📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ১০ যিলহজ্জ : কসর/হালক্ব করা

📄 ১০ যিলহজ্জ : কসর/হালক্ব করা


■ ১০ যিলহজ্জের দিনে করণীয়: হাদী জবেহ হয়ে যাওয়ার পর মাথার সকল অংশ থেকে সমানভাবে ছোট করে চুল ছেঁটে ফেলা (কসর) অথবা সম্পূর্ণ মাথা মুন্ডন করা (হলক্ব)। তবে মুন্ডন করাই উত্তম। কুরআনে মাথা মুন্ডন করার কথা আগে এসেছে আর ছোট করার কথা পরে। রাসূল (ﷺ) ও বেশিরভাগ সাহাবীরাই সমস্ত মাথা মুন্ডন করেছিলেন। আবু দাউদ-১৯৮০
■ হজ্জে যারা মাথা মুন্ডন করেছিলেন তাদের জন্য রাসূল (ﷺ) রহমত ও মাগফিরাতের দু'আ করেছেন তিন বার। আর যারা চুল ছোট করেছিলেন তাদের জন্য দু'আ করেছেন একবার। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "তোমাদের কেউ মাথা মুন্ডন করবে ও কেউ কেউ চুল ছোট করবে।" হাদীসে এসেছে, "আর তোমরা মাথা মুন্ডন কর, এতে প্রত্যেক চুলের বিনিময়ে একটি সাওয়াব ও একটি গুনাহের ক্ষমা রয়েছে।" সুরা আল-ফাতাহ, ৪৮:২৭. বুখারী-১৭২৮, মুসলিম-৩০৪১
■ এসময় দেখবেন রাস্তায় অনেকে হাতে ইলেকট্রিক রেজার বা ট্রিমার বা ক্ষুর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হজ্জের এই সময়ে চুল কাটাতে ২০-৩০ রিয়াল পর্যন্ত দাবি করে থাকে। ২-৪মিনিটে আপনার মাথার পুরো চুল ফেলে দিবে। নাপিতকে ডান দিক থেকে চুল কাটা শুরু করতে বলবেন। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে এমনটি করেছেন। নিজেদের কাছে রেজার বা ক্ষুর থাকলে আপনারা একে অপরের চুল ফেলে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি কারো চুল ফেলবেন তার চুল আগে ফেলা থাকা জরুরী নয়। মুসলিম-৩০৪৩, আবু দাউদ-১৯৮২, তিরমিযী-৯১২
■ মহিলারা তাদের মাথার সমগ্র চুলের অগ্রভাগ হতে তর্জনী আঙ্গুলের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ কাটবেন (প্রায় এক ইঞ্চি)। নারীদের জন্য হলক নেই। নারীদের মাথা মুন্ডন করা যায়েজ নয়। আবু দাউদ-১৯৮৪
■ এবার ইহরামের কাপড় খুলে ফেলবেন এবং প্রয়োজনে গোসল করতে পারেন। এখন সাধারণ কাপড় পরবেন। ইহরাম থেকে হালাল হওয়া হজ্জের ওয়াজিব কাজ। একে বলে তাহালুল আল আসগার বা প্রাথমিক হালাল। এখন আপনার উপর থেকে যৌন সঙ্গম ছাড়া ইহরামের সকল নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল। আপনি এখন দেহে সুগন্ধীও ব্যবহার করতে পারবেন। নাসাঈ-৩০৮৪
■ হালাল হওয়ার পর ইচ্ছা করলে ১০ যিলহজ্জ মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ করে মধ্য রাতের আগেই মিনায় চলে আসবেন। আর যদি ঐ দিন বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েন তবে রাতটি মিনায় অবস্থান করবেন এবং পরবর্তী ১১/১২ যিলহজ্জ কোন এক সময় মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ করে আসতে পারেন। তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা অব্যাহত রাখুন।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 হাদী ও কসর/হালক্ব করার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত

📄 হাদী ও কসর/হালক্ব করার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত


* হাদী না করে এর সমপরিমাণ অর্থ সেবামূলক খাতে দান করে দেয়া।
* মাথার চুল ছাঁটানোর ক্ষেত্রে বাম দিক দিয়ে শুরু করা।
* মাথার কিছু অংশ মুড়ানো এবং আর কিছু অংশ কসর করা।
* মাথা মুড়ানোর সময় কিবলার দিকে মুখ করে বসা নিয়ম মনে করা।
* কাচি দিয়ে মাথার বিভিন্ন অংশ থেকে কিছু চুল কেটে বক্সে সংরক্ষণ করে রাখা।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ১০ যিলহজ্জ : তাওয়াফুল ইফাদাহ ও সাঈ করা

📄 ১০ যিলহজ্জ : তাওয়াফুল ইফাদাহ ও সাঈ করা


■ ১০ যিলহজ্জের দিনে করণীয়: এই তাওয়াফের অপর নাম তাওয়াফে যিয়ারাহ, মূলত এটি হজ্জের ফরজ তাওয়াফ। তাওয়াফুল ইফাদাহ করা ও সাঈ করা হজ্জের ফরয কাজ। যদি মিনা থেকে মক্কায় এই তাওয়াফ করতে যান তবে দুই ভাবে যেতে পারেন। এক: পায়ে হেঁটে জামারাত পার করে প্যাডেস্ট্রিয়ান টানেল (সুরঙ্গ পথ) রাস্তা দিয়ে। দুই: মিনায় কিং ফয়সাল ওভারব্রিজ এর উপর থেকে বা জামারাতের পাশে থেকে কার বা মটরসাইকেল ভাড়া করে। আর আপনি যদি মাথা মুন্ডন করার পরপরই মক্কা/আজিজিয়া/শির্শা চলে গিয়ে থাকেন তবে আপনার হোটেল বা বাসা থেকেই তাওয়াফ করতে যেতে পারেন।
■ রাসূলুল্লাহ(ﷺ) ১০ যিলহজ্জ সূর্য মধ্য আকাশে থেকে হেলে যাওয়ার পর এই তাওয়াফ সম্পন্ন করেছিলেন। মূলত সেই দিন সূর্য উদয়ের পর থেকে এই তাওয়াফ করা যাবে। উত্তম হবে এই তাওয়াফ ১০ যিলহজ্জ সূর্যাস্তের মধ্যে করা। তবে কোন কষ্ট/সমস্যার মুখোমুখি হলে ১২ যিলহজ্জের সূর্যাস্তের মধ্যে যে কোন সময় এই তাওয়াফ করে নেওয়া যাবে। অবশ্য কিছু মুহাক্বীক উলামাদের মত অনুযায়ী এই তাওয়াফ যিলহজ্জ মাস শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত করা যাবে। যার যার তাওয়াফ তাকে নিজেই করতে হবে। অন্য কাউকে কারো পক্ষ থেকে তাওয়াফ করতে পাঠানো যাবে না। প্রয়োজনে হুইল চেয়ারের আশ্রয় নিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করতে হবে। মুসলিম-৩০৫৬
■ মক্কায় যেভাবে সবসময় সাধারণ নফল তাওয়াফ করেছেন ঠিক তেমনি হবে এই তাওয়াফের নিয়ম। এই তাওয়াফে কোন ইহরামের কাপড় নেই, কোন ইদত্বিবাহ করার প্রয়োজন নেই এবং তাওয়াফে রমল করা নেই। সাধারণ পোশাক পরে এই তাওয়াফ করবেন। ১০ থেকে ১২ যিলহজ্জ এই তাওয়াফের সময় প্রচুর লোকের চাপ হয়। তাই অবস্থা বুঝে ফাঁকা জায়গা দিয়ে তাওয়াফ শেষ করবেন। ইবনে মাজাহ-৩০৬০
■ তাওয়াফ শেষে মাক্কামে ইবরাহীমের পেছনে অথবা মসজিদে হারামের যে কোনো স্থানে দুই রাকাআত স্বলাত পড়বেন। এরপর জমজমের পানি পান করবেন এবং কিছু পানি মাথায় ঢালবেন। এবার সাফা পাহাড়ে গিয়ে ঠিক উমরাহর মতো সাঈ করবেন। এই সাঈর পর আর চুল কাটতে হবে না।
■ ঋতুবতী মহিলাগণ এই তাওয়াফ করার জন্য অপেক্ষা করবেন। তাওয়াফ না করে আগে শুধু সাঈ করা যাবে না। তাওয়াফের পর সাঈ করতে হবে। যখন ঋতু বন্ধ হয় তখন তাওয়াফ সেরে নিবেন। এক্ষেত্রে কোন দম দিতে হবে না। আর যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত কোন ক্রমেই অপেক্ষা করা যাচ্ছে না অর্থাৎ মক্কা ছেড়ে চলে যেতে হবে ও পরবর্তীতে এসে তাওয়াফ যিয়ারাহ আদায় করে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই, তবে জমহুর ফুকহা ও আলেম-উলামাদের মত অনুযায়ী ন্যাপকিন ভালো ভাবে বেঁধে তাওয়াফ ও সাঈ সেরে নিতে হবে।
■ এই তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করার পর যৌনসঙ্গম হালাল হয়ে যাবে। একে বলে তাহালুল আল আকবার বা চূড়ান্ত হালাল হওয়া।
■ ১০ যিলহজ্জ তাওয়াফ ও সাঈ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ১১ যিলহজ্জ মধ্য রাতের পূর্বেই আইয়্যামে তাশরীকের রাত্রিযাপনের জন্য মিনায় ফিরে যেতে হবে। এদিনের সকল স্বলাতসমূহ স্বলাতের আউয়াল ওয়াক্তে কসর করে আদায় করে নেওয়া।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ১০ যিলহজ্জ : কাজের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ

📄 ১০ যিলহজ্জ : কাজের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ


■ এটি একটি বিতর্কিত বিষয়। হজ্জে যাওয়ার আগে এ সম্পর্কে জানা থাকা জরুরি। অনেকে ১০ যিলহজ্জ এর সকল কাজগুলো তারতীব বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করার জন্য বলবে, যা কথা ঠিক এবং সেটিই সুন্নাহ। কিন্তু যদি কোন কারণে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হয়ে যায় তবে একটি পশু যবেহ করে দম দিতে বলবে; যা শুদ্ধ নয়। সহীহ হাদীসের তথ্যসূত্র অনুসারে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হলে কোন দমের কথা বলা নেই বরং এতে কোনো ক্ষতি/সমস্যা নেই বলা আছে। আল্লাহ তাআলা অসীম দয়ালু ও করুণাময়, তাই তিনি তার বান্দাদের উপর কোনো বিষয় কঠিন করে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেন না। আপনি যদি সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল।
■ ১০ যিলহজ্জ যদি এমন হয়, না জানার কারণে হজ্জের কোনো বিধান ধারাবাহিক ভাবে সম্পাদন করা হয়নি অথবা কোনো অসুবিধা/ওজর/জটিলতার কারণে কোন বিধান এর ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হয়ে যায় তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। এর জন্য কোনো কাফফারা আদায় করতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করা মোটেই ঠিক নয়। (উদাহরণ: আপনি ব্যাংক এর মাধ্যমে হাদী করার ব্যবস্থা করেছেন আর আপনার টিকিট/ভাউচারে হাদী করার সময় যদি সকাল ১০টা লেখা থাকে তবে আপনি তো ১১টার পরই কসর/হলকু করে হালাল হয়ে যাবেন। কিন্তু যদি আপনার হাদী করতে বিলম্ব হয়ে যায় তবে তো আপনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে গেলো কিন্তু আপনি তা জানতেও পারলেন না! এতে আপনার কোন দোষ নেই বা গুনাহও নেই।)
■ ১০ যিলহজ্জের কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে করা সুন্নাত, যথা কংকর নিক্ষেপ, হাদী, কসর/হলকু, তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ করা; কিন্তু কেউ যদি ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে কোনটি আগে বা কোনটি পরে করে ফেলে কোনো কারণে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত বেশ কয়েকটি হাদীসে লোকদের ১০ যিলহজ্জের কাজগুলো আগে পরে হওয়ার কথা শুনে যেমন- কেউ পাথর মারার আগে হাদী করে ফেলেছে, হাদী না করে হলকু করেছে, তাওয়াফ করে হলক্ব করেছে এমন এমন শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "কোন অসুবিধা নেই", "কোন সমস্যা নেই", "কোন দোষ নেই"। বুখারী-১৭২২, ১৭৩৬, মুসলিম-৩০৪৭, আবু দাউদ-১৯৮৩, ২০১৪, তিরমিযী-৯১৬. ইবনে মাজাহ-৩০৪৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00