনিয়া ও আখিরাতে) আমাকে নেককার লোকদের সান্নিধ্যে রেখো। (৮৪) এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমার সুখ্যাতি চলমান রেখো। (৮৫) আমাকে তুমি নিয়ামতে ভরা জান্নাতের বাসিন্দা বানিয়ে দিও। (৮৬) আর আমার পিতাকে তুমি ক্ষমা করে দাও, সে তো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। (৮৭) আর যেদিন সব মানুষ আবার জীবিত হয়ে উঠবে সেদিন আমাকে তুমি অপমানিত করো না। সুরা (২৬) আশ-শু'আরা: ৮৩-৮৭।
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
১১] হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে নেককার সন্তান দান কর। সুরা (৩৭) সফফাত : ১০০
رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ - رَبَّنَا لَا تَجْعَلُنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرُ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
১২] হে আমাদের রব! আমরা তো কেবল তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমার দ্বীনের উপর রুজু হয়েছি এবং পরপারে তোমারই কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। অতএব হে রব, আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র করো না। হে আমাদের প্রভু, তুমি আমাদের ক্ষমা কর। তুমিতো মহা পরাক্রমশালী, মহা জ্ঞানী। সূরা (৬০) মুমতাহিনা: ৪-৫
লূত(আঃ) এর দু'আ
رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ
১৩] হে রব! ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তুমি আমাকে সাহায্য কর। সুরা (২৯) আনকাবুত: ৩০।
ইউসুফ(আঃ) এর দু'আ
اللَّهُمَّ يَا فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ - تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَالْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
১৪] হে আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা! দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানেই তুমি আমার অভিভাবক। আমাকে ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করাও এবং আমাকে নেককার লোকদের সাথী করে রাখিও। সূরা (১২) ইউসুফ: ১০১।
মূসা(আঃ) এর দু'আ
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي - يَفْقَهُوا قَوْلِي.
১৫] হে রব! আমার বক্ষকে তুমি প্রশস্ত করে দাও, আমার কাজ সহজ করে দাও, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও - যাতে তারা আমার কথা সহজেই বুঝতে পারে। সূরা (২০) তা-হা: ২৫-২৮
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي
১৬] হে আমার রব! আমি নিজেই আমার নিজের প্রতি যুলুম করে ফেলেছি, দয়া করে আমাকে তুমি মাফ করে দাও। সুরা (২৮) আল কাসাস: ১৬
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
১৭] হে রব! যালিম সম্প্রদায়ের লোকদের থেকে আমাকে রক্ষা কর। সূরা (২৮) আল-কাসাস: ২১
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
১৮] হে রব! তুমি আমার প্রতি যত নিয়ামাত অবতীর্ণ করেছ এ সবগুলোর প্রতি আমি মুখাপেক্ষী। সূরা (২৮) আল-কাসাস: ২৪
সুলাইমান (আঃ) এর দু'আ
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحاً تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ
১৯] হে প্রতিপালক! তুমি আমার ও আমার মাতা-পিতার প্রতি যে নিয়ামত দিয়েছো এর শোকরগোজারী করার তাওফীক দাও এবং আমাকে এমন সব নেক আমল করার তাওফীক দাও যা তুমি পছন্দ কর। আর তোমার দয়ায় আমাকে তোমার নেক বান্দাদের মধ্যে শামিল করে দাও। সুরা (২৭) আন-নামূল: ১৯
ইউনুস (আঃ) এর দু'আ
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
২০] (হে আল্লাহ) তুমি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি মহান। অবশ্য আমিই সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছিলাম। সূরা (২১) আম্বিয়া: ৮৭
যাকারিয়্যা(আঃ) এর দু'আ
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
২১] হে আমার পরওয়ারদেগার! তোমার কাছ থেকে আমাকে তুমি উত্তম সন্তান-সন্ততি দান কর। নিশ্চয়ই তুমিতো মানুষের ডাক শোনো। সূরা (৩) আলে ইমরান: ৩৮
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْداً وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
২২] হে রব! আমাকে তুমি (নিঃসন্তান অবস্থায়) একাকী করে রেখো না। তুমিতো সর্বোত্তম মালিকানার অধিকারী। সূরা (২১) আম্বিয়া: ৮৯
মুহাম্মাদ(সাঃ) এর দু'আ
رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَاناً نَصِيراً
২৩] হে রব! আমাকে যেখানেই প্রবেশ করাও তা করিও উত্তমভাবে সম্মানের সাথে এবং যেখান থেকে বের কর (সেটা কর) উত্তম ভাবে সম্মানের সাথে। আর তোমার নিকট থেকে আমাকে একটি সাহায্যকারী রাষ্ট্রশক্তি প্রদান কর। সূরা (১৭) বানী ইসরাঈল: ৮০
رَبِّ زِدْنِي عِلْماً
২৪] হে আমার রব! তুমি আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও। সূরা (২০) তা-হা: ১১৪
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ - وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ
২৫] হে রব! শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি এ থেকেও তোমার নিকট পানাহ চাই যে, শয়তান যেন আমার ধারে কাছেও ঘেঁষতে না পারে। সূরা (২৩) মু'মিনুন: ৯৭-৯৮
কুরআন কারীমে বর্ণিত অন্যান্য দু'আ
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
২৬] হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা কর। সুরা (২) আল বাকারাহ: ২০১
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلُ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا - رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلُنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا - أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
২৭] হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের রব! পূর্ববর্তীদের উপর যে গুরুদায়িত্ব তুমি অর্পণ করেছিলে সে রকম কোন কঠিন কাজ আমাদেরকে দিও না। হে আমাদের রব! যে কাজ বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই এমন কাজের ভারও তুমি আমাদের দিও না। তুমি আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি আমাদের মাওলা। অতএব কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদেরকে সাহায্য কর। সূরা (২) আল বাকারাহ: ২৮৬
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
২৮] হে আমাদের রব! যেহেতু তুমি আমাদেরকে হেদায়াত করেছ, কাজেই এরপর থেকে তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করিও না। তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দাও। তুমিতো মহাদাতা। সুরা (৩) আল ইমরান: ৮
