📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 শিল্প এবং সর্পিল বস্তুর কারুকার্য [আরাবেস্ক]

📄 শিল্প এবং সর্পিল বস্তুর কারুকার্য [আরাবেস্ক]


শৈল্পিক কিছু ডিজাইনে নজর দিতে পারেন, চোখের পলক ফেলার সাথে সাথে আপনার চোখে ধরা পড়বে ভিন্ন ভিন্ন আকার ও অবয়ব। এ ধরনের জ্যামিতিক শিল্প শুদ্ধ গণিত ও দূরত্ব শিল্পের এক সংমিশ্রণ - যেন আকার ও পুনরাবৃত্তিময় বিন্যাসের পারস্পরিক ক্রিয়া চলছে। মানুষের অবয়ব না থাকলেও জটিল এসব ডিজাইন বয়ে চলা রেখার সমন্বয়ে গঠিত। তাকানোর সাথে সাথে এসব ডিজাইন বদলে যাচ্ছে মনে হবে, এ ধরনের কারিশমা মূলত গভীর চিন্তা ও আধ্যাত্মিক মনসংযোগকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে; এসব কারণে এগুলো মসজিদে বেশ ভালোভাবেই মানানসই ছিল।

চিত্রাঙ্কনে নবী মুহাম্মদ (সঃ) মানুষ ও জীবজন্তুর অবয়ব ব্যবহারের বিরোধী ছিলেন। কেননা তিনি চাননি ধর্মান্তরিত হওয়ার সময় মুসলিমদের মনোযোগ আল্লাহ হতে সরে গিয়ে মূর্তি, প্রতিকৃতি কিংবা বস্তুগত দুনিয়া উপাসনার মতো ইসলাম পূর্ব কালচারের দিকে ঝুঁকে পড়ুক।

এর ফলশ্রুতিতে জ্যামিতি মুসলিম বিশ্বের প্রধান শিল্পে পরিণত হয়। শিল্পীগণ নিজেদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে উজাড় করে সম্পূর্ণ নতুন এক শিল্পের সৌধ নির্মাণ করে, যা সর্পিল কারুকার্যময় নকশা বা অ্যারাবেস্ক (Arabesque) নামে পরিচিত। মূলত এটা জ্যামিতিক শিল্পেরই একটি নয়া ধারার বিকাশ। সর্পিল কারুকার্যময় নকশা এক ধরনের বিন্যাস, যেখানে অনেকগুলো একক (বা ইউনিট) সংযুক্ত হয়ে একত্রে মিশে যায়। সবগুলো একক অন্যদের থেকে উদ্ভূত হয়ে সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি স্বাধীন একক নিজে থেকেই সম্পূর্ণ এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হলেও সবগুলো একক সংযুক্ত হয়ে সামগ্রিক কাঠামোর একটি অংশ গঠন করে। দ্বিমাত্রিক এই ডিজাইনগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছাদ, দেয়াল, কার্পেট, আসবাবপত্র ও বস্ত্রাদির উপরিতল সজ্জিত করতে ব্যবহৃত হতো।

তোপকাপি স্ক্রল হলো জটিল এই শিল্পের সবচেয়ে চমৎকার একটি নিদর্শন, যা অতি সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে আবিষ্কৃত হয়েছে। তোপকাপি স্ক্রলটিতে দেয়ালের উপরিতল ও খিলানের জন্য ১১৪-টি স্বতন্ত্র জ্যামিতিক নকশা রয়েছে, যা ১৫শ শতাব্দীর শেষভাগ বা ১৬শ শতাব্দিতে পারস্যে কর্মরত এক শ্রেষ্ঠ নির্মাতার অনন্য কীর্তি। এ ধরনের কর্মের এটাই সর্বাধিক প্রাচীন নিদর্শন, যা অবিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটার আবিষ্কারের পূর্বে ইসলামী স্থাপত্য স্কুলের মাঝে সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন ছিল ১৬শ শতাব্দিতে উজবেকিস্তানের বুখারায় পাওয়া বিচ্ছিন্ন কিছু স্কুল।

