📄 আরাফা সম্পর্কিত কিছু তথ্য
■ আরাফার তাবুগুলো অস্থায়ী, শুধুমাত্র একদিনের জন্য টাঙ্গানো হয়। আরাফার তাবুগুলোতেও এয়ার কুলার ব্যবস্থা থাকে। আরফার তাবু আকারে বড় হয় তবে মিনার তাবুর মতো মজবুদ নয়। তাবুতে ম্যাট্রেস বিছানা বা কার্পেট থাকতে পারে। আরাফার তাবুর চারদিকে অনেক নিম গাছ ও আরও অন্যান্য গাছ রয়েছে, এই গাছগুলো ভালো শীতল ছায়া দেয়। একটি কথা প্রচলিত যে; ১ লাখ নিম গাছ চারা নাকি বাংলাদেশ থেকে উপহারস্বরূপ সৌদিকে দেওয়া হয়েছিল আরাফার ময়দানে রোপন করার জন্য!
■ এখানেও টয়লেট ও ওযুর ব্যবস্থা খুবই সীমিত/অপর্যাপ্ত। টয়লেটে যাওয়ার জন্য প্রায় সবসময় ৫-১০ জনের পিছনে ২০-৩০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা খুবই সীমিত।
■ সৌদি মুআল্লিম আরাফায় দুই/তিনবেলা খাবার দিবেন। এছাড়াও এখানে তাবুর বাইরে রোডের পাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান পাওয়া যাবে। রাস্তায় অনেক ট্রাক বা গাড়ি থেকে বিনামূল্যে খাবার/পানি বিতরণ করা হয়। ইচ্ছা করলে এই খাবার নেওয়া যায়। তবে ধাক্কাধাক্কি করে এসব খাবার আনতে না যাওয়াই উত্তম কারণ এতে আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
■ মিনা থেকে আরাফা ও মুযদালিফায় যাওয়ার জন্য শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়। রেলওয়ের প্লাটফরম সবসময়ই হজ্জযাত্রীদের ভিড়ে জনাকীর্ণ থাকে। সিঁড়ি বেয়ে রেলওয়ের প্লাটফরমে উঠতে হয়, এতে ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে আহত হন।
■ হাজীরা যেদিন আরাফায় থাকেন সেদিন সকাল বেলা কাবা ঘরের গিলাফ বা চাদর পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হয়। বছরে সবসময় এই দিনেই একবার এই গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। হাজীরা হজ্জ শেষে কাবা তাওয়াফ করতে এসে নতুন গিলাফে বাইতুল্লাহেকে দেখতে পায়。
📄 আরাফায় প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
* আরাফার সীমানার বাইরে অবস্থান করা। আরাফার সীমানার বাইরে উরানাহ উপত্যকা এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করা।
* সূর্যাস্তের আগেই আরাফা ত্যাগ করে মুযদালিফা চলে যাওয়া, যারা এই কাজ করবে তাদের কাফফারা স্বরুপ দম হিসাবে একটি পশু যবেহ করতে হবে।
* আরাফায় জাবালে আরাফা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহনের চেষ্টা করা এবং সেখানে পাহাড়ের গায়ে হাত ও কাপড় ঘষা ও সিজদা দিয়ে দু'আ করা।
* দু'আ করার সময় জাবালে আরাফা পাহাড়ের দিকে হাত উঠিয়ে দু'আ করা।
* জাবালে আরাফা পাহাড়ের উপরস্থ লম্বা পাথর (ডোম) স্পর্শ করা এবং এখানে স্বলাত পড়া ও ডোম তাওয়াফ করা।
* মসজিদে নামিরাতে ইমামের খুতবা শেষ করার আগেই যোহর ও আসরের স্বলাত পড়ে নেওয়া।
* অনেকে যোহরের স্বলাতের পর বয়ান, দোয়া, যিকির ও মিলাদ করে দীর্ঘ সময় পর আসরের ওয়াক্তে আসরের স্বলাত পড়া।