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
২৯] হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা কর। সূরা (৩) আলে ইমরান: ১৬
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
৩০] হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যা অবতীর্ণ করেছ আমরা তার উপর ঈমান এনেছি, রসূলের আনুগত্য স্বীকার করেছি, সুতরাং আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ কর। সূরা (৩) আলে ইমরান: ৫৩
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
৩১] হে আমাদের রব! আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দাও। যেসব কাজে আমাদের সীমালঙ্ঘন হয়ে গেছে সেগুলোও তুমি ক্ষমা কর। আর তুমি আমাদের কদমকে অটল রেখো এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদেরকে সাহায্য কর। সূরা (৩) আলে-ইমরান: ১৪৭
رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِياً يُنَادِي لِلْإِيْمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا - رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
৩২] হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা এক আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনেছিলাম যে, তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তাতেই আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা কর ও আমাদের পাপরাশি মোচন কর এবং পুণ্যবানদের সাথে আমাদেরকে মৃত্যু দান কর। সূরা (৩) আলে ইমরান: ১৯৩
رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
৩৩] হে রব! নবী-রাসূলদের মাধ্যমে তুমি যে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছো তা তুমি আমাদেরকে দিয়ে দিও। আর কিয়ামতের দিন আমাদেরকে তুমি অপমানিত করিও না। তুমিতো ওয়াদার বরখেলাফ কর না। সূরা (৩) আলে-ইমরান: ১৯৪
رَبَّنَا لا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
৩৪] হে রব! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের সাথী করিও না। সূরা (৭) আল-আ'রাফ: ৪৭
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
৩৫] হে আমাদের রব! তুমি আমাদের যালিম সম্প্রদায়ের অত্যাচারের পাত্র করো না। তোমার রহমত দ্বারা তুমি আমাদেরকে কাফের সম্প্রদায়ের হাত থেকে মুক্তি দাও। সূরা (১০) ইউনুস: ৮৫-৮৬
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِير
৩৬] হে রব! আমার মাতাপিতাকে এমনভাবে রহম কর যেমন ভাবে তারা আমার শিশুকালে আমাকে আদর দিয়েছিল। সূরা (১৭) বানী ইসরাঈল: ২৪
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَاماً - إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرّاً وَمُقَاماً
৩৭] হে আমাদের রব! জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিও। এর আযাব তো বড়ই সর্বনাশা। আশ্রয় ও বাসস্থান হিসেবে এটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান। সুরা (২৫) আল-ফুরকান: ৬৫-৬৬
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً
৩৮] হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান কর যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দাও। সূরা (২৫) আল-ফুরকান: ৭৪
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحاً تَرْضَاهُ وَأَصْلِحُ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
৩৯] হে রব! তুমি আমার ও আমার মাতা-পিতার প্রতি যে নিয়ামত দিয়েছ আমাকে এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তাওফীক দাও এবং আমাকে এমন সব নেক আমল করার তাওফীক দাও যা তুমি পছন্দ কর। আর আমার ছেলে-মেয়ে ও পরবর্তী বংশধরকেও নেককার বানিয়ে দাও। আমিতো তাওবা করলাম, আর আমিতো মুসলমান। সূরা (৪৬) আহকাফ: ১৫
رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْماً فَاغْفِرُ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ - رَبَّنَا وَأَدْخِلُهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمُ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمُ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
৪০] হে আমাদের রব! তোমার রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে তুমি বেষ্টন করে রেখেছ। অতএব যারা তাওবা করে এবং তোমার পথ অনুসরণ করে তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও। আর জাহান্নামের আযাব থেকে তুমি তাদেরকে রক্ষা কর। হে রব! আর তুমি তাদেরকে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও, যার ওয়াদা তুমি তাদেরকে দিয়েছ। আর তাদের মাতা-পিতা, পতি-পত্নী, সন্তান-সন্তুতির মধ্যে যারা নেক আমল করেছে তাদেরকেও ওদের সাথী করে দিও, নিশ্চয় তুমি মহা পরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়। সূরা (৪০) মুমিন/গাফের: ৭-৮
رَبَّنَا اغْفِرُ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيْمَانِ وَلا تَجْعَلُ فِي قُلُوبِنَا غِلا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
৪১] হে আমাদের মালিক! তুমি আমাদের মাফ করে দাও। আমাদের আগে যেসব ভাইয়েরা ঈমান এনেছে, তুমি তাদেরও মাফ করে দাও। আর ঈমানদার লোকদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে রব! তুমিতো বড়ই দয়ালু ও মমতাময়ী। সুরা (৫৯) হাশর: ১০
رَبَّنَا أَتْمِمُ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
৪২] হে আমাদের বর, আমাদের জন্য আমাদের নূরের বাতিকে পূর্ণতা দান কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর। তুমিতো সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। সুরা (৬৬) তাহরীম: ৮
📄 হাদীসে বর্ণিত দু‘আসমূহ (৫১টি দু‘আ)
اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ خَاصَمْتُ
৪৩] হে আল্লাহ! তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি এবং তোমার উপরই ভরসা করেছি। আর তোমার নিকটই ফায়সালা চেয়েছি। বুখারী ৭৪৪২
اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدُنِي - اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ
৪৪] হে আল্লাহ! আমাকে হেদায়াত দান কর, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর। হে আল্লাহ! তোমার নিকট হেদায়াত ও সঠিক পথ কামনা করছি। মুসলিম
اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّفُ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ
৪৫] হে অন্তর পরিবর্তন সাধনকারী রব! আমাদের অন্তরকে তোমার অনুগত্যের দিকে ধাবিত করে দাও। মুসলিম ২৬৫৪
اللَّهُمَّ تَبْتُنِي وَاجْعَلْنِي هَادِيًا مَهْدِيًّا.
