📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 দাবা

📄 দাবা


বুদাপেস্টের স্নানাগারের বহিরঙ্গনের উষ্ম জলাশয় থেকে বাষ্প উড়ছে, আর ওদিকে মার্বেলের দাবা-বোর্ডের উপর গুটিসুটি হয়ে লোকজন জটলা পাকিয়ে আছে। চীনে পার্কের মাঝে দাবা- বোর্ডগুলো বিছানো থাকে, যেমনিভাবে বিছানো আছে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে। ৬৪ বর্গ একক ও ৩২-টি গুটি সম্বলিত মানস-যুদ্ধের এই খেলা প্রায় সব জাতিগোষ্ঠীর লোকেরাই খেলেছে। সাদামাটা আকার ও ধরন সত্ত্বেও এটাতে খেলা যাবে, এমন সম্ভাব্য প্রতিযোগিতার সংখ্যা গণনার বাহিরে।

দাবাকে ঘিরে যত ধরনের গল্প-কাহিনী, উপমা ও ব্যক্তিত্ব আছে, তা এটাকে এক রহস্যময় মাত্রা দিয়েছে এবং এই খেলার সুনির্দিষ্ট উৎস আজও অজানা। হয় এটা ভারত থেকে এসেছে, নতুবা পারস্য থেকে। ১৪শ শতাব্দিতে ইবনে খালদুন দাবার্কে সাসা ইবনে দাহির নামের প্রখ্যাত এক ভারতীয় বিদ্বানের সাথে সম্পৃক্ত করেন।

প্রাচীন ভারতে চতুরঙ্গ নামে একটি খেলা ছিল, যার অর্থ: 'চার অঙ্গ বা বাহুর সমাহার'। সম্ভবত এটা ভারতীয় সেনাবাহিনীর চারটি শাখাকে বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ হাতি, অশ্বারোহী, রথ এবং পদাতিক সৈন্য। চতুরঙ্গ ঠিক দাবা না হলেও এটাকে আজকের দিনের দাবার পূর্বপুরুষ বলা যায়।

১৪শ শতাব্দির পারসীয় এক পাণ্ডুলিপি আমাদের জানাচ্ছে যে, কীভাবে ভারতীয় এক দূত পারস্যের দরবারে দাবা নিয়ে উপস্থিত হয়, যেখান থেকে মধ্যযুগীয় স্পেনে ভ্রমণকালে আরবদের দ্বারা এটা ইউরোপে পৌঁছায়।

ইউরোপে পৌঁছানোর পূর্বে পারসীয়রা নিজেদের যুদ্ধবাজি ক্রিয়া ব্যবহার করে এই খেলাকে ছাতরঙে বদলে দেয়। আরবরা পারস্যে এসে দাবা বা তৎকালীন সুবিদিত শতরঞ্জের সংস্পর্শে আসে এবং এটাকে তারা নিজেদের সংস্কৃতিতে আত্মীভূত করে নেয়।

ওই সময় খেলার গুটিগুলো ছিল: শাহ-রাজা; ফিরযান-সেনাপতি, আধুনিক সময়ে এসে যা রাণী; ফীল-হাতি, আজ যা বিশপ; ফারাস-ঘোড়া; রুখ-রথ, যা এখন ক্যাসল বা নৌকা; এবং বাইদাক-পদাতিক সৈন্য বা বোড়ে।

সাধারণ জনগণের পাশাপাশি অভিজাত লোকদের মাঝেও খেলাটি ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করে, আর বিশেষভাবে আব্বাসীরা এটাকে লুফে নেয়। আস-সুলী, আর-রাযী, আল-আদানী এবং ইবনে নাদিম ছিলেন ভীষণ পারদর্শী দাবাড়ু। বিশ্ব শতাব্দীর মাঝামাঝিতে রুশ গ্র্যান্ড মাস্টার ইউরি আভেরবাক তার এক চ্যাম্পিয়নশিপ খেলায় এক আশ্চর্যজনক চাল চেলে বিজয়ী হন। অনেকেই এটাকে এক নতুন উদ্ভাবনচतुर চাল মনে করেন। কিন্তু এক হাজার বছরের বেশি সময় আগে আস- সুলী এই চাল কল্পনা করে গেছেন।

আরব গ্র্যান্ড মাস্টারগণ দাবা, এটার নিয়ম-কানুন ও কৌশল নিয়ে ব্যাপক লিখেছেন, যা মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

