📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মদীনা ও মসজিদে নববীর ইতিহাস

📄 মদীনা ও মসজিদে নববীর ইতিহাস


■ মদীনা আরবের এক প্রসিদ্ধ জনপদ। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স) এর নিকট প্রিয় এই শহর, যেখানে রাসূল (ﷺ) হিজরত করেছেন, বসবাস করেছেন, ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ আছে ও তিনি কবরস্থ হয়েছেন।
■ কুরআনুল কারীমের প্রায় অর্ধেক মদীনায় নাযিল হয়েছে। মদীনা ইসলামের প্রাণকেন্দ্র, ঈমানের আশ্রয়স্থল ও মুসলিমদের প্রথম রাজধানী। এই পবিত্র শহর আরও কয়েকটি নামে পরিচিত; ইয়াসরিব, তা-বা (তাইবা), আল আযরা, আল- মুবারাকাহ, আল-মুখতারাহ ইত্যাদি।
■ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (স) বলেছেন; “হে আল্লাহ! মক্কাতে তুমি যে বরকত দান করেছ, তার চেয়ে দ্বিগুন বরকত মদীনাতে দাও”। হে আল্লাহ! আমাদের খাদ্যে ও উপাদানে বরকত দান করুন, আমাদের সা'-এ বরকত দান করুন, আমাদের মুদ্দ-এ বরকত দান করুন"। বুখারী-১৮৮৫, মুসলিম-৩২২৫
■ এক হাদীসে রাসূল (স) বলেছেন, "ঈমান শেষ যামানায় মদীনার পানে ফিরে আসবে যেমন: সাপ নিজ আশ্রয় গর্তে ফিরে আসে"। অপর এক হাদীসে রাসূল (স) বলেছেন, "কেউ যদি দুখ কষ্ট সহ্য করেও এই মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে পারে, সে যেন তাই করে। কেননা আমি কিয়ামতের দিবসে তার জন্য সুপারিশ বা সাক্ষ্য প্রদান করব"। বুখারী-১৮৭৬, ইবনে মাজাহ-৩১১২
■ মদীনায় বসবাস করা উত্তম। নিকৃষ্ট লোকেরা সেখানে অবস্থান করতে পারবে না, এখান থেকে খারাপ লোকেরা বহিষ্কৃত হয়ে যাবে। আর সৎ ব্যক্তিরা সেখানে অবস্থান করতে পারবে। দুঃখ কষ্ট সহ্য করে হলেও মদিনায় অবস্থান করা উত্তম। মদীনাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। মদীনায় মহামারী জাতীয় রোগ ছড়াবে না, মদীনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। মদীনায় প্রবেশের পথসমূহে ফেরেশতারা রক্ষী হিসাবে অবস্থান করছে। বুখারী-১৮৭৫, ১৮৭৯
■ রাসূল (স) 'আইর' ও 'সাউর' এর মধ্যস্থলকে মদীনার হারাম বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মদীনার হারামের অভ্যন্তরে বিধি-নিষেধ কেউ লঙ্ঘন করলে তার প্রতি আল্লাহ, ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের লানত। মদীনায় প্রচুর পরিমানে খেজুরের বাগান ও বেশ কিছু সমতল ভূমি লক্ষ্যনীয়। বুখারী-১৮৬৭, ১৮৭৩
■ রাসূল (স) মদীনায় একটি মসজিদ নির্মাণের নিমিত্তে প্রথমে বনু নজরের সর্দারের কাছ থেকে খেজুর বাগান ও পরে সুহাইল ও সাহল এর কাছ থেকে মসজিদের জন্য জায়গা ক্রয় করেন এবং নিজে মসজিদ নির্মাণে অংশ নেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমরের (রা.) বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলের যুগের মসজিদের ভিত্তি ছিল ইটের, ছাদ ছিল খেজুরের ডালের এবং খুঁটি ছিল খেজুরের গাছের কান্ডের। সেই সময় মসজিদের পরিধি ছিল আনুমানিক ২৫০০ বর্গমিটার।
এরপর উমার (রা.) এর যুগে এবং উসমান বিন আফফান (রা.) এর যুগে মসজিদের সম্প্রসারণ ঘটে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন মুসলিম শাসকের আমলে মসজিদের উন্নয়ন ও সম্প্রসার ঘটে।
এরপর সৌদি সরকার যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন মসজিদের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। ১৯৫১ইং সালে বাদশাহ আব্দুল আযীয আমলে মসজিদের উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম দিকের আশেপাশের ঘর-বাড়ি খরিদ করে ভেঙে ফেলা হয়। মসজিদের দৈর্ঘ্য ১২৮ মিটার ও প্রস্থ ৯১ মিটার করা হয় এবং আয়তন ৬২৪৬ বর্গমিটার থেকে বাড়িয়ে ১৬৩২৬ বর্গমিটার করা হয়। মসজিদের মেঝেতে ঠান্ডা মার্বেল পাথর লাগানো হয়। মসজিদের চার কোনায় ৭২ মিটার উচু চারটি মিনার তৈরি করা হয়। এই সম্প্রসারে ৫ কোটি রিয়াল খরচ হয় ও কাজ শেষ হয় ১৯৫৫ইং সালে।
