📘 হাদিসের প্রামানিকতা > 📄 ভারতীয় স্কুল

📄 ভারতীয় স্কুল


(مدرسة الهند) ভারতীয় স্কুল
১. স্যার সৈয়দ আহমাদ খান (১৮১৭-১৮৯৮ খৃঃ)
আরব বিশ্বে মিসরীয় পণ্ডিত মুফতী মুহাম্মাদ আবদুহু (১৮৪৯-১৯০৫ খৃঃ) ও তাঁর অনুসারীদের ফিৎনার সমসাময়িক কালে ভারত উপমহাদেশে স্যার সৈয়দ আহমাদ খান ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়' এই ফিৎনার সূতিকাগার হিসাবে গণ্য হয়।
هو في الهند أشبه شيئ بالشيخ محمد عبده في CRINE GRAIN 58 مصر 'মিসরে মুফতী মুহাম্মাদ আবদুহু-র ন্যায় তিনি ছিলেন ভারতে'। তিনি বলেন 'الإصلاح عندهما إصلاح العقلية ! اصلاح ছিল যুক্তিবাদ ভিত্তিক সংস্কার'।
সৈয়দ আহমাদ খান যদিও ভারতে ইংরেজ শাসনের সমর্থক ছিলেন।
তথাপি তিনি তাদের খৃষ্টানীকরণের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে ও ইসলামের পক্ষে জোরালো কলমী যুদ্ধ চালিয়েছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি কুরআন-হাদীছের চাইতে মানতিত্ত্ব ও যুক্তিবাদের উপরে অধিক নির্ভর করেছেন। তাঁর জ্ঞান তাঁর ইল্মের চাইতে বেশী ছিল।
কুরআনের যুক্তি ভিত্তিক তাফসীর করতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'কুরআন যখন সঠিকভাবে বুঝা যাবে, তখন তা জ্ঞানের সাথে মিলে যাবে।.....অতএব জ্ঞান ও রুচির আলোকে তাফসীর করা ওয়াজিব'। এর ফলে তিনি তাঁর জ্ঞান ও রুচি বিরোধী বহু আয়াত ও ছহীহ হাদীছের ভুল অর্থ ও দূরতম তাবীল করেছেন। জ্ঞান মোতাবেক না হওয়ায় তিনি নবীদের মু'জেযাকে অস্বীকার করেছেন এবং বহু ছহীহ হাদীছকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর আক্বীদাসমূহের ছিটেফোঁটা নিম্নরূপ:
(১) হৃদয়ের বিশ্বাসকেই মাত্র ঈমান বলা হয়। যদি কেউ হৃদয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে, সে ব্যক্তি মুমিন। যদিও সে অন্য ধর্মের বাহ্যিক নিদর্শনাদির সাথে সামঞ্জস্য রাখে। যেমন হিন্দুদের ন্যায় গলায় ও বগলের নীচ দিয়ে পৈতা ঝুলানো, ইহুদী-খৃষ্টান ও মজুসীদের ন্যায় কোমরে বেল্ট বা শিকল পরিধান করা কিংবা গলায় ক্রুশ (বা তার সদৃশ বস্তু) ঝুলানো, তাদের পূজা- পার্বণ, বড় দিন ইত্যাদি উৎসবাদিতে যোগদান করা (২) 'নবুঅত' উন্নত চরিত্রের একটি দৃঢ় স্বভাবগত ক্ষমতার নাম (৩) নবীদের মু'জেযা তাঁদের নবুঅতের প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত নয় (৪) কুরআন উন্নত ভাষা ও অলংকারের জন্য معجز বা হতবুদ্ধিকারী নয়; বরং হেদায়াত ও শিক্ষাসমূহের কারণে (৫) কুরআনের কোন আয়াত শব্দগত, অর্থগত বা হুকুমগত কোন দিক দিয়েই 'মানসূখ' বা হুকুম রহিত নয় (৬) আসমানী কোন কিতাবে কখনোই কোন 'তাহরীফ' বা শাব্দিক পরিবর্তন হয়নি (৭) রাসূল (ছাঃ)-এর পরবর্তী খলীফাগণ 'নবুঅতের প্রতিনিধি' নন ইত্যাদি।
তাঁর এই কল্পনানির্ভর অতি যুক্তিবাদী ধ্যান-ধারণা বহু বিলাসী পণ্ডিতের মনোজগতে নাড়া দেয় এবং তারাও একই পথ ধরে হাদীছ অস্বীকারের চোরা পথ বেছে নেন। যেমন মৌলবী চেরাগ আলী, আব্দুল্লাহ চকড়ালবী, আহমাদ দ্বীন অমৃতসরী প্রমুখ পণ্ডিত প্রকাশ্যে বলতে থাকেন যে, দ্বীনী বিষয়সমূহে কুরআনই যথেষ্ট, হাদীছের কোন প্রয়োজন নেই। তবে যেগুলি তাদের প্রবৃত্তির অনুকূলে হ'ত, সেগুলিকে তারা গ্রহণ করতেন।
২. চেরাগ আলী
