📄 জানাযা ত্বলাতের পদ্ধতি
■ জানাযার স্বলাতের পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো - প্রথমত জানাযার স্বলাত পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য একই পদ্ধতি। এই স্বলাতে কোন রুকু ও সিজদাহ নেই। আমাদের দেশের মহিলাদের বিশেষ করে জানাযা পড়ার তেমন কোন অভিজ্ঞতাই নেই। এ কারণে তারা ওখানে জানাযাকে গুরুত্ব দেন না এবং পড়েন না। অথচ এই জানাযার স্বলাতের যে কি পরিমান নেকী আছে তা আপনি জানলে অবাক হয়ে যাবেন। হারামাইনের মসজিদসমূহে ফরজ স্বলাতের সালাম ফিরানোর পর মুয়ায্যিন জানাযার ঘোষনা দেন। অতঃপর ইমাম কাবা ঘরের সামনে থেকে রওয়ানা হয়ে ইসমাইল গেট এর স্কেলেটর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠে মাইয়্যাতকে সামনে রেখে জানাযার জ্বলাত পড়া শুরু করেন।
■ জানাযার স্বলাতের শুরুতে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ইমাম প্রথমে একবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলে অনুরুপ তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধতে হবে। অতঃপর আঊযুবিল্লাহ... ও বিসমিল্লাহ... বলে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। সানা পড়ার বিষয়ে অপর একটি দুর্বল মত আছে কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়া অধিকতর শুদ্ধ ও উত্তম। বুখারী-১৩৩৫, নাসাঈ-১৯৮৭, আবু দাউদ-৩১৯৮, তিরমিযী-১০২৭। অতঃপর ইমাম দ্বিতীয় তাকবীর দিলে আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিতে হবে। পরবর্তী ২য়, ৩য়, ৪র্থ তাকবীরের সময় হাত উঠানো বা হাত না উঠানোর দুই বিষয়েরই বিশুদ্ধ হাদীস বিদ্যমান আছে। অতএব যে কোনটির উপর আমল করা যেতে পারে। তবে হাত উঠানো অধিকতর উত্তম। দ্বিতীয় তাকবীরের পর দুরূদে ইবরাহীম পাঠ করতে হবে। অতঃপর আবার তৃতীয় তাকবীর দিতে হবে। এরপর মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার দু'আ পড়তে হবে। মুখস্থ থাকলে দুআটি পড়বেন নতুবা চুপ থাকবেন। অতঃপর ইমাম চতুর্থ তাকবীর দিয়ে ডানে একবার সালাম ফিরালে শুধু একবার ডানে সালাম ফিরিয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে স্বলাত শেষ করতে হবে।
■ উল্লেখ্য যে, ডানে-বামে দুই পাশে সালাম ফিরানোর বিষয়েও বিশুদ্ধ হাদীস বিদ্যমান আছে। অতএব যে ইমাম যেটি পালন করবে আপনি তার অনুসরণ করুন। এখানে লক্ষ্য রাখবেন ইমাম যেহেতু একপাশে সালাম ফিরাবেন সেহেতু ইমামের অনুসরণে আপনিও শুধু ডান পাশে সালাম ফিরাবেন। দুই পাশে নয়। ইমামের অতিরিক্ত কোন কাজ করা যাবে না। এবার জানাযার স্বলাতে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জানাযার দু'আটি জেনে নিন -
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحِيْنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ، اَللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ
“আল্লাহুম মাগফির লি হায়ি্যনা ওয়া মায়ি্যতিনা, ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা, ওয়া সগীরিনা ওয়া কাবীরিনা, ওয়া যাকারীনা ওয়া উনসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা'আহয়িহি 'আলাল ইসলাম, ওয়ামান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু 'আলাল ঈমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়ালা তুদ্বিল্লানা বা'দাহু।” আবু দাউদ-৩২০১।
■ সহীহ মুসলিম এর ২১২১ নং হাদীসে আরও একটি দু'আ আছে যা পড়াও উত্তম। এবার জানাযার স্বলাতের ফযীলত রাসূল বলেছেন, “যে ব্যক্তি মৃতের জন্য স্বালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক ক্বীরাত্ব, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দুই ক্বীরাত্ব। জিজ্ঞেস করা হলো, দুই ক্বীরাত্ব কি? তিনি বললেন, দুটি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সাওয়াব)।” বুখারী-১৩২৫, মুসলিম-২০৮২।
■ এই পর্বত মদীনার উত্তরে উহুদ পর্বতকে সম্বোধন করা হয়েছে। উহুদ পাহাড় কয়েকটি পর্বতের সমন্বয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার লম্বা ও ৩ কিলোমিটার চওড়া। ভূমির উপর উচ্চতা ১ হাজার মিটারের চেয়ে উচু ও ভুমির নিচে গভীরতার পরিমান অজানা। অতএব জানাযার স্বলাতের পূর্ণ ১ উহুদ পর্বত সমান নেকী নিতে চাইলে ঐ দু'আটি মুখস্থ করে ফেলাই উত্তম。
📄 মসজিদুল হারাম সম্পর্কিত কিছু তথ্য
■ সম্পূর্ণ মসজিদে এসির ব্যবস্থা আছে। তবে কিছু জায়গায় এসির ব্যবস্থা নেই যেমন মাতাফ ও মসজিদের ছাদে।
■ কিং ফাহাদ গেটের দুই পাশের সিড়ি দিয়ে মসজিদের নিচে বেসমেন্ট ফ্লোরে যাওয়া যেখানে স্বলাত পড়ার ব্যবস্থা আছে।
■ মসজিদুল হারামের গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার সময় খেয়াল রাখবেন গেটের উপরে সবুজ আলো 'Entry' অথবা লাল আলো 'No Entry' লেখা আছে কিনা যা প্রবেশ করা যাবে কি যাবে না নির্দেশ করে।
■ মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মহিলাদের স্বলাতের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করা আছে, কিন্তু দেখা যায় জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে মহিলারা পুরুষের স্বলাতের স্থানে দাঁড়িয়ে যান।
■ মসজিদের ভিতরে ও বাইরে চত্বরে সব জায়গায় মেঝেতে কাতারের দাগ দেওয়া আছে। স্বলাতের সময় ঐ কাতারের দাগে দাঁড়ালে কিবলামুখি হওয়া হয়ে যায়।
■ মারওয়া গেট থেকে উমরাহ গেট পর্যন্ত মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ ও অপর মসজিদ বিল্ডিং সংযোজন এর কাজ চলছে যা কিং আব্দুল আজিজ এক্সপানশন।
■ মসজিদুল হারামের ভিতরে প্রবেশের জন্য ৯০টিরও অধিক গেট রয়েছে। মসজিদের দুই তলায় আরোহনের জন্য সিড়ি ও এস্কেলেটরের ব্যবস্থা আছে। সাফা ও মারওয়ার পাশে লিফটের ব্যবস্থাও আছে।
