📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড 📄 হজ্জ সফর সামগ্রীর চেকলিস্ট (পুরুষ ও মহিলা)

📄 হজ্জ সফর সামগ্রীর চেকলিস্ট (পুরুষ ও মহিলা)


পরিধেয় কাপড় সামগ্রী:
১. পুরুষের সাদা ইহরাম কাপড় (সুতি/টাওয়েল) - ২ সেট
২. ইহরাম কাপড় বাঁধার কোমর বেল্ট - ১ টি
৩. পাঞ্জাবী/জুব্বা এবং পায়জামা/ট্রাউজার প্যান্ট (টাখনুর উপর) - ৪/৫ সেট
৪. মহিলাদের পাতলা সুতি সালওয়ার-কামিজ জামা/ম্যাক্সি - ৪/৫ সেট
৫. মহিলাদের বুরকা/জিলবাব ও হিজাব/খিমার - ৩/৪ টি
৬. পুরুষদের টি-শার্ট/হাফ হাতা গেঞ্জি - ২/৩ টি
৭. লুঙ্গি - ২/৩ টি
৮. সেন্ডু গেঞ্জি - ৪/৫ টি
৯. আন্ডারওয়্যার/জাঞ্জিয়া - ৩/৪ টি
১০. গামছা/পাতলা টাওয়েল - ১/২ টি
১১. সেন্ডেল (ইহরামকালীন ২ ফিতা ও অন্য সময়ে চামড়ার সেন্ডেল) - ২ জোড়া
১২. মহিলাদের লেডিস ন্যাপকিন ও পায়ের ছোট মোজা

আনুষাঙ্গিক মিশ্র সামগ্রী:
১৩. নূন্যতম ১৫০০ সৌদি রিয়াল ও কয়েক হাজার বাংলাদেশী টাকা
১৪. বড় চাকাযুক্ত ট্রাভেল ব্যাগ (২৬/২৮ ইঞ্চি সাইজ) - ১ টি
১৫. স্কুল ব্যাগ/ছোট কাঁধ ব্যাগ - ১ টি
১৬. নাইলনের দড়ি (৭-৮ গজ) (কাপড় শুকানো ও ব্যাগ বাঁধার জন্য) - ১ পিস
১৭. ছোট ছাতা ও চশমা (এক্সট্রা) - ১ টি
১৮. ছোট সাইজ বেড শীট - ১ টি
১৯. মেলামাইন প্লেট ও গ্লাস/মগ - ১ টি
২০. প্লাস্টিক বক্স/মেলামাইন বাটি - ২/৩ টি
২১. স্টিল চামচ/ওয়ান টাইম চামচ - ২/৩ টি
২২. কাপড় ঝুলানোর হ্যাঙ্গার/কাপড়ের ক্লিপ - ৪/৫ টি
২৩. বল সাবান/মিনি ডিটারজেন্ট প্যাকেট - ১/৭ টি
২৪. ওডোনিল/এয়ারফ্রেসনার ও মার্কার পেন - ১ টি
২৫. কিছু ১ ইঞ্চি স্টার স্ক্রু ও ছোট স্ক্রু ড্রাইভার (দড়ি টাঙ্গানোর জন্য) - ৪/৫ টি
২৬. নেইল কাটার ও রেজার/ট্রিমার - ১ টি
২৭. ছোট তালা-চাবি ও সুই-সুতা - ১ টি
২৮. কেঁচি ও চাকু/ছুরি - ১ টি
২৯. ছোট ডায়েরী ও কলম - ১/২ টি
৩০. সেফটিপিন ও ছোট কাপড়ের/পলিথিন ব্যাগ - ৪/৫ টি

প্রসাধন সামগ্রী:
৩১. সাবান (ছোট/বড়) ও সাবান কেস - ১/২ টি
৩২. তেল, শ্যাম্পু, লিপজেল, সানস্ক্রিন, পাউডার - ১ টি
৩৩. বডিলোসন/ভ্যাসলিন - ১ টি
৩৪. আতর/পারফিউম - ১/২ টি
৩৫. চিরুনি ও টয়লেট টিস্যু - ১/২ টি
৩৬. পেস্ট ও ব্রাশ/মিসওয়াক - ১ টি
৩৭. কটনবার, টুথপিক - ২০ টি