পুষ্পবৃত্ত, পাতা ব্যবহার করে সর্পিল কারুকার্যময় নকশা কখনো লতা বা ফুলের সজ্জা, আবার কখনো লতাগুল্ম ও জ্যামিতিক বিন্যাসের সমন্বয়। এই ডিজাইনগুলো সমানভাবে ইউরোপীয়দের মুগ্ধ করে। রেনেসাঁ যুগ থেকে শুরু করে বারোক, রোকোকো, আধুনিক শিল্প (বিশেষ করে গ্রুটেস্ক) ও স্ট্র্যাপওয়ার্ক সবগুলো শিল্পে সর্পিল কারুকার্যময় নকশার ছাপ দারুণভাবে লক্ষণীয়।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি সর্পিল কারুকার্যময় অ্যারাবেস্ক নকশা দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন এবং জটিল এসব বিন্যাসের পিছনে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেন। ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির পরিহিত বিখ্যাত গিঁটযুক্ত ডিজাইনের আলখেল্লা, যেটা তার প্রতিকৃতিতে দৃশ্যমান, সেটার পার্শ্বদেশ ও পর্দাতে সর্পিল কারুকার্যময় অ্যারাবেস্ক নকশা দৃশ্যমান। রাফায়েলের মতো ড্যুরারও জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করেছিলেন। ১৭শ শতাব্দীর ফরাসি শিল্পী জিন বেরেনের গ্রুটেস্ক ডিজাইনে সর্পিল কারুকার্যময় নকশার উপস্থিতি দৃশ্যমান এবং ১৬শ শতাব্দীর ইতালির শিল্পীরা এটাকে আরাবেসসি (arabeschi) হিসেবে আখ্যায়িত করে।

"গাণিতিক পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে মুসলিম কারিগরগণ অসীমের ধারণা নিয়ে কী ধরনের অনুসন্ধান চালিয়েছেন, জ্যামিতিক নকশার এমন আশ্চর্যজনক সজ্জা আমাদের সামনে সেটাই তুলে ধরে।"
An Islamic History of Europe শীর্ষক বিবিসি'র প্রামাণ্যচিত্রে গ্রানাডার আল-হামরা সম্পর্কে আলোকপাত করার সময় রাগেহ উমর এ মন্তব্য করেন।

বিংশ শতাব্দীর শিল্পীদের মাঝে জ্যামিতি শিল্প দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাদের মাঝে ডাচম্যান এম. সি. এশসার অন্যতম। অনন্য ও চমৎকার কিছু শৈল্পিক সৃষ্টি উপহার দেয়ার পাশাপাশি তিনি বিস্তৃত পরিসরে গাণিতিক ধারণার প্রয়োগ ঘটান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আল-হামরা প্রাসাদে ব্যবহৃত টালি নকশা হচ্ছে তার এসব কর্মের উৎস, যেটা তিনি ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে পরিদর্শন করেন। বেশ কিছুদিন ব্যয় করে তিনি এসব নকশা অঙ্কন করেন এবং এ ব্যাপারে তার নিজের মন্তব্য এরূপ: "আমার অর্জিত জিনিসের মাঝে এটা ছিল সর্বাধিক প্রাচুর্যময়।"

সর্পিল কারুকার্যময় নকশাই যে কেবল ইউরোপে প্রবেশ করেছিল, ব্যাপারটি তেমন নয়, বরং মুসলিম বিশ্ব থেকে তৈলচিত্র আমদানির হাত ধরে ১৪শ শতাব্দিতে ইউরোপীয় শিল্পী মহলে এক গুরুত্বপূর্ণ পট পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। পূর্বে তারা কাঠের বোর্ডে ডিম, পানি, মধু ও রঙের সংমিশ্রণে তৈরি রঙিন প্রলেপ ব্যবহার করতো। তিসির বীজের দামি তৈলচিত্র ইউরোপীয় চিত্রকর্মে নাটকীয় প্রভাব ফেলে, যেহেতু এটা ফ্লেমিশ (Flemish) ও ভেনিসের চিত্রকর্মের রঙের সম্পৃক্তি বাড়িয়ে দেয়।

📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 লিপিকার

📄 লিপিকার


কী মিসরীয় হাইরোগ্লিফিক কী চীনা বা জাপানি লিপি- শোভাবর্ধক লেখনী হিসেবে এ সবগুলো লিপির রয়েছে বহু ধরন, কিন্তু আরবী ক্যালিগ্রাফি এসব লেখনী থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়েছে। ৭ম শতাব্দিতে ইসলামের বিকাশের পূর্বে ক্যালিগ্রাফির অস্তিত্ব আরবে থাকলেও মুসলিমদের হাতেই এটার উল্লেখ্যযোগ্য সমৃদ্ধি ঘটে। তারা এটাকে শিল্পে ব্যবহার করে, কখনো জ্যামিতিক কখনো প্রাকৃতিক অবয়বের সমন্বয়ে, আবার কখনো এটা রূপ নেয় ইবাদতে, যখন তা ব্যবহৃত হতো কুরআনের আয়াত চিত্রায়নে। যেহেতু কুরআন তার পাঠক ও লিপিকারদের জন্য ঐশ্বরিক পুরস্কারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত কলম-আশ্রিত ক্যালিগ্রাফি শিল্প ছিল আল্লাহকে স্মরণের এক শিল্প।