■ মসজিদের ভেতরে সবসময়ই রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজ করা হয়। প্রায়ই কিছু না কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবর্তনের কাজ লক্ষ্য করা যায়।
■ মসজিদের ভেতরে ও বাইরে পান করার জন্য জমজমের পানি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং মক্কা লাইব্রেরীর পাশে থেকে বড় বোতলে কুপের পানি নিয়ে আসা যায়।
■ মসজিদের ভেতরে অসংখ্য বুকশেলফ রয়েছে, সেখান থেকে ইচ্ছে করলে কুরআন মাজীদ নিয়ে তেলাওয়াত করতে পারবেন।
■ মসজিদে কিং ফাহাদ গেট ও কিং আব্দুল আজিজ গেটের ভিতরে দিকে ছোট ছোট ইসলামি হালাকা বা আলোচনার করার জায়গা দেখা যায়।
■ টয়লেট ও ওযু করার ব্যবস্থা মসজিদের বাইরে বেসমেন্ট ফ্লোরে। মসজিদের ভেতরে ওযু করার কিছু ব্যবস্থা থাকলেও সংখ্যায় কম।
■ মারওয়া পাহাড়ের পাশে বেজমেন্ট ওয়াশরুমের ছাদের উপর হারানো ও পাওয়া জিনিসের খোঁজ নেয়ার অফিস আছে এবং জমজম টাওয়ারের সামনে মহিলাদের ৪নং ওয়াশরুমের পাশেও আছে।
■ মসজিদের আশেপাশে হাদী টিকিট ক্রয়ের জন্য কিছু ব্যাংকের বুথ পাবেন। হাদীর টিকিট কিনার ইচ্ছা থাকলে আগেভাগে কিনে ফেলুন।
■ মসজিদের বাইরে বেশ কিছু লাগেজ লকার পাবেন। যেখানে দামী ও মূল্যবান সমাগ্রী রাখতে পারেন।
■ সাফা মারওয়ার পাশে শিয়াব বনি হাশিম রোডে লাশ পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্স অপেক্ষমান থাকে। জানাযার পর এখান দিয়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
■ তাওয়াফ ও সাঈ করার জন্য মসজিদের বাইরে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার সার্ভিস পাওয়া যায় জমজম টাওয়ারের সামনে মহিলাদের ৪নং ওয়াশরুমের পাশে এবং কিং আব্দুল আজিজ এক্সটেনশনের সামনে ওয়াশরুমের পাশে। এছাড়া ভাড়ায় হুইল চেয়ার পাওয়া যায় সবুজ/মেরুন রংয়ের কোটি পড়া মানুষদের মাধ্যমে। মসজিদের ভিতরে মোবাইল চার্জ করার জন্য চার্জ বোর্ড আছে।
■ মসজিদের প্রতি গেটে নিরাপত্তাকর্মী থাকেন ও সন্দেহজনক ব্যাগ চেক করেন। তারা সাধারণত বড় ব্যাগ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে দেন না।
■ মসজিদের ভেতরে সবসময় নীল/সবুজ পোশাক পরিহিত পচ্ছিন্নতাকর্মীরা কাজ করেন; তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক।
■ মসজিদের অধিকাংশ মেঝে কার্পেট দিয়ে আবৃত থাকে। কিছু অংশের মেঝে থাকে উন্মুক্ত। হজ্জের সময় কাছাকাছি হলে সব কার্পেট তুলে রাখা হয়।
■ প্রায় প্রত্যেক ওয়াক্তের ফরয স্বলাতের পর জানাযার স্বলাত হয়। ইসমাইল গেট এর পাশে মাইয়্যাতকে এনে রাখা হয়। তাই ফরয স্বলাতের পর হুট করে সুন্নাত স্বলাতে না দাঁড়িয়ে জানাযার স্বলাত পড়ুন।