সৈয়দ আহমাদ খানের চিন্তাধারার অনুসারী মৌলবী চেরাগ আলী বলেন, ‘সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড হিসাবে হাদীছের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের কোন প্রয়োজন নেই। কেননা চূড়ান্ত বিচারে হাদীছের উপরে ভরসা করা সম্ভব নয়’।
৩. আব্দুল্লাহ চকড়ালবী
সৈয়দ আহমাদ খানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইনি ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে লাহোরে হাদীছ অস্বীকারের আন্দোলন শুরু করেন এবং বেশ কিছু বই রচনা করেন। তিনি বলেন, ‘লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপরে মিথ্যারোপ করেছে এবং তার নামে হাদীছ বর্ণনা করেছে’। তিনি তাঁর দলীয় লোকদের জন্য ছালাতের নতুন নিয়ম-বিধি জারি করেন এবং বলেন যে, আযান ও এক্বামত দেওয়া বিদ'আত। এ ধরনের আরও কিছু বিদ'আতী নিয়ম তিনি চালু করেন।
৪. মুহিব্বুল হক আযীমাবাদী
সৈয়দ আহমাদ খানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইনি পাটনাতে ইনকারে হাদীছের আন্দোলন শুরু করেন, যেমন আব্দুল্লাহ চকড়ালবী লাহোরে আন্দোলন শুরু করেন।
৫. নাযীর আহমাদ দেহলভী
আরবী ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর যথেষ্ট দখল ছিল। তিনি হাদীছের রাবীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এরা মূর্খ। এরা হাদীছের তাৎপর্য বুঝে না’। তিনি বৃদ্ধ বয়সে কুরআন হেফয করেন এবং উর্দু ভাষায় কুরআনের তরজমা ও তাফসীর করেন। উক্ত তাফসীরের মধ্যে তিনি অগ্রাহ্য কথা সমূহ ভরে দিয়েছেন।
৬. আহমাদ দ্বীন অমৃতসরী
আব্দুল্লাহ চকড়ালবীর সহযোগী এই ব্যক্তি পূর্ব পাঞ্জাবের অমৃতসরে ইনকারে হাদীছের আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। ‘আল-উম্মাতুল ইসলামিয়াহ' (ইসলামী দল) নামক দলের তিনি প্রতিষ্ঠাতা।
৭. এনায়াতুল্লাহ মাশরেকী
লণ্ডনের কেমব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী এই পণ্ডিত উগ্র আধুনিকতার ঝাণ্ডা উড্ডীন করেন ও সালাফে ছালেহীনের পথ থেকে বিচ্যুত হন। তিনি আলেমদের থেকে ও তাঁদের অনুসৃত ইসলাম থেকে নিজেকে বিমুক্ত ঘোষণা করেন। তিনি হাদীছ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তার বইসমূহে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ব্যাপারে বিদ্রুপ করেন। তিনি শুধুমাত্র কুরআনের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার মূলনীতি সমূহ তৈরী করেন এবং এজন্য ১০ টি উচ্ছ্বল বা মূলনীতি নির্ধারণ করেন ও ধারণা করেন যে, এগুলিই হ'ল কুরআনের সারবস্তু ও রিসালাতের মূল কথা।
৮. ক্বাযী মুহাম্মাদ শফী'
হাদীছ সম্পর্কে তার লেখনীসমূহে বহু বিচ্যুতি রয়েছে। যেমন তিনি বলেন, 'বহু হাদীছ এমন রয়েছে, যা যৌন সাহিত্যের সাথে সামঞ্জস্য রাখে' (নাউযুবিল্লাহ)।
৯. আসলাম জয়রাজপুরী
হাদীছ অস্বীকারকারীদের মধ্যে উপমহাদেশে শীর্ষস্থানীয়দের অন্যতম। ইনি হাদীছ অস্বীকারকারীদের নেতা গোলাম আহমাদ পারভেয-এর প্রধান সহযোগী, বরং উস্তায ছিলেন। ইনিই হাদীছের বিরুদ্ধে তার নষ্ট চিন্তাধারা সমূহ 'মাক্কামে হাদীছ' (হাদীছের স্থান) নামে উর্দুতে দু'খণ্ডে বই আকারে প্রকাশ করেন।
১০. গোলাম আহমাদ পারভেয