খাদ্য সামগ্রী:
৩৮. বিস্কুট, চানাচুর, চিড়া, গুড়, বাদাম
৩৯. আঁচার, আদা, টি ব্যাগ, চিনি

ঔষধ সামগ্রী:
৪০. ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী পুরো সফরের ঔষধ
৪১. অ্যান্টিবায়োটিক জ্বর-কাশি (এজিথ্রোমাইসিন/সিপ্রোফ্লক্সাসিন) - ১/২ পাতা
৪২. জ্বর এবং সর্দি ও কাশি এর ঔষধ - ১/২ পাতা
৪৩. শরীর ও কোমর ব্যথা এর ঔষধ - ১/২ পাতা
৪৪. এসিডিটি ও পাতলা পায়খানা এর ঔষধ - ১/২ পাতা
৪৫. এলার্জি এর ঔষধ - ১/২ পাতা
৪৬. ফাঙ্গাস/ব্যাকটেরিয়া ক্রিম - ১ টি
৪৭. ইনসুলিন ও ইসবগুল
৪৮. স্যালাইন ও গ্লুকোজ - ৮/১০ টি
৪৯. তুলা ও ব্যান্ডেজ - ১ টি
৫০. ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার মাপা মেশিন - ১ টি

ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী:
৫১. স্মার্ট মোবাইল ফোন ও চার্জার - ১ টি
৫২. অতিরিক্ত একটি মোবাইল ফোন ও চার্জার (যদি নষ্ট/হারিয়ে যায়) - ১ টি
৫৩. পাওয়ার ব্যাংক - ১ টি
৫৪. মিনি সাইজ ওয়াটার হিটার (চা এর পানি গরম) - ১ টি
৫৫. এয়ার ফোন/হেড ফোন - ১ টি
৫৬. ইউএসবি মিনি ফ্যান - ১ টি
৫৭. ইউনিভার্সাল মাল্টিপিন কনভার্টার (ফ্ল্যাট ও গোল ২/৩ পিন) - ১ টি
৫৮. মোবাইল অ্যাপস: imo, athan, Messenger, হজ গাইড

■ একটি সাধারণ পরামর্শ হলো: আপনার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, হজ্জ আইডি নম্বর, মুয়াল্লিম নাম ও নং, যোগাযোগের মোবাইল নম্বর আপনার সকল ব্যাগে ইংরেজিতে মার্কার পেন দিয়ে বড় করে লিখে রাখবেন।
■ যারা শুধু উমরাহ করতে যাবেন তাদের এতো বিশদ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। সাধারণত উমরাহ সফর ১০-১৫ দিনের জন্য হয়। সেই হিসাবে উপরের লিস্ট থেকে প্রয়োজন মতো কিছু কম প্রস্তুতি নিলে আশা করা যায় হয়ে যাবে।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড 📄 হজ্জ/উমরায় যাওয়ার সময় যেসব পরিহার করবেন