■ মসজিদ নতুন প্রশস্তকরণ অংশ যা কিং আব্দুল আজিজ মসজিদ বিল্ডিং নামে পরিচিত সেখানে লোকজনের ভিড় তুলনমূলক কম হয়। কিন্তু ঐ অংশের নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার ও মনমুগ্ধকর।
■ মোবাইলের এফএম রেডিও ও হেড ফোন ব্যবহার করে জুমআর দিন বাংলা () ও ইংরেজি (১০০) চ্যানেলে অনুবাদিত খুতবা লাইভ শোনা যায়।
■ মসজিদুল ভিতরে ৭৫নং গেট ও সাফা পাহাড়ে ও বাইরে ফ্রি বই বিতরণের কিছু ছোট ছোট বুথ আছে যেখান থেকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়।
■ কিং ফাহাদ গেটের দুই পাশের সিড়ি দিয়ে মসজিদের নিচে বেসমেন্ট ফ্লোরের ভিতরে এবং মারওয়া পাহাড়ের পাশে বেসমেন্ট ওয়াশরুমের উপরে কুরআন বিতরণ অফিসে প্রতিদিন সকাল ৭-৯টা পর্যন্ত ফ্রি কুরআন বিতরণ করা হয়।
■ মসজিদুল হারাম সম্পর্কে আরও ধারণা নিতে সৌদি হারামাইন টিভি চ্যানেল দেখতে পারেন, সেখানে ২৪ ঘণ্টা কাবা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
■ মসজিদুল হারামের বর্তমান ইমামদের নামসমূহ ১. আব্দুর রহমান আস সুদাইস, ২. সালেহ আল হুমাইদ, ৩. সাউদ আস সুরাইম, ৩. মাহের আল মুআইকিলি, ৪. আব্দুল্লাহ আল জুহানি, ৫. বানদার বালিলাহ, ৬. ফাইসাল গাঞ্জাবী)।
📄 মসজিদুল হারামে প্রচলিত অনিয়ম, ভুলত্রুটি ও বিদ‘ধাত
* মসজিদের ভেতরে নারী-পুরুষ পাশাপাশি বসেন, স্বলাত পড়েন। অনেক পুরুষ তার স্ত্রীর হাত ধরে, কাঁধে হাত দিয়ে মসজিদের বাইরে এমনভাবে ঘুরে বেড়ান যেন তারা হলিডে বা অবকাশ যাপনে এসেছেন!
* মসজিদের ভেতরে খোলা পরিবেশে নারী ও পুরুষেরা ঘুমান। এবং ঘুমের সময় তাদের পর্দার ব্যাপারে খেয়াল থাকে না। অনেকে গভীর ঘুমের পর ওযু ছাড়াই স্বলাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। অথচ গভীর ঘুমে ওযু ভেঙ্গে যায়।
* মসজিদের প্রবেশদ্বারের ভেতরে ঢুকে দরজার সামনে অনেকে বসে পড়েন, এতে অনেক মানুষ সেই দরজা দিয়ে ঢুকতে ও বের হতে সমস্যায় পড়েন। হজ্জযাত্রীদের ভিড় সামলানোর জন্য মসজিদুল হারামের ব্যবস্থাপনা ভালো হওয়া সত্ত্বেও তাদের হিমশিম খেতে হয়।
* জুতা ও সেন্ডেল রাখার পর্যাপ্ত শেলফ থাকা সত্ত্বেও অনেকে মসজিদের ভেতরে যত্রতত্র জুতা-সেন্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখেন।
* অনেকেই জানেন না মসজিদে নারী পুরুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কিংবা মহিলার সরাসরি পেছনে পুরুষের দাঁড়িয়ে স্বলাত আদায় করা যায়েজ নয়।
* অনেকেই ভালোভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান না এবং ভালোভাবে কাতার সোজা করেন না ও সামনের কাতার আগে পূরন করেন না।
* অনেক পুরুষের কাপড় টাখনুর নীচে দেখা যায় এবং অনেকে তসবীহ মালা বা মেশিন তসবীহ (অনুউত্তম) দিয়ে তসবীহ করছেন।
* অনেক বৃদ্ধ মহিলা ও পুরুষের এস্কেলেটরে চড়ার অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে পরে গিয়ে নিজেরা আহত হন এবং অন্যকে আহত করেন।
