📄 সফরকালীন অবস্থায় সুন্নাহ ও আদবসমূহ
■ তিন এর অধিক ব্যক্তি একসাথে সফর করলে একজনকে আমীর বানানো ও আমীরকে মান্য করা। আবু দাউদ-২৬০৮
■ সিঁড়ি বা লিফট বা উচু ভূমিতে উপরে দিকে ওঠার সময় বলা 'আল্লাহু আকবার' ও নিচে নামার সময় বলা 'সুবহানাল্লাহ'।
■ পরিবহনে উঠার সময় 'বিসমিল্লাহ' ও আসনে বসার সময় 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা। বুখারী-২৯৯৩
■ সড়ক ও আকাশ পথের বাহনে আরোহন করে যাত্রা পথের এই দুআটি পাঠ করা: তিরমিযী-৩৪৪৬
اللهُ أَكْبَر، اللهُ أَكْبَر، اللهُ أَكْبَر سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ
"আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর,"
"সুবহানাল্লাযি সাখারালানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকুরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবুন"।
"আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান"। "পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি এ বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। একে বশীভূত করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাবো"। সূরা-আল যুখরুফ: ৪৩:১৩-১৪, আবু দাউদ-২৬০২
■ নৌ পথের বাহনে আরোহন করে যাত্রা পথের এই দুআটি পাঠ করা:
بِسْمِ اللهِ تَجْرِهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
"বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা ইন্না রাববি লাগাফুরুর রহিম"।
"আল্লাহর নামেই এই বাহন চলাচল করে এবং থামে, নিশ্চয়ই আমার প্রভু ক্ষমাশীল ও দয়ালু"। সুরা-হুদ: ১১:৪১
■ সফরের জন্য একটি বিশেষ দুআ পাঠ করা:
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هُذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هُذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ
"আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বিররা ওয়াতাক্বওয়া, ওয়ামিনাল আমালি মা তারদ্বা, আল্লাহুম্মা হাউইন আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াতউই আন্না বু'দাহ, আল্লাহুম্মা আন্তাস সা-হিবু ফিস সাফারি ওয়াল খলীফাতু ফিল আহাল, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন ওয়াআসা-ইস সাফারি ওয়া কাআবাতিল মানযার, ওয়াসূইল মুনক্কলাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহাল"।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের এই যাত্রার পূণ্যকর্ম, সংযমশীলতা এবং তোমার সন্তোষজনক কার্যকলাপ। হে আল্লাহ, আমাদের এ যাত্রাকে সহজ করে দাও। আমাদের থেকে এর দূরত্ব গুটিয়ে দাও। হে আল্লাহ, তুমিই সফরের সঙ্গী, আর পরিবারের জন্য প্রতিনিধি। হে আল্লাহ, সফরের কষ্ট ও ক্লান্তি এবং ভয়ংকর দৃশ্য থেকে এবং বাড়ি ফিরে সম্পদ ও পরিবার অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করছি।” তিরমিযী-৩৪৪৭
■ সফর অবস্থায় দল ছাড়া না হয়ে সদা একত্রিত থাকার চেষ্টা করা। আবু দাউদ-২৬২৮
■ রাস্তায় গর্ব ও অহংকার বশে চলাফেরা না করে নম্রভাবে চলাফেরা করা। সূরা লোকমান: ৩১:১৮
■ সফর অবস্থায় রাস্তার হক্ব আদায় করা তথা; দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সকলকে সালাম দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে নিষেধ করা। বুখারী-২৪৬৫