* অনেকের ধারণা জুমুআর দিনে আরাফা হলে ৭২টি হজ্জযাত্রার সমান নেকী বা এক আকবরি হজ্জ বলে; যার কোন দলীল নেই।
* সূর্যাস্তের সময় আরাফা পাহাড়ের উপর আগুন অথবা মোমবাতি জ্বালানো।
* অনেকে দলবদ্ধ হয়ে মিলাদ পড়েন, বিনামূল্যের খাবার অনুসন্ধান করেন এবং কোলাকুলি ও মুসাফাহ করেন।
* অনেক হাজী বেশি ফযীলত মনে করে আরাফার দিনে রোযা রাখেন। অথচ তা সুন্নাহর বিপরীত কাজ।
* অনেকে এই শোনা কথা বিশ্বাস করেন যে, আদম ও হাওয়া এই আরাফার ময়দানে মিলিত হয়েছিলেন; যার ইসলামি কোন বিশুদ্ধ দলিল বা প্রমাণ নেই।
* অনেকের ধারনা এই আরাফার ময়দানই কিয়ামতের পর হাশর হবে; বস্তুত এমন কোন কথা কুরআন-হাদীসে উল্লেখ নেই।
📄 ১০ যিলহজ্জ : মুযদালিফার রাত
■ ১০ যিলহজ্জ রাতে করণীয়: মুযদালিফায় গমণ করে মাগরিব ও এশার স্বলাত একসাথে পরপর কসর করে আদায় করা ও মুযদালিফায় ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করা এবং ফজরের স্বলাতের পর জামারাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে গমণ করা।
■ মুযদালিফায় অবস্থান নিঃস্ব ও উদবাস্তু জীবনযাপন, গৃহহীনতা ও অভাবের প্রতীক। মুযদালিফা এলাকা হারামের সীমানার ভিতরে অবস্থিত। আরাফার সীমানা শেষ হলেই মুযদালিফা শুরু হয় না। আরাফা থেকে ৬ কি.মি. অতিক্রম করার পর আসে মুযদালিফা। মুযদালিফার পর কিছু অংশ ওয়াদি আল-মুহাসসির উপত্যকা এলাকা তারপর মিনা সীমানা শুরু হয়।
■ আল্লাহ কুরআনে বলেন, "তোমরা যখন আরাফার ময়দান থেকে ফিরে আসবে তখন মাশআরুল হারামের (মুযদালিফায়) কাছে এসে আল্লাহকে স্মরণ করবে, তেমনি করে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, তেমনি করে তাঁকে স্মরন করবে, নিশ্চয়ই তোমরা পথভ্রষ্টদের দলে শামিল ছিলে"। সূরা-আল বাকারা, ২:১৯৮
■ রাসূল(ﷺ) মুযদালিফায় অবস্থানের ফযীলত সম্পর্কে বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা এই দিনে তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, তিনি গুনাহগারদেরকে সৎকাজকারীদের ওসীলায় ক্ষমা করেছেন। আর সৎকাজকারীরা যা চেয়েছে তা তিনি দিয়েছেন, অতএব আল্লাহর নাম নিয়ে ফিরে চলো”। ইবনে মাজাহ-৩০২৪
■ সূর্যাস্তের পর মাগরিবের স্বলাত না পড়েই আরাফার ময়দান ত্যাগ করে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফা ত্যাগ করা যাবে না, করলেই দম দিতে হবে। রাস্তায় যেতে যেতে তালবিয়াহ পাঠ অব্যাহত রাখবেন। আরাফা থেকে সকল বাস প্রায় একই সময়ে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তাই রাস্তায় খুব যানজটের সৃষ্টি হয়। সবসময় দলবদ্ধ হয়ে থাকার চেষ্টা করবেন। এখানে দলছাড়া হয়ে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মুযদালিফায় পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য আলাদা একমুখী রাস্তা আছে, এই রাস্তায় কোন গাড়ি চলাচল করে না। তবে রাস্তা চেনা না থাকলে ও হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে বাসে যাওয়াই উত্তম। বুখারী-১৬৭১, আবু দাউদ-১৯২৫
