📄 মদীনা ও মসজিদে নববী সম্পর্কিত তথ্য
■ মসজিদে নববী অত্যন্ত প্রশান্তিদায়ক, চমৎকার ও জমকালো মসজিদ।
■ মসজিদে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা দরজা ও স্বলাতের জায়গা রয়েছে।
■ মক্কার তুলনায় এখানে হোটেল বা বাসা মসজিদের খুব কাছাকাছি হবে বলে আশা করা যায় এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও এখানে বেশি হবে।
■ মসজিদে প্রবেশের প্রতিটি গেটে নিরাপত্তাকর্মী থাকে এবং তারা বড় আকারের বা সন্দেহজনক ব্যাগ চেক করে থাকেন।
■ মসজিদের বাইরে চত্বরে চারপাশে টয়লেট, ওযু ও গাড়ি পার্কিং সুবিধা রয়েছে স্কেলেটরের মাধ্যমে বেসমেন্ট ফ্লোরে গিয়ে।
■ কিং ফাহাদ গেট মসজিদের অন্যতম প্রধান বড় প্রবেশ গেট (২১-ডি); এমন ৫ দরজা বিশিষ্ট ৭টি বড় গেট আছে।
■ মসজিদের ভেতরে ও বাইরে ২২৯টি দরজা, ১৯৬টি স্থির ও চলমান গম্বুজ, ১০টি মিনার রয়েছে।
■ মসজিদের প্রতিটি বড় প্রবেশ দরজার ফটকে স্বলাতের সময়সূচি টাঙানো আছে।
■ মসজিদের চত্বরের চারপাশে ২৬২টি সানশেড বৈদ্যুতিক ছাতা রয়েছে। এসব ছাতা দিনের বেলায় খোলা থাকে এবং রাতে বন্ধ থাকে।
■ হজ্জযাত্রীদের শীতল বাতাস প্রদানের জন্য প্রতি বৈদ্যুতিক ছাতার খুঁটিতে দুটি করে কুলার ফ্যান রয়েছে।
■ মসজিদে পুরুষদের ১১নং দরজার দুই তলায় এবং মহিলাদের ১৬/২৪ নং দরজার দুই তলায় পাঠাগার আছে। বাংলা কুরআন, তাফসীর ও হাদীস বই আছে।
■ মসজিদের ভেতরে সবজায়গায় জমজম কূপের পানির কন্টেইনার পাওয়া যায় এবং এই পানি ছোট বোতলে ভরে হোটেলে/বাড়িতে নিয়ে আসাও যাবে।
■ মসজিদের ভেতরে জুতা-সেন্ডেল রাখার জন্য অসংখ্য শেলফ্ রয়েছে। পর্যাপ্ত চেয়ার, বুক শেলফ ও রেহাল আছে।
■ মসজিদের ভেতরে প্রতিটি পিলারে নিচের দিকে এসি-র ব্যবস্থা রয়েছে। সম্পূর্ণ মসজিদে এসির ব্যবস্থা রয়েছে।
■ মসজিদের ভেতরে সকল জায়গার কার্পেটের রঙ গাড়ো লাল/সবুজ। রিয়াদুল জান্নাহ বা রওজা এলাকার কার্পেটের রঙ হালকা সবুজ ও সাদা।
■ নীল/সবুজ পোশাক পরিহিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মসজিদের ভেতরে কাজ করে; এদের অধিকাংশই এসেছে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে।
■ মসজিদের মধ্যে অনেক বইয়ের শেলফ রয়েছে। এসব শেলফ থেকে কুরআন মাজীদ নিয়ে পড়তে পারেন।
■ বৃদ্ধ ও শিশু হারিয়ে গেলে বাকি কবরস্থানের কাছে অফিসে খবর দিতে হয়।
■ রিয়াদুল জান্নাহ জায়গার এবং মসজিদের সামনের দিকে প্রথম কয়েকটি সারির কাতার নির্মাণশৈলি পুরনো তুর্কি আমলের যেখানে ইমাম জ্বলাতে দাঁড়ান।
■ মসজিদের বাইরে চত্বরে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান বরাবর চিহ্নিত সাইনবোর্ড আছে, যেটি পার করে জামাআতে জ্বলাতে দাঁড়ানো যাবে না।
■ মসজিদের ১৯নং গেট দিয়ে ভেতরে ৩৬নং চেয়ারে বাংলাভাষী আলেমগণ (মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণারত) হালাকা বা তাবলীগ করেন।
■ প্রত্যেক ওয়াক্তের স্বলাতের পর মসজিদের ভেতরে কিছু জায়গায় আরবী, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় কিছু আলেমগণ হালাকা করেন বা আলোচনা করেন।
