📄 হযরত মূসা (আঃ) ও পানির বোতল
একবার হযরত মূসা (আঃ)-এর মনে প্রশ্ন জাগল, 'আল্লাহ কি ঘুমান?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই প্রশ্নের উত্তর হাতে-কলমে দেওয়ার জন্য এক ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা মূসা (আঃ)-কে দুটি কাঁচের বোতল বা পেয়ালা দুই হাতে ধরে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন এবং সতর্ক করলেন যেন হাত থেকে না পড়ে।
রাতের কিছু অংশ পার হওয়ার পর মূসা (আঃ)-এর চোখে ঘুম নেমে এল। তিনি ঢুলতে লাগলেন। ঘুমের ঘোরে তাঁর হাত থেকে বোতল দুটি পড়ে গিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। তখন আল্লাহ ওহী পাঠালেন, 'হে মূসা! আমি যদি ক্ষণিকের জন্য তন্দ্রা বা ঘুমে আচ্ছন্ন হতাম, তবে আসমান ও জমিন এই বোতলগুলোর মতোই ধ্বংস হয়ে যেত।' আয়াতুল কুরসিতে এই কথাই বলা হয়েছে—'তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না।'
একবার হযরত মূসা (আঃ)-এর মনে প্রশ্ন জাগল, 'আল্লাহ কি ঘুমান?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই প্রশ্নের উত্তর হাতে-কলমে দেওয়ার জন্য এক ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা মূসা (আঃ)-কে দুটি কাঁচের বোতল বা পেয়ালা দুই হাতে ধরে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন এবং সতর্ক করলেন যেন হাত থেকে না পড়ে।
রাতের কিছু অংশ পার হওয়ার পর মূসা (আঃ)-এর চোখে ঘুম নেমে এল। তিনি ঢুলতে লাগলেন। ঘুমের ঘোরে তাঁর হাত থেকে বোতল দুটি পড়ে গিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। তখন আল্লাহ ওহী পাঠালেন, 'হে মূসা! আমি যদি ক্ষণিকের জন্য তন্দ্রা বা ঘুমে আচ্ছন্ন হতাম, তবে আসমান ও জমিন এই বোতলগুলোর মতোই ধ্বংস হয়ে যেত।' আয়াতুল কুরসিতে এই কথাই বলা হয়েছে—'তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না।'
একবার হযরত মূসা (আঃ)-এর মনে প্রশ্ন জাগল, 'আল্লাহ কি ঘুমান?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই প্রশ্নের উত্তর হাতে-কলমে দেওয়ার জন্য এক ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা মূসা (আঃ)-কে দুটি কাঁচের বোতল বা পেয়ালা দুই হাতে ধরে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন এবং সতর্ক করলেন যেন হাত থেকে না পড়ে।
রাতের কিছু অংশ পার হওয়ার পর মূসা (আঃ)-এর চোখে ঘুম নেমে এল। তিনি ঢুলতে লাগলেন। ঘুমের ঘোরে তাঁর হাত থেকে বোতল দুটি পড়ে গিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। তখন আল্লাহ ওহী পাঠালেন, 'হে মূসা! আমি যদি ক্ষণিকের জন্য তন্দ্রা বা ঘুমে আচ্ছন্ন হতাম, তবে আসমান ও জমিন এই বোতলগুলোর মতোই ধ্বংস হয়ে যেত।' আয়াতুল কুরসিতে এই কথাই বলা হয়েছে—'তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না।'
📄 হযরত মূসা (আঃ) ও খিজির (আঃ) এর সফর
হযরত মূসা (আঃ) একবার বলেছিলেন যে তিনি সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। আল্লাহ তাঁকে জানালেন যে, দুই সাগরের মিলনস্থলে এমন এক বান্দা আছেন যিনি তাঁর চেয়েও বেশি জ্ঞান রাখেন। মূসা (আঃ) সেই খিজির (আঃ)-এর খোঁজে বের হলেন। সাক্ষাতের পর খিজির (আঃ) শর্ত দিলেন যে, সফরে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।
সফরকালে খিজির (আঃ) তিনটি অদ্ভুত কাজ করলেন: ১. গরিব মাঝিদের নৌকা ছিদ্র করে দিলেন। ২. এক মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করলেন। ৩. এক কৃপণ গ্রামের দেয়াল বিনা পারিশ্রমিকে মেরামত করে দিলেন।
মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরতে না পেরে প্রতিবারই প্রশ্ন করলেন। শেষে খিজির (আঃ) রহস্য উন্মোচন করলেন: নৌকাটি ছিদ্র করা হয়েছিল যাতে জালেম রাজা ভালো নৌকাটি দখল করতে না পারে। বাচ্চাটিকে হত্যা করা হয়েছে কারণ বড় হয়ে সে কাফির হতো এবং বাবা-মাকে কষ্ট দিত। আর দেয়ালটি মেরামত করা হয়েছে কারণ তার নিচে দুই এতিম বাচ্চার গুপ্তধন ছিল। এসবই ছিল আল্লাহর নির্দেশে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের জ্ঞান সীমিত আর আল্লাহর জ্ঞান অসীম।
হযরত মূসা (আঃ) একবার বলেছিলেন যে তিনি সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। আল্লাহ তাঁকে জানালেন যে, দুই সাগরের মিলনস্থলে এমন এক বান্দা আছেন যিনি তাঁর চেয়েও বেশি জ্ঞান রাখেন। মূসা (আঃ) সেই খিজির (আঃ)-এর খোঁজে বের হলেন। সাক্ষাতের পর খিজির (আঃ) শর্ত দিলেন যে, সফরে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।
সফরকালে খিজির (আঃ) তিনটি অদ্ভুত কাজ করলেন: ১. গরিব মাঝিদের নৌকা ছিদ্র করে দিলেন। ২. এক মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করলেন। ৩. এক কৃপণ গ্রামের দেয়াল বিনা পারিশ্রমিকে মেরামত করে দিলেন।
মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরতে না পেরে প্রতিবারই প্রশ্ন করলেন। শেষে খিজির (আঃ) রহস্য উন্মোচন করলেন: নৌকাটি ছিদ্র করা হয়েছিল যাতে জালেম রাজা ভালো নৌকাটি দখল করতে না পারে। বাচ্চাটিকে হত্যা করা হয়েছে কারণ বড় হয়ে সে কাফির হতো এবং বাবা-মাকে কষ্ট দিত। আর দেয়ালটি মেরামত করা হয়েছে কারণ তার নিচে দুই এতিম বাচ্চার গুপ্তধন ছিল। এসবই ছিল আল্লাহর নির্দেশে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের জ্ঞান সীমিত আর আল্লাহর জ্ঞান অসীম।
হযরত মূসা (আঃ) একবার বলেছিলেন যে তিনি সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। আল্লাহ তাঁকে জানালেন যে, দুই সাগরের মিলনস্থলে এমন এক বান্দা আছেন যিনি তাঁর চেয়েও বেশি জ্ঞান রাখেন। মূসা (আঃ) সেই খিজির (আঃ)-এর খোঁজে বের হলেন। সাক্ষাতের পর খিজির (আঃ) শর্ত দিলেন যে, সফরে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।
সফরকালে খিজির (আঃ) তিনটি অদ্ভুত কাজ করলেন: ১. গরিব মাঝিদের নৌকা ছিদ্র করে দিলেন। ২. এক মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করলেন। ৩. এক কৃপণ গ্রামের দেয়াল বিনা পারিশ্রমিকে মেরামত করে দিলেন।
মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরতে না পেরে প্রতিবারই প্রশ্ন করলেন। শেষে খিজির (আঃ) রহস্য উন্মোচন করলেন: নৌকাটি ছিদ্র করা হয়েছিল যাতে জালেম রাজা ভালো নৌকাটি দখল করতে না পারে। বাচ্চাটিকে হত্যা করা হয়েছে কারণ বড় হয়ে সে কাফির হতো এবং বাবা-মাকে কষ্ট দিত। আর দেয়ালটি মেরামত করা হয়েছে কারণ তার নিচে দুই এতিম বাচ্চার গুপ্তধন ছিল। এসবই ছিল আল্লাহর নির্দেশে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের জ্ঞান সীমিত আর আল্লাহর জ্ঞান অসীম।
📄 হযরত মূসা (আঃ) ও ইসতিস্কার নামায