বাদশাহ ফয়সাল এর আমলে ক্রমবর্ধমান হাজীদের জায়গার সংকুলান না হওয়ার কারণে পশ্চিম দিকের জায়গা বৃদ্ধি করা হয় যার ফলে আয়তন হয়ে দাঁড়ায় ৩৫০০০ বর্গমিটার।
সর্বশেষ ১৯৯৪ইং সালে বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আযীয কর্তৃক মসজিদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন ও বিস্তার সাধিত হয়। পূর্ববর্তী মসজিদের আয়তনের তুলনায় নয় গুণ আয়তন বৃদ্ধি করা হয়। মসজিদকে এত সুন্দর করা হয় যা সারা বিশ্বের মুসলিমদের অন্তর জয় করে। মসজিদের কিছু অংশের ছাদ এমনভাবে বানানো হয়েছে যে প্রয়োজনে ছাদ সরিয়ে আকাশ দেখা যাবে। মূল গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন ৮২০০০ বর্গমিটার হয়। মসজিদের চারপাশে ২৩৫০০০ বর্গমিটার খোলা চত্বরে সাদা শীতল মার্বেল পাথর বসানো হয়। এর ফলে মসজিদের ভিতরে ২৬৮০০০ মুসল্লী এবং মসজিদের বাইরের চত্বরে ৪৩০০০০ মুসল্লীর স্বলাত আদায়ের জায়গা হয়। সম্পূর্ণ মসজিদে এসি, আন্ডারগ্রাউন্ডে ওয়াশরুম ও কার পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদের কাজ শুরু হয় ১৯৮৫ সালে আর শেষ হয় ১৯৯৪ সালে।
মসজিদে নববীর ভিতরে ও আশেপাশে বেশকিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষিত আছে; রাসূল (স) এর কবর, রিয়াদুল জান্নাহ, আসহাবে সুফফা, নবী (ﷺ) এর মেহরাব ও মিম্বার, বেশ কিছু ছোট ছোট মসজিদ।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "মসজিদে হারাম ব্যতীত আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) স্বলাত অন্য স্থানে স্বলাতের চেয়ে ১ হাজার গুণ উত্তম, আর মসজিদে হারামে স্বলাত ১ লক্ষ গুণ উত্তম"। বুখারী-১১৯০, নাসাঈ-২৮৯৮, ইবনে মাজাহ-১৪০৬
মদীনা ও মসজিদে নববীর ইতিহাস বিস্তারিত জানতে 'পবিত্র মদীনার ইতিহাস: শাইখ শফীউর রহমান মোবারকপুরী' বইটি পড়ুন।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মসজিদে নববী যিয়ারত

📄 মসজিদে নববী যিয়ারত


মদীনা সফর করা এবং রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর মসজিদে নববী যিয়ারত করা সুন্নাত মুস্তাহাব কাজ, এটি কোন আবশ্যকীয় বা ওয়াজিব বিষয় নয় এবং হজ্জ/উমরাহর কোন অংশ নয়। হজ্জ/উমরাহর বিধিবিধানের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। মদীনা না গেলেও দোষের কিছু নেই, হজ্জ/উমরাহ হয়ে যাবে। মসজিদে নববী যিয়ারত করা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কাজ। যেহেতু হজ্জ ও উমরাহযাত্রীরা (উমরাহ বা হজ্জ ভিসায়) সফর করে সৌদিআরবে আসেন, তাই হজ্জের আগে অথবা পরে মসজিদে নববী যিয়ারত করার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু অতি আবেগী মানুষ সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে মদীনা সফরকে হজ্জের/উমরাহর অংশ বলে মনে করেন এবং তারা মদীনা না যাওয়াকে খারাপ ও কটু দৃষ্টিতে দেখেন। যারা মদীনা যায় না তারা রাসূল(ﷺ) কে ভালোবাসে না বা রাসূল(ﷺ) এর দুশমন এমন কথা বলে অপপ্রচার করে থাকেন।
নবী(ﷺ) এর কবর যিয়ারত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মনে নিয়ে মদীনায় সফর করা ঠিক নয় এবং এমন চিন্তা ও কাজ করাও ভুল। মদীনায় যেতে হবে মসজিদে নববী দর্শন বা জিয়ারাহ করার ও স্বলাত আদায় করার নিয়তে। কারণ নবী(ﷺ) বলেছেন, "মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকসা ব্যতীত অন্য কোন স্থান বা মসজিদে (নেকী/ফযীলত) উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না"। তবে মসজিদ যিয়ারত ও স্বলাত পড়া শেষে হলে অতঃপর রাসূল(ﷺ) এর কবর যিয়ারত যায়েজ আছে যেহেতুে কবর মসজিদের নিকটবর্তী। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, "আমার কবরকে তোমরা উৎসবে পরিণত করো না"। উৎসবে পরিণত করার অর্থ; কবর কেন্দ্রিক মেলা, উরশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা এবং কবরকে কেন্দ্র করে সফর করাও এর শামিল। রাসূল (ﷺ) জানতেন যুগে যুগে কবর কেন্দ্রিক অতি ভক্তির কারনে অনেক জাতি পথভ্রষ্ট হয়েছে তাই তিনি সতর্ক করে গেছেন। তবে সাধারণভাবে সফররত অবস্থায় পথিমধ্যে কোন আত্মীয়র কবর বা কোন কবরস্থান পড়লে তা যিয়ারত করা যায়েজ আছে। বুখারী-১১৮৯, মুসলিম-৩১৫২, আবু দাউদ-২০৩৩
মদীনায় পৌঁছে হোটেলে উঠে একটু বিশ্রাম নিয়ে হালকা নাস্তা করে (কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন পরিহার করে) ও ওযু বা গোসল করে মসজিদে নববী যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হবেন। মসজিদে নববীতে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করবেন এবং নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করবেন: নাসাঈ-৭২৯
بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
"বিসমিল্লাহি ওয়াসস্বলাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ,
আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা"।
"আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। স্বলাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর উপর। হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দিন"
■ মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে প্রথমে মসজিদের যে কোনো স্থানে দুই রাকাআত তাহিয়‍্যাতুল মসজিদ স্বলাত পড়ুন। তারপর মসজিদের ভিতরে বাইরে চারপাশে ঘুরে দেখুন। অতঃপর রাসূল(ﷺ) এর কবর জিয়ারত করতে মসজিদের আস- সালাম গেট (১ নম্বর গেট) দিয়ে প্রবেশ করবেন।
■ শুধুমাত্র পুরুষরা এই গেট দিয়ে প্রবেশ করে শান্ত ও নম্রভাবে লাইনধরে রাসূল (ﷺ)এর কবরের দিকে একমুখি চলাচলের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাবেন। যেতে যেতে স্বলাতের তাশাহুদে যে দুরূদে ইবরাহীম পাঠ করা হয় তা বেশি বেশি মনে মনে পাঠ করতে থাকবেন। কিছু দূর গিয়ে হাতের বাম পাশে কবরের জায়গার শুরুতে প্রথম স্বর্ণালী খাঁচার দরজা অতিক্রম করে পরবর্তী দ্বিতীয় স্বর্ণালী খাঁচার দরজা (বড় গোল চিহ্ন আছে), যে বরাবর রাসূল(ﷺ) এর কবর তার সামনে এলে একটু থেমে দাঁড়াতে পারেন। দাঁড়ানোর সুযোগ না পেলে চলমান অবস্থায়ই রাসূল(ﷺ) এর প্রতি মৃদুস্বরে/মনে মনে সালাম পেশ করবেন এই বলে:
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
"আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবীয়ু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ"
“হে রাসূল(ﷺ) আপনার উপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক"।
■ রাসূল(ﷺ) এর প্রতি স্বলাত ও সালাম পেশ করার উত্তম পন্থা হলো দুরূদ ইবরাহীম পাঠ করা। সমাজে প্রচলিত অনেক ধরনের বানোয়াটি দুরূদ আছে যেমন - দুরুদে তাজ, হাজারী, লাখী, তুনাজ্জীনা, উলা, নুরীয়া ইত্যাদি। এগুলো কোন হাদীসে খুঁজে পাওয়া যায় না; অতএব এগুলোর আমল পরিহার করা।
■ এবার সামনে এক গজ মতো এগিয়ে বাম পাশের পরবর্তী স্বর্ণালী খাঁচার দরজা (ছোট গোল চিহ্ন আছে) যেখানে যথাক্রমে আবু বাকর (রাঃ) ও উমর(রাঃ) এর কবর আছে তার সামনে এলে তাঁদের উদ্দেশ্যে সালাম দিবেন ও তাঁদের জন্য দু'আ করবেন। তাঁরা যেহেতু কবরবাসী তাই তাঁদের উদ্দেশ্যে কবরবাসীদের দু'আ পাঠ করতে পারেন।
■ কবর যিয়ারতের দু'আ: নাসাঈ-২০৪০, ইবনে মাজাহ-১৫৪৭
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَحِقُونَ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ.