■ মসজিদের ভেতরে একটি জায়গায় কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিশু ও বাচ্চাদের কুরআন শিখানো হয় আসর ও মাগরিবের স্বলাতের পর।
■ রওজা সকাল (৬-১০টা) ও রাত (৮-১২টা) মহিলা দর্শনার্থীদের স্বলাত আদায়ের জন্য কাপড় দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। রিয়াদুল জান্নাহ রয়েছে রাসূল (ﷺ) এর মেহরাব, খুতবার মিম্বার ও মিনার।
প্রত্যেক ওয়াক্তের স্বলাতের পর মসজিদের ভেতরে কিছু জায়গায় কুরআন পড়া শুদ্ধিকরণ কার্যক্রম করেন কিছু আলেমগণ। এখানে অবশ্যই বসবেন। রওজায় সবসময়ই ভিড় লেগে থাকে। এ কারণে হজ্জযাত্রীদের এখানে এসেই স্বলাত আদায় করে দ্রুত বের হওয়া উচিত যাতে অন্যরা সুযোগ পান।
মসজিদের ৩৭-ডি গেটের ভিতরে বাম পাশের সিঁড়ি দিয়ে ৩ তলায় উঠে গেলে ফ্রি বাংলা বই বিতরনের অফিস আছে। অনেক ধরনের বই বিতরণ হয় এখানে।
মসজিদের ভিতরে তথ্য প্রদর্শনী ডিজিটাল বোর্ড (কিওসক ডিসপ্লে) থেকে বিভিন্ন বই বার কোর্ড স্ক্যানের মাধ্যমে ডাউনলোড করার ব্যবস্থা আছে।
জুমআর দিন মোবাইলে এফ.এম রেডিও চ্যানেলে ১০৭.৯ এ জুমআর খুতবা বাংলা ভাষায় লাইভ শোনার ব্যবস্থা এখানে আছে।
কবরের জায়গার ১ম ও ৩য় দরজাটিও ফাঁকা আছে। কথিত আছে যে, ঈসা (আঃ) ও ইমাম মাহদী এর কবরের জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে (যদিও প্রমাণিত নয়)!
মসজিদের ভেতরে ও বাইরে হাজীদের আপ্যায়ন হিসাবে অনেকে ইফতার বা নাস্তা/ফল/লাবান/খেজুর/গাওয়া/চা বিতরণ করে থাকেন।
বাকি কবরস্থান সকাল (৬-৮টা), বিকাল (৩.৩০-৫টা) যিয়ারতের জন্য খোলা থাকে। ঋতুভেদে সময় কিছুটা পরিবর্তন হয়।
মসজিদে নববীর বাউন্ডারীর চারপাশে কিছু মিউজিয়াম ও এক্সিবিশন হল আছে। এগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।
মসজিদে নববীর বর্তমান ইমামদের নামসমূহ ১. আব্দুর রহমান আল হুদাইফি, ২. সালাহ আল বুদাইর, ৩. আব্দুল্লাহ আল বুইজান, ৪. আব্দুল বারী আল তুবাইতি, ৫. আহমেদ তালেব হামিদ, ৬. আব্দুল মুহসিন আল কাসিম (রহঃ)।
📄 মসজিদে নববী দর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
* নবী (স) এর কবর যিয়ারতের নিয়তে বা মূখ্য উদ্দেশ্যে মদীনা ভ্রমণ করা।
* কেউ কেউ হজ্জযাত্রীদের কাছে তাদের সালাম রাসূল (স) এর কবরের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনুরোধ করা।
* মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত স্বলাত পড়ার জন্য পুরো ৮ দিন মদীনায় অবস্থান করা বাধ্যতামূলক বা নিয়ম মনে করা।
* মদীনা ও মসজিদে প্রবেশের পূর্বে গোসল করতে হবে বলে শর্ত মনে করা।
* মদীনায় প্রবেশের সময় ও মসজিদের মিনার দেখার পর জোরে তাকবীর দেওয়া বা এই দু'আ পড়া নিয়ম মনে করা: (এই এলাকা তোমার বার্তাবাহকের পবিত্র এলাকা, তুমি একে রক্ষা কর..)।
* মদীনায় প্রবেশের পর কোন নির্ধারিত দু'আ পড়া নিয়ম মনে করা।
* মসজিদে প্রবেশের পর রাসূল (স) এর কবর আগে যিয়ারত করা জরুরী মনে করা।
