📄 জেদ্দা বিমানবন্দর টার্মিনাল
■ হজ্জ সফরের আলোচনায় ইতিপূর্বে আমরা ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত আলোচনা করেছিলাম এরপর উমরাহর ইহরাম বিষয়ে আলোচনা করেছি, এখন আবার হজ্জ সফরের ধারাবাহিক আলোচনায় ফিরে যাচ্ছি।
■ জেদ্দা বিমানবন্দরে যেসব সৌদি লোক কাজ করেন তারা খুব সময় নিয়ে কাজ করেন এবং আপনি কতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বা কতটা ক্লান্ত তারা তা বিবেচনা করেন না। কারণ তারা প্রতিদিন এমন হাজার হাজার হজ্জযাত্রীকে সেবা দিচ্ছেন। তাদেরও নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হয়, কম্পিউটারে এন্ট্রি দিতে হয়, ডাটা ভেরিফাই করতে হয়, সীল/স্ট্যাম্প দিতে হয়। তাই আপনাকে সেখানে ধৈর্যশীল থাকার পরামর্শ দিব।
■ জেদ্দা টার্মিনাল থেকে সৌদি সিম কিনতে পারবেন আবার মক্কা গিয়েও কিনতে পারেন। সিম কিনতে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি দেখাতে হয় এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হয়। এখানে সিমে ২০০-৩০০ মিনিট টকটাইম সহ ১০-১২ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ ১১০-১২০ রিয়াল মতো দাম পড়বে। মেয়াদ ১-২ মাস পর্যন্ত থাকে। মোবিলি, জেইন, এসটিসি ইত্যাদি বিভিন্ন কোম্পানির সিম কিনতে পারেন। আপনার হজ্জ গাইডের নাম্বার ও বেশ কয়েকজন হজ্জযাত্রীদের নাম্বার মোবাইলে সেভ করে রাখুন।
■ সৌদি হজ্জ কর্তৃপক্ষ আপনাদের পরিবহন জন্য বাস নির্ধারণ করবেন। বাসে উঠে বসুন। এবার বাস ড্রাইভার ও সুপারভাইজার সকল যাত্রীর পাসপোর্ট নিয়ে নিবেন। সব পাসপোর্ট সৌদি মুআল্লিম অফিসে জমা রাখা হবে। হজ্জ শেষে ফিরতি যাত্রার সময় আপনি পাসপোর্ট ফেরত পাবেন। যারা বছরের যে কোন সময় শুধু উমরাহ করতে যাবেন তাদের পাসপোর্ট নিয়ে রাখা হয় না। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ যদি সন্দেহ করে কেউ উমরাহ করতে এসে অবৈধভাবে থেকে যেতে পারে তবে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে।
■ সবসময় দলবদ্ধ হয়ে সকল কাজ করবেন। কখনই দলছাড়া হবেন না, দলছাড়া হলে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন ও সমস্যায় পরতে পারেন।
■ জেদ্দা থেকে বাস যাত্রা করে মক্কা পৌছাতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। হাজীদের আপ্যায়ন হিসাবে রাস্তায় চেকপোষ্টে নাস্তা ও পানি বিতরণ করা হয়। রাস্তায় তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকুন।
■ বছরের যে কোন সময় শুধু উমরাহ করা যাত্রীরা তাদের উমরাহ এজেন্সীর মাধ্যমে তাদের জন্য ভাড়া করা নির্ধারিত গাড়ি/বাস এর মাধ্যমে মক্কার পথে রওনা হবেন।
📄 মক্কায় পৌঁছানো ও আইডি কার্ড সংগ্রহ
■ মক্কায় পৌঁছানোর পর পরিবহন বাস হজ্জযাত্রীদের প্রথমেই নিয়ে যাবে মক্কা সৌদি মুআল্লিম অফিসে। সেখানে তারা আপনাকে কিছু ছোট উপহার দিবেন ও আপ্যায়ন করতে পারেন।
■ মুআল্লিম অফিস সকলের পাসপোর্ট পরীক্ষা এবং গণনা করবেন। তারা আপনার পাসপোর্ট রেখে দিবেন এবং এর পরিবর্তে পরিচয়ের জন্য আপনাকে হাতের ব্যান্ড ও হজ্জ পরিচয়পত্র (সাময়িক আইডি কার্ড) প্রদান করবেন। পরবর্তীতে ছবি সহ একটি স্থায়ী আইডি কার্ড প্রদান করা হবে।
■ এই হাতের ব্যান্ড ও আইডি কার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে আপনার মক্কা মুআল্লিমের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর আরবিতে লেখা রয়েছে। আপনি যদি হারিয়ে যান তাহলে এটা আপনার মুআল্লিমকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
■ এরপর মক্কায় হোটেল/বাড়িতে গিয়ে উঠবেন। হোটেলে অথবা ভাড়া করা বাড়িতে পৌছানোর সাথে সাথে আপনার রুমে উঠে পড়ুন। আপনার হজ্জ এজেন্সি আপনাদের আবাসনের জন্য বিভিন্ন রুম বরাদ্দ করে দিবেন।
■ দেখা যায় অনেক হজ্জযাত্রী নিজের রুমের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারেন না এবং তারা রুম পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে পরিবর্তন করুন, আর তা না হলে বিষয়টি এখানেই ছেড়ে দিন। কিন্তু বিষয়টিকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনি যা পেয়েছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন।
■ রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করুন, গোসল করুন ও খাবার গ্রহণ করুন। তবে এ সময়ে কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
■ আপনি যে ইহরাম অবস্থায় আছেন সেটা ভুলে যাবেন না, তালবিয়া পাঠ করতে থাকুন। এরপর আপনার হজ্জ গাইড যে কোনো সময় সবাইকে একত্রিত করে পরবর্তী কাজ তাওয়াফ সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন।
■ হজ্জ ও উমরাহ সফরের যে ধারাবাহিক বর্ণনা এখানে করা হয়েছে তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে একটি বাস্তব সফর সম্পর্কে ধারনা দিতে চেষ্টা করা হয়েছে। গাইডে আলোচিত কোন বিষয় আপনার জন্য ব্যতিক্রম হতে পারে, এটি সম্পূর্ণ হজ্জ ও উমরাহ ব্যবস্থাপনা বা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে। হজ্জ ও উমরাহর কিছু প্রক্রিয়া বছরান্তে পরিবর্তনও হতে পারে। পাঠকবৃন্দের কাছে বিনীত অনুরোধ রাখবো আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানিয়ে আমাকে সহযোগিতা করবেন।