শৈল্পিক ভঙ্গিতে লেখার এই উদ্দীপনার সাথে আরেকটি চূড়ান্ত উপাদান মিলিত হয়ে ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক জনপ্রিয়তায় গতি সঞ্চার করে। আর তা হলো: (আল্লাহর বা কুরআনের) শব্দ, নাম ও বাক্যের সাথে রুহানি শক্তিকে সম্পৃক্ত করা, যেগুলোকে শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

আরবী ক্যালিগ্রাফির ভাষাটি প্রাচীন সেমেটিক ভাষার পরিবারভুক্ত এবং এটা বেশ কিছু লিপির আকারে আবির্ভূত হয়েছে, যার মধ্যে কুফি ও নাসখ বিশেষভাবে পরিচিত।

ইরাকের কুফা শহর হতে কুফি লিপির উদ্ভব। কুফা শহরের কুফি ধারার লিপিকারগণ কুরআন লেখার এই স্টাইল ব্যবহার করতেন। এই লিপিতে বর্ণগুলো কৌণিক প্রকৃতির হয়ে থাকে।

নাসখ লিপি কুফি লিপির চেয়ে প্রাচীনতর হলেও আধুনিক আরবী লেখনী ও প্রকাশনার সাথে এটার অনেকটা মিল পরিলক্ষিত হয়। এটা সংযুক্ত, টানা টানা লিপি ও বৃত্তাকার প্রকৃতির এবং এটার বেশ কিছু স্টাইল রয়েছে। ১০ম শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফি শিল্পী আবু আলী ইবনে মুকলা জ্যামিতিক নিয়মের ভিত্তিতে লিপির একটা শ্রেণিবিন্যাস উদ্ভাবন করেন। এটা বর্ণ পরিমাপের একটি একক প্রতিষ্ঠা করে, যার সাহায্যে বিভিন্ন বর্ণের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়। তিনি ছয়টি কৌণিক লিপির হিসেব করেন, যেগুলো আল-কালাম আস-সিত্তা হিসেবে পরিচিতি পায়। অটোমানদের দ্বারা বিকশিত নাসখ ক্যালিগ্রাফি কুফি স্টাইলের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

কাহিনী: হাই ইবনে ইয়াকযান-এর রহস্য
১২শ শতাব্দির মুসলিম স্পেনে ইবনে তুফায়েল নামে পরিচিত সহজাত প্রতিভাসম্পন্ন এক দার্শনিক, গণিতবিদ, কবি ও চিকিৎসকের জন্ম হয়। আবু বকর ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তুফায়েল আল-কায়সী তার পূর্ণ নাম, পশ্চিমে যিনি আবুবাকের নামে পরিচিত। আন্দালুসের আলমোহাদ সাম্রাজ্যের শাসক আবু ইয়াকুব ইউসুফের উপদেষ্টা ও রাজসভার চিকিৎসকের মতো রাজকীয় পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন। হাই ইবনে ইয়াকযান উপন্যাসের জন্য বর্তমানে তিনি সমধিক পরিচিত, যার মূল পাণ্ডুলিপি এখন অক্সফোর্ডের বডলিয়ান লাইব্রেরিতে রয়েছে। এই উপন্যাস একই নামের পূববর্তী আরেকটি উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত, যা এক শতাব্দি পূর্বের তথা ১১শ শতাব্দির চিকিৎসক-দার্শনিক ইবনে সীনা রচনা করেন এবং তিনিও তার উপন্যাসের নাম রেখেছিলেন হাই ইবনে ইয়াকযান। কিন্তু ড্যানিয়েল ডেফো কর্তৃক রচিত Life and Strange Adventures of Robinson Crusoe গ্রন্থটি কি এই উপন্যাসকে অবলম্বন করে রচিত?

হাই ইবনে ইয়াকযান-এর অর্থ: 'সদাজাগ্রতের পুত্র, জীবিত' অর্থাৎ এটা 'সদাজাগ্রতের পুত্র জীবিতের গল্প', যেখানে ঘুমন্ত শৈশব থেকে হাই চরিত্রটির জ্ঞানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যে জ্ঞান দিয়ে সে দুনিয়া ও তার চারিপাশ সম্পর্কে পূর্ণরূপে চিন্তা করতে সক্ষম হয়।

এক রাজকন্যার শিশু পুত্র হাই-এর মাধ্যমে গল্পটির সূচনা, যার জন্ম গোপন ছিল। তাকে নিরক্ষীয় একটি দ্বীপে ফেলে আসা হয়, যেখানে একটি হরিণী তাকে দুধ পান করায়। এখানে সে তার জীবনের প্রথম ৫০ বছর কোনো মানুষের সাক্ষাত ছাড়াই পার করে। তার এই নির্বাসনকাল সাত বছর করে সাতটি পর্যায়ে অতিবাহিত হয়। সাত বছরের প্রতিটি পর্যায়ে সে নিজেই তার শিক্ষক এবং নিজে নিজে সে তার নিজ ও চারপাশ সম্পর্কে জানতে থাকে।

