📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 ফ্যাশন এবং স্টাইল

📄 ফ্যাশন এবং স্টাইল


ফ্যাশন আসে আর যায়, কিন্তু সুন্দর ও মার্জিত রুচি কখনো ফ্যাশনহীন হয় না। আর তাই বর্তমান সময়ের জ্ব ইউরোপীয় স্টাইল ও সাজ-সজ্জার জন্ম ১২০০ বছর আগেকার ইসলামী বিশ্বের অঙ্গীভূত স্পেনে হয়েছিল, এটা জেনে অবাক হওয়ার মতো কিছুই নেই।

সঙ্গীতজ্ঞ ও শিষ্টাচার গুরু যিরইয়াব ছিলেন ৯ম শতাব্দির স্পেনের কর্ডোবার একজন ধারা প্রবর্তক ও স্টাইলের জীবন্ত কিংবদন্তী (আইকন)। "তিনি তার সাথে করে ফ্যাশন নিয়ে আসেন। ওই সময় বাগদাদ ছিল আজকের যুগের প্যারিস বা নিউইয়র্ক ... বাগদাদ থেকে স্পেন পর্যন্ত চিন্তা ও ভাবনার এক অন্তঃপ্রবাহ ছিল, যার বদৌলতে তিনি তার সঙ্গে করে দাঁতের মাজন, গন্ধনাশক ও ছোট করে চুল কাটার ধরন নিয়ে যান ... (ওই সময়ে) কর্ডোবাতে রাস্তাগুলো রাত্রি বেলায় আলোকসজ্জিত ছিল, আরও ছিল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও প্রবহমান পানি" যেমনটি লেখক জেসন ওয়েবস্টার বিবিসি নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র An Islamic History of Europe-এ যিরইয়াব সম্পর্কে রাগেহ উমরের সাথে আলাপকালে বলেন।

ইরাকের বাগদাদ ছিল মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র, যেখান থেকে যিরইয়াব সঙ্গে করে আরও নিয়ে গিয়েছিলেন খাবার টেবিলের নতুন থালাবাসন, নতুন জৌলুসময় ফ্যাশন, এমনকি তিনি দাবা ও পোলো (ঘোড়ার পিঠে চড়ে দীর্ঘ মুগুরসদৃশ লাঠিযোগে বল খেলা) পর্যন্ত সাথে করে নিয়ে যান। তিনি ছিলেন মার্জিত রুচির একজন খ্যাতিমান সারগ্রাহী ব্যক্তি যিনি নানা চিন্তা ও ভাবধারা থেকে কল্যাণকর জিনিস আহরণ করেন; এবং তার নাম আভিজাত্যের সাথে একসূত্রে গাঁথা। তিনি তার পরিমার্জিত ও বিলাসী পন্থা দ্বারা খলীফার দরবারকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন, যেখানে সাধারণ কর্ডোবাবাসী তার চুল ছোট রাখার নতুন স্টাইল অনুসরণ করতো এবং স্পেনে তার বয়ে আনা চামড়ার আসবাবপত্রগুলো তারা বেশ উপভোগ করতো।

১২০০ বছর পরে যিরইয়াব সম্পর্কে ফরাসি ঐতিহাসিক হেনরি টেরাস বলেন, "তিনি শীত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক চালু করেছিলেন এবং এসব পোশাক পরিধানের নির্দিষ্ট দিনক্ষণও তিনি ঠিক করে দিয়েছিলেন। দুই মৌসুমের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অর্ধ মৌসুমি পোশাকও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তার মাধ্যমে পূর্বের বিলাসী পোশাকগুলো স্পেনে পরিচিতি পায়। তার প্রভাবে একটি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গোড়াপত্তন হয়েছিল, যেখানে রঙিন ছাপযুক্ত বস্ত্র ও স্বচ্ছ বুননের জ্যাকেট প্রস্তুত করা হতো, যেগুলো আজও বর্তমান মরক্কোতে পাওয়া যায়।"

যিরইয়াবের এসব অর্জন তাকে এনে দেয় পরবর্তী প্রজন্মের সম্মান, আজকের দিন পর্যন্ত। মুসলিম বিশ্বে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে যিরইয়াবের নামে কোনো রাস্তা, হোটেল, ক্লাব কিংবা ক্যাফের নামকরণ হয়নি। পশ্চিম বিদ্বান ও সঙ্গীত শিল্পীরা আজও তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

মুসলিমগণ বিশেষত আন্দালুসের মুসলিমগণ জীবনযাত্রার এক অত্যাধুনিক ঢং বেছে নিয়েছিল, যা মৌসুমি প্রভাবের উপর নির্ভরশীল ছিল।