দাবার ইতিহাস, খেলার সূচনা, সমাপ্তি এবং সমস্যা নিয়ে বহু গ্রন্থ লেখা হয়েছে। আনুমানিক ১৩৭০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রচিত "দাবা খেলার রণকৌশলের উদাহরণ" নামের গ্রন্থটি প্রথমবারের মতো 'কানা সন্নাসিনী ও তার তপস্বিনী'-এর মতো দাবা খেলার সূচনা ঘটায়।

সংস্কৃতির প্রবল বায়ু বয়ে আনা বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও ধারা সৃষ্টিকারী যিরইয়াব ৯ম শতাব্দির শুরুর দিকে আন্দালুসে দাবা নিয়ে আসেন। 'চেকমেট' শব্দটি পারস্য ভাষা থেকে উদ্ভূত, যা 'শাহমাত' শব্দের বিকৃতরূপ। শাহমাত শব্দের অর্থ: 'রাজা পরাস্ত হয়েছে'।

আন্দালুস থেকে স্পেনবাসী খ্রিস্টান, মোজারাব এবং উত্তর স্পেনের পিরিনীয় পর্বতমালা অতিক্রম করে একেবারে দক্ষিণ ফ্রান্সের পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত দাবা পৌঁছে যায়। ইউরোপীয়দের দ্বারা প্রথম দাবার উল্লেখ পাওয়া যায় ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে, যখন বার্সেলোনার এরমেসিন্ডের স্ত্রীর উইল অনুসারে তিনি তার স্ফটিকে তৈরি দাবার গুটিগুলো নাইমে অবস্থিত সেন্ট জাইলস আশ্রমে দান করে দেন। কয়েক বছর পরে অস্তিয়ার কার্ডিনাল দামিসি পোপ পঞ্চম গ্রেগরির কাছে এই আর্জি জানিয়ে পত্র লেখেন যে, তিনি যেন যাজকদের মাঝে 'ধর্মদ্রোহীদের খেলা' ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধকল্পে দাবার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়া থেকে শুরুর দিকের রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের শুষ্ক প্রান্তর পর্যন্ত দাবা ছড়িয়ে পড়ে: ৭ম ও ৮ম শতাব্দির পারসীয় দাবা-গুটি সমরকন্দ ও ফারগানাতে পাওয়া গেছে। ১০০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ভাইকিং বাণিজ্য পথ ধরে দাবা আরও দূরে ছড়িয়ে পড়ে, যেহেতু ভাইকিংরা এটা স্ক্যান্ডেনেভিয়া পর্যন্ত নিয়ে যায়। ওইসব বাণিজ্য পথ ধরে ১১শ শতাব্দির দিকে দাবা আইসল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং ১১৫৫ খ্রিস্টাব্দে লেখা আইসল্যান্ডীয় বীরত্বগাথায় ডেনিশ রাজা কুন্ট দ্য গ্রেট-এর কথা আলোচিত হয়, যেখানে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দে রাজার দাবা খেলার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

১৪শ শতাব্দির দিকে দাবা ইউরোপে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং 'বিচক্ষণ' নামে পরিচিত রাজা দশম আলফোনসো ১৩শ শতাব্দিতে Book of Chess and Other Games (দাবা এবং অন্যান্য খেলা) শীর্ষক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। গত ৮-শতাব্দি ধরে দাবার ইতিহাস কেবল সমৃদ্ধি হয়নি, বরং এটা নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনারও জন্ম দিয়েছে, যেমন: ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দের রোবটিক দাবাড়ু।

হাঙ্গেরীয় ওলফাংগ ডি কেম্পেলেন তার অন্ধ দাবাপ্রেমী রাণী, সম্রাজ্ঞী মারিয়া থেরেসাকে একটি উপহার দেয়ার কথা ভাবলেন এবং তিনি রাণীকে 'লৌহ মুসলিম' নামের একটি দাবার রোবট মেশিন উপহার দেন, পরবর্তীতে যেটার নাম 'তুর্কি উছমানী' (অটোমান তুর্ক) রাখা হয়। এই রোবট এতটাই দক্ষতার সাথে দাবা খেলতো যে, ওই সময়ের বাঘা বাঘা দাবাড়ুকে পর্যন্ত হারিয়ে দিতো। এটার নিচে থাকা আলমারির কামরার মাঝে এক দাবাড়ু জড়ো হয়ে বসে থাকতো। মানুষজন এই পাগড়ি পরিহিত রোবটের কেরামতি দেখার জন্য মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতো। প্রকৃতপক্ষে, ১৫ জন স্বতন্ত্র দাবাড়ু ৮৫ বছর ধরে অটোমান 'রোবটিক' তুর্ক ছদ্মবেশে এই রোবটকে অধিকারে রেখেছিল।

📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 সঙ্গীত

📄 সঙ্গীত


সঙ্গীত ছাপিয়ে গেছে মহাদেশ, সভ্যতা-সংস্কৃতি, মানুষ ও প্রকৃতির গণ্ডি। ভাষার মতো এটাও আমাদের যোগাযোগে সহায়তা করে। কিন্তু বিংশ ও একবিংশ শতাব্দির শিল্পী ও গায়কেরা কি এটা জানে, তাদের অধিকাংশ বাদ্যযন্ত্রই এসেছে ৯ম শতাব্দির মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের হাত ধরে? এই মুসলিম শিল্পীগণ, বিশেষ করে আল-কিন্দী সঙ্গীতের স্বরলিপি তথা সঙ্গীতের লিখিত রূপ ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি মুসলিমরা সঙ্গীতের স্বরগ্রামের নোট বা স্বরলিপির সুর সংকেত অক্ষরের পরিবর্তে বর্ণ দিয়ে নামকরণ করে, যাকে Solmization বলে। এই বর্ণমালাই আজকের সঙ্গীতের মৌলিক স্বরগ্রাম। আমাদের সকলেই দো, রে, মি, ফা, সো, লা, তি (বাংলায় সারে, গা, মা, পা, দা নি, সা)-এর সাথে পরিচিত। এই নোটগুলোর জন্য ব্যবহৃত আরবী বর্ণ - দাল, রা, মিম, ফা, সোয়াদ, লাম, সিন। আজকের স্কেল বা স্বরগ্রামের সাথে ৯ম শতাব্দিতে ব্যবহৃত আরবী বর্ণমালার উচ্চারণগত সাদৃশ্য দারুণভাবে লক্ষণীয়।

আল-কিন্দীর প্রায় ৭০ বছর পরে আল-ফারাবী ভায়োলিন পরিবাবের আদিপুরুষ রাবাবাহ ও টেবিল যিথার (বহুতারের) বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেন। তিনি সঙ্গীতের উপর পাঁচটি গ্রন্থ লেখেন, যার মধ্যে সঙ্গীত তত্ত্বের উপর রচিত "কিতাব মুউসিকি আল-কাবীর" (সঙ্গীতশাস্ত্রীয় বড় পুস্তক) হচ্ছে তার অনন্যকীর্তি। ১২শ শতাব্দিতে, গ্রন্থটি হিব্রু ভাষায় অনুদিত হয় এবং পরবর্তীতে লাতিন ভাষায়। আল-ফারাবী ও তার গ্রন্থের প্রভাব ১৬শ শতাব্দি পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

ভ্রাম্যমান শিল্পী, বণিক এবং পর্যটকগণ আরবী সঙ্গীতকে ইউরোপে দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং ৮০০ বছর ধরে মুসলিম শাসনাধীন স্পেন ও পর্তুগালের সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক রূচিবোধের ধারা গড়ে উঠার ক্ষেত্রে এটা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল। এর একটি আদি নমুনা পাওয়া যাবে Cantigas de Santa Maria সংকলনটিতে। কাস্টিলা ও আরাগনের রাজা দশম আলফোনসো এল সাবিয়োর নির্দেশে ১২৫২ খ্রিস্টাব্দের দিকে এটা রচিত হয়। এই সংকলনে কুমারী মরিয়ামের উপর প্রায় ৪১৫-টি ধর্মীয় সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

"৮ম শতাব্দির শুরুর দিকে আরবরা যখন ইউরোপে আসে, তখন তারা ছিল সঙ্গীতের বিকাশে ... বাদ্যযন্ত্র নির্মাণে ইউরোপীয় জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে অত্যন্ত অগ্রসর, আর এভাবেই তাদের সাঙ্গীতিক প্রভাবের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা সম্ভব হবে।" - কার্ল এঙ্গেল, বিংশ শতাব্দির একজন সঙ্গীত-ইতিহাসবেত্তা।

