📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মক্কা ও মসজিদুল হারামের ইতিহাস

📄 মক্কা ও মসজিদুল হারামের ইতিহাস


মক্কা আল্লাহর সম্মানিত শহর। কাবা'র মর্যাদার কারণে মক্কাকে সম্মানিত করা হয়েছে। সকল জনপদের চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(ﷺ) এর নিকট প্রিয় এই শহর, যা মুসলিমদের কিবলা ও হজ্জের স্থান। স্বয়ং ইবরাহীম (আ.) এই শহরের নিরাপত্তা, রিজিক ও মূর্তিপূজা থেকে হিফাজত থাকার বিষয়ে দু'আ করে গেছেন।
এ পবিত্র শহরকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কয়েকটি নামে উল্লেখ করেছেন: ১) মক্কা ২) বাক্কা ৩) আল-বালাদ ৪) আল-কারীয়াহ ৫) উম্মুল কুরা
"আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন একটি জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেথায় আসতো সর্বদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ..."। সূরা-আন নহল ১৬:১১২
সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশের জন্য আল্লাহ তাআলা মক্কার কসম করে বলেছেন; "শপথ করছি এই নগরের"। সূরা-আল বালাদ ৯০:১
মক্কায় বসবাস উত্তম, এখানে নেকী ও ইবাদত উত্তম। ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে এখানে বেশ কিছু, রয়েছে কিছু দু'আ কবুলের স্থান। মক্কাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। মক্কায় কখনও মহামারী জাতীয় রোগ ছড়াবে না এবং দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। মক্কায় প্রবেশের সকল পথে আল্লাহর কিছু ফেরেশতা রক্ষী হিসাবে অবস্থান করছেন।
আব্দুল্লাহ বিন আদী বিন আল-হামরা (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, "আল্লাহর কসম, হে মক্কা! তুমি আল্লাহর সকল ভূমির চেয়ে উত্তম ও আমার নিকট অধিক প্রিয়। আমাকে যদি এখান থেকে বের হওয়ার জন্য বাধ্য না করা হত তাহলে আমি কখনো বের হতাম না"। তিরমিযী-৩৯২৫
কাবা ঘর ও এর চারপাশে তাওয়াফের জায়গা বেষ্টন করে যে মসজিদ স্থাপিত তা মসজিদুল হারাম নামে পরিচিত। কাবা ঘরের চারপাশে তাওয়াফের জায়গার মেঝেকে 'মাতাফ' বলা হয়। কাবা ঘরের তাওয়াফ শুরু করার কর্ণারটি হাজরে আসওয়াদ কর্ণার নামে পরিচিত। এর ডান পাশের কর্ণারটি ইরাকি কর্ণার, তার ডান পাশের কর্ণারটি শামি কর্ণার এবং তার ডান পাশের কর্ণারটি ইয়েমেনি কর্ণার নামে পরিচিত।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "মসজিদে হারাম ব্যতীত আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) স্বলাত অন্য স্থানে স্বলাতের চেয়ে ১ হাজার গুণ উত্তম, আর মসজিদে হারামে স্বলাত ১ লক্ষ গুণ উত্তম"। বুখারী-১১৯০, নাসাঈ-২৮৯৮, ইবনে মাজাহ-১৪০৬
রাসূল (ﷺ) এর সময় কাবা ও মসজিদুল হারামকে কেন্দ্র করে এর চারপাশে অনেক বসতি গড়ে উঠেছিল যা পরবর্তীতে ক্রমবর্ধমান মুসল্লীদের জন্য জ্বলাতের জায়গার সংকুলান হচ্ছিল না।
খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে প্রথমে হযরত উমর (রা.) ও পরে উসমান (রা.) মসজিদের আশেপাশের জায়গা লোকদের কাছ থেকে ক্রয় করে এর সীমা বর্ধিত করেন ও প্রাচীর দিয়ে দেন। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা.) মসজিদের পূর্বদিকে এবং আবু জাফর মনসুর পশ্চিমদিকে ও শামের দিকে প্রশস্থ করেন। এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন মুসলিম শাসকদের আমলে মসজিদুল হারামের সীমা বর্ধিত হয় ও সংস্কার সাধিত হয়।
এরপর প্রায় এক হাজার বছর মসজিদের সীমা বর্ধিত করার কোন কাজ করা হয় নাই। অতঃপর ১৩৭০ হিজরীতে সৌদি বাদশাহ আব্দুল আযীয বিন আব্দুর রহমান আল সাউদ এর আমলে মসজিদের জায়গা ছয় গুণ বৃদ্ধি করে আয়তন হয় ১,৮০,৮৫০ বর্গমিটার। এ সময়ে মসজিদে মার্বেল পাথর, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নতুন মিনার সংযোজন করা হয়। সাফা মারওয়া দোতলা করা হয়। ছোট বড় সব মিলিয়ে ৫১টি দরজা তৈরি করা হয় মসজিদে।
এরপর সৌদি বাদশা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ প্রশস্তকরণের কাজে হাত দেন। তিনি মসজিদ দোতলা করেন ও ছাদে স্বলাতের ব্যবস্থা করেন। তিনি মসজিদের আধুনিকায়নের জন্য অনেক কাজ করেন।
হারামের প্রশস্তকরণের কাজ ছিল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পুণরায় মুসল্লিদের এক ইমামের পিছনে একত্রিত করাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাযহাব বিভক্তির চরম গোঁড়ামির কারণে একসময় মসজিদে চার মাযহাবের চারটি আলাদা মুসল্লা গড়ে উঠেছিল। এক আযানের পর চার আলাদা জায়গায় চার মাযহাবের লোকদের চারটি আলাদা জামাআত হতো। যার ফলে মুসলিম উম্মাহর মাঝে দ্বন্দ্ব, ফাটল ও বিবিধ নতুন প্রথার প্রচলন শুরু হয়। কিন্তু পরে আলে সাউদ এর আমলে সকল মুসলিমকে রাসূল (ﷺ) ও সালাফে সালেহীনদের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন ও সকল মুসলিমদের এক ইমামের পিছনে একতাবদ্ধ হয়ে স্বলাত আদায়ের পূর্বপন্থায় ফিরিয়ে আনেন।
সর্বশেষ ২০১০ খৃ. সৌদি বাদশাহর তত্বাবধানে মসজিদুল হারামের তাওয়াফ ও মূল মসজিদ প্রশস্তকরণের দায়িত্ব পায় সৌদি বিন লাদেন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এখনও এই প্রশস্তকরণের কাজ প্রতিয়মান। এই কাজ শেষ হতে ২০২৪-২৫ খৃ. সাল লাগবে আশা করা যায়। বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মুসল্লি একত্রে স্বলাত আদায় করতে পারেন এবং আশা করা যায় এই কাজ শেষ হলে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক মুসল্লি একত্রে স্বলাত আদায় করতে পারবেন। ২০১৯ ইং সালে মক্কা-মদিনা দ্রুত চলাচলের জন্য হারামাইন এক্সপ্রেস ট্রেন সার্ভিস এর ব্যবস্থা করা হয়।
মক্কা ও মসজিদুল হারাম এর ইতিহাস বিস্তারিত জানতে 'পবিত্র মক্কার ইতিহাস: শাইখ শফীউর রহমান মোবারকপুরী' বইটি পড়ুন।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 তাওয়াফের তাৎপর্য

📄 তাওয়াফের তাৎপর্য


তাওয়াফের সাধারণ অর্থ হলো বায়তুল্লাহ আবর্তন করা বা চক্কর দেওয়া। কাবা ঘরের চারপাশে শরীয়ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে ৭ বার প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়। কাবা ঘর তাওয়াফ করার নেকী অপরিসীম। পৃথিবীর বুকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মিত প্রথম ঘরই ছিল কাবা। পৃথিবীর আর কোনো ঘরকে তাওয়াফ করার জন্য আল্লাহ নির্দেশনা দেননি। তাওয়াফের সময় করা দু'আ আল্লাহ কবুল করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, "এবং আমি ইবরাহীম ও ইসমাইল-কে আদেশ দিয়েছিলাম যেন তাঁরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকু ও সিজদাহকারীদের জন্য পবিত্র করে রাখে"। সূরা-আল বাকারা, ২:১২৫
তাওয়াফকে জ্বলাতের ন্যায় বলা যায়। পার্থক্য শুধু তাওয়াফের সময় কথা বলা বৈধ। তবে প্রয়োজন ব্যতীত কথা না বলাই উত্তম। তিরমিযী-৯৪৮- বিশ্বজগতের এক বৃহৎ শক্তির চারদিকে সকল ছোট বস্তু আবর্তন করছে বা আল্লাহর নিদর্শন ও নিয়ামতের চারপাশে মানুষ বিচরণ করছে বা এক আল্লাহ কেন্দ্রিক মানুষের জীবন বা এক আল্লাহ নির্ভর জীবনযাপনে অঙ্গিকারবদ্ধ একজন মুমিন- এসব কিছুর প্রতীক তাওয়াফ। তাওয়াফ করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও তাওহীদ স্বীকৃতি প্রকাশ পায়।
যদিও ইসলামের বেশিরভাগ উত্তম কাজ ডান থেকে শুরু বা ডান থেকে বামে করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, কিন্তু কাবা ঘর তাওয়াফ করতে বলা হয়েছে বাম ধার ধরে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী এবং দেহের রক্ত চলাচল বাম থেকে ডানে হয়।
হজ্জ ও উমরাহ উভয় ইবাদতের জন্যই তাওয়াফ করা বাধ্যতামূলক। হজ্জ বা উমরাহ পালনকারীকে যে কোনো উপায়ে পায়ে হেঁটে অথবা হুইল চেয়ারে তাওয়াফ সম্পন্ন করতে হয়। নাসাঈ-২৯২৫
ঋতুবতী মহিলাদের তাওয়াফ করা নিষেধ; তারা অপেক্ষা করবেন। ঋতু শেষে ফরজ গোসল দিয়ে ফের কোন মীকাতে না গিয়ে (যেহেতু ইহরাম করেই এসেছেন) তাওয়াফ করে নিবেন অতঃপর সাঈ করবেন। বুখারী-১৬৫০
কাবা ঘর সংলগ্ন একটি স্থান রয়েছে যার নাম হাতিম/হিজর কাবা ঘরের উত্তর দিকে কাবা সংলগ্ন অর্ধ-বৃত্তাকার এই উঁচু দেয়ালটি কাবা ঘরেরই অংশ। এই হাতিমের মধ্য দিয়ে তাওয়াফ করলে তাওয়াফ হবে না।
তাওয়াফ সাধারণত ৪ ধরনের। যথা তাওয়াফুল কুদুম (প্রথম/উমরাহর তাওয়াফ), তাওয়াফুল ইফাদাহ/ যিয়ারাহ (হজ্জের ফরয তাওয়াফ), তাওয়াফুল বিদা (হজ্জের বিদায় তাওয়াফ) ও নফল তাওয়াফ (ঐচ্ছিক তাওয়াফ)।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 তাওয়াফের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও টিপস

📄 তাওয়াফের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও টিপস


| কাজ | হতে | পর্যন্ত | প্রতি আবর্তন ও সর্বমোট দূরত্ব (আনুমানিক) |
| :--- | :--- | :--- | :--- |
| কাবা তাওয়াফ (মাতাফ - প্রধান ফ্লোরে) | হাজরে আসওয়াদ | হাজরে আসওয়াদ | ০.২৮ কি.মি ও ১.৯৬ কি.মি |
| কাবা তাওয়াফ (মসজিদের ১ম ও ২য় তলায়) | হাজরে আসওয়াদ | হাজরে আসওয়াদ | ০.৫৬ কি.মি ও ৩.৯২ কি.মি |

যদি হজ্জ শুরুর ৮-১০ দিন আগে মক্কায় প্রবেশ করেন তবে তাওয়াফে প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে পড়তে পারেন। এজন্য মসজিদের দুই তলা দিয়ে উমরাহর প্রথম তাওয়াফ করা ভাল। তাছাড়া সাধারণত এশার স্বলাতের ১ ঘন্টা পরে বা মধ্যরাতে বা সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে তাওয়াফ করা ভালো। এতে আপনি স্বলাতের সময়ে তাওয়াফ করা, সূর্যের তাপ ও অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে পারবেন।
তাওয়াফের পূর্বে পানি কম করে পান করলে ভাল হয়। তাওয়াফের আগে টয়লেট/বাথরুম সেরে নেওয়া উত্তম। সঙ্গে মাসনুন দু'আ-র বই নেওয়া যায়। তাওয়াফ করার সময় সেন্ডেল বহন করার জন্য ছোট কাপড়ের ব্যাগ/কাধ ব্যাগ সঙ্গে নিবেন। মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে সাথে নিবেন অথবা সাইলেন্ট মোডে দিয়ে রাখবেন। আপনার হোটেল বা বাড়ির ঠিকানা কার্ড সঙ্গে নেবেন। হজ্জ আইডি কার্ড ও হাতের ব্যান্ড সঙ্গে রাখুন।
তাওয়াফের সময় ভিড়ের মধ্যে শান্ত থাকবেন। দরকার হলে কারো হাত ধরে রাখবেন। তাড়াহুড়া করে বা ঠেলাঠেলি করে তাওয়াফ করতে গিয়ে অন্যকে ধাক্কা দিয়ে কষ্ট দেবেন না। সবাই দলবদ্ধ হয়ে তাওয়াফ করার চেয়ে ছোট ছোট দল হয়ে তাওয়াফ করাই উত্তম। কারণ সবার গতি এক নয় আর মনযোগ আল্লাহর যিকির করার চেয়ে দলের প্রতি থাকবে বেশি। তবে হারিয়ে যাওয়ার খুব ভয় থাকলে কথা ভিন্ন।
তাওয়াফের প্রথম দিনই হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করার চেষ্টা করবেন না। সাথে মহিলা থাকলে খুব কাবা ঘর ঘেঁষে/কাছ দিয়ে তাওয়াফ করতে যাবেন না। যখনই কোন আযান/ইকামত শুনবেন তখনই তাওয়াফ বন্ধ করে দিয়ে জ্বলাতের প্রস্তুতি নিবেন। স্বলাত আদায় করে যে পর্যন্ত তাওয়াফ করছিলেন সেখান থেকেই আবার শুরু করে বাকিটা সম্পন্ন করবেন।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 মসজিদুল হারামে প্রবেশ ও কাবা তাওয়াফ

📄 মসজিদুল হারামে প্রবেশ ও কাবা তাওয়াফ


এবার তাওয়াফের জন্য প্রস্তুতি নিন। তাওয়াফের পূর্বে পবিত্র হওয়া আবশ্যক। তাওয়াফের পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব। তবে শুধু ওযু করলেও চলবে। ওযু ছাড়া বা হায়েয অবস্থায় তাওয়াফ করা যায়েজ নয়। ইহরামের বিধি-নিষেধ স্মরণ রাখবেন এবং বেশি বেশি তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকবেন। বুখারী-১৬৪২
মসজিদুল হারামে যাওয়ার রাস্তা চিনে রাখতে চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি যদি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন অথবা হারিয়ে যান তাহলে সহজেই বাসা বা হোটেলে ফিরে আসতে পারবেন। অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষদের তাওয়াফ ও সাঈ করার জন্য মসজিদের বাইরে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার সার্ভিস পাওয়া যায় জমজম টাওয়ারের সামনে মহিলাদের ৪নং ওয়াশরুমের পাশে এবং কিং আব্দুল আজিজ এক্সটেনশন মসজিদের সামনে ওয়াশরুমের পাশে。
বাবুস সালাম গেট দিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা উত্তম। তবে মসজিদ সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে এটি এখন রাসূল(ﷺ) এর যামানার সেই গেট নয়। অতএব আপনি যে কোনো গেট দিয়েই প্রবেশ করতে পারেন। তবে তাওয়াফ শুরু করার জায়গায় সহজে পৌঁছানোর জন্য সাফা পাহাড়ের পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করলে সহজ হয়। মসজিদে প্রবেশের আগে সেন্ডেল খুলে শেলফে রাখুন অথবা সঙ্গে ছোট ব্যগে নিয়ে নিতে পারেন।
ডান পা দিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করুন এবং এই দু'আ পাঠ করুন:
بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
"বিসমিল্লাহি ওয়াসস্বলাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রহমাতিকা"। নাসাঈ-৭২৯
"আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। স্বলাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর। হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দিন"।
উমরাহর নিয়তে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলে 'তাহিয়‍্যাতুল মসজিদ' স্বলাত আদায় করার প্রয়োজন নেই। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) হজ্জ ও উমরাহর নিয়তে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সরাসরি তাওয়াফ করেছেন। কিন্তু অন্য কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে ২ রাকাআত তাহিয়্যাতুল মসজিদ স্বলাত আদায় না করে মসজিদে বসা যাবে না; তবে কোন স্বলাতের ইকামত হয়ে গেলে সেই স্বলাতে শামিল হয়ে যাবে। এই নিয়ম পৃথিবীর সকল মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বুখারী-৪৪৪
মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে কাবার উদ্দেশ্যে যেতে যেতে তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকুন। যখনই কাবা ঘর চোখে পড়বে তখনই তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করে তাওয়াফের প্রস্তুতি নিন। কাবা ঘর চোখে পরা মাত্রই জোরে তাকবির দেওয়া বা দু হাত তুলে দু'আ করা সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয়। তবে বায়তুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হলে মনে মনে সাধারণভাবে দু'আ করা যায়েজ। তাওয়াফ শুরু করার মনে মনে নিয়ত করবেন। নিয়তের জন্য মুখে কিছু বলতে হবে না, অন্তরের ইচ্ছা পোষণ করাই যথেষ্ট। এই তাওয়াফ করা উমরাহর ফরয কাজ।
তাওয়াফ শুরুর হাজরে আসওয়াদ কর্ণার যাওয়ার আগে পুরুষরা ইহরামের কাপড়ের এক প্রান্ত ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর দিবেন এবং ডান কাঁধ ও বাহু উন্মুক্ত করে দিবেন। একে বলা হয় 'ইদতিবাহ'। সাত চক্করেই এমনটি রাখা সুন্নাত। মেয়েদের কোন ইদতিবাহ নেই। এই ইদতিবাহ শুধুমাত্র উমারাহর তাওয়াফের সময় করতে হয়। আর অন্য কোন তাওয়াফের সময় ইদতিবাহ করতে হয় না। আবু দাউদ-১৮৮৪, তিরমিযী-৮৫৯
এবার তাওয়াফ শুরুর স্থানে তাওয়াফকারীদের স্রোতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তাওয়াফের স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ এতে বিপরীত দিক থেকে আসা লোকের মাধ্যমে আঘাত পেতে পারেন ও আপনি তাওয়াফকারীদের তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারেন।
■ তাওয়াফকারীদের সাথে চলতে চলতে হাজরে আসওয়াদ বরাবর এসে লক্ষ্য করবেন হাজরে আসওয়াদ এর কোন/কর্ণার বরাবর মসজিদুল হারামের দেওয়ালে সবুজ রংয়ের আলোর বাতি জ্বলে আছে। এই সবুজ বাতি ও হাজরে আসওয়াদের কোন বরাবর পৌঁছলে বা তার কিছু আগেই সম্ভব হলে একটু থেমে বা চলতে চলতেই হাজরে আসওয়াদ এর দিকে মুখ করে শুধু ডান হাতের তালু উঁচু করে হাজরে আসওয়াদের দিকে সোজা ধরে বলবেন:
بِسْمِ اللهِ اللَّهُ أَكْبَرُ
"বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার"।
"আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে বড়"।
■ তাকবীর বলার পর আপনার ডান হাত নিচে নামিয়ে নিন ও রমল (দ্রুত পদক্ষেপে বীরত্ব প্রকাশ) করে চলতে শুরু করবেন। লক্ষ্য করবেন অনেকে এক/দুই হাত উঁচু করে তাকবীর বলছেন ও হাতে চুমু খাচ্ছেন, এমনটি করা সঠিক সুন্নাহ নিয়ম নয়। বুখারী-১৬১২
■ হাজরে আসওয়াদ পাথর চুম্বন করে তাওয়াফ শুরু করা উত্তম ও এমনটি করা সুন্নাত। তবে যদি চুমু খেতে না পারেন তাহলে ডান হাত দিয়ে পাথরটি স্পর্শ করে হাতে চুমু দিয়ে তাওয়াফ শুরু করতে পারেন। কিন্তু হজ্জ মৌসুমে অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে হাজরে আসওয়াদ এর ধারে কাছেই যাওয়া যায় না, তাই আপনাকে দূর থেকে ইশারা করেই তাওয়াফ শুরু করার পরামর্শ দিব। পরবর্তীতে আপনি যখন নফল তাওয়াফ করবেন তখন যতদূর সম্ভব ধাক্কাধাক্কি না করে ও কাউকে কষ্ট না দিয়ে হাজরে আসওয়াদ পাথর চুম্বন করার চেষ্টা করতে পারেন।
■ হাজরে আসওয়াদ পাথর স্পর্শের ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, এই পাথর স্পর্শ করলে গুনাহসমূহ (সগীরা গুনাহ) সমূলে মুছে যায় ও এই পাথর হাশরের ময়দানে সাক্ষী দিবে যে ব্যক্তি তাকে স্পর্শ করেছে। ইবনে মাজাহ-২৯৪৪
■ এবার কাবাকে হাতের বামে রেখে আবর্তন/চক্কর দিতে শুরু করবেন। হাজারে আসওয়াদ কর্ণার এর সবুজ বাতি থেকে শুরু করে কাবা ঘরের ইরাকি কর্ণার, হাতিম, শামি কর্ণার, ইয়েমেনি কর্ণার পার করে ফের হাজরে আসওয়াদ কর্ণার এর সবুজ বাতি পর্যন্ত হাঁটা শেষ হলে এক চক্কর শেষ হলো। এমন করে আরও ছয় চক্কর দিতে হবে। এভাবে সাত চক্কর সম্পন্ন হলে তাওয়াফ শেষ হয়ে যাবে।
■ শুধুমাত্র পুরুষরা চক্করের শুরুতে দৃঢ়তার সাথে প্রথম তিন চক্কর সম্পন্ন করবেন অর্থাৎ; একটু দ্রুত ও ক্ষুদ্র কদমে বুক টান করে 'রমল' করে /জগিং করে চক্কর সম্পন্ন করবেন তবে রুকনে ইয়েমেনি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হবে, এমনটি করা সুন্নাত। তবে ভিড়ের কারণে রমল করা সম্ভব না হলে কোনো সমস্যা নেই, আপনি স্বাভাবিকভাবেই হাঁটবেন। এই রমল করা শুধুমাত্র উমরাহর তাওয়াফের জন্য প্রযোজ্য। আর অন্য কোন তাওয়াফের সময় রমল করতে হয় না। চতুর্থ চক্কর থেকে আপনি আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে শুরু করবেন এবং এই ধারা বজায় রাখবেন সপ্তম চক্কর পর্যন্ত। মহিলাদের কোন রমল নেই। বুখারী-১৬০২, নাসাঈ-২৯৪১
■ তাওয়াফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দু'আ নেই। কিছু কিছু বইয়ে দেখবেন; প্রথম চক্রের দু'আ, দ্বিতীয় চক্রের দু'আ.. লেখা থাকে। কুরআন হাদীসে এধরনের চক্রভিত্তিক নির্দিষ্ট দু'আর কোন দলীল নেই। তাওয়াফরত অবস্থায় ইচ্ছে করলে কুরআন তিলাওয়াত, দু'আ, যিকর, ইসতিগফার করতে পারেন আপনার নিজের ইচ্ছা মত। আল্লাহর প্রশংসা করুন, রাসূল (ﷺ) এর উপর দুরূদ পড়ুন। সব দু'আ যে আরবীতে করতে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই, যে ভাষা আপনি ভালো বোঝেন ও আপনার মনের ভাব প্রকাশ পায় সে ভাষাতেই দু'আ করবেন। তবে মনে রাখবেন; আওয়াজ করে, জোরে শব্দ করে বা দলবদ্ধ হয়ে কোন দু'আ পাঠ করা সুন্নাত নিয়ম এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে অন্যদের মনযোগ নষ্ট হয়। দু'আ করবেন আবেগ ও মিনতির সাথে মনে মনে। তাওয়াফের সময় তাওহীদকে জাগ্রত করুন। তাওয়াফের সময় এদিক ওদিক তাকাতাকি ও ঘুরাঘুরি না করে একাগ্রচিত্তে বিনয়ের সাথে তাওয়াফ করা। খুব বেশি প্রয়োজন ব্যতিরেকে তাওয়াফের সময় কথা না বলাই শ্রেয়।
■ তাওয়াফ করার সময় পুরুষ ও মহিলা একত্রিত হয়ে একই জায়গায় তাওয়াফ করতে হয় তাই তাওয়াফ করার সময় বেগানা পুরুষ মহিলার গায়ের সাথে ধাক্কা বা স্পর্শ লাগতে পারে তাই আপনাকে সদা সতর্ক থাকতে হবে এবং এই বিষয়গুলো সর্বাত্মক এড়িয়ে চলতে হবে। অবস্থা বুঝে একটু ভিড় এড়িয়ে তাওয়াফ করা উত্তম। কিছু লোক বা দল তাওয়াফের সময় একে অন্যের হাত ধরে বৃত্ত/ব্যারিকেড বানিয়ে সেই বৃত্তের মাঝে মহিলাদের নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করেন। এমন করা ঠিক নয় কারণ এতে অন্যদের তাওয়াফ ব্যাহত হয়। দলনেতা একটি ছোট পতাকা বা ছাতা নিয়ে সামনে থাকতে পারেন এবং অন্যরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারেন অথবা একে অন্যের হাত ধরে ছোট ছোট দল করে তাওয়াফ করতে পারেন। বুখারী-১৬১৮
■ তাওয়াফরত অবস্থায় প্রতি চক্করে ইয়েমেনী কর্ণারে পৌছানোর পর আপনি ডান হাত অথবা দুই হাত দিয়ে কাবার ইয়েমেনী কর্ণার শুধু স্পর্শ করবেন (এমনটি করা সুন্নাত), তবে ভিড়ের কারণে এটা করা সম্ভব না হলে কোন সমস্যা নেই। আপনি চক্কর চালিয়ে যাবেন। ইয়েমেনী কর্ণারে দূর থেকে হাত উঠিয়ে ইশারা করবেন না বা চুম্বন করবেন না বা আল্লাহু আকবারও বলবেন না। বুখারী-১৬০৯
■ প্রত্যেক চক্করে ইয়েমেনী কর্ণার থেকে হাজারে আসওয়াদ কর্ণার এর মাঝামাঝি স্থানে থাকাকালে এই দু'আ বারবার পাঠ করা সুন্নাত: আবু দাউদ-১৮৯২
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াক্বিনা আযাবান নার"।
"হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন"। সূরা-আল বাকারা, ২:২০১
■ প্রথম চক্কর শেষ করে হাজরে আসওয়াদ কর্ণার পৌঁছার পর আবার আগের মতো করে দূর থেকে ডান হাত উঁচু করে তাকবীর দিয়ে দ্বিতীয় চক্কর শুরু করবেন। এক্ষেত্রে 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' না বলে শুধু বলবেন 'আল্লাহু আকবার'। এমনটি পরবর্তী সকল চক্করের শুরুতে বলবেন। বুখারী-১৬১৩. ১৬৪৪
■ এভাবে উপরোক্ত নিয়মানুযায়ী সাত চক্কর শেষ করবেন। সাত চক্কর শেষ হলে শেষে 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দেওয়া ঠিক নয়। হাত উঠিয়ে কোন ইশারাও নেই। কারণ তাকবীর বলার নিয়ম প্রতি চক্কর এর শুরুতে, শেষে নয়। এভাবে আপনার তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। তাওয়াফ শেষে তাওয়াফের স্রোত থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে কোন ফাঁকা স্থানে অবস্থান গ্রহণ করবেন।
■ তাওয়াফ শেষ হওয়া মাত্রই পুরুষরা তাদের ডান কাঁধ ইহরামের কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলবেন ফলে আপনি 'ইদতিবাহ' থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন।

তাওয়াফের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্যনীয়:
■ তাওয়াফ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য নিম্নের ১০টি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক: ১. অন্তরে তাওয়াফের নিয়ত করা, ২. পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা, ৩. স্বশরীরে তাওয়াফ করা, ৪. পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর পর্যন্ত সতর কাপড় দ্বারা ঢাকা থাকা, ৫. হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করা, ৬. সাত চক্কর পূর্ণ করা, ৭. কাবাকে হাতের বাম পাশে রেখে তাওয়াফ করা, ৮. তাওয়াফের মাঝে দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া, ৯. কাবা ঘরের মসজিদের সীমানার ভিতর দিয়ে তাওয়াফ করা, ১০. জাগ্রত অবস্থায় তাওয়াফ করা। এই শর্তগুলোর কোন একটি ছুটে গেলে তাওয়াফ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ করতে হবে।
■ তাওয়াফের সময় যদি ওযু ভেঙ্গে যায় তখন সম্ভব হলে মসজিদের ভেতরে বা বাইরে দ্রুত ওযু করে আবার তাওয়াফ শুরু করবেন। যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই আবার শুরু করবেন। কিন্তু যদি বাইরে ওযু করতে গিয়ে বেশি সময় ক্ষেপন করে ফেলেন তবে পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ শুরু করা উত্তম।
■ খুব বেশি দরকার না হলে তাওয়াফের মাঝে থামা অথবা তাওয়াফের মাঝে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া টিক নয়। যদি বেশি সময় ক্ষেপন করে ফেলেন তবে আবার পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ শুরু করবেন।
■ কয়টি চক্কর শেষ করেছেন, ৩টি না ৪টি! এমন যদি মনে সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে কমসংখ্যক ৩টিকে সঠিক ধরে তাওয়াফ চালিয়ে যাবেন। ৭ চক্কর এর ১ চক্কর কম হলে তাওয়াফ সম্পূর্ণ হবে না। দলবদ্ধভাবে থাকলে যিনি তাওয়াফের সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবেন তার কথায় আস্থা রেখে তাওয়াফ করা।
মহিলারা হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। বেগানা পুরুষদের থেকে সতর্ক থেকে ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তাওয়াফ করতে চেষ্টা করবেন। যদি স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে মহিলারা ঔষধ খেয়ে ঋতু বন্ধ করে তাওয়াফ/উমরাহ করতে পারেন।
কোন কোন মহিলার ঋতু বন্ধ হওয়ার পরও রোগজনিত কারণে লাল, হলদে বা মেটে রংয়ের রক্ত অনিয়মিতভাবে বের হতে থাকে। এটা রক্তপ্রদর রোগ বা ইস্তিহাদা। এ অবস্থায়ও স্বলাত, সিয়াম, তাওয়াফ করা যাবে।
তাওয়াফ করার সময় কোনো জ্বলাতের আযান বা ইকামত হলে সঙ্গে সঙ্গে সতর (কাঁধ ও শরীর) ঢেকে নিয়ে স্বলাত পড়ে নিবেন এবং পরে যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে আবার ইদতিবাহ করে তাওয়াফ শুরু করবেন। বেশি সময় ক্ষেপন না করে তাড়াতাড়ি তাওয়াফ শুরু করবেন।
সবসময় কাবার দিকে সোজা মুখ করে তাকিয়ে তাওয়াফ না করা। আবার তাওয়াফের সময় কাবার দিকে পিঠ প্রদর্শন করে ঘুরে না থাকা। তবে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে উক্ত কাজগুলো হয়ে গেলে সমস্যা নেই।
মনে রাখবেন, প্রায় সময়ই কাবা ঘরের দেয়ালে আম্বর ও সুগন্ধী দেওয়া থাকে। সুতরাং কেউ কাবার দেয়াল স্পর্শ বা জড়িয়ে ধরবেন না, কারণ এতে আপনার ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধী লেগে যেতে পারে। মাক্কামে ইবরাহীম এর দেয়ালও স্পর্শ বা জড়িয়ে ধরবেন না।
কোন কোন মানুষের রোগজনিত কারণে ঘনঘন প্রস্রাব ঝরে ও গুহ্যদ্বার দিয়ে বাতাস বের হয় যা সে বুঝতে পারে না, এমন রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো বের হলেও তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে। কারণ এটা একটা রোগ এবং এর নিয়ন্ত্রণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।
তাওয়াফরত অবস্থায় হুইল চেয়ারে ঘুমিয়ে পরা যাবে না। তাওয়াফরত অবস্থায় কোন ক্ষতদিয়ে বা শরীর থেকে যদি রক্ত বের হয় তবে তাতে তাওয়াফের কোন ক্ষতি হবে না।
উমরাহ শেষ করে পরবর্তীতে যখন শুধু নফল তাওয়াফ করবেন তখন প্রতি তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকাআত নফল স্বলাত আদায় করতে হবে এই বিষয়টি মনে রাখবেন। নফল তাওয়াফ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আমল যা অন্য কারো জন্য/পক্ষে বা নামে করা যায় না আবার তাওয়াফ কারো জন্য বখশিয়ে দেওয়া যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00