■ সফরে সম্ভব হলে বাহন থেকে নেমে একত্রে জামাআত করা বা বাহনে বসা অবস্থায় একাকী স্বলাত পড়া। নাসায়ী-৮৪৭
■ সফরে সূর্য বা কম্পাস দেখে বা মানুষকে জিজ্ঞাসা করে কিবলা নির্ণয় করে নেওয়া আর কিবলা নির্ণয় করতে জটিলতা দেখা দিলে কোন এক দিককে কিবলা নির্ধারণ করে স্বলাত পড়ে নেওয়া। সুরা বাকারাহ; ২:২৩৯, আবু দাউদ-১২২৬
■ ফরজ স্বলাত কিবলার দিকে মুখ করে পড়া এবং নফল-সুন্নত স্বলাত যে কোন দিকে মুখ করে পড়া। আবু দাউদ-১২২৪
■ বাহনে কিবলার দিকে মুখ করে স্বলাত শুরু করার পর কিবলা পরিবর্তন হয়ে গেলেও কোন সমস্যা নেই। আবু দাউদ-১২২৫
■ মুসাফির অবস্থায় সকল ফরজ স্বলাতগুলো সুন্নাহ মোতাবেক কসর বা সংক্ষিপ্ত করে আদায় করা (ফজর ও এশা ব্যতিত)।
■ সফরে সুন্নাত/নফল স্বলাত না পড়া সুন্নাহ তবে কেউ পড়লে তা যায়েজ। সফরে ফজরের ২ রাকাত সুন্নাত ও এশার ১/৩ রাকাত বিতর স্বলাত পড়া।
■ সফরে প্রয়োজনে যুহর-আসরকে একত্রিত করে যুহর বা আসরের সময় আবার মাগরিব-এশাকে একত্রিত করে মাগরিব ও এশার সময় পরপর কসর করে আদায় করা যায়।
■ সফর অবস্থায় জুমআর স্বলাত না পড়লে গুনাহ হবে না তবে জুমআর পরিবর্তে যুহর আদায় করতে হবে।
■ সফরকালে প্রয়োজনে ফরজ রোজা না রাখলে কোন দোষ বা ক্ষতি নেই। পরে কাযা আদায় করে নিলে হবে।
■ মুসাফিরের দুআ কবুল হয় তাই সফরে বেশি বেশি দুআ করা। আবু দাউদ-১৫৩৬
■ সফর অবস্থায় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা এবং বাহন কোথাও হোঁচট খেলে 'বিসমিল্লাহ' বলা। আবু দাউদ-৪৯৮২
■ সফরে সঙ্গী-সাথীদের যথাসাধ্য সাহায্য করা ও সকল প্রকার পাপকাজ থেকে বিরত থাকা। আবু দাউদ-১৬৬৩, ২৫৩৪
■ সফরে কোথাও যাত্রাবিরতি করলে কিংবা গন্তব্যে পৌছে এই দু'আ পাঠ করলে সকল প্রকার সম্ভাব্য ক্ষতি বা অনিষ্ট থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় রক্ষা পাওয়া যাবে:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা-খলাকু"
"আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় কামনা করছি"। মুসলিম-৬৭৭১
📄 হজ্জ/উমরাহ সফরের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া
ঢাকা এয়ারপোর্ট / ঢাকা হজ্জ ক্যাম্প প্রস্তুতি
০১ পাসপোর্ট, ই-ভিসা, টিকেট, মেডিকেল কার্ড
০২ হাতের ছোট ব্যাগে কিছু রিয়াল ও টাকা
০৩ সরকারী চাকুরীজীবিদের জিও লেটার/বেসরকারীদের এনওসি ১ টি
০৪ পাসপোর্ট, ই-ভিসা, টিকেট এর ফটোকপি ২ সেট
০৫ চাকাওয়ালা ১টি বড় ট্রাভেল ব্যাগ (ওজন ১০-১৫ কেজি) ১ টি
০৬ ১টি ছোট কাঁধ ব্যাগ (ওজন ৫-৭ কেজি) ১ টি
■ হজ্জ সফর সামগ্রী চেকলিস্ট অনুযায়ী ব্যাগ গোছান; বড় আকারের একটি মেইন ব্যাগ হবে (ওজন ১০-১৫ কেজি) এবং ছোট আকারের একটি হাত ব্যাগ হবে (ওজন ৫-৭ কেজি)। মনে রাখবেন, নিজের ব্যাগপত্র নিজেকেই বহন করতে/টানতে হবে। আপনার ব্যাগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরও ৩টি জিনিস নিতে ভুলবেন না তা হল; ধৈর্য্য, ত্যাগ ও ক্ষমা! সফরে পদে পদে এগুলো প্রয়োগের প্রয়োজন পড়বে এবং অবস্থা মাফিক তা প্রয়োগ করবেন।
■ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পূর্বে উমরাহর ইহরাম সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। এই বইয়ের পৃষ্ঠা নং: ৪৭-৫৬ থেকে ইহরামের প্রস্তুতি ও বিধিবিধান বিস্তারিত জানতে পারবেন।
■ বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই আপনার স্ট্যাটাস/মর্যাদা পরিবর্তন হয়ে আপনি হয়ে যাবেন আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া 'আল্লাহর মেহমান'। কিছুক্ষণ পর আরও একটি মর্যাদা যোগ হবে 'মুসাফির'। আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে দেখে একজন কিন্তু অখুশি হয়ে যাবে! সে আর কেউ নয় ইবলিশ শয়তান। সে এখন থেকে পদে পদে চক্রান্ত করবে ও হামলা চালাবে কিভাবে আপনার হজ্জকে বানচাল করা যায়। তাই আপনি আগাম সতর্ক হয়ে যাবেন।
■ যখন বিমানের ফ্লাইটের সময় নিকটবর্তী হবে সাধারণত ফ্লাইটের ৬/৭ ঘন্টা আগে ঢাকা হজ্জ ক্যাম্পে বা ঢাকা বিমানবন্দরে বোর্ডিং ঘোষনা করা হবে তখন আপনার ব্যাগপত্র নিয়ে যাত্রা করবেন।
■ আপনার হজ্জ এজেন্সির পরিকল্পনা অনুসারে আপনার যদি প্রথমে মক্কায় যান তাহলে ঢাকার বাসা থেকে বা হজ্জ ক্যাম্প থেকে শুধু ইহরামের কাপড় পরে নিবেন, যাকে সাধারণভাবে বলা হয় 'ইহরাম বাঁধা'। তবে এখন উমরাহ শুরু করার কোন মৌখিক স্বীকৃতি দেওয়া বা নিয়ত করা এবং কোন তালবিয়াহ পাঠ করবেন না। কেননা ইহরাম অবস্থা শুরু হওয়া তথা ইহরামের বিধিবিধান প্রযোজ্য হওয়া শুরু হবে যখন মীকাত এর কাছাকাছি পৌঁছাবেন এবং মৌখিক স্বীকৃতি দিয়ে তালবিয়াহ পাঠ শুরু করবেন, যাকে মূলত বলা হয় 'ইহরাম করা'। রাসূল (সঃ) মীকাতের কাছাকাছি পৌছানোর পূর্বে ইহরাম বাঁধেন নাই ও তালবিয়াহ পাঠ করেন নাই। বুখারী-১৫২৫
■ আপনি যদি প্রথমে মদীনায় যান তাহলে ইহরামের কাপড় পরিধান করার দরকার নেই। সাধারণ কাপড় পরিধান করে যাবেন। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ হজ্জযাত্রী প্রথমে মক্কা যান ও উমরাহ পালন করেন তাই এখানে ধরে নিচ্ছি আপনি প্রথমে মক্কায় যাচ্ছেন।
■ আর যারা বছরের যে কোন সময় শুধু উমরাহ আদায় করবেন তারাও একই ধরনের ইহরাম করার প্রস্তুতি নিবেন। একটি বিষয়; যারা জীবনে প্রথম উমরাহ করতে যাচ্ছেন তাদের উচিত হবে একজন গাইড বা ইতিপূর্বে হজ্জ-উমরাহ করা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কাউকে সাথে নিয়ে প্রথম উমরাহ করতে যাওয়া অথবা ভালো মতো বই পড়ে ও সবকিছু জেনে বুঝে একা যাওয়া। আপনি একা যতই ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরা ট্রাভেলর হন না কেন এই দুনিয়া কিছুটা ভিন্ন।
■ এমন অনেক উমরাহযাত্রীদের অভিজ্ঞতা শুনেছি যারা প্রথমে একাকী গিয়ে সবকিছু ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন নাই, ঠিকমতো উমরাহও করতে পারেন নাই। এখানের ৫ স্টার হোটেল মানে যে এক রুমে ৪/৫ সিঙ্গেল বেড থাকে ও রুম শেয়ার করা লাগে তা অনেকেই জানতেন না। এখানে অনেকে ইংরেজী ভালো বোঝে না এবং কথা বলতে পারে না।
■ উমরাহ যাত্রীদের জ্ঞাতার্থে একটি বিষয় বলছি; এমন উমরাহ প্যাকেজ নিবেন না যেখানে ঢাকা টু মদিনা যেতে ঢাকা-জেদ্দা বিমানে ফ্লাই করে ফের জেদ্দা-মদিনা গাড়িতে/বাসে যাওয়া লাগে, তাহলে আপনাকে প্রায় ১৬-১৮ ঘন্টা কষ্টকর ভ্রমণ করতে হবে। তেমনি আবার মদিনা-জেদ্দা গাড়িতে/বাসে এসে জেদ্দা টু ঢাকা ফ্লাই করা লাগে। ঢাকা থেকে আগে মদিনা গেলে ঢাকা টু মদিনা ডিরেক্ট ফ্লাইট দিতে বলবেন। আর মদিনা থেকে ঢাকা রিটার্ন হলে এমনই ডিরেক্ট ফ্লাইট দিতে বলবেন। এমন করেই যেন ট্যুর প্লান করা হয়。