"আসসালামু আলাইকুম আহলাদ্দিয়ারি মিনাল মু'মিনীনা অলমুসলিমীনা, অইন্না ইনশা-আল্লাহু বিকুম লাহিকুন, নাসআলুল্লাহা লানা অলাকুমুল 'আফিয়াহ”।
"আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, হে কবরবাসী মুমিন-মুসলিমগণ। আমরা (আপনাদের সাথে) মিলিত হব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের জন্য ও আপনাদের জন্য আল্লাহর দরবারে পরিত্রাণ কামনা করি"।
■ অনেকে রাসূল(সঃ) এর কবরের সামনে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে অতিরঞ্জিত বিদআতি ও শিরকী কাজ করে ফেলেন। যেমন; কবরের সামনে গিয়ে একাকী বা দলবেঁধে জোরে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা, বিলাপ করে কান্নাকাটি করা, দুই হাতের আঙুল চিমঠির মত করে চুমু খেয়ে চোখে মুছে ফের চুমু খাওয়া, একাকি বা দলবদ্ধ হয়ে কবরের দিকে হাত তুলে দাঁড়িয়ে/বসে দু'আ করা, বরকত লাভের আশায় খাঁচার দরজা ধরতে চেষ্টা করা বা হাত বুলিয়ে হাতে চুমু খাওয়া, যিয়ারত শেষে কবরের দিকে পিছন না ফিরে উল্টাভাবে হেঁটে বের হওয়া ইত্যাদি।
■ অনেকে রীতিমত কবরের সামনে জ্বলাতের মতো হাত বেঁধে দাঁড়ায়, মাথা নিচু করে রুকুর মত ঝুকে সম্মান দেখায়, ইয়া রাসূল.. হে রাসূল.. বলে ডেকে ফরিয়াদ/দু'আ জানায়, প্রয়োজন পূরণ কিংবা পেরেশানি দূর ও রোগমুক্তির জন্য রাসূলের কাছে দু'আ করে, রাসূলের কাছে সরাসরি শাফায়াত জানায়, এমনকি অনেকে সিজদায় পড়ে যায়, অনেকে কবর তাওয়াফ করার চেষ্টা করে; এসব সম্পূর্ণ শিরক করা হয়ে যায়। এসব কাজ করলে ঈমান ভঙ্গ হয়ে যায়। লক্ষ্য করে দেখবেন; রাসূল(সঃ) এর কবরের স্বর্ণালী খাঁচার দরজার সামনে বেশ কিছু সৌদি পুলিশ ও আলেমগন অবস্থান করেন। তাঁরা হাজীদেরকে এসব আবেগতাড়িত ভুল কাজ করা থেকে নিষেধ করেন ও বিরত রাখতে সচেষ্ট থাকেন।
■ কবর যিয়ারত শেষে বের হয়ে পরবেন, এখানে অন্য কোন দু'আ করার কোন আবশ্যকতা/বিধান নেই। এবার বাকীউল গরকাদ বা মাকবারাতুল বাকী কবরস্থান জিয়ারতে যেতে পারেন। সেখানে শায়িত কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিবেন বা কবর যিয়ারতের দু'আ পড়বেন। কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য হলো নিজের মৃত্যু ও আখিরাতের বিষয় স্মরণ করা এবং কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তিদের মাগফিরাত ও নাজাতের জন্য দু'আ করা। উল্লেখ্য যে, কবর যিয়ারতের নিয়ম হিসাবে কবরের সামনে গিয়ে সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, দুরূদ পাঠ করা সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত পদ্ধতি নয় এবং কুরআন ও হাদীসে এর কোন দলীল নেই।
■ রাসূল(সঃ) কে তাঁর কবরের সামনে গিয়ে সালাম দেওয়া আর ঘরে বসে বা হাজার মাইল দূর থেকে সালাম পেশ করা একই মান ও মর্যাদার। মদীনায় কবরের সামনে গিয়ে সালাম দেওয়া খাস ব্যাপার বা রাসূল(সঃ) শুনতে পাচ্ছেন; এসব ভ্রান্ত কথা ও মানুষের বানানো অতিভক্তি। অনেকে আবার বলেন, আমার সালাম মদীনায় রাসূল (সঃ) এর কবরের কাছে পৌঁছে দিয়েন! এসবও ভিত্তিহীন। এক হাদীসে রাসূল(সঃ) বলেছেন, "তোমাদের বাড়িগুলোকে কবরস্থান বানিও না এবং আমার কবরকে উৎসবের কেন্দ্রস্থল করো না। আমার প্রতি তোমরা দুরূদ ও সালাম পাঠ করো। কেননা (দুনিয়ার) যেখান থেকেই তোমরা দুরূদ পাঠ করো তাই আমার কাছে পৌছিয়ে দেওয়া হয়"। আবু দাউদ-২০৪২
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "আল্লাহর একদল ফেরেশতা রয়েছে যারা পৃথিবী জুড়ে বিচরণ করছে। যখনই কোন উম্মত আমার প্রতি সালাম জানায় ঐ ফেরেশতারা তা আমার কাছে তখন পৌছিয়ে দেয়”। রাসূল(ﷺ) বলেছেন, "যে কেউ যখন আমাকে সালাম দেয় তখনই আল্লাহ তাআলা আমার রুহকে ফেরত দেন, অতঃপর আমি তার সালামের জবাব দেই”। নাসাঈ-১২৮২, আবু দাউদ-২০৪১
নারীদের কবর যিয়ারত নিয়ে আলেম-উলামাদের মাঝে মতভেদ আছে। এক হাদীসে রাসূল (ﷺ) কবর যিয়ারতকারী মহিলাদের লানত করেছেন। পরবর্তীতে এক হাদীসের মাধ্যমে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। তাই মতভেদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উত্তম হবে কবর যিয়ারতকে উদ্দেশ্য করে কোথাও না যাওয়া যেহেতু রাসূল(ﷺ) কে সালাম যে কোন জায়গা থেকে দেওয়া যায়। তবে সাধারণভাবে যে কোন কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরবাসীদের সালাম দেওয়া ও দু'আ করা নারীদের জন্য যায়েজ আছে।