'আহলে কুরআন' (কুরআনের অনুসারী) নামক হাদীছ বিরোধী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এই ব্যক্তি তার সংগঠনের মুখপত্র 'তুলু'এ ইসলাম' ( طلوع اسلام বা ইসলামের উদয়) নামক পত্রিকার মাধ্যমে এবং হাদীছের বিরুদ্ধে বহু বই ও পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে ইনকারে হাদীছের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কুরআন ও হাদীছের ইল্‌মে অজ্ঞ কতিপয় ইংরেজী শিক্ষিত পণ্ডিত বিজাতীয় ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাদীছের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক দুশমনী শুরু করেন। তাদের প্রতিপাদ্য বিষয় হ'ল: আধুনিক যুগে প্রাচীন যুগের ফেলে আসা হাদীছের অনুসরণ বাতিল।'
ডঃ মুহাম্মাদ মুছতুফা আ'যমী বলেন, প্রাচীন ও আধুনিক যুগের সকল মুনকিরে হাদীছ ছালাত, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি ফরযসমূহ ও এসবের ক্রিয়ানুষ্ঠানসমূহ কবুল করে নিয়েছে। কিন্তু 'আহলে কুরআন' গ্রুপ এমন কউর হাদীছ দুশমন যে, তারা এসব সর্বজন গৃহীত ইবাদত সমূহকেও অস্বীকার করেছে। তারা বলে যে, 'কুরআন আমাদের বারবার ছালাতের ও যাকাতের হুকুম করেছে। এভাবে পুনরুক্তি না করে আল্লাহ ইচ্ছা করলে এসবের ব্যাখ্যা দিতে পারতেন এবং বলতে পারতেন 'তোমরা যোহর, আছর ও এশা চার রাক'আত, মাগরিব তিন রাক'আত ও ফজর দু'রাক'আত পড়; কিন্তু তিনি এসব বলেননি। অতএব আনুষ্ঠানিকভাবে ছালাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদতের কোন বাধ্যবাধকতা নেই'।
এতেই বুঝা যায়, তারা হাদীছের বিরোধিতায় কতদূর পৌঁছে গেছে। তারা বুঝে না যে, কুরআন ও হাদীছ উভয়ের বর্ণনাকারী হ'লেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এবং উভয়ের বাহক ও প্রচারক হ'লেন ছাহাবায়ে কেরাম। তারা হাদীছকে অস্বীকার করে পরোক্ষভাবে রাসূলকেই অস্বীকার করেছে (নাউযুবিল্লাহ)।
হাদীছ দুশমনদের উক্ত কাতারে অগ্রণীদের মধ্যে উর্দু পত্রিকা 'নুকার' )نگار 'নিষ্কৃতি')-এর সম্পাদক নিয়ায ফতেহপুরী এবং ইনকারে হাদীছ বিষয়ে বিভিন্ন পুস্তিকার লেখক গোলাম জীলানী বারকু ছিলেন অন্যতম। হাদীছের প্রামাণিকতার বিরুদ্ধে তাদের বহু ভ্রান্তিকর ও অমার্জনীয় লেখনীসমূহ রয়েছে। তবে তারা উভয়ে মৃত্যুর পূর্বে তওবা করে গেছেন (আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করুন!)। কিন্তু যে সকল লেখনী তাদের বেরিয়ে গেছে, যা লোকদের জন্য স্থায়ী ভ্রান্তির উৎস হয়ে আছে, সেগুলি পড়ে যেন কোন অল্প বুদ্ধি লোক বিভ্রান্ত না হন, সেদিকে সুধী পাঠক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

টিকাঃ
২০. নিয়ায ফতেহপুরী রচিত উর্দু 'ছাহাবিয়াত' বইটি 'মহিলা সাহাবী' নামে বাংলায় অনুবাদ করেছেন জনাব গোলাম সোবহান সিদ্দিকী। প্রকাশক : আল-ফালাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা। যেখানে ১৪ জন মহিলা ছাহাবীর জীবনী আলোচিত হয়েছে। আলোচনায় লেখক তাঁর উদ্দেশ্য ঠিক রেখেছেন। যেমন মা আয়েশা (রাঃ)-এর জীবনী আলোচনা শেষে 'একটি পর্যালোচনা' শিরোনামে তিনি বলেন, তিনি (অর্থাৎ আয়েশা (রাঃ) যা কিছু বলতেন, যে ব্যাখ্যা করতেন, তা ছিল সম্পূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক এবং যুক্তি নির্ভর। তাঁর এমন বর্ণনা খুব কমই পাওয়া যাবে, যা বিশ্বাস করার জন্য অহেতুক ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে।.... তিনি ছিলেন অন্ধ অনুকরণের ঘোর বিরোধী। রাসূলে খোদার কথা ও কাজের সত্যিকার তাৎপর্যে উপনীত হওয়ার জন্য সর্বদা চেষ্টা করতেন তিনি। শরীয়তে সবচেয়ে যুক্তিযুক্তের অনুবর্তনের যে প্রবল ধারা তার বর্ণনা থেকে প্রতিভাত হয়, তা সাধারণতঃ অন্য কারো বর্ণনায় পরিলক্ষিত হয় না' (মহিলা সাহাবী পৃঃ ৬৫)।