ইউরোপে এই নতুন সঙ্গীত ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বহু ব্যক্তির অবদান রয়েছে। উল্লেখ করার মতো প্রভাবকের ক্ষেত্রে কেবল একজনের নামই উঠে আসে, তিনি 'কালোপাখি' ডাকনামে পরিচিত যিরইয়াব। মূলত তার সুরেলা কণ্ঠ ও কালো গাত্রবর্ণের কারণে তার এ ডাকনাম। সহজাত প্রতিভার অধিকারী এই ব্যক্তি বাগদাদের এক প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পীর শিক্ষার্থী ছিলেন।
কিন্তু সঙ্গীতে তার প্রতিভা ও শ্রেষ্ঠত্ব ধীরে ধীরে তার সঙ্গীতগুরুকে পিছনে ফেলে দেয়। আর তাই উমাইয়া খলীফা তাকে আন্দালুসে আমন্ত্রণ জানায়।

৮২২ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খলীফা দ্বিতীয় আবদুর রহমানের শাসনাধীন কর্ডোবার দরবারে যিরইয়াব স্থায়ী হন। এখানে যিরইয়াব সমৃদ্ধি ও তার শিল্পের সমাদর লাভ করেন এবং মাসিক ২০০ স্বর্ণ দিনার পারিশ্রমিক ও সেইসাথে আরও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া একজন দরবারী বিনোদন শিল্পীতে পরিণত হন।

তার বহু অর্জনের মাঝে রয়েছে: কর্ডোবাতে দুনিয়ার প্রথম সঙ্গীত শিক্ষাদান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ঐকতান ও গীতি কবিতা শেখানো হতো; আরব বীণা (আল-উ'দ) ইউরোপে নিয়ে আসা এবং তাতে পঞ্চম আরেকটি তার যোগ করা, কাঠের মিজরাব (তার টানার জন্য অঙ্গলিসংলগ্ন ছোট ধাতুবিশেষ)-কে শকুনের বড়ো পালক দিয়ে তৈরি মিজরাব দ্বারা বদলে দেয়া এবং ছন্দোবদ্ধ ও তালের প্যারামিটার বা স্থিতিমাপকগুলোকে নিয়মের অধীন না রেখে সঙ্গীত তত্ত্বকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে বিন্যাস করা।

বিংশ শতাব্দির ফরাসি ঐতিহাসিক হেনরি টোরেস বলেন, "প্রাচ্যের এই লোক (অর্থাৎ যিরইয়াবের) আগমনের পরপরই কর্ডোবা জুড়ে আমোদ-প্রমোদ ও বিলাসী জীবনের বাতাস বয়ে যায়। যিরইয়াবকে ঘিরে থাকতো কবিতা ও অপরূপ আনন্দে ঘেরা পরিবেশ। দু'জন ক্রীতদাসের সহচর্যে রাত্রি বেলায় তিনি তার গান রচনা করতেন এবং এরা তার জন্য বীণা বাজিয়ে দিতো। তিনি তার শিল্পকে নজিরবিহীন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন।"

সামরিক বাদকদল
অটোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম ইউরো-এশীয় সাম্রাজ্য, যাদের স্থায়ী সামরিক বাদকদল ছিল। ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত মেহতারহান সামরিক বাদকদল সুলতানের অভিযানসমূহে অংশ নিতো। যোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং শত্রুদের ভয় পাইয়ে দিতে বাদকদলটি যুদ্ধের মাঝে বাজনা শুরু করে দিতো। অভিজাত সেনাদল, জানেসারিরও ৬ থেকে ৯ সদস্যের বাদকদল ছিল, যারা ড্রাম (ঝুরনা), শিঙ্গা, ত্রিকোণ বাদ্যযন্ত্র, মন্দিরা (ঝিল) এবং কেটলি জাতীয় যুদ্ধের ড্রাম (কাস এবং নাক্কারা) বাজাতো। এসব বাদ্যযন্ত্র উটের পিঠে বহন করে আনা হতো।

শান্তি স্থাপন ও যুদ্ধ উভয়ক্ষেত্রে ইউরোপীয়রা জানেসারি বাদকদলের মুখোমুখি হতো। রাষ্ট্রদূতদের দেয়া বিভিন্ন অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অটোমান- তুর্কি বাদযন্ত্রের ব্যবহার ইউরোপে একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়, যা 'তুরকিউরি' ফ্যাশন নামে পরিচিত ছিল। ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনার দ্বারপ্রান্তে জানেসারি সেনাদল পরাজিত হয় এবং তারা তাদের বাদ্যযন্ত্র ফেলে যায়। এই ঘটনা ইউরোপীয় সামরিক বাদকদলের উৎপত্তির পথ দেখায়। এমনকি নেপোলিয়ান বোনাপার্টের ফরাসি সামরিক বাদকদল পর্যন্ত অটোমান বাদ্যযন্ত্র, যেমন: মন্দিরা এবং কেটলি জাতীয় যুদ্ধের ড্রাম দ্বারা সজ্জিত ছিল। বলা হয় যে, অস্ট্রারলিটসের যুদ্ধে (১৮০৫) নেপোলিয়ানের সাফল্যের পিছনে বিউগলের ঝঙ্কার মানসিক প্রভাবে অন্যতম ভূমিকা রেখেছিল।

📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 পরিচ্ছন্নতা

📄 পরিচ্ছন্নতা


মধ্যযুগ কথাটা আসলেই আমাদের চোখের সামনে দুর্গন্ধময়, অন্ধকার, এলোমেলো ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের চিত্র ভেসে আসে। কিন্তু এমনটি যদি মুসলিম বিশ্বের জন্য ভেবে থাকেন, তবে আপনি বড় ধরনের ভুল করবেন। বরং ১০ম শতাব্দিতে ইসলামী বিশ্ব যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চর্চা করতো এবং তাদের গোসলখানায় যে ধরনের ব্যবহার্য সামগ্রী ছিল, সেগুলো আজ আমাদের যা আছে, তার সাথে পাল্লা দেয়ার সামর্থ্য রাখে।

পরিচ্ছন্নতা ইসলামে অপরিহার্য এবং প্রতিটি সালাতের আগে ওজু করতে হয়। ১৩শ শতাব্দির বিশিষ্ট যন্ত্র প্রকৌশলী আল-জাযারী রচিত "কিতাব ফী মারিফাতিল হিয়াল আল-হানদাসা" গ্রন্থে রোবটিক ওজু মেশিনেরও বিবরণ রয়েছে। ময়ূরের মতো দেখতে সুবিন্যস্ত মেশিনটি প্রত্যেক অতিথির কাছে আনা হতো, যিনি পানি প্রবাহের জন্য ময়ূরের মাথায় চাপ দিতেন এবং এতে করে ওজু করার জন্য পর্যাপ্ত পানি আটবারে অল্প অল্প করে প্রবাহিত হতো। কিছু মেশিন আপনাকে তোয়ালে পর্যন্ত দিতে সক্ষম ছিল।

তেল (সাধারণত জলপাই তেলের) সাথে আল-ক্বালী (লবণ জাতীয় পদার্থ) মিশিয়ে মুসলিমগণ সাবান প্রস্তুত করতো। পাণ্ডুলিপি অনুসারে সঠিক ঘনত্ব পেতে এই মিশ্রণ সেদ্ধ করা হতো এবং শক্ত হওয়ার জন্য রেখে দেয়া হতো। এরপর এই সাবানগুলো স্নানাগারে ব্যবহার করা হতো।

"আল্লাহ সুন্দর (জামীল) এবং তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন।" - নবী মুহাম্মদ (ﷺ) [সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত]

মধ্যযুগীয় মুসলিমগণ তাদের বেশভূষার ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে যায়। বিখ্যাত চিকিৎসক ও সার্জন আয- যাহরাবী ছিলেন এমনই এক দক্ষ কারিগর, যার সম্পর্কে হাসপাতাল বিভাগে আপনি আরও জানতে পারবেন। তিনি তার চিকিৎসা গ্রন্থ "আত-তাসরীফ”-এ 'সৌন্দর্যের নানা ঔষধ' শিরোনামে স্বতন্ত্র অধ্যায়ে কসমেটিক (প্রসাধনী) নিয়ে পূর্ণ আলোচনা করেছেন।

ইসলামের গণ্ডির ভেতরে থেকে তিনি চুল ও ত্বকের যত্ন, সৌন্দর্যবর্ধন, দাঁতের শুভ্রতা বৃদ্ধি এবং দাঁতের মাড়ি শক্ত করা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার গ্রন্থে নাকের স্প্রে, মুখ ধৌত করার তরল (মাউথওয়াশ) এবং হাতের ক্রিম নিয়েও আলোচনা করেছেন। এমনকি তিনি সুগন্ধি লাঠি নিয়েও আলোচনা এনেছেন, যা স্থির থেকে গড়িয়ে চলতো ও বিশেষ ছাঁচে চাপ দিয়ে বসানো থাকতো, অনেকটা আজকের দিনের রোল-অন দুর্গন্ধনাশকগুলোর (roll-on deodorant) মতো। এছাড়াও তিনি চুল উঠানোর কাঠি, চুলের রঙ যা স্বর্ণকেশী চুল কালো করে, এবড়োথেবড়ো বা কোঁকড়ানো চুল সোজা করার লোশন ইত্যাদি ঔষধ মেশানো প্রসাধনীরও বিবরণ দেন। সানট্যান লোশন (সূর্যরশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষার লোশন) ও তার উপাদানগুলোর উপকারিতা নিয়েও মুসলিম বিশ্বে আলোচনা হয়েছে এবং এই জিনিসগুলোর সবই প্রায় এক হাজার বছর আগেকার, আর তা ভাবতেই রীতিমতো অবাক হতে হয়।

