📄 ১০ যিলহজ্জ : তাওয়াফুল ইফাদাহ ও সাঈ করা
■ ১০ যিলহজ্জের দিনে করণীয়: এই তাওয়াফের অপর নাম তাওয়াফে যিয়ারাহ, মূলত এটি হজ্জের ফরজ তাওয়াফ। তাওয়াফুল ইফাদাহ করা ও সাঈ করা হজ্জের ফরয কাজ। যদি মিনা থেকে মক্কায় এই তাওয়াফ করতে যান তবে দুই ভাবে যেতে পারেন। এক: পায়ে হেঁটে জামারাত পার করে প্যাডেস্ট্রিয়ান টানেল (সুরঙ্গ পথ) রাস্তা দিয়ে। দুই: মিনায় কিং ফয়সাল ওভারব্রিজ এর উপর থেকে বা জামারাতের পাশে থেকে কার বা মটরসাইকেল ভাড়া করে। আর আপনি যদি মাথা মুন্ডন করার পরপরই মক্কা/আজিজিয়া/শির্শা চলে গিয়ে থাকেন তবে আপনার হোটেল বা বাসা থেকেই তাওয়াফ করতে যেতে পারেন।
■ রাসূলুল্লাহ(ﷺ) ১০ যিলহজ্জ সূর্য মধ্য আকাশে থেকে হেলে যাওয়ার পর এই তাওয়াফ সম্পন্ন করেছিলেন। মূলত সেই দিন সূর্য উদয়ের পর থেকে এই তাওয়াফ করা যাবে। উত্তম হবে এই তাওয়াফ ১০ যিলহজ্জ সূর্যাস্তের মধ্যে করা। তবে কোন কষ্ট/সমস্যার মুখোমুখি হলে ১২ যিলহজ্জের সূর্যাস্তের মধ্যে যে কোন সময় এই তাওয়াফ করে নেওয়া যাবে। অবশ্য কিছু মুহাক্বীক উলামাদের মত অনুযায়ী এই তাওয়াফ যিলহজ্জ মাস শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত করা যাবে। যার যার তাওয়াফ তাকে নিজেই করতে হবে। অন্য কাউকে কারো পক্ষ থেকে তাওয়াফ করতে পাঠানো যাবে না। প্রয়োজনে হুইল চেয়ারের আশ্রয় নিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করতে হবে। মুসলিম-৩০৫৬
■ মক্কায় যেভাবে সবসময় সাধারণ নফল তাওয়াফ করেছেন ঠিক তেমনি হবে এই তাওয়াফের নিয়ম। এই তাওয়াফে কোন ইহরামের কাপড় নেই, কোন ইদত্বিবাহ করার প্রয়োজন নেই এবং তাওয়াফে রমল করা নেই। সাধারণ পোশাক পরে এই তাওয়াফ করবেন। ১০ থেকে ১২ যিলহজ্জ এই তাওয়াফের সময় প্রচুর লোকের চাপ হয়। তাই অবস্থা বুঝে ফাঁকা জায়গা দিয়ে তাওয়াফ শেষ করবেন। ইবনে মাজাহ-৩০৬০
■ তাওয়াফ শেষে মাক্কামে ইবরাহীমের পেছনে অথবা মসজিদে হারামের যে কোনো স্থানে দুই রাকাআত স্বলাত পড়বেন। এরপর জমজমের পানি পান করবেন এবং কিছু পানি মাথায় ঢালবেন। এবার সাফা পাহাড়ে গিয়ে ঠিক উমরাহর মতো সাঈ করবেন। এই সাঈর পর আর চুল কাটতে হবে না।
■ ঋতুবতী মহিলাগণ এই তাওয়াফ করার জন্য অপেক্ষা করবেন। তাওয়াফ না করে আগে শুধু সাঈ করা যাবে না। তাওয়াফের পর সাঈ করতে হবে। যখন ঋতু বন্ধ হয় তখন তাওয়াফ সেরে নিবেন। এক্ষেত্রে কোন দম দিতে হবে না। আর যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত কোন ক্রমেই অপেক্ষা করা যাচ্ছে না অর্থাৎ মক্কা ছেড়ে চলে যেতে হবে ও পরবর্তীতে এসে তাওয়াফ যিয়ারাহ আদায় করে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই, তবে জমহুর ফুকহা ও আলেম-উলামাদের মত অনুযায়ী ন্যাপকিন ভালো ভাবে বেঁধে তাওয়াফ ও সাঈ সেরে নিতে হবে।
■ এই তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করার পর যৌনসঙ্গম হালাল হয়ে যাবে। একে বলে তাহালুল আল আকবার বা চূড়ান্ত হালাল হওয়া।
■ ১০ যিলহজ্জ তাওয়াফ ও সাঈ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ১১ যিলহজ্জ মধ্য রাতের পূর্বেই আইয়্যামে তাশরীকের রাত্রিযাপনের জন্য মিনায় ফিরে যেতে হবে। এদিনের সকল স্বলাতসমূহ স্বলাতের আউয়াল ওয়াক্তে কসর করে আদায় করে নেওয়া।
📄 ১০ যিলহজ্জ : কাজের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ
■ এটি একটি বিতর্কিত বিষয়। হজ্জে যাওয়ার আগে এ সম্পর্কে জানা থাকা জরুরি। অনেকে ১০ যিলহজ্জ এর সকল কাজগুলো তারতীব বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করার জন্য বলবে, যা কথা ঠিক এবং সেটিই সুন্নাহ। কিন্তু যদি কোন কারণে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হয়ে যায় তবে একটি পশু যবেহ করে দম দিতে বলবে; যা শুদ্ধ নয়। সহীহ হাদীসের তথ্যসূত্র অনুসারে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হলে কোন দমের কথা বলা নেই বরং এতে কোনো ক্ষতি/সমস্যা নেই বলা আছে। আল্লাহ তাআলা অসীম দয়ালু ও করুণাময়, তাই তিনি তার বান্দাদের উপর কোনো বিষয় কঠিন করে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেন না। আপনি যদি সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল।
■ ১০ যিলহজ্জ যদি এমন হয়, না জানার কারণে হজ্জের কোনো বিধান ধারাবাহিক ভাবে সম্পাদন করা হয়নি অথবা কোনো অসুবিধা/ওজর/জটিলতার কারণে কোন বিধান এর ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হয়ে যায় তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। এর জন্য কোনো কাফফারা আদায় করতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করা মোটেই ঠিক নয়। (উদাহরণ: আপনি ব্যাংক এর মাধ্যমে হাদী করার ব্যবস্থা করেছেন আর আপনার টিকিট/ভাউচারে হাদী করার সময় যদি সকাল ১০টা লেখা থাকে তবে আপনি তো ১১টার পরই কসর/হলকু করে হালাল হয়ে যাবেন। কিন্তু যদি আপনার হাদী করতে বিলম্ব হয়ে যায় তবে তো আপনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে গেলো কিন্তু আপনি তা জানতেও পারলেন না! এতে আপনার কোন দোষ নেই বা গুনাহও নেই।)
■ ১০ যিলহজ্জের কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে করা সুন্নাত, যথা কংকর নিক্ষেপ, হাদী, কসর/হলকু, তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ করা; কিন্তু কেউ যদি ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে কোনটি আগে বা কোনটি পরে করে ফেলে কোনো কারণে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত বেশ কয়েকটি হাদীসে লোকদের ১০ যিলহজ্জের কাজগুলো আগে পরে হওয়ার কথা শুনে যেমন- কেউ পাথর মারার আগে হাদী করে ফেলেছে, হাদী না করে হলকু করেছে, তাওয়াফ করে হলক্ব করেছে এমন এমন শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "কোন অসুবিধা নেই", "কোন সমস্যা নেই", "কোন দোষ নেই"। বুখারী-১৭২২, ১৭৩৬, মুসলিম-৩০৪৭, আবু দাউদ-১৯৮৩, ২০১৪, তিরমিযী-৯১৬. ইবনে মাজাহ-৩০৪৯
📄 ১১ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ
■ ১১ যিলহজ্জে করণীয়: ১১ যিলহজ্জ রাতে মিনায় রাত্রীযাপন করা এবং দ্বিপ্রহরের পর ৩ টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা।
■ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ১০ যিলহজ্জ মক্কায় তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ শেষ করে মিনায় ফিরে আসেন এবং তাশরীকের রাত্রিগুলো মিনায় অবস্থান করেন। মিনা থেকে জামারাত যাওয়ার রাস্তায় কোন গাড়ির ব্যবস্থা নেই তাই সম্পূর্ণ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে। মিনার তাবু থেকে জামারাতের দূরত্বের উপর নির্ভর করে যাওয়া ও আসা মিলে ৮-১০ কি.মি হাঁটতে হতে পারে। মুসলিম-৩০৫৬, ৩০৬৮, আবু দাউদ-১৯৭৩
■ যদি ১০ যিলহজ্জ তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ না করা হয়ে থাকে তবে উত্তম হবে এই তাশরীকের রাতটি মিনায় অবস্থান করে পরদিন সকালে বা বিকালে মক্কায় গিয়ে ফরজ তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করে মিনায় ফিরে আসা। আবার ১১ যিলহজ্জ সন্ধ্যায় মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করে মধ্যরাতের আগে মিনায় ফিরে আসতে পারলেও কোন সমস্যা নেই। মিনায় রাতের অর্ধভাগ অথবা অর্ধেকের বেশি সময় অবস্থান করা বাঞ্চনীয়।
