📄 মদীনায় কেনা-কাটা
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুসারে, মক্কার তুলনায় মদীনায় খেজুরের দাম কম। এখানে সবকিছুর দাম মক্কার তুলনায় তুলনামূলক একটু কম। সে কারণে আমার মতে, কেনা-কাটা মদীনায় করা উত্তম।
আগেই উল্লেখ করেছি; যদি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কোনো উপহার বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে চান তবে তা হজ্জের আগেই কিনে ফেলুন। কেননা, হজ্জের সময় যত কাছাকাছি হয় জিনিসপত্রের দাম ততো বেড়ে যায়। হজ্জের পরেও কিছু দিন দাম চড়া যায়, তারপর দাম ধীরে ধীরে কমে।
মসজিদে নববীর চারপাশে অনেক শপিং মল, মার্কেট ও হকার মার্কেট রয়েছে। ১৭ নং বদর গেটের বিপরীতেই আছে বিন দাউদ ও তাইয়েবা বেসমেন্ট শপিং মল। কেনাকাটার সময় কোনো দোকানে যদি ফিক্সড প্রাইস (দাম লেখা) লেখা থাকে তারপরও দামাদামি করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। কারণ হজ্জের মৌসুমে তারা জিনিসপত্রের দাম একটু বাড়িয়ে লেখে, সুতরাং কিছুটা দর কষাকষি করতেই পারেন। তবে সুপারমার্কেটের যেসব পণ্যে বারকোড দেওয়া রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে দরাদরি করে কোন লাভ নেই।
মসজিদের ৫ নং গেট দিয়ে বের হয়ে কিছু দুর সামনে গেলে খেজুরের পাইকারী বেলাল মার্কেট আছে। এখানে বেশকিছু খেজুরের দোকান পাবেন। অভিজ্ঞ কাউকে সাথে নিয়ে খেজুর কিনতে যাবেন। আপনার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিভিন্ন জাতের খেজুর কিনে নিয়ে যেতে পারেন। তবে লাগেজের ওজনের কথা মাথায় রাখতে হবে! বিখ্যাত কিছু খেজুরের জাত হলো: আজওয়া, মাবরুম, আম্বার, সুকারি, মাযদল, কালকি, রাবিয়া ইত্যাদি।
মসজিদের ২১ নং গেট দিয়ে বের হয়ে সোজা ১ কি.মি হেঁটে গেলে রাস্তার দুই পাশে অনেক হকার মার্কেট/তাবু মার্কেট দেখতে পাবেন। এখান থেকে আরও ১ কি.মি সোজা হেঁটে গেলে হাতের বামে শপিং মল পাবেন, যেমন- Top Ten, Mazaia Mall ইত্যাদিতে সন্তায় সকল ধরনের পণ্য কেনার জন্য যেতে পারেন। এখান থেকে আতর, টুপি, জায়নামায, সৌদি জুব্বা, সৌদি বোরকা, হিজাব, জামা-কাপড়, ঘড়ি, জুতা-সেন্ডেল, কসমেটিকস ইত্যাদি কিনতে পারেন।
শেষ কথা হলো: মদীনা থেকে পারলে রাসূল (ﷺ) এর প্রকৃত সুন্নাহকে ক্রয় করে নিজ অন্তরে গেঁথে নিয়ে আসেন!