হাই ইবনে ইয়াকযান-এর প্রথম ইংরেজি অনুবাদ ১৭০৯ খ্রিস্টাব্দে সম্পন্ন হয়। ১১ বছর পরে ড্যানিয়েল ডেফোর বিখ্যাত বইটি প্রকাশিত হয়। ডেফোর সমসাময়িক অনেকে বলেন, জুয়ান ফার্নান্দেস দ্বীপে চার বছরের বেশি সময় কাটিয়ে আসা স্কটল্যান্ডের নাবিক আলেকজান্ডার সেলকার্কের অভিজ্ঞতার আলোকে ডেফো তার গল্প দাঁড় করান। কিন্তু Robinson Crusoe ও হাই ইবনে ইয়াকযান-এর মধ্যে যে ধরনের সাদৃশ্য বিদ্যমান, তা থেকে এটা সহজেই অনুমেয় যে, ডেফো খুব সম্ভবত মুসলিম এই কীর্তি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। দ্বীপে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে একাকী দিনযাপনের নিদারুণ কষ্ট এবং টিকে থাকার সংগ্রাম থেকে শুরু করে বহু বিষয়েই Robinson Crusoe ও হাই ইবনে ইয়াকযান-এর মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য দৃশ্যমান।

কাগজ প্রচলনের পূর্বে কুরআন নকল করা, পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করা এবং এ জাতীয় কাজের জন্য প্রধান অবলম্বন ছিল চামড়ার পাণ্ডুলিপি ও প্যাপিরাস। চামড়ার পাণ্ডুলিপি টেকসই, দ্যুতিময় ও ব্যয়বহুল হলেও এটার একটি পাশই ব্যবহার উপযোগী। প্যাপিরাস ভঙ্গুর প্রকৃতির এবং সেখানে যা লেখা হতো, তা মুছে ফেলা যেত না, ফলশ্রুতিতে সরকারি নথি সংরক্ষণে এটা বিশেষভাবে ব্যবহৃত হতো। উভয়টি বেশ দামী হওয়ায় যখন এদের সন্তা বিকল্প হিসেবে ৮ম শতাব্দির শেষভাগে চীন থেকে কাগজ উৎপাদনের কলা-কৌশল আয়ত্ত করে মুসলিমরা ব্যাপক হারে কাগজ উৎপাদন শুরু করে, তখন লেখার শিল্প এক নয়া যৌবন লাভ করে।

মুসলিম ও ইউরোপীয় রাজসভার সদস্যদের মধ্যে উপহার আদান-প্রদানের পথ ধরে ইউরোপ আরবী ক্যালিগ্রাফির সংস্পর্শে আসে। প্রথম দিকে, ইউরোপীয়রা আরবী ক্যালিগ্রাফিতে কী লেখা আছে, তা না জেনেই সেটার অনুকরণ করতো। ৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে মিশরে নির্মিত ইবনে তুলুন মসজিদের কুফি লিপিতে অঙ্কিত শিলালিপি প্রথমত ফ্রান্সের গথিক শিল্পে নতুনভাবে বানানো হয় এবং এরপর ইউরোপের অন্যান্য অংশে তা ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষ ভাস্কর গ্যান ফ্রিদাসের করা ফ্রান্সের ল্য পুইয়ে অবস্থিত ক্যাসিড্রাল বা প্রধান গির্জার বারান্দাস্থ খ্রিস্টীয় ভজনালয়ের খোদাই করা কাঠের দরজা এবং ল্যু পুইয়ের নিকটস্থ ল্য ভ্যট চিলাকের গির্জার খোদাই করা দরজা - এমন কীতিগুলোও যে ইবনে তুলুন মসজিদের অনুকরণে করা, এমনটি বিবেচনা করা হয়। ইতালির আমালফির যেসব বণিক কায়রো ভ্রমণ করেছে, ধারণা করা হয় যে, ইউরোপে এসব ডিজাইনের অনুপ্রবেশের পিছনে এসব বণিকই দায়ী। যেহেতু তাদের সাথে কায়রোর ফাতিমী সাম্রাজ্যের বিশেষ সম্পর্ক ছিল।

"পড়- তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড় এবং তোমার প্রতিপালক দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানতো না।" - কুরআন (৯৬:১-৫)