■ মিনায় দুপুরের সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩ টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করবেন, এটি কংকর নিক্ষেপের উত্তম সুন্নাত সময়। এতে মোট ২১টি কংকর লাগবে (প্রতিটির জন্য ৭টি করে)। প্রচন্ড ভীড় বা কোন ওজর বশত অসুস্থ্য, অতিদুর্বল, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিক হওয়ার আগ পর্যন্ত কংকর নিক্ষেপ করা যায়েজ অথবা তার পক্ষ থেকে অন্য একজনকে কংকর নিক্ষেপ করার জন্য নিয়োগও করতে পারবেন।
■ কংকর নিক্ষেপের সময় জামারাতে ধারাবাহিকতা (ছোট, মধ্যম, বড়) রক্ষা করা অত্যাবশ্যকীয়। ঋতুবতী মহিলাগণ ঋতু অবস্থায় জামারাতে গিয়ে কংকর মারতে কোন সমস্যা নেই। বুখারী-১৭৪৬, নাসাঈ-৩০৬৩, আবু দাউদ-১৯৭১, তিরমিযী-৮৯৬
■ প্রথমে জামারাতুল সুগরা (ছোট জামারাহ) নিকটবর্তী হয়ে কাবা হাতের বামে ও মিনা হাতের ডানে রেখে অথবা যে কোন ভাবে দাঁড়িয়ে ডান হাত উঁচু করে আলাদা আলাদাভাবে ৭টি কংকর একে একে নিক্ষেপ করবেন এবং প্রতিবার নিক্ষেপের সময় বলবেন: 'আল্লাহু আকবার'। বুখারী-১৭৫১
■ প্রথম জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলার দিকে মুখ করে ও দুই হাত উঠিয়ে ইচ্ছামত একাকী দীর্ঘক্ষণ দু'আ করবেন। এটা কিন্তু দু'আ কবুলের স্থান ও সময়। এরপর পরবর্তী মধ্যম জামারার দিকে এগিয়ে যাবেন। বুখারী-১৭৫১
■ এবার জামারাতুল উদ্ভা (মধ্যম জামারাহ) নিকটবর্তী হয়ে প্রথম জামার ন্যায় ৭টি কংকর নিক্ষেপ করবেন এবং দ্বিতীয় জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথম জামার ন্যায় ইচ্ছামত একাকী আবার দীর্ঘক্ষণ দু'আ করবেন। এরপর পরবর্তী বড় জামারার দিকে এগিয়ে যাবেন।
এবার জামারাতুল আকাবা (বড় জামারাহ) নিকটবর্তী হয়ে বিগত দুই জামারাতের মতো করে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করবেন। তৃতীয় জামারায় কংকর নিক্ষেপ শেষ করে আর কোন দু'আ নেই। দু'আ না করেই জামারাত ত্যাগ করবেন এবং মিনার তাবুতে ফিরে যাবেন। বুখারী-১৭৫১, নাসাঈ-৩০৮৩
মিনার তাবুতে অবস্থানকালে ৮ যিলহজ্জের মত কসর করে স্বলাত আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, দু'আ, যিকির ও ইসতিগফার করা বাঞ্ছণীয়। তাবুর মধ্যে শুধু ঘুমিয়ে অথবা গল্পগুজব ও ঘুরাঘুরি না করে মিনার সময়গুলোকে কাজে লাগানো উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেন, "অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমার বাপদাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ।.." সূরা আল বাকারা: ২:২০০। তাশরীকের দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা যাবে না। মিনায় ৩ বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। মিনায় এই তাশরীকের রাত্রীযাপন করা ওয়াজিব।
