📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মসজিদুল হারামে প্রবেশ ও কাবা তাওয়াফ

📄 মসজিদুল হারামে প্রবেশ ও কাবা তাওয়াফ


এবার তাওয়াফের জন্য প্রস্তুতি নিন। তাওয়াফের পূর্বে পবিত্র হওয়া আবশ্যক। তাওয়াফের পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব। তবে শুধু ওযু করলেও চলবে। ওযু ছাড়া বা হায়েয অবস্থায় তাওয়াফ করা যায়েজ নয়। ইহরামের বিধি-নিষেধ স্মরণ রাখবেন এবং বেশি বেশি তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকবেন। বুখারী-১৬৪২
মসজিদুল হারামে যাওয়ার রাস্তা চিনে রাখতে চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি যদি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন অথবা হারিয়ে যান তাহলে সহজেই বাসা বা হোটেলে ফিরে আসতে পারবেন। অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষদের তাওয়াফ ও সাঈ করার জন্য মসজিদের বাইরে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার সার্ভিস পাওয়া যায় জমজম টাওয়ারের সামনে মহিলাদের ৪নং ওয়াশরুমের পাশে এবং কিং আব্দুল আজিজ এক্সটেনশন মসজিদের সামনে ওয়াশরুমের পাশে。
বাবুস সালাম গেট দিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা উত্তম। তবে মসজিদ সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে এটি এখন রাসূল(ﷺ) এর যামানার সেই গেট নয়। অতএব আপনি যে কোনো গেট দিয়েই প্রবেশ করতে পারেন। তবে তাওয়াফ শুরু করার জায়গায় সহজে পৌঁছানোর জন্য সাফা পাহাড়ের পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করলে সহজ হয়। মসজিদে প্রবেশের আগে সেন্ডেল খুলে শেলফে রাখুন অথবা সঙ্গে ছোট ব্যগে নিয়ে নিতে পারেন।
ডান পা দিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করুন এবং এই দু'আ পাঠ করুন:
بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
"বিসমিল্লাহি ওয়াসস্বলাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রহমাতিকা"। নাসাঈ-৭২৯
"আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। স্বলাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর। হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দিন"।
উমরাহর নিয়তে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলে 'তাহিয়‍্যাতুল মসজিদ' স্বলাত আদায় করার প্রয়োজন নেই। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) হজ্জ ও উমরাহর নিয়তে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সরাসরি তাওয়াফ করেছেন। কিন্তু অন্য কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে ২ রাকাআত তাহিয়্যাতুল মসজিদ স্বলাত আদায় না করে মসজিদে বসা যাবে না; তবে কোন স্বলাতের ইকামত হয়ে গেলে সেই স্বলাতে শামিল হয়ে যাবে। এই নিয়ম পৃথিবীর সকল মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বুখারী-৪৪৪
মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে কাবার উদ্দেশ্যে যেতে যেতে তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকুন। যখনই কাবা ঘর চোখে পড়বে তখনই তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করে তাওয়াফের প্রস্তুতি নিন। কাবা ঘর চোখে পরা মাত্রই জোরে তাকবির দেওয়া বা দু হাত তুলে দু'আ করা সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয়। তবে বায়তুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হলে মনে মনে সাধারণভাবে দু'আ করা যায়েজ। তাওয়াফ শুরু করার মনে মনে নিয়ত করবেন। নিয়তের জন্য মুখে কিছু বলতে হবে না, অন্তরের ইচ্ছা পোষণ করাই যথেষ্ট। এই তাওয়াফ করা উমরাহর ফরয কাজ।
তাওয়াফ শুরুর হাজরে আসওয়াদ কর্ণার যাওয়ার আগে পুরুষরা ইহরামের কাপড়ের এক প্রান্ত ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর দিবেন এবং ডান কাঁধ ও বাহু উন্মুক্ত করে দিবেন। একে বলা হয় 'ইদতিবাহ'। সাত চক্করেই এমনটি রাখা সুন্নাত। মেয়েদের কোন ইদতিবাহ নেই। এই ইদতিবাহ শুধুমাত্র উমারাহর তাওয়াফের সময় করতে হয়। আর অন্য কোন তাওয়াফের সময় ইদতিবাহ করতে হয় না। আবু দাউদ-১৮৮৪, তিরমিযী-৮৫৯
