📘 ১০০১ মুসলিম আবিষ্কার > 📄 মুসলিম সভ্যতার ক্রমবিকাশের সময়ক্রম

📄 মুসলিম সভ্যতার ক্রমবিকাশের সময়ক্রম


৬৩২-১৭৯৬

৭ম শতাব্দি থেকে শুরু করে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম বিশ্ব ছিল দক্ষিণ স্পেন থেকে সুদূর চীন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়ে বিভিন্ন বিশ্বাসের নারী ও পুরুষ বিদ্বানেরা প্রাচীন জ্ঞানের উপর নয়া ইমারত দাঁড় করাতে এবং সেটাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতামূলক কাজ করে গেছেন। তারা অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেন, যা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রগতির এক অবিশ্বাস্য বিস্তৃতি এনে দেয় - এনে দেয় সভ্যতার এক সোনালি যুগ।

মুসলিম সভ্যতা গণিত, বিজ্ঞান, স্থাপত্য, পর্যটন, শিক্ষা এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে যে ধরনের সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল, নিচের সময়ক্রমে তারই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এটাও দেখবেন যে, কীভাবে রেনেসাঁর পথ সুগম করতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রাচ্য থেকে ইউরোপে ভ্রমণ করেছে।

৬২৫
৬৩২ নবী মুহাম্মদ (স.) ইন্তেকাল করেন এবং আবু বকর (রা.) প্রথম খলীফা বা মুসলিম শাসক মনোনীত হন।

৬৩৫ (আনুমানিক) ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা উমর (রা.) আশ-শিফাকে মদীনা শহর এবং পরবর্তীতে বসরা শহরের প্রথম নারী স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

৬৩৭ ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে পারস্য, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক এবং পরবর্তীতে মিশরে।

৬৫০
৬৪৪ যাঁতাকলকে ঘোরাতে সক্ষম একটি বায়ুকল (উইন্ডমিল) পারস্যে নির্মিত হয়।

৬৫৪ ইসলাম গোটা উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে।

৬৭৫
৬৯১ জেরুজালেমে কুব্বাত আস-সাখরা (ডোম অফ রক) মসজিদের নির্মাণ কার্য শুরু হয়।

৭০০
৬৬১ দামেস্ক থেকে উমাইয়া রাজবংশ খিলাফত পরিচালনা শুরু করে।

৭৭১ ইসলাম স্পেনে পৌঁছায়।

“বই ছাড়া শিক্ষা লাভ করা যায় না।” আরবী প্রবাদ

৭২২ (আনুমানিক) জাবির ইবনে হাইয়ান জন্মগ্রহণ করেন। তিনি 'রসায়ন শাস্ত্রের জনক' হিসেবে খ্যাত।

৭৫০ আব্বাসীরা উমাইয়াদের উৎখাত করে এবং ৭৬২ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে নতুন রাজধানীর গোড়াপত্তন করে। ওদিকে স্পেন শাসিত হতে থাকে উমাইয়া বংশোদ্ভূতদের দ্বারা।

৭৭৭ (আনুমানিক) আন্তর্লাব নির্মাতা এবং জ্যোতির্বিদ আল-ফারাজী মৃত্যুবরণ করেন।

৭৮০ গণিতজ্ঞ আল-খাওয়ারিযমী জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রন্থ আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা আধুনিক বীজগণিতের সূচনা ঘটায়।

৭৮৫ খলীফা আল-মানসূরের স্বর্ণ দিনারের অনুকরণে রাজা অফফা একটি ম্যানকাস স্বর্ণ মুদ্রা তৈরি করেন।

৭৮৬ বাগদাদে খলীফা হারুন উর-রশিদ বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন।

৭৮৭ কর্ডোবার বিখ্যাত মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

৭৯৫ বাগদাদে প্রথম কাগজকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

৮০০
খলীফা হারুন উর-রশিদ রাজা শার্লামেইনকে একটি ঘড়ি উপহার দেন, যা প্রতি ঘন্টায় বেজে উঠতো।

৮০১ আল-কিন্দী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, দার্শনিক, চিকিৎসক, রসায়নবিদ এবং সঙ্গীতজ্ঞ।

