📄 উয়াইস করনীর ঘটনা
হযরত আছীর বিন আমর থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত ওমরের কাছে যখনই ইয়ামানের মুসলিম বীর মুজাহিদরা আসতো, তখন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতেনঃ তোমাদের মধ্যে উয়াইস বিন আমের করনী নামে কেউ আছে নাকি? এভাবে খোঁজ-খবর নিতে নিতে এক সময় তিনি তাকে পেলেন। অতঃপর বললেনঃ আপনিই কি উয়াইস বিন আমের? উয়াইস বললেনঃ হ্যাঁ।
হযরত ওমরঃ আপনার বাড়ী কি ইয়ামানের কারণ নামক স্থানে? উয়াইসঃ জ্বি।
হযরত ওমরঃ আপনার গায়ে কি কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল এবং এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা বাদে তার সবটাই কি এখন সেরে গেছে? উয়াইসঃ জ্বি。
হযরত ওমরঃ আপনার কি মা আছেন? উয়াইসঃ হ্যাঁ।
হযরত ওমরঃ "আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, ইয়ামানের বীর মুজাহিদদের সাথে উয়াইস বিন আমের নামক এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসবে। তার বাড়ী ইয়ামানের কারণে। তার কুষ্ঠ রোগ ছিল। এক দিরহাম জায়গা বাদে তা সেরে যাবে। তার এক মা থাকবে এবং সে এত মাতৃভক্ত হবে যে, মার দোহাই দিয়ে সে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দেবেন। সম্ভব হলে তার কাছে গিয়ে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের আবেদন জানাতে অনুরোধ করো।" অতএব, হে উয়াইস। আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। উয়াইস তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।
হযরত ওমরঃ আপনি কোথায় চলেছেন? উয়াইসঃ কুফায়।
হযরত ওমরঃ আমি কি কুফার শাসকের কাছে আপনার যত্ন নেয়ার জন্য একটা চিঠি লিখে দেবো?
উয়াইসঃ না, সাধারণ মানুষের কাছে থাকতেই আমি ভালোবাসি। এরপর কুফাবাসীরা যখনই হজ্জ করতে মক্কা ও মদীনায় আসতো, তখনই হযরত ওমর তাদের কাছে উয়াইসের খোঁজ-খবর নিতেন এবং তার সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) এর উক্তি সবাইকে জানাতেন। তারপর দলে দলে লোকেরা উয়াইসের কাছে যেতো এবং গুনাহ মাফের দোয়া চাইতো।
অপর রেওয়ায়েতে আছে, হযরত ওমর বলেনঃ রাসূল (সাঃ) উয়াইসকে শ্রেষ্ঠ তাবেয়ী বলেছেন। রাসূল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় ঈমান আনা সত্ত্বেও উয়াইস নিজের কুষ্ঠ রোগ ও পঙ্গু মায়ের সেবা-শুশ্রুষার কারণে রাসূল (সাঃ) এর সাথে দেখা করতে ও সাহাবীর মর্যাদা লাভ করতে পারেননি। কিন্তু আল্লাহ তাকে শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীর মর্যাদাই শুধু দেননি, সাহাবীদেরকেও তাঁর কাছে গুনাহ মাফের দোয়া চাইবার উপদেশ দিয়েছেন। কথিত আছে, উয়াইস ওহোদ যুদ্ধে রাসূল (সাঃ) এর দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ার খবর শুনে প্রচন্ড আবেগে বেসামাল হয়ে গিয়ে নিজের কয়েকটি দাঁত পাথর দিয়ে আঘাত করে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন।
শিক্ষাঃ ইসলামের যথার্থ অনুসারী ও শুভাকাংখী হলে সাহাবী না হয়েও মানুষ উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে ও আল্লাহর প্রিয় হতে পারে। বিশেষতঃ পিতামাতার সেবা যে মানুষকে কত উর্দ্ধে তুলে দিতে পারে তা এ ঘটনা থেকে সুস্পষ্ট হয়ে যায়।