■ মুযদালিফায় কোনো তাবুর ব্যবস্থা নেই। বাস এখানে পৌছানোর পর সবাইকে নামিয়ে দিয়ে বাস চলে যাবে। কিছু বাস থাকে ভাড়া করা তারা অবশ্য থেকে যায়। এরপর এখানে খোলা আকাশের নিচে পাথর মাটিতে ম্যাট বিছিয়ে স্বলাত পড়তে হবে ও রাতে থাকতে হবে। মুযদালিফার কিছু জায়গায় বড় ম্যাট কার্পেট বিতরণ করা হয় রাত্রিযাপন করার জন্য। দেখবেন কতো বিত্তশালীরা রাস্তার পাশে ফুটপাতে, পাহাড়ের ঢালে, বাথরুমের সামনে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছে। এখানে আশেপাশে টয়লেটের সংখ্যা খুবই সীমিত তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
■ মুযদালিফায় যখনই পৌছাবেন তখন প্রথম কাজ হলো মাগরিব ও এশার স্বলাত কসর করে পরপর আদায় করা। যদি জামআত করে পড়েন তবে প্রথমে একবার আযান ও তারপর এক ইকামতের পর মাগরিবের ৩ রাকাআত ফরয স্বলাত এবং তার পরপরই ইকামত দিয়ে এশার ২ রাকাআত ফরয জ্বলাত আদায় করবেন। এই দুই জ্বলাতের মাঝখানে কোনো সুন্নাত স্বলাত নেই। এশার স্বলাতের পর এক/তিন রাকাআত বিতর স্বলাত পড়তে পারেন যেহেতু রাসূল (ﷺ) মুক্তিম বা মুসাফির কোন অবস্থায়ও বিতর বাদ দিতেন না। বুখারী-১৬৭৩, ১৬৮৩, মুসলিম-৩০০২
■ যদি এমন হয় মুযদালিফায় পৌঁছার পর এশার জ্বলাতের ওয়াক্ত না হয় তবে অপেক্ষা করতে হবে। আবার যদি প্রচন্ড যানজটের কারণে মধ্যরাতের আগে মুযদালিফায় পৌঁছতে না পারেন, তাহলে পথিমধ্যে কোথাও যাত্রাবিরতি করে অথবা বাসে বসে মাগরিব ও এশার স্বলাত পড়ে নিবেন। বুখারী-১৬৮৩
■ স্বলাত আদায়ের পর আর কোন কাজ নেই। এবার শুয়ে ঘুমিয়ে পরবেন। রাসূল (ﷺ) মুযদালিফার রাতে শুয়ে ঘুমিয়ে আরাম করেছেন। যেহেতু ১০ যিলহজ্জ দিনের বেলায় অনেকগুলো কাজ আছে এবং বেশ পরিশ্রম করতে হবে তাই মুযদালিফার রাতে ঘুমিয়ে বিশ্রাম করা উত্তম।
■ ঘুমানোর পূর্বে বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপের জন্য ৭টি কংকর সংগ্রহ করে নিতে পারেন। চাইলে ঘুম থেকে উঠে সকালেও কংকর কুড়িয়ে নিতে পারেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) অবশ্য মুযদালিফা থেকে মিনার মধ্যে কোন এক জায়গা থেকে কংকর নিয়েছেন। তাই মুযদালিফা থেকে কংকর নেওয়ায় কোন সমস্যা নেই তবে তা জরুরী মনে না করা ও মুযদালিফার কংকরের বিশেষ গুণ আছে এমন ধারনা পোষন না করা। পরবর্তীতে মিনা থেকে বা হারামের সীমানার ভিতরে যে কোন স্থান থেকে কংকর সংগ্রহ করতে পারবেন। নাসাঈ-৩০৫২
■ ইচ্ছা করলে এখান থেকে জামারাতে পরবর্তী ৩ দিন কংকর নিক্ষেপের জন্য (২১০৩=৬৩) কংকর সংগ্রহ করতে পারেন। তবে সব কংকরই এখান থেকে নেওয়া কোন বিধান মনে না করা, কারণ মিনা থেকেও কংকর সংগ্রহের সময় ও সুযোগ পাওয়া যায়। যদিও মিনার চেয়ে মুযদালিফায় কংকর সহজলভ্য বেশি। মিনার কিছু জায়গায় অবশ্য কংকর খুঁজে পাওয়া একটু কষ্টকর। তিরমযি-৮৯৭