📄 হজ্জ/উমরায় যাওয়ার সময় যেসব পরিহার করবেন


* শরীরে কোন প্রকার তাবিজ, কবজ থাকলে কিংবা গণক/জ্যোতিষ বা মাজার/দরগা বা কারো কাছ থেকে পাওয়া রোগ/ভয়/বিপদমুক্তির গলার ফিতা, হাতের ফিতা, পাথর আংটি থাকলে তা খুলে ফেলুন। কারণ এগুলো সব শিরক।
* টিনের ট্রাঙ্ক, ভারী স্যুটকেস, ভারী কম্বল, পানির বালতি, বদনা ইত্যাদি সাথে নেওয়া ঠিক হবে না।
* পুরুষরা সিগারেট, জর্দা, গুল, স্বর্ণের আংটি, স্বর্ণের চেইন, ব্রেসলেট (সবই হারাম) সঙ্গে নিবেন না। অলংকার নারীর ভূষণ, পুরুষের নয়।
* রান্না করা খাবার ও পচনশীল অথবা গলে যেতে পারে এমন খাবার যেমন কলা, চকলেট, দুধ ইত্যাদি সাথে না নেওয়া।
* পুরুষরা সিল্কের পাঞ্জাবী, টকটকে লাল ও হলুদ রং, গেরুয়া রংয়ের কাপড় নিয়ে যাবেন না কারণ এগুলো পরিধানের বিষয়ে ইসলামী শরীয়তে নিষেধ আছে।
* মহিলারা শাড়ি পরে যাওয়া পরিহার করা উত্তম। ভারী অলঙ্কার সঙ্গে নিবেন না, হালকা কিছু গহনা পরতে পারেন।
* মহিলারা কোন প্রকার সুগন্ধি নিয়ে যাবেন না। মহিলাদের সুগন্ধি মেখে মসজিদে যাওয়া ও ঘরের বাইরে চলাচল করা নিষেধ ও বড় গুনাহের কাজ।
* আভিজাত্য ও ভাবগাম্ভীর্য প্রকাশ পায় এমন আকর্ষণীয় পোশাক সাথে না নিয়ে যাওয়া উত্তম। সাধারণ পোশাক পরে থাকা উত্তম।
* সেলফী স্টিক, প্রফেশনাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা সাথে না নেওয়া ভালো, কারণ এতে আপনার ইবাদতের মনসংযোগ নষ্ট হবে।
* চুলে কালো কলপ ব্যবহার করে, কৃত্রিম চুল বা পরচুলা পরে যাওয়া যাবে না। এগুলো ব্যবহার করা সম্পূর্ণরুপে হারাম।
* বড় ধাতব জাতীয় ও তরল পদার্থ যেমন নখ কাটার মেশিন, কেঁচি, চাকু, বডিস্প্রে, লোসন, পাওয়ার ব্যাংক ইত্যাদি মেইন বড় লাগেজে রাখবেন।
* সাথে কোন প্রকার ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না।
* কোন প্রকার মাদক দ্রব্য সাথে থাকলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড 📄 হজ্জ ও উমরার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত

📄 হজ্জ ও উমরার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত


■ দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে মক্কা-মদীনা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হজ্জ ও উমরাহর রীতিনীতি মৌখিক ও লিখিত আকারে মানুষের কাছে পৌছেছে। দুঃখের বিষয় হলো এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে কিছু লোক হজ্জের কিছু রীতিনীতির মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এটা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
■ কিছু মানুষ মক্কা-মদীনার প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার কারণে বিভিন্ন মনগড়া বিশ্বাস বা দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করেছে যা ইসলামি শরীয়াহ সম্মত নয়। কেউ কেউ হজ্জ ও উমরাহর কিছু রীতিনীতি ভুলভাবে বা তাদের মন মতো বুঝেছে এবং তারা তাদের সেই বোধ থেকেই হজ্জের রীতিনীতি পালন করছে। অনেকে হজ্জের সহজ বা হালকা কোন বিষয়কে অতি ভক্তির দরুন কঠিন ও শক্ত করে দিয়েছে। অনেকে আবার বেশি পরহেজগারিতার দরুন হজ্জের পদ্ধতিতে নতুন কিছু দু'আ যোগ করেছে। সাধারণদৃষ্টিতে দেখলে এসব রীতিনীতি সব সঠিক ও সব ভালো আমল বলে মনে হবে এবং কোন ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
■ কিন্তু কথা হলো; কেন এসব ভ্রান্ত রীতি বা অতিরিক্ত রীতি পালন করবেন? রাসূল (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জে যা যা করেছেন তার থেকে বেশি কিছু করে আপনি কি বেশি সাওয়াব অর্জন করতে পারবেন বলে মনে করেন? রাসূল (ﷺ) যেভাবে যা করেছেন এবং যা করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন সে সম্পর্কে যতটুক শুদ্ধ ভাবে জানা যায় ততটুকুই জ্ঞান অনুসারে আমল করাই কি উত্তম নয়? আপনি কি জানেন, ইবাদতে বা আমলে নতুন রীতি তৈরি অথবা নতুন কিছু যোগ করার ফলে আপনার ইবাদতই বাতিল হয়ে যেতে পারে; কেননা তা বিদআত!
■ এখন প্রশ্ন আসতে পারে; রাসূল (ﷺ) এর হজ্জের নিয়ম-কানুন আমি কোথায় পাবো বা কিভাবে জানবো? উত্তর সহজ: বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ-র হজ্জ অধ্যায়ের হাদীসগুলো পড়ুন। সব হাদীসগ্রন্থ এখন বাংলায় অনুবাদ হয়ে গেছে। যদি সব হাদীস পড়ার মতো যথেষ্ট সময় না পান বা সকল হাদীস বই না থাকে তাহলে নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত আলেমদের হাদীসের বিশুদ্ধ দলিলভিত্তিক লেখা বই পড়ুন। কয়েকটি বই পড়ে যাচাই করুন। হজ্জের শুদ্ধ রীতিনীতির সবকিছুই বিভিন্ন বই থেকে পেয়ে যাবেন।
■ আরবের আলেমগণ যুগযুগ ধরে হজ্জ ও উমরাহর বিষয়ে বহু কিতাব লিখে যাচ্ছেন এবং হজ্জ ও উমরাহ করতে আসা আল্লাহর মেহমানদের কাছে বিনয়ের সাথে এসব ভুলত্রুটি ও বিদ'আত বিষয়গুলো তুলে ধরছেন এমনকি বিনামূল্যে বই বিতরণ করছেন এগুলো সংশোধন করার জন্য। আল্লাহ তাআলা যাকে হেদায়েত করছেন সে সংশোধন হচ্ছে আর যে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে চলেছে সে সন্দেহে পতিত হয়ে তার মতোই ভুলত্রুটি ও বিদ'আত করে যাচ্ছে।

