📄 হজ্জ/উমরাহ সফরের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া
ঢাকা এয়ারপোর্ট / ঢাকা হজ্জ ক্যাম্প প্রস্তুতি
০১ পাসপোর্ট, ই-ভিসা, টিকেট, মেডিকেল কার্ড
০২ হাতের ছোট ব্যাগে কিছু রিয়াল ও টাকা
০৩ সরকারী চাকুরীজীবিদের জিও লেটার/বেসরকারীদের এনওসি ১ টি
০৪ পাসপোর্ট, ই-ভিসা, টিকেট এর ফটোকপি ২ সেট
০৫ চাকাওয়ালা ১টি বড় ট্রাভেল ব্যাগ (ওজন ১০-১৫ কেজি) ১ টি
০৬ ১টি ছোট কাঁধ ব্যাগ (ওজন ৫-৭ কেজি) ১ টি
■ হজ্জ সফর সামগ্রী চেকলিস্ট অনুযায়ী ব্যাগ গোছান; বড় আকারের একটি মেইন ব্যাগ হবে (ওজন ১০-১৫ কেজি) এবং ছোট আকারের একটি হাত ব্যাগ হবে (ওজন ৫-৭ কেজি)। মনে রাখবেন, নিজের ব্যাগপত্র নিজেকেই বহন করতে/টানতে হবে। আপনার ব্যাগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরও ৩টি জিনিস নিতে ভুলবেন না তা হল; ধৈর্য্য, ত্যাগ ও ক্ষমা! সফরে পদে পদে এগুলো প্রয়োগের প্রয়োজন পড়বে এবং অবস্থা মাফিক তা প্রয়োগ করবেন।
■ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পূর্বে উমরাহর ইহরাম সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। এই বইয়ের পৃষ্ঠা নং: ৪৭-৫৬ থেকে ইহরামের প্রস্তুতি ও বিধিবিধান বিস্তারিত জানতে পারবেন।
■ বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই আপনার স্ট্যাটাস/মর্যাদা পরিবর্তন হয়ে আপনি হয়ে যাবেন আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া 'আল্লাহর মেহমান'। কিছুক্ষণ পর আরও একটি মর্যাদা যোগ হবে 'মুসাফির'। আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে দেখে একজন কিন্তু অখুশি হয়ে যাবে! সে আর কেউ নয় ইবলিশ শয়তান। সে এখন থেকে পদে পদে চক্রান্ত করবে ও হামলা চালাবে কিভাবে আপনার হজ্জকে বানচাল করা যায়। তাই আপনি আগাম সতর্ক হয়ে যাবেন।
■ যখন বিমানের ফ্লাইটের সময় নিকটবর্তী হবে সাধারণত ফ্লাইটের ৬/৭ ঘন্টা আগে ঢাকা হজ্জ ক্যাম্পে বা ঢাকা বিমানবন্দরে বোর্ডিং ঘোষনা করা হবে তখন আপনার ব্যাগপত্র নিয়ে যাত্রা করবেন।
■ আপনার হজ্জ এজেন্সির পরিকল্পনা অনুসারে আপনার যদি প্রথমে মক্কায় যান তাহলে ঢাকার বাসা থেকে বা হজ্জ ক্যাম্প থেকে শুধু ইহরামের কাপড় পরে নিবেন, যাকে সাধারণভাবে বলা হয় 'ইহরাম বাঁধা'। তবে এখন উমরাহ শুরু করার কোন মৌখিক স্বীকৃতি দেওয়া বা নিয়ত করা এবং কোন তালবিয়াহ পাঠ করবেন না। কেননা ইহরাম অবস্থা শুরু হওয়া তথা ইহরামের বিধিবিধান প্রযোজ্য হওয়া শুরু হবে যখন মীকাত এর কাছাকাছি পৌঁছাবেন এবং মৌখিক স্বীকৃতি দিয়ে তালবিয়াহ পাঠ শুরু করবেন, যাকে মূলত বলা হয় 'ইহরাম করা'। রাসূল (সঃ) মীকাতের কাছাকাছি পৌছানোর পূর্বে ইহরাম বাঁধেন নাই ও তালবিয়াহ পাঠ করেন নাই। বুখারী-১৫২৫
■ আপনি যদি প্রথমে মদীনায় যান তাহলে ইহরামের কাপড় পরিধান করার দরকার নেই। সাধারণ কাপড় পরিধান করে যাবেন। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ হজ্জযাত্রী প্রথমে মক্কা যান ও উমরাহ পালন করেন তাই এখানে ধরে নিচ্ছি আপনি প্রথমে মক্কায় যাচ্ছেন।
■ আর যারা বছরের যে কোন সময় শুধু উমরাহ আদায় করবেন তারাও একই ধরনের ইহরাম করার প্রস্তুতি নিবেন। একটি বিষয়; যারা জীবনে প্রথম উমরাহ করতে যাচ্ছেন তাদের উচিত হবে একজন গাইড বা ইতিপূর্বে হজ্জ-উমরাহ করা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কাউকে সাথে নিয়ে প্রথম উমরাহ করতে যাওয়া অথবা ভালো মতো বই পড়ে ও সবকিছু জেনে বুঝে একা যাওয়া। আপনি একা যতই ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরা ট্রাভেলর হন না কেন এই দুনিয়া কিছুটা ভিন্ন।
■ এমন অনেক উমরাহযাত্রীদের অভিজ্ঞতা শুনেছি যারা প্রথমে একাকী গিয়ে সবকিছু ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন নাই, ঠিকমতো উমরাহও করতে পারেন নাই। এখানের ৫ স্টার হোটেল মানে যে এক রুমে ৪/৫ সিঙ্গেল বেড থাকে ও রুম শেয়ার করা লাগে তা অনেকেই জানতেন না। এখানে অনেকে ইংরেজী ভালো বোঝে না এবং কথা বলতে পারে না।
■ উমরাহ যাত্রীদের জ্ঞাতার্থে একটি বিষয় বলছি; এমন উমরাহ প্যাকেজ নিবেন না যেখানে ঢাকা টু মদিনা যেতে ঢাকা-জেদ্দা বিমানে ফ্লাই করে ফের জেদ্দা-মদিনা গাড়িতে/বাসে যাওয়া লাগে, তাহলে আপনাকে প্রায় ১৬-১৮ ঘন্টা কষ্টকর ভ্রমণ করতে হবে। তেমনি আবার মদিনা-জেদ্দা গাড়িতে/বাসে এসে জেদ্দা টু ঢাকা ফ্লাই করা লাগে। ঢাকা থেকে আগে মদিনা গেলে ঢাকা টু মদিনা ডিরেক্ট ফ্লাইট দিতে বলবেন। আর মদিনা থেকে ঢাকা রিটার্ন হলে এমনই ডিরেক্ট ফ্লাইট দিতে বলবেন। এমন করেই যেন ট্যুর প্লান করা হয়。