* কবরের কাছে গিয়ে দু'আ করা বড় ফযীলত মনে করা ও কবরের দিকে মুখ করে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
* কোন মনের ইচ্ছা পূরণের আশায় কবরের কাছে গিয়ে দু'আ করা।
* রাসূল (স) এর কবরের দরজার খাঁচা চুমু খাওয়া অথবা স্পর্শ করার চেষ্টা করা অথবা এর চারপার্শ্বের দেয়াল অথবা পিলারে চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করা।
* রাসূল (স) এর কাছে অনুনয়-বিনয় করে শাফায়াত চাওয়া বা কিছু চাওয়া।
* রাসূল (স) এর কবরের দিকে মুখ করে স্বলাত আদায় করা বা কবরকে সামনে রেখে বসে দু'আ-যিক্র করা।
* প্রতি স্বলাতের পরে রাসূল (স) এর কবর যিয়ারত করতে যাওয়া জরুরী বা ভাল মনে করা। রাসূল এর কবরের কাছে স্বলাত পড়া বেশি নেকীর মনে করা।
* স্বলাতের পর উচ্চস্বরে বিশেষ বিশেষ দু'আ দুরূদ বলা বিশেষ ফযীলত মনে করা বা প্রচলিত বানোয়াটি ও বিদআতি দুরূদ পাঠ করা।
* রাসূল (স) এর কবরের উপরে সবুজ গম্বুজ থেকে পতিত বৃষ্টির পানি থেকে কোন কল্যাণ বা বরকত কামনা করা।
* হজ্জযাত্রীদের নিয়ে রাসূল (স) এর কবরের পাশে অথবা একটু দূরে সমবেত হয়ে বসে সমবেত কণ্ঠে উচ্চৈস্বরে দু'আ দুরূদ পাঠ করা।
* মসজিদে নববী ও মসজিদে কুবা ব্যতিত মদীনার অন্য কোনো মসজিদ দর্শন করে সওয়াবের ও ফজিলতের আশা করা।
* মসজিদের খুঁটিতে বা বিভিন্ন যিয়ারাহর স্থানে সুতা বা ফিতা বাঁধা কোনো কল্যাণ বা বরকত মনে করা।
* মদীনার অলিতে গলিতে রাসূল (স) এর পায়ের ধুলা মিশে আছে তাই কোন সেন্ডেল বা জুতা না পরে খালি পায়ে মদীনায় হাঁটা চলা করা।
* মদীনা থেকে বরকত মনে করে নুড়ি-পাথর বা বালি-মাটি নিয়ে সংরক্ষণ করা ও তাবিজ-কবজ বানানোর জন্য নিজ দেশে নিয়ে আসা।
* মদীনা থেকে বিদায়ের সময় মসজিদে নববীতে ২ রাকাআত বিদায়ী স্বলাত পড়া ও বিদায়ী কবর/রওজা যিয়ারত করা নিয়ম বা জরুরী মনে করা।
* মসজিদ থেকে শেষবার বের হওয়ার সময় সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে উল্টোমুখি হয়ে পিছন দিকে হেঁটে বের হওয়া।
* মদীনা থেকে বিভিন্ন দুআ ও কেলিওগ্রাফীর ছবি ও পোষ্টার নিয়ে দেশে আসা ঘরে ঝুলিয়ে রাখার জন্য যার মাধ্যমে কিছু বরকত ও ফয়েজ হয়।
* বাকী কবরস্থানকে অনেকে জান্নাতুল বাকি নামে ডেকে থাকে যা ভুল। কবরস্থানের নাম মাকবারাতুল বাকি বা বাকিউল গরকাদ। কবরস্থানের সকলকে জান্নাতি মনে করা যাবে না কারণ অনেক না জানা মুনাফিকেরও কবর আছে।
* রাসূল (স) এর কবর ও রওজা দুটি ভিন্ন জায়গা। অনেকে কথায় কথায় রাসূল (স) এর রওজা বলে কবরকে বুঝান, যা সম্পূর্ন ভুল। কবর রওজার জায়গার বাইরে। অনেকে রাসূল (স) এর কবরকে কবর বলা অসম্মান মনে করেন।
* অনেকে মনে করেন মসজিদের ভিতরে রাসূল (স) এর কবর। কিন্তু আসলে কবর মসজিদের সীমানার বাইরে একপাশে। মসজিদের ভিতরে কবর দেওয়া বা কবরকেন্দ্রিক মসজিদে স্বলাত পড়া নিষেধ। প্রথমত, কবরকে কেন্দ্র করে এই মসজিদ নির্মিত হয়নি। আগে মসজিদ থেকে দূরে কবর ছিলো। পরে মসজিদের জায়গা সম্প্রসারণের ফলে কবর এখন মসজিদের সীমানার পাশে চলে এসেছে।