মসজিদে নববীর ভিতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো রিয়াদুল জান্নাহ বা রওজা; বাংলায় 'জান্নাতের বাগান'। রাসূল(ﷺ) বলেছেন, "আমার ঘর ও মসজিদের মিম্বারের মধ্যবর্তী জায়গাটুকু জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে একটি বাগান"। বুখারী-১১৯৫
পুরুষরা রওজায় প্রবেশ করতে মসজিদে নববীর ২,৩,৪ নং গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং মহিলাদের ২৩,২৪,২৫ নং গেট দিয়ে ঢুকতে হবে। রওজার জায়গার নির্ধারিত স্থানে হালকা/গাড়ো সবুজ রঙের কার্পেট বিছানো থাকে। রওজা নির্দিষ্ট কিছু সময়ে খোলা হয় যিয়ারত ও স্বলাত পড়ার জন্য। সবসময়ই লোকজনের প্রচন্ড ভীড় ও ধাক্কাধাক্কি থাকে রওজায় প্রবেশের গেট ও রাস্তায়। অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়ে যান এখানে। সেন্ডেল ও ব্যাগ মসজিদের অন্য কোথাও রেখে এখানে ঢোকা উচিত। একবার মানুষের ভীড়ের মধ্যে ঢুকে পড়লে পিছনে ফিরে আসার সুযোগ নেই। পিছন থেকে প্রচন্ড মানুষের চাপ কাজ করে তাই শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চেষ্টা করতে হবে। এখানে পুলিশ বেরিকেড দিয়ে দল দল ভাগ করে হাজীদের রওজায় নিয়ে যায় যিয়ারত ও স্বলাত পড়ার ব্যবস্থা করে। সাধারণত রওজায় ঢুকতে ও যিয়ারত করে বের হতে পুরুষদের ১-২ ঘন্টা সময় লেগে যায় আর মহিলাদের ২-৩ ঘন্টা লেগে যায়। রওজায় ঢুকে কোন মতে দুই রাকাআত স্বলাত পড়ে তাড়াতাড়ি বের হয়ে পড়তে হবে। দেখবেন এতো লোকের চাপাচাপি থাকে যে ঠিকমতো সিজদাও করা যায় না। স্বলাত পড়া শেষ হলে পুলিশ বের করে দিবে। রওজার জায়গা থেকে বের হওয়ার সময় রাসূল(ﷺ) এর কবরের সামনে দিয়ে কবর জিয়ারত করে বের হওয়া যায়। মহিলাদের শুধু রওজা যিয়ারত, কোন কবর যিয়ারতের সুযোগ নেই। শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ মানুষদের রওজায় যাওয়া ঠিক হবে না। মদীনায় গিয়ে যে রওজা জিয়ারত করতেই হবে তার কোন আবশ্যকতা নেই।
সর্বশেষ কিছু বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, যদিও বিষয়গুলো উমরাহ বা হজ্জের সাথে সম্পৃক্ত নয়। কিন্তু যেহেতু বিশ্বাস বা আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত বিষয় এবং এগুলোর ভুল ও ভ্রান্ত বিশ্বাস কুফরী ও শিরকের পর্যায়ে পরে এবং মানুষের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্থ করে সেহেতু এই বিষয়গুলোকে উল্লেখ করা ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে করছি। অনেকে বিচলিত হতে পারেন এগুলো পড়ে, কারণ যুগ যুগ ধরে যা শুনে এসেছেন তার বিপরীত মনে হতে পারে। আমার দায়িত্ব শুধু জানিয়ে দেওয়া, যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা বা বর্জন করা আপনার দায়িত্ব।
অনেকে রাসূল(ﷺ) সম্পর্কে এমন ভ্রান্ত ধারণা, বিশ্বাস বা আক্বীদা পোষণ করেন যে - (১). আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম মুহাম্মাদ(ﷺ) এর নূর সৃষ্টি করেছেন আর এই নূর দিয়েই সমস্ত বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে। (২). রাসূল(ﷺ) নূরের তৈরি (তিনি মাটির তৈরি মানুষ নন)। (৩). রাসূল(ﷺ) হায়াতুন নবী (তিনি জীবিত আছেন, মৃত্যু বরণ করেন নাই)। (৪). রাসূল (ﷺ) মৃত্যু বরণ করেন নাই বরং তিনি জীবিত/পর্দার আড়াল হয়েছেন। (৫). রাসূল (ﷺ) এর অসিলায় এই বিশ্বজগত সৃষ্ট (তাঁকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি হত না)। (৬). রাসূল(ﷺ) গায়েবের খবর রাখেন (তিনি অদৃশ্যের জ্ঞান রাখতেন)। (৭). রাসূল(ﷺ) এর কবরের মাটির মর্যাদা আল্লাহর আরশের চেয়েও বেশি। (৮). রাসূল(ﷺ) কবরে শুয়ে এই পৃথিবীর সব কিছু দেখছেন, শুনছেন ও খবর রাখছেন। (৯). রাসূল(ﷺ) কবরে থেকে বিভিন্ন পীর/বুজুর্গ/ওলী বান্দাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। (১০). রাসূল(ﷺ) পৃথিবীতে হাজির-নাজির হওয়ার ক্ষমতা রাখেন (বিভিন্ন মিলাদ মাহফিলের কিয়ামে হাজির হন)। (১১). রাসূল (ﷺ) কে রাসূলে পাক বলে ডাকা এবং পাক পাঞ্জাতন এর অংশ বলে বিশ্বাস করা। (১২). রাসূল(ﷺ) এর বংশধর তথা আওলাদে রাসূল এর খেদমত করলে বা মুরিদ হলে কিয়ামতের মাঠে রাসূল(ﷺ) এর শাফায়াত পাওয়া যাবে। (১৩), রাসূল (ﷺ) এর কবর, পাগড়ি, লাঠি, সান্ডেল, চুল, জামা-কাপড় ইত্যাদির ছবি ঘরে টাঙ্গিয়ে রাখলে বিশেষ বরকত ও রহমত লাভ করা যায়। (১৪). যিনিই আল্লাহ তিনিই মুহাম্মাদ (ﷺ) বা আল্লাহ আর মুহাম্মাদ(ﷺ) সমান সমান বিশ্বাস করা। নাউজুবিল্লাহ...
