📄 তাওয়াফুল বিদা/বিদায় তাওয়াফ
■ তাওয়াফুল বিদা হজ্জের শেষ ওয়াজিব কাজ। রাসূল(ﷺ) বিদায় তাওয়াফ আদায় করেছেন এবং বলেছেন, "বায়তুল্লাহয় শেষ তাওয়াফ না করে তোমাদের কেউ যেন না যায়।” অন্য এক বর্ণনা অনুসারে রাসূলুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলেছেন, লোকদেরকে বলো, তাদের শেষ কর্ম যেন হয় বায়তুল্লাহর সাথে সাক্ষাত, তবে তিনি মাসিক ঋতুবতী নারীর জন্য ছাড় দিয়েছেন। বুখারী-১৭৫৫, মুসলিম-৩১১০, আবু দাউদ-২০০২
■ হজ্জ শেষে এই তাওয়াফ আপনি মক্কা ছাড়ার আগ মুহূর্তে করবেন। মনে রাখবেন এটাই হবে মক্কায় আপনার শেষ কাজ। এই তাওয়াফের পর কোন সময়ক্ষেপনকারী কাজ করা যাবে না; যেমন, দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না। ওজর ছাড়া বেশি সময় পার করলে আবারও তাওয়াফ করতে হবে। এই তাওয়াফের পর সাঈ করতে হবে না। এই তাওয়াফ সাধারণ নফল তাওয়াফের মত; তবে তাওয়াফ শেষে ২ রাকাআত স্বলাত আদায় করতে হবে। তাওয়াফ শেষে জমজম পানি পান করে বাহির হন। অনেকে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় সম্মান প্রদর্শন করে উল্টামুখী হয়ে বের হন যার কোন ভিত্তি নাই। মুসলিম-৩১৮৮, আবু দাউদ-২০২২
■ কোন নারী যদি তাওয়াফে ইফাদাহ করার পর ঋতুবতী হন এবং তাওয়াফে বিদার জন্য অপেক্ষা করতে না পারেন তাহলে তিনি চলে যেতে পারেন। এর জন্য কোন দম দেওয়ার দরকার হবে না। বুখারী-১৭৫৫, ১৭৫৭, মুসলিম-৩১১১
■ এই তাওয়াফের মাধ্যমে আপনার হজ্জে তামাত্তু পূর্ণ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহ তাআলার শুকরীয়া আদায় করুন তিনি আপনাকে পরিপূর্ণভাবে হজ্জ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন。
📄 একনজরে উমরাহ ও হজ্জে তামাত্তুর সকল ধারাবাহিক কাজসমূহ
উমরাহ'র ধারাবাহিক কাজসমূহ:
৮ যিলহজ্জের পূর্বে বা মীকাত (মক্কায় প্রবেশের সময়) পূর্বে:
১. নিয়ম অনুযায়ী ইহরাম করা
মসজিদে হারাম:
১. বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা
২. তাওয়াফের পর ২ রাকাআত স্বলাত পড়া
৩. জমজমের পানি পান করা
৪. সাফা ও মারওয়া সাঈ করা
৫. কসর/হলকু করা
হজ্জের ধারাবাহিক কাজসমূহ:
১ যিলহজ্জের পূর্বে বা নিজ বাসস্থান:
১. হাত-পায়ের নখ, গোপনাঙ্গের চুল কাটা
৮ যিলহজ্জ (হজ্জের ১ম দিন) - মিনা:
১. হজ্জের ইহরাম করে সূর্য উদয়ের পর মিনায় চলে আসা
২. মিনায় যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও পর দিন ফজরের স্বলাত কসর করে আদায় করা
৩. মিনার তাবুতে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, তাসবীহ, ইসতিগফার করতে থাকা।
৯ যিলহজ্জ (হজ্জের ২য় দিন) - আরাফার ময়দান এবং মুযদালিফার ময়দান:
১. সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে বের হয়ে দ্বি-প্রহরের পূর্বে আরাফাতে চলে আসা।
২. তাকবীরে তাশরীক পড়া শুরু করা।
৩. যোহরের আউয়াল ওয়াক্তে যোহর ও আসর একত্রে কসর করে আদায় করা।
৪. আরাফার ময়দানে দু'আ, যিকির, তাসবীহ, ইসতেগফারে মশগুল থাকা।
৫. সূর্যাস্তের পর মুযদালিফায় রওনা হওয়া।