"যখন তোমরা সালাতের জন্যে উঠো, তখন স্বীয় মুখমণ্ডল ও হাত দুটো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং পদযুগল গিটসহ।" - কুরআন (সূরা আল-মায়িদা: ৬)

বর্তমান ইরাকের কুফাতে জন্ম নেয়া আল-কিন্দী সুগন্ধির উপর "কিতাব কিমিয়া আল-ই'তরি ওয়া তাসয়িদাত" (সুগন্ধি ও পাতনের রসায়ন) নামে একটি গ্রন্থ লেখেন। তার গ্রন্থে সুগন্ধি তেল, মলম, ঝাঁঝালো পানি এবং দামি ঔষধের নকল প্রস্তুতের উপর ১০০'রও বেশি রেসিপির বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথমদিকে সমাজের অধিকতর বিত্তবানরা এগুলো ব্যবহার করতো, পরবর্তীতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়ে যায়।

মুসলিম রসায়নবিদগণ উদ্ভিদ ও ফুলকে পাতন করে সুগন্ধি এবং রোগনিরাময়ক ঔষধের প্রধান উপাদানগুলো প্রস্তুত করতেন।

এ সকল প্রক্রিয়া ও ধারণা বণিক, পর্যটক ও ক্রসেডারদের বদৌলতে ইউরোপে অনুপ্রবেশ করে। বিবিসি প্রামাণ্যচিত্র What the Ancients Did for Us: The Islamic World উদ্ধৃত করে যে, মুসলিমদের এই জ্ঞান দক্ষিণ ফ্রান্সের হটি প্রোভেন্স পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে সুগন্ধি ইন্ডাস্ট্রির জন্য উপযোগী আবহাওয়া ও উপযুক্ত ধরনের মাটি রয়েছে এবং ৭০০ বছর পার হওয়ার পরও যা আজও সক্রিয়।

ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসাধনী হচ্ছে: হেন্না [মেহেদি), যা এর সৌন্দর্য এবং দক্ষ হাতের জটিল কারুকার্যের জন্য পরিচিত। ইসলামের বিস্তৃতির সাথে সাথে দুনিয়ার বিভিন্ন অংশে হেন্না ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিণত হয় অপরিহার্য প্রসাধনী উপকরণে।

নবী মুহাম্মদ (স) এবং তার সাহাবীগণ তাদের দাড়ি রঙ করতেন, নারীরা তাদের হাত ও পা সজ্জিত করতো এবং আজকের নারীদের মতো তারাও তাদের চুল রঙ করতো। আধুনিক বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান মোতাবেক হেন্না ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস (পচন) এবং রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করে। এথলেট বা ক্রীড়াবিদদের পা, ত্বকে ফাংগাসের সংক্রমণ ও প্রদাহ উপশমে এটা বেশ কার্যকর। এদের পাতা ও বীজ ঔষধি গুণাগুণ বহন করে এবং উভয়ে দেহ ও মাথাকে ঠাণ্ডা করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও হেন্নাতে নানা প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা চুলের পুষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়।

শেক দীন মুহামেদ
১৭৭০ ও ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইল্যান্ডের ব্রিংগটন ছিল ফুলের সমারোহে ঘেরা এক সমুদ্র রিসোর্ট এবং ঠিক এই মনোরোম দৃশ্যেই শেক (শেখ, উচ্চারণভঙ্গির কারণে এটা শেক-এ বদলে যায়) দীন মুহামেদ এখানে পা রাখেন।

