📄 তাওয়াফের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
* অনেকে মনে করেন তাওয়াফের জন্য গোসল করা বাধ্যতামূলক।
* মহিলাদের কোন স্পর্শ যাতে না লাগে সেজন্য মোজা পরা বা একজাতীয় সেন্ডেল পরা অথবা হাত আবৃত করা।
* মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে তাহিয়্যাতুল মসজিদ স্বলাত পড়া।
* হাজরে আসওয়াদে তাওয়াফের তাকবীরের সময় উভয় হাত উঁচু করা এবং শব্দ করে হাতে চুমু খাওয়া অতঃপর হাত কপালে ও বুকে স্পর্শ করা।
* ৭ চক্করের জন্য ৭ টি আলাদা আলাদা দু'আ মুখস্থ করে পাঠ করা।
* সম্মিলিত বা দলবদ্ধভাবে তাওয়াফ করার সময় দলনেতার নেতৃত্বে জোরে জোরে পুরুষ ও মহিলা একসাথে দু'আ পাঠ করা।
* প্রচলিত যয়ীফ হাদীস; (আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দিন ১২০টি রহমত নাযিল করেন। ৬০ টি তাওয়াফকারীদের জন্য..)
* ইয়েমেনী কর্ণার রুমাল বা পড়নের কাপড়ের নিচ প্রান্ত ধরে স্পর্শ করা
* কালো পাথর স্পর্শ করার সময় বিশেষ দুআ বলা; (হে আল্লাহ আপনার প্রতি বিশ্বাস থেকে এবং আপনার গ্রন্থের সত্যায়ন থেকে..)
* কালো পাথর স্পর্শ করার সময় বলা; (হে আল্লাহ আমি আপনার থেকে গর্ব ও দারিদ্র এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অমর্যাদা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
* তাওয়াফ করার সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা (স্বলাতের মত করে)।
* কাবার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বিশেষ এই দুআ বলা; (হে আল্লাহ, এই ঘর আপনার ঘর এবং এই পবিত্র এলাকা আপনার, এর নিরাপত্তার দায়িত্বও আপনার..) এবং এরপর মাকামে ইবরাহীমে দিকে নির্দেশ করে বলা; (এটা তার স্থান যিনি জাহান্নামের আগুন থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।)
* রমল করার সময় এই দু'আ পাঠ করা বাধ্যতামূলক মনে করা; (হে আল্লাহ একে আপনি কবুল হজ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন, সকল গুনাহ মাফ করে দিন।)
* ক্যামেরা/মোবাইল হাতে নিয়ে তাওয়াফ করা বা ভিডিও করা বা লাইভ করা। তবে মোবাইল বা ট্যাব হাতে নিয়ে কুরআন বা দু'আ পড়লে আপত্তি নেই।
* শেষের চার তাওয়াফের সময় এই দু'আ পাঠ করা আবশ্যক মনে করা; (হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা ও দয়া করুন, ক্ষমা করুন যা আপনি জানেন।)
* শামি কর্ণারে ও ইরাকী কর্ণারে চুম্বন করা বা হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
* কাবা ঘর ও মাক্কামে ইবরাহীমের দেয়াল জামা-কাপড় দিয়ে মোছা বা হাত বুলানো ফযীলত ও বরকতের আশায়।
* যয়ীফ হাদীস; (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ও ফেরেশতাগণ তাওয়াফকারীদের অভিনন্দন জানান।)
* বৃষ্টির মধ্যে এই উদ্দেশ্য তাওয়াফ করা যে সকল গুনাহ পানিতে ধুয়ে যাবে।
* অপরিষ্কার কাপড় বলে তাওয়াফ থেকে বিরত থাকা এবং জমজমের পানি দিয়ে গোসল করা পাপ মোচনের আশায়। কবরের আযাব থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় জমজমের পানি দিয়ে ইহরামের কাপড় ধুয়া।
* জমজমের পানি পান করার পর অবশিষ্ট পানি আবার জমজম কুপে ফেলে বলা; (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ভরণপোষণের পর্যাপ্ত যোগান, দরকারি জ্ঞান এবং সকল ধরনের রোগ থেকে উপশম কামনা করছি।)
* বরকত লাভের আশায় জমজমের পানিতে দাড়ি, কাপড় ও টাকা ভিজানো।