৬. মুযদালিফায় এশার ওয়াক্তে মাগরিব ও এশা একত্রে কসর করে আদায় করা।
৭. মুযদালিফায় রাতে ঘুমিয়ে কাটানো এবং কংকর সংগ্রহ করা।
১০ যিলহজ্জ (হজ্জের ৩য় দিন) - মুযদালিফা, মিনা ও মক্কা:
১. মুযদালিফায় ফজরের আউয়াল ওয়াক্তে ফজর স্বলাত পড়ে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত দু'আ করা।
২. সূর্যোদয়ের পূর্বে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া
৩. দ্বি-প্রহরের পূর্বে বড় জামারায় গিয়ে ৭টি কংকর মারা।
৪. হাদী জবেহ করা।
৫. কসর/হলকু করে ইহরাম কাপড় খুলে সাধারণ পোশাক পরা।
৬. মসজিদে হারামে গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারাহ ও সাঈ করা।
৭. মধ্য রাতের পূর্বে মিনার তাবুতে ফিরে গিয়ে মিনায় রাত্রিযাপন করা।
৮. এদিনের সকল জ্বলাতসমূহ আউয়াল ওয়াক্তে কসর করে আদায় করে নেওয়া।
১১ যিলহজ্জ (হজ্জের ৪র্থ দিন) - মিনা:
১. আগের দিন কসর/হলক্ব, হাদী জবেহ এবং তাওয়াফে যিয়ারাহ ও সাঈ না করে থাকলে আজ ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো সেরে ফেলা।
২. দ্বি-প্রহরের পর তিন জামারাতে গিয়ে ৭টি করে মোট ২১টি কংকর মারা।
৩. মিনায় অবস্থান, রাত্রিযাপন এবং তাবুতে দু'আ, যিকির, তাসবীহ ও ইসতিগফার করা।
৪. তাবুতে সকল স্বলাতসমূহ আউয়াল ওয়াক্তে কসর করে আদায় করা।
১২ যিলহজ্জ (হজ্জের ৫ম দিন) - মিনা:
১. আগের দিন কসর/হলকু, হাদী জবেহ এবং তাওয়াফে যিয়ারাহ ও সাঈ না করে থাকলে আজ ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো সেরে ফেলা।
২. দ্বি-প্রহরের পর তিন জামারাতে গিয়ে ৭টি করে মোট ২১টি কংকর মারা।
৩. প্রয়োজনে সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করে চলে আসা অন্যথায় মিনায় রাত্রিযাপন করে তাবুতে দু'আ, যিকির ও ইসতিগফার করা।
৪. তাবুতে সকল স্বলাতসমূহ আউয়াল ওয়াক্তে কসর করে আদায় করা।
১৩ যিলহজ্জ (হজ্জের ৬ষ্ঠ দিন) - মিনা:
১. দ্বি-প্রহরের পর তিন জামারাতে গিয়ে ৭টি করে মোট ২১টি কংকর মারা।
২. অতঃপর মিনা ত্যাগ করে চলে আসা। মক্কা ত্যাগ করার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করা।
📄 যারা হজ্জে ক্বিরান করবেন
৮ যিলহজ্জের আগে:
■ মীকাতের বাহির থেকে আগত ব্যক্তিগণ মীকাত থেকে উমরাহ ও হজ্জের নিয়তে ইহরাম করবেন, (মক্কার অধিবাসীরা তাদের বাসস্থান থেকে করবে) একইসঙ্গে হজ্জ ও উমরাহ শুরু করার স্বীকৃতি দিবেন এবং তালবিয়া পাঠ করতে থাকবেন। মুসলিম-২৯১৮
“লাব্বাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান"।
■ তাওয়াফুল কুদুম করতে পারেন। এটা বাধ্যতামুলক নয়, সুন্নাত।
■ তাওয়াফুল কুদুমের সঙ্গে সাঈও করতে পারেন তবে সাঈর পর মাথা মুন্ডন করবেন না। আবার কেউ যদি সাঈ না করেই হজ্জ করতে চলে যান তাহলে তাকে তাওয়াফুল ইফাদার পরে অবশ্যই সাঈ করতে হবে। ইবনে মাজাহ-২৯৭২, তিরমিযী-৯৪৮
■ তাওয়াফুল কুদুম ও সাঈ শেষ করার পর থেকে ৮ যিলহজ্জ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে এবং ইহরামের সকল বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।