এবার তাওয়াফ শুরুর স্থানে তাওয়াফকারীদের স্রোতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তাওয়াফের স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ এতে বিপরীত দিক থেকে আসা লোকের মাধ্যমে আঘাত পেতে পারেন ও আপনি তাওয়াফকারীদের তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারেন।
■ তাওয়াফকারীদের সাথে চলতে চলতে হাজরে আসওয়াদ বরাবর এসে লক্ষ্য করবেন হাজরে আসওয়াদ এর কোন/কর্ণার বরাবর মসজিদুল হারামের দেওয়ালে সবুজ রংয়ের আলোর বাতি জ্বলে আছে। এই সবুজ বাতি ও হাজরে আসওয়াদের কোন বরাবর পৌঁছলে বা তার কিছু আগেই সম্ভব হলে একটু থেমে বা চলতে চলতেই হাজরে আসওয়াদ এর দিকে মুখ করে শুধু ডান হাতের তালু উঁচু করে হাজরে আসওয়াদের দিকে সোজা ধরে বলবেন:
بِسْمِ اللهِ اللَّهُ أَكْبَرُ
"বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার"।
"আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে বড়"।
■ তাকবীর বলার পর আপনার ডান হাত নিচে নামিয়ে নিন ও রমল (দ্রুত পদক্ষেপে বীরত্ব প্রকাশ) করে চলতে শুরু করবেন। লক্ষ্য করবেন অনেকে এক/দুই হাত উঁচু করে তাকবীর বলছেন ও হাতে চুমু খাচ্ছেন, এমনটি করা সঠিক সুন্নাহ নিয়ম নয়। বুখারী-১৬১২
■ হাজরে আসওয়াদ পাথর চুম্বন করে তাওয়াফ শুরু করা উত্তম ও এমনটি করা সুন্নাত। তবে যদি চুমু খেতে না পারেন তাহলে ডান হাত দিয়ে পাথরটি স্পর্শ করে হাতে চুমু দিয়ে তাওয়াফ শুরু করতে পারেন। কিন্তু হজ্জ মৌসুমে অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে হাজরে আসওয়াদ এর ধারে কাছেই যাওয়া যায় না, তাই আপনাকে দূর থেকে ইশারা করেই তাওয়াফ শুরু করার পরামর্শ দিব। পরবর্তীতে আপনি যখন নফল তাওয়াফ করবেন তখন যতদূর সম্ভব ধাক্কাধাক্কি না করে ও কাউকে কষ্ট না দিয়ে হাজরে আসওয়াদ পাথর চুম্বন করার চেষ্টা করতে পারেন।
■ হাজরে আসওয়াদ পাথর স্পর্শের ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, এই পাথর স্পর্শ করলে গুনাহসমূহ (সগীরা গুনাহ) সমূলে মুছে যায় ও এই পাথর হাশরের ময়দানে সাক্ষী দিবে যে ব্যক্তি তাকে স্পর্শ করেছে। ইবনে মাজাহ-২৯৪৪
■ এবার কাবাকে হাতের বামে রেখে আবর্তন/চক্কর দিতে শুরু করবেন। হাজারে আসওয়াদ কর্ণার এর সবুজ বাতি থেকে শুরু করে কাবা ঘরের ইরাকি কর্ণার, হাতিম, শামি কর্ণার, ইয়েমেনি কর্ণার পার করে ফের হাজরে আসওয়াদ কর্ণার এর সবুজ বাতি পর্যন্ত হাঁটা শেষ হলে এক চক্কর শেষ হলো। এমন করে আরও ছয় চক্কর দিতে হবে। এভাবে সাত চক্কর সম্পন্ন হলে তাওয়াফ শেষ হয়ে যাবে।
■ শুধুমাত্র পুরুষরা চক্করের শুরুতে দৃঢ়তার সাথে প্রথম তিন চক্কর সম্পন্ন করবেন অর্থাৎ; একটু দ্রুত ও ক্ষুদ্র কদমে বুক টান করে 'রমল' করে /জগিং করে চক্কর সম্পন্ন করবেন তবে রুকনে ইয়েমেনি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হবে, এমনটি করা সুন্নাত। তবে ভিড়ের কারণে রমল করা সম্ভব না হলে কোনো সমস্যা নেই, আপনি স্বাভাবিকভাবেই হাঁটবেন। এই রমল করা শুধুমাত্র উমরাহর তাওয়াফের জন্য প্রযোজ্য। আর অন্য কোন তাওয়াফের সময় রমল করতে হয় না। চতুর্থ চক্কর থেকে আপনি আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে শুরু করবেন এবং এই ধারা বজায় রাখবেন সপ্তম চক্কর পর্যন্ত। মহিলাদের কোন রমল নেই। বুখারী-১৬০২, নাসাঈ-২৯৪১