📄 মদীনায় দর্শনীয় স্থানসমূহ জিয়রাহ
আপনার হজ্জ এজেন্সি মদীনায় একদিন যিয়ারাহ ট্যুরের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং আপনাদের সবাইকে একত্রে মদীনার নিকটস্থ ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে নিয়ে যেতে পারেন। আপনি এই যিয়ারাহ ট্যুর উপভোগ করবেন। মদীনার চারপাশ ঘুরে দেখার এটাই সূবর্ণ সুযোগ। লক্ষ্য করবেন; মদীনায় অসংখ্য খেজুর বাগান রয়েছে এবং মদীনা অনেক সাজানো গোছানো একটি শহর।
কিছু জিয়ারাতের স্থান খুবই নিকটে, ইচ্ছে করলে পায়ে হেঁটে ঐসব স্থানে যাওয়া যায়, যেমন- বাকী কবরস্থান, মসজিদে আবু বকর, মসজিদে উমর ফারুক, মসজিদে আলী, গামামা মসজিদ ও বিলাল মসজিদ। একা কোথাও ঘুরতে যাবেন না এবং কয়েকদিন মদীনায় থাকার পর ঐসব স্থানগুলো ঘুরতে যাবেন।
এছাড়া ফজরের স্বলাতের পর লক্ষ্য করবেন কিছু মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কার ড্রাইভার ‘যিয়ারাহ, যিয়ারাহ’ বলে ডাকবে। তারা হাজীদের কিছু স্থান ঘুরে দেখাবে। সবচেয়ে ভালো হয় ছোট ছোট দল করে ঘুরতে বের হওয়া, কারণ ড্রাইভার জনপ্রতি ২০-৩০ রিয়াল ভাড়া দাবি করে থাকে। সমস্যা হলো এসব বেশিরভাগ ড্রাইভাররা (বাঙ্গালী, ভারতীয়, পাকিস্থানি) বিভিন্ন যিয়ারাহর জায়গার উল্টা-পাল্টা ও অতিরঞ্জিত ইতিহাস বর্ণনা করে এবং বিভিন্ন আমল করার কথা বলে থাকে যা ইসলামি শরীয়াহ সম্মত নয়। এসব স্থান ভ্রমণ করার সময় অবশ্যই আপনার হজ্জ পরিচয়পত্র ও হোটেলের ঠিকানা সঙ্গে রাখুন।
মদীনা থেকে দূরবর্তী স্থান- বদর আস সুহাদা (বদর যুদ্ধের প্রান্তর; মদীনা থেকে ১৫৫ কিমি দূরত্ব), ওয়াদি আল বাইদা (কথিত জিনের পাহাড়; মদীনা থেকে ৩৫ কিমি দূরত্ব), কিং ফাহাদ কুরআন প্রেস এবং মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় দলগতভাবে কার/মাইক্রো রিজার্ভ করে ঘুরতে যেতে পারেন। জনপ্রতি ৬০-৮০ রিয়াল করে ভাড়া লাগতে পারে।
মদীনায় মসজিদে কুবা ব্যতীত অন্য কোন স্থান যিয়ারাহ করার মধ্যে বিশেষ কোন নেকী বা ফযীলত নেই। যিয়ারতের কোন জায়গা থেকে কোন বরকত লাভ করা যায় না। শুধু মসজিদ হলে দুই রাকাআত তাহিয়্যাতুল মসজিদ স্বলাত পড়া ও কবরস্থান হলে কবরবাসীর জন্য দু'আ করা। অনেকে যিয়ারতের স্থানগুলোতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে শিরক ও বিদআত জাতীয় কাজ করে ফেলেন। তাই সতর্ক থাকা বাঞ্চনীয়। যিয়ারতের উদ্দেশ্য হবে অতীত স্থান ও নিদর্শনসমূহ অবলোকনের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস জানা ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। মনে ইসলামি চেতনা জাগ্রত করা ও ঈমানকে মজবুত করা। যারা যুগে যুগে ইসলামের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে গত হয়ে গেছেন তাদের মাগফিরাতের জন্য দু'আ করা।
বাকি কবরস্থান - মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবিস্থত। ফজরের পর ও আসরের পর কবরস্থান যিয়ারতের জন্য খোলা থাকে। রাসূল(ﷺ) এর পরিবারবর্গ ও ১০ হাজার সাহাবীর কবর আছে। কারো কবরে নাম ফলক বা চিহ্নিত করা নাই।
কুবা মসজিদ - রাসূল (ﷺ) এর প্রতিষ্ঠিত মদীনার প্রথম মসজিদ। হোটেলে ওযু করে কুবা মসজিদে এসে ২রাকাআত স্বলাত পড়লে ১টি উমরাহ সমান নেকি পাওয়া যায়। রাসূল(ﷺ) প্রতিসপ্তাহে ১দিন (শনিবার) এই মসজিদে আসতেন।
জুমআ মসজিদ - মদীনায় রাসূল(ﷺ) প্রথম জুমআর স্বলাত যে স্থানে পড়েছিলেন সেখানে এই মসজিদ নির্মিত হয়। মসজিদে নববী থেকে ২.৫ কি.মি দূরে অবস্থিত।
বিলাল মসজিদ - মসজিদে নববীর দক্ষিণে মসজিদের ৫ নং গেট এর বাইরে ৫০০ মিটার দূরে কুরবান রোডে এই মসজিদের অবস্থান। খেজুর ও বড় স্বর্ণের মার্কেট আছে এর পাশে।