* দেখবেন অনেকে সঠিকভাবে ওযু করতেও জানেন না। অনেকে ইহরাম অবস্থায় তাদের হাঁটু ও নাভী বের করে সতর খোলা রাখেন।
* অনেকে ইহরাম অবস্থায় মসজিদুল হারামের বাইরের চত্বরে ধুমপান করেন।
* স্বলাত শেষ করে অনেকে মসজিদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জটলা করে থাকেন, এর ফলে অনেক মুসল্লি বের হতে পারেন না।
* অনেকে তাওয়াফের মাতাফে এবং মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে স্বলাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়েন ও তাওয়াফকারীদের তাওয়াফে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
* অনেকে জমজমের পানি পান করার স্থানে জমজমের পানি দিয়ে ওযু করেন।
* অনেকে মসজিদের আদব রক্ষা করেন না; উচ্চস্বরে কথা বলেন গল্প করেন।
* অনেকে মসজিদের ভেতরে খাওয়া-দাওয়া করে অপরিষ্কার করে ফেলেন।
* নিজের জুতা-সেন্ডেল হারিয়ে গেলে অন্যের জুতা-সেন্ডেল নিয়ে চলে যায় অনেকে।
* অনেক মহিলা সঠিকভাবে পর্দা করেন না। অনেকে আবার আকর্ষণীয় হিজাব পরেন। অনেকে স্বলাতের সময় পা, মাথা, চুল অনাবৃত রেখে স্বলাত পড়েন।
* মসজিদের ভেতরে অনেকে জুতা ও ব্যাগ অরক্ষিত অবস্থায় খোলা জায়গায় ফেলে রাখেন তাই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসে সেসব পানি দিয়ে ভিজিয়ে ফেলেন।
* তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার জন্য অনেকে ধাক্কাধাক্কি, বলপ্রয়োগ ও বৈরি আচরণ করেন। অথচ তা মোটেই কাম্য নয়।
* অনেক মহিলা আবেগের তাড়নায় পুরুষদের মাঝেই ধাক্কাধাক্কি করে হাজরে আসওয়াদ চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা অনুচিত ও গুনাহের কাজ।
* অনেকে আবার কাবার দেয়াল ও গিলাফ জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে কান্নাকাটি করেন। তবে মুলতাযম এ গিয়ে দু'আ করা যায়েজ আছে।
* অনেকে কাবা ও মাক্কামে ইবরাহিমের দেয়াল স্পর্শ করেন, চুমু খান এবং পরিধানের কাপড়, রুমাল ও টুপি ঘষতে থাকেন।
* অনেকে কেঁচি ও ব্লেড দিয়ে কাবার গিলাফের সুতা কাটে ও মসজিদের মেঝের ভাঙ্গা পাথর সংগ্রহ করে বরকত লাভের ও তাবীজ বানানোর জন্য।
* স্বলাত শেষ হওয়ার পরপরই অনেকে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া শুরু করেন, ঠিক একই সময়ে বাইরে থেকে অনেকে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এতে করে মারাত্মক অরাজগতা ও চাপ সৃষ্টি হয়।
* অনেকে শপিং মলে ঘুরাঘুরি, কেনাকাটা ও ফুড কোর্ট এ খাওয়া দাওয়া করে সময় অপচয় করেন যা ইবাদতের মনযোগ ও একাগ্রতা নষ্ট করে।
* অনেকে টানা দ্রুত বেগে নফল জ্বলাত আদায় করে যাচ্ছেন, কারণ তার সারা জীবনে যা স্বলাত কাজা করেছেন তা তুলে ফেলছেন এখানে এবং আগামীতে যদি স্বলাত কাজা হয়ে যায় তাও অগ্রীম পড়ে রাখছেন আগেভাগে!