* অনেক ঢোকে জমজমের পানি পান করা এবং প্রতি ঢোকে কাবার দিকে তাকানো
* একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন; আল্লাহ তাআলা কাবার ভিতরে অবস্থান করেন না বা আমরা মুসলিমরা কাবা ঘরের উপাসনা করি না বা কাবা থেকে কোন বরকত-ফয়েজ হাসিল করা যায় না। কাবা হচ্ছে 'কিবলা' যা মুসলমানদের ইবাদতের দিক নির্ণায়ক। আমরা মুসলমানরা সম্মিলিতভাবে ঐক্কের লক্ষ্যে কাবার দিকে মুখ করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করি。
📄 সাঈ’র তাৎপর্য ও সাঈ করার পদ্ধতি
সাঈ করা অর্থ; সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে হাঁটা বা দৌড়ানো।
ক্বাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সাফা পাহাড় এবং পূর্ব-উত্তর দিকে মারওয়া পাহাড় অবস্থিত। এই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সাঈ করার স্থানকে মাস'আ বলা হয়। দুই পাহাড়ের উপর গম্বুজ নির্মিত আছে।
বেজমেন্ট/প্রথম তলা/দ্বিতীয় তলা/ছাদের উপরও প্রয়োজনে সাঈ করা যায়। তবে সাফা মারওয়ার মাস'আ এলাকার বাইরে দিয়ে সাঈ করা যাবে না।
প্রাচীন সাফা ও মারওয়া পাহাড় কাঁচের ঘেরা দিয়ে সংরক্ষিত আছে। সাঈ করার সময় এই পাহাড় দেখা যায়। সাঈ'র সময় দু'আ কবুল হয়।
হাজেরা (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) এর ইতিহাসের প্রতিফলনে সাঈ করা। এটা আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা, বিশ্বাস, সংগ্রাম ও ধৈর্য্যের সাদৃশ্য ঘটায়।
পায়ে হেঁটে অথবা হুইল চেয়ারে করে সাঈ করা যাবে। হুইল চেয়ারে সাঈ করার জন্য মাঝখানে একটি রাস্তা নির্ধারণ করা আছে। সাঈ করার জন্য ওযু করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে মুস্তাহাব। সাঈ করার মধ্যবর্তী স্থানে একটি সবুজ আলো চিহ্নিত স্থান আছে যেখান দিয়ে শুধু পুরুষদের দ্রুত হাঁটতে হয়।
তাওয়াফের পরপরই সাঈ করতে হবে। তাওয়াফের আগে সাঈ করা যাবে না। কেউ ভুলে আগে সাঈ করে ফেললে উমরাহর ফরজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার কারণে উমরাহ বাতিল হয়ে যাবে।
সাঈ করার সময় সাফা থেকে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে অথবা মারওয়া থেকে সাফা পাহাড়ে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম করা অনুমোদিত, এমনকি সেটা যদি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অবস্থায়ও হয়। মাঝে জমজমের পানিও পান করা যাবে।
প্রথমে সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে সোজা মারওয়া পাহাড়ে হাঁটা শেষ হলে এক পাল্লা বা দূরত্ব গণনা করা হয়। আবার মারওয়া পাহাড় থেকে সাফা পাহাড় হাঁটা শেষ হলে দুই পাল্লা বা দূরত্ব গণনা করা হবে। সাঈ সম্পন্ন করার জন্য এভাবে সাত পাল্লা হাঁটতে হবে অর্থাৎ সপ্তম পাল্লা শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে।
ঋতুবতী মহিলারা সাঈ করতে পারবেন, কারণ সাঈ এলাকা মসজিদুল হারামের কোনো অংশ নয়। তবে মসজিদুল হারামের সীমানার ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। সাঈ করা উমরাহর একটি ফরয কাজ। বুখারী-১৬৪৩
সাঈ'র পদ্ধতি
সাঈ করার জন্য মনে ইচ্ছা/নিয়ত পোষণ করাই যথেষ্ট। সাঈ করতে যাবার পূর্বে হাজরে আসওয়াদ পাথর 'ইস্তিলাম' (চুম্বন-স্পর্শ) করা উত্তম তবে ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে কোন সমস্যা নেই, সরাসরি সাফা পাহাড়ের দিকে রওনা হয়ে পড় ন। তবে এ সময় হাজরে আসওয়াদ পাথরের দিকে হাত তুলে ইশারা করা বা তাকবীর বলার কোন বিধান নেই। নাসাঈ-২৯৭৪