৮১৩ খলীফা আল-মামুন বায়তুল হিকমা সম্প্রসারিত করেন; এই পর্যায়ে অনুবাদ কার্যক্রম বেগবান হয়।

৮২৮ আবু মানসূর বাগদাদের নিকটে আশ-শামসিয়া নামের এক মানমন্দির চালু করেন।

"শিক্ষক যদি জ্ঞানী হন, তবে তিনি তোমাকে তার প্রজ্ঞার নীড়ে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানাবেন না, বরং তিনি তোমাকে তোমার মনের প্রবেশদ্বারে ধাবিত করবেন।" খালীল জিবরান, 'দ্য প্রফেট'

৮৫০ বনী মূসার তিন ভাই তাদের কিতাবুল হিয়াল (উদ্ভাবনকুশলী ডিভাইস) গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

৮৫৮ জ্যোতির্বিদ আল-বাত্তানী জন্মগ্রহণ করেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন মাপকাঠি তিনি নির্ভুলভাবে হিসেব করেন।

৮৫৯ ফাতিমা আল-ফিহরী ফেয-এ আল-কায়রাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ সমাপ্ত করেন।

৮৬৪ আর-রাযী জন্মগ্রহণ করেন। একাধারে তিনি ছিলেন রসায়নবিদ, চিকিৎসক এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষক। তাকে 'রোগব্যাধি ও গবেষণামূলক চিকিৎসার জনক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরবর্তীতে তার লেখাগুলো লাতিন ভাষায় অনুদিত হয়।

৮৭২ মিশরের আব্বাসী গভর্নর আহমাদ ইবনে তুলুন কায়রোতে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে প্রথমবারের মতো মানসিক ব্যাধি চিকিৎসার জন্য আলাদা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৮৮৭ শক্তিচালিত নয় এমন উড্ডয়নের অগ্রদূত আব্বাস ইবনে ফিরনাস কর্ডোবাতে মৃত্যুবরণ করেন।

৮৯০ চিকিৎসক ও বাগদাদ হাসপাতালের পরিদর্শক সিনান ইবনে সাবিত ইবনে কুরা জন্মগ্রহণ করেন। গ্রাম ও বেদুইন এলাকাগুলোতে তিনি ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য সেবা চালু করেন।

৯০০
ফাতিমীরা মিশর ও উত্তর আফ্রিকা শাসন শুরু করে এবং এর ৯ বছর পর তারা সিসিলি শাসন করে।

৯১৩ আব্বাসী খলীফা আল-মুকতাদির সর্বপ্রথম চিকিৎসকদের লাইসেন্সের বিধান প্রবর্তন করেন। বাগদাদের বাব-আশ-শামে তিনি আল-মুকতাদিরী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন; বাগদাদের সূক ইয়াহইয়াতে প্রতিষ্ঠা করেন আস-সায়্যিদা হাসপাতাল।

৯৩৬ সার্জন আয-যাহরাবী কর্ডোবাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সার্জারি বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন করেন। ডজন খানেকেরও বেশি সার্জারির উপকরণ উদ্ভাবনের পাশাপাশি তিনিই সর্বপ্রথম সচিত্র সার্জারি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।

৮৯৫ ইবনে আজ-জায্যার আল-কায়রাওয়ানী জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই সর্বপ্রথম রিসালা ফী সিয়াসাত আস-সিবইয়ান ওয়া তাদবীরিহিম নামে শিশু চিকিৎসা এবং সামাজিক শিশু চিকিৎসার উপর স্বতন্ত্র পুস্তক রচনা করেন।

৯৫০ বাগদাদের আল-ফারাবী ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। বেহালার আদি সংস্করণ তারই উদ্ভাবন।

৯৫৭ মানচিত্রকার এবং লেখক আল-মাসউদী তার বাকু তেলক্ষেত্রগুলোর ভ্রমণ বৃত্তান্ত বর্ণনা করেন।

৯৬৫ চিকিৎসক ইবনুল হাইছাম জন্মগ্রহণ করেন। তার আবিষ্কার ও তত্ত্বগুলো আলোকবিজ্ঞানে বিপ্লব সাধন করে।