বিশেষ ধরনের খাবার বেছে নেয়া এবং নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক ও ধাতু ব্যবহার করাটা আরাম-আয়েশ ও সুখ- সমৃদ্ধি বয়ে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শীতকালের পোশাক অপরিহার্যভাবে উষ্ণ তুলা কিংবা পশমি উপাদান দিয়ে বানানো হতো এবং এগুলোর রঙ সাধারণত কালো হতো। গ্রীষ্মের পোশাক হালকা উপাদান - যেমন: তুলা, রেশম ও শন - দিয়ে তৈরি হতো এবং সেগুলো বেশ উজ্জ্বল রঙের হতো।

"শৈলী, ঐকতান, সাবলীলতা এবং উপভোগ্য তালের সৌন্দর্য নির্ভর করে সরলতার উপর।" - প্লেটো, গ্রিক দার্শনিক

আন্দালুসের মুসলিমগণ গ্রিকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ওক কাষ্ঠনির্ভর কিছু ইন্ডাস্ট্রি এবং সেইসাথে পাতলা ছালের তলাবিশিষ্ট জুতার প্রস্তুতপ্রণালীও উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করেছিল। তারা উৎপাদন কৌশলকে আরও গতিশীল ও বৈচিত্রময় করে তোলে এবং পাতলা ছালের তলাবিশিষ্ট জুতা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং এটা তাদের প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়। এই জুতাকে কুরক বলে [বহুবচন আকরাকা], যা পরবর্তীতে কাস্টালিয়াতে এসে আলকোরকে (Alcorque) পরিণত হয়। এই পণ্যের কারিগরদের কারাক বলা হতো। এমনই এক কারিগর ছিলেন সেভিলের চটিজুতা প্রস্তুতকারী সূফী আবদুল্লাহ, যেমনটি মুহিউদ্দীন ইবনে আরাবী উল্লেখ করেছেন। এই ব্যবসা পণ্যের কারিগরগণ গ্রানাডার যে এলাকায় বসবাস করতেন, সেটাকে কারাকীন বলা হতো, বর্তমানে এটা কারাকুইন হিসেবে পরিচিত।

আল-সাক্বাতী ও ইবনে আবদুন নামের দু'জন মধ্যযুগীয় মুসলিম লেখক পাতলা ছালের তলাবিশিষ্ট জুতার প্রস্তুতপ্রণালীর বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেন এবং তাতে লক্ষণীয় যে, জুতার তলায় ব্যবহৃত চামড়া পরিমাণে অপর্যাপ্ত হতে পারবে না; চামড়ার সাথে চামড়া সেলাই করতে হবে এবং মাঝে কিছু দিয়ে ভরাট করা যাবে না। কিছু জুতা প্রস্তুতকারীরা জুতার হিল বা গোড়ালীকে উঁচু করার জন্য হিলের নিচে বালু প্রবেশ করাতো, তবে জুতা জীর্ণ হয়ে গেলে তা আবার ভেঙে যেত। ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের দ্বারা আন্দালুসের পতনের পর তারা আরও উন্নত স্টাইল ও প্রস্তুতপ্রণালী চালু করে।

তাই এরপর থেকে যখনই আপনি জাঁকজমকপূর্ণ নকশাকার দোকানে সর্বশেষ ফ্যাশন সামগ্রী কিনতে যাবেন, তখন এর হাজার বছর আগেকার হাই- হিল (উঁচু গোড়ালিবিশিষ্ট) জুতার কথা স্মরণ করবেন। যখনই আপনি পরার জন্য গ্রীষ্মকালীন পাতলা ট্রাউজার জোড়া বা অন্যকোনো পোশাক নেবেন, তখন ১২০০ বছর আগের 'কালোপাখি' যিরইয়াবের কথা মনে করবেন। কেননা ওই সময় এ ধরনের চিন্তা-ভাবনাগুলো মুসলিম স্পেন, সিসিলি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে খ্রিস্টান ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছিল।

📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 কার্পেট

📄 কার্পেট


ইসলামের বহু আগেই আরব, পারস্য ও আনাতোলিয়ার বেদুইন সম্প্রদায়েরা প্রথম কার্পেট প্রস্তুত করে। এই বেদুইনরা তাঁবু হিসেবে, বালির ঝড় থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে; ঘরের লোকদের আয়েশের জন্য মেঝে ঢেকে দিতে; একান্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দেয়াল পর্দা হিসেবে কার্পেট ব্যবহার করতো। এর পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসপত্র, যেমন: কম্বল, থলে ও উট বা ঘোড়ার পিঠে পাতা জিন হিসেবেও তারা কার্পেট ব্যবহার করতো।

