📄 তাবলীগীদের অলীক কাহিনীসমূহের কিছু নমুনা
তাবলীগীদের অলীক কাহিনী সমূহের কিছু নমুনা (بعض القصص المنكرة للتبليغيين)
১. ছুফী সাইয়িদ আহমাদ রিফা'ঈ হজ্জের পরে মদীনায় গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারত করেন ৫৫৫ হিজরীতে এবং সেখানে গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর প্রশংসায় দু'লাইন কবিতা পাঠ করেন। তখন রাসূল (ছাঃ) খুশী হয়ে তাঁর দু'হাত বের করে দিলেন ও রিফা'ঈ তাতে চুমু খেলেন'। লেখক শায়খুল হাদীছ (?) মাওলানা যাকারিয়া এক ধাপ বাড়িয়ে বলেন যে, ঐ সময় সেখানে প্রায় ৯০,০০০ লোক উপস্থিত ছিলেন, যারা উক্ত দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। যাদের মধ্যে ('বড় পীর') আব্দুল কাদের জীলানী (৪৭০-৫৬১ হিঃ) উপস্থিত ছিলেন'।৫৬
২. মাওলানা যাকারিয়া নিজের 'দালায়েলুল খায়রাত' বইটি লেখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি একদা সফর অবস্থায় ওযূর পানির সংকটে পড়েন। দড়ি-বালতি না থাকার কারণে তিনি কুয়া থেকে পানি উঠাতে পারছিলেন না। একটি মেয়ে এ দৃশ্য দেখে কুয়ার নিকটে এসে তাতে থুথু নিক্ষেপ করল। সাথে সাথে কুয়ার পানি কিনারা পর্যন্ত উঠে এলো। লেখক বিস্মিত হয়ে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, এটি দরূদ শরীফের বরকত। এ ঘটনার পর আমি উক্ত বইটি লিখি'। ৫৭ পাঠকগণ ভালভাবেই জানেন যে, হিজরতের পর পানির কষ্টে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম মদীনায় কিভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে জনৈক ইহুদীর নিকট থেকে ওছমান (রাঃ) বি'রে রূমাহ (بئر رومة) নামক বিখ্যাত কুয়াটি খরিদ করে সেটি মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন। ৫৮ অথচ একটি সাধারণ বালিকার থুথু নিক্ষেপে কুয়া ভরে গেল। গল্প আর কাকে বলে!!
৩. শায়খ আবুল খায়ের আক্বতা' বলেন, আমি পাঁচদিন যাবত কিছু খেতে না পেয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ অন্তে তাঁর মেহমান হিসাবে তাঁর কবরের নিকটে ঘুমিয়ে গেলাম। এমতাবস্থায় স্বপ্নে আমার নিকটে রাসূল (ছাঃ) তাঁর তিন সাথী আবুবকর, ওমর ও আলী (রাঃ)-কে নিয়ে এলেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর কপালে চুমু খেলাম। অতঃপর তিনি আমাকে একটি রুটি দান করলেন। অর্ধেক রুটি খাওয়া শেষ না হ'তেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তখন দেখি যে, বাকী অর্ধেক রুটি আমার হাতে ধরা আছে'। ৫৯ তাবলীগী নেছাবের প্রায় সর্বত্র এ ধরনের উদ্ভট স্বপ্ন ও ভিত্তিহীন গল্পসমূহ উদ্ধৃত হয়েছে। যা পাঠককে পথভ্রষ্ট করে মাত্র।
৪. দরূদেই জান্নাত:
(ক) জনৈক ছুফী বলেন, মিসত্বাহ নামে আমার এক প্রতিবেশী ছিল, যে সর্বদা মদে দূর হয়ে থাকত। তার দিন-রাতের কোন খবর থাকত না। আমি তাকে বহু উপদেশ দিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আমি তাকে তওবা করতে বলতাম। কিন্তু সে তাও করেনি। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, সে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদার সাথে আছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, আমি এক মুহাদ্দিছের মজলিসে ছিলাম। এক সময় তিনি বললেন, যে ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে দরূদ পড়বে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। একথা শুনে আমি জোরসে দরূد পড়ি এবং অন্যেরাও পড়ে। ফলে ঐ মজলিসে উপস্থিত আমাদের সকলের গোনাহ মাফ হয়ে যায়। আর সেকারণেই আমি আজ জান্নাতে এসেছি।৬০ শুধু মদখোর মিসত্বাহ নয়, ইমাম শাফেঈ (রাঃ)-এর মত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মহান ব্যক্তিও নাকি কেবল দরূদ পাঠের কারণে জান্নাত লাভ করেছেন।
তাঁর অন্য নেক আমলের কারণে নয়। যেমন (খ) তাঁর একজন শাগরেদের বরাতে লেখা হয়েছে, আমি আমার উস্তাদের মৃত্যুর পরে তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম। জিজ্ঞেস করলাম, উস্তাদজী কেমন আছেন? তিনি বললেন, আমাকে খুবই সম্মানের সাথে জান্নাতে নেওয়া হয়েছে। আর এসবই হয়েছে কেবলমাত্র দরূদের বরকতে'। ৬১