৯৭০ কর্ডোভার উমাইয়া খলীফা আল- হাকিম তার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে লাবনা নামের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীকে নিয়োগ দেন।

৯৭২ ফাতিমীরা কایরোতে আল- আযহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।

৯৭৩ আল-বিরুনী জন্মগ্রহণ করেন। জ্যোতির্বিদ, গণিতজ্ঞ ও ভূগোলসহ বহু বিদ্যায় পারদর্শী এ মনীষী পৃথিবীর পরিসীমা নির্ণয় করেন।

৯৭৫

৯৮০ চিকিৎসকদের যুবরাজ ইবনে সীনা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলোড়ন সৃষ্টিকারী আল-কানুন ফীত-তীব রচনা করেন।

৯৮৭ গণিতজ্ঞ এবং আদালতের বিজ্ঞ আইনবিদ সুতাইতা আল- মাহাম্ী বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

৯৯৯ টলেডোতে বাব মারদুম মসজিদের নির্মাণ শুরু হয়, এতে বিশেষ ধরনের পাঁজরাকৃতি ছাদ ব্যবহৃত হয়।

১০০০

১০০৯ জ্যোতির্বিদ ইবনে ইউনূস কায়রোতে ইন্তেকাল করেন এবং রেখে যান হাজারেরও বেশি নির্ভুল নথি, যাতে ৪০- টি গ্রহসংযোগ এবং ৩০-টি চন্দ্রগ্রহণের বিবরণ রয়েছে।

"দুনিয়া একটি গ্রন্থ, যারা দুনিয়া ভ্রমণ করে না, তারা কেবল গ্রন্থের একটি পাতাই পড়ে।” - সেন্ট অগাস্টিন, খ্রিস্টান দার্শনিক

১০২৫

১০৫০
১০৫০ কন্সট্যান্টিন দ্য আফ্রিকান, তিউনিস থেকে সালেরনোতে চলে আসেন। সেই সাথে শুরু হয় ইউরোপে ইসলামী চিকিৎসাবিদ্যার স্থানান্তর।
"দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানার্জন করো।" মুসলিম প্রবাদ

১০৬৫ বাগদাদের প্রথম বিদ্যালয় নিজামিয়া মাদ্রাসা সেলজুক মন্ত্রী নিজামুল মুলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়, যিনি প্রখ্যাত দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদ আল-গাযালীকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন।

১০৬৬ নরম্যানদের ইংল্যান্ড বিজয় ওই দেশে মুসলিম শিল্পকর্ম এবং সেটার সাথে জড়িত ধারণাগুলোর বিস্তৃতি ঘটায়।

১০৭৫

১০৮৫ খ্রিস্টানরা টলেডো দখল করে এবং টলেডোতে আরবী গ্রন্থগুলো লাতিন ভাষায় অনুবাদের জন্য একটি কেন্দ্র গড়ে তোলে। ইবনে বাস্সালের দিওয়ান আল-ফিলাহা কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব এনে দেয়। তিনি ছিলেন স্পেনের টলেডোর বাসিন্দা।

১০৯১ আবু মারওয়ান ইবনে যুহর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন গবেষণামূলক সার্জারির অগ্রনায়ক। ইবনে রুশদের সাথে সহ-লেখক হিসেবে তিনি বিশ্বকোষ আকারের চিকিৎসা পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন। তার দুই কন্যাও চিকিৎসক ছিল।

১০৯৬ প্রথম ক্রুসেড আরম্ভ হয়।

১০৯৯ আল-ইদরিসী জন্মগ্রহণ করেন। সিসিলির নরম্যান রাজা দ্বিতীয় রজারের জন্য তিনি একটি বিশ্ব মানচিত্র প্রস্তুত করেন।