পাঠক! নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে, লেখক এখানে মা আয়েশা (রাঃ)-এর যুক্তিবাদী মেধাকেই অগ্রগণ্য করেছেন। তাঁর হাদীছ অনুসরণকে নয়। অথচ আলী (রাঃ) বলেছেন, যদি দ্বীন মানুষের 'রায়' বা জ্ঞান মোতাবেক হ'ত, তাহ'লে মোযার নীচে মাসাহ করা উত্তম হ'ত মোযার উপরে মাসাহ করার চাইতে' (আবুদাউদ হা/১৬২ 'মাসাহ' অনুচ্ছেদ নং ৬৩)। নিঃসন্দেহে ইসলাম জ্ঞান ও যুক্তিবাদী ধর্ম। কিন্তু তাই বলে তার সবকিছুই সর্বদা সকলের যুক্তি ও জ্ঞান মোতাবেক হবে, এমনটি কখনোই নয়। কেননা মানুষের জ্ঞান সবার সমান নয় এবং আল্লাহর জ্ঞানের সাথে মানুষের জ্ঞান তুলনীয় নয়। অতএব চোখ-কান খোলা রেখে এসব লেখকদের বই পড়তে হবে। নইলে নিজের অজান্তেই এদের পাতানো ফাঁদে আটকে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যাবে।-লেখক।

📘 হাদিসের প্রামানিকতা > 📄 হাদীছ বিরোধীদের অভিযোগসমূহ

📄 হাদীছ বিরোধীদের অভিযোগসমূহ


(إدعاء منكري الحديث) হাদীছ বিরোধীদের অভিযোগসমূহ
হাদীছ বিরোধী পণ্ডিতগণের অভিযোগসমূহ প্রধানতঃ পাঁচটি। যা মূলতঃ মু'তাযিলা পণ্ডিতদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছিল। সেখান থেকে আধুনিক প্রাচ্যবিদগণ নিয়েছেন। অতঃপর সেখান থেকে আধুনিক ইসলামী চিন্তাবিদ নামে খ্যাত কিছু মুসলিম পণ্ডিত নকল করেছেন। নিম্নে এগুলির সার-সংক্ষেপ প্রদত্ত হ'ল :
(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের আমলে হাদীছসমূহ লিপিবদ্ধ হয়নি।
(২) ছাহাবীগণ হাদীছ লেখার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নিষেধাজ্ঞার তাৎপর্য সঠিকভাবে বুঝেছিলেন বলেই তাঁরা হাদীছ লিপিবদ্ধ করেননি।
(৩) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর একশত বৎসর পরে প্রথম হাদীছ সংকলিত হয়। পরে তা হারিয়ে যায়। অতঃপর তৃতীয় শতাব্দী হিজরীতে এসে লোকদের মুখ থেকে শুনে তা পুনরায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
(৪) জাল হাদীছসমূহ ছহীহ হাদীছসমূহের সাথে মিশে যায়। যা পরে পৃথক করা সম্ভব হয়নি।
(৫) মুহাদ্দিছ বিদ্বানগণ হাদীছ বাছাইয়ের যে সব মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, তার সমস্তটাই সনদ ও রাবীদের সমালোচনায় কেন্দ্রীভূত। মতনের (Text) আসল-নকল যাচাইয়ের প্রতি তাঁরা যথাযথ নযর দেননি।
অথচ উক্ত অভিযোগগুলির সবই মিথ্যা। বরং সূর্যের মুখে ধুলা ছিটানোর শামিল। হাদীছ শাস্ত্রের একজন সাধারণ পাঠকও এসব কথার জবাব দিতে পারেন।

📘 হাদিসের প্রামানিকতা > 📄 হাদীছ বিরোধীদের যুক্তিসমূহ

📄 হাদীছ বিরোধীদের যুক্তিসমূহ


(أدلة منكري الحديث (sline Rasions