নিকৃষ্ট পাপী ও শ্রেষ্ঠ পুণ্যবান দু'জনের দু'টি বানোয়াট গল্প দিয়ে লেখক শায়খুল হাদীছ বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমলের কোন প্রয়োজন নেই; কেবল দরূদ পাঠ করলেই জান্নাত অবধারিত। জান্নাত লাভ যদি এতই সস্তা হ'ত, তাহ'লে ওহোদের ময়দানে রাসূল (ছাঃ)-এর দাঁত ভাঙতো না এবং তাঁর ও ছাহাবায়ে কেরামের জীবনে এত কষ্ট হ'ত না। শুধু ঘরে বসে দরূদ পড়লেই ইসলাম কায়েম হ'ত।
কেবল ছুফী ও ইমামের নামে নয় এবার সরাসরি ছাহাবী, তাবেঈ ও রাসূলের নামে মিথ্যাচার। যেমন (গ) হযরত আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ (রাঃ) বলেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাইরে এলেন এবং আমাদের বললেন, আমি রাত্রিতে স্বপ্নে একটি আশ্চর্য দৃশ্য দেখলাম যে, একজন ব্যক্তি পুলছেরাতের উপর কখনো পা ঘেঁষে চলছে, কখনো হাঁটুতে ভর করে চলছে, কখনো যেন কোন কিছুতে আটকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমার উপর দরূদ তার নিকটে পৌঁছে গেল এবং সে তাকে দাঁড় করিয়ে পুলছেরাত পার করে দিল।' (ঘ) 'বিখ্যাত তাবেঈ হযরত সুফিয়ান বিন ওয়ায়না (রাঃ) হযরত খালাফ থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার এক বন্ধু ছিল যে আমার সঙ্গে হাদীছ পড়ত, তার মৃত্যু হয়ে গেল। আমি তাকে স্বপ্নে দেখলাম যে নতুন সবুজ কাপড় পরে সে দৌড়-ঝাপ করছে। আমি বললাম, তুমি তো আমার হাদীছের সহপাঠি ছিলে। তোমার এত উচ্চ সম্মান ও মর্যাদা কি কারণে হ'ল? সে বলল, হাদীছ তো আমি তোমার সাথেই লিখতাম। কিন্তু যখনই হাদীছের নীচে নবী করীম (ছাঃ)-এর নাম আসত, তখনই আমি তার নীচে 'ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম' লিখে দিতাম। আল্লাহ জাল্লা শানুহু তারই বিনিময়ে আমাকে এই মহা সম্মান দান করেছেন, যা তুমি দেখছ'। ৬২
এইসব ভিত্তিহীন গল্প দিয়ে এরা মুসলমানকে কুরআন-হাদীছ থেকে দুরে সরিয়ে নিয়ে পীর-মাশায়েখ, ছুফী-বুযর্গ ও বিদ'আতী মুরব্বীদের গোলামে পরিণত করেছে এবং হাদীছ বাদ দিয়ে এদের অলীক কেচ্ছা-কাহিনী ও কাশফ-কারামতের উপর বিশ্বাসী করে গড়ে তুলেছে। অথচ নবী ব্যতীত অন্য কারু ইলহাম ও স্বপ্ন, ইসলামে কোন দলীল হিসাবে গৃহীত নয়। সম্ভবতঃ এ কারণেই তাবলীগী ভাইয়েরা তাদের কোন তা'লীমে কুরআনের তাফসীর বা কোন অনূদিত হাদীছ গ্রন্থ পাঠ করেন না। ফলে সারা জীবন তাবলীগ করেও এরা ছহীহ তরীকায় ছালাতটুকু আদায় করতে শিখে না। মসজিদগুলিতে এখন কুরআন-হাদীছের তা'লীমের বদলে এদের এইসব মিথ্যা গল্পে ভরা তাবলীগী নেছাবের তা'লীম হয়ে থাকে। কেননা তাদের শোনানো হয় যে, একবার তাবলীগে গেলে তার প্রতিটি নেক আমলের বিনিময়ে ঊনপঞ্চাশ কোটি নেকী হয়। ৬৩
এই নেকীর পাহাড় তাদের বর্তমান মুরব্বীদের আবিষ্কার। যেমন তারা এখন আবার চালু করেছে যে, যারা তাদের বার্ষিক ইজতেমায় (টঙ্গী) যায় এবং আখেরী মুনাজাতে অংশ নেয়, তারা একটি কবুল হজ্জের নেকী পায়। অর্থাৎ সে ঐদিনের মত পাপমুক্ত হয়, যেদিন তার মা তাকে নিষ্পাপ অবস্থায় প্রসব করেছিল। ফলে বহু লোক এখন মক্কায় হজ্জে যাওয়ার চাইতে টঙ্গী যাওয়াকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সেখানে এখন প্রতিবছর লাখো মানুষের ঢল নামছে। অথচ বোকারা জানেনা যে, কোটি মানুষের জমায়েত হ'লেও তা কখনো হজ্জের নেকীর সাথে তুলনীয় নয়। এরপরেও সেখানে গিয়ে শেখার কিছু নেই, দেশী-বিদেশী ভাষায় ছয় উছুলের বর্ণনা আর তাবলীগী নেছাবের চর্বিত চর্বণ ছাড়া। মানুষ ভাবে এখানে এলাম, হজ্জের ছওয়াব পেলাম। বহু পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ বিষয়ে উম্মতকে হুঁশিয়ার করে গিয়েছেন এই বলে যে, لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُحَجَّ الْبَيْتُ ‘কিয়ামত হবেনা যতদিন না বায়তুল্লাহ্র হজ্জ বন্ধ হয়’। ৬৪ হ্যাঁ, সেটাই শুরু করেছে তাবলীগী ভাইয়েরা। ওদিকে আরেক দল ছুটছে 'ওরসে' গরু-খাসি নিয়ে মৃত পীরের অসীলায় ও তার গদ্দীনশীন হুযুরের দো'আ ও তাবাররুক নিয়ে অভীষ্ট লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা জান্নাত পাবার মিথ্যা ধারণার বশবর্তী হয়ে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন!