সতর্কতা: কিছু দেশের হজ্জ এজেন্সিদের দেখা যায় তারা ১১ যিলহজ্জ রাত মিনায় যাপন করেন না। কারণ তারা মিনায় রাত্রিযাপনকে সুন্নাত হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন মতাদর্শের বেশিরভাগ আলেম ও উলামাগণ মিনায় তাশরীকের রাত্রীযাপন করাকে ওয়াজিব হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এটিই অধিক সঠিক ও নিরাপদ কাজ। অনেক হজ্জ এজেন্সি আবার ১১ যিলহজ্জ রাতের কিছুক্ষণ মিনায় অবস্থান করে মধ্য রাতের আগেই হাজীদের নিয়ে মিনা ত্যাগ করে মক্কা/আজিজিয়া/শির্শায় হোটেলে চলে যায়। পরদিন যোহরের পর জামারাতে এসে কংকর নিক্ষেপ করে আবার মিনার তাবুতে কিছুক্ষণ থেকে ফের হোটেলে চলে যায়। এরূপ করাটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীদের আমলের বিপরীত। মিনায় রাত্রিযাপন যদি ওয়াজিবের পর্যায়ে পড়ে থাকে তবে দিন যাপন করা সুন্নাত, এতে কোন সন্দেহ নেই। সর্বোপরি রাসূল(স) দিন ও রাত উভয়টাই মিনায় যাপন করেছেন। ইবনে মাজাহ-৩০৬৫
এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কি করবেন? আপনি যদি তাকওয়া অবলম্বনকারী ও রাসূল(ﷺ) এর সুন্নাহর আলোকে হজ্জ করতে চান তবে দল থেকে আলাদা হয়ে মিনায় অবস্থান করবেন। কারণ মিনায় অবস্থান করা ওয়াজিব বাদ দিলে দম দিতে হবে আর দম না দিলে হজ্জ ত্রুটিযুক্ত থেকে যাবে। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য আছে সেহেতু নিরাপদ পন্থা বা মাসআলা অবলম্বন করাই শ্রেয়। আপনি নিশ্চয়ই এই কয় দিনে মিনার পথ-ঘাট কিছুটা চিনে যাবেন আর হাতে যদি মোবাইল ফোন ও কিছু সৌদি রিয়াল থাকে তাহলে কোন সমস্যা হবে না। হজ্জের এই শেষ পর্যায়ে একটু কষ্ট করে ওয়াজিব ও সুন্নাতগুলো পালন করুন। হজ্জে যাওয়ার পূর্বে এজেন্সির সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে তাদের মনোভাবটাও বুঝে ফেলতে পারেন তারা ইতিপূর্বে কি করেছে! এই বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব না করে বরং এজেন্সিকে নসীহত বা অনুরোধ করতে পারেন মিনায় রাত্রিযাপন করার বিষয়ে। যদি তা ফলপ্রসু না হয় তবে আপনার সাথে মতের মিল হয় এমন এক-দুইজনকে নিয়ে মিনায় থাকার পরিকল্পনা করতে পারেন।
আরেকটি বিষয়: কিছু কিছু মিনার তাবুর এলাকায় মাইকে এমন ঘোষনা দেয় যে - অমুক মুয়াল্লিম হাজীদের জন্য সকাল ৯টা-১০টা পাথর নিক্ষেপের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব সকাল ৯টা-১০টায় জামারাতে গিয়ে পাথর মেরে আসুন। এই ঘোষনা শুনে অনেক এজেন্সি পাথর মেরে চলে আসে। কিন্তু পাথর নিক্ষেপের সুন্নাহ সাব্যস্ত সময় শুরু হয় দুপুরের সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে। এমন মাইকিং করা হোলেও উচিত হবে দুপুরের সূর্য্য হেলে যাওয়ার পর গিয়ে পাথর মেরে আসা। ওখানে কোন কোন কাজ করার জন্য কেউ জোর বা বাধ্য করবে না আপনাকে。
📄 ১২ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ
১২ যিলহজ্জে করণীয়: ১২ যিলহজ্জ রাতে মিনায় রাত্রীযাপন করা এবং দ্বিপ্রহরের পর ৩ টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা।
যদি এখনো তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ না করা হয়ে থাকে তবে উত্তম হবে এই তাশরীকের রাতটি মিনায় অবস্থান করে পরদিন মক্কায় গিয়ে ফরজ তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করে মিনায় ফিরে আসা। আবার ১২ যিলহজ্জ সন্ধ্যায় মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করে মধ্যরাতের আগে মিনায় ফিরে আসতে পারলেও কোন সমস্যা নেই। মিনায় রাতের অর্ধেকের বেশি সময় অবস্থান করা বাঞ্চনীয়।
১১ যিলহজ্জের মত একই নিয়মে দুপুরের সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩ টি জামরায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ শেষ করা।