■ তাওয়াফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দু'আ নেই। কিছু কিছু বইয়ে দেখবেন; প্রথম চক্রের দু'আ, দ্বিতীয় চক্রের দু'আ.. লেখা থাকে। কুরআন হাদীসে এধরনের চক্রভিত্তিক নির্দিষ্ট দু'আর কোন দলীল নেই। তাওয়াফরত অবস্থায় ইচ্ছে করলে কুরআন তিলাওয়াত, দু'আ, যিকর, ইসতিগফার করতে পারেন আপনার নিজের ইচ্ছা মত। আল্লাহর প্রশংসা করুন, রাসূল (ﷺ) এর উপর দুরূদ পড়ুন। সব দু'আ যে আরবীতে করতে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই, যে ভাষা আপনি ভালো বোঝেন ও আপনার মনের ভাব প্রকাশ পায় সে ভাষাতেই দু'আ করবেন। তবে মনে রাখবেন; আওয়াজ করে, জোরে শব্দ করে বা দলবদ্ধ হয়ে কোন দু'আ পাঠ করা সুন্নাত নিয়ম এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে অন্যদের মনযোগ নষ্ট হয়। দু'আ করবেন আবেগ ও মিনতির সাথে মনে মনে। তাওয়াফের সময় তাওহীদকে জাগ্রত করুন। তাওয়াফের সময় এদিক ওদিক তাকাতাকি ও ঘুরাঘুরি না করে একাগ্রচিত্তে বিনয়ের সাথে তাওয়াফ করা। খুব বেশি প্রয়োজন ব্যতিরেকে তাওয়াফের সময় কথা না বলাই শ্রেয়।
■ তাওয়াফ করার সময় পুরুষ ও মহিলা একত্রিত হয়ে একই জায়গায় তাওয়াফ করতে হয় তাই তাওয়াফ করার সময় বেগানা পুরুষ মহিলার গায়ের সাথে ধাক্কা বা স্পর্শ লাগতে পারে তাই আপনাকে সদা সতর্ক থাকতে হবে এবং এই বিষয়গুলো সর্বাত্মক এড়িয়ে চলতে হবে। অবস্থা বুঝে একটু ভিড় এড়িয়ে তাওয়াফ করা উত্তম। কিছু লোক বা দল তাওয়াফের সময় একে অন্যের হাত ধরে বৃত্ত/ব্যারিকেড বানিয়ে সেই বৃত্তের মাঝে মহিলাদের নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করেন। এমন করা ঠিক নয় কারণ এতে অন্যদের তাওয়াফ ব্যাহত হয়। দলনেতা একটি ছোট পতাকা বা ছাতা নিয়ে সামনে থাকতে পারেন এবং অন্যরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারেন অথবা একে অন্যের হাত ধরে ছোট ছোট দল করে তাওয়াফ করতে পারেন। বুখারী-১৬১৮
■ তাওয়াফরত অবস্থায় প্রতি চক্করে ইয়েমেনী কর্ণারে পৌছানোর পর আপনি ডান হাত অথবা দুই হাত দিয়ে কাবার ইয়েমেনী কর্ণার শুধু স্পর্শ করবেন (এমনটি করা সুন্নাত), তবে ভিড়ের কারণে এটা করা সম্ভব না হলে কোন সমস্যা নেই। আপনি চক্কর চালিয়ে যাবেন। ইয়েমেনী কর্ণারে দূর থেকে হাত উঠিয়ে ইশারা করবেন না বা চুম্বন করবেন না বা আল্লাহু আকবারও বলবেন না। বুখারী-১৬০৯
■ প্রত্যেক চক্করে ইয়েমেনী কর্ণার থেকে হাজারে আসওয়াদ কর্ণার এর মাঝামাঝি স্থানে থাকাকালে এই দু'আ বারবার পাঠ করা সুন্নাত: আবু দাউদ-১৮৯২
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াক্বিনা আযাবান নার"।
"হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন"। সূরা-আল বাকারা, ২:২০১
■ প্রথম চক্কর শেষ করে হাজরে আসওয়াদ কর্ণার পৌঁছার পর আবার আগের মতো করে দূর থেকে ডান হাত উঁচু করে তাকবীর দিয়ে দ্বিতীয় চক্কর শুরু করবেন। এক্ষেত্রে 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' না বলে শুধু বলবেন 'আল্লাহু আকবার'। এমনটি পরবর্তী সকল চক্করের শুরুতে বলবেন। বুখারী-১৬১৩. ১৬৪৪
■ এভাবে উপরোক্ত নিয়মানুযায়ী সাত চক্কর শেষ করবেন। সাত চক্কর শেষ হলে শেষে 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দেওয়া ঠিক নয়। হাত উঠিয়ে কোন ইশারাও নেই। কারণ তাকবীর বলার নিয়ম প্রতি চক্কর এর শুরুতে, শেষে নয়। এভাবে আপনার তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। তাওয়াফ শেষে তাওয়াফের স্রোত থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে কোন ফাঁকা স্থানে অবস্থান গ্রহণ করবেন।
■ তাওয়াফ শেষ হওয়া মাত্রই পুরুষরা তাদের ডান কাঁধ ইহরামের কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলবেন ফলে আপনি 'ইদতিবাহ' থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন।

তাওয়াফের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্যনীয়:
■ তাওয়াফ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য নিম্নের ১০টি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক: ১. অন্তরে তাওয়াফের নিয়ত করা, ২. পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা, ৩. স্বশরীরে তাওয়াফ করা, ৪. পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর পর্যন্ত সতর কাপড় দ্বারা ঢাকা থাকা, ৫. হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করা, ৬. সাত চক্কর পূর্ণ করা, ৭. কাবাকে হাতের বাম পাশে রেখে তাওয়াফ করা, ৮. তাওয়াফের মাঝে দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া, ৯. কাবা ঘরের মসজিদের সীমানার ভিতর দিয়ে তাওয়াফ করা, ১০. জাগ্রত অবস্থায় তাওয়াফ করা। এই শর্তগুলোর কোন একটি ছুটে গেলে তাওয়াফ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ করতে হবে।
■ তাওয়াফের সময় যদি ওযু ভেঙ্গে যায় তখন সম্ভব হলে মসজিদের ভেতরে বা বাইরে দ্রুত ওযু করে আবার তাওয়াফ শুরু করবেন। যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই আবার শুরু করবেন। কিন্তু যদি বাইরে ওযু করতে গিয়ে বেশি সময় ক্ষেপন করে ফেলেন তবে পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ শুরু করা উত্তম।
■ খুব বেশি দরকার না হলে তাওয়াফের মাঝে থামা অথবা তাওয়াফের মাঝে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া টিক নয়। যদি বেশি সময় ক্ষেপন করে ফেলেন তবে আবার পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ শুরু করবেন।
■ কয়টি চক্কর শেষ করেছেন, ৩টি না ৪টি! এমন যদি মনে সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে কমসংখ্যক ৩টিকে সঠিক ধরে তাওয়াফ চালিয়ে যাবেন। ৭ চক্কর এর ১ চক্কর কম হলে তাওয়াফ সম্পূর্ণ হবে না। দলবদ্ধভাবে থাকলে যিনি তাওয়াফের সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবেন তার কথায় আস্থা রেখে তাওয়াফ করা।
মহিলারা হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। বেগানা পুরুষদের থেকে সতর্ক থেকে ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তাওয়াফ করতে চেষ্টা করবেন। যদি স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে মহিলারা ঔষধ খেয়ে ঋতু বন্ধ করে তাওয়াফ/উমরাহ করতে পারেন।
কোন কোন মহিলার ঋতু বন্ধ হওয়ার পরও রোগজনিত কারণে লাল, হলদে বা মেটে রংয়ের রক্ত অনিয়মিতভাবে বের হতে থাকে। এটা রক্তপ্রদর রোগ বা ইস্তিহাদা। এ অবস্থায়ও স্বলাত, সিয়াম, তাওয়াফ করা যাবে।
তাওয়াফ করার সময় কোনো জ্বলাতের আযান বা ইকামত হলে সঙ্গে সঙ্গে সতর (কাঁধ ও শরীর) ঢেকে নিয়ে স্বলাত পড়ে নিবেন এবং পরে যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে আবার ইদতিবাহ করে তাওয়াফ শুরু করবেন। বেশি সময় ক্ষেপন না করে তাড়াতাড়ি তাওয়াফ শুরু করবেন।
সবসময় কাবার দিকে সোজা মুখ করে তাকিয়ে তাওয়াফ না করা। আবার তাওয়াফের সময় কাবার দিকে পিঠ প্রদর্শন করে ঘুরে না থাকা। তবে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে উক্ত কাজগুলো হয়ে গেলে সমস্যা নেই।
মনে রাখবেন, প্রায় সময়ই কাবা ঘরের দেয়ালে আম্বর ও সুগন্ধী দেওয়া থাকে। সুতরাং কেউ কাবার দেয়াল স্পর্শ বা জড়িয়ে ধরবেন না, কারণ এতে আপনার ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধী লেগে যেতে পারে। মাক্কামে ইবরাহীম এর দেয়ালও স্পর্শ বা জড়িয়ে ধরবেন না।
কোন কোন মানুষের রোগজনিত কারণে ঘনঘন প্রস্রাব ঝরে ও গুহ্যদ্বার দিয়ে বাতাস বের হয় যা সে বুঝতে পারে না, এমন রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো বের হলেও তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে। কারণ এটা একটা রোগ এবং এর নিয়ন্ত্রণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।
তাওয়াফরত অবস্থায় হুইল চেয়ারে ঘুমিয়ে পরা যাবে না। তাওয়াফরত অবস্থায় কোন ক্ষতদিয়ে বা শরীর থেকে যদি রক্ত বের হয় তবে তাতে তাওয়াফের কোন ক্ষতি হবে না।
উমরাহ শেষ করে পরবর্তীতে যখন শুধু নফল তাওয়াফ করবেন তখন প্রতি তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকাআত নফল স্বলাত আদায় করতে হবে এই বিষয়টি মনে রাখবেন। নফল তাওয়াফ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আমল যা অন্য কারো জন্য/পক্ষে বা নামে করা যায় না আবার তাওয়াফ কারো জন্য বখশিয়ে দেওয়া যায় না।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মাক্বামে ইবরাহীম ও জমজম পানি