শিক্ষিত, সুবিজ্ঞ ও ঈমান বিষয়ে সচেতন পাঠকমন্ডলীর উপর এই বিষয়গুলো কুরআন ও হাদীসের বিশুদ্ধ দলীল ভিত্তিক বিশ্লেষণসহ জ্ঞান আহরণ এবং বিশ্বাস স্থাপনের জন্য আহবান জানিয়ে আল্লাহ তাআলার হেদায়েতের উপর ন্যাস্ত করে দিলাম। আল্লাহুম্মা ইয়াহদিনা। আমিন।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মদীনা ও মসজিদে নববী সম্পর্কিত তথ্য

📄 মদীনা ও মসজিদে নববী সম্পর্কিত তথ্য


■ মসজিদে নববী অত্যন্ত প্রশান্তিদায়ক, চমৎকার ও জমকালো মসজিদ।
■ মসজিদে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা দরজা ও স্বলাতের জায়গা রয়েছে।
■ মক্কার তুলনায় এখানে হোটেল বা বাসা মসজিদের খুব কাছাকাছি হবে বলে আশা করা যায় এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও এখানে বেশি হবে।
■ মসজিদে প্রবেশের প্রতিটি গেটে নিরাপত্তাকর্মী থাকে এবং তারা বড় আকারের বা সন্দেহজনক ব্যাগ চেক করে থাকেন।
■ মসজিদের বাইরে চত্বরে চারপাশে টয়লেট, ওযু ও গাড়ি পার্কিং সুবিধা রয়েছে স্কেলেটরের মাধ্যমে বেসমেন্ট ফ্লোরে গিয়ে।
■ কিং ফাহাদ গেট মসজিদের অন্যতম প্রধান বড় প্রবেশ গেট (২১-ডি); এমন ৫ দরজা বিশিষ্ট ৭টি বড় গেট আছে।
■ মসজিদের ভেতরে ও বাইরে ২২৯টি দরজা, ১৯৬টি স্থির ও চলমান গম্বুজ, ১০টি মিনার রয়েছে।
■ মসজিদের প্রতিটি বড় প্রবেশ দরজার ফটকে স্বলাতের সময়সূচি টাঙানো আছে।
■ মসজিদের চত্বরের চারপাশে ২৬২টি সানশেড বৈদ্যুতিক ছাতা রয়েছে। এসব ছাতা দিনের বেলায় খোলা থাকে এবং রাতে বন্ধ থাকে।
■ হজ্জযাত্রীদের শীতল বাতাস প্রদানের জন্য প্রতি বৈদ্যুতিক ছাতার খুঁটিতে দুটি করে কুলার ফ্যান রয়েছে।
■ মসজিদে পুরুষদের ১১নং দরজার দুই তলায় এবং মহিলাদের ১৬/২৪ নং দরজার দুই তলায় পাঠাগার আছে। বাংলা কুরআন, তাফসীর ও হাদীস বই আছে।
■ মসজিদের ভেতরে সবজায়গায় জমজম কূপের পানির কন্টেইনার পাওয়া যায় এবং এই পানি ছোট বোতলে ভরে হোটেলে/বাড়িতে নিয়ে আসাও যাবে।
■ মসজিদের ভেতরে জুতা-সেন্ডেল রাখার জন্য অসংখ্য শেলফ্ রয়েছে। পর্যাপ্ত চেয়ার, বুক শেলফ ও রেহাল আছে।
■ মসজিদের ভেতরে প্রতিটি পিলারে নিচের দিকে এসি-র ব্যবস্থা রয়েছে। সম্পূর্ণ মসজিদে এসির ব্যবস্থা রয়েছে।
■ মসজিদের ভেতরে সকল জায়গার কার্পেটের রঙ গাড়ো লাল/সবুজ। রিয়াদুল জান্নাহ বা রওজা এলাকার কার্পেটের রঙ হালকা সবুজ ও সাদা।
■ নীল/সবুজ পোশাক পরিহিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মসজিদের ভেতরে কাজ করে; এদের অধিকাংশই এসেছে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে।
■ মসজিদের মধ্যে অনেক বইয়ের শেলফ রয়েছে। এসব শেলফ থেকে কুরআন মাজীদ নিয়ে পড়তে পারেন।
■ বৃদ্ধ ও শিশু হারিয়ে গেলে বাকি কবরস্থানের কাছে অফিসে খবর দিতে হয়।
■ রিয়াদুল জান্নাহ জায়গার এবং মসজিদের সামনের দিকে প্রথম কয়েকটি সারির কাতার নির্মাণশৈলি পুরনো তুর্কি আমলের যেখানে ইমাম জ্বলাতে দাঁড়ান।
■ মসজিদের বাইরে চত্বরে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান বরাবর চিহ্নিত সাইনবোর্ড আছে, যেটি পার করে জামাআতে জ্বলাতে দাঁড়ানো যাবে না।
■ মসজিদের ১৯নং গেট দিয়ে ভেতরে ৩৬নং চেয়ারে বাংলাভাষী আলেমগণ (মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণারত) হালাকা বা তাবলীগ করেন।
■ প্রত্যেক ওয়াক্তের স্বলাতের পর মসজিদের ভেতরে কিছু জায়গায় আরবী, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় কিছু আলেমগণ হালাকা করেন বা আলোচনা করেন।