সাধারণত ১২ যিলহজ্জ প্রথম ওয়াক্তে কংকর মারার প্রচন্ড ভীড় থাকে। তাই একটু দেরী করে বিকালের দিকে গেলে ভালো হয়। বিশেষ ওজর বা প্রয়োজনে ১২ যিলহজ্জ মিনা অবস্থান করা শেষ করা যায়। বিশেষ কোনো কষ্ট/সমস্যার কারণে বা কোন তাড়া/জলদি থাকলে; যেমন: সম্পদ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলে, জীবনের নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে, রোগীর সেবার করার জন্য সাথে থাকা লাগলে, চাকরী হারানোর ভয় থাকলে, পারিবারিক গুরুতর সমস্যা ইত্যাদি এমন বিশেষ কারণে ১২ যিলহজ্জ কংকর নিক্ষেপ করে সূর্যাস্তের পূর্বেই একেবারে মিনা ছেড়ে মক্কা/আজিজিয়া/শির্শায় ফিরে যেতে চাইলে যাওয়া যাবে। এতে কোনো দোষ নেই। তবে কোনো কারণ ছাড়া ১২ যিলহজ্জ মিনা ত্যাগ না করাই উত্তম। কংকর নিক্ষেপের জন্য মিনায় ১৩ যিলহজ্জ পর্যন্ত অর্থাৎ ৩দিন-৩রাত অবস্থান করা রাসূল (স) এর সুন্নাত।
■ আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "..যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই। আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ নেই, এটা তার জন্য; যে তাকওয়া অবলম্বন করে"। সূরা-আল বাকারা, ২:২০৩
■ যদি ১২ যিলহজ্জ মিনায় থাকার পর্ব ও কংকর নিক্ষেপের পর্ব শেষ করতে চান তবে অবশ্যই সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনার সীমানা ত্যাগ করতে হবে। মিনায় সূর্যাস্ত হয়ে গেলে আর মিনা ত্যাগ করা যাবে না এবং তখন রাতে মিনায় অবস্থান করে পরবর্তী দিন একই নিয়মে তিনটি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে তারপর মিনা ত্যাগ করতে হবে। মিনা ত্যাগ করে চলে গেলে হজ্জের সর্বশেষ কাজ বাকি থাকে বিদায় তাওয়াফ করা। দেশে ফেরা বা মদীনা গমণের আগে এই তাওয়াফ করতে হবে। নাসাঈ-৩০৪৪
■ সতর্কতা: কিছু দেশের হজ্জ এজেন্সিদের দেখা যায় ১২ তারিখে কংকর নিক্ষেপের পর হাজীদের নিয়ে মিনা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি। তারা কুরআনের ঐ আয়াত পেশ করে অথবা দলের কয়েকজন লোকের অসুস্থতার অযুহাত দেখিয়ে, সবাই দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে গেছে, আশেপাশে সবাই চলে যাচ্ছে, তাবুতে আর বিদ্যুৎ ও পানি থাকবে না, তাবু সব গুছিয়ে ফেলা হবে ইত্যাদি বলে সবাইকে নিয়ে হোটেলে চলে যায়। তাদের উদ্দেশ্য হলো তাদের কষ্ট লাঘব করা ও শর্টকাটে হজ্জ শেষ করানো। ওজর থাকতে পারে কারো ব্যক্তিগত, তবে সে অনুযায়ী তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সকলকে ওজরের আওতায় ফেলে এমন কাজ করা অনুচিত। অনেকের ৩ রাত মিনায় থাকার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু তাদের বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয় এজেন্সির কারণে। এজেন্সি ৩ রাত মিনায় থাকতে চাইলে সৌদি মুআল্লিম ৩ রাত ব্যবস্থাপনা রাখবে। কিন্তু এজেন্সি যদি চলে যায় তবে তারা তাবু গুছিয়ে ফেলে।
■ এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কি করবেন? আবার একই কথা বলবো। আপনি যদি তাকওয়া অবলম্বনকারী হন ও বিশেষ কোন ওজর/কষ্ট/তাড়া না থাকে তবে দল থেকে আলাদা হয়ে মিনায় অবস্থান করুন। আর ১টি মাত্র দিনের বিষয়। রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ অনুসরণ করে ৩ রাত মিনায় অবস্থান করে অতঃপর জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করে হোটেলে ফিরে যান। যদি তাবুতে কেউ না থাকে বা তাবু গুছিয়ে ফেলা হয় তবে জামারাতের কাছাকাছি খাইফ মসজিদে গিয়ে থাকা যায়। মসজিদ তখন অনেক ফাঁকা হয়ে যায় কিন্তু ২৪ ঘন্টা মসজিদে এসি চলে এবং আশেপাশে বাথরুম ও খাওয়া-দাওয়ার ভালো ব্যবস্থাপনা থাকে সেখানে。