'ফাযায়েলে দরূদ শরীফে' বর্ণিত ৫০টি গল্পের শেষ গল্পে মাওলানা যাকারিয়া বলেন, ফাযায়েলের পুস্তিকা সমূহ লিখার সময়কালে এই নাচীয ও তার অনেক বন্ধু স্বপ্নের মধ্যে সুসংবাদ প্রাপ্ত হন। শেষে 'ফাযায়েলে দরূদ শরীফ' লেখার সময় দু'বার স্বপ্ন দেখি যে, এই পুস্তিকা শেষে ক্বাছীদা (প্রশংসামূলক দীর্ঘ কবিতা) অবশ্যই লিখো। তখন আমি মোল্লা জামীর বিখ্যাত ক্বাছীদা লেখার সিদ্ধান্ত নিই। কেননা উক্ত ক্বাছীদা লিখে হজ্জে গেলে তিনি যখন মদীনায় গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তা পড়তে এরাদা করেন, তখন রাসূল (ছাঃ) মক্কার আমীরকে পরপর দু'বার স্বপ্নে বলে দেন যে, জামী যেন মদীনায় না আসে। তখন তাকে গ্রেফতার করে জেলখানায় রাখা হয়। পরে তৃতীয়বার স্বপ্নে তিনি আমীরকে বলেন যে, লোকটি অপরাধী নয়। তবে সে আমার প্রশংসায় ক্বাছীদা লিখেছে, যা সে আমার কবরে এসে পড়তে চায়। তাতে তার সাথে মুছাফাহার জন্য কবর থেকে আমার হাত বের হবে। তখন লোকদের মধ্যে ফিৎনার সৃষ্টি হতে পারে। সেজন্য আমি তাকে এখানে আসতে নিষেধ করেছি।' এরপর তাকে জেল থেকে বের করা হয় ও উচ্চ সম্মান দেওয়া হয়। লেখক মাওলানা যাকারিয়া বলেন, উক্ত কাহিনী জানার কারণেই তাঁর লিখিত ক্বাছীদার প্রতি নাচীযের হৃদয় আকৃষ্ট হয় এবং এখনও পর্যন্ত সেই ধারণায় কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। অতঃপর তিনি ৩২ লাইনের ফার্সী ক্বাছীদা উর্দু অনুবাদ সহ যোগ করেছেন (পৃঃ ১১২-১১৩)।
উপরে বর্ণিত কাহিনীর মাধ্যমে মাওলানা যাকারিয়ার কুরআন-হাদীছ বিরোধী আক্বীদা পরিষ্কার হয়ে গেছে। কেননা কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, 'তুমি কোন কবরবাসীকে শুনাতে পারো না' (ফাতির ৩৫/২২)। 'তুমি কোন মৃতব্যক্তিকে শুনাতে পারো না' (নামল ২৭/৮০)। মৃতব্যক্তি কারু উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। সেটা সম্ভব হলে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের পাশেই ইমামতি করা অবস্থায় খলীফা ওমর (রাঃ)-এর উপর আততায়ীর হামলা ও পরে শাহাদাত লাভ এবং মসজিদের পাশেই তৃতীয় খলিফা হযরত ওছমান গণী (রাঃ)-এর উপর বিদ্রোহীদের হামলা ও শাহাদাত লাভ রাসূল (ছাঃ) ঠেকিয়ে দিতেন বা অন্যদের স্বপ্ন দেখিয়ে ঠেকাতে বলতেন। অথচ উপরে বর্ণিত এক উদ্ভট স্বপ্নকেই মাওলানা যাকারিয়া তাঁর তাবলীগী নেছাব লেখার উদ্দেশ্য হিসাবে গ্রহণ করেছেন, যা একেবারেই ইসলাম বিরোধী।
টিকাঃ
৫৬. ফাযায়েলে হজ্জ, ২/১৩০-১৩১ পৃঃ।
৫৭. ফাযায়েলে দরূদ শরীফ ১/৮৩ গল্প নং ৬।
৫৮. তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/৬০৬৬, সনদ হাসান; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল হা/১৫৯৪।
৫৯. ফাযায়েলে দরূদ পৃঃ ১০৫ গল্প নং ৪৮(২); ফাযায়েলে হজ্জ পৃঃ ১২৮ গল্প নং ৮।
৬০. ফাযায়েলে দরূদ শরীফ পৃঃ ৮৬ গল্প নং ১৭।
৬১. ফাযায়েলে দরূদ শরীফ পৃঃ ৮২, গল্প নং ৩।
৬২. ফাযায়েলে দরূদ শরীফ পৃঃ ৮৯ গল্প নং ২৩ ৩২৪।
৬৩. এজন্য দু'টি যঈফ হাদীছ (আবুদাউদ হা/২৪৯৮ 'জিহাদ' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৪; ইবনু মাজাহ হা/২৭৬১ অনুচ্ছেদ-৪, মিশকাত হা/৩৮৫৭) সাতশো ও সাত লক্ষ নেকী গুণ করে এই উনপঞ্চাশ কোটি বানানো হয়েছে।
৬৪ বুখারী হা/১৫৯৩; 'হজ্জ' অধ্যায়-২৫, অনুচ্ছেদ-৪৭।
📄 চিল্লা প্রথা
চিল্লা প্রথা (بدعة الأربعين)
চল্লিশ দিনের জন্য নিজস্ব খরচে তাবলীগে বের হওয়াকে 'চিল্লা' বলে। চিল্লা হ'ল তাবলীগীদের ভিত্তিমূলক রুকন (الركن الأساسي)। যে ব্যক্তি চিল্লায় বের হয়, তাকে তারা মহব্বত করে, সম্মান করে ও তার অপরাধসমূহ ক্ষমা করে। আর যারা এর বিরোধিতা করে, তারা তাকে গ্রহণ করে না, যদিও সে ইসলামের ফরয-ওয়াজিবসমূহ পালন করে। প্রচলিত বিদ'আতী তাবলীগকে শরী'আত সিদ্ধ প্রমাণ করার জন্য তারা সূরা আলে ইমরানের ১১০ নং আয়াতে বর্ণিত أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ -এর অপব্যাখ্যা করে এটাকেই ‘চিল্লার পক্ষে কুরআনী নির্দেশ' বলতে চেয়েছেন এবং এই মর্মে তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস নাকি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছেন এই মর্মে যে, إِنَّكَ أُخْرِجْتَ لِلنَّاسِ مِثْلَ الْأَنْبِيَاءِ নবীগণের ন্যায়।' যদিও তিনি নিজে চিল্লায় যেতেন না। বরং অধিকাংশ সময় আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গোহীর কবরের পিছনে বসে থাকতেন এবং নূর সাঈদ বাদায়ূনীর কবরের নিকটে নিরালায় জামা'আতে ছালাত আদায় করতেন। ৬৬ অথচ কবরে ছালাত আদায় করা শরী'আতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শায়খ তাক্বিউদ্দীন হেলালী বলেন, 'চিল্লা তাদের দ্বীনের সারমর্ম' (خلاصة دينهم)।