শেক দীন মুহামেদ ভারতের পাটনার এক মুসলিম পরিবার থেকে আসেন। ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রিংগটন সমুদ্র বেলাভূমি, যেখানে বর্তমানে কুইন্স হোটেল রয়েছে, সেখানে মুহামেদের ভারতীয় বাষ্পস্নান নামে একটি স্নানাগার স্থাপন করেন। এখানের গোসল প্রক্রিয়া তুর্কি গোসলের মতোই ছিল, তবে সেবা গ্রহণকারী মক্কেলকে একটি ফ্লানেলে তাঁবুতে শোয়ানো হতো এবং তাকে ভারতীয় ছাম্পি (শ্যাম্পু) নামের এক বিশেষ সেবা বা থেরাপি মালিশ দেয়া হতো। এই অনন্যসাধারণ 'বাষ্পস্নান' ও শ্যাম্পু-স্নান তাকে চূড়ান্ত খেতাব এনে দেয় এবং তিনি পঞ্চম জর্জ ও পঞ্চম উইলিয়াম উভয়ের 'শ্যাম্পু সার্জন' হিসেবে নিযুক্ত হন।

📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 ট্রিক ডিভাইস

📄 ট্রিক ডিভাইস


যখন আপনি রুবিক্স কিউব নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন, তখন হয়তো আপনার কানে ভেসে আসতে পারে তারের উপর ঝুলতে থাকা ধাতব বলের ক্লিক-ক্লিক আওয়াজ, যেহেতু এই ধাতব বলগুলো ছন্দের তালে তালে একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছে। ব্যবসার জন্যই হোক আর বিনোদনের জন্যই হোক- গেমস্ ও পাজেল অনেকের কাছে এগুলো মুগ্ধতার খোরাক।

মানুষের আনন্দ উপভোগের এই অনুভূতিকে করায়ত্ত করেছিল ৯ম শতাব্দির তিন ভাই। মুহাম্মদ ইবনে মূসা ইবনে শাকির, আহমাদ ইবনে মূসা ইবনে শাকির এবং আল-হাসান ইবনে মূসা ইবনে শাকির- এই তিন ভাই বনী মূসা ভ্রাতা নামেই সমধিক পরিচিত। তারা ৯ম শতাব্দির বাগদাদের বিখ্যাত বুদ্ধিবৃত্তিক একাডেমি বায়তুল হিকমার সদস্য ছিল, এ সম্পর্কে বিদ্যালয় বিভাগে আপনি আরও তথ্য পাবেন। গণিতজ্ঞ ও গ্রিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধগুলোর অনুবাদক হওয়ার পাশাপাশি তারা অবিশ্বাস্য ধরনের এমনসব ট্রিক ডিভাইস নির্মাণ করেছিল, যেগুলোকে অনেকে বর্তমানের দামী খেলনার পূর্বপুরুষ আখ্যায়িত করেন। এই ভাইয়েরা নানা ধরনের ট্রিক ডিভাইস ডিজাইন ও উদ্ভাবন করে তাদের সহকর্মীদের মোহাচ্ছন্নতাকে ব্যাপকভাবে উসকে দিতো এবং তাদের "কিতাবুল হিয়াল” (উদ্ভাবনকুশলী ডিভাইস) গ্রন্থে একশতেরও বেশি ট্রিক ডিভাইসের তালিকা রয়েছে। বস্তুত এগুলোই ছিল যান্ত্রিক প্রযুক্তির সূচনা। আজকের দিনের খেলনার মতো এগুলোর ব্যবহারিক কার্যক্রম খুব সামান্য হলেও ১১০০ বছর আগের পুরানো এসব যান্ত্রিক নির্মাণ কৌশল সত্যিকার অর্থে বিস্ময়কর কারিগরি নৈপুণ্য ও জ্ঞানের চূড়ান্ত উৎকর্ষের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

এসব নির্মাণ কৌশলের অধিকাংশই পানি, নকল পশুপাখি ও আওয়াজ তৈরিকে ঘিরে আবর্তিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, পানি পানরত ষাঁড়ের পানি পান শেষ হলে সে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতো। অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ, ভাসান (ভাসমান ফাঁপা বস্তু), ভ্যাকুম (বায়ুশূন্য বস্তু) এবং প্লাগ (বা ছিপির) সিরিজ পানিপূর্ণ করে এমনটি করা হতো।