📄 মাক্বামে ইবরাহীম ও জমজম পানি


তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাক্কামে ইবরাহীমে পেছনে যেতে পারেন। রাসূল (ﷺ) মাক্কামে ইবরাহীমের পেছনে স্বলাত পড়েছেন। এখানে চাইলে বলতে পারেন:
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلَّى
"ওয়াত্তাখিযূ মিম মাক্বামি ইবরাহীমা মুসল্লা"।
"ইবরাহীমের দন্ডায়মান স্থানকে ইবাদতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো"। সূরা-আল বাকারা, ২:১২৫, বুখারী-১৬২৭, ইবনে মাজাহ-২৯৬০
সম্ভব হলে মাক্কামে ইবরাহীমের পেছনে দাঁড়িয়ে দুই রাকাআত স্বলাত আদায় করবেন। কিন্তু যদি মাকামে ইবরাহীমের চারপাশ দিয়ে মানুষজন তাওয়াফ করতে থাকে তবে তাদের তাওয়াফে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে মসজিদুল হারামের যে কোনো স্থানে দুই রাকাআত স্বলাত আদায় করবেন। এ স্বলাতের প্রথম রাকাআতে সূরা-ফাতিহা ও সূরা-কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা-ফাতিহা ও সূরা- ইখলাস পড়া সুন্নাত। তিরমিযী-৮৬৯
এই দুই রাকাআত স্বলাত ওয়াজিব নাকি সুন্নাত তা নিয়ে উলামাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে বিশুদ্ধতম ও গ্রহণযোগ্য মত হলো, এটি তাহিয়‍্যাতুল ওযু বা সাধারণ নফল স্বলাত হিসাবে বিবেচিত হবে। এই স্বলাতের পর দুই হাত উঠিয়ে দু'আ করার কোন দলীল হাদীসে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই স্বলাত তাওয়াফের কোন অংশ নয় বরং এটি একটি আলাদা স্বতন্ত্র ইবাদত। বুখারী-১৬১৬, ১৬২৩, ১৬২৮
মসজিদুল হারামে স্বলাত পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, পুরুষ-নারী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বা পুরুষ সরাসরি নারীর পেছনে দাঁড়িয়ে স্বলাত আদায় না করা। এমন করা নয়।
এবার জমজম কুপের পানির ট্যাপ বা কন্টেইনারের কাছে গিয়ে কিছু পানি পান করবেন এবং কিছু পানি মাথায় ঢালবেন। রাসূল(ﷺ) জমজমের পানি দাঁড়ানো অবস্থায় পান করেছেন এবং তিনি মানুষদের সাথে কথা বলছিলেন। জমজমের পানি কয়েক ঢোকে পান করা উত্তম। খুব ঠান্ডা পানি পান না করে নরমাল (Not cold) পানি পান করবেন। নাসাঈ-২৯৬৪
জমজম পানি পবিত্র এবং পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তম পানি। আল্লাহর ইচ্ছায় কিয়ামত পর্যন্ত এই পানি প্রবাহমান থাকবে। বিগত ৪০০০ বছরে এর পানির স্তর বিন্দু পরিমান নিচে নেমে যায়নি। এই পানি ক্ষুধা নিবারক ও রোগের শেফা করে। জমজমের পানি পান করার আগে মনে মনে দু'আ ও উপকার লাভের আশায় পান করলে তা অর্জিত হবে ইনশা-আল্লাহ। ইবনে মাজাহ-৩০৬২
এবার সাঈ করার জন্য সাফা পাহাড়ের দিকে রওনা হবেন。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 তাওয়াফের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত

📄 তাওয়াফের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত


* অনেকে মনে করেন তাওয়াফের জন্য গোসল করা বাধ্যতামূলক।
* মহিলাদের কোন স্পর্শ যাতে না লাগে সেজন্য মোজা পরা বা একজাতীয় সেন্ডেল পরা অথবা হাত আবৃত করা।
* মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে তাহিয়‍্যাতুল মসজিদ স্বলাত পড়া।
* হাজরে আসওয়াদে তাওয়াফের তাকবীরের সময় উভয় হাত উঁচু করা এবং শব্দ করে হাতে চুমু খাওয়া অতঃপর হাত কপালে ও বুকে স্পর্শ করা।
* ৭ চক্করের জন্য ৭ টি আলাদা আলাদা দু'আ মুখস্থ করে পাঠ করা।
* সম্মিলিত বা দলবদ্ধভাবে তাওয়াফ করার সময় দলনেতার নেতৃত্বে জোরে জোরে পুরুষ ও মহিলা একসাথে দু'আ পাঠ করা।
* প্রচলিত যয়ীফ হাদীস; (আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দিন ১২০টি রহমত নাযিল করেন। ৬০ টি তাওয়াফকারীদের জন্য..)