৪৬] হে আল্লাহ! (ঈমানের উপর) তুমি আমাকে অটল-অবিচল রাখ এবং আমাকে পথপ্রদর্শক ও হিদায়াতপ্রাপ্ত হিসেবে গ্রহণ করে নাও। বুখারী- ফাতহুল বারী
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتُ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
৪৭] হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। মুসনাদে আহমাদ ২১৪০
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا لَا يَرْتَدُّ وَنَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّ فِي أَعْلَى جَنَّةِ الْخُلُدِ
৪৮] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন ঈমানের প্রার্থনা করছি, যে ঈমান হবে দৃঢ় ও মজবুত, যা নড়বড়ে হবে না, চাই এমন নেয়ামত যা ফুরিয়ে যাবে না এবং চিরস্থায়ী সুউচ্চ জান্নাতে নবী মুহম্মাদ)-এর সাথে থাকার তাওফীক আমাকে দিও। ইবনে হিব্বান
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الَّذِي لاَ يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالْإِنسُ يَمُوتُونَ
৪৯] হে আল্লাহ! তোমার ইজ্জতের আশ্রয় চাচ্ছি, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি চিরস্থায়ী, যাঁর কোন মৃত্যু নেই। আর জ্বিন ও মানব সবাইতো মরে যাবে। বুখারী ৭৩৮৩
رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
৫০] হে রব! তুমি যেদিন তোমার বান্দাদেরকে হাশরের মাঠে উঠাবে সেদিনকার আযাব হতে আমাকে বাঁচিয়ে দিও। মুসলিম ৭০৯
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتَّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
৫১] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়াত, তাকওয়া ও পবিত্র জীবন চাই। আরো চাই যেন কারো কাছে দ্বারস্থ না হই। মুসলিম ২৭২১
اللَّهُمَّ فَقُهْنِي فِي الدِّينِ
৫২] হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীনের পান্ডিত্য দান কর। বুখারী- ফাতহুলবারী, মুসলিম
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
৫৩] হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি। তিরমিযী ৩৫১৪
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوءِ الْقَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
৫৪] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই, কঠিন বালা-মুসিবত, দুর্ভাগ্য ও শত্রুদের বিদ্বেষ থেকে। বুখারী
اللَّهُمَّ اجْعَلِ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِي وَجِلَاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي
৫৫] হে আল্লাহ! কুরআনকে তুমি আমার হৃদয়ের বসন্তকাল বানিয়ে দাও, বানিয়ে দাও আমার অন্তরের নূর এবং কুরআনকে আমার দুঃখ ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার মাধ্যম বানিয়ে দাও। মুসনাদ আহমাদ ৩৭০৪
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئُ الْأَسْقَامِ
৫৬] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট শ্বেতরোগ, পাগলামি ও কুষ্ঠ রোগসহ সকল জটিল রোগ থেকে আশ্রয় চাই। আবু দাউদ ১৫৫৪
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ وَالْأَهْوَاءِ وَالْأَدْوَاءِ
৫৭] হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি অসৎ চরিত্র, অপকর্ম, কুপ্রবৃত্তি ও রোগব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই। জামেউস সগীর ১২৯৮. তিরমিযী ৩৫৯১
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
৫৮] হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার তাওবা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি তাওবা কবুলকারী ও অতিশয় ক্ষমাশীল। আবু দাউদ, তিরমিযী ৩৪৩৪
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ - وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُنِي إِلَى حُبِّكَ
৫৯] হে আল্লাহ! তোমার ভালবাসা আমি চাই, যারা তোমাকে ভালবাসে তাদের ভালবাসাও চাই এবং এমন আমলের ভালবাসা আমি চাই, যে আমল আমাকে তোমার ভালবাসার নিকট পৌঁছে দেবে। আহমাদ ২১৬০৪
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسِعُ لِي فِي دَارِي وَبَارِكْ لِي فِيمَا رَزَقْتَنِي
৬০] হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহকে ক্ষমা করে দাও, আমার ঘরে প্রশস্ততা দান কর এবং আমার রিযিকে বরকত দাও। তিরমিযী ৩৫০০
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْجُوعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ
৬১] হে আল্লাহ! তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে আশ্রয় চাই। কারণ এটা নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী। খেয়ানত থেকেও তোমার কাছে আশ্রয় চাই। কারণ এটা নিকৃষ্ট বন্ধু। আবু দাউদ ৫৪৬
اللَّهُمَّ حَاسِبْنِي حِسَابًا يَسِيرًا
৬২] হে আল্লাহ! আমার হিসাবকে তুমি সহজ করে দাও। ইবনে মাজাহ ৩৪৮৩
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أَظْلَمَ
৬৩] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দারিদ্র্য, স্বল্পতা, হীনতা থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই যালিম ও মাযলুম হওয়া থেকে। ইবনু মাজাহ ৩৩৪৫, আবু দাউদ ১৩২৩
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ
৬৪] হে আল্লাহ! জেনে বুঝে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আর যদি অজান্তে শিরক করে থাকি, তাহলে তোমার নিকট ক্ষমা চাই। মুসনাদে আহমদ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَّا يَنْفَعُ.
৬৫] হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি উপকারী ইলম চাই এবং এমন ইলম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই যা কোন উপকারে আসে না। ইবনে মাজাহ ৩৮৪৩
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
৬৬] হে আল্লাহ! তোমার দেয়া নেয়ামাত চলে যাওয়া ও সুস্থতার পরিবর্তন হওয়া থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই তোমার পক্ষ থেকে আকষ্মিক গজব আসা ও তোমার সকল অসন্তোষ থেকে। মুসলিম
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدِّيْنِ وَغَلَبَةِ الْعَدُوِّ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
৬৭] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঋণের বোঝা, শত্রুর বিজয় এবং দুশমনদের আনন্দ উল্লাস থেকে পানাহ চাই। নাসায়ী ৫৪৭৫
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ ضِيقِ الْمَقَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
৬৮] হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে নিরাপদে রাখ, কিয়ামাতের দিনের সংকীর্ণ অবস্থান থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। নাসায়ী ১৬১৭
اللَّهُمَّ ابْسُطُ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ
৬৯] হে আমার মহান আল্লাহ! তোমার সীমাহীন বরকত, রহমত, করুণা ও রিযিকের ভান্ডার আমাদের জন্য খুলে দাও।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ الْمُقِيمَ الَّذِي لَا يَحُولُ وَلَا يَزُولُ
৭০] হে আল্লাহ! আমি চাই আমার প্রতি তোমার নিয়ামতগুলো চিরস্থায়ী করে দাও, যা কোন দিন পরিবর্তন হবে না, বিলিন হয়ে যাবে না।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ يَوْمَ الْعَيْلَةِ وَالْأَمْنَ يَوْمَ الْخَوْفِ