১. কুরআন সকল বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেশ করেছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন, مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْء 'আমরা কিতাবে কোন কিছু ছাড়িনি' (আন'আম ৬/৩৮)। অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْء 'আর আমরা আপনার উপরে কুরআন নাযিল করেছি (মানুষের প্রয়োজনীয়) সকল বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা হিসাবে' (নাহল ১৬/৮৯)। অতএব হাদীছের প্রয়োজন নেই (যাওয়াবে' পৃঃ ৩১৯)।
প্রথম আয়াতের 'কিতাব' অর্থ হ'ল, 'লওহে মাহফুয'। যেখানে আল্লাহ মানুষের দ্বীন-দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, কিছুই ছাড়েননি বা লিখতে ভুলেন নি।
দ্বিতীয় আয়াতের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাই হ'ল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ২৩ বছরের দীর্ঘ নবুঅতী জীবন। যাঁর কথা, কর্ম ও সম্মতি সমূহ 'হাদীছ' হিসাবে উম্মতের নিকট মওজুদ রয়েছে। আল্লাহ বলেন, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوهُ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَمَا نَهَاكُمْ 'আমার রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত হও' (হাশর ৫৯/৭)। এখানে 'প্রদান করেন' অর্থ 'আদেশ করেন' (ইবনু কাছীর)। যেমন 'আব্দুল কায়েস' গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে চারটি বিষয়ে আদেশ করেন ও চারটি বিষয় নিষিদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি উক্ত আয়াতটি পাঠ করেন। ২১ অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ Coins بأَمْرِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَمَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ فَاجْتَنِبُوهُ কোন বিষয়ে আদেশ দেই, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন কর। আর যখন কোন বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত হও'। ২২
একদা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হাদীছ শুনালেন, لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُوتَشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ الله 'আল্লাহ লা'নত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রর চুল উপড়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। যে সব নারী আল্লাহ্ সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে।' একথা বনু আসাদের জনৈকা মহিলা উম্মে ইয়াকূবের নিকট পৌঁছলে তিনি ইবনু মাসউদের নিকটে এসে বললেন, আপনি কি এরূপ কথা বলেছেন? ইবনু মাসউদ বললেন, আমি কেন তাকে লা'নত করব না, যাকে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) লা'নত করেছেন এবং যা আল্লাহ্ কিতাবে রয়েছে? তখন মহিলাটি বলল, আমার কাছে রক্ষিত কুরআনের কোথাও একথা পাইনি। জবাবে ইবনু মাসউদ বললেন, যদি তুমি কুরআন ভালভাবে পড়, তাহ'লে পাবে। তুমি কি দেখনি আল্লাহ বলেছেন, ... وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ 'আমার রাসূল তোমাদের যা আদেশ করেন, তা গ্রহণ কর... (হাশর ৫৯/৭)। তখন মহিলাটি বলল, হাঁ। ইবনু মাসউদ বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে উক্ত কাজে নিষেধ করেছেন'। তখন মহিলাটি বলল, আমার ধারণা আপনার পরিবারে এরূপ আছে। ইবনু মাসউদ বললেন, যাও দেখে আসো। মহিলাটি ভিতরে গিয়ে তেমন কিছু না পেয়ে ফিরে এল। তখন ইবনু মাসউদ (রাঃ) বললেন, যদি এরূপ থাকত, তাহ'লে তুমি আমাদের দু'জনকে (স্বামী-স্ত্রীকে) একত্রে পেতে না (অর্থাৎ তালাক হয়ে যেত)'। ২০