৮ যিলহজ্জ:
■ যেহেতু আপনি ইহরাম অবস্থায়ই আছেন, তাই মিনায় চলে যাবেন এবং হজ্জে তামাতুর মত সকল বিধান পালন করবেন, তবে নতুন করে হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিবেন না, কারণ ইহরাম করার সময় আপনি হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিয়েছেন। ইবনে মাজাহ-২৯৭৫
৯ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মত সকল বিধান পালন করবেন।
১০ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতোই সকল বিধান পালন করবেন, তবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে।
■ তাওয়াফুল কুদুমের পর সাঈ করে না থাকলে তাওয়াফে ইফাদার পরে তা করতে হবে। তবে কেউ যদি তাওয়াফে কুদুমের সময় সাঈ করে থাকেন তাহলে তা আর করতে হবে না। এতে কোন ক্ষতি নেই। বুখারী-১৬৩৮, নাসাঈ-২৯৮৬
১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতো সকল বিধান পালন করবেন। বিদায় তাওয়াফের ক্ষেত্রে হজ্জে তামাতুর মতো একই নিয়ম প্রযোজ্য。
📄 যারা হজ্জে ইফরাদ করবেন
৮ যিলহজ্জের আগে:
■ মীকাতের বাহির থেকে আগত ব্যক্তিগণ মীকাত থেকে শুধু হজ্জের নিয়তে ইহরাম করবেন, (মক্কার অধিবাসীরা তাদের বাসস্থান থেকে করবে) এবং হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিয়ে তালবিয়া পাঠ করতে থাকবেন।
"লাব্বাইক আল্লাহুম্মা হাজ্জান"।
■ তাওয়াফুল কুদুম করতে পারেন। এটা বাধ্যতামুলক নয়, সুন্নাত।
■ তাওয়াফুল কুদুমের সঙ্গে সাঈও করতে পারেন তবে সাঈর পর মাথা মুন্ডন করবেন না। আবার কেউ যদি সাঈ না করেই হজ্জের জন্য যান তাহলে তাকে তাওয়াফুল ইফাদার পরে অবশ্যই সাঈ করতে হবে।
■ তাওয়াফুল কুদুম ও সাঈ শেষ করার পর থেকে ৮ যিলহজ্জ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে এবং ইহরামের সকল বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।
৮ যিলহজ্জ:
■ যেহেতু আপনি ইহরাম অবস্থায়ই আছেন, তাই মিনায় চলে যাবেন এবং হজ্জে তামাত্তুর মত সকল বিধান পালন করবেন, তবে নতুন করে হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিবেন না, কারণ ইহরাম করার সময় আপনি হজ্জ শুরু করার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
৯ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মত সকল বিধান পালন করবেন।
১০ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতোই সকল বিধান পালন করবেন, তবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে।
■ বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর হালাল হয়ে যাবেন। কোনো হাদী করতে হবে না। ইবনে মাজাহ-৩০৪৬
■ তাওয়াফুল কুদুমের পর সাঈ করে না থাকলে তাওয়াফে ইফাদার পরে করতে হবে। তবে কেউ যদি তাওয়াফে কুদুমের সময় সাঈ করে থাকেন তাহলে তার আর করতে হবে না। এতে কোনো ক্ষতি নেই।
১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্জ:
■ হজ্জে তামাতুর মতো সকল বিধান পালন করবেন। বিদায় তাওয়াফের ক্ষেত্রে হজ্জে তামাতুর মতো একই নিয়ম প্রযোজ্য。