৭১] হে আল্লাহ! অভাবের দিনে তুমি আমাকে স্বাচ্ছন্দে রেখ, এবং বিপদমুহূতে আমাকে তুমি নিরাপদের রেখ।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِيشَةً نَقِيَّةً، وَمِيتَةً سَوِيَّةً، وَمَرَدَّ غَيْرَ مُخْزِي وَلَا فَاضِحٍ
৭২] হে আল্লাহ! তোমার কাছে চাই পুত-পবিত্র জীবন-যাপন, সহীহ-সালামতে মৃত্যুবরণ এবং হাশরের মাঠে বেইজ্জতী ও লাঞ্ছনাবিহীন উপস্থিতি। মুসতাদরাক হাকেম ১৯৮৬
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْيَوْمِ، وَخَيْرَ مَا بَعْدَهُ
৭৩] হে আল্লাহ! আজকের দিনের কল্যাণ আমাকে দান কর এবং পরবর্তীতে যতদিন আসতে থাকবে সে দিনগুলোর কল্যাণও আমাকে দিও। তাবারানী ১১৫৫
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبِ لا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةِ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا
৭৪] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই এমন 'ইল্ম থেকে যে 'ইল্ম কোন উপকার দেয় না, এমন হৃদয় থেকে যে হৃদয় বিনম্র হয় না, এমন আত্মা থেকে যে আত্মা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন দু'আ থেকে যে দু'আ কবুল হয় না। মুসলিম ২৭২২
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلُ - اللَّهُمَّ اجْعَلُ أَوْسَعَ رِزْقِكَ عَلَيَّ عِنْدَ كِبَرِ سِنِي، وَانْقِطَاعِ عُمْرِي
৭৫] হে আল্লাহ! আমি আমার অতীতের কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যে কাজ আমি করিনি তার অনিষ্টতা থেকেও আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি যখন বার্ধ্যকে উপনীত হবো তখন এবং আমার জীবনাবশানের সময় আমার রিস্ক বাড়িয়ে দিও। মুসলিম ২৭১৬
اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا اللَّهُمَّ نَقْنِي مِنْهَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ
৭৬] হে আল্লাহ! আমাকে যাবতীয় গোনাহ ও ভুলভ্রান্তি থেকে পবিত্র কর। হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন কর যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, শীতল ও ঠান্ডা পানি দ্বারা পবিত্র কর। নাসাঈ ৪০২
رَبِّ تَقَبَّلُ تَوْبَتِي - وَاغْسِلُ حَوْبَتِي - وَأَجِبْ دَعْوَتِي - وَثَبِّتُ حُجَّتِي - وَاهْدِ قَلْبِي - وَسَدِّدُ لِسَانِي - وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي
৭৭] হে আমার রব! তুমি আমার তাওবা কবুল কর। আমার অপরাধটুকু ধুয়ে ফেল। আমার দু'আ কবুল কর। আমার যুক্তিগুলো অকাট্য করে দাও। আর অন্তরকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত কর, আমার ভাষাকে সঠিক করে দাও এবং আমার কলব থেকে হিংসা- বিদ্বেষ দূর করে দাও। আবু দাউদ ১৫১০
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمُ -
৭৮] হে আল্লাহ! দুনিয়া ও আখিরাতের আমার জানা অজানা যত কল্যাণ ও নেয়ামাত তোমার কাছে আছে তা সবই আমি চাই। দুনিয়া ও আখিরাতে আমার জানা-অজানা সকল অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। ইবনু মাজাহ ৩৮৪৬
اللَّهُمَّ حَبِبْ إِلَيْنَا الْإِيمَانَ وَزَيِّنُهُ فِي قُلُوبِنَا وَكَرَّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنْ الرَّاشِدِينَ
৭৯] হে আল্লাহ! ঈমানের প্রতি আমাদের মহব্বত সৃষ্টি করে দাও এবং ঈমান দ্বারা কলবগুলোকে সজ্জিত করে দাও। কুফরী, ফাসেকী ও পাপাচারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দাও এবং হেদায়াত প্রাপ্ত লোকদের সাথে আমাদের শামিল করে দাও।
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي - اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي - اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
৮০] হে আল্লাহ! আমার স্বাস্থ্যকে তুমি সুস্থ রাখ, আমার শ্রবণ শক্তি সুস্থ রেখো, আমার দৃষ্টি শক্তিও সুস্থ রেখো, তুমি ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। আবু দাউদ ৫০৯০ (৩ বার)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدِّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
৮১] হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে। আশ্রয় চাই কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে। তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই ঋণের অভিশাপ ও দুষ্ট লোকদের অনিষ্ট থেকে। বুখারী ৬৩৬৩
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرَكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةَ قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ
৮২] হে আল্লাহ! সকল প্রকার ভাল কাজ করার তাওফীক আমাকে দাও, যাবতীয় মন্দকাজ থেকে আমাকে বিরত রাখ এবং গরীব মিসকিনদের প্রতি আমার অন্তরে ভালবাসা সৃষ্টি করে দাও। আমাকে তুমি মাফ করে দাও আমার প্রতি রহম কর। কখনো যদি তুমি তোমার বান্দাদেরকে ফিতনায় ফেলতে চাও তাহলে আমাকে ফিতনায় না ফেলে সহীহ সালামতে মৃত্যু দান করে তোমার সান্নিধ্যে নিয়ে যেও। তিরমিযী ৩১৫৯
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ - وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ قَضَيْتَهُ لِي خَيْرًا
৮৩] হে আল্লাহ! আমি তো বেহেশতে যেতে চাই। আর এমন কথা বলতে ও কাজ করতে চাই যা সহজেই আমাকে বেহেশতে পৌঁছে দেবে। হে আল্লাহ! জাহান্নামের আগুন থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই এবং যে কথা ও কাজ মানুষকে জাহান্নামবাসী করে সেগুলো থেকেও তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আর প্রতিটি কাজের বিচারে আমার জন্য কল্যাণকর ফায়সালা করে দিও। ইবনে মাজাহ ৩৮৪৬
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
৮৪] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে। আশ্রয় চাই তোমার নিকট কবরের আযাব ও জীবন মরণের ফিতনা থেকে। বুখারী ৬৩৬৭ ও মুসলিম ২৭০৬
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ يَوْمِ السُّوء وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوءِ وَمِنْ سَاعَةِ السُّوءِ وَمِنْ صَاحِبِ السُّوءِ وَمِنْ جَارِ السُّوْءِ فِي دَارِ الْمَقَامَةِ
৮৫] হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই খারাপ দিন, খারাপ রাত, বিপদ মুহূর্ত, অসৎসঙ্গী এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী খারাপ প্রতিবেশী থেকে। সহীহ জামেউস সগীর ১২৯৯
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةٌ أَمْرِي - وَأَصْلِحُ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي - وَأَصْلِحُ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي - وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ - وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍ
৮৬] হে আল্লাহ! আমার দ্বীনকে আমার জন্য সঠিক করে দিও যা কর্মের বন্ধন। দুনিয়াকেও আমার জন্য সঠিক করে দাও যেখানে রয়েছে আমার জীবন যাপন। আমার জন্য আমার পরকালকে পরিশুদ্ধ করে দাও, যা হচ্ছে আমার অনন্তকালের গন্তব্যস্থল। প্রতিটি ভাল কাজে আমার জীবনকে বেশী বেশী কাজে লাগাও এবং সকল অমঙ্গল ও কষ্ট থেকে আমার মৃত্যুকে আরামদায়ক করে দেও। মুসলিম ২৭২০