এর ভিত্তিতেই তারা পরস্পরে ভালবাসে অথবা শত্রুতা করে। অথচ এর মাধ্যমে তারা ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। যেমন, (১) এর মাধ্যমে তারা দ্বীনের মধ্যে বিদ'আত সৃষ্টি করে এবং সুন্নাতে রাসূলের বিরোধিতা করে (২) তারা স্ত্রী-সন্তানাদি ও পিতা-মাতার হক নষ্ট করে (৩) ছাত্রদেরকে তাদের দ্বীনী ইল্ম শিক্ষা করা থেকে বিরত রাখে (৪) তারা ব্যবসায়ীদের ব্যবসা থেকে দূরে রাখে এবং তাদের মাধ্যমে যারা যাকাত ও ছাদাক্বা লাভ করত, তাদেরকে বঞ্চিত করে। এভাবে বহু বঞ্চিত মানুষের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্র কাছে ও মানুষের কাছে জমা হয়'। তিনি বলেন, 'ইসলাম আসার আগে ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পায়ে হেটে বহু দূরে চলে যেত। বাধ্য না হলে তারা কোন কিছুতে সওয়ার হতো না। অতঃপর জঙ্গলে বা অন্য কোথাও নিরালায় বসে ক্ষুৎ-পিপাসায় কাতর হয়ে ঈশ্বর বন্দনায় লিপ্ত হতো। এভাবে তারা দিনের পর দিন কাটিয়ে দিত'। তিনি বলেন, 'হে তাবলীগীরা! তোমাদের এই ঘরবাড়ি ছেড়ে চিল্লায় যাওয়ার প্রথা যদি ব্রাহ্মণদের ধর্ম থেকে না নেওয়াও হয়, তথাপি এটি হ'ল নিকৃষ্টতম বিদ'আত ও নিকৃষ্টতম ভ্রষ্টতা। যা ভারতীয় মূর্তিপূজারীদের হুবহু অনুকরণ, যা তোমরা পুরোপুরিভাবে ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছ। অথচ তোমাদের এই জোশ ও পারস্পরিক সহযোগিতা ব্যয় করা ওয়াজিব ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতের দিকে মানুষকে আহবানের কাজে'। তিনি বলেন, 'তাবলীগীদের মাদরাসাগুলি মানুষের রায়-কিয়াসের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় ও সেখানে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে সংকুচিত করা হয়'। তিনি বলেন, 'তাবলীগীরা বলে, তাদের চিল্লার মাধ্যমে বহু অমুসলিম মুসলমান হয়'। উত্তরে একথা বলা যায় যে, 'এতে শুরুটা ভাল হলেও পরিণামে মন্দ হয়। কেননা সে ছাহাবা, তাবেঈন ও সালাফে ছালেহীনের তরীকায় গড়ে ওঠে না। বরং তাবলীগীদের বিদ'আতী ও ভ্রান্ত রীতিতে গড়ে ওঠে। ফলে যে ব্যক্তি এভাবে তৈরী হয়, সে ব্যক্তির ইসলাম কবুলে খুশী হবার কিছু নেই। কেননা সে ৭২ ফের্কার অন্তর্ভুক্ত হয়, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জাহান্নামের দুঃসংবাদ দিয়েছেন'। ৬৭
চিল্লায় গিয়ে মানুষকে ছয় উছুল (কালেমা, ছালাত, ইলম ও যিকর, ইকরামুল মুসলিমীন, তাছহীহে নিয়ত, তাবলীগ) শিখানো হয়। ফলে ইসলামের ৫টি বুনিয়াদ শিক্ষা (ঈমান, ছালাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্জ) গৌণ হয়ে যায়। অমনিভাবে ৪ মাযহাব ফরয সহ ১৩০ ফরয মুখস্ত করানো হয়। এছাড়া নানা দায়েমী ফরয, দায়েমী সুন্নাত, খানাপিনা-পেশাব-পায়খানা সহ নানা বিধ আদব, ফরয-ওয়াজিব ও সুন্নাতের বিরাট তালিকা মুখস্ত করানো, গাশত-তা'লীম, সফর-মোশাওয়ারা, অতঃপর ফাযায়েলের বায়ান ইত্যাদির মধ্যে একজন মানুষকে সর্বদা ব্যস্ত রাখা হয়। ৬৮ অথচ তাদেরকে কুরআন ও হাদীছ শিখানো হয় না। তাওহীদ ও শিরক, সুন্নাত ও বিদ'আত বুঝানো হয় না। যেগুলি ইসলামের মৌলিক বিষয়।
টিকাঃ
৬৫. আব্দুর রহমান উমরী, তাবলীগী জামা'আত আওর উসকা নিছাব (নয়াদিল্লী: দারুল কিতাব, ১৯৮৮ খৃঃ), পৃঃ ১৩; গৃহীত: মালফুযাতে মাওলানা ইলিয়াস পৃঃ ৫১।
৬৬. আল-ক্বাওলুল বালীগ পৃঃ ২১৫, ১৬, ২৬।
৬৭. আল-ক্বাওলুল বালীগ পৃঃ ২২২, ২২৩।
৬৮. এক মোবাল্লেগের পয়লা নোট বই, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ জুলফিকার আহমদ মজুমদার (ঢাকা: ১৯৭৮)।
📄 হাদীছ পরিবর্তনে মাযহাবী আলেমগণ
হাদীছ পরিবর্তনে মাযহাবী আলেমগণ (علماء المذاهب في تحريف الحديث)
(১) শাফা'আত : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন: شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبائر منْ أُمَّتَى 'আমার শাফা'আত হবে আমার উম্মতের কাবীরা গোনাহগারদের জন্য'। ৬৯
মু'তাযিলা বিদ্বানগণের মতে কাবীরা গোনাহগারগণ চিরস্থায়ী জাহান্নামী। তারা শাফা'আতের হকদার নয়। অতএব তারা এ হাদীছে 'কাবায়ের' অর্থ করেছে 'ছালাওয়াত' অর্থাৎ 'ছালাতসমূহের অধিকারী মুমিনদের জন্যই আমার শাফা'আত হবে'।