■ কংকর নিক্ষেপের জন্য সংগৃহিত পাথরের আকার বুটের দানা বা শিমের বিচির মতো হবে। কংকর মোছার বা ধুয়ার কোন নিয়ম হাদীসে পাওয়া যায় না। কিছু অতিরিক্ত কংকর নিবেন কারণ অনেক সময় কংকর হাত থেকে পরে হারিয়ে যেতে পারে। কংকরগুলো একটি ছোট ব্যাগ বা প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষণ করে রাখবেন। যদি মুযদালিফা বা মিনা থেকে কংকর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন তাহলে অন্য কারো কাছ থেকেও কংকর নিতে পারেন। এতে কোন সমস্যা নেই। এভাবে সবাই কংকর এখান থেকে নিলে একদিন মুযদালিফার সব কংকর শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আপনার মনে যদি সংশয় জাগে তবে আশ্বস্ত করতে চাই, এমনটি হবে না! কারণ হজ্জের পর আবার কংকরগুলো মুযদালিফায় ছিটিয়ে দেওয়া হয়। মুসলিম-৩০৩১, নাসাঈ-৩০৫৭
■ মুযদালিফা ও মিনার মধ্যবর্তী একটি জায়গার নাম ওয়াদী মুহাসসির। এটা মুযদালিফার অংশ নয়। তাই এখানে অবস্থান করা যাবে না। এই মুহাসসির এলাকায় আবরাহা রাজার হাতি বাহিনীকে ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি কংকর নিক্ষেপ করে নাস্তানাবুদ করেছিল। বর্তমানে মুযদালিফার একাংশ মিনা হিসাবে ব্যবহার করা হয় হজ্জযাত্রী সংকুলান না হওয়ার কারণে। তাই ঐ জায়গাটুকু মিনা হিসাবে ব্যবহৃত হলেও যেহেতু মৌলিক অর্থে মিনায় পরিনত হয়নি, তাই ঐ অংশের তাবুতে রাত্রিযাপন করলে মুযদালিফায় রাত্রিযাপন করা হয়ে যাবে।
■ মুযদালিফার সীমানার ভিতর এই রাত্রি যাপন করা ওয়াজিব।
■ বৃদ্ধ, দুর্বল, স্থূলদেহী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিগণ ওজর সাপেক্ষে মধ্যরাতের চাঁদ ডুবার পর মুযদালিফা ত্যাগ করে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে পারেন। অসুস্থ ও দূর্বলদের সাহায্যার্থে তাদের সাথে অভিভাবকরা বা সাহায্যকারীরাও যেতে পারবেন। ওজর ছাড়া মুযদালিফা ত্যাগ করে মিনায় যাওয়া ঠিক হবে না। চলে গেলে দম দিতে হবে। বুখারী-১৬৭৯, মুসলিম-৩০০৯, ৩০১৯, নাসাঈ-৩০৪৮
■ মুযদালিফায় সুবহে সাদিকে ঘুম থেকে উঠে ফজরের আউয়াল ওয়াক্তেই ফজরের স্বলাত আদায় করবেন। ফজরের দুই রাকাআত সুন্নাত ও দুই রাকাআত ফরয স্বলাত আদায় করবেন। এবার দু'আ-যিক্র করবেন ঠিক যেমন আল্লাহ করতে বলেছেন সূরা-আল বাকারা,২:১৯৮ এবং সূরা-আল আরাফ, ৭:২০৫ আয়াতে। রাসূল(ﷺ) মুযদালিফায় একটি পাহাড়ের পাদদেশে উকুফ করেছেন। ঐ স্থানটি বর্তমানে আল-মাশার আল-হারাম মসজিদের সম্মুখ ভাগে অবস্থিত। মসজিদটি মুযদালিফার ৫নং রোডে অবস্থিত এবং ১২ হাজার মুসল্লী ধারন ক্ষমতা রাখে। কিন্তু রাসূল(ﷺ) বলেছেন, "আমি এখানে উকুফ করলাম তবে মুযদালিফার পুরোটাই উকুফের স্থান।" বুখারী-১৬৮২. মুসলিম-৩০০৭
■ এবার কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে দুই হাত উঠিয়ে বেশি বেশি তাসবিহ- তাহলীল ও দু'আ-যিক্র করতে থাকুন। এটা দু'আ কবুলের স্থান ও সময়।
■ মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করুন: "সুবহানাল্লাহ” - “আল্লাহ পবিত্রতাময়"। আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করুন: "আলহামদুলিল্লাহ” - "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য"।