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার হযরত মুসা (আঃ) এর আমলে মিশরে ভীষণ খরা ও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। বনী ইসরাইলের লোকেরা হযরত মূসাকে অনুরোধ জানায় যে, আপনি আমাদেরকে নিয়ে ইসতিস্কার নামায পড়ুন এবং বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন। হযরত মূসা বিপুল সংখ্যক লোককে সাথে নিয়ে একটি মাঠে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ইসতিস্কার নামায পড়লেন এবং অনেক কান্নাকাটি করে দোয়া করলেন। কিন্তু বৃষ্টিও হলো না, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন জবাবও এলো না।
পরদিন তিনি আবার ইসতিস্কার নামায পড়ালেন। এভাবে তৃতীয় দিনও পড়ালেন। শেষের দিন নামাযের পর অনেক বেশী সময় ধরে দোয়া করলেন। দোয়ার পর আল্লাহর কাছ থেকে ওহী এলো যে, "হে মূসা! সমবেত লোকদের মধ্যে এমন একজন লোক রয়েছে যে আজকের আগে আর কখনো আল্লাহর নাম মুখে আনেনি। অধিকন্তু অত্যন্ত জঘন্য পাপ কাজে লিপ্ত ছিল। ঐ লোকটিকে দল থেকে বের করে দিয়ে দোয়া করো। নচেত আমি দোয়া কবুল করবো না।”
হযরত মূসা আল্লাহর ওহীর নির্দেশ সমবেত লোকদেরকে জানালেন এবং বললেন, আল্লাহ এই ব্যক্তির নাম বলেননি তবে এই ব্যক্তি নিজে নিজের সম্পর্কে নিশ্চয়ই ওয়াকিফহাল। দেশের সমগ্র জনগণের স্বার্থ আমি তাকে এই স্থান ত্যাগ করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
হযরত মূসা বার বার আবেদন জানাতে লাগলেন। কিন্তু কোন ফলোদয় হলো না। এভাবে কয়েক ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর সহসা আকাশে মেঘের আনাগোনা শুরু হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেল। অতঃপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হলো।
বৃষ্টি হওয়ায় জনগণ খুশী হলেও হযরত মূসা পড়ে গেলেন একটু বেকায়দায়। কারণ ওহীর নির্দেশমত কোন পাপী লোককে বেরিয়ে যেতে দেখা গেলো না। তথাপি বৃষ্টি হলো। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিল যে, হযরত মূসা ওহীর নামে যে কথা বলেছিলেন তা সত্য ছিল কিনা।
অগত্যা তিনি ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলেন আল্লাহর কাছে। আল্লাহ জবাবে বললেনঃ হে মূসা। তুমি যখন বারবার পাপীকে স্থান ত্যাগ করার আবেদন জানাচ্ছিলে, সে তখন মনে মনে আমার কাছে অনুশোচনা প্রকাশ করে তওবা করেছিল এবং বলছিলঃ "হে আল্লাহ! এত লোকের সামনে আমাকে অপদস্থও করোনা, আর আমার জন্য দেশবাসীকে কষ্টও দিওনা। আমাকে মাফ করে দিয়ে বৃষ্টি দাও।” আমি তার দোয়া কবুল করে বৃষ্টি দিয়েছি। (বুখারী)
শিক্ষা: গুনাহ বা ভুলত্রুটীর জন্য কোন মানুষকে লজ্জা দেয়া বা লোকজনের সামনে হেয় করা উচিত নয়।
📄 হযরত খিজিরের (আঃ) বদান্যতা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একবার হযরত খিজির (আঃ) বনী ইসরাইলের কোন বাজারে ঘোরাফিরা করছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে এভাবে আবেদন জানায়ঃ "হে আগন্তক! আমি একজন ক্রীতদাস। আমার মনিব আমাকে চারশো' দিরহামের বিনিময়ে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন আমি এই মুক্তিপন সংগ্রহের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আপনার কাছে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।” হযরত খিজির বললেনঃ "আল্লাহর যা ইচ্ছা, সেটা একভাবে সম্পন্ন হবেই। আমার কাছে তোমাকে দেওয়ার মত একটি কানাকড়িও নেই। আমাকে মাফ কর।” ক্রীতদাসটি পুনরায় বললোঃ "আমি আল্লাহর দোয়াই দিয়ে আপনার কাছে কিছু সাহায্য চাই। আপনার মুখমন্ডলে একজন দানশীল ও মহানুভব ব্যক্তির লক্ষণ পরিস্ফুট। আল্লাহ আপনাকে অশেষ বরকত দান করুন।” খিজির আবারো নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে বললেনঃ "তুমি আমাকে একটি দাস হিসাবে বাজারে বিক্রী করে যে অর্থ সংগ্রহ করতে পারো, কর। এ ছাড়া আর কোন ভাবে তোমাকে সাহায্য করতে আমি সক্ষম নই।" ক্রীতদাসটি বললোঃ "এটা কি সমিচীন হবে?" খিজির বললেনঃ "অবশ্যই, তুমি একটি গুরুতর বিপদে পড়ে আমার সাহায্য চেয়েছ। আমি তোমাকে বঞ্চিত করতে চাই না। তুমি আমাকে বিক্রি কর।"