মোটকথা সুন্নাহর মাধ্যমেই কুরআন تبيانًا لكُلِّ شَيْئ 'সকল বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা' হয়েছে। অতএব হাদীছ ব্যতীত কুরআন অনুসরণ করা সম্ভব নয়।
২. কুরআন আল্লাহ সহজ করেছেন। অতএব হাদীছের প্রয়োজন নেই। যেমন আল্লাহ বলেছেন, وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذَّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكر 'আমরা কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ লাভের জন্য। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? (ক্বামার ৫৪/১৭, ২২, ৩২, ৪০)।
উত্তর: এখানে কুরআন সহজ হওয়ার অর্থ হ'ল, এর শিক্ষা-দীক্ষা সহজ- সরল ও বাস্তবায়নযোগ্য। যেমন ছালাত কায়েম কর, যাকাত দাও, ছিয়াম রাখ, হজ্জ কর। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। অন্যায় ও অশ্লীলতা হ'তে দূরে থাক ইত্যাদি। এগুলি যেকোন কুরআন পাঠক সহজে বুঝতে পারেন। কিন্তু কুরআন অনুধাবনের অর্থ তা নয়। যেমন আল্লাহ অন্যত্র كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلَيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ
'এই কিতাব যা আমরা আপনার নিকট নাযিল করেছি, তা বরকতমণ্ডিত। তা এজন্য নাযিল করেছি যাতে লোকেরা এর আয়াতসমূহ গবেষণা করে এবং জ্ঞানীরা এ থেকে উপদেশ হাছিল করে' (ছোয়াদ ৩৮/২৯)। তিনি أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوْبِ أَقْفَالُهَا؟ 'কেন তারা কুরআন গবেষণা করেনা? নাকি তাদের হৃদয় সমূহ তালাবদ্ধ?' (মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)। কুরআন গবেষণা ও তার মর্ম অনুধাবন ও সেখান থেকে বিধি-বিধান নির্ধারণ ও উপদেশ আহরণের জন্য প্রয়োজন কুরআনের ভাষা ও অলংকার জ্ঞানে পরিপক্কতা অর্জন করা ও অন্যান্য যরূরী বিষয়াদিতে দক্ষতা লাভ করা। বস্তুতঃ কুরআনের প্রথম ব্যাখ্যাতা হ'লেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)। অতঃপর ছাহাবায়ে কেরام, যাদের কাছে তিনি কুরআন বর্ণনা করেছেন, এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন, বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করেছেন ও উপদেশ প্রদান করেছেন। যা লিপিবদ্ধ আছে 'হাদীছ' ও 'আছারে'। অতএব হাদীছ ব্যতীত কুরআন অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
৩. আল্লাহ কেবল কুরআন হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছেন, হাদীছের নয়।
উত্তর: আল্লাহ বলেছেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ 'আমরা যিকর নাযিল করেছি এবং আমরাই এর হেফাযতকারী' (হিজর ১৫/৯)। এখানে 'যিকর' অর্থ যেমন 'কুরআন' তেমনি 'হাদীছ'। বরং পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শরী'আতের হেফাযতকারী হ'লেন আল্লাহ। কেননা ইসলাম হ'ল পূর্ণাঙ্গ দ্বীন এবং তা মানবজাতির জন্য আল্লাহ্র একমাত্র মনোনীত ধর্ম (মায়েদাহ ৫/৩)। অতএব শত্রুরা যতই চক্রান্ত করুক, একে ধ্বংস করার ক্ষমতা কারু নেই। আল্লাহ এর হেফাযতকারী। অতএব 'যিকর' কেবলমাত্র কুরআন নয়, বরং হাদীছ সহ পূর্ণাঙ্গ শরী'আত। আল্লাহ বলেন, فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ 'অতএব তোমরা জিজ্ঞেস কর জ্ঞানীদের যদি তোমরা না জানো' (নাহল ১৬/৪৩)। এখানে 'আহলুয যিকর' অর্থ আল্লাহ্ দ্বীনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, لَا تُحَرِّكْ بِهِ لسَانَكَ لَتَعْجَلَ به (١٦) إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (۱۷) فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (۱۸) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ (۱۹) 'অহি' আয়ত্ব করার জন্য দ্রুত জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না'। 'নিশ্চয়ই তা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদের'। 'অতএব যখন আমরা (জিব্রীলের মাধ্যমে) তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন'। 'অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমাদেরই' (ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬-১৯)। এখানে 'বিশদ ব্যাখ্যা' অর্থ 'হাদীছ', যা অহি ও ইলহামের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীকে প্রদান করেছেন। অতএব কুরআন ও হাদীছ দু'টিরই হেফাযতের দায়িত্ব আল্লাহ্।
ইবনু হাযম (রহঃ) বলেন, শরী'আত অভিজ্ঞ বিদ্বানগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতভেদ নেই যে, আল্লাহ প্রেরিত সকল 'অহি' যিকরের অন্তর্ভুক্ত এবং সকল 'অহি' সংরক্ষিত। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ যা হেফাযত করে থাকেন।
আর আল্লাহ যার হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছেন, তা সকল প্রকার ক্ষতি হ'তে নিরাপদ এবং যা চিরকালের জন্য সকল প্রকার তাহরীফ বা পরিবর্তন ও বাতিলকরণ হ'তে মুক্ত।' তিনি বলেন, 'যারা যিকর অর্থ স্রেফ 'কুরআন' বলেন, তাদের এ দাবী মিথ্যা ও প্রমাণহীন। বরং কুরআন ও সুন্নাহ সবটাই 'অহি' এবং সবটাই যিকরের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ স্বীয় নবীকে বলেন, وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ 'আর আমরা আপনার প্রতি 'যিকর' নাযিল করেছি মানুষকে ব্যাখ্যা করে দেওয়ার জন্য, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে। যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে' (নাহল ১৬/৪৪)।
বস্তুতঃ রাসূল (ছাঃ) প্রদত্ত ব্যাখ্যা ও তাঁর প্রদর্শিত পথই হ'ল 'সুন্নাহ' বা 'হাদীছ' যা ছাহাবায়ে কেরামের স্মৃতি ও লেখনীর মাধ্যমে চিরকালের জন্য কুরআনের ন্যায় সংরক্ষিত হয়ে আছে।

টিকাঃ
২১. নাসাঈ হা/৫৬৪৩ 'পানীয়' অধ্যায় ৩৬ অনুচ্ছেদ, মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৭।
২২. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/২৫০৫, 'মানাসিক' অধ্যায়-১০।
২৩. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪৩১, 'পোষাক' অধ্যায়-২২, 'চুল আঁচড়ানো' অনুচ্ছেদ-৩।

📘 হাদিসের প্রামানিকতা > 📄 উপমহাদেশে হাদীছ বিরোধী সংগঠন সমূহ

📄 উপমহাদেশে হাদীছ বিরোধী সংগঠন সমূহ


উপমহাদেশে হাদীছ বিরোধী সংগঠন সমূহ (فِرَقُ الْمُنْكِرِين فِي الْحَدِيثِ فِي شِبْهِ الْقَارَّةِ الْهِنْدِيَّةِ)