মুসলিমদের জন্য কার্পেট ছিল বেশ উচ্চ মর্যাদার এবং জান্নাতের উপকরণ বলে তারা এটার বেশ কদর করতো। এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এবং চামড়া পাকানো ও বয়নের নতুন আমেজ দ্বারা চালিত হয়ে তারা নকশা ও বুনন কৌশলকে নিয়ে যায় সমৃদ্ধির চূড়ায় এবং এতে করে তাদের কার্পেটগুলো চমৎকার সব রঙে রঞ্জিত হয়। ১১শ শতাব্দির ইবনে বাদিস নামের এক তিউনিসীয় বিজ্ঞানী কালি, রঞ্জক ও বিভিন্ন মিশ্রণের রঙ নিয়ে রচনা করেন "উমদাতুল কিতাব ওয়া উদ্দাতু যুল আলবাব" (গ্রন্থের ভিত্তি এবং প্রজ্ঞাবানদের হাতিয়ার) শীর্ষক অতুলনীয় গ্রন্থ।

রঙিন হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম কার্পেটগুলো তাদের গুণগত মান ও নকশার জন্য বিখ্যাত ছিল। একটি বড় গোল নকশা কেন্দ্রে অবস্থান করতো, আর তার চারপাশে সাজানো থাকতো তারকা, অষ্টভুজ, ত্রিভুজ ও শোভাবর্ধক গোলাপাকৃতির ব্যাজের চমৎকার সব জ্যামিতিক নকশা। ডালপালা, পাতা, সর্পিল বস্তুর কারুকার্যময় আরবীয় নকশা ও লতাগুল্মের সাজ এসব জ্যামিতিক অবয়বের চারপাশ ঘিরে থাকতো; মনে হতো ঐক্যের এক অনুভূতি নিয়ে সবাই সবাইকে কাছে টানছে।

ইউরোপে কার্পেট খুব দ্রুতই নজর কাড়ে এবং তা মর্যাদা ও প্রতিপত্তির প্রতীকে পরিণত হয়। ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির (শাসনকাল ১৫০৯-১৫৪৭ খ্রি:) মালিকানায় জানামতে ৪০০'রও বেশি মুসলিম কার্পেট ছিল এবং ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে আঁকা তার একটি প্রতিকৃতিতে দেখা যায় যে, তিনি উসাক তারকা সম্বলিত এক তুর্কি কার্পেটে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার আলখাল্লা ও পর্দাগুলোতেও মুসলিম নকশা শোভা পাচ্ছে।

১২শ শতাব্দিতে কুনির আশ্রমে বাস করা দিগ্বিজয়ী উইলিয়ামের নাতি যখন একটি ইংলিশ গির্জাতে কার্পেট দান করে কেবল তখনই ইংরেজরা প্রথম মুসলিম কার্পেটের সংস্পর্শে এসেছিল। ঠিক ওই সময়ে, মুসলিম ভূবিজ্ঞানী ও দার্শনিক আল-ইদরিসীর বক্তব্য মোতাবেক, বর্তমান স্পেনের অন্তর্গত চিনচিলা ও মুর্সিয়াতে পশমী কার্পেট প্রস্তুত করা হতো এবং গোটা বিশ্বে তা রপ্তানি করা হতো।

লম্বা সফরগুলোতে চালকের আরামের জন্য উটের পিঠে কিছুটা নিচের দিকে ঝুলে থাকা কার্পেট বিছিয়ে দেয়া হতো। এই কার্পেটগুলোতে খাবার সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য জিন-থলে হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

মুসলিম কার্পেটগুলো তাদের উন্নত রঙ এবং জ্যামিতিক নকশার জন্য সুপরিচিত ছিল।

মধ্যযুগের শেষ দিকে আঁকা চিত্রকর্মগুলো এটা প্রদর্শন করে যে, কীভাবে এবং কোথায় কার্পেটগুলো ব্যবহৃত হতো; এবং লোকেরা এগুলো সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করতো। ১৪শ ও ১৫শ শতাব্দির ইউরোপে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় চিত্রকর্মগুলোতে প্রথম এগুলোর ব্যবহার দেখা যায়। ১৭শ শতাব্দিতে টেবিলের উপরিতল ও নিম্নাংশকে আবৃত করতে কার্পেটের ব্যবহার দেখা গেছে। হাড়ি- পাতিল রাখার আলমারি ও জানালার কার্পেটগুলোও এ সময় দৃশ্যমান হতো।