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَسْأَلَةِ وَخَيْرَ الدُّعَاءِ وَخَيْرَ النَّجَاحِ وَخَيْرَ الْعَمَلِ وَخَيْرَ الثَّوَابِ وَخَيْرَ الْحَيَاةِ وَخَيْرَ الْمَمَاتِ - وَثَبْتُنِي وَثَقِلُ مَوَازِينِي وَحَقِّقُ إِيْمَانِي وَارْفَعُ دَرَجَاتِي وَتَقَبَّلُ صَلَاتِي وَاغْفِرُ خَطِيئَتِي وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتُ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ
৮৭] হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি উত্তম প্রার্থনা, উত্তম দু'আ, উত্তম সফলতা, উত্তম আমল, উত্তম সাওয়াব, উত্তম জীবন ও উত্তম মৃত্যু কামনা করছি। আমাকে তুমি অটল অবিচল রাখ। আমার আমলনামা ভারী করে দাও, আমার ঈমানকে সুদৃঢ় কর, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। আমার স্বলাত ককূল কর এবং আমার গুনাহ ক্ষমা কর। জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে আমাকে অধিষ্ঠিত কর।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرُ لِي هَزْلِي وَجِدِّي وَخَطَايَايَ وَعَمْدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي
৮৮] হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহগুলো মাফ করে দাও। অজ্ঞতাবশতঃ ভুল ও কোন কাজে বাড়াবাড়ি হয়ে থাকলে তাও ক্ষমা করে দাও, আমার ঐ ভুলগুলিও ক্ষমা করে দাও, যেগুলি সম্পর্কে তুমি আমার চেয়ে সর্বাধিক অবগত। হে আল্লাহ! যে পাপগুলি আমি অবহেলায় ও নিজের ইচ্ছায় করে ফেলেছি তার সবই তুমি মাফ করে দাও। আমার ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় ও ভুলে হয়ে যাওয়া সব গুনাহ তুমি ক্ষমা করে দাও। বুখারী ৫৯২০
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
৮৯] হে আল্লাহ! তুমি তো আমার রব, তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা, তোমার সাথে কৃত ওয়াদা ও অঙ্গীকার অনুযায়ী তোমার পথে সাধ্যমত আছি। যা কিছু করেছি এগুলোর অকল্যাণ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে দেয়া তোমার নিয়ামাতের কথা আমি স্বীকার করছি। আমার অনেক গুনাহ আছে সে স্বীকারোক্তিও দিচ্ছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। বুখারী ৫৮৩১
اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَأَمِنْ رَوْعَاتِي وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي - وَأَعُوذُ بِكَ بِعَظْمَتِكَ أَنْ أَغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
৯০] হে আল্লাহ! আমার সকল দোষ-ত্রুটি তুমি গোপন করে রাখ এবং সকল প্রকার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে আমাকে নিরাপদে রাখ। হে আল্লাহ! আমার সামনে, পিছনে, ডানে, বামে ও উপর থেকে আগত সকল বিপদ থেকে আমাকে হেফাযতে রেখো। তোমার মহত্বের দোহাই দিয়ে আশ্রয় চাই- তলদেশ থেকে আগত মাটি ধ্বসে আকস্মিক মৃত্যু থেকে আমাকে তুমি হেফাযতে রেখো। আবু দাউদ ৫০৭৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৭১
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسْلِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَالْقَسْوَةِ وَالْغَفْلَةِ وَالذِّلَّةِ وَالْمَسْكَنَةِ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْكُفْرِ وَالشِّرْكِ وَالنِّفَاقِ وَالسُّمْعَةِ وَالرِّيَاءِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الصَّمَمِ وَالْبَكَمِ وَالْجُنُونِ وَالْبَرَصِ وَالْجُذَامِ وَسَيْءِ الْأَسْقَامِ
৯১] হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, অতি বার্ধ্যক্য, কঠিন হৃদয়, উদাসীনতা, বেইজ্জতী হওয়া ও অভাব অনটন থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই এবং আরো আশ্রয় চাই চরম দরিদ্রতা, কুফরী, শিরকী, মুনাফেকী, নিজের জাহেরীভাব প্রকাশ ও লোক দেখানো আমল থেকে। মাবুদ! তোমার কাছে আশ্রয় চাই বোবা হওয়া, কানে না শুনা ও পাগলামী, শ্বেত রোগ, কুষ্ঠ রোগ ও অন্যান্য যাবতীয় খারাপ রোগ থেকে। ইবনে হিব্বান ১০২৩
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْهَدْمِ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ التَّرَدِّي وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالْهَرَمِ - وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ - وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ لَدِيعًا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ طَمْعِ يَهْدِي إِلَى طَبْعِ
৯২] হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে উপর থেকে গড়িয়ে পড়া থেকে, আশ্রয় চাই মাটি ধ্বসে পড়া থেকে, পানিতে ডুবে যাওয়া, আগুনে পুড়া ও অতি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে। মৃত্যুর সময় শয়তানের আক্রমন থেকে বেঁচে থাকার জন্য তোমার নিকট আশ্রয় চাই। সাপ বিচ্ছুর মত হিংস্র প্রাণীর কামড়ে মৃত্যুবরণ করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই আমার এমন কামনা বাসনা থেকে যার পরিণতিতে হেদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাই।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ - وَأَسْأَلُكَ شُكُرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا وَلِسَانًا صَادِقًا - وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ
৯৩] হে আল্লাহ! দ্বীনের উপর অটল থাকার শক্তি ভিক্ষা চাই। তোমার কাছে চাই হেদায়াতের উপর দৃঢ় থাকার শক্ত মানসিকতা চাই তোমার নেয়ামাতের সার্বক্ষণিক শোকর গোজারী করতে, চাই তোমার উত্তম ইবাদাত। হে আল্লাহ, আমি চাই বিশুদ্ধ কলব, সত্য কথার জিহ্বা। তোমার অবগতির ভান্ডারে যত কল্যাণ আছে আমি তা তোমার কাছে চাই। যত অকল্যাণ আছে তোমার ইলমের দরীয়ায় তা থেকে আশ্রয় চাই। সকল অমঙ্গল থেকে তোমার নিকট তাওবা করছি, কেননা গায়েবের বিষয়ে তুমি তো মহাজ্ঞানী। নাসাঈ ১২৮৭, আহমাদ ১৬৪৯১
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِكَ تَهْدِي بِهَا قَلْبِي وَتَجْمَعُ بِهَا أَمْرِي وَتَلْتُ بِهَا شَعَثِيْ وَتُصْلِحُ بِهَا غَائِبِي وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي وَتُزَكِّي بِهَا عَمَلِي وَتُلْهِمُنِي بِهَا رُشْدِي وَتَرُدُّ بِهَا أُلْفَتِي وَتَعْصِمُنِي بِهَا مِنْ كُلِّ سُوءٍ
৯৪] হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এমন রহমত কামনা করি যা আমার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করবে, আমার কর্মকান্ডকে সুশৃঙ্খলিত করবে, আমার বিক্ষিপ্ত জীবনকে সুবিন্যস্ত করবে, আমার গোপন কাজকর্মকে সংশোধন করবে, আমার দৃশ্যমান কর্মকে সমুন্নত করবে, আমার চেহারাকে উজ্জল করবে, আমার আমলকে পরিশুদ্ধ করবে, আমাকে সঠিক পথে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করবে, আমার হারানো মহব্বত ফিরিয়ে দেবে এবং আমাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে। তিরমিযী ৩৩৪১
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ
হে আল্লাহ! প্রিয় নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) ও তাঁর পরিবার পরিজন ও সকল সাহাবায়ে কেরাম(রাঃ) এর প্রতি দুরূদ ও সালাম বর্ষিত কর।
📄 ফরজ ত্বলাতের সালাম ফিরানোর পর পঠিতব্য দু‘আ ও যিকিরসমূহ
১
اللهُ أكبر
আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহ সর্বমহান। (১ বার) বুখারী-৮৪২, মুসলিম-১২০৩