রাসূল (ﷺ) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, "তোমরা হজ্জের নিয়ম-কানুন শিখে নাও আমার কাছ থেকে”। (মুসলিম-৩০২৮)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, "আমি যখন তোমাদের কোন কাজের আদেশ দেই তখন তা তোমরা সাধ্যানুযায়ী পালন করো। আর যখন কোন কাজ করতে নিষেধ করি, তখন তা পরিত্যাগ করো"। (নাসাঈ-২৬১৯)

মুহাম্মাদ (ﷺ) আরও বলেছেন, "যে দ্বীনের মধ্যে এমন কাজ করবে যার প্রতি আমার নির্দেশনা বা অনুমোদন নাই তা প্রত্যাখ্যাত (বাতিল)"। (বুখারী-২৬৯৭)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, "সর্বোত্তম কালাম হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ নির্দেশনা হলো মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত (বিদআত) বিষয়”। (বুখারী-৭২৭৭)

রাসূল (ﷺ) বলেন, "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতানৈক্য দেখতে পাবে। তোমরা (দ্বীনের) নবপ্রচলিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাকো। কেননা নতুন বিষয় (বিদআত) গোমরাহী বা পথভ্রষ্টতা। তখন তোমরা আমার ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো এবং তদানুযায়ী অবিচল থাকো। তোমরা সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁতের সাহায্যে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর"। (তিরমিযী-২৬৭৬)

মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, "সাবধান, দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা তোমাদের পূর্বে ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি তাদের ধ্বংস করেছে"। (নাসাঈ-৩০৫৭)

আল্লাহ তাআলা বলেন, "আজ তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামতও পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকেই মনোনিত করলাম"। (সুরা আল মায়েদাহঃ ৫:৩)

ইসলামের যে কোনো ইবাদাত ও আমল রাসূল (ﷺ) এর কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে। কারো নতুন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করার কোন সুযোগ ও অধিকার নেই। আমাদের শুধু রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ তথা কর্মপদ্ধতি পদে পদে অনুসরণ করা দরকার।

