📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ইহরাম ও তালবিয়াহর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত

📄 ইহরাম ও তালবিয়াহর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত


* উমরাহ করার নিয়ত থাকার পরও ইহরাম না করে মীকাত অতিক্রম করা।
* মীকাতের অনেক আগেই ইহরাম করা ও উচ্চস্বরে হজ্জ বা উমরাহর নিয়ত করা।
* এ কথা মানা, কথা না বলে মৌনতার সাথে হজ্জ-উমরাহ পালন করা উত্তম।
* যাত্রা শুরুর সময় বিমানবন্দরে পৌছেই ইহরাম করার আগেই তালবিয়াহ পাঠ শুরু করা, অথবা দল বেঁধে সমবেত কণ্ঠে তালবিয়াহ পাঠ করা।
* কোন এক নির্দিষ্ট নিয়মে ইহরামের কাপড় পরতে হবে এ কথা মান্য করা।
* ইহরামের কাপড় ডান বগলের নিচ দিয়ে এবং বাম কাঁধের উপর দিয়ে পরা।
* ইহরাম অবস্থায় তালবিয়ার স্থলে উচ্চস্বরে সমবেত কণ্ঠে তাকবীর পাঠ করা।
* তালবিয়ার আগে দুর্বল সনদ 'আলহামদুলিাহ ইন্নি উরিদুল...' দু'আ পাঠ করা।
* ইহরাম বেঁধে আয়েশা/তা'নিম মসজিদে স্বলাত আদায় করতে যাওয়া।
* কিছু বইয়ের নির্দেশনা অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে বিশেষ ধরনের জুতা পরা।
* ইহরাম ছাড়া মীকাতে ঢুকে আয়েশা মসজিদে গিয়ে উমরাহর নিয়ত করা।
* ইহরামের কাপড় পরে এ কথা মানা যে সুরা-কাফিরুন ও সুরা-ইখলাস দিয়ে ইহরামের দুই রাকাআত স্বলাত আদায় করতে হবে।
* ইহরাম করে মীকাতের ভেতরে প্রবেশের পর মীকাত সীমানার বাইরে যাওয়া।
* জেদ্দা বিমানবন্দরে প্রবেশের ও অবতরণের কথিত বানোয়াটি দু'আ পাঠ করা।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ইহরাম অবস্থায় অনুমোদিত কার্যাবলী

📄 ইহরাম অবস্থায় অনুমোদিত কার্যাবলী


■ হাতঘড়ি, চশমা, হেডফোন, বেল্ট, মানিব্যাগ, শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। মহিলারা আংটি ও গলায় চেইন পরতে পারবেন।
■ ছাতা, বাস, গাড়ি তাবু ও সিলিংয়ের ছায়ায় আশ্রয় নেয়া যাবে। লাগেজ, ম্যাট্রেস ইত্যাদি মাথায় বহন করা যাবে। নাসাঈ-২৮০১
■ ইহরামের কাপড় বাঁধার জন্য সেফটিপিন ব্যবহার করা ও জখম/ আহত স্থানে ব্যান্ডেজ পরা যাবে। শিংগা লাগানো যাবে। নাসাঈ-২৮৪৬
■ চশমা, ঘড়ি, টাকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করার জন্য সেলাইযুক্ত ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা যাবে।
■ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিধানের ইহরাম কাপড় পরিবর্তন করা যাবে। ইহরামের কাপড় ধৌত করা যাবে।
■ গোসল করা যাবে। অনিচ্ছাকৃত ও অপ্রত্যাশিত ভাবে শরীরের কোনো চুল/লোম উঠে যাওয়া। মুসলিম-২৭৭৯
■ পশু জবাই করা ও মাছ ধরা যাবে। মহিলারা পা মোজা পরবে।
■ মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রাণী কর্তৃক আক্রান্ত হলে তা তাড়িয়ে দেয়া বা আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনে হত্যা করা; যেমন- হিংস্র প্রাণী, বন্য কুকুর, ইঁদুর, কাক, সাপ, বিচ্ছু, চিল, টিকটিকি ইত্যাদি। নাসাঈ-২৮৩৫, তিরমিযী-৮৩৮
■ আত্মরক্ষার জন্য চোর/ডাকাতকে আঘাত অথবা হত্যা করা।
■ ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য শরীর আবৃত করার জন্য কম্বল, মাফলার ব্যবহার করা যাবে। ইহরামের কাপড় দিয়ে পা ঢেকে শোয়া যাবে।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ইহরামের পর যেসব বিষয় নিষিদ্ধ

📄 ইহরামের পর যেসব বিষয় নিষিদ্ধ


* চুল, নখ ও দাড়ি কাটা (মাথায় চিরুনি করার সময় যদি কোনো চুল অনিচ্ছাকৃতভাবে পরে যায় বা উঠে যায় অথবা ভুলক্রমে কেউ যদি নখ বা চুল কাটে, তাহলে সেটা ক্ষমাযোগ্য। তবে অসুস্থতা ও উকুনের কারণে যদি পুরো চুল ফেল দিতে হয় তবে ফিদইয়াহ দিতে হবে)। মুসলিম-২৭৬৭
* দেহে, কাপড়ে সুগন্ধী ও জাফরান ব্যবহার করা। সুগন্ধীযুক্ত সাবান, শ্যাম্পু ও পাউডার ব্যবহার করা। (ইহরাম করার আগের কোনো সুগন্ধী যদি দেহে থাকে তবে তাতে কোনো দোষ নেই, তবে কাপড়ের সুগন্ধী ধুয়ে ফেলতে হবে।) বুখারী-১৮৩৮, নাসাঈ-২৬৬৬, ২৭০২
* হারাম এলাকার মধ্যে কোনো গাছ কাটা, পাতা ছেঁড়া বা উপড়ে ফেলা। এটা হজ্জে আসা সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সে ইহরাম অবস্থায় থাক বা না থাক। বুখারি-১৫৮7, নাসাঈ-২৮৭৪
* হারামের সীমানার মধ্যে কোন ধরনের স্থলচর প্রাণী শিকার করা বা বন্দুক তাক করা অথবা ধাওয়া করার মাধ্যমে শিকারে সহযোগিতা করা। এটাও হজ্জে আসা সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সে ইহরাম অবস্থায় থাক বা না থাক। সূরা-মায়িদা ৫:৯৫-৯৬
* অন্যের হারিয়ে যাওয়া কোনো জিনিস বা পরিত্যক্ত কোনো বস্তু কুড়িয়ে নেয়া। তবে মূল মালিকের কাছে পৌছে দেয়ার উদ্দেশ্যে তুলে নেয়া যাবে। এটাও ইহরাম ও ইহরাম ছাড়া উভয় অবস্থার জন্যই প্রযোজ্য। নাসাঈ-২৮৭৪
* কোনো অস্ত্র বহন করা বা অন্য কোনো মুসলিমের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া, সংঘর্ষে জড়িয়ে যাওয়া অথবা খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা। সূরা-বাকারা ২:১৯৭, বুখারী-১৮৩৪
* বিয়ে করা বা বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো বা অন্য কারো জন্য বিয়ের আয়োজন করা, হস্তমৈথুন করা, স্ত্রীকে উত্তেজনার সাথে আলিঙ্গন বা চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করা বা মহিলাদের প্রতি এমন কোনো ইঙ্গিত করা যা আকাঙ্খার উদ্রেক করে। নাসাঈ-২৮৪২
* মহিলারা ইহরাম অবস্থায় হাত মোজা ও নেকাব (মুখ ঢাকা) পরা। তবে সামনে কোনো বেগানা পুরুষ চলে আসলে মাথার কাপড়ের কিছু অংশ দিয়ে মুখ ঢাকতে পারেন। তিরমিযী-৮৩৩
* ইহরাম অবস্থায় পুরুষরা তাদের মাথায় ইহরামের কাপড় অথবা টুপি অথবা মাথায় কাপড় দিয়ে আবৃত করতে পারবে না। আর যদি অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে কেউ মাথা ঢেকে ফেলে তাহলে মনে হওয়ার সাথে সাথে তা খুলে ফেলতে হবে। তবে এজন্য কোনো ফিদইয়া আদায় করতে হবে না। ইবনে মাজাহ-২৯২৯
* এছাড়া পুরুষরা ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় যেমন-জোব্বা, গেনজি, শার্ট, প্যান্ট, আন্ডারওয়ার পরা যাবে না। তিরমিযী-৮৩৩
* শরীরের কোনো অংশ বা দাঁত দিয়ে বেশি রক্ত প্রবাহিত হওয়া। সৌন্দর্যবর্ধন ও আভিজাত্য প্রকাশের জন্য দামি হাতঘড়ি, আংটি, রোদ চশমা পরা, চোখে কাজল দেয়া ইত্যাদি কাজ মাকরূহ。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ইহরামের বিধান লঙ্ঘনের কাফফারা

📄 ইহরামের বিধান লঙ্ঘনের কাফফারা


■ ইহরাম অবস্থায় কারো সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলে তার ইহরাম ভেঙে যাবে। উমরাহ/হজ্জ সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে। তাকে কাফফারা হিসেবে মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে একটি দম (পশু জবেহ) করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আবার পুনরায় নতুন করে উমরাহ/হজ্জ করতে হবে।
■ ইহরাম সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের কোন বিষয় যদি ভুলক্রমে অথবা না জানার কারণে লঙ্ঘন হয় তাহলে তা ক্ষমাযোগ্য। এর জন্য কোনো ফিদইয়া দিতে হবে না। এজন্য আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল। সূরা-বাকারা ২:২৮৬, সূরা-আহযাব ৩৩:৫
■ কেউ যদি কাউকে ইহরাম অবস্থায় কোনো একটি নিষিদ্ধ কাজ করতে বাধ্য করে অথবা অন্য কোনো কারণে বাধ্য হয়ে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে তাহলেও তাকে কোনো ফিদইয়া দিতে হবে না।
■ ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে তাতে ইহরাম নষ্ট বা ভঙ্গ হবে না। ফরয গোসলের মাধ্যমে নাপাক ধুয়ে পবিত্র হতে হবে।
■ কেউ যদি সজ্ঞানে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে তাহলে ক্ষতিপূরণ স্বরুপ ফিদইয়া আদায় করতে হবে। সূরা-বাকারা ২:১৯৬
■ দম: উমরাহর কোন এক বা একাধিক ওয়াজিব বাদ গেলে বা লঙ্ঘন হলে উমরাহ শেষ করে মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে একটি পশু (ছাগল/ভেড়া) জবেহ দিতে হবে। গোশত গরীব-মিসকীনদের মাঝে সম্পূর্ণ বিতরণ করবে এবং এই গোশত থেকে নিজে কিছু ভক্ষণ করা যাবে না। অথবা পুনরায় নতুন করে ইহরাম করে উমরাহ পালন করে নিবে। দমের জন্য পশু (গরু, উঠ) ভাগে দেওয়া যায় না।
■ ফিদইয়া: ইহরামের কোন বিধান লঙ্ঘন হলে মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসাবে একটি পশু যবেহ (ছাগল/ভেড়া) করে সম্পূর্ণ গোশত গরীব-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করবে অথবা ৩ দিন সিয়াম রাখবে অথবা ৬ জন গরীব-মিসকীন লোককে খাওয়াবে (প্রত্যেককে অন্তত অর্ধ সা'আ বা ১.২৫০ কেজি পরিমান খাবার দেয়া)। সূরা-বাকারা ২:১৯৬, আবু দাউদ-১৮৫৬
■ ইহরাম করার পর কেউ যদি বাধাপ্রাপ্ত বা অসুস্থ হয় এবং উমরাহ সম্পাদন করতে অপারগ হয়ে যায় তবে সে মাথার চুল কসর/হলক্ব করে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আবার অন্য কোন সময় উমরাহ পালন করে নিবে। সূরা-বাকারা ২:১৯৬, আবু দাউদ-১৮৬২, বুখারী-১৮০৯
■ মক্কার হারাম এলাকার সীমা: পূর্বে ১৬ কিলোমিটার (জুরানা), পশ্চিমে ১৫ কিলোমিটার (হুদায়বিয়াহ), উত্তরে ৭ কিলোমিটার (তানিম), দক্ষিণে ১২ কিলোমিটার (আদাহ), উত্তর-পূর্বে ১৪ কিলোমিটার (নাখালা উপত্যকা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00