উহুদ পাহাড় - ২য় হিজরীতে উহুদের যুদ্ধে রাসূল(ﷺ) এর চাচা হামজা (রাঃ) সহ ৭০ জন সাহাবী শহীদ হন। উহুদ ২মাথা ওয়ালা পাহাড় ও এর বিপরীতে রুমা পাহাড় আছে যার মাঝের প্রান্তরে যুদ্ধ হয়। এখানে শহীদের কবর আছে।
কিবলাতাইন মসজিদ - যোহর স্বলাতরত অবস্থায় আল্লাহ তাআলা রাসূল(ﷺ) কে কিবলা পরিবর্তন করে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেন। একই স্বলাত দুই কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে পড়ার কারণে নাম কিবলাতাইন।
গামামাহ মসজিদ - রাসূল (ﷺ) এখানে ঈদের স্বলাত পড়তেন। রাসূল(ﷺ) এখানে বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার স্বলাত পড়েছিলেন এবং বৃষ্টি হয়েছিল। মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে ৬ ও ৭ নং গেট এর বাইরে এই মসজিদের অবস্থান।
মসজিদে আবু বকর - এ স্থানে আবু বকর (রাঃ) এর বাড়ি ছিল, পরবর্তীতে এখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এটি গামামাহ মসজিদ সংলগ্ন মসজিদের ৬ ও ৭ নং গেট এর বাইরে এই মসজিদের অবস্থান।
উসমান বিন আফফান মসজিদ - কুরবান রোড এ অবস্থিত।
উমর ফারুক মসজিদ - গামামাহ মসজিদ এর কাছে অবস্থিত। মসজিদে নববী সংলগ্ন।
সালমান ফারসির বাগান - মসজিদে কুবার নিকটবর্তী। সালমান ফারসীকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে রাসূল (ﷺ) এখানে ৩০০ খেজুর গাছ রোপন করেছিলেন। কিছু খেজুরের দোকান আছে এখানে।
শাজারাহ মসজিদ - মদীনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে ১২ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। এটি যুল হুলাইফাতে অবস্থিত মীকাত। রাসূল (ﷺ) মক্কা যাওয়ার পথে এই মসজিদে স্বলাত আদায় করতেন ও ইহরাম করতেন।
📄 হজ্জের পর যা করণীয়
■ মনে রাখতে হবে হজ্জের পর আপনার মর্যাদা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে তাই এখন আপনাকে ইসলামের এ্যামবাসেডর বা রোল মডেল হতে হবে সবার কাছে।
■ আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দারা হজ্জ করতে সক্ষম হয় তাই হজ্জের পর আল্লাহ ও আল্লাহর দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যে অটল ও অবিচল থাকা।
■ ঈমান ও ইসলামকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দেওয়া এবং দুনিয়ার স্বার্থে দ্বীনের সাথে আপোষ না করা। নিজের ঈমান, আক্বীদা ও আমলকে পরিশুদ্ধ করা।
■ অন্তরে সবসময় আল্লাহভীতি রাখতে হবে এবং নিজেকে ও নিজ পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে কিভাবে বাঁচানো যায় সেজন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।
■ হালাল ও উত্তম পন্থার জীবিকা বা রুজির অন্বেষণ করা, এবং সকল প্রকার সুদ ও অনৈতিক উপার্জন থেকে বিরত থাকা। কম উপার্জনে তুষ্ট থাকা।
■ যাবতীয় আল্লাহর হক্ব (স্বলাত, সিয়াম..) এবং বান্দার হকুসমূহ (মানুষের সাথে সার্বিক মুআমালাত) সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করতে হবে।
■ সকল প্রকার পাপ কাজ ও অন্যায় আচরন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। শিরক, বিদআত, কবীরাহ গুনাহ ও বিবিধ ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা।
■ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জন করা এবং সে অনুসারে আমল করা। নেক আমলের স্থায়ীত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। নিজের আত্মশুদ্ধি নিয়ে ভাবা।
■ ধীরে ধীরে ঘরে ইসলামী পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা। ঘরে পর্দার বিধান কায়েম করা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইসলামি আলোচনা করা ও ওয়াজ/বক্তৃতা শোনা।
■ পরিবারকে নিয়ে মসজিদে ও ইসলামিক প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়া। পরিবারকে নিয়ে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া এড়িয়ে চলা।