১১০০

১১১০ হাই ইবনে ইয়াকযান-এর রচয়িতা ইবনে তুফায়েল জন্মগ্রহণ করেন।

১১২৫

১১২৬ ইবনে রুশদ জন্মগ্রহণ করেন। দর্শনের উপর তিনি ব্যাপক লেখনীর স্তুপ তৈরি করেন, যেখানে তিনি জ্ঞানতত্ত্ব, প্রাকৃতিক দর্শন ও অধিবিদ্যার উপর উল্লেখ্যযোগ্য তত্ত্বের অবতারণা করেন। দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে তিনি তার বিখ্যাত গবেষণাগ্রন্থ আল-কুলিয়াত ফীত-তীব রচনা করেন, যা লাতিন ভাষায় Colliget নামে পরিচিত।

১১৪০ গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা শেখার জন্য মর্লি-র ড্যানিয়েল কর্ডোবায় যান এবং ফিরে এসে অক্সফোর্ডে শিক্ষা দেন।

১১৪৩ চেস্টার-এর রবার্ট পবিত্র কুরআন এবং আল-খাওয়ারিযমীর গ্রন্থসমূহ অনুবাদ করেন।

১১৪৫ জাবির ইবনে আফলাহ একটি পর্যবেক্ষণ যন্ত্র উদ্ভাবন করেন, যা টরকুয়েটাম নামে পরিচিত। এই যন্ত্র মহাকাশীয় স্থানাংক নির্ণয় করে।

১১৫০

১১৫৪ নূরুদ্দীন যঙ্গি দামেস্কে চিকিৎসাবিদ্যা শেখানোর ব্যবস্থা সম্বলিত বিশালাকার আন-নূরী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

“চিকিৎসা জ্ঞান ছাড়া কেউ যদি কারো চিকিৎসা করে, তবে (এর জন্য সে) দায়ী হবে।” - নবী মুহাম্মদ (ﷺ), বুখারী ও মুসলিম সূত্রে বর্ণিত

১১৮৫ জেরুজালেমের কুব্বাত আস-সাখরার অনুসরণে লন্ডনে টেম্পলাররা টেম্পল চার্চ নির্মাণ করে।

১১৮৬ রাণী দাইফা খাতুন সিরিয়ার আলেপ্পোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সালাউদ্দীনের পুত্রবধূ ছিলেন এবং ছিলেন জ্ঞানার্জন ও বিজ্ঞানের একজন পৃষ্ঠপোষক।

১১৮৭ সালাউদ্দীন আইয়ুবী জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তিনি কায়রোতে আন-নাসিরী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

১১৯৭ উদ্ভিদতত্ত্ববিদ ইবনুল বাইতার মালাগাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঔষধ প্রস্তুত প্রণালি ও ব্যবহারের বিবরণ সম্বলিত আল-জামিউল মুফরাদাত আল-আদবিয়াত ওয়াল আগযিয়াত নামের বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন।

১২০২ ফিবোনাচ্চি নামে পরিচিত পিসার লিওনার্দো তার Libar Abaci গ্রন্থে আরবী সংখ্যা ও গণিতকে ইউরোপীয়দের নিকট উপস্থাপন করেন।

১২০৬ আল-জাযারী তার কিতাব ফী মারিফাতিল হিয়াল আল-হানদাসা (সুনিপুণ যান্ত্রিক ডিভাইস) গ্রন্থটি রচনা সম্পন্ন করেন।

১২১০ ইবনে আন-নাফীস জন্মগ্রহণ করেন। একাধারে আইন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক এই ব্যক্তি সর্বপ্রথম (রক্তের) ফুসফুসীয় সঞ্চালন আবিষ্কার করেন। হাই ইবনে ইয়াকযানে বিবৃত অস্তিত্বের এককত্বের ধারণাকে প্রত্যাখ্যানের জন্য তিনি আস-সিরাহ আল- কামিলিয়া নামে পুস্তিকা লেখেন।

১২২৯ কর্ডোবায় শিক্ষাপ্রাপ্ত রবার্ট গ্রসেটেস্টি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চান্সেলর পদে আসীন হন। তিনি ১২৫৩ খ্রিস্টাব্দে লিংকনের বিশপ মনোনীত হন।