Legacy of Islam গ্রন্থে প্রফেসর টমাস আরনল্ড বলেন, আয়ারল্যান্ডে ৯ম শতাব্দির একটি ক্রুশ পাওয়া যায়, যেখানে কুফি ক্যালিগ্রাফিতে বাসমালাহ (বিসমিল্লাহি - বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ) বা 'আল্লাহর নামে শুরু করছি' বাক্যটি খোদাই করা ছিল। শিল্পকলার অন্যান্য শাখা বিশেষভাবে চিত্রাঙ্কনে স্টাইলের জন্য কুফি লিপি যোগ করা হতো। লোকেরা ক্যালিগ্রাফির দিকে ঝুকে পড়ে। এমনকি ইতালীয় রেনেসাঁর চিত্রকর জেনটাইল দ্য ফ্যাব্রিয়ানো তার "Adoration of the Magi" চিত্রকর্মে জামার কিনারার শোভাবর্ধনে ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করেন। যেমনটি আমরা আজ জানি যে, কলমের পূর্বে কালাম বা নলখাগড়ার কলমসহ লেখার বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ছিল। বিপুল চাহিদাসম্পন্ন নলখাগড়াগুলো আরব উপসাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আসতো এবং এগুলো তৎকালীন সময়ে দারুণ মূল্যবান বাণিজ্যিক পণ্য ছিল। এগুলোর দৈর্ঘ্য ২৪ থেকে ৩০ সেন্টিমিটারের (৯.৫ ও ১১.৮ ইঞ্চির) মাঝে ছিল এবং সাধারণভাবে এগুলোর ব্যাসের পরিমাপ এক সেন্টিমিটার (০.৪ ইঞ্চি) হতো। প্রতিটি লিপির স্টাইলের জন্য নির্দিষ্ট কোণে কাটা ভিন্ন ভিন্ন নলখাগড়ার প্রয়োজন হতো।

কালো ও ঘন বাদামি কালি প্রায়শ ব্যবহৃত হলেও বিভিন্ন ধরন ও রঙের কালি ছিল, যেগুলোর প্রতিটির তীব্রতা ও ঘনত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। ক্যালিগ্রাফি শিল্পীগণ সাধারণত নিজেরাই তাদের কালি তৈরি করতো এবং কখনো কখনো কালি তৈরির এসব রেসিপি তারা সযত্নে গোপন রাখতো। নীল চামড়ার লেখনী বস্তু, প্রচ্ছদ পাতা, চিত্র এবং শিরোনাম পাতাতে রুপা ও স্বর্ণের কালি ব্যবহৃত হতো। লাল, সাদা ও নীল কালিগুলো মাঝে মাঝে রঙিন শিরোনামে ব্যবহৃত হতো। কালি শুকানোর জন্য ক্যালিগ্রাফি শিল্পীগণ কালি পাত্র, পালিশ করা পাথর ও বালুকে বাড়তি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

কলম তৈরীর কাহিনী
৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে মিশরের সুলতান আল-মুয়িজ্জের বিশিষ্ট সাংবাদিক, অন্তরঙ্গ বন্ধু ও সহচর "কিতাবু মাজালিস ওয়াল মাসায়ারাত” (শ্রোতা ও সম্মেলন বিষয়ক পুস্তক) রচনা করেন। রাজার অন্তরঙ্গ এই সহচরের পুরো নাম কাযী আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে মুহাম্মদ। তার রচিত এই গ্রন্থে তিনি ঝরনা-কলম তৈরির জন্য আল-মুয়িজ্জের নির্দেশ প্রদানের ঘটনাটি তুলে ধরেন:
"আমরা এমন একটি কলম তৈরি করতে চাই, যেটা কোনো দোয়াতের সাহায্য ছাড়াই লিখে যাবে এবং যার কালি তার ভিতরেই মজুদ থাকবে। কলমটি কেবল কালি দিয়ে পূর্ণ করা হবে এবং তা দিয়ে যে কেউ তার ইচ্ছে মতো লিখতে পারবে। লেখক তার জামার আন্তিন বা তার ইচ্ছে মতো জায়গায় এটাকে রাখতে পারবে এবং এটা থেকে কোনো দাগ হবে না, আর না এটা থেকে কালির বিন্দু বেরিয়ে আসবে। লিখতে চাইলেই কেবল কালি বেরুবে। (এমন ধরনের কলম) পূর্বে কেউ কখনো বানিয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যে বিষয়টির প্রকৃত তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করবে, সে এর পিছনের প্রজ্ঞাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে। আমি বললাম, 'এটাও কি সম্ভব?' জবাবে তিনি বললেন, "আল্লাহ চাইলে এটা সম্ভব।"

