📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 যারা হজ্জে ক্বিরান করবেন

📄 যারা হজ্জে ক্বিরান করবেন


৮ যিলহজ্জের আগে:
■ মীকাতের বাহির থেকে আগত ব্যক্তিগণ মীকাত থেকে উমরাহ ও হজ্জের নিয়তে ইহরাম করবেন, (মক্কার অধিবাসীরা তাদের বাসস্থান থেকে করবে) একইসঙ্গে হজ্জ ও উমরাহ শুরু করার স্বীকৃতি দিবেন এবং তালবিয়া পাঠ করতে থাকবেন। মুসলিম-২৯১৮
“লাব্বাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান"।
■ তাওয়াফুল কুদুম করতে পারেন। এটা বাধ্যতামুলক নয়, সুন্নাত।
■ তাওয়াফুল কুদুমের সঙ্গে সাঈও করতে পারেন তবে সাঈর পর মাথা মুন্ডন করবেন না। আবার কেউ যদি সাঈ না করেই হজ্জ করতে চলে যান তাহলে তাকে তাওয়াফুল ইফাদার পরে অবশ্যই সাঈ করতে হবে। ইবনে মাজাহ-২৯৭২, তিরমিযী-৯৪৮
■ তাওয়াফুল কুদুম ও সাঈ শেষ করার পর থেকে ৮ যিলহজ্জ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে এবং ইহরামের সকল বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।

৮ যিলহজ্জ:
■ যেহেতু আপনি ইহরাম অবস্থায়ই আছেন, তাই মিনায় চলে যাবেন এবং হজ্জে তামাতুর মত সকল বিধান পালন করবেন, তবে নতুন করে হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিবেন না, কারণ ইহরাম করার সময় আপনি হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিয়েছেন। ইবনে মাজাহ-২৯৭৫

৯ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মত সকল বিধান পালন করবেন।

১০ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতোই সকল বিধান পালন করবেন, তবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে।
■ তাওয়াফুল কুদুমের পর সাঈ করে না থাকলে তাওয়াফে ইফাদার পরে তা করতে হবে। তবে কেউ যদি তাওয়াফে কুদুমের সময় সাঈ করে থাকেন তাহলে তা আর করতে হবে না। এতে কোন ক্ষতি নেই। বুখারী-১৬৩৮, নাসাঈ-২৯৮৬

১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতো সকল বিধান পালন করবেন। বিদায় তাওয়াফের ক্ষেত্রে হজ্জে তামাতুর মতো একই নিয়ম প্রযোজ্য。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 যারা হজ্জে ইফরাদ করবেন

📄 যারা হজ্জে ইফরাদ করবেন


৮ যিলহজ্জের আগে:
■ মীকাতের বাহির থেকে আগত ব্যক্তিগণ মীকাত থেকে শুধু হজ্জের নিয়তে ইহরাম করবেন, (মক্কার অধিবাসীরা তাদের বাসস্থান থেকে করবে) এবং হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিয়ে তালবিয়া পাঠ করতে থাকবেন।
"লাব্বাইক আল্লাহুম্মা হাজ্জান"।
■ তাওয়াফুল কুদুম করতে পারেন। এটা বাধ্যতামুলক নয়, সুন্নাত।
■ তাওয়াফুল কুদুমের সঙ্গে সাঈও করতে পারেন তবে সাঈর পর মাথা মুন্ডন করবেন না। আবার কেউ যদি সাঈ না করেই হজ্জের জন্য যান তাহলে তাকে তাওয়াফুল ইফাদার পরে অবশ্যই সাঈ করতে হবে।
■ তাওয়াফুল কুদুম ও সাঈ শেষ করার পর থেকে ৮ যিলহজ্জ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে এবং ইহরামের সকল বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।

৮ যিলহজ্জ:
■ যেহেতু আপনি ইহরাম অবস্থায়ই আছেন, তাই মিনায় চলে যাবেন এবং হজ্জে তামাত্তুর মত সকল বিধান পালন করবেন, তবে নতুন করে হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিবেন না, কারণ ইহরাম করার সময় আপনি হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