* ইয়েমেনী কর্ণার রুমাল বা পড়নের কাপড়ের নিচ প্রান্ত ধরে স্পর্শ করা
* কালো পাথর স্পর্শ করার সময় বিশেষ দুআ বলা; (হে আল্লাহ আপনার প্রতি বিশ্বাস থেকে এবং আপনার গ্রন্থের সত্যায়ন থেকে..)
* কালো পাথর স্পর্শ করার সময় বলা; (হে আল্লাহ আমি আপনার থেকে গর্ব ও দারিদ্র এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অমর্যাদা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
* তাওয়াফ করার সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা (স্বলাতের মত করে)।
* কাবার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বিশেষ এই দুআ বলা; (হে আল্লাহ, এই ঘর আপনার ঘর এবং এই পবিত্র এলাকা আপনার, এর নিরাপত্তার দায়িত্বও আপনার..) এবং এরপর মাকামে ইবরাহীমে দিকে নির্দেশ করে বলা; (এটা তার স্থান যিনি জাহান্নামের আগুন থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।)
* রমল করার সময় এই দু'আ পাঠ করা বাধ্যতামূলক মনে করা; (হে আল্লাহ একে আপনি কবুল হজ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন, সকল গুনাহ মাফ করে দিন।)
* ক্যামেরা/মোবাইল হাতে নিয়ে তাওয়াফ করা বা ভিডিও করা বা লাইভ করা। তবে মোবাইল বা ট্যাব হাতে নিয়ে কুরআন বা দু'আ পড়লে আপত্তি নেই।
* শেষের চার তাওয়াফের সময় এই দু'আ পাঠ করা আবশ্যক মনে করা; (হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা ও দয়া করুন, ক্ষমা করুন যা আপনি জানেন।)
* শামি কর্ণারে ও ইরাকী কর্ণারে চুম্বন করা বা হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
* কাবা ঘর ও মাক্কামে ইবরাহীমের দেয়াল জামা-কাপড় দিয়ে মোছা বা হাত বুলানো ফযীলত ও বরকতের আশায়।
* যয়ীফ হাদীস; (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ও ফেরেশতাগণ তাওয়াফকারীদের অভিনন্দন জানান।)
* বৃষ্টির মধ্যে এই উদ্দেশ্য তাওয়াফ করা যে সকল গুনাহ পানিতে ধুয়ে যাবে।
* অপরিষ্কার কাপড় বলে তাওয়াফ থেকে বিরত থাকা এবং জমজমের পানি দিয়ে গোসল করা পাপ মোচনের আশায়। কবরের আযাব থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় জমজমের পানি দিয়ে ইহরামের কাপড় ধুয়া।
* জমজমের পানি পান করার পর অবশিষ্ট পানি আবার জমজম কুপে ফেলে বলা; (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ভরণপোষণের পর্যাপ্ত যোগান, দরকারি জ্ঞান এবং সকল ধরনের রোগ থেকে উপশম কামনা করছি।)
* বরকত লাভের আশায় জমজমের পানিতে দাড়ি, কাপড় ও টাকা ভিজানো।
* অনেক ঢোকে জমজমের পানি পান করা এবং প্রতি ঢোকে কাবার দিকে তাকানো
* একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন; আল্লাহ তাআলা কাবার ভিতরে অবস্থান করেন না বা আমরা মুসলিমরা কাবা ঘরের উপাসনা করি না বা কাবা থেকে কোন বরকত-ফয়েজ হাসিল করা যায় না। কাবা হচ্ছে 'কিবলা' যা মুসলমানদের ইবাদতের দিক নির্ণায়ক। আমরা মুসলমানরা সম্মিলিতভাবে ঐক্কের লক্ষ্যে কাবার দিকে মুখ করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করি。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 সাঈ’র তাৎপর্য ও সাঈ করার পদ্ধতি

📄 সাঈ’র তাৎপর্য ও সাঈ করার পদ্ধতি


সাঈ করা অর্থ; সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে হাঁটা বা দৌড়ানো।
ক্বাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সাফা পাহাড় এবং পূর্ব-উত্তর দিকে মারওয়া পাহাড় অবস্থিত। এই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সাঈ করার স্থানকে মাস'আ বলা হয়। দুই পাহাড়ের উপর গম্বুজ নির্মিত আছে।
বেজমেন্ট/প্রথম তলা/দ্বিতীয় তলা/ছাদের উপরও প্রয়োজনে সাঈ করা যায়। তবে সাফা মারওয়ার মাস'আ এলাকার বাইরে দিয়ে সাঈ করা যাবে না।
প্রাচীন সাফা ও মারওয়া পাহাড় কাঁচের ঘেরা দিয়ে সংরক্ষিত আছে। সাঈ করার সময় এই পাহাড় দেখা যায়। সাঈ'র সময় দু'আ কবুল হয়।