এই ঘটনার কিছুদিন পর একজন কারিগর একটি কলম নিয়ে আসেন, কালি পূর্ণ থাকা অবস্থায় যা দিয়ে লেখা যায়। তিনি কলমটি উল্টে দিতেন, এক পাশ থেকে আরেক পাশে কাত করতেন, কিন্তু তা থেকে কালি বের হতো না। লেখা ছাড়া কলমটি কালি নিঃসরণ করতো না এবং এটা হাত বা জামাতে কোনো দাগ ফেলতো না। সবশেষে, এটার জন্য কালির পাত্র লাগতো না, যেহেতু এটার ভেতরেই কালির পাত্র আড়াল হয়ে আছে।

📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 কথা ক্ষমতা

📄 কথা ক্ষমতা


বর্ণমালার এ তালিকাটি মূলত অল্প কিছু শব্দের নমুনা, যেগুলো মুসলিম সভ্যতা থেকে এসেছে এবং ইংরেজি ভাষায় তাদের আসল অর্থ বজায় রেখে আসন গেড়েছে। এটা ছোট একটি নির্বাচিত তালিকা। প্রকৃত তালিকা তো হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

**A** দিয়ে এডমিরাল (admiral), যা আমীর আল-'... সেনাপতি' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যেমন: আমীর আল-বাহর (أمير البحر) অর্থাৎ 'সমুদ্রের সেনাপতি'। ইউরোপীয়রা যখন আমীর আল- শব্দটি গ্রহণ করে, তখন তারা এর সামনে নিজেদের লাতিন উপসর্গ এড- (ad-) সংযুক্ত করে এডমিরাল (admiral) তৈরি করে। পুরাতন ফ্রেঞ্চ ভাষা হয়ে এটা যখন ইংরেজিতে প্রবেশ করে, তখনও এটার অর্থ 'সেনাপতি' ছিল। ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সময় হতে এর সাথে নৌযুদ্ধের প্রগাঢ় সম্পর্ক জুড়তে শুরু করে। A দিয়ে আরেকটি শব্দ আর্সেনাল (arsenal), যা দার আস-সিনা'আ (دار الصناعة) হতে এসেছে, যার অর্থ: 'কারখানা / ইন্ডাস্ট্রি', যেমন: ফ্যাক্টরি। এই শব্দ ভেনেসীয় ইতালিতে ধার করা হয় এবং প্রথম অক্ষর 'd' উচ্চারিত না হওয়ায় শব্দটি আরযানা-তে (arzana) পরিণত হয়। এই শব্দ ভেনিসে বড় নৌ-ডকইয়ার্ড (জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানা) বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। আজকের দিনেও ডকইয়ার্ড শব্দটি আরযিনাল (Arzenale) হিসেবে পরিচিত। হয় ইতালীয় বা ফরাসি আরযিনাল (Arzenale) থেকে এই শব্দ ইংরেজিতে প্রবেশ করেছে এবং শব্দটিকে কেবল ডকইয়ার্ড বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়। ১৬শ শতাব্দির শেষার্ধে শব্দটির সাধারণ মর্ম 'গোলা-বারুদের গুদাম' (ammunition storehouse) হিসেবে প্রচলিত হতে শুরু করে।

**B** দিয়ে বারবিকান (barbican) এসেছে আরবী 'বাব আল-বাকারা' (باب البقارة) হতে, যার অর্থ: ছিদ্রযুক্ত ফটক বা গেট।

**C** দিয়ে ক্রিমসন (crimson) এসেছে কিরমিযি (قرمزي) হতে, যা কিরমিযের সাথে সম্পৃক্ত। C দিয়ে আরেকটি শব্দ ক্যাভিয়ার (caviar), যা সম্ভবত 'ডিম রয়েছে' অর্থবিশিষ্ট ফারসি কায়া-দার থেকে উদ্ভূত, কিংবা 'শক্তি বা বল সমৃদ্ধ কেক বা পিঠা' / 'প্রেমিকদের রুটি' অর্থ সম্বলিত চাভ-যার থেকে উদ্ভূত। এ ধরনের নাম এটার সুবিদিত কাম-উদ্দীপক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদের মতে এটা তুর্কি হাভয়ার থেকে এসেছে, যার অর্থ: 'মাছের ডিম'।

**D** দিয়ে ড্রাগোম্যান (dragoman), যেসব দেশে আরবী, তুর্কি বা ফারসি ভাষা প্রচলিত, সেখানের দোভাষী বা টুরিস্ট গাইডদের বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। শব্দটি আরবী তারজুমান এবং তারজামা (ترجم )ব্যাখ্যা করা) ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত।

**E** দিয়ে এল-সিড (El-Cid), যা ১২শ শতাব্দির স্পেনের মহাকাব্যিক কবিতার এক নায়কের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং শব্দটি 'মহামান্য' অর্থবিশিষ্ট আরবী আল-সাইয়্যেদ (السيد) হতে উদ্ভূত।