সাফা পাহাড়ে যতটুকু সম্ভব উঠে বা কাছাকাছি পৌঁছে এই দু'আটি শুধুমাত্র এখন একবারই পড়বেন: সূরা-আল বাকারা, ২:১৫৮, তিরমিযী-৮৬২, নাসাঈ-২৯৭৪
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
"ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা'আয়িরিল্লাহ"।
"নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম।”
এবার কাবা ঘরের দিকে মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে দু'আ/মুনাজাত করার মত এই দু'আটি তিনবার পাঠ করবেন: নাসাঈ-২৯৭১
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - أَنْجَزَ وَعْدَهُ - وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমিতু, ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন কুদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু”।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহান। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেছেন এবং দুষ্কর্মের সহযোগীদের পরাস্ত করেছেন"। নাসাঈ-২৯৭৪
পদ্ধতি এমন হবে যে, প্রথমে তিন তাকবীর দিবেন অতঃপর উক্ত দু'আটি একবার পাঠ করে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য আরও কিছু দু'আ করবেন। ফের উক্ত দু'আটি পড়ে আবার অন্যান্য কিছু দু'আ পড়বেন। শেষ আর একবার এভাবে দু'আ পড়বেন। অর্থাৎ তিন বার এভাবে করবেন। নাসাঈ-২৯৭২
দু'আ শেষ করে মারওয়া পাহাড়ের দিকে চলতে শুরু করবেন। এখানে কাবাকে উদ্দেশ্য করে তাওয়াফের মত হাত উঠিয়ে তাকবীর বলা কিংবা হাতের তালুতে চুম্বন করার কোনো নিয়ম নেই। নাসাঈ-২৯৮১
সাফা থেকে মারওয়া পাহাড়ের দিকে হাতের ডানের রাস্তা দিয়ে স্রোতের সাথে দলে দলে হাঁটা শুরু করবেন। সাঈ করার সময় তাওয়াফের মতো দু'আ করতে পারেন। আপনি চাইলে কুরআন তিলাওয়াত, দু'আ, যিকর, ইসতিগফার করতে পারেন আপনার নিজের ইচ্ছা মত। আওয়াজ করে, জোরে শব্দ করে বা দলবদ্ধ হয়ে কোন দু'আ পাঠ করার বিধান নেই।
সাফা পাহাড় থেকে কিছু দূর এগিয়ে উপরে সবুজ আলোর লম্বা বাতি দেখবেন। এই সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে শুধু পুরুষরা রমল এর মত জগিং করে দৌড়াবেন। সবুজ আলো অতিক্রম করার পর আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। সাঈ করার সময় যতবারই এই সবুজ আলোর জায়গার মধ্য দিয়ে যাবেন ততবার রমল করবেন। কিন্তু মহিলা এখানে দৌড়াবেন না বরং সবসময় স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। বুখারী-১৬১৭,১৬৪৯, ইবনে মাজাহ-২৯৮৮
সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে দৌড়ানোর সময় এই দু'আটি পড়বেন:
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ
"রাব্বিগফির ওয়ারহাম ইন্নাকা আনতাল আ'আযযুল আকরাম"
"হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।" ইবনে শায়বাহ-৩/৪২০, তাবারানী-৮৭০