* আবার অনেকে মনে করেন রাসূল (স) এর কবর বাঁধানো আছে! অথচ কবর বাঁধানো ও উচু করা নিষেধ। আসলে অনেক আগে থেকেই কবরের চারপাশে দূর দিয়ে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে সুরক্ষার জন্য। কারণ রাসূল (স) এর কবর মাটি ক্ষনন করে চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
* মদীনার ফযীলত বিষয়ে কিছু প্রচলিত দুর্বল ও জাল হাদীস: "যে হজ্জ করতে এসে আমার কবর যিয়ারত করল না সে আমাকে ত্যাগ করলো", "যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে", "যে হজ্জ করতে এসে আমার কবর যিয়ারত করল সে যেন আমার সাথে জীবিত অবস্থায় সাক্ষাত করল", "এই মসজিদে ১ রাকাআত জ্বলাতের নেকী ৫০০০০ গুণ"।
📄 মদীনায় কেনা-কাটা
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুসারে, মক্কার তুলনায় মদীনায় খেজুরের দাম কম। এখানে সবকিছুর দাম মক্কার তুলনায় তুলনামূলক একটু কম। সে কারণে আমার মতে, কেনা-কাটা মদীনায় করা উত্তম।
আগেই উল্লেখ করেছি; যদি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কোনো উপহার বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে চান তবে তা হজ্জের আগেই কিনে ফেলুন। কেননা, হজ্জের সময় যত কাছাকাছি হয় জিনিসপত্রের দাম ততো বেড়ে যায়। হজ্জের পরেও কিছু দিন দাম চড়া যায়, তারপর দাম ধীরে ধীরে কমে।
মসজিদে নববীর চারপাশে অনেক শপিং মল, মার্কেট ও হকার মার্কেট রয়েছে। ১৭ নং বদর গেটের বিপরীতেই আছে বিন দাউদ ও তাইয়েবা বেসমেন্ট শপিং মল। কেনাকাটার সময় কোনো দোকানে যদি ফিক্সড প্রাইস (দাম লেখা) লেখা থাকে তারপরও দামাদামি করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। কারণ হজ্জের মৌসুমে তারা জিনিসপত্রের দাম একটু বাড়িয়ে লেখে, সুতরাং কিছুটা দর কষাকষি করতেই পারেন। তবে সুপারমার্কেটের যেসব পণ্যে বারকোড দেওয়া রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে দরাদরি করে কোন লাভ নেই।
মসজিদের ৫ নং গেট দিয়ে বের হয়ে কিছু দুর সামনে গেলে খেজুরের পাইকারী বেলাল মার্কেট আছে। এখানে বেশকিছু খেজুরের দোকান পাবেন। অভিজ্ঞ কাউকে সাথে নিয়ে খেজুর কিনতে যাবেন। আপনার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিভিন্ন জাতের খেজুর কিনে নিয়ে যেতে পারেন। তবে লাগেজের ওজনের কথা মাথায় রাখতে হবে! বিখ্যাত কিছু খেজুরের জাত হলো: আজওয়া, মাবরুম, আম্বার, সুকারি, মাযদল, কালকি, রাবিয়া ইত্যাদি।
মসজিদের ২১ নং গেট দিয়ে বের হয়ে সোজা ১ কি.মি হেঁটে গেলে রাস্তার দুই পাশে অনেক হকার মার্কেট/তাবু মার্কেট দেখতে পাবেন। এখান থেকে আরও ১ কি.মি সোজা হেঁটে গেলে হাতের বামে শপিং মল পাবেন, যেমন- Top Ten, Mazaia Mall ইত্যাদিতে সন্তায় সকল ধরনের পণ্য কেনার জন্য যেতে পারেন। এখান থেকে আতর, টুপি, জায়নামায, সৌদি জুব্বা, সৌদি বোরকা, হিজাব, জামা-কাপড়, ঘড়ি, জুতা-সেন্ডেল, কসমেটিকস ইত্যাদি কিনতে পারেন।
শেষ কথা হলো: মদীনা থেকে পারলে রাসূল (ﷺ) এর প্রকৃত সুন্নাহকে ক্রয় করে নিজ অন্তরে গেঁথে নিয়ে আসেন!