২
اسْتَغْفِرُ الله
আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (৩ বার) নাসাঈ-১৩৩৭
৩
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু অমিন্কাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যালজালালি অল ইকরাম।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি শান্তি এবং তোমার নিকট থেকেই শান্তি আসে। তুমি বরকতময় হে মহিমময়, মহানুভব। মুসলিম-১২২২, আবু দাউদ-১৫১২
৪
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি'য়া লিমা আ'তাইতা, অলা মুতিয়া লিমা মানা'তা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সর্বোপরি শক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না। বুখারী-৪৪, মুসলিম-১২২৫
৫
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِالله لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অলা না'বুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন নি'মাতু অলাহুল ফাদলু অলাহুস সানাউল হাসান, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা অলাউ কারিহাল কাফিরূন।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন ক্ষমতা ও কোন শক্তি নাই। আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই। তাঁর ছাড়া আমরা আর কারো ইবাদাত করি না, তাঁরই যাবতীয় সম্পদ, তাঁরই যাবতীয় অনুগ্রহ, এবং তাঁরই যাবতীয় সুপ্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁরই উপাসনা করি, যদিও কাফিরদল তা অপছন্দ করে। মুসলিম-১২৩০
৭
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكُرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আইন্নী 'আলা- যিক্রিকা অ শুকরিকা অ হুসনি 'ইবাদাতিক।
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমাকে স্মরণ, তোমার শুকরিয়া আদায় এবং তোমার ইবাদত সুন্দরভাবে করার জন্য আমাকে সাহায্য কর। আবু দাউদ-১৫২২, নাসাঈ-১৩০৩
৮
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَّافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلًا مُّتَقَبَّلًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফিআঁন অ রিযকান তাইয়িবাঁন অ আমালান মুতাকাব্বালান।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট উপকারী জ্ঞান, হালাল জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমাল প্রার্থনা করছি। ইবনে মাজাহ-৯২৫
৯
اللهم إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ الْفِرْدَوْسِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ جَهَنَّمَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতাল ফিরদাউস অ আয়ুযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম। (৩ বার)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নামের শান্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিরমিযী-২৫৭২
১০
اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাক।
অর্থ: হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবে সেদিনকার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো। মুসলিম-
১১
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আয়ুযুবিকা মিনাল কুফরী অল ফাকুরী অ আযাবিল কাবর।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফরী থেকে, দারিদ্রতা থেকে ও কবরের শান্তি থেকে আশ্রয় চাই। নাসাঈ-১৩৫০
১২
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَرَدَّ إِلَى أَرْزَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল জুবনি অ আউযু বিকা মিনাল বুখলি অ আউযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুরি আ আউযু বিকা মিন ফিতনাতিদ্দুনয়্যা অ আ আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল কাবর।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কার্পণ্য ও ভীরুতা থেকে পানাহ চাচ্ছি, অধিক বার্ধক্য বয়সে উপনীত হওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি আর দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। বুখারী-২৮২২
১৩
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتَّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা- অততুকু অল 'আফাফা অল গিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সঠিক পথ, পরহেজগারিতা, নৈতিক পবিত্রতা এবং সামর্থ্য প্রার্থনা করছি। ইবনে মাজাহ-৩৮৩২, তিরমিযী-৩৪৮৯
১৪
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَى نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লা-হি অ বিহামদিহী আদাদা খলক্বিহী অ রিয়া-নাফসিহী অ যিনাতা আরশিহী অ মিদাদা কালিমা-তিহী।
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তার অগণিত সৃষ্টির সমান, তার সন্তুষ্টি, তার আরশের ওজনের পরিমাণ ও তার কালিমার সংখ্যার পরিমাণ। আবু দাউদ-১৫০৩ (ফজরের পর ৩ বার করে পাঠ করা।)
১৫
رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَّسُولًا
উচ্চারণ: রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বাওঁ অ বিল ইসলা-মি দীনাওঁ অবি মুহাম্মাদিন রসূলা।
অর্থ: আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি। আর দাউদ-১৫২৯
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দু'আটি সকালে পড়বে অতঃপর যদি সন্ধ্যারে পূর্বে তার মৃত্যু হয়ে যায় তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে অনুরূপ যদি সন্ধ্যায় পড়ে অতঃপর ভোর হওয়ার পূর্বে মৃত্যু হয়ে যায় তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারাহ ২৫৫ নং আয়াত)।
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ: আল্লাহু লা-ইলা-হা ইল্লা হুঅল হাইয়ুল কুইয়ূম, লা- তা'খুযুহূ সিনাতুওঁ অ লা- নাওম, লাহু মা- ফিস সামা অতি অমা ফিল আরদ, মান যাল্লাযী ইয়াশফা'উ ইন্দাহ্ ইল্লা- বিইযনিহ্, ইয়া'লামু মা-বাইনা আইদীহিম অমা-খলফাহুম, অলা-ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন 'ইলমিহী ইল্লা- বিমা- শা--'আ, অসি'আ কুরসিইয়ুহুস সামা-অতি অল আরদ, অলা- ইয়া'উদুহূ হিফযুহুমা- অহুঅল 'আলিইয়ুল 'আযীম।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মা'বুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান-যমীনে যা কিছু রয়েছে সব কিছুই তাঁর। কে আছে এমন যে, তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে-পিছনে যা কিছু রয়েছে সবই তিনি জানেন। তারা আল্লাহর জ্ঞানের কোন কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে যতটুকু স্বীয় ইচ্ছায় দান করেন (সে ততটুকু পায়)। তাঁর সিংহাসন সমন্ত আসমান ও যমীন পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলো ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান।
ফযীলত: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ স্বলাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে, মৃত্যু ছাড়া কোন জিনিস তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বাধা দিতে পারবে না। সহীহুল জামি ৫/৩৩৯
১৬
সূরা ফালাক ও সূরা নাস ১ বার করে পাঠ করা। আবু দাউদ-১৫২৩, নাসাঈ-১৩৩৯
১৭
سُبْحَانَ اللهُ
সুবহানাল্লাহ। (৩৩ বার)
الْحَمْدُ لله
আলহামদু লিল্লাহ। (৩৩ বার)