* অনেকের মাঝে এমন আবেগ-ভক্তি ও ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, কাবা ঘরের দিকে পিছন দিক ফিরে বসা ও পিছন ফিরে কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে না আবার কাবা ঘরের দিকে পা দিয়ে বসা ও ঘুমানো যাবে না।
* অনেকে মসজিদুল হারামকে 'হেরেম শরীফ' বলে ডেকে থাকেন যা নিতান্তই ভাষাগত একটি ত্রুটি। শুধু হারাম বললেই যথেষ্ট এবং শুদ্ধ।
* অনেকে মসজিদের নিকটবর্তী মক্কার মাআল্লা কবরস্থানকে 'জান্নাতুল মাআল্লা' বলে ডেকে থাকেন, এটাও একটি ত্রুটি। এমনভাবে কোন কবরস্থানকে জান্নাত বলা যায় না বা কবরের সকল অধিবাসী যে জান্নাতী হবে তার নিশ্চয়তা নেই।
* অনেকে শুধু উমরাহ করতে গিয়ে উমরাহকে 'উমরাহ-হজ্জ' বলে ডেকে থাকেন যা একটি ত্রুটি। শুধু উমরাহ করলে এর সাথে হজ্জের কোন সম্পর্ক নেই আর হজ্জ করলে এর সাথে উমরাহ করা হয়ে যায়。
📄 মক্কায় কেনা-কাটা
অতিরিক্ত টাকা-পয়সা নিয়ে হজ্জ-উমরাহ করতে যাবেন না বা সেখানে গিয়ে বেশি কেনা-কাটা করায় লিপ্ত হবেন না। কেনা-কাটা করলে লাগেজের ওজনের বিষয় মাথায় রেখে করবেন। যদি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কোন সাধারণ কিছু উপহার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনতে চান তবে তা হজ্জের আগেই কিনে ফেলুন। কেননা, হজ্জের সময় যত কাছাকাছি হয় জিনিসপত্রের দাম ততো বেড়ে যায়।
মসজিদে হারামের আশেপাশে পাবেন বেশ কিছু শপিং মল। জমজম টাওয়ারে পাবেন কিছু ব্যয়বহুল ব্যান্ডের দোকান। জমজম টাওয়ারের বেসমেন্টে পাবেন কিছু সস্তা মানের দোকান। জমজম টাওয়ারের পাশে লাগোয়া আল সাফওয়া টাওয়ার শপিংমলও ও বিন দাউদ মল কেনাকাটার জন্য ভালো। হারামের চারপাশের শপিং সেন্টারগুলোও একটু ব্যয়বহুল। তবে কিছু দূরে মাআল্লা কবরস্থানের পাশে পাইকারি ও সন্তায় পণ্য কেনার জন্য বেশ কিছু মার্কেট ও শপিং মল পাবেন। এছাড়া উত্তর আজিজিয়ায় এক রাস্তায় পাশাপাশি অনেকগুলো বড় সুপার শপ মল পাবেন, যেমন- Family International Complex, Bawarith Plaza, Top Ten, Al Jawhara Mall ইত্যাদিতে সকল ধরনের পণ্য কেনার জন্য যেতে পারেন। মনে রাখবেন, পৃথিবীর মধ্যে নিকৃষ্টতম স্থান হলো বাজার। তাই বাজারে কেনাকাটায় বেশি সময় নষ্ট করবেন না।
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী মদীনার তুলনায় মক্কায় সবকিছুর দাম একটু বেশি। এখানে অনেক দোকানে বাঙালি বিক্রয়কর্মী দেখতে পাবেন। আপনি সহজেই তাদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে পারেন। তবে একটা দুঃখের বিষয় লক্ষ্য করেছি এবং আমার মতো অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, বাঙালি বিক্রয়কর্মীরাই বাঙালিদের কাছে জিনিসপত্রের বেশি দাম চান! এমনকি অনেক বাঙালি বিক্রয়কর্মী নিজেদের বাঙালি পরিচয় পর্যন্ত দিতে চান না, কারণ এতে যদি আপনি তার সঙ্গে বেশি দামাদামি শুরু করে দেন! আবার এর উল্টো দেখা যায়, অনেকে দেশি দেশি বলে ডেকে, ভালো কথা বলে দাম বেশি রাখে।
তবে একটি বিষয় আপনার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হবে এবং দেখে ভালোই লাগবে সেটা হলো এখানে যে কোনো স্বলাতের আযান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। স্বলাতের সময় সে দেশে কোনো বেচা-কেনা হয় না। ক্রেতা-বিক্রেতা স্বলাতের সময় শপিং মলে থাকলেও স্বলাতে দাঁড়িয়ে যান। স্বলাত শেষ হলে আবার বেচা-কেনা শুরু হয়ে যায়।
শেষ গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো: মক্কা থেকে পারলে তাওহীদ ও তাকওয়াকে ক্রয় করে অন্তরে গেঁথে নিয়ে আসবেন!