উপমহাদেশে হাদীছ বিরোধীদের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আলীগড়, অমৃতসর প্রভৃতি শহর। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরে এটি পাকিস্ত ানের লাহোরে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে বসে তারা ইসলামের নামে অর্জিত পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়।
ভারতেও এর রেশ চলতে থাকে। পাশ্চাত্য বিশ্বে এর অপপ্রচার ব্যাপ্তি লাভ করে। উর্দুভাষী না হওয়ায় বাংলাভাষী মুসলমানগণের অধিকাংশ এদের করাল থাবা থেকে বেঁচে গেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে এদের কারু কারু বই বাংলায় অনুদিত হয়ে ব্যাপকহারে প্রচারিত হওয়ায় তরুণ ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজের অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন এবং দেশে হাদীছ বিরোধী মনোভাব ক্রমে মাথাচাড়া দিচ্ছে।
বর্তমানে হাদীছ বিরোধীদের কয়েকটি ফের্কা পাকিস্তানে সংগঠিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন:
১. আহলে কুরআন (فِرْقَه اَهْلِ قُرْآن)
আব্দুল্লাহ চকড়ালবী প্রতিষ্ঠিত এই দলের পুরো নাম ‘আহলু যিকরে ওয়াল কুরআন’ যার বর্তমান নেতা মুহাম্মাদ আলী রাসূল লাক্কী। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে এর অফিস রয়েছে। এ দলের মুখপত্র ‘বালাগুল কুরআন’ (بَلاغُ القُرْآن) পত্রিকার মাধ্যমে এদের ভ্রান্ত আক্বীদা পাকিস্তানে সর্বত্র প্রচারিত হচ্ছে। অথচ কুরআনেরই নির্দেশ অনুযায়ী রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত অনুসরণ করা ফরয। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহ’লে তিনি তোমাদেরকে ভালবাসবেন ও তোমাদের গোনাহসমূহ মাফ করে দিবেন’ (আলে ইমরান ৩/৩১)।
২. উম্মাতে মুসলিমাহ (فرقة آمنة مسلمة)
আব্দুল্লাহ চকড়ালবীর অনুসারী খাজা আহমদ দ্বীন প্রথমে ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবের অমৃতসরে এই দলের গোড়াপত্তন করেন। ১৯৪৭-এর পরে এই দল লাহোরে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানেই তাদের প্রধান কেন্দ্র এবং 'ফায়যে ইসলাম' (فیض اسلام) পত্রিকা তাদের প্রধান মুখপত্র।
৩. তাহরীকে তা'মীরে ইনসানিয়াত (فرقة تعمیر انسانیت)
আব্দুল খালেক মালূহ কর্তৃক লাহোরে প্রতিষ্ঠিত এই দলের তরুশ ও তুখোড় নেতা ক্বাযী কেফায়াতুল্লাহ উর্দু, আরবী ও ইংরেজীতে বহু বই লিখে তার দলের আদর্শ প্রচার করে চলেছেন।
৪. ফের্কা তুলু'এ ইসলাম (فرقه طلوع اسلام)
গোলাম আহমাদ পারভেয কর্তৃক প্রথমে হিন্দুস্তানে প্রতিষ্ঠিত এই দলটির নেতারা ১৯৪৭-এর পরে লাহোরে এসে তাদের ভ্রান্ত আক্বীদার প্রচার শুরু করেন এবং পাকিস্তানের প্রায় সকল শহরে শাখা কায়েম করেন। ইউরোপের বিভিন্ন শহরেও এ দলের শাখা রয়েছে। যেখান থেকে হাদীছ বিরোধী আক্বীদা সমূহ নিয়মিতভাবে প্রচার করা হয়। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম আহমাদ পারভেয ৩০ টির উপর বই লেখেন। যার কোন কোনটি ৩ বা ৪ খণ্ডে সমাপ্ত। তবে এই দলের দবদবা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ১৯৬১ সালে প্রায় এক হাযার ওলামায়ে কেরামের সম্মিলিতভাবে 'কুফরী' ফৎওয়া প্রদানের কারণে। করাচীর 'মাদরাসা 'আরাবিয়া ইসলামিয়াহ' এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00