الله أَكْبَرُ
আল্লাহু আকবার। (৩৩ বার)
আর ১০০ পূরণ করার জন্য একবার পঠনীয়
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। মুসলিম-১২৩৯
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত আমল করবে, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনা রাশির সমতুল্যও হয়।
উক্ত তাসবীহসমূহ ১০,১০,১০ করে বলা যায়। নাসাঈ-১৩৪৮
উল্লেক্ষ্য যে, তাসবীহ মালা বা মেশিন তসবীহ বা বাম হাত ব্যবহার করে তাসবীহ করার চেয়ে শুধুমাত্র ডান হাতের আঙ্গুলসমূহ ব্যবহার করে তাসবীহ করা উত্তম ও সুন্নাহ পদ্ধতি। ডান হাতের আঙ্গুলসমূহ আখিরাতে তাসবীহর জন্য সাক্ষ্যপ্রদান করবে। আবু দাউদ-১৫০১
📄 সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত সকাল ও বিকালে পঠিতব্য দু‘আ ও যিকিরসমূহ
১
আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারাহ ২৫৫ নং আয়াত) ১ বার পাঠ করা। সহীহ তারগীব-১/২৭৩
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, সে জিন শয়তান থেকে বিকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিকালে পাঠ করবে, সে জিন শয়তান থেকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। ত্ববারানী-৫৪২, হাকেম-১/৫৬২
২
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস সকাল ও বিকালে ৩ বার করে পঠনীয়। বুখারী-৫০১৭
ফযীলত: উহা পড়লে যাবতীয় অনিষ্ট (জ্বিন, সাপ-বিচ্ছু, যাদুর প্রভাব ইত্যাদি) হতে নিরাপদ থাকা যায়। আবু দাউদ-৫০৮২, তিরমিযী-৩৫৭৫
৩
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাযী লা য়্যাদুরু মা'আসমিহী শাইউন ফিল আরদি অলা ফিসসামাই অহুওয়াস সামীউল আলীম।
অর্থ: আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে পৃথিবী ও আকাশের কোন জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা।
ফযীলত: এই দু'আ'টি সকাল ও বিকালে ৩ বার করে পাঠ করলে হটাৎ কোন বিপদে পড়বে না কোন কিছু তার ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। আবু দাউদ-৫০৮৮, তিরমিযী-৩৩৮৮
৪
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিয়্যাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু অহুয়া রব্বুল আরশিল আযীম।
অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই, তাঁর প্রতি ভরসা করেছি, তিনি মহান আরশের অধিপতি। আবু দাউদ-৫০৮১
ফযীলতঃ এই দু'আ'টি সকাল ও বিকালে ৭ বার করে পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তাশীল সকল বস্তুর ক্ষেত্রে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবে।
৫
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শারি মা খালাক।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মুসলিম-২০৮০
ফযীলত: এই দু'আটি বিকাল সন্ধ্যার সময় ৩ বার পড়লে ঐ রাতে সকল প্রকার ক্ষতিকারক ও কষ্টদায়ক বস্তু থেকে রক্ষা পাবে।
৬
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা অবিকা আমসাইনা অবিকা নাহয়্যা অবিকা নামৃত অ ইলাইকান নুশুর।
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন। আবু দাউদ-৫০৬৮, তিরমিযী-৩৩৯১
(উক্ত দু'আটি সকাল বেলা পাঠ করা। বিকালে দু'আ'টি পাঠ করার সময় "আসবাহনা অবিকা আমসাইনা" এর পরিবর্তে "আমসাইনা অবিকা আসবাহনা" বলতে হবে।)
৭
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ، اَصْلِحُ لِي شَانِي كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنِ
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীস, আসলিহ লী শা'নী কুল্লাহ, অলা তাকিলনী ইলা নাফসী তারফাতা আইন্।
অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর! আমি তোমার করুণার অসীলায় ফরিয়াদ করছি। তুমি আমার সকল বিষয়কে সংশোধন করে দাও। আর চোখের এক পলক বরাবরও আমাকে আমার নিজের প্রতি সোপর্দ করে দিও না। হাকেম-১/৫৪৫
৮
أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ وَعَلَى دِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى مِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
উচ্চারণ: আসবাহনা আলা ফিতরাতিল ইসলামি অআলা কালিমাতিল ইখলাস, অ আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন (সা.), অ আলা মিল্লাতি আবীনা ইবরাহীমা হানীফাম মুসলিমাঁউ অমা কানা মিনাল মুশরিকীন।
অর্থ: আমরা সকালে উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী (সা.)-এর দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ.)-এর ধর্মাদর্শের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (সকালে ১ বার পাঠ করা। বিকালে দু'আটি পাঠ করার সময় "আসবাহনা” এর পরিবর্তে "আমসাইনা" বলতে হবে।) সহীহুল জামি-৪/২০৯, আহমদ-১৫৩৬০
৯
সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার;
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাকতানী, অ আনা আব্দুকা অ আনা আলা আহদিকা অ অদিকা মাসতাতা'তু, আউযুবিকা মিন শারি মা সানা'তু, আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা আলায়য়্যা অ আবূউ বিযামবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা য়্যাগফিরুষ যুনূবা ইল্লা আন্তা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার দাস। আমি তোমার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি, তার মন্দ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমার উপর তোমার যে সম্পদ রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও আমি স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমাকে মার্জনা করে দাও, যেহেতু তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ মার্জনা করতে পারে না।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই ইস্তিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার পূর্বে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই দু'আ পড়বে আর সে সকাল হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে। বুখারী-৬৩০৬
১০
أَمْسَيْنَا وَ أَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَ شَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ فِي النَّارِ وَعَذَابِ فِي الْقَبْرِ
উচ্চারণ: আস্সাইনা অ আমসাল মুলকু লিল্লাহ, অলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। রাব্বি আলুকা খাইরা মা ফী হাযিহিল লায়লাতি অ খাইরা মা বা'দাহা, অ আউযু বিকা মিন শারি মা ফী হাযিহিল লায়লাতি অ শারি মা বা'দাহা, রাব্বি আউযুবিকা মিনাল কাসালি অ সূইল কিবার, রাব্বি আউযু বিকা মিন আযাবিন ফিন্নারি অ আযাবিন ফিল কার।
অর্থ: আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় স্তুতি, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি। (উক্ত দু'আ'টি সন্ধ্যার সময় পাঠ করা। সকাল বেলায় দু'আটি পাঠ করার সময় শুরুতে "আমসাইনা অ আমসাল" এর পরিবর্তে "আসবাহনা অ আসবাহাল" বলতে হবে।) মুসলিম- ২০৮৮
১১
اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আলিমাল গায়বি অশশাহাদাহ, ফাতিরাস সামাওয়াতি অল আরদি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন অমালীকাহ, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আন্তা আউযু বিকা মিন শারি নাফসী অশারিশ শায়ত্বানি অশির্কিহ।