■ মসজিদের ভেতরে একটি জায়গায় কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিশু ও বাচ্চাদের কুরআন শিখানো হয় আসর ও মাগরিবের স্বলাতের পর।
■ রওজা সকাল (৬-১০টা) ও রাত (৮-১২টা) মহিলা দর্শনার্থীদের স্বলাত আদায়ের জন্য কাপড় দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। রিয়াদুল জান্নাহ রয়েছে রাসূল (ﷺ) এর মেহরাব, খুতবার মিম্বার ও মিনার।
প্রত্যেক ওয়াক্তের স্বলাতের পর মসজিদের ভেতরে কিছু জায়গায় কুরআন পড়া শুদ্ধিকরণ কার্যক্রম করেন কিছু আলেমগণ। এখানে অবশ্যই বসবেন। রওজায় সবসময়ই ভিড় লেগে থাকে। এ কারণে হজ্জযাত্রীদের এখানে এসেই স্বলাত আদায় করে দ্রুত বের হওয়া উচিত যাতে অন্যরা সুযোগ পান।
মসজিদের ৩৭-ডি গেটের ভিতরে বাম পাশের সিঁড়ি দিয়ে ৩ তলায় উঠে গেলে ফ্রি বাংলা বই বিতরনের অফিস আছে। অনেক ধরনের বই বিতরণ হয় এখানে।
মসজিদের ভিতরে তথ্য প্রদর্শনী ডিজিটাল বোর্ড (কিওসক ডিসপ্লে) থেকে বিভিন্ন বই বার কোর্ড স্ক্যানের মাধ্যমে ডাউনলোড করার ব্যবস্থা আছে।
জুমআর দিন মোবাইলে এফ.এম রেডিও চ্যানেলে ১০৭.৯ এ জুমআর খুতবা বাংলা ভাষায় লাইভ শোনার ব্যবস্থা এখানে আছে।
কবরের জায়গার ১ম ও ৩য় দরজাটিও ফাঁকা আছে। কথিত আছে যে, ঈসা (আঃ) ও ইমাম মাহদী এর কবরের জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে (যদিও প্রমাণিত নয়)!
মসজিদের ভেতরে ও বাইরে হাজীদের আপ্যায়ন হিসাবে অনেকে ইফতার বা নাস্তা/ফল/লাবান/খেজুর/গাওয়া/চা বিতরণ করে থাকেন।
বাকি কবরস্থান সকাল (৬-৮টা), বিকাল (৩.৩০-৫টা) যিয়ারতের জন্য খোলা থাকে। ঋতুভেদে সময় কিছুটা পরিবর্তন হয়।
মসজিদে নববীর বাউন্ডারীর চারপাশে কিছু মিউজিয়াম ও এক্সিবিশন হল আছে। এগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।
মসজিদে নববীর বর্তমান ইমামদের নামসমূহ ১. আব্দুর রহমান আল হুদাইফি, ২. সালাহ আল বুদাইর, ৩. আব্দুল্লাহ আল বুইজান, ৪. আব্দুল বারী আল তুবাইতি, ৫. আহমেদ তালেব হামিদ, ৬. আব্দুল মুহসিন আল কাসিম (রহঃ)।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মসজিদে নববী দর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত

📄 মসজিদে নববী দর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত


* নবী (স) এর কবর যিয়ারতের নিয়তে বা মূখ্য উদ্দেশ্যে মদীনা ভ্রমণ করা।
* কেউ কেউ হজ্জযাত্রীদের কাছে তাদের সালাম রাসূল (স) এর কবরের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনুরোধ করা।
* মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত স্বলাত পড়ার জন্য পুরো ৮ দিন মদীনায় অবস্থান করা বাধ্যতামূলক বা নিয়ম মনে করা।
* মদীনা ও মসজিদে প্রবেশের পূর্বে গোসল করতে হবে বলে শর্ত মনে করা।
* মদীনায় প্রবেশের সময় ও মসজিদের মিনার দেখার পর জোরে তাকবীর দেওয়া বা এই দু'আ পড়া নিয়ম মনে করা: (এই এলাকা তোমার বার্তাবাহকের পবিত্র এলাকা, তুমি একে রক্ষা কর..)।
* মদীনায় প্রবেশের পর কোন নির্ধারিত দু'আ পড়া নিয়ম মনে করা।
* মসজিদে প্রবেশের পর রাসূল (স) এর কবর আগে যিয়ারত করা জরুরী মনে করা।
* কবরের কাছে গিয়ে দু'আ করা বড় ফযীলত মনে করা ও কবরের দিকে মুখ করে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
* কোন মনের ইচ্ছা পূরণের আশায় কবরের কাছে গিয়ে দু'আ করা।
* রাসূল (স) এর কবরের দরজার খাঁচা চুমু খাওয়া অথবা স্পর্শ করার চেষ্টা করা অথবা এর চারপার্শ্বের দেয়াল অথবা পিলারে চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করা।