📄 মদীনায় দর্শনীয় স্থানসমূহ জিয়রাহ
আপনার হজ্জ এজেন্সি মদীনায় একদিন যিয়ারাহ ট্যুরের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং আপনাদের সবাইকে একত্রে মদীনার নিকটস্থ ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে নিয়ে যেতে পারেন। আপনি এই যিয়ারাহ ট্যুর উপভোগ করবেন। মদীনার চারপাশ ঘুরে দেখার এটাই সূবর্ণ সুযোগ। লক্ষ্য করবেন; মদীনায় অসংখ্য খেজুর বাগান রয়েছে এবং মদীনা অনেক সাজানো গোছানো একটি শহর।
কিছু জিয়ারাতের স্থান খুবই নিকটে, ইচ্ছে করলে পায়ে হেঁটে ঐসব স্থানে যাওয়া যায়, যেমন- বাকী কবরস্থান, মসজিদে আবু বকর, মসজিদে উমর ফারুক, মসজিদে আলী, গামামা মসজিদ ও বিলাল মসজিদ। একা কোথাও ঘুরতে যাবেন না এবং কয়েকদিন মদীনায় থাকার পর ঐসব স্থানগুলো ঘুরতে যাবেন।
এছাড়া ফজরের স্বলাতের পর লক্ষ্য করবেন কিছু মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কার ড্রাইভার ‘যিয়ারাহ, যিয়ারাহ’ বলে ডাকবে। তারা হাজীদের কিছু স্থান ঘুরে দেখাবে। সবচেয়ে ভালো হয় ছোট ছোট দল করে ঘুরতে বের হওয়া, কারণ ড্রাইভার জনপ্রতি ২০-৩০ রিয়াল ভাড়া দাবি করে থাকে। সমস্যা হলো এসব বেশিরভাগ ড্রাইভাররা (বাঙ্গালী, ভারতীয়, পাকিস্থানি) বিভিন্ন যিয়ারাহর জায়গার উল্টা-পাল্টা ও অতিরঞ্জিত ইতিহাস বর্ণনা করে এবং বিভিন্ন আমল করার কথা বলে থাকে যা ইসলামি শরীয়াহ সম্মত নয়। এসব স্থান ভ্রমণ করার সময় অবশ্যই আপনার হজ্জ পরিচয়পত্র ও হোটেলের ঠিকানা সঙ্গে রাখুন।
মদীনা থেকে দূরবর্তী স্থান- বদর আস সুহাদা (বদর যুদ্ধের প্রান্তর; মদীনা থেকে ১৫৫ কিমি দূরত্ব), ওয়াদি আল বাইদা (কথিত জিনের পাহাড়; মদীনা থেকে ৩৫ কিমি দূরত্ব), কিং ফাহাদ কুরআন প্রেস এবং মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় দলগতভাবে কার/মাইক্রো রিজার্ভ করে ঘুরতে যেতে পারেন। জনপ্রতি ৬০-৮০ রিয়াল করে ভাড়া লাগতে পারে।
মদীনায় মসজিদে কুবা ব্যতীত অন্য কোন স্থান যিয়ারাহ করার মধ্যে বিশেষ কোন নেকী বা ফযীলত নেই। যিয়ারতের কোন জায়গা থেকে কোন বরকত লাভ করা যায় না। শুধু মসজিদ হলে দুই রাকাআত তাহিয়্যাতুল মসজিদ স্বলাত পড়া ও কবরস্থান হলে কবরবাসীর জন্য দু'আ করা। অনেকে যিয়ারতের স্থানগুলোতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে শিরক ও বিদআত জাতীয় কাজ করে ফেলেন। তাই সতর্ক থাকা বাঞ্চনীয়। যিয়ারতের উদ্দেশ্য হবে অতীত স্থান ও নিদর্শনসমূহ অবলোকনের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস জানা ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। মনে ইসলামি চেতনা জাগ্রত করা ও ঈমানকে মজবুত করা। যারা যুগে যুগে ইসলামের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে গত হয়ে গেছেন তাদের মাগফিরাতের জন্য দু'আ করা।