কেননা 'ছালাত' হ'ল বড় ইবাদত। যেমন আল্লাহ বলেন, وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ 'ছালাত নিশ্চই বড় বিষয়, বিনত বান্দাগণের উপরে ব্যতীত' (বাক্বারাহ ২/৪৫)।৭০
)২) বিতর: আয়েশা (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِثَلَاثِ لَا يَقْعُدُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিন রাক'আত বিতর পড়তেন এবং শেষ রাক'আত ব্যতীত বসতেন না'।৭১ কিন্তু জনৈক হিন্দুস্তানী হানাফী আলেম তাঁদের মুদ্রিত 'মুস্তাদরাকে হাকেমে' নিজেদের মাযহাবের অনুকূলে সেখানে لَا يَقْعُدُ পাল্টিয়ে لَا يُسَلِّمُ করেছেন। অর্থাৎ তিনি শেষের রাক'আত ব্যতীত 'সালাম ফিরাতেন না'। কেননা হানাফীগণ তিন রাক'আত বিতরের দ্বিতীয় রাক'আতে বৈঠক করে থাকেন। অথচ মুস্তাদরাকের উক্ত হাদীছের নীচে ইমাম যাহাবীর 'তালখীছে' ঠিকই لَا يَقْعُدُ শব্দ রয়েছে। ৭২ বায়হাক্বীতেও উক্ত হাদীছে لَا يَقْعُدُ শব্দ এসেছে (৩/২৮ পৃঃ)।
(৩) তারাবীহ: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বিশ রাক'আত তারাবীহ্ কোন হাদীছ নেই। অতএব ওমর ফারুক (রাঃ) থেকে বিশ রাক'আত তারাবীহ প্রমাণের জন্য আবুদাউদে বর্ণিত لَيْلَةَ عِشْرِينَ -কে رَكْعَةً عِشْرِينَ করা হয়েছে হিন্দুস্তানে মুদ্রিত আবুদাউদ গ্রন্থে।৭৩ অর্থাৎ 'বিশ রাত্রি'কে 'বিশ রাক'আত' বানানো হয়েছে। হাদীছটি হ'ল: হাসান বলেন যে, ওমর (রাঃ) উবাই বিন কা'বের ইমামতিতে তারাবীহর ছালাতে সবাইকে একত্রিত করেন এবং তিনি তাদেরকে ২০ রাত্রি ছালাত আদায় করান'...। ৭৪ উল্লেখ্য যে, আরব জগতের প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মাদ আলী ছাবুনী স্বীয় 'তারাবীহ' সংক্রান্ত বইয়ের ৫৬ পৃষ্ঠায় মুগনী ইবনু কুদামাহ্র বরাতে رَكْعَةً عِشْرِينَ লিখেছেন। এর দ্বারা তিনি উদ্ধৃতিতে 'তাহরীফ' (পরিবর্তন) করেছেন।
কেননা মুগনীতে عشرينَ لَيْلَةً রয়েছে। আহলেহাদীছগণের বিরুদ্ধে মুহাম্মাদ আলী ছাবৃনীর বিদ্বেষ বিদ্বানগণের নিকটে বহুল পরিচিত। আল্লাহ্ গুণাবলী সম্পর্কিত তাঁর আক্বীদা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিরোধী। ৭৫
(৪) বাংলাদেশের বিভিন্ন বঙ্গানুবাদ তাফসীর ও হাদীছসমূহের কিতাবে মাযহাবী সংর্কীণতার ভুরি ভুরি প্রমাণ সুধী জনের নিকটে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। সর্বাধিক প্রসিদ্ধ বঙ্গানুবাদ 'মেশকাত শরীফে' মু'তাযিলা ও মুর্জিয়াদের অনুকূলে এবং হানাফী মাযহাবের পক্ষে হাদীছের ভুল অনুবাদ ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শায়খুল হাদীছ আযীযুল হক-এর বঙ্গানুবাদ বুখারীকে তো সরাসরি 'রাদ্দুল বুখারী' বলাই উত্তম। নানা টীকা- টিপ্পনী দিয়ে বুখারীর ছহীহ হাদীছগুলি রদ করাই যেন তাঁর বঙ্গানুবাদের মূল উদ্দেশ্য। কেননা ছহীহ বুখারীতে হানাফী মাযহাবের অনুকূলে ছালাতে নাভির নীচে হাত বাঁধা, নীরবে আমীন বলা, রাফ'উল ইয়াদায়েন না করা, জানাযার ছালাতে সূরা ফাতিহা না পড়া, বিশ রাক'আত তারাবী পড়া ইত্যাদির কোন হাদীছ নাই। বরং এসবের বিপক্ষে হাদীছ রয়েছে। অতএব যে কোন মূল্যে সেগুলিকে রদ করার জন্য টিকাতে রীতিমত মাযহাবী কাঁচি চালানো হয়েছে।
(৫) উছুলে ফিক্বহ বা 'ফিক্বহের মূলনীতিসমূহ' নামে উছুলুশ শাশী, নূরুল আনওয়ার প্রভৃতি যেসব বই পরবর্তীকালে রচিত হয়েছে এবং যেগুলি উপমহাদেশের মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পাঠ্যবই হিসাবে গৃহীত হয়েছে, সেগুলিতে নিজেদের রচিত মূলনীতি বিরোধী ছহীহ হাদীছসমূহকে ন্যাক্কারজনকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যেমন 'নূরুল আনওয়ার'-এর 'খাছ' অধ্যায়ে বর্ণিত ছালাতে তা'দীলে আরকান ফরয হওয়ার বিষয়ে বুখারী ও মুসলিম-এর ছহীহ হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করাসহ অন্যান্য উদাহরণ সমূহ। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী (১১১৪-১১৭৬/১৭০৩-১৭৬২) বলেন, وَأَمْثَالُ ذَلِكَ أُصُولٌ مُخَرَّجَةٌ عَلَى كَلَامِ الْأَئِمَّةِ، وَأَنَّهُ لَا تَصِحُ بِهَا رِوَايَةٌ عَنْ أَبِي حَنِيفَةً وَصَاحِبَيْهِ 'অনুরূপ বিষয়গুলির সবই ইমামদের কথার উপরে ভিত্তি করে উচ্ছ্বল বের করা হয়েছে। অথচ এগুলির কোন একটিরও বর্ণনা আবু হানীফা ও তাঁর দুই শিষ্য থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়'। ৭৬ এ কারণেই ভুক্তভোগীগণ উছুলে ফিকুহ-কে 'হাদীছ কাটা কাঁচি' বলে থাকেন। অর্থাৎ নিজেদের মাযহাব বিরোধী ছহীহ হাদীছ সমূহকে কর্তন করার উদ্দেশ্যেই 'উছুলে ফিক্বহ' নামে পৃথক শাস্ত্র তৈরী করা হয়েছে।