অর্থ: হে উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শিরক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আবু দাউদ-৫০৬৭
১২
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اَللَّهُمَّ اسْتُرُ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أَغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনয়্যা অলআখিরাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আআলুকাল আফওয়া অল আফিয়াতা ফী দ্বীনী অদুনয়্যায়্যা অ আহলী অমালী, আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতী অ আমিন রাওআতী, আল্লাহুম্মাহফাযনী মিম বাইনি য়্যাদাইয়্যা অমিন খালফী অ'আঁই য়্যামীনী অআন শিমালী অমিন ফাউকী, অআউযু বিআযামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতী।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ইহকালে ও পরকালে নিরাপত্তা চাচ্ছি। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার ধর্ম ও পার্থিব জীবনে এবং পরিবার ও সম্পদে ক্ষমা ও নিরাপত্তা ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার লজ্জাকর বিষয়সমূহ গোপন করে নাও এবং আমার ভীতিতে নিরাপত্তা দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাৎ, ডান ও বাম এবং উপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কর। আর আমি তোমার মাহাত্ম্যের অসীলায় আমার নিচে ভূমি ধ্বসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ইবনু মাজাহ-৩৮৭১
১৫
اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أَمْسَيْتُ) أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসবাহতু (আমসাইতু) উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা 'আরশিকা ওয়া মালাইকাতিকা ওয়া জামীআ খালকিকা, আন্নাকা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি আপনার আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সৃষ্টিকে যে নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোন হকু ইলাহ নেই, আপনার কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মদ(ﷺ) আপনার বান্দা ও রাসূল।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি সকালে অথবা বিকালে এটা চার বার বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন। আবু দাউদ-৫০৭১
১৬
اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ (أَمْسَ) بِي مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكُرُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা মা আসবাহা (আমসা) বী মিন নি'মাতিন আউ বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়ালাকাশ শুকরু।
অর্থ: হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছে বা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে এসব নেয়ামত শুধুমাত্র আপনার নিকট থেকেই; আপনার কোন শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি সকালে উক্ত দু'আ পাঠ করলো সে যেন সেই দিনের শুকরিয়া আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি বিকালবেলা উক্ত দু'আ পাঠ করলো সে যেন রাতের শুকরিয়া আদায় করলো। আবু দাউদ-৫০৭৫
১৭
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمُعِى اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ . تُعِيدُهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা 'আফিনী ফী বাদানী, আল্লাহুম্মা 'আফিনী ফী সামঈ, আল্লাহুম্মা 'আফিনী ফী বাসারী। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকুরি ওয়া আউযু বিকা মিন 'আযাবিল ক্বাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোন হকু ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফরি ও দারিদ্রতা থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোন হকু ইলাহ নেই।
ফযীলত: সকালে ও বিকালে তিন বার করে পাঠ করবে। আবু দাউদ-৫০৯২
১৮
أَصْبَحْنَا (أَمْسَيْتُ) وَأَصْبَحَ (أَمْسَ) الْمُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَتْحَهَا وَنَصْرَهُ وَنُورَهُ وَبَرَكَتَهُ وَهُدَاهُ (نَصْرَهَا وَنُورَهَا وَبَرَكَتَهَا وَهُدَاهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ
উচ্চারণ: আসবাহনা (আমসাইনা) ওয়া আসবাহাল (আমসাল) মূলকু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা হাযাল ইয়াওমি ফাতহাহু (হাযিহিল লাহিলাতি ফাতহাহা) ওয়া নাসরাহু ওয়া নুরাহু ওয়া বারাকাতাহু ওয়া হুদাহু (নাসরাহা ওয়া নুরাহা ওয়া বারাকাতাহা ওয়া হুদাহা)। ওয়া আ'উযু বিকা মিন শাররি মা ফীহি ওয়া শাররি মা বা'দাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছি, অনুরুপ সকল রাজত্ব সকালে (বিকালে) উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কামনা করি এই দিনের কল্যাণ, বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত, ও হেদায়েত। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এই দিনের ও পর দিনের অকল্যাণ থেকে।
ফযীলত: সকালে ও বিকালে একবার করে পাঠ করবে। আবু দাউদ-৫০৮৪
১৯
اللهم صَلِّ وَسَلِّمُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম 'আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি স্বলাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ(ﷺ) এর উপর।
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত দু'আ সকালে ১০বার বিকালে ১০বার পাঠ করবে কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ দ্বারা সৌভাগ্যবান হবে। সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীত-১/২৭৩
২০
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সর্বোপরি শক্তিমান।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি (সকালে ও বিকালে) ১০০বার বলবে, তার জন্য ১০জন গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হবে, তার জন্য ১০০টি পুণ্য লেখা হবে ও ১০০টি পাপ মোচন করা হবে এবং শয়তান থেকে বিকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করতে পারবে না তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি যে এর চেয়ে বেশি আমল করবে। বুখারী-৩২৯৩, আবু দাউদ-৫০৭৭, ইবনে মাজাহ-৩৭৯৮
২১
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত দু'আ সকালে ১০০বার বিকালে ১০০ বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি উৎকৃষ্ট কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি যে তার মত বলবে বা তার চেয়ে বেশি আমল করবে। মুসলিম-৪/২০৭১, ২৬৯২
২২
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল 'আযীম অ বিহামদিহী।
অর্থ: আমি মহান আল্লাহর প্রশংসার সহিত পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
ফযীলত: যে ব্যক্তি উক্ত দু'আ সকালে ১০০বার বিকালে ১০০বার বলবে, তার জন্য এমন মর্যাদা দেওয়া হবে, যে মর্যাদা সৃষ্টিকুলের আর কোন ব্যক্তিকে দেওয়া হবে না। আবু দাউদ-৫০৯১
২৩
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ অ আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তওবা করছি।
ফযীলত: রাসূল(ﷺ) প্রত্যহ ৭০ এর অধিক (অপর এক হাদীসে ১০০ বার) তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। বুখারী-৬৩০৭