৯ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মত সকল বিধান পালন করবেন।

১০ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতোই সকল বিধান পালন করবেন, তবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে।
■ বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর হালাল হয়ে যাবেন। কোনো হাদী করতে হবে না। ইবনে মাজাহ-৩০৪৬
■ তাওয়াফুল কুদুমের পর সাঈ করে না থাকলে তাওয়াফে ইফাদার পরে করতে হবে। তবে কেউ যদি তাওয়াফে কুদুমের সময় সাঈ করে থাকেন তাহলে তার আর করতে হবে না। এতে কোনো ক্ষতি নেই।

১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতো সকল বিধান পালন করবেন। বিদায় তাওয়াফের ক্ষেত্রে হজ্জে তামাতুর মতো একই নিয়ম প্রযোজ্য。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 যারা বদলী হজ্জ করবেন

📄 যারা বদলী হজ্জ করবেন


■ বদলী হজ্জের ক্ষেত্রে বদলী হজ্জ আদায়কারী আগে নিজের ফরজ হজ্জ আদায় করেছেন এমন হতে হবে। অতঃপর তিনি অন্যের জন্য বদলী হজ্জ করতে পারেন। অবশ্য বেশিরভাগ হজ্জ এজেন্সীরা এই বিষয়টিকে তোয়াক্কা করেন না বা হালকা করে দেখেন। আবু দাউদ-১৮১১
■ বদলী হজ্জ নিয়োগকারী ব্যক্তি (বিকলাঙ্গ, অতি বার্ধক্য, অক্ষম, অতি অসুস্থ) জীবিত থাকলে তার ইচ্ছানুযায়ী (তামাতু/কুিরান/ইফরাদ) হজ্জ বদলী হজ্জ আদায়কারীকে করতে হবে। অবশ্য বদলী হজ্জ নিয়োগকারী মৃত হলে হজ্জের প্রকার বদলী হজ্জ আদায়কারীর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। মুসলিম-৩১৪৩
■ বদলী হজ্জ আদায়কারী বদলী হজ্জ নিয়োগকারীর আত্মীয় হওয়া আবশ্যক নয়। সন্তান যদি তার পিতা-মাতার কারোর বদলী হজ্জ আদায় করতে চায় তবে আগে তার মায়ের হজ্জ করাই উত্তম, বাবার জন্য করলেও দোষ নেই।
■ কোন পুরুষের বদলী হজ্জ কোন নারী করতে পারবে অনুরুপ কোন নারীর বদলী হজ্জ কোন পুরুষ করতে পারবে। বুখারী-১৮৫৫
■ উল্লেখ্য যে, এক হজ্জ সফরে শুধুমাত্র একজনের জন্যই একটি বদলী হজ্জ করা যাবে। নিজের উমরাহ সম্পাদন হয়ে থাকলে অন্যের জন্য বদলী উমরাহ করা যায়েজ আছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলেমদের মত অনুযায়ী বদলী আদায়কারী তার নিজের জন্যেও একটি পূর্ণ উমরাহ ও হজ্জের সাওয়াব পেয়ে যাবে। রাসূল (ﷺ) এর নামে/পক্ষে উমরাহ বা হজ্জ করার কোন শরীয়তে ভিত্তি নেই।
■ বদলী হজ্জ আদায়কারী ব্যক্তি যে কোন একটি হজ্জের নিয়ম অনুসারে সবকিছু করবেন শধুমাত্র উমরাহ বা হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি জন্য নিম্নরুপ পন্থা আবলম্বন করবেন:
■ উমরাহ শুরু করার স্বীকৃতি দেওয়ার সময় বলবেন: “লাব্বাইকা উমরাতান আন (অমুক)"; অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির নাম।
■ হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দেওয়ার সময় বলবেন: "লাব্বাইকা হাজ্জান আন (অমুক)"; অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির নাম।
■ বদলী হজ্জ আদায়কারী ব্যক্তি যার পক্ষ থেকে আদায় করছেন তার কথা স্মরণ করে উমরাহ ও হজ্জের বিবিধ কাজের শুরুতে মনে মনে নিয়ত করবেন বা ইচ্ছা পোষণ করবেন; যেমন- ইহরাম করা, তাওয়াফ, সাঈ, হাদী, কংকর নিক্ষেপ, কসর/হলকু ইত্যাদি। কোন কিছুর নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে বলতে হবে না। বদলী উমরাহ ও হজ্জ পালনের যাবতীয় পদ্ধতি কোন এক প্রকার হজ্জের মত হুবুহু পালন করলেই হয়ে যাবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00