বাকি কবরস্থান - মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবিস্থত। ফজরের পর ও আসরের পর কবরস্থান যিয়ারতের জন্য খোলা থাকে। রাসূল(ﷺ) এর পরিবারবর্গ ও ১০ হাজার সাহাবীর কবর আছে। কারো কবরে নাম ফলক বা চিহ্নিত করা নাই।
কুবা মসজিদ - রাসূল (ﷺ) এর প্রতিষ্ঠিত মদীনার প্রথম মসজিদ। হোটেলে ওযু করে কুবা মসজিদে এসে ২রাকাআত স্বলাত পড়লে ১টি উমরাহ সমান নেকি পাওয়া যায়। রাসূল(ﷺ) প্রতিসপ্তাহে ১দিন (শনিবার) এই মসজিদে আসতেন।
জুমআ মসজিদ - মদীনায় রাসূল(ﷺ) প্রথম জুমআর স্বলাত যে স্থানে পড়েছিলেন সেখানে এই মসজিদ নির্মিত হয়। মসজিদে নববী থেকে ২.৫ কি.মি দূরে অবস্থিত।
বিলাল মসজিদ - মসজিদে নববীর দক্ষিণে মসজিদের ৫ নং গেট এর বাইরে ৫০০ মিটার দূরে কুরবান রোডে এই মসজিদের অবস্থান। খেজুর ও বড় স্বর্ণের মার্কেট আছে এর পাশে।
উহুদ পাহাড় - ২য় হিজরীতে উহুদের যুদ্ধে রাসূল(ﷺ) এর চাচা হামজা (রাঃ) সহ ৭০ জন সাহাবী শহীদ হন। উহুদ ২মাথা ওয়ালা পাহাড় ও এর বিপরীতে রুমা পাহাড় আছে যার মাঝের প্রান্তরে যুদ্ধ হয়। এখানে শহীদের কবর আছে।
কিবলাতাইন মসজিদ - যোহর স্বলাতরত অবস্থায় আল্লাহ তাআলা রাসূল(ﷺ) কে কিবলা পরিবর্তন করে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেন। একই স্বলাত দুই কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে পড়ার কারণে নাম কিবলাতাইন।
গামামাহ মসজিদ - রাসূল (ﷺ) এখানে ঈদের স্বলাত পড়তেন। রাসূল(ﷺ) এখানে বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার স্বলাত পড়েছিলেন এবং বৃষ্টি হয়েছিল। মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে ৬ ও ৭ নং গেট এর বাইরে এই মসজিদের অবস্থান।
মসজিদে আবু বকর - এ স্থানে আবু বকর (রাঃ) এর বাড়ি ছিল, পরবর্তীতে এখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এটি গামামাহ মসজিদ সংলগ্ন মসজিদের ৬ ও ৭ নং গেট এর বাইরে এই মসজিদের অবস্থান।
উসমান বিন আফফান মসজিদ - কুরবান রোড এ অবস্থিত।
উমর ফারুক মসজিদ - গামামাহ মসজিদ এর কাছে অবস্থিত। মসজিদে নববী সংলগ্ন।
সালমান ফারসির বাগান - মসজিদে কুবার নিকটবর্তী। সালমান ফারসীকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে রাসূল (ﷺ) এখানে ৩০০ খেজুর গাছ রোপন করেছিলেন। কিছু খেজুরের দোকান আছে এখানে।
শাজারাহ মসজিদ - মদীনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে ১২ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। এটি যুল হুলাইফাতে অবস্থিত মীকাত। রাসূল (ﷺ) মক্কা যাওয়ার পথে এই মসজিদে স্বলাত আদায় করতেন ও ইহরাম করতেন।