**F** দিয়ে ফোমালহুট (Fomalhaut), যা পৃথিবী থেকে ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত পাইসিস অস্ট্রিনাস (Piscis Austrinus - বাংলায় যার অর্থ দক্ষিণ মৎস) নামক নক্ষত্রপুঞ্জের অন্তর্গত একটি তারকা। এই শব্দ আরবী ‘ফাম আল-হুত’ (فم الحوت) শব্দ থেকে আগত, যার অর্থ ‘মাছের মুখ’।

**G** দিয়ে গুল (ghoul), যা আরবী গুল (غول) থেকে উদ্ভূত এবং এর অর্থ: অপদেবতা। G দিয়ে জিরাফ (giraffe)-ও হয়, যা আরবী যারাফা থেকে এসেছে।

**H** দিয়ে হ্যাযার্ড (hazard), যা আরবী নারদ (نرد) হতে উদ্ভূত এবং এর অর্থ: ‘পাশা খেলা’।

**I** দিয়ে ইযার (Izar), যা এন্ড্রোমিডা (Andromeda) নক্ষত্রপুঞ্জের একটি তারকা। এটা আরবী আল-ইযার (إزار) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: ‘আবরণ বা পর্দা’।

**J** দিয়ে জার (jar), যা আরবী জাররাহ (جرة) থেকে উৎসারিত এবং এটা বৃহৎ মাটির পাত্র বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। J দিয়ে আরেকটি শব্দ জেসমিন (jasmine), যা ফারসি ইয়াসমিন থেকে এসেছে।

**K** দিয়ে কোহল (kohl), যা আরবী কুহল (كحل) থেকে উদ্ভূত এবং যা মিহি গুঁড়া বা সচরাচর সুরমা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটা চোখের সজ্জাকরণ বা আইলাইনার (চোখের রেখাকে গাঢ় করার তুলি) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

**L** দিয়ে লাইলাক (lilac), যা আরবী লাইলাক (ليل) হতে এসেছে এবং এই শব্দ আবার ফারসি নিলাক থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: নীল। L দিয়ে আরেকটি শব্দ লেমন (lemon), যা ফারসি লিমুন থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: লেবু।

**M** দিয়ে মাফিয়া (mafia), যা ‘অহমিকা’ বা ‘চটকদার’ অর্থবিশিষ্ট আরবী মুবাহা (مُبَاهَاة) থেকে আগত। সিসিলিতে লক্ষণীয়ভাবে অলংকৃত ও অভিব্যক্তিশীল বাচ্চা মেরাগ বোঝাতে মাফিয়োসো (Mafioso) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। M দিয়ে ম্যাট্রেস (mattress)-ও হয়, যা প্রাচীন ফরাসি শব্দ ম্যাটারাস (matelas) থেকে নেয়া এবং এই ফরাসি শব্দ আরবী মাতরাহ (مطرح : যেখানে কোনোকিছু ছুড়ে ফেলা হয়) এবং তারাহা (طرح : নিক্ষেপ করা/ ছুড়া) থেকে উদ্ভূত।

**N** দিয়ে নাদির (nadir), যা অধোবিন্দু বা ভূপৃষ্ঠে দণ্ডায়মান ব্যক্তির পায়ের সোজা নীচে ভূগোলকের ওপর পৃষ্ঠের উপরিস্থিত আকাশবিন্দু। এটা আরবী নাদির আস-সামৎ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: ‘সর্বনিম্ন বিন্দু’।

**O** দিয়ে অরেঞ্জ (orange), যা ফারসি নারাঞ্জ অথবা নারাঙ্গ শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ: কমলা।

**P** দিয়ে ফারকাদ (Pherkad), উরসা মাইনর নক্ষত্রপুঞ্জের একটি তারকা, যা আরবী আল-ফারকাদ (الفرقد) থেকে এসেছে এবং এর অর্থ: বাছুর।

**Q** দিয়ে কানুন (qanun) - এক প্রকারের বাদ্যযন্ত্র। এটা হার্প (বীণাজাতীয় বাদ্যযন্ত্র) এবং যিথার (বহুতারের বাদ্যযন্ত্রের) পূর্বপুরুষ, যা ১০ম শতাব্দিতে আল-ফারাবী প্রবর্তন করেন। রোমান আমলে এটা স্বতন্ত্র বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