* রাসূল (স) এর কাছে অনুনয়-বিনয় করে শাফায়াত চাওয়া বা কিছু চাওয়া।
* রাসূল (স) এর কবরের দিকে মুখ করে স্বলাত আদায় করা বা কবরকে সামনে রেখে বসে দু'আ-যিক্র করা।
* প্রতি স্বলাতের পরে রাসূল (স) এর কবর যিয়ারত করতে যাওয়া জরুরী বা ভাল মনে করা। রাসূল এর কবরের কাছে স্বলাত পড়া বেশি নেকীর মনে করা।
* স্বলাতের পর উচ্চস্বরে বিশেষ বিশেষ দু'আ দুরূদ বলা বিশেষ ফযীলত মনে করা বা প্রচলিত বানোয়াটি ও বিদআতি দুরূদ পাঠ করা।
* রাসূল (স) এর কবরের উপরে সবুজ গম্বুজ থেকে পতিত বৃষ্টির পানি থেকে কোন কল্যাণ বা বরকত কামনা করা।
* হজ্জযাত্রীদের নিয়ে রাসূল (স) এর কবরের পাশে অথবা একটু দূরে সমবেত হয়ে বসে সমবেত কণ্ঠে উচ্চৈস্বরে দু'আ দুরূদ পাঠ করা।
* মসজিদে নববী ও মসজিদে কুবা ব্যতিত মদীনার অন্য কোনো মসজিদ দর্শন করে সওয়াবের ও ফজিলতের আশা করা।
* মসজিদের খুঁটিতে বা বিভিন্ন যিয়ারাহর স্থানে সুতা বা ফিতা বাঁধা কোনো কল্যাণ বা বরকত মনে করা।
* মদীনার অলিতে গলিতে রাসূল (স) এর পায়ের ধুলা মিশে আছে তাই কোন সেন্ডেল বা জুতা না পরে খালি পায়ে মদীনায় হাঁটা চলা করা।
* মদীনা থেকে বরকত মনে করে নুড়ি-পাথর বা বালি-মাটি নিয়ে সংরক্ষণ করা ও তাবিজ-কবজ বানানোর জন্য নিজ দেশে নিয়ে আসা।
* মদীনা থেকে বিদায়ের সময় মসজিদে নববীতে ২ রাকাআত বিদায়ী স্বলাত পড়া ও বিদায়ী কবর/রওজা যিয়ারত করা নিয়ম বা জরুরী মনে করা।
* মসজিদ থেকে শেষবার বের হওয়ার সময় সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে উল্টোমুখি হয়ে পিছন দিকে হেঁটে বের হওয়া।
* মদীনা থেকে বিভিন্ন দুআ ও কেলিওগ্রাফীর ছবি ও পোষ্টার নিয়ে দেশে আসা ঘরে ঝুলিয়ে রাখার জন্য যার মাধ্যমে কিছু বরকত ও ফয়েজ হয়।
* বাকী কবরস্থানকে অনেকে জান্নাতুল বাকি নামে ডেকে থাকে যা ভুল। কবরস্থানের নাম মাকবারাতুল বাকি বা বাকিউল গরকাদ। কবরস্থানের সকলকে জান্নাতি মনে করা যাবে না কারণ অনেক না জানা মুনাফিকেরও কবর আছে।
* রাসূল (স) এর কবর ও রওজা দুটি ভিন্ন জায়গা। অনেকে কথায় কথায় রাসূল (স) এর রওজা বলে কবরকে বুঝান, যা সম্পূর্ন ভুল। কবর রওজার জায়গার বাইরে। অনেকে রাসূল (স) এর কবরকে কবর বলা অসম্মান মনে করেন।
* অনেকে মনে করেন মসজিদের ভিতরে রাসূল (স) এর কবর। কিন্তু আসলে কবর মসজিদের সীমানার বাইরে একপাশে। মসজিদের ভিতরে কবর দেওয়া বা কবরকেন্দ্রিক মসজিদে স্বলাত পড়া নিষেধ। প্রথমত, কবরকে কেন্দ্র করে এই মসজিদ নির্মিত হয়নি। আগে মসজিদ থেকে দূরে কবর ছিলো। পরে মসজিদের জায়গা সম্প্রসারণের ফলে কবর এখন মসজিদের সীমানার পাশে চলে এসেছে।
* আবার অনেকে মনে করেন রাসূল (স) এর কবর বাঁধানো আছে! অথচ কবর বাঁধানো ও উচু করা নিষেধ। আসলে অনেক আগে থেকেই কবরের চারপাশে দূর দিয়ে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে সুরক্ষার জন্য। কারণ রাসূল (স) এর কবর মাটি ক্ষনন করে চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
* মদীনার ফযীলত বিষয়ে কিছু প্রচলিত দুর্বল ও জাল হাদীস: "যে হজ্জ করতে এসে আমার কবর যিয়ারত করল না সে আমাকে ত্যাগ করলো", "যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে", "যে হজ্জ করতে এসে আমার কবর যিয়ারত করল সে যেন আমার সাথে জীবিত অবস্থায় সাক্ষাত করল", "এই মসজিদে ১ রাকাআত জ্বলাতের নেকী ৫০০০০ গুণ"।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00