১২৩৩ ইবনুল কুফ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন খ্রিস্টান সার্জন ও লেখক ছিলেন। সার্জারিকে চিকিৎসার একটি বিশেষ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজে তিনি আয-যাহরাবীর প্রচেষ্টাকে সম্প্রসারিত করেন। তিনি কিতাবুল উমদা ফীল-জিরাহাহ (সার্জারির মূলনীতি) নামক গ্রন্থ রচনা করেন।

১২৫০ আইয়ুবীদের পরে মামলুক রাজবংশ মিশর শাসন করে এবং পরবর্তীতে তারা মঙ্গোলদের পরাস্ত করে।

১২৫৪ রাজা আলফোনসো এল সাবিও সেভিলে লাতিন ও আরবী কলেজ স্থাপন করেন এবং আরবী গ্রন্থগুলোর অনুবাদ কর্মসূচি হাতে নেন।

১২৫৫ রাজা প্রথম এডওয়ার্ডের কান্তালীয় নববধূ রাণী এলিনর নিজের বিয়ের যৌতুক হিসেবে আন্দালুসের কার্পেট ইংল্যান্ডে আনেন।

১২৫৬ চক্ষু রোগের উপর ইবনে আবি আল-মাহাসিন আল-হালাবী তার পাণ্ডিত্যসুলভ ভঙ্গিতে রচনা করেন সচিত্র গ্রন্থ "আল-কাফী ফীল- কুহল"। গ্রন্থটি বিস্তৃত আলোচনায় সমৃদ্ধ।

১২৫৮ মঙ্গোলরা সবকিছু তছনছ করে দেয়; তারা বাগদাদ শাসন করে এবং সিরিয়া জয় করে।

১২৬০ রজার বেকন Secrets of art and nature প্রকাশ করেন, যাতে তিনি মুসলিম পণ্ডিতদের প্রভাবশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

“এবং বৃক্ষের পাতায় রয়েছে আরোগ্য এবং জাতির পুনর্নিমাণ।” পবিত্র বাইবেল, প্রত্যাদেশ, ২২:২

১২৬৭ মার্কো পোলো তার ২৪ বছরের ভ্রমণ শুরু করেন।

১২৮৪ ১১ মাসের নির্মাণ কাজের পর কায়রোতে আল-মানসূরী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১২৯৩ মুসলিম স্পেনের বাহিরে ইউরোপের বলোনিয়াতে সর্বপ্রথম কাগজ কল স্থাপিত হয়।

১৩১১ ভেনিসের সার্বজনীন খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্যারিস, অক্সফোর্ড, বলোনিয়া এবং সালামানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজের অনুষদ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৩২৫ ইবনে বতুতা তার ২৯ বছরের সফরের উদ্দেশ্যে তানজাহ ত্যাগ করেন।

১৩৩০ জোত্তোর Madonna and child চিত্রকর্ম তিরাজ ও আরবী নকশি কর্মের ফিতা ব্যবহার করে, যা মুসলিম বিশ্বের রাজকীয় পোশাক ও অন্যান্য বস্ত্রশিল্পের পরিচয় বহন করে।

১৩৩২ সমাজবিজ্ঞানের জনক ইবনে খালদুন জন্মগ্রহণ করেন।

১৩৪৭ ইউরোপ থেকে কালো মৃত্যুর মহামারী আলেকজান্দ্রিয়া ও কায়রোতে পৌঁছায়।

১৩৫৪ আমির পঞ্চম মুহাম্মদ আল- হামরাতে জলচালিত ঘড়ি সিংহ ফোয়ারা তৈরি করেন।

১৩৮৩ রসায়নবিদ মারইয়াম আল- যানাতিয়া তিউনিসের কায়রাওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন।

১৩৮৫ সেরাফেদ্দীন সাবুনচুগলু জন্মগ্রহণ করেন। উছমানী এই সার্জন সার্জারি বিষয়ে মৌলিক গ্রন্থ রচনা করে আয- যাহরাবী ও ইবনুল কুফ-এর কর্মকে এগিয়ে নিয়ে যান।

১৪০৫ যেং হো চীন থেকে তার মহাকাব্যি সমুদ্রযাত্রা শুরু করেন। চীনকে ভারত মহাসাগরে পরাশক্তি হিস্যে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তৎকালের সর্ববৃহৎ কাঠের জাহাজগুলো করে তিনি জিরাফের মতো ভিনদেশী প্রজাতি ও বিভিন্ন জাতি থেকে আনুগত্যের নমুনা হিসেবে খাজনা আদায় করে আসেন।

“শৈলী, ঐকতান, সাবলীলতা এবং উপভোগ্য তালের সৌন্দর্য নির্ভর করে সরলতার উপর।” প্লেটো, গ্রিক দার্শনিক

১৪৩২ আরবে ইবনে মাজিদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ নাবিক ছিলেন এবং বলা হয় যে, ভাস্কো দ্য গামা-কে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে পথ দেখিয়ে আনেন।

১৪৩৭ উলুগ বেগ তার তারকাপঞ্জি প্রকাশ করেন।

১৪৫০

১৪৫২ লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি জন্মগ্রহণ করেন। রেনেসাঁর মূলভিত্তি স্থাপনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান অগ্রনায়ক।

"দুনিয়া সুন্দর স্ত্রীর মতো, যার রূপ-লাবণ্য বর্ধিত করার জন্য মানব সৃষ্ট কোনো রত্নালংকারের দরকার পড়ে না।" খালীল জিবরান, লেবাননীয় লেখক

১৪৭৫

১৪৮৯ খাজা মা'মার সিনান জন্মগ্রহণ করেন। স্বনামধন্য এই স্থপতি তুরষ্কের সালিমিয়া এবং সুলেমানিয়া মসজিদসহ বহু স্থাপনা নির্মাণ করেন।

১৪৯২ ক্রিস্টোফার কলাম্বাস নতুন বিশ্বে পা রাখেন।

১৪৯৭ আয-যাহরাবীর আত-তাসরীফ গ্রন্থের অনুবাদ ভেনিসে প্রকাশিত হয়। বাসেল ও অক্সফোর্ডও সে পথ অনুসরণ করে তা প্রকাশ করে।

১৫০০

১৫১৩ পিরি রেইসের সবচেয়ে প্রাচীন মানচিত্রে আমেরিকাকে দেখানো হয়েছে।

১৫২৫

১৫৪৩ নাসিরউদ্দীন আত-তুসী এবং ইবনে আশ-শাতিরের কর্মের উপর ভিত্তি করে নিকোলাস কপার্নিকাস De Revolutionibus গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

"কেউ যদি বের হয় জ্ঞান অন্বেষণের সফরে, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাত অভিমুখী যেকোন একটি রাস্তা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" -নবী মুহাম্মদ (ﷺ) থেকে আবু দারদা সূত্রে বর্ণিত।

১৫৫০

১৫৫৮ প্রথম জার্মান এবং সম্ভবত প্রথম ইউরোপীয় মানমন্দির জার্মানির কাসেলে স্থাপিত হয়।

১৫৬৪ গ্যালিলিও গ্যালিলি জন্মগ্রহণ করেন।

১৫৭১ ইয়োহান কেপলার জন্মগ্রহণ করেন। ইবনুল হাইছামের কর্মের উপর ভিত্তি করে তিনি আলোকবিজ্ঞানের উপর গ্রন্থ রচনা করেন।

১৫৭৫

১৫৭৭ ইস্তাম্বুলে তাকিউদ্দীনের মানমন্দির তৈরি হয়। কয়েক বছর পরে ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে এটা বন্ধ হয়ে যায়।

১৫৯৩ ইবনে সীনার আল-কানুন রোমে প্রকাশিত হয়। আর- রাযীর আল-হাবী-র সাথে একত্রে তা ইউরোপীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রামাণিক পাঠ্যপুস্তকে পরিণত হয়।

১৬০০

১৬০৪ এডওয়ার্ড পোকক জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরবী ভাষা শেখার জন্য সিরিয়ার আলেপ্পোতে ৫ বছর কাটান। হাই ইবনে ইয়াক্কানের অনুবাদও তিনি করেন, যাকে অবলম্বন করে রবিনসন ক্রুসো উপন্যাসটি রচিত হয়।