**R** দিয়ে দাবার গুটি রুক (rook), যা ফারসি রুখ থেকে এসেছে।

**S** দিয়ে সোফা (sofa), প্রাচীনকাল থেকে বিদ্যমান এক আরবীয় শাসকের গদি বোঝানোর জন্য শব্দটি ব্যবহৃত হতো। এটার প্রকৃত উৎস সুফ্ফাহ, যার অর্থ: লম্বা আসন বা দিওয়ান (রাজসভা)। S দিয়ে সুগার (sugar), যা আরবী সুক্কার (سكر) থেকে আগত এবং এর অর্থ: চিনি। সো লং (so long - বিদায়) এসেছে বিদায় অভিবাদন হিসেবে ব্যবহৃত সালাম শব্দ থেকে, যার অর্থ: শান্তি।

**T** দিয়ে ট্যাবি (tabby), যার অর্থ: স্ট্রাইপ বা ডোরাকাটা বিন্যাসের রেশমি জামা। এই শব্দ ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি শব্দ থেকে ধার করা হয়। ফরাসিরা তাবিস (tabis) শব্দটি ব্যবহার করতো, যা আরবী আত্তাবি (عنابي) থেকে এসেছে এবং এর অর্থ: 'আত্তাবিয়া অঞ্চলে প্রস্তুতকৃত'। আত্তাবিয়া বাগদাদের একটি শহর। ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে ট্যাবি ক্যাট (tabby cat) বাগধারাটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে এবং 'ডোরাকাটা বিড়াল' বোঝাতে বিশেষ্য হিসেবে ট্যাবি শব্দের প্রচলন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে হয়। T দিয়ে ট্যালকম পাউডার (talcum powder)-ও হয়, যা আরবী আত-তালব্ধ (الطلق) থেকে লাতিন টালকুম (talcum) হয়ে ইংরেজিতে প্রবেশ করে। ট্যালক (talc) হিসেবে মধ্যযুগীয় লাতিনে ১৩১৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে সর্বপ্রথম এই শব্দের ব্যবহার হয় এবং ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে স্পেনে ট্যালকো (Talco) এবং ফ্রান্সে ট্যাল্ক (talc) হিসেবে শব্দটির ব্যবহার ঘটে। জার্মানিতে এটার রূপ টালকুম (Talkum)।

**U** দিয়ে উনুকালহাই (Unukalhai), এটা সার্পেন্ট (Serpent - সাপ) নামক নক্ষত্রপুঞ্জের একটি তারকা, যা আরবী উনুক আল-হাইয়‍্যা (عنق الحية) থেকে উদ্ভূত এবং এর অর্থ: 'সাপের গলা'।

**V** দিয়ে ভিযিয়ার (vizier), এর অর্থ: 'দারোয়ান, সরকারি কর্মচারী', যা আরবী ক্রিয়া ওয়াযারা (وزر - তামিল করা/পালন করা) থেকে উদ্ভূত। V দিয়ে আরেকটি শব্দ ভিগা (Vega), যা লাইরা (Lyra - বীণামণ্ডল) নক্ষত্রপুঞ্জের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা, এবং এটা আরবী 'আন-নিসর আল-ওয়াকি' (النسر الواقع) থেকে এসেছে এবং এর অর্থ: 'পতনশীল শকুন'।

**W** দিয়ে ওয়াদি (wadi), উপত্যকা অথবা বর্ষাকাল ছাড়া শুকনো থাকে এমন গিরিখাত। শব্দটি আরবী ওয়াদি (وادي) থেকে এসেছে, যার অর্থ: 'উপত্যকা'।

**X** বীজগণিতে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত 'কোনো অজানা জিনিস' বোঝাতে। এটা এক আরবীয় উদ্ভাবন, যা গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়।

**Y** দিয়ে ইয়োগার্ট (yoghurt)। আসল তুর্কি শব্দটি ছিল ইয়োগুরুত (yogurut), কিন্তু ১১শ শতাব্দির দিকে শব্দটি ইয়োগার্টে পরিণত হয়। তুর্কি উচ্চারণে জি (g) শব্দটি হালকা হলেও ইংরেজি উচ্চারণে তা বেশ ভারী। তুর্কিতে ইয়োগ (yog) সাধারণত 'ঘন করা' বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং ইয়োগুর (yogur) শব্দ 'ময়দা ইত্যাদি পিষে এবং হাতে ঠেসে তাল বানানো' বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

**Z** দিয়ে যেনিথ (zenith), সর্বোচ্চ বিন্দু বা চূড়া, যা প্রাচীন স্পেনীয় শব্দ যেনিট (zenit) থেকে এসেছে। প্রাচীন স্পেনীয় শব্দটি আরবী সামত্ (سمت) হতে আগত, যার অর্থ: 'পথ বা রাস্তা'। আরবী পরিভাষা সামত্ আর-রাস (سمت الرأس)-এর অর্থ: 'মাথার উপরে থাকা পথ' অথবা একজন ব্যক্তির সোজা উপরের বিন্দু।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00