এই বইয়ে হজ্জ ও উমরাহর বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ ভুলত্রুটি ও বিদ'আত বিষয়গুলো সংযোজন করেছি কারণ এগুলো আলাদাভাবে উল্লেখ না করলে হজ্জযাত্রীরা এগুলোকে হজ্জ ও উমরাহর সাধারণ রীতিনীতি হিসাবে মনে করতে পারেন। এই ভুলত্রুটি ও বিদ'আত বিষয়গুলো ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ এর 'হজ্জের সাথে সংশ্লিষ্ট আকীদাগত ভুল-ভ্রান্তিসমূহ' বই এবং শাইখ মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানীর 'আহায্যকা সাহিহুন' (আপনার হজ্জ শুদ্ধ হচ্ছে কি?) ও Innovations of Hajj, Umrah & Visiting Madinah বই থেকে সংকলন করেছি।

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড 📄 হজ্জ যাত্রার পূর্বে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত

📄 হজ্জ যাত্রার পূর্বে প্রচলিত ভুলত্রুটি ও বিদ‘আত


* হজ্জ যাত্রার আগে মিলাদ দেওয়া, সংবর্ধনা দেওয়া, মিষ্টি বিতরণ করা, এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে কান্নাকাটি করা।
* হজ্জে যাওয়ার সময় আযান দেয়া বা সঙ্গীত বাজানো বা গজল গাওয়া।
* সুফীদের মতো 'এক আল্লাহকে সঙ্গী করে' একাই হজ্জ যাত্রায় রওনা হওয়া।
* সফর শুরু করার পূর্বে বিভিন্ন মানব রচিত দুআ পড়া যা হজ্জের অংশ মনে করা।
* হজ্জ সফরে বের হওয়ার আগে দরগা/মাজার যিয়ারত করে বের হওয়া বা ওলীবাবা/পীরবাবার দুআ বা আর্শিবাদ নিয়ে বের হওয়া।
* একজন মহিলা হজ্জযাত্রী কোনো অনাত্মীয়কে ভাই বা ধর্মের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে মাহরাম করা।
* নারীর ক্ষেত্রে কোনো একটি মহিলা দলের সঙ্গে মাহরাম ছাড়াই হজ্জে যাওয়া এবং একইভাবে এমন কোনো পুরুষের সঙ্গে গমণ করা যিনি পুরো মহিলা দলের মাহরাম হিসেবে নিজেকে দাবি করেন।
* এ কথা মানা যে, হজ্জের পরিপূর্ণতা হচ্ছে নিজ ঘরে ইহরাম বাঁধা।
* হজ্জ যাত্রার নিয়ম মনে করে যাত্রা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে ২ রাকাআত নফল স্বলাত পড়া এবং ১ম ও ২য় রাকাআতে সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস নির্ধারিতভাবে তেলাওয়াত করাকে হজ্জের নিয়ম মনে করা। তবে যে কোন সফরে বের হওয়ার পূর্বে নফল স্বলাত পড়ে বের হওয়া সুন্নাত।
* হজ্জ যাত্রার পূর্ব মুহূর্তে অথবা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোর পর উচ্চস্বরে যিক্র করা এবং উচ্চস্বরে আল্লাহু আকবার ধ্বনি তোলা।
* এ কথা বিশ্বাস করা যে, পায়ে হজ্জ করার সওয়াব ৭০ হজ্জ আর বাহনে হজ্জ করলে ৩০ হজ্জের সওয়াব।
* প্রতি যাত্রাবিরতিতে দুই রাকাআত স্বলাত আদায় করা এবং এই কথা বলা, (হে আল্লাহ তুমি আমার জন্য এই যাত্রাবিরতির স্থানকে তোমার আশির্বাদপুষ্ট কর এবং তুমিই উত্তম আশ্রয়দাতা।)
* প্রচলিত জাল হাদীস নিজের পিতা-মাতার দিকে স্নেহ ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকালে এক হজ্জের সমান নেকী পাওয়া যায়।
* হজ্জে গিয়ে যদি আর ফেরা না হয় তাই যাওয়ার পূর্বে কোন ওয়ারীসকে সম্পত্তির কোন অংশ অগ্রীম লেখে দিয়ে যাওয়া।
* কিছু দেশের লোকেরা হজ্জে যাওয়ার আগে চেহারায় বা শরীরে উল্কি আকায় যাতে কোন ক্ষতি না হয় বা কোন নজর না লাগে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px