বেলজিয়ামের চিত্রকরেরাও এতে বেশ উদ্বুদ্ধ হয়। ব্রুজেসে ১৪৩৬ খ্রিস্টাব্দে ভ্যান আইকের আঁকা "কুমারী ও পুত্র; সাথে সেন্ট দোনাটিয়ান, সেন্ট জর্জ ও কেনন ভান ডার পায়ল" চিত্রকর্মে কুমারী মরিয়ম জ্যামিতিক নকশাদার কার্পেটে বসে আছে; সূঁচালো আট তারকার পুনরাবৃত্তি ও হীরকাকার বিষমকোণী চতুর্ভুজের সাথে মিলিত শোভাবর্ধক গোলাপাকৃতির ব্যাজের চারপাশে আঁকা জ্যামিতিক নকশাগুলো প্রধানত বৃত্তাকার।

মুসলিম কার্পেটগুলো এতটাই উচ্চ মূল্যের ছিল যে, ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট জাদুঘর প্রকাশনা ১৬শ শতাব্দির হাকলুতের সফরনামার একটি অধ্যায়ের উদ্ধৃতি পেশ করে, যেখানে পারসীয় কার্পেট প্রস্তুতকারীদেরকে ইংল্যান্ডে আনার পরিকল্পনা আলোচিত হয়েছে। এটাতে বলা রয়েছে, "পারস্যে তুমি নিশ্চিতভাবে আলগা সুতার পশমী কার্পেট পাবে, যেগুলো দুনিয়ার সেরা এবং চমৎকার রঙে রঙিন। ওইসব শহর ও নগর মেরামত করা তোমার জন্য আবশ্যক; আলগা পশমগুলো কীভাবে রঙ করা হয়, তার পুরো প্রক্রিয়া জানার জন্য সকল উপায় অবলম্বন করবে। কেননা এগুলো এমনভাবে রঞ্জিত থাকে যে, না বৃষ্টি আর না ভিনেগার সে রঙ বদলাতে সক্ষম ...। তোমার প্রত্যাবর্তনের আগে তুমি যদি তুর্কি কার্পেট বানাতে পারদর্শী একজন প্রস্তুতকারক তৈরি করতে পারো, তবে তোমার উচিত হবে ওই শিল্প তোমার আয়ত্তে নিয়ে আসা, তবেই তুমি তোমার কোম্পানির কাজকে বৃদ্ধি করতে পারবে।"

অটোমান/তুর্কি কার্পেট ছাড়া আর কোনো কার্পেটই পারসীয় কার্পেটের জনপ্রিয়তার ধারে কাছে পৌঁছাতে পারেনি। মূলত পারসীয় কার্পেট সাফাভী আমলে রাষ্ট্রীয় শিল্পোদ্যোগে পরিণত হয়। সাফাভী সম্রাট প্রথম শাহ আব্বাসের অধীনে স্থানীয় শাসকগণ ইউরোপের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে মজবুত করে এবং এগুলোর রপ্তানি ও রেশম বাণিজ্য সাফাভী সাম্রাজ্যের সম্পদ ও প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়।

ইউরোপে কার্পেট উৎপাদন ছিল বড় ধরনের ইন্ডাস্ট্রি; প্রস্তুতকারীরা গোটা ইউরোপ থেকে ফরমাশ (অর্ডার) লাভ করতো। তাবরীজ, কাশান, ইস্পাহান ও কিরমানের পারসীয় কারিগরি শিল্পীরা চোখ ধাঁধানো ও সম্মোহন জাগানো নকশা প্রস্তুত করতো। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দির দিকে কার্পেট ইন্ডাস্ট্রির জৌলুস হারাতে থাকে। মূলত ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ ও সংঘাত পারস্যকে অস্থিতিশীল করে তোলে, যেটা এর পিছনে আংশিকভাবে দায়ী। এদিকে ১৮শ শতাব্দির দিকে ইউরোপীয়রা নিজেদের কার্পেট নিজেরাই প্রস্তুত করতে শুরু করে, যা পারসীয় কার্পেট ইন্ডাস্টির জৌলুস হারানোর আরেকটি কারণ।

নকল মুসলিম কার্পেটগুলোর প্রথম উৎপাদন ইউরোপে ইংরেজ পৃষ্ঠপোষকদের অধীনে ছিল। রয়াল সোসাইটি অব আর্টস ভর্তুকি ও পুরস্কারের মাধ্যমে 'তুর্কি কার্পেটের প্রস্তুতপ্রণালী' অনুসারে সফল কার্পেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতো। ১৭৫৭ ও ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে এই সোসাইটি সেরা তুর্কি কাপের্টের 'নকল'-কে ১৫০ পাউন্ড পুরস্কার প্রদান করেছিল।

বর্তমানে সিনেমা ও গল্প-কাহিনীতে আলাদীনের উড়ন্ত গালিচার খ্যাতি অব্যাহত আছে এবং উত্তর আফ্রিকার বার্বার কার্পেট আবারও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছাচ্ছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00