১৬০৬ এডমন্ড ক্যাস্টেল জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে সীনার চিকিৎসাবিদ্যাকে উপযোগী করার মানসে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন। প্রায় ১৮ বছরেরও বেশি সময় নিয়ে তিনি ৭-টি এশীয় ভাষার অভিধান সংকলন করেন।

১৬১১ পোল্যান্ডের জ্যোতির্বিদ ইয়োহান হেভিলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার Selenographia (গদানস্ক, ১৬৪৭) গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে ইবনুল হাইছামকে যুক্তিলব্ধ জ্ঞান এবং গ্যালিলিও গ্যালিলিকে ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেন।

১৬১৬ জন ওয়ালিস জন্মগ্রহণ করেন। স্বনামধন্য গণিতজ্ঞ এবং লন্ডনের রয়েল সোসাইটির সদস্য এই ব্যক্তি আরবী গণিত গ্রন্থাদি অনুবাদ করতেন এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন। তিনি তার Opera Mathematica গ্রন্থে আত- তুসীর কর্মকে অন্তর্ভুক্ত করেন।

১৬২৫

১৬২৭ ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত রসায়নবিদ রবার্ট বয়েল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরবী পাণ্ডুলিপিগুলো খোঁজ করতেন এবং সেগুলোর অনুবাদ করাতেন।

১৬৩৩ বসফরাসের উপর প্রথম মানুষবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করেন লাগারী হাসান চেলেবী।

১৬৩৪ লেভান্ট কোম্পানিকে ইংল্যান্ড ফেরতগামী প্রতিটি জাহাজে আরবী পাণ্ডুলিপি পাঠানোর জন্য রাজা প্রথম চার্লস অনুরোধ করেন।

১৬৪২ আইজাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার গ্রন্থাগারে ইবনুল হাইছামের কিতাবুল মানাযির-এর লাতিন অনুবাদের একটি কপি সংগ্রহে রাখেন।

১৬৫০ তুর্কি বণিকেরা যুক্তরাজ্যে কফি নিয়ে আসে।

১৬৫৬ বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ এডমন্ড হ্যালি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্রিক গণিতের আরবী সংস্করণগুলোর অনুবাদ করেন এবং আল-বাত্তানীর পর্যবেক্ষণসমূহ নিয়ে গবেষণা চালান।

১৬৬৪ হেভিলিয়াসের অনুরোধে রয়েল সোসাইটি উলুগ বেগের ফার্সি ভাষায় লিখিত জ্যোতিষশাস্ত্রীয় পাণ্ডুলিপির পুরোটা লাতিন ভাষায় অনুবাদে সম্মত হয়।

১৬৭৮ জন গ্রিস রয়েল সোসাইটির Philosophical Transactions (দার্শনিক আদান-প্রদান) সাময়িকীতে বৃহদাকার চুল্লিতে একসাথে হাজারেরও বেশি মুরগির ডিম ফোটানোর মিশরীয় পদ্ধতির উপর প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

১৬৮২ লন্ডনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইবনে হাদ্দু লন্ডনের রয়েল সোসাইটির সদস্য মনোনীত হন।

১৭১১ গুটিবসন্ত প্রতিরোধে তুরস্কে ভ্যাকসিন প্রদানের চর্চা দেখে লেডি মেরি মন্টাগু ব্রিটেনে সেটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

১৭২৫ লন্ডনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ বিন আলী আবগালী লন্ডনের রয়েল সোসাইটির সদস্য মনোনীত হন।

১৭২৯ ত্রিপলির রাষ্ট্রদূত কাসেম আগা গুটিবসন্ত প্রতিরোধে উত্তর আফ্রিকার বহুল প্রচলিত ভ্যাকসিন প্রথা নিয়ে লেখেন এবং তিনি লন্ডনের রয়েল সোসাইটির সদস্য মনোনীত হন।

১৭৯৬ গো-বসন্তের ভ্যাকসিন নিয়ে এডওয়ার্ড জেনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

"কেউ যদি ভালো চিকিৎসক হতে চায়, তাকে অবশ্যই ইবনে সীনার অনুসারী হতে হবে।" প্রাচীন ইউরোপীয় প্রবাদ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00