(৪) ছালাতে নাভীর নীচে হাত বাঁধা : এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। তাই মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহতে বর্ণিত হাদীছে (১/৩৯০( تَحْتَ السُّرَّة )নাভীর নীচে) কথাটি যোগ করে হাদীছ পরিবর্তন (তাহরীফ) করা হয়েছে। আর একাজটি করেছে করাচীর 'এদারাতুল কুরআন ওয়াল উলূমিল ইসলামিয়াহ' নামক প্রকাশনা সংস্থা'। ভারতের আনোয়ার শাহ কাশ্মীরীর ন্যায় বিখ্যাত হানাফী আলেমগণ যার প্রতিবাদ করেছেন।
(৫) রুকুর আগে ও পরে রাফ'উল ইয়াদায়েন করা : হানাফী মাযহাবে এটা নাজায়েয। অথচ চার খলীফা ও আশারায়ে মুবাশশরাহ সহ অন্যূন ৫০ জন ছাহাবী থেকে এ বিষয়ে অন্যূন ৪০০ ছহীহ হাদীছ ও আছার বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু স্রেফ মাযহাবী গোঁড়ামীর কারণে ভারতের হায়দারাবাদ ছাপা মুসনাদে আবু 'আওয়ানাতে বর্ণিত وَلَا يَرْفَعُهَا থেকে واو বিলুপ্ত করে স্রেফ لَا يَرْفَعُهَا করা হয়েছে। যাতে মূল অর্থ সম্পূর্ণরূপে উল্টে গিয়ে নিজেদের মাযহাবের পক্ষে অর্থ করা যায়। অর্থাৎ মূলে ছিল عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا وَقَالَ بَعْضُهُمْ: حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَلَا يَرْفَعُهُمَا ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ ওমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি যখন তিনি ছালাত শুরু করেন তখন দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঁচু করেন এবং যখন রুকূতে যাওয়ার এরাদা করেন ও রুকু থেকে মাথা উঠান। আর তিনি দু'হাত উঁচু করেননি, কেউ বলেছেন উঁচু করেননি দুই সিজদার মাঝে। অবশ্য অর্থ একই।' অত্র বাক্যে وَلَا يَرْفَعُهُمَا -এর واو )আর) শব্দটি বিলুপ্ত করলে অর্থ হবে হানাফী মাযহাব মতে তিনি রুকূতে যাওয়া এবং ওঠার সময় দু'হাত উঠাননি। অথচ মূল হাদীছ তার বিপরীত। ৭৭
শুধু তাই নয় খোদ ইমাম বুখারীর উস্তাদ হুমায়দীর (মৃ. ২১৯হিঃ) বিখ্যাত গ্রন্থ মুসনাদুল হুমায়দীতেও শাব্দিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন হাবীবুর রহমান আ'যামীর তাহকীককৃত ভারতীয় ছাপা (১৩৮৭ হিঃ/১৯৬৩ খৃঃ) মুসনাদুল হুমায়দী হা/৬১৪-তে ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণিত রাফ'উল ইয়াদায়েন-এর বিখ্যাত হাদীছে فَلَا يَرْفَعُ وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ - এর আগে بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ করা হয়েছে। অর্থাৎ 'রুকূতে যাওয়া ও রুকু থেকে ওঠার সময় রাফ'উল ইয়াদায়েন করতেন না এবং দুই সিজদাতেও করতেন না। '৭৮
(৬) ইমামের তাক্বলীদ এবং নিজেদের মাযহাব প্রমাণ করতে গিয়ে সূরা নিসা ৫৯ আয়াতের তাফসীরে শায়খ মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী (মৃ. ১৩৩৯ হিঃ/১৯১৮ খৃঃ) বৃদ্ধি করেছেন أَطِيعُوا الله وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ وَأُوْلَى الْأَمْرِ مِنْكُمْ إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِالله 'তোমরা কোন বিষয়ে মতভেদ করলে সেটা ফিরিয়ে দাও আল্লাহ, রাসূল ও তোমাদের মধ্যেকার আদেশদানের অধিকারীদের নিকট'-অর্থাৎ ইমামদের নিকট। ৭৯
(৭) কুরআন সহজে মুখস্তযোগ্য হওয়ার পক্ষে প্রমাণ পেশ করতে গিয়ে وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذَّكْرِ ، فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ؟ )ক্বামার ১৭) -এর মর্ম পরিবর্তন করে শায়খুল হাদীছ মাওলানা যাকারিয়া (মৃ. ১৪০২ হিঃ/১৯৮২ খৃঃ) অনুবাদ করেছেন, ہم نے کلام پاک کو حفظ کرنے کے لئے سہل کر رکھا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے ہم کلام پاک کو حفظ کرنے کے لئے سہل کر رکھا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے ہم کلام پاک کو حفظ کرنے کے لئے سہل کر رکھا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے ہم کلام پاک کو حفظ کرنے کے لئے سہل کر رکھا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل کر رہا ہے ، کوئی ہے حفظ کے لئے سہل কর راہا হ্যায়।
করনে ওয়ালা?'আমরা কুরআনকে হিফয করার জন্য সহজ করেছি। আছে কি কেউ হেফযকারী?'৮০ অথচ অন্যান্য সকল বিদ্বান উক্ত আয়াতের অনুবাদ করেছেন, 'আমরা কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ লাভের জন্য। অতএব আছে কি কেউ উপদেশ প্রহণকারী?'