এরপর লোকটি তাকে বাজারে নিয়ে যায় এবং চারশো দিরহামে বিক্রী করে। যে ব্যক্তি হযরত খিজিরকে কিনে নিয়ে যায়, সে তাকে কোন কাজে না লাগিয়ে অতিথির মত যত্নে রাখে। কিছুদিন পর হযরত খিজির তাকে বললেনঃ "আপনি আমাকে নিজের কাজকর্মের জন্যই কিনে এনেছেন। অথচ কোন কাজ করতে দিচ্ছেন না। এ কেমন কথা। আমাকে কাজের আদেশ দিন।"
মনিব বললোঃ "আপনি একজন বয়োবৃদ্ধ প্রবীণ ব্যক্তি। আপনাকে কাজে খাঁটিয়ে কষ্ট দেয়াটা আমার অপছন্দ।" হযরত খিজির বললেনঃ "আমার কোন কষ্ট হবে না। আপনি আদেশ করে দেখুন।” তখন মনিব বললোঃ "বেশ, তাহলে এই পাথরটি সরিয়ে ওখানটায় রাখুন।" আদেশ দিয়ে মনিব বিশেষ কাজে বাইরে গেল। পাথরটি এত বিরাট ও ভারী ছিল যে, ছয়জন মানুষ একটানা সারাদিন পরিশ্রম করা ছাড়া তা সরানো সম্ভব ছিল না। অথচ একঘন্টা পরে মনিব ফিরে এসে দেখে, বৃদ্ধ ক্রীতদাস একাই পাথর যথাস্থানে সরিয়ে রেখেছে। সে বললোঃ "আপনি চমৎকার কাজ করেছেন। এত বড় শক্ত কাজ করার ক্ষমতা আপনার আছে, তা আমার ধারণারও বাইরে ছিল।"
কিছুদিন পর মনিবের প্রবাসে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল। সে হযরত খিজিরকে বললোঃ "আমি আপনাকে একান্ত বিশ্বস্ত, সৎ ও আমানতদার লোক মনে করি। আমার অবর্তমানে আপনি আমার পরিবার পরিজনকে ন্যায় সংগত আচরণ সহকারে দেখাশুনা ও তত্ত্বাবধান করবেন।” বৃদ্ধ ক্রীতদাস বললোঃ "আর কোন কাজ থাকলে তাও বলে যান।” সে বললোঃ "আপনাকে বাড়তি কষ্ট দেয়া আমার মনোপুত নয়।" ক্রীতদাস বললো, "আমার কোন কষ্ট হবে না।” অগত্যা মনিব বললোঃ "বেশ, তাহলে আমার ঘরের ভিত্ তৈরীর অপেক্ষায় রয়েছে। আপনি কিছু ইটা লাগিয়ে কিছুটা ভিতের কাজ করে রাখবেন।” এরপর মনিব সফরে বেরিয়ে গেল। সফর থেকে ফিরে সম্পূর্ণ ভিত তৈরী হয়ে গেছে দেখে সে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেল। এবার সে তার বৃদ্ধ ক্রীতদাসকে বললোঃ "আল্লাহর দোহাই, আপনি কে এবং আপনার রহস্য কি আমাকে খুলে বলুন।"
হযরত খিজির বললেন, "আপনি যেমন আল্লাহর দোহাই দিয়েছেন, তেমনি আল্লাহর দোহাই দিয়ে অন্য একজনের প্রার্থনাই আমাকে এই দাসত্বের পর্যায়ে পৌছিয়েছে। আমি কে সে কথা আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি। আমি খিজির। আমার নাম আপনি নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। দেয়ার মত একটি কপর্দকও তখন আমার কাছে ছিল না। তাই অক্ষমতা জানালাম। কিন্তু সেই নাছোড়বান্দা আমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে পুনরায় মিনতি জানালো কিছু সাহায্যের জন্য। তখন আমি নিজেকে তার মালিকানায় সোপর্দ করি। অতঃপর সে আমাকে বাজারে বিক্রি করে। আমি আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, যে ব্যক্তির কাছে কোন অসহায় ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে কোন সাহায্য চাইবে এবং সে দিতে সক্ষম হয়েও তাকে বঞ্চিত করবে, সে কেয়ামতের দিন অত্যন্ত জীর্নশীর্ণ হাড্ডিসার অবস্থায় উঠবে।
এ কথা শোনার পর মনিব বললো "আমি আল্লাহর ও আপনার ওপর ঈমান এনেছি। হে আল্লাহর নবী! না জেনে শুনে আপনাকে কষ্ট দেