📄 উমরার ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাত
ফরয:
১. ইহরাম করা
২. তাওয়াফ করা
৩. সাঈ করা
ওয়াজিব:
১. মীকাত থেকে ইহরাম করা
২. কসর/হলকু করা
সুন্নাত:
১. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা
২. পুরুষদের 'ইদতিবা', 'রমল' করা
৩. ইয়েমেনী কোণ স্পর্শ করা
৪. তাওয়াফের পর ২ রাকাআত স্বলাত পড়া
△ কোন ফরয বাদ গেলে বা ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন হলে উমরাহ বাতিল হয়ে যাবে ফলে পুনরায় নতুন করে ইহরাম করে উমরাহ পালন করতে হবে। এক বা একাধিক ওয়াজিব বাদ দিলে বা লঙ্ঘন হলে উমরাহ শেষ করে একটি দম (পশু জবেহ) দিতে হবে অথবা চাইলে পুনরায় নতুন করে ইহরাম করে উমরাহ পালন করে নিবে। কোনো একটি সুন্নাত ওজরবশত বাদ দিলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পরে গেলে অসুবিধা নেই। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সুন্নাত বাদ দেয়া মন্দ কাজ।
এক নজরে উমরাহ:
১. মীকাত থেকে ইহরাম করা।
২. কাবা তাওয়াফ করা।
৩. সাফা মারওয়া সাঈ করা।
৪. কসর/হলক করা।
📄 ইহরামের মীকাত
■ মীকাত হলো সীমা। হজ্জ ও উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা গমণকারীদের কাবা ঘর হতে একটি নির্দিষ্ট পরিমান দূরত্ব থেকে ইহরাম করতে হয়, ঐ জায়গাগুলোকে মীকাত বলা হয়।
■ মীকাত দুই ধরনের - (১) মীকাতে যামানী (সময়ের মীকাত), (২) মীকাতে মাকানী (স্থানের মীকাত)।
■ হজ্জের মীকাতের সময় হলো ৩টি মাস; শাওয়াল, জিলক্বদ ও যিলহজ্জ মাস। তবে কিছু উলামাদের মতে এটি ১০ যিলহজ্জ পর্যন্ত। উমরাহর মীকাতের সময় হলো বছরের যে কোনো সময়। সূরা-আল বাকারা: ২:১৯৭
■ মীকাতের জন্য ৫টি নির্ধারিত স্থান রয়েছে: বুখারী-১৫২৪, মুসলিম-২৬৯৩
১. যুল হুলায়ফা (আবিয়ারে আলী): মক্কা থেকে ৪২০ কি.মি.। মদীনাবাসী ও যারা এই পথ দিয়ে যাবেন তাদের জন্য।
২. আল জুহফাহ (রাবিগ): মক্কা থেকে ১৮৬ কি.মি.। সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন, মিশর, সুদান, মরক্কো ও সমগ্র আফ্রিকা থেকে আগতদের জন্য।
৩. ইয়ালামলাম (আস-সাদিয়া): মক্কা থেকে ১২০ কি.মি.। যারা নৌপথে ইয়েমেন, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, দ: এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে আসবেন।
৪. কারনুল মানাযিল (সাইলুল কাবির): মক্কা থেকে ৭৮ কি.মি.। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, ইরাক ও ইরান এই পথে আগতদের জন্য।
৫. যাতু ইরক (আজকাল পরিত্যক্ত): মক্কা থেকে ১০০ কি.মি.। ইরাকবাসীদের জন্য।
■ বাংলাদেশ থেকে যারা বিমান যোগে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তাদের নিকটবর্তী মীকাত হলো 'কারনুল মানাযিল' (সাইলুল কাবীর)। আর নৌপথ যোগে যারা জাহাজে ভ্রমণ করবেন তাদের মীকাত হবে 'ইয়ালামলাম'। তবে আজকাল নৌপথ বেশি ব্যবহৃত হয় না।
■ যারা মীকাতের সীমানার ভিতরে বসবাস করেন তাদের অবস্থানই হল তাদের মীকাত। অর্থাৎ যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই উমরাহ বা হজ্জের ইহরাম করবেন। তবে মক্কার হারাম এলাকার ভেতরে বসবাসকারী ব্যক্তি যদি উমরাহ করতে চান তবে তাকে হারাম এলাকার বাইরে গিয়ে যেমন তানয়ীম তথা আয়েশা মসজিদে অথবা অনুরুপ কোথাও গিয়ে ইহরাম করবেন। বুখারী-১৫২৪
📄 ইহরামের তাৎপর্য ও ইহরাম করার পদ্ধতি
ইহরামের তাৎপর্য
■ ইহরাম শব্দের আভিধানিক অর্থ - হারাম করা, সীমাবদ্ধ বা অনুমতিহীন। ইহরাম করার মাধ্যমে উমরাহ বা হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
■ হজ্জ ও উমরাহ পালন করার সময় ইহরাম বাঁধা তথা ইহরামের কাপড় পরা বাধ্যতামূলক। ইহরাম করা অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু কর্মকান্ড নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
■ ইহরাম অবস্থায় সকল পুরুষ একই রকমের পোশাক পরিধান করেন, যাতে করে ধনী-গরীবে ও রং-বর্ণে কোনো ভেদাভেদ না থাকে। ইহরাম মানুষের মাঝে জাতি, শ্রেণী ও সংস্কৃতির পার্থক্য দূর করে দেয়।
■ পুরুষের ইহরামের পোশাক; সেলাইবিহীন দুই খন্ড সাদা কাপড়। যে এক খন্ড কাপড় দিয়ে শরীরের উপরের অংশ আবৃত করা হয় তাকে বলে 'রিদা', আর যে এক খন্ড কাপড় দিয়ে শরীরের নিচের অংশ আবৃত করা হয় তাকে 'ইজার' বলে।
■ মহিলাদের ইহরামের আলাদা কোন পোষাক নেই। তারা সেলাইযুক্ত স্বাভাবিক যে কোন রংয়ের পোশাক পরিধান করতে পারেন যা হবে পবিত্র, শালীন ও ঢিলাঢালা তবে খুব রংচংয়ে ও আকর্ষণীয় পোষাক যেন না হয়। এবং ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে অবশ্যই যথাযথ পর্দা করতে হবে।
■ ইহরামের কাপড় সিল্ক অথবা যে পশুর গোশত হারাম তার পশম দিয়ে তৈরি করা না হয় এবং কাপড় এতটা স্বচ্ছ না হয় যাতে শরীর দেখা/বুঝা যায়।
■ আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে প্রথমেই মক্কায় যান এবং উমরাহ পালন করেন তাহলে আপনি 'কারনুল মানাযিল' মীকাত থেকে ইহরাম করবেন। আর আপনি যদি প্রথমে মদীনা যান তবে মক্কায় যাওয়ার সময় মদীনার 'যুল হুলায়ফা' মীকাত থেকে ইহরাম করে মক্কায় যাবেন।
ইহরাম করার পদ্ধতি
■ ইহরামের কাপড় পরিধানের আগে সাধারণ পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে নিবেন নখ কাটা, লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার করা ও গোঁফ ছোট করা। তবে দাড়ি ও চুল কাটবেন না। পরিচ্ছন্নতার এই কাজগুলো করা মুস্তাহাব।
■ এরপর গোসল করবেন, আর গোসল করা সম্ভব না হলে ওযু করবেন। ঋতুবতী মহিলারা গোসল করে ন্যাপকিন সহ ইহরামের কাপড় পরে নিবেন এবং ইহরামের সকল বিধি-বিধান পালন করবেন। তারা হজ্জ ও উমরাহর নিয়তে ইহরাম করে মক্কায় প্রবেশ করে ঋতু শেষ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে প্রবেশ, কুরআন স্পর্শ, স্বলাত পড়া ও তাওয়াফ করবেন না। ঋতু শেষ হলে তাওয়াফ ও সাঈ করে উমরাহর বাকি কাজ শেষ করবেন। মুসলিম-২৭৯৯, নাসাঈ-২৭৬২
■ পুরুষরা ইহরামের কাপড় পরার আগে চুলে তেল বা তালবীদ দিতে পারেন এবং শরীরে, মাথায় ও দাড়িতে সুগন্ধী ব্যবহার করতে পারেন; তবে ইহরামের কাপড় পরার পর আর পারবেন না। সুগন্ধী যেন ইহরামের কাপড়ে না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। লেগে গেলে তা ভালে করে ধুয়ে ফেলবেন। মহিলারা কখনই কোনো অবস্থাতেই সুগন্ধী ব্যবহার করবেন না। মহিলাদের সুগন্ধী ব্যবহার করে মসজিদে ও ঘরের বাইরে যাওয়া হারাম। বুখারী-১৫৩৬
■ মহিলারা মুখমন্ডল এবং হাতের কব্জি খোলা রাখবেন। নেকাব দ্বারা মুখমন্ডল সবসময় ঢেকে রাখা যাবে না। তবে গায়ের মাহরাম পুরুষদের সামনে বা মাঝে গেলে তখন মুখমন্ডল আবৃত করতে পারবেন। আবু দাউদ-১৮২৫
■ পুরুষরা ইহরামের কাপড় এমনভাবে পরবেন যাতে নাভির উপর থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত আবৃত হয়ে যায় এবং ইহরামের কাপড় দিয়ে কাঁধ ও শরীর ঢেকে থাকে। প্রয়োজনে বেল্ট ও সেফটিপিন ব্যবহার করবেন।
■ ইহরামের কাপড় পরা তথা 'ইহরাম বাঁধা'র জন্য আলাদা কোন স্বলাত নেই। উত্তম সুন্নাহ পদ্ধতি হলো; যে কোন ফরয জ্বলাতের পূর্বে ইহরামের কাপড় পরা তারপর ফরয স্বলাত আদায় করা। কেননা রাসূল (স.) ফজরের ফরয স্বলাত আদায়ের পূর্বে ইহরাম বেঁধেছিলেন অতঃপর ইহরাম করেছিলেন। তবে অন্য সময় ইহরাম বাঁধলে ২ রাকাআত স্বলাত আদায় করা যেতে পারে। এই ২ রাকাআত জ্বলাত কি ইহরামের স্বলাত না তাহিয়্যাতুল ওযুর স্বলাত নাকি সাধারণ নফল স্বলাত - এ ব্যাপারে উলামাদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে বিশুদ্ধতম ও গ্রহণযোগ্য মত হলো, এটি তাহিয়্যাতুল ওযু বা সাধারণ নফল স্বলাত হিসাবে বিবেচিত হবে। ইহরাম বাঁধার পর যদি কোন স্বলাত না পড়া হয় বা সুযোগ না পাওয়া যায় তাতেও কোন সমস্যা নাই। স্বলাতের পর উমরাহ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি বা নিয়ত না করে বিমানে উঠবেন, যেহেতু এখনো মীকাত পৌছেননি সেহেতু তালবিয়াহ পাঠ থেকে বিরত থাকুন। বুখারী-১৫৪৬, তিরমিযী-৮১৮
■ মীকাতের কাছাকাছি যখন পৌছাবেন তখন ইহরাম করার তথা উমরাহ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি বা নিয়ত করার জন্য প্রস্তুতি নিবেন। পুরুষরা শরীরে কোন কাপড় থাকলে তা খুলে রাখবেন, মাথা থেকে টুপি সরিয়ে ফেলবেন। তবে শীত নিবারনের জন্য গায়ে চাদর বা কম্বল ব্যবহার করতে পারেন। পায়ে এমন সেন্ডেল পড়ুন, যাতে পায়ের উপরের অংশের হাঁড়সমূহ মোটামুটি খোলা দেখা যায় এবং পায়ের গোড়ালী যেন উন্মুক্ত বা খোলা থাকে। তবে মহিলারা পায়ে মোজা বা জুতো পরে থাকতে পারবেন। ইবনে মাজাহ-২৯৩২
■ মীকাতের নিকটবর্তী স্থান থেকেই উমরাহ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি দিবেন ও তালবিয়াহ পাঠ শুরু করবেন অর্থাৎ ইহরাম করবেন; এমনটি করা ওয়াজিব। গভীর ঘুমের কারণে মীকাত পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে একটু আগেভাগেই ইহরাম করা যেতে পারে। মীকাতের কাছাকাছি বিমান পৌঁছলে বিমানের পাইলট ঘোষণা দিবেন। তাড়াতাড়ি ইহরাম করবেন কারণ বিমান খুব দ্রুত মীকাত অতিক্রম করে চলে যাবে। অনেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছে নিয়ত করেন ও তালবিয়াহ পাঠ শুরু করেন, যার কোন ভিত্তি নেই। মুসলিম-২৭০৬, তিরমিযী-৮১৮
যখন মীকাতের কাছাকাছি পৌঁছবেন তখন শুধু উমরাহ শুরু করার মৌখিক স্বীকৃতি দিবেন হজ্জ এর নয়, যেহেতু তামাতু হজ্জ পালনকারী। এমনকি ঋতুবতী মহিলারা মীকাত থেকে উমরাহ শুরুর স্বীকৃতি দিবেন। আপনি বলুন:
لَبَّيْكَ عُمْرَةً
"লাব্বাইকা উমরাহ"
"আমি উমরাহ করার জন্য হাজির"।
এবার স্বশব্দে তাওহীদ সম্বলিত তালবিয়াহ পাঠ শুরু করবেন এবং মসজিদে হারামে তাওয়াফ শুরুর আগ পর্যন্ত এই তালবিয়াহ পাঠ চলতে থাকবে।
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'য়মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা- শারিকা লাক"।
"আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই এবং রাজত্বও তোমারই, তোমার কোনো শরীক নেই"। বুখারী-১৫৪৯, মুসলিম-২৭০১, তিরমিযী-৮২৬
উমরাহ সম্পন্ন করতে না পারার ভয় থাকলে (যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অসুস্থতার কারণ দেখা দেয়) তবে এই দু'আটি পাঠ করবেন: মুসলিম-২৭৯৩
فَإِنْ حَبَسَنِي حَابِسٌ فَمَحِلِّي حَيْثُ حَبَسْتَنِي
"ফা ইন হাবাসানী হা-বিসুন, ফা মাহিল্লী হায়ছু হাবাসতানি"।
"যদি কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই, তাহলে যেখানে তুমি আমাকে বাধা দিবে, সেখানেই আমার হালাল হওয়ার স্থান হবে"। আবু দাউদ-১৭৭৬
তালবিয়াহ একটু হালকা উচ্চস্বরে পাঠ করা উত্তম। তবে তালবিয়াহ খুব উচ্চস্বরে বা দলবদ্ধ সমস্বরে পাঠ করবেন না যা অন্যদের সমস্যার কারণ হয়। আর মহিলারা তালবিয়াহ পাঠ করবেন নিচু স্বরে বা মনে মনে। এখন আপনার ইহরাম করা হয়ে গেছে, এই ইহরাম করার কাজটি ছিল ফরয। নাসাঈ-২৭৫৩
তালবিয়াহর মাধ্যমে তাওহীদ চর্চা দৃশ্যমান। একে হজ্জের স্লোগান বলা হয়। তালবিয়াহ বেশি বেশি পড়া মুস্তাহাব। দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, ওজু, বে-ওজু; সর্বাবস্থায় তালবিয়াহ পাঠ করা যায়। তালবিয়াহ পাঠ করা ব্যক্তির ডান ও বাম পাশের পাথর, গাছপালা, মাটি তালবিয়াহ পাঠ করে। ইবনে মাজাহ-২৯২১
কেউ যদি মীকাত অতিক্রম করে ফেলেন কিন্তু ইহরাম করতে ব্যর্থ হন তাহলে তাকে আবার মীকাতের স্থানে ফিরে গিয়ে ইহরাম করতে হবে। যদি এটা করা সম্ভব না হয় তবে মীকাতের কথা মনে হওয়ার সাথে সাথেই ইহরাম করতে হবে। মীকাত থেকে ইহরাম করার ওয়াজিব এই নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে কাফফারা স্বরুপ একটা দম (পশু যবেহ) অবশ্যই করতে হবে। এই পশুর গোশত সম্পূর্ণ মিসকিন ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে। এই পশুর গোশত থেকে কোন অংশ নিজে গ্রহণ করা যাবে না。
📄 ইহরাম ও তালবিয়াহর ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত
* উমরাহ করার নিয়ত থাকার পরও ইহরাম না করে মীকাত অতিক্রম করা।
* মীকাতের অনেক আগেই ইহরাম করা ও উচ্চস্বরে হজ্জ বা উমরাহর নিয়ত করা।
* এ কথা মানা, কথা না বলে মৌনতার সাথে হজ্জ-উমরাহ পালন করা উত্তম।
* যাত্রা শুরুর সময় বিমানবন্দরে পৌছেই ইহরাম করার আগেই তালবিয়াহ পাঠ শুরু করা, অথবা দল বেঁধে সমবেত কণ্ঠে তালবিয়াহ পাঠ করা।
* কোন এক নির্দিষ্ট নিয়মে ইহরামের কাপড় পরতে হবে এ কথা মান্য করা।
* ইহরামের কাপড় ডান বগলের নিচ দিয়ে এবং বাম কাঁধের উপর দিয়ে পরা।
* ইহরাম অবস্থায় তালবিয়ার স্থলে উচ্চস্বরে সমবেত কণ্ঠে তাকবীর পাঠ করা।
* তালবিয়ার আগে দুর্বল সনদ 'আলহামদুলিাহ ইন্নি উরিদুল...' দু'আ পাঠ করা।
* ইহরাম বেঁধে আয়েশা/তা'নিম মসজিদে স্বলাত আদায় করতে যাওয়া।
* কিছু বইয়ের নির্দেশনা অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে বিশেষ ধরনের জুতা পরা।
* ইহরাম ছাড়া মীকাতে ঢুকে আয়েশা মসজিদে গিয়ে উমরাহর নিয়ত করা।
* ইহরামের কাপড় পরে এ কথা মানা যে সুরা-কাফিরুন ও সুরা-ইখলাস দিয়ে ইহরামের দুই রাকাআত স্বলাত আদায় করতে হবে।
* ইহরাম করে মীকাতের ভেতরে প্রবেশের পর মীকাত সীমানার বাইরে যাওয়া।
* জেদ্দা বিমানবন্দরে প্রবেশের ও অবতরণের কথিত বানোয়াটি দু'আ পাঠ করা।