এমনিভাবে অন্যান্য মাসআলার ব্যাপারেও হাদীছের মতন (Text) পরিবর্তন করা হয়েছে স্রেফ মাযহাবী গোঁড়ামীর বশবর্তী হয়ে। এমনকি কুরআনের কোন কোন আয়াতের পরিবর্তন আনা হয়েছে দুঃসাহসিকভাবে। এছাড়াও রয়েছে হাদীছের একাংশ, যা নিজ মাযহাবের অনূকূলে, সেটুকু গ্রহণ করা ও বাকী অংশ যা স্বীয় মাযহাবের প্রতিকূলে তা বর্জন করার অসংখ্য প্রমাণ। এমনকি ছহীহ হাদীছের অর্থ নিজ মাযহাবের অনুকূলে বিকৃত করার নযীরের কোন অভাব নেই। অনুরূপভাবে স্বীয় ইমামের পক্ষে ও অন্য মাযহাবের ইমামের বিরুদ্ধে নোংরা মন্তব্য করে হাদীছ বানানোর বহু প্রমাণ পেশ করা যাবে। বলা বাহুল্য, এগুলি হাদীছ অস্বীকার করার চাইতে কোন অংশে কম নয়। বরং তার চাইতে মারাত্মক। এছাড়াও রয়েছে যঈফ ও মওযূ হাদীছে ভরা, সাথে সাথে কুরআন-হাদীছের অপব্যাখ্যায় ভরপুর কিতাবসমূহ। অথচ সেগুলির প্রচলন জনসাধারণের মধ্যে খুবই বেশী।
এদিকে ইঙ্গিত করেই খ্যাতনামা হানাফী বিদ্বান আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী (১৮৪৮-১৮৮৬ খৃঃ) হানাফী ও শাফেঈ মাযহাবের 'হেদায়া' ও 'আল-ওয়াজীয' প্রভৃতি বিশ্বস্ত ফিকুহ গ্রন্থগুলির অমার্জনীয় হাদীছ বিরোধিতা সম্পর্কে বলেন যে, مَمْلُوءٌ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَةِ، لا سَيِّمَا الْفَتَاوَي 'মওযু' যা জাল হাদীছ দ্বারা পরিপূর্ণ, বিশেষ করে ফৎওয়াসমূহের ক্ষেত্রে'। ৮১
এ দেশের প্রেক্ষাপটে ইতিপূর্বে আলোচিত লেখকদের অধিকাংশ বই ছাড়াও ইমাম গায্যালীর 'এহইয়াউ উলূমিদ্দীন' বইটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রয়েছে কম ইল্ল্ম ধর্মীয় লেখকদের এবং মা'রেফতী ছুফীদের অসংখ্য ভ্রান্তিকর লেখনী, যা হর-হামেশা মানুষের ঈমান ও আমলকে ত্রুটিপূর্ণ করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উক্ত লেখনীসমূহ নাস্তিক্যবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী লেখকদের সহায়ক হিসাবে কাজ করছে। অতএব আমাদের চোখ-কান সর্বদা খোলা রাখতে হবে। সম্ভবতঃ একারণেই খ্যাতনামা তাবেঈ বিদ্বান মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (৩৩-১১০ হিঃ) বলেছেন, إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دَيْنٌ، فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُوْنَ دِينَكُمْ নিশ্চয় কুরআন-হাদীছের ইল্মটাই হ'ল দ্বীন। অতএব তোমরা দেখ, কার নিকট থেকে দ্বীন গ্রহণ করছ'।৮২
ইমাম শাফেঈ (রহঃ)-এর উস্তাদ ইমাম অকী' (রহঃ) বলেন, من طلب الحديث كما جاءه فهو صاحب سنة، ومن طلب الحديث ليتقوي هواه فهو صاحب بدعة যে ব্যক্তি হাদীছ অনুসন্ধান করে যেভাবে তা এসেছে সেভাবে, ঐ ব্যক্তি সুন্নাতের অনুসারী। আর যে ব্যক্তি হাদীছ অনুসন্ধান করে তার নিজের ধারণাকে শক্তিশালী করার জন্য, ঐ ব্যক্তি বিদ'আতী।' তিনি আরও বলেন, أهل السنة يرون ما لهم وما عليهم وأهل البدعة لا يرون إلا ما لهم - 'সুন্নাতের অনুসারীগণ দৃষ্টি দেন যা তাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে। পক্ষান্তরে বিদ'আতীগণ দৃষ্টি দেন কেবল যা তাদের পক্ষে।'৮৩ অর্থাৎ প্রকৃত আহলে সুন্নাত বা আহলেহাদীছগণ সর্বদা নিজেদের রায়ের উপরে ছহীহ হাদীছকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। সেটা তার নিজের ইচ্ছার পক্ষে হৌক বা বিপক্ষে হৌক, নির্বিবাদে তা মেনে নেন।
অনেকের ধারণা, হাদীছের খেদমত করলেই তিনি হাদীছপন্থী হয়ে থাকেন। কিন্তু আসলে তা নয়। মাযহাবী গোঁড়ামী এবং বিদ'আতী আক্বীদার কারণে হাদীছের নূর তার উপর কার্যকর হয় না। তার জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ উপরের শায়খুল হাদীছগণ এবং দেউবন্দী ও ব্রেলভী শীর্ষস্থানীয় আলেমদের বিকৃত আক্বীদা ও আমলসমূহের উপরে লিখিত বই-কিতাব সমূহ।
মূলতঃ এসব কারণেই উপমহাদেশে মুসলিম সমাজে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে 'ওয়াহদাতুল উজুদ' ও 'হুলুল' অর্থাৎ অদ্বৈতবাদী ও সর্বেশ্বরবাদী কুফরী দর্শন। প্রচারিত হয়েছে বাতিল আক্বীদাসমূহ। যেমন, আল্লাহ নিরাকার।
তিনি সর্বত্র বিরাজমান। 'আব্দ ও মা'বুদে কোন পার্থক্য নেই। যত কল্লা তত আল্লাহ। মুহাম্মাদ (ছাঃ) নূরের তৈরী। তিনি সর্বত্র হাযির-নাযির। পীর-মাশায়েখগণ মরে গিয়েও কবরে বেঁচে থাকেন ও ভক্তদের আবেদন শুনেন ও তা পূরণ করেন' ইত্যাদি শিরকী বিশ্বাস সমূহ। সেজন্যেই মানুষ ছালাত-ছিয়ামের চাইতে তথাকথিত মা'রেফত হাছিল, মীলাদ-ক্বিয়াম ও কবরপূজার প্রতি বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে বললে তারা জোরের সাথে বলেন, التَّفْرِيقُ بَيْنَ الْعَبْدِ وَالْمَعْبُودِ هُوَ الشَّرْكُ بعينه - 'সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তার মধ্যে পার্থক্য করাটাই হ'ল প্রকৃত শিরক।' এজন্য তারা কুরআনের আয়াতের বিকৃত অর্থ করতেও দ্বিধা করেননি। যেমন আল্লাহ বলেন, قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لاَ تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَة الله 'আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপরে যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহ্ রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না' (যুমার ৩৯/৫৩)। এখানে عبادي (আমার বান্দাগণ) অর্থ করা হয়েছে عبادُ الرَّسُول 'রাসূলের বান্দাগণ' (নাউযুবিল্লাহ)। ৮৪
এছাড়াও রয়েছেন অতি সাম্প্রতিক ভারতীয় মুহাদ্দিছ শায়খ হাবীবুর রহমান আ'যমী হানাফী (১৩১৯-১৪১৩হিঃ/১৯০০-১৯৯২খৃঃ), যিনি হাদীছের উপরে ৪০ খণ্ডের বিশাল গ্রন্থরাজি সংকলন করেছেন এবং হাদীছের খেদমতে জীবনের ৬০ বছরের অধিক সময় ব্যয় করেছেন। কিন্তু তার মাযহাবী গোঁড়ামীতে কোনই পরিবর্তন আসেনি। ফলে তার এই বিরাট খিদমত পণ্ডশ্রম ব্যতীত কিছুই হয়নি। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন!