■ পরিবার থেকে যাবতীয় অপসংস্কৃতি জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, নববর্ষ, গায়ে হলুদ, বিবাহ বার্ষিকী, ডিস টিভি চ্যানেল, বিবিধ দিবস অনুষ্ঠান পালন বর্জন করা।
■ নিজের ঘরে, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাঝে সামর্থ্যানুযায়ী দ্বীনের দাওয়াহ ও ইসলা করা। মানুষজনকে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করা।
■ সঠিক দ্বীনচর্চা হয় এমন স্থানে দান-সাদাকা করা। প্রতিবেশীর হক্ব আদায় করা। মিসকীন ও এতিমদের খাওয়ানো। সকল আত্মীয়র সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
■ মানুষের কাছে হজ্জের অভিজ্ঞতার কথা বা গল্প বলতে গিয়ে সঠিক নয় বা অজানা এমন কিছু অতিরিক্ত বলা থেকে বিরত থাকা। কথাবার্তা সংযত করা।
■ আমি হাজী সাহেব/হজ্জ করে এসেছি এটা কোন ভাবে প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছে থেকে সম্মান, ভালবাসা ও সহানুভূতি অর্জন করার চেষ্টা না করা।
■ মানুষের কাছে পরিচয় দেওয়ার সময় বা ভিজিটিং কার্ডে বা কোথাও নামের আগে হাজী/আলহাজ্ব শব্দ যুক্ত করে নাম না বলা।
📄 ভালো আলামত
■ হজ্জ কবুল হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার এখতিয়ারভূক্ত। কিন্তু বান্দা যখন হজ্জ করবে তখন সে পূর্ণ বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সাথে হজ্জ পালন করবে এবং আশা রাখবে ইনশা-আল্লাহ আল্লাহ তাআলা তার হজ্জ কবুল করবেন। কখনই হতাশা বা শংকাযুক্ত হয়ে হজ্জ পালন করা যাবে না এবং হজ্জ কবুল হলো কি না কে জানে.. এমন চিন্তা করা যাবে না।
■ হজ্জ যদি আল্লাহ কবুল করেন তবে বাহ্যিকভাবে বান্দার মধ্যে কিছু লক্ষণ বা আলামত মোট কথা কিছু ভালো পরিবর্তন প্রতীয়মান হবে। যে বান্দা এখলাসের সাথে আন্তরিক আমল দ্বারা আল্লাহকে খুশি করার জন্য সচেষ্ট হবে আল্লাহ তাআলা সেই বান্দাকে হেদায়াত দান করবেন ও তার উপর রহম করবেন। আল্লাহই তার আচরণ ও অন্তরে পরিবর্তন এনে দিবেন। তখন বান্দা নিজের ভিতরে নিজের অজান্তে সেই পবিরর্তন লক্ষ্য করবে। জোর করে নিজ থেকে মানুষ দেখানো পরিবর্তন আনা অবশ্য মোটেই বেশি দিন টেকসই হয় না।
■ আর যে মানুষ হজ্জের আগে যেমন ছিল হজ্জের পরেও তেমনি থাকলো, কোন ভালো পরিবর্তন এলো না, তাহলে সেটি একটি চিন্তার বিষয়। অবশ্য কারো সম্পর্কে কোন প্রকার ধারনা পোষন করা ও মন্তব্য করাও ঠিক নয়। সব কিছু আল্লাহর হাতে এবং তিনিই ভালো জানেন।
■ হজ্জের পর ঈমান ও আমলে দৃঢ়তা সৃষ্টি হওয়া ভালো লক্ষণ। পার্থিবতা ও দুনিয়াবি বিষয়ে অনীহা ও পরকালের প্রতি প্রবল আগ্রহ ও চিন্তা সৃষ্টি হওয়া।
■ হজ্জের পূর্বে যেসব পাপ ও অন্যায় অভ্যস্ততা ছিল সেগুলো থেকে মুক্ত হয়ে সৎ জীবনযাপন করা। অন্তরে ও কথায় কোমলতা আসা।
■ হজ্জ সম্পাদনের পর কৃত আমলকে অল্প মনে করা। নেকীর কাজে প্রতিযোগিতা করা। লোক দেখানো আমল, অহংকার ও বড়ত্বোবোধ থেকে বেঁচে থাকা।
■ ইবাদত পালনে উৎসাহ ও চাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাওয়া। বেশি বেশি দান সাদকা করা। পরিবারকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করতে সচেষ্ট হওয়া।
■ কথায় ও কাজে আল্লাহর উপর বেশি ভরসা রাখা। বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। বেশি বেশি দু'আ ও যিক্র করা।
■ দ্বীনের জ্ঞান আহরোনের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া। খোলা মন নিয়ে কৃত আমল যাচাই বাছাই করা ও সত্যকে জানা ও সত্যকে গ্রহণ করার মনমানসিকতা সৃষ্টি হওয়া।
■ আল্লাহর দ্বীনকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে প্রচার করার এবং প্রতিষ্ঠা করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
"হে আল্লাহ! তুমি আমাদের হজ্জকে কবুল ও মঞ্জুর করে নাও" আমিন।