📄 মুযদালিফা সম্পর্কিত কিছু তথ্য
■ হজ্জের অন্যতম কঠিন ও কষ্টকর কাজ শুরু হয় আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে। সূর্যাস্তের পর আরাফাহ থেকে মুযদালিফার বাস ছাড়ে। কিন্তু রাস্তায় ভারী যানজটের কারণে বাস তেমন একটা অগ্রসর হতে পারে না। অনেক সময় যানজটের কারণে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়, এতে পরিবহন সঙ্কটে যাত্রীদের বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আপনার এজেন্সিকে পর্যাপ্ত পরিবহণের ব্যবস্থা রাখার জন্য সৌদি মুআল্লিম এর শরনাপন্ন হওয়ার অনুরোধ করবেন যাতে সব যাত্রী বাসে বসার সিট পায়।
■ ভারী যানজটের কারণে অনেকে বাস ছেড়ে দিয়ে পায়ে হাঁটতে শুরু করেন, কারণ তারা মধ্যরাতের আগে মুযদালিফা পৌঁছাতে পারবেন কিনা সন্দেহে পরে যান। আপনিও যদি এই অবস্থায় পরেন তবে বাস ছাড়বেন, কি ছাড়বেন না এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ যদি বাস একবার ছেড়ে দেন তবে পরে আর বাস খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখন বাকি পুরো পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে।
■ কিছু লোক পথিমধ্যে কোন পাহাড়ি উপত্যকা এলাকাকে মুযদালিফা মনে করে অন্যদের দেখাদেখি মাঝপথে মাগরিব-এশা পড়ে রাত্রিযাপন করে ফেলেন। অতঃপর সকালে মুযদালিফার সীমানায় এসে সাইনবোর্ড দেখে তাদের ভুল বুঝতে পেরে আক্ষেপ করেন। এভাবে হজ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায় অনেক হাজীর এবং দম দিতে হয়।
■ এজেন্সি থেকে রাতের খাবার দিতে পারবে কিনা তা আগেভাগে জেনে নিন। খাবার না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি কারণ এখানে ব্যবস্থা করার কোন উপায় নেই। এখানে খাবার ও পানি কেনার জন্য আশেপাশে তেমন দোকানও পাবেন না। এ কারণে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় মজুদ রাখলে ভালো হয় মুযদালিফার জন্য। টয়লেট/বাথরুম সীমিত হওয়ার কারণে বা পানি সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনে ফজরের স্বলাত আদায় করার জন্য মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নিবেন。
📄 মুযদালিফায় প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
* মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফা ত্যাগ করার সময় তাড়াহুড়া করা।
* মুযদালিফায় রাত কাটানোর জন্য গোসল করা জরুরী মনে করা।
* মুযদালিফাকে পবিত্র এলাকা গণ্য করে পায়ে হেঁটে এলাকায় প্রবেশ করা।
* মুযদালিফায় পৌঁছার পর এই দু'আ করা সুন্নাত মনে করা, (হে আল্লাহ এই মুযদালিফা, এখানে একত্রে অনেক ভাষা এসেছে..।)
* দুই স্বলাতের মাঝে মাগরিবের সুন্নাত স্বলাত পড়া ও এশার পর সুন্নাত পড়া।
* মুযদালিফায় পৌছে মাগরিব ও এশার স্বলাত পড়ার আগে কংকর নিক্ষেপের কংকর সংগ্রহ করা।
* কংকর শুধু মুযদালিফা থেকে সংগ্রহ করতে হবে এই ধারণা পোষণ করা।
* মুযদালিফায় জাগ্রত অবস্থায় রাত কাটানো।
* পুরো রাত যাপন করা ছাড়াই কিছুক্ষণ অবস্থান করে কোন ওজর ছাড়া মুযদালিফায় থেকে বের হয়ে যাওয়া।
* 'আল মাশার আল হারাম' পৌঁছার পর এই দু'আ পাঠ করা নিয়ম মনে করা, (হে আল্লাহ আমি এই রাতের মাধ্যমে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি..।)
* মুযদালিফা থেকে কংকর নিক্ষেপের জন্য ৭টি কংকর নেয়া এবং বাকি সব কংকর মুহাসসিরের তীর থেকে নেয়া রীতি মনে করা。
📄 ১০ যিলহজ্জ : বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপ
■ ১০ যিলহজ্জের দিনে করণীয়: এই দিনটি হজ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। রাসূল(ﷺ) এই দিনটিকে হজ্জের বড় দিন হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এই দিনে ৫টি কাজ সম্পাদন করতে হবে; প্রথমত; বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপ করা, দ্বিতীয়ত; হাদী বা পশু জবেহ করা, তৃতীয়ত; কসর/হলকু করা, চতুর্থত; তাওয়াফুল ইফাদাহ করা ও পঞ্চমত; সাঈ করা। আর দাউদ-১৯৪৫, তিরমিযী-৯৫৮
■ জামারাত এলাকা দিয়ে ইবরাহীম (আঃ) ঈসমাইল (আঃ) কে যবেহ করতে নিয়ে যাচ্ছিলেন ও ইবলিস শয়তান বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং তিনি শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন। জামারাতে শয়তানকে বেঁধে রাখা আছে এমন ধারণা ভুল ধারণা। মূলত, কংকর মারার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য পোষণ করা এবং শয়তানের আনুগত্য পরিত্যাগ করার অংগীকার ব্যক্ত করা। অনেকে জামারাতকে বড় শয়তান, ছোট শয়তান নামে ডাকে যা সঠিক নয়। জামারাত এলাকা মিনার সীমানার মধ্যে অবস্থিত। কংকর নিক্ষেপ বা রামি করা আল্লাহর নির্দেশ সমূহের অন্যতম। রাসূল(ﷺ) বলেছেন, "বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা মারওয়া সাঈ ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ আল্লাহর যিক্র কায়েমের উদ্দেশ্যে।" হাদীসে এসেছে "আর তোমার কংকর নিক্ষেপ, তা তো তোমার জন্য সঞ্চিত করে রাখা হয় (নেকী হিসাবে)"। তিরমিযী-৯০২
■ সূর্যোদয়ের আগেই তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় মিনার উদ্দেশ্যে মুযদালিফা ত্যাগ করবেন। এসময় রাস্তায় প্রচুর মানুষের ভীড় হয়। কারণ এখন আর কোন বাস থাকবে না রাস্তায়, সবাইকে পায়ে হেঁটে জামারাত যেতে হবে। তাই এখান থেকে ৮-১০ কি.মি হাঁটার মন-মানসিকতা রাখতে হবে। এটিই হজ্জের অন্যতম সবচেয়ে কঠিন কাজ। সবসময় দলবদ্ধ হয়ে থাকবেন, কারণ এখানে অনেক লোক হারিয়ে দলছাড়া হয়ে যায়। যখন মুহাসসির উপত্যকা পার হবেন তখন একটু তাড়াতাড়ি হাঁটার চেষ্টা করবেন কারণ রাসূল (সাঃ) এমনটাই করেছেন যেহেতু এখানে আল্লাহর আযাব নাযিল হয়েছিল। জামারাত যাওয়ার পথে যদি মিনার তাবু পরে তবে তাবুতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ও কিছু খাওয়া দাওয়া করে তারপর জামারাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে পারেন। তালবিয়াহ বেশি বেশি করে পাঠ করা অব্যাহত রাখুন, কারণ তালবিয়াহ পাঠ করার সময় শেষ হয়ে আসছে। তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতে থাকুন। এসময় দলনেতা একটি পতাকা সামনে নিয়ে সকলকে পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেলে উত্তম হয়।
■ রাসূল (সাঃ) সূর্য উঠার ১-২ ঘন্টার মধ্যে কংকর মেরেছিলেন। সে হিসেবে সূর্য মধ্যম আকাশে ঢলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কংকর নিক্ষেপ করা সুন্নাত এবং উত্তম। তবে সূর্য উঠা থেকে শুরু করে ১১ যিলহজ্জ সুবহে সাদিক পর্যন্ত কংকর মারা যায়েজ। বর্তমানে যেহেতু ৩০ লক্ষাধিক হাজীর সুন্নাত সময়ের মধ্যে একসাথে কংকর মারা দুঃসাধ্য ও কষ্টকর তাই একটু দেরী করে কংকর মারতে গেলে সমস্যা নেই। বুখারী-১৭৩৫, নাসাঈ-৩০৬৩
নারী, শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধরা যারা মুযদালিফা থেকে মধ্যরাতে মিনায় চলে এসেছেন তারা ১০ যিলহজ্জ সূর্য উঠার আগে কংকর নিক্ষেপ করবেন না। তারা সূর্য উদয়ের পর অথবা বিকেল বেলায় বা রাতে জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করতে পারেন কারণ এসময় জামারাহ ফাঁকা থাকে। নাসাঈ-৩০৬৫, তিরমিযী-৮৯৩
অসুস্থ্য ও বৃদ্ধ নারী-পুরুষ, শিশুদের পক্ষ থেকে অন্য যে কেউ তার প্রতিনিধি হিসাবে রামি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিনিধি ব্যক্তি সেই বছর হজ্জ আদায়কারী হতে হবে এবং প্রথমে তার নিজের কংকর নিক্ষেপের পর অন্যের কংকর নিক্ষেপ করবেন। এমন লক্ষ্য করা যায়; বিশেষ করে নারীরা ক্ষীণ শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার ওযুহাতে রামি করতে না গিয়ে অন্যকে নিযুক্ত করেন ও মিনার তাবুতে থেকে যান। এমনটি করা অনুচিত। নিজের কংকর নিজে মারা উত্তম। একেবারে খুবই অসুস্থ, চলতে অপারগ বা ওখানে গেলে আরও অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন গুরুতর ওজর ছাড়া সকলেরই জামারাতে যাওয়া উচিত।
পায়ে হেঁটে একমুখি চলাচলের রাস্তা দিয়ে জামারাতের যে কোন ফ্লোরে উঠার ব্রীজ দিয়ে বা লিফট দিয়ে অথবা এস্কেলেটরে করে জামারাত বিল্ডিং কমপ্লেক্সে উঠবেন। আপনি যেহেতু মিনার মধ্য দিয়ে খাইফ মসজিদের পাশ দিয়ে জামারাতে ঢুকবেন সেহেতু প্রথমে ছোট জামারাহ (জামারাতুল সুগরা) ও তারপর মধ্যম জামারাহ (জামারাতুল উদ্ভা) অতিক্রম করবেন এবং অতঃপর সবশেষে পৌঁছাবেন বড় জামারাহ (জামারাতুল আকাবাহ)। আজকে ছোট ও মধ্যম জামারাতে কংকর নিক্ষেপ নেই। সোজাসুজি বড় জামারার দিকে কংকর মারতে না গিয়ে জামারার চারদিকে খানিকটা ঘোরা ফেরা করে ভিড় কম এমন একটি জায়গা খুঁজে বের করুন অতঃপর জামারার যত কাছকাছি সম্ভব গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করবেন। বড় জামারার কাছে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করে দিবেন। তালবিয়াহ পাঠ এখানেই শেষ। বুখারী-১৬৮৫, মুসলিম-২৯৭৮
যদি সম্ভব হয় জামারাকে সামনে রেখে কাবাকে হাতের বামে ও মিনাকে ডানে রেখে অথবা যে কোন ভাবে সুবিধামত দাঁড়িয়ে ডান হাত উঁচু করে আলাদা আলাদাভাবে ৭টি কংকর একে একে নিক্ষেপ করবেন এবং প্রতিবার নিক্ষেপের শুরুতে বলবেন: বুখারী-১৭৫০, মুসলিম-৩০২২, নাসাঈ-৩০৫৪
اللهُ أَكْبَرُ
"আল্লাহু আকবার"
"আল্লাহ সবচেয়ে বড়"।
জামারার হাউজ বা বেসিনে বুক লাগিয়ে অথবা ১-২ মিটার দূরত্ব থেকে জামারায় রামি বা কংকর নিক্ষেপ করবেন। কংকরগুলো যেন জামারার পিলার দেয়ালে আঘাত করে অথবা জামারার বেসিনের মধ্যে পরে সেটা নিশ্চিত করবেন। যদি কোন কংকর বেসিনের মধ্যে না পরে তবে তার পরিবর্তে আবার একটি কংকর নিক্ষেপ করবেন। সে কারণে সঙ্গে অতিরিক্ত কংকর নেওয়া ভালো। কংকর হাতের আংগুল দিয়ে যে কোনভাবে ধরে নিক্ষেপ করা যাবে। এজন্য নির্দিষ্ট কোন নিয়ম বা পদ্ধতি নেই। নিজের কংকর নিক্ষেপ হয়ে গেলে ঠিক একই নিয়মে অন্যের পক্ষ থেকে কংকর নিক্ষেপ করতে পারেন।
লক্ষ্যনীয় বিষয়; ১০ যিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পূর্বে বড় জামারাহে কংকর মারা যাবে না। বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের কাজটি ওয়াজিব। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জামারায় কংকর মারতে ব্যর্থ হলে দম দিতে হবে। নাসাঈ-৩০৬৫
রামি করা শেষে এখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করার কোন নিয়ম হাদীসে পাওয়া যায় না। জামারাত থেকে ব্রীজ দিয়ে মক্কার দিকে নামতে হবে। এরপর পরবর্তী কাজ হলো হাদী জবাই করা। হাদী করার জন্য যদি ব্যাংকে টাকা দিয়ে থাকেন, তবে আর আপনার করনীয় কিছু নেই। হাদী করার সময় পার হয়ে গেলে কসর/হলকু করে হালাল হয়ে যাবেন। আর যদি নিজ হাতে হাদী করার ইচ্ছা থাকে তবে মুআইসম চলে যাবেন হাদী করতে। আজ সৌদিআরবে ঈদের দিন, তবে এখানে হাজীদের ঈদের স্বলাত পড়া লাগবে না। এদিনের সকল স্বলাতসমূহ স্বলাতের আউয়াল ওয়াক্তে কসর করে আদায় করে নেওয়া। ইবনে মাজাহ-৩০৩২
📄 জামারাত সম্পর্কিত কিছু তথ্য
জামারাত ৫তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং কমপ্লেক্স। হজ্জের ১০-১৩ যিলহজ্জ ব্যবহারের জন্য এটি খোলা হয়। বাকি সারা বছর জামারাত বন্ধ থাকে। মিনা, আজিজিয়া ও শিশা থেকে জামারাতে যাওয়ার বিভিন্ন সংযোগ রাস্তা আছে। অনেক এজেন্সি যারা ফিতরা (বাড়ি সিফটিং) হজ্জ প্যাকেজে করেন তারা জামারাতের পার্শ্ববর্তী আজিজিয়া ও শিশা এলাকায় থাকেন। জামারাতের একপাশে ট্রেন স্টেশন আছে। জামারাত থেকে মিনা-মুযদালিফার সীমানা পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা আছে。
কয়েক বছর আগেও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করতে গিয়ে অনেক লোক পদদলিত হয়ে মারা যেত। সে কারণে অনেকে জামারাতে যেতে ভয় করত। কিন্তু বর্তমানে কংকর নিক্ষেপের নিরাপদ ও সহজ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করতে যাওয়ার সকল রাস্তা একমুখি। যদি মিনা থেকে জামারাতের দিকে যায় হয় তবে বড় ব্রিজ বা এস্কেলেটরে উপরের দিকে আরোহন করতে হবে। কংকর নিক্ষেপের পর জামারাতের অপর প্রান্তের দিকে নামিয়ে দেয়া হবে, অর্থাৎ মক্কার দিকে।
■ জামারাতে অনেক নিরাপত্তাকর্মী ও হজ্জযাত্রী ব্যবস্থাপনার লোক দেখতে পাবেন। বড় ব্যাগ মাথায় বা কাঁধে নিয়ে জামারাতে যাবেন না, তাহলে নিরাপত্তাকর্মীরা আপনাকে আটকিয়ে দেবে এবং আপনাকে ভেতরে নাও যেতে দিতে পারে। তবে ছোট হাত ব্যাগ বা কাঁধ ব্যাগ থাকলে সমস্যা নাই।
■ জামারাত বিল্ডিংয়ের ভিতর দিয়ে যাওয়ার পথে বিশাল আকারের অনেকগুলো এয়ারকুলার ফ্যান দেখতে পাবেন, হজ্জযাত্রীদের শীতল বাতাস প্রদানের জন্য এখানে ফ্যানের ব্যবস্থা করা আছে। জামারাতের চারপাশে অনেক কংকর ও প্লাস্টিকের বোতল পড়ে থাকতে দেখবেন। অনেক লোক এখানে কংকর মারতে এসে হারিয়ে যান, তাই সবসময় আপনার দলের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করবেন। দলনেতার হাতে ছোট পতাকা থাকলে ভাল হয়।
■ একটি বিষয় মনে রাখবেন, এরপর পরবর্তী তিন দিন কংকর নিক্ষেপের জন্য আপনাকে আবার মিনা থেকে হেঁটে জামারাতে আসতে হবে এবং হেঁটেই আবার জামারাত থেকে মিনার তাবুতে ফিরে যেতে হবে। তাই হাঁটার জন্য প্রস্তুতি রাখবেন। জামারাত এলাকায় কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করে না। যাদের শাটল ট্রেনের টিকিট আছে তারা মিনা থেকে সহজেই ট্রেনে জামারাতে এসে কংকর নিক্ষেপ করতে পারেন। কিছু ভিআইপি হজ্জযাত্রীকে কংকর নিক্ষেপের করার জন্য হেলিকপ্টারে করে জামারাত ভবনের ছাদে অবতরণ করতে দেখবেন。