হাজেরা (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) এর ইতিহাসের প্রতিফলনে সাঈ করা। এটা আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা, বিশ্বাস, সংগ্রাম ও ধৈর্য্যের সাদৃশ্য ঘটায়।
পায়ে হেঁটে অথবা হুইল চেয়ারে করে সাঈ করা যাবে। হুইল চেয়ারে সাঈ করার জন্য মাঝখানে একটি রাস্তা নির্ধারণ করা আছে। সাঈ করার জন্য ওযু করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে মুস্তাহাব। সাঈ করার মধ্যবর্তী স্থানে একটি সবুজ আলো চিহ্নিত স্থান আছে যেখান দিয়ে শুধু পুরুষদের দ্রুত হাঁটতে হয়।
তাওয়াফের পরপরই সাঈ করতে হবে। তাওয়াফের আগে সাঈ করা যাবে না। কেউ ভুলে আগে সাঈ করে ফেললে উমরাহর ফরজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার কারণে উমরাহ বাতিল হয়ে যাবে।
সাঈ করার সময় সাফা থেকে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে অথবা মারওয়া থেকে সাফা পাহাড়ে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম করা অনুমোদিত, এমনকি সেটা যদি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অবস্থায়ও হয়। মাঝে জমজমের পানিও পান করা যাবে।
প্রথমে সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে সোজা মারওয়া পাহাড়ে হাঁটা শেষ হলে এক পাল্লা বা দূরত্ব গণনা করা হয়। আবার মারওয়া পাহাড় থেকে সাফা পাহাড় হাঁটা শেষ হলে দুই পাল্লা বা দূরত্ব গণনা করা হবে। সাঈ সম্পন্ন করার জন্য এভাবে সাত পাল্লা হাঁটতে হবে অর্থাৎ সপ্তম পাল্লা শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে।
ঋতুবতী মহিলারা সাঈ করতে পারবেন, কারণ সাঈ এলাকা মসজিদুল হারামের কোনো অংশ নয়। তবে মসজিদুল হারামের সীমানার ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। সাঈ করা উমরাহর একটি ফরয কাজ। বুখারী-১৬৪৩

সাঈ'র পদ্ধতি
সাঈ করার জন্য মনে ইচ্ছা/নিয়ত পোষণ করাই যথেষ্ট। সাঈ করতে যাবার পূর্বে হাজরে আসওয়াদ পাথর 'ইস্তিলাম' (চুম্বন-স্পর্শ) করা উত্তম তবে ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে কোন সমস্যা নেই, সরাসরি সাফা পাহাড়ের দিকে রওনা হয়ে পড় ন। তবে এ সময় হাজরে আসওয়াদ পাথরের দিকে হাত তুলে ইশারা করা বা তাকবীর বলার কোন বিধান নেই। নাসাঈ-২৯৭৪
সাফা পাহাড়ে যতটুকু সম্ভব উঠে বা কাছাকাছি পৌঁছে এই দু'আটি শুধুমাত্র এখন একবারই পড়বেন: সূরা-আল বাকারা, ২:১৫৮, তিরমিযী-৮৬২, নাসাঈ-২৯৭৪
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
"ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা'আয়িরিল্লাহ"।
"নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম।”
এবার কাবা ঘরের দিকে মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে দু'আ/মুনাজাত করার মত এই দু'আটি তিনবার পাঠ করবেন: নাসাঈ-২৯৭১
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - أَنْجَزَ وَعْدَهُ - وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমিতু, ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন কুদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু”।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহান। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেছেন এবং দুষ্কর্মের সহযোগীদের পরাস্ত করেছেন"। নাসাঈ-২৯৭৪
পদ্ধতি এমন হবে যে, প্রথমে তিন তাকবীর দিবেন অতঃপর উক্ত দু'আটি একবার পাঠ করে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য আরও কিছু দু'আ করবেন। ফের উক্ত দু'আটি পড়ে আবার অন্যান্য কিছু দু'আ পড়বেন। শেষ আর একবার এভাবে দু'আ পড়বেন। অর্থাৎ তিন বার এভাবে করবেন। নাসাঈ-২৯৭২
দু'আ শেষ করে মারওয়া পাহাড়ের দিকে চলতে শুরু করবেন। এখানে কাবাকে উদ্দেশ্য করে তাওয়াফের মত হাত উঠিয়ে তাকবীর বলা কিংবা হাতের তালুতে চুম্বন করার কোনো নিয়ম নেই। নাসাঈ-২৯৮১
সাফা থেকে মারওয়া পাহাড়ের দিকে হাতের ডানের রাস্তা দিয়ে স্রোতের সাথে দলে দলে হাঁটা শুরু করবেন। সাঈ করার সময় তাওয়াফের মতো দু'আ করতে পারেন। আপনি চাইলে কুরআন তিলাওয়াত, দু'আ, যিকর, ইসতিগফার করতে পারেন আপনার নিজের ইচ্ছা মত। আওয়াজ করে, জোরে শব্দ করে বা দলবদ্ধ হয়ে কোন দু'আ পাঠ করার বিধান নেই।
সাফা পাহাড় থেকে কিছু দূর এগিয়ে উপরে সবুজ আলোর লম্বা বাতি দেখবেন। এই সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে শুধু পুরুষরা রমল এর মত জগিং করে দৌড়াবেন। সবুজ আলো অতিক্রম করার পর আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। সাঈ করার সময় যতবারই এই সবুজ আলোর জায়গার মধ্য দিয়ে যাবেন ততবার রমল করবেন। কিন্তু মহিলা এখানে দৌড়াবেন না বরং সবসময় স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। বুখারী-১৬১৭,১৬৪৯, ইবনে মাজাহ-২৯৮৮
সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে দৌড়ানোর সময় এই দু'আটি পড়বেন:
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ
"রাব্বিগফির ওয়ারহাম ইন্নাকা আনতাল আ'আযযুল আকরাম"
"হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।" ইবনে শায়বাহ-৩/৪২০, তাবারানী-৮৭০
সাফা থেকে হেঁটে মারওয়া পাহাড় এসে পৌঁছলে ১ পাল্লা বা দূরত্ব সম্পন্ন হল। মারওয়া পাহাড়ে যতটুকু সম্ভব উঠে বা মারওয়া পাহাড়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আবার কাবার দিকে মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে উপরোক্ত বড় দু'আটি ৩বার পড়ুন; ঠিক একই পদ্ধতিতে যেমন সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। শুধু এখন ৩ তাকবীর দিবেন না। এবার পুনরায় মারওয়া থেকে সাফার দিকে হাঁটা শুরু করবেন এবং মাঝখানে সবুজ জায়গাটুকুতে দৌড়ে পার হবেন। মারওয়া থেকে হেঁটে সাফা পাহাড়ে পৌঁছলে ২ পাল্লা বা দূরত্ব সম্পন্ন হল। এভাবে আরও ৫ পাল্লা সম্পন্ন করার পর মারওয়া পাহাড়ে এসে সাঈ শেষ করবেন। কেউ যদি সাফা মারওয়ার দুই প্রান্তে গিয়ে কোন দু'আ না পড়ে শুধু ঘুরে চলে আসে তবুও তার সাঈ হয়ে যাবে তবে সে দু'আর নেকি থেকে বঞ্চিত হবে। নাসাঈ-২৯৮৫
সাঈ করার সময় কোনো স্বলাতের ইকামত হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বলাত আদায় করে নিবেন এবং যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে ফের শুরু করবেন। সাঈ করার সময় প্রয়োজন ব্যতিরেকে কথা না বলাই শ্রেয়। তবে সাঈ করার সময় প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া বা পাশে নল থেকে জমজম এর পানি পান করা যায়েজ।
সাঈর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্যনীয়:
সাঈ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য নিম্নের ৭টি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক: ১. অন্তরে সাঈর নিয়ত করা, ২. স্বশরীরে সাঈ করা, ৩. প্রথমে তাওয়াফ ও পরে সাঈ করা, ৪. সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে ৭ পাল্লা পূর্ণ শেষ করা, ৫. সাফা ও মারওয়ার পূর্ণ দূরত্ব অতিক্রম করা, ৬. সাঈ করার স্থানেই সাঈ করা, ৭. জাগ্রত অবস্থায় সাঈ করা। এই শর্তগুলোর কোন একটি ছুটে গেলে সাঈ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় নতুন করে সাঈ করতে হবে।
সাঈ শেষ করে মসজিদুল হারাম দিয়ে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে দিয়ে বের হোন এবং নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করবেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক"।
“হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি”। নাসাঈ-৭২৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00