সাফা থেকে হেঁটে মারওয়া পাহাড় এসে পৌঁছলে ১ পাল্লা বা দূরত্ব সম্পন্ন হল। মারওয়া পাহাড়ে যতটুকু সম্ভব উঠে বা মারওয়া পাহাড়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আবার কাবার দিকে মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে উপরোক্ত বড় দু'আটি ৩বার পড়ুন; ঠিক একই পদ্ধতিতে যেমন সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। শুধু এখন ৩ তাকবীর দিবেন না। এবার পুনরায় মারওয়া থেকে সাফার দিকে হাঁটা শুরু করবেন এবং মাঝখানে সবুজ জায়গাটুকুতে দৌড়ে পার হবেন। মারওয়া থেকে হেঁটে সাফা পাহাড়ে পৌঁছলে ২ পাল্লা বা দূরত্ব সম্পন্ন হল। এভাবে আরও ৫ পাল্লা সম্পন্ন করার পর মারওয়া পাহাড়ে এসে সাঈ শেষ করবেন। কেউ যদি সাফা মারওয়ার দুই প্রান্তে গিয়ে কোন দু'আ না পড়ে শুধু ঘুরে চলে আসে তবুও তার সাঈ হয়ে যাবে তবে সে দু'আর নেকি থেকে বঞ্চিত হবে। নাসাঈ-২৯৮৫
সাঈ করার সময় কোনো স্বলাতের ইকামত হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বলাত আদায় করে নিবেন এবং যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে ফের শুরু করবেন। সাঈ করার সময় প্রয়োজন ব্যতিরেকে কথা না বলাই শ্রেয়। তবে সাঈ করার সময় প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া বা পাশে নল থেকে জমজম এর পানি পান করা যায়েজ।
সাঈর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্যনীয়:
সাঈ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য নিম্নের ৭টি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক: ১. অন্তরে সাঈর নিয়ত করা, ২. স্বশরীরে সাঈ করা, ৩. প্রথমে তাওয়াফ ও পরে সাঈ করা, ৪. সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে ৭ পাল্লা পূর্ণ শেষ করা, ৫. সাফা ও মারওয়ার পূর্ণ দূরত্ব অতিক্রম করা, ৬. সাঈ করার স্থানেই সাঈ করা, ৭. জাগ্রত অবস্থায় সাঈ করা। এই শর্তগুলোর কোন একটি ছুটে গেলে সাঈ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় নতুন করে সাঈ করতে হবে।
সাঈ শেষ করে মসজিদুল হারাম দিয়ে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে দিয়ে বের হোন এবং নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করবেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক"।
“হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি”। নাসাঈ-৭২৯
📄 কসর/হালক্ব
■ সাঈ শেষ করার পর মাথার সব অংশ থেকে সমানভাবে ছোট করে চুল ছেঁটে (কসর) ফেলতে পারেন। তবে পুরো মাথা মুড়ানো বা সেভ করা (হলক্ব) উত্তম কাজ। টাক মাথার লোকও খালি মাথা ক্ষুর বা ব্লেড দিয়ে সেভ করে নিবে।
■ আল্লাহ বলেন, "তোমরা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মাথা মুন্ডন করে ও চুল কেটে নির্ভয়ে অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ কর।” সূরা-আল ফাতাহঃ ৪৮:২৭
■ রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "হে আল্লাহ, মাথা মুন্ডনকারীদের মাফ করে দাও। সাহাবীরা বললেন, চুল কর্তনকারীদের? তিনি বললেন, হে আল্লাহ, মাথা মুন্ডনকারীদের মাফ করে দাও। তারা বললেন, চুল কর্তনকারীদের? তিনি তৃতীয়বার বললেন, হে আল্লাহ, মাথা মুন্ডনকারীদের মাফ করে দাও। এরপর বললেন, চুল কর্তনকারীদেরও মাফ করে দাও।" বুখারী-১৭২৮
■ মহিলারা সমস্ত মাথার চুল একসাথে ধরে চুলের অগ্রভাগ থেকে ১ ইঞ্চি পরিমাণ চুল কেটে ফেলবে। মহিলাদের মাথা মুড়ানোর (হলক্ব) কোন বিধান নেই।
■ উমরাহর সময় কসর/হলকু করা ওয়াজিব। প্রয়োজনে নিজের চুল নিজে কেটে ফেলা যায়। কিংবা একে অন্যের চুল কেটে ফেলা যায় এক্ষেত্রে চুল কর্তনকারীর চুল আগে কাটা হওয়া লাগবে এমন কোন শর্ত বা নিয়ম নেই। নাসাঈ-২৯৮৭
■ হজ্জ নিকটবর্তী হলে উমরাহকারীর জন্য মাথা মুন্ডনের চেয়ে চুল কসর করে কাটা উত্তম। অতঃপর হজ্জ শেষে মাথা মুন্ডন করে নিবে।
■ মসজিদুল হারামের আশেপাশে পুরুষদের অনেক চুল কাটার সেলুন পাওয়া যাবে। ১০-১৫ রিয়াল এর মধ্যে চুল কাটার কাজ হয়ে যায়।
■ নাপিতকে ডান দিক দিয়ে চুল কাটা শুরু করতে বলবেন। মহিলারা বাসায় একে অপরের চুল কাটাতে পারে বা কোন পুরুষ কোন মহিলার চুল কেটে দিতে পারে
■ চুল কাটার মাধ্যমে আপনার ইহরামের সকল নিষেধাজ্ঞা শেষ হলো। এবার ইহরামের কাপড় খুলে ফেলবেন ও গোসল করে নিতে পারেন। আপনার উমরাহও সম্পন্ন হয়ে গেল। এখন আপনি সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।
■ আল্লাহ তাআলা যে আপনাকে উমরাহ সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেছেন সে জন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন。
📄 সাঈ করার ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
* সাঈর প্রতি কদমে ৭০ হাজার সাওয়াব লেখা হবে এই আশায় ওযু করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ শুরু করা।
* সাফা/মারওয়ার পাহাড়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই ঘুরে চলে যাওয়া।
* সাঈ করার সময় অনেকে সাফা-মারওয়ার দিকে হাত উঁচু করে দু'আ করেন।
* সাফা থেকে নামার সময় নির্দিষ্ট এই দু'আ করা; হে আল্লাহ আপনি আমার কর্মকান্ড রাসূলের সুন্নাত সমর্থিত করে দিন ও দ্বীনের উপর রেখেই মৃত্যু দিন।
* সাঈ করার সময় নির্দিষ্ট দু'আ; (হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন এবং আমার যেসব বিষয় আপনি জানেন তা গোপন করুন।)
* ১৪ বার চক্কর দিয়ে সাঈ শেষ করা। উমরাহ করে পরে এমনি সাঈ করা।
* ঋতুবতী মহিলারা তাওয়াফ না করেই আগে সাঈ করে ফেলা।
* সাঈ শেষ করে দুই রাকাআত স্বলাত আদায় করা।
* জ্বলাতের ইকামাত হওয়ার পরও সাফা মারওয়ার মাঝে সাঈ চলমান রাখা।
* দলের সামনে দলনেতা কর্তৃক দু'আ উচ্চস্বরে উচ্চারণ করা এবং সে অনুসারে দলের সবাই মিলে সমবেত কণ্ঠে সেই দু'আ পাঠ করা।
* পরিপূর্ণ কসর/হলকু না করে কাঁচি দিয়ে মাথার বিভিন্ন অংশ থেকে সামান্য কিছু চুল কেটে ফেলা।
* একটি সতর্কতা: তাওয়াফ বা সাঈ করার সময় হুইল চেয়ার থেকে সতর্ক থাকবেন কারণ অনেকে জোরে হুইল চেয়ার চালিয়ে এসে পায়ের পিছনে ঠোকা লাগিয়ে দেন ফলে পা জখম বা কেটে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উমরাহ করার পর যা করবেন
■ উমরাহ সম্পন্ন করার পর থেকে হজ্জ এর পূর্ব পর্যন্ত আর কোন হজ্জ বিষয়ক কর্মকান্ড নেই। উমরাহ সম্পন্ন করার পর যতো বেশি পারেন মসজিদুল হারামে ফরয ও নফল স্বলাত আদায় করবেন এবং সম্ভব হলে বেশি বেশি নফল তাওয়াফ করবেন। তবে আর কোন পৃথক সাঈ করতে যাবেন না। নাসাঈ-২৯৮৬
■ হজ্জ এজেন্সি একদিন বাসে করে মক্কার নিকটবর্তী কিছু ইসলামিক ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখিয়ে নিয়ে আসবে আর আপনারা চাইলে গাড়ি ভাড়া করে দূরবর্তী দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখে আসতে পারেন। মহিলারা মাহরাম ছাড়া বাইরে কোথাও একাকী কেনাকাটা বা ঘুরাঘুরি করতে যাবেন না। হজ্জযাত্রীদের তায়েফ, জেদ্দা ও মক্কার সীমানার বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। এসময় ব্যাংক থেকে হজ্জের জন্য হাদীর টিকেট কিনে ফেলতে পারেন。