প্রাথমিক ট্যাপ (পিপার ছিপি) দিয়ে পানি কম্পার্টমেন্ট-এ তে প্রবেশ করে এবং এরপর ট্যাপ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বাটি পানি পূর্ণ হয়। এতে করে ভাসান-এম (বিপরীত ডায়াগ্রামের দেখা যাবে) পানির স্তর পর্যন্ত উঠে আসে এবং কপাটিকার বাহির থেকে প্লাগকে টেনে ধরে। পানি নালাপথ ধরে কম্পার্টমেন্ট-এ থেকে কম্পার্টমেন্ট-বি তে প্রবাহিত হয়। পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাসান-বি উপরে উঠতে থাকে এবং পানি ভাসান-বি কে উপরে ঠেলতে থাকে, এতে করে দুটো কম্পার্টমেন্টের মধ্যে পানি প্রবাহ নিশ্চিত হয়। কম্পার্টমেন্ট-বি যখন একেবারে বায়ুশূন্য হয়ে পড়ে, তখন কম্পার্টমেন্ট-এ তে একটি বায়ুশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়, যেহেতু এটাতে বাতাস প্রবেশের কোনো পথ খোলা নেই। ঠিক তখনই বাটি থেকে পানি পাইপের মাধ্যমে টানা শুরু হয় এবং তা কম্পার্টমেন্ট-এ তে প্রবেশ করতে শুরু করে। বাটি থেকে যখন সবটুকু পানি শেষ হয়, তখন বাতাস শোষণ করা হতে থাকে, তাই এটা মনে হতে থাকে যে, ষাঁড়টি তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে।

বাটিতে আর কোনো পানি নেই, যা ভাসমান প্লাগটিকে ধরে রাখবে, তাই ওই নির্দিষ্ট প্লাগ বন্ধ হয়ে যায় এবং কম্পার্টমেন্ট-এ কে খালি করার জন্য কেবল প্লাগ-বি খোলা থাকে। কম্পার্টমেন্ট-বি খালি হয় বি ও সি-এর মধ্যবর্তী ছোট ছিদ্র দ্বারা। কম্পার্টমেন্ট-সি-এর একটি পাশ থেকে মুক্তভাবে বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মেধা ও মননকে নাড়িয়ে দেয়া এই ডিভাইস লোকদের ঘন্টার পর ঘন্টা বিমোহিত রেখেছিল, সেটা হলফ করে বলা যায়।

বনী মূসা ভাইদের আরেকটি ট্রিক ডিভাইস ছিল দুই নলা ফ্লাস্ক। প্রতিটি নলে আলাদা রঙের তরল পদার্থ ঢালা হতো, কিন্তু ঢালার সময় 'ভুল' নল দিয়ে 'ভুল' তরল বেরিয়ে আসতো। অনেকটা জাদুকরের মতো যে কিনা নিজের কনুই থেকে কমলার শরবত বানাতে পারেন, কিন্তু এই ভাইদের জামার আস্তিনে এর থেকেও উন্নত ও সাদামাটা, কিন্তু জটিল নির্মাণ কৌশল লুকানো থাকতো।

আসলে তারা জগটিকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা দুটো উলম্ব ভাগে বিভক্ত করেছিল। ডান পাশের ফানেল দিয়ে ডান পাশে তরল যেত এবং বাম পাশের ফানেল দিয়ে বাম পাশে তরল যেত, কিন্তু তরল পদার্থকে এভাবে বের হতে দেয়া যাবে না। এজন্য নির্গমনের জন্য আরেকটি পাইপ লাগানো হতো। দর্শক হিসেবে আসা লোকজন অবশ্যই এগুলোর কিছুই দেখতো না এবং যদিও এটা বেশ সাদামাটা ছিল, তথাপি এই চালাকি তাদেরকে প্রভাবিত ও মুগ্ধ করতো। এই ভাইদের মজা করার ভাবনা তাদেরকে ফোয়ারা ডিজাইনের দিকে ধাবিত করে। আরও জানতে চাইলে নগর বিভাগের ঝরনা অধ্যায়ে একটু চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন।

"কৌতুক কোনো জিনিস নয়, বরং এটা এক প্রক্রিয়া, এক চালাকি - যা আপনি শ্রোতার মনের উপর চালেন। আপনি তার সাথে একটি যুক্তিসঙ্গত উদ্দেশ্য দিয়ে শুরু করেন এবং এরপর হঠাৎ এক মোচড় দিয়ে আপনি তাকে আদৌ কোনো স্থানে রাখেন না কিংবা তাকে এমন এক ময়দানে ফেলে আসেন, যেখানে যাওয়ার প্রত্যাশা সে করেনি।" - ম্যাক্স ইস্টম্যান, মার্কিন লেখক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00