পরিশেষে বলব, হাদীছ হ'ল ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় মূল স্তম্ভ। কুরআন ও হাদীছ উভয়েরই হেফাযতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ গ্রহণ করেছেন। অতএব, হাদীছের প্রামাণিকতায় অবিশ্বাস বা সন্দেহ পোষণ কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ আমাদের দ্বীন ও ঈমানকে হেফাযত করুন- আমীন!
টিকাঃ
৬৯. আবুদাউদ, তিরমিযী, প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ, মিশকাত হা/৫৫৯৮।
৭০. যাওয়াবে' পৃঃ ৩১৯।
৭১. যাওয়াবে' পৃঃ ৩২৫; মুস্তাদরাকে হাকেম।
৭২. মুস্তাদরাকে হাকেম (হায়দরাবাদ: ১৩৩৫ হিঃ/১৯১০খৃঃ) পৃঃ ১/৩০৪।
৭৩. যাওয়াবে' পৃঃ ৩২৮।
৭৪. আবুদাউদ হা/১৪২৯; ঐ, মিশকাত হা/১২৯৩ 'কুনূত' অনুচ্ছেদ, হাদীছ যঈফ।
৭৫. বিস্তারিত আলোচনা দ্রষ্টব্য: যাওয়াবে' পৃঃ ৩২৫-৩৩১।
৭৬. হজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ ১/১৬০ পৃঃ।
৭৭. যাওয়াবে' ৩৩৭ পৃঃ।
৭৮. যাওয়াবে' ৩৪০ পৃঃ।
৭৯. যাওয়াবে' ৩২১ পৃঃ (টীকা-২)।
৮০. ফাযায়েলে কুরআন মাজীদ পৃঃ ৫৫।
৮১. মুকাদ্দামা নাফে' কবীর পৃঃ ১৩।
৮২. মুকাদ্দামা মুসলিম; মিশকাত হা/২৭৩ 'ইল্ম' অধ্যায়।
৮৩. যাওয়াবে' পৃঃ ৩৫৪।
৮৪. সাইয়েদ তালেবুর রহমান, আদ-দেউবন্দীয়াহ (রাওয়ালপিণ্ডি, তাবি) পৃঃ ১৮-১৯; গৃহীত: হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কী (মৃঃ ১২৭৬ হিঃ), শামায়েমে এমদাদিয়া (মাদানী কুতুবখানা, মুলতান, পাকিস্তান) পৃঃ ৩৭, ৭১, ৮১। ব্রেলভীদের আক্বীদা ও ইতিহাস সম্পর্কে দ্রষ্টব্য: ইহসান ইলাহী যহীর প্রণীত 'আল-ব্রেলভিয়াহ আক্বায়েদ ওয়া তারীখ' (রিয়াদ: ১৪০৪/১৯৮৪)।
৮৫. যাওয়াবে' পৃঃ ৩১৪।
📄 করজোড়ে নিবেদন
করজোড়ে নিবেদন
সম্মানিত ওলামা ও সংশ্লিষ্ট সকলের নিকটে করজোড়ে নিবেদন, আমাদেরকে ভুল বুঝবেন না। একজন মুসলমান হিসাবে দায়িত্বের অংশ মনে করে স্রেফ উম্মতের ইছলাহের উদ্দেশ্যে আমরা উপরের বিষয়গুলি আলোচনায় এনেছি। যাতে আখেরাতে মুক্তির সন্ধানী ভাই-বোনদের পথ চলা সহজ হয়।
إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أنيب - (هود ۸۸) -
[শুকরিয়াসহ গ্রন্থপঞ্জীর নাম: (১) ছালাহুদ্দীন মকবুল আহমাদ প্রণীত زوابع في السنة ومكانتها في (২) ডঃ মুস্তফা সাবাঈ প্রণীত وجه السنة قديما وحديثا (৩) ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবু শাহবা প্রণীত دفاع عن السنة ও التشريع الإسلامي الحديث حجية بنفسه في العقائد (৪) শায়েখ আলবানী প্রণীত قديما وحديثا (৫) হামিদ বিন আব্দুল্লাহ তাজেরী প্রণীত القول البليغ في التحذير من والأحكام (৬) শায়েখ ইসমাঈল গুজরানওয়ালা প্রণীত حجيت حديث ( جماعة التبليغ (৮) তাবেশ মাহদী রচিত مولانا আব্দুর রউফ নেপালী প্রণীত صیانۃ الحدیث تبيني (৯) আব্দুর রহমান উমরী প্রণীত تبلیغی جماعة اور اس کا نصاب ও نصاب ایک مطالعہ (১১) মাওলানা যাকারিয়া প্রণীত মাওলানা মওদূদী রচিত تفصیمات، خطبات ও فضائل تبلیغی نصاب و اعمال।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
॥ সমাপ্ত ॥
(১) আল্লাহ বলেন, لِيَحْمِلُوا أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ علْمِ أَلا سَاءَ مَا يَزِرُوْنَ - (النحل ২৫)-
'ক্বিয়ামতের দিন ওরা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে নিজেদের পাপভার এবং ঐসব লোকের পাপভার, যাদেরকে ওরা তাদের অজ্ঞতাহেতু বিপথগামী করে। সাবধান! খুবই নিকৃষ্ট বোঝা তারা বহন করে থাকে' (নাহল ১৬/২৫)।
(২) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرٍ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلى ضَلَالَةِ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامٍ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا، رواه مسلم-
'যে ব্যক্তি মানুষকে হেদায়াতের পথে আহ্বান করল, তার জন্য ঐ পরিমাণ পুরস্কার রয়েছে, যে পরিমাণ পুরস্কার তার অনুসারীগণ পাবে। তাদেরকে তাদের পুরস্কার হ'তে এতটুকুও কম করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকে আহবান জানালো, তার উপরে ঐ পরিমাণ গুনাহ চাপানো হবে, যে পরিমাণ গুনাহ তার অনুসারীদের উপরে চাপবে। তাদেরকে তাদের গুনাহ থেকে এতটুকুও কম করা হবে না' (মুসলিম, মিশকাত, হা/১৫৮, ২১০)।
(৩) তিনি আরও বলেন, إِنَّ اللهَ احْتَجَزَ التَّوْبَةَ عَنْ صَاحِبِ كُلِّ بِدْعَةِ 'নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক বিদ'আতী থেকে তওবার দরজা বন্ধ রাখেন (যতক্ষণ না সে তার বিদ'আত পরিত্যাগ করে)' (ত্বাবারাণী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬২০)।