■ কালেমা পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করুন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"- "আল্লাহ ছাড়া (হক) কোনো ইলাহ নেই"।
■ তাকবীরের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করুন: "আল্লাহু আকবার" "আল্লাহ সবচেয়ে বড়"।
■ এই যিক্রগুলো বারবার পাঠ করতে থাকবেন যতক্ষণ না আকাশ ফর্সা হয়। আপনার পছন্দ মতো অন্য দু'আ-যিকিরও পাঠ করতে পারেন। অতঃপর সূর্যোদয়ের পূর্বেই মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, এটিকেই হাদীসে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বুখারী-১৬৮৪, নাসাঈ-৩০৪৭, আবু দাউদ-১৯৩৮, তিরমযি-৮৯৬
📄 মুযদালিফা সম্পর্কিত কিছু তথ্য
■ হজ্জের অন্যতম কঠিন ও কষ্টকর কাজ শুরু হয় আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে। সূর্যাস্তের পর আরাফাহ থেকে মুযদালিফার বাস ছাড়ে। কিন্তু রাস্তায় ভারী যানজটের কারণে বাস তেমন একটা অগ্রসর হতে পারে না। অনেক সময় যানজটের কারণে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়, এতে পরিবহন সঙ্কটে যাত্রীদের বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আপনার এজেন্সিকে পর্যাপ্ত পরিবহণের ব্যবস্থা রাখার জন্য সৌদি মুআল্লিম এর শরনাপন্ন হওয়ার অনুরোধ করবেন যাতে সব যাত্রী বাসে বসার সিট পায়।
■ ভারী যানজটের কারণে অনেকে বাস ছেড়ে দিয়ে পায়ে হাঁটতে শুরু করেন, কারণ তারা মধ্যরাতের আগে মুযদালিফা পৌঁছাতে পারবেন কিনা সন্দেহে পরে যান। আপনিও যদি এই অবস্থায় পরেন তবে বাস ছাড়বেন, কি ছাড়বেন না এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ যদি বাস একবার ছেড়ে দেন তবে পরে আর বাস খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখন বাকি পুরো পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে।
■ কিছু লোক পথিমধ্যে কোন পাহাড়ি উপত্যকা এলাকাকে মুযদালিফা মনে করে অন্যদের দেখাদেখি মাঝপথে মাগরিব-এশা পড়ে রাত্রিযাপন করে ফেলেন। অতঃপর সকালে মুযদালিফার সীমানায় এসে সাইনবোর্ড দেখে তাদের ভুল বুঝতে পেরে আক্ষেপ করেন। এভাবে হজ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায় অনেক হাজীর এবং দম দিতে হয়।
■ এজেন্সি থেকে রাতের খাবার দিতে পারবে কিনা তা আগেভাগে জেনে নিন। খাবার না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি কারণ এখানে ব্যবস্থা করার কোন উপায় নেই। এখানে খাবার ও পানি কেনার জন্য আশেপাশে তেমন দোকানও পাবেন না। এ কারণে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় মজুদ রাখলে ভালো হয় মুযদালিফার জন্য। টয়লেট/বাথরুম সীমিত হওয়ার কারণে বা পানি সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনে ফজরের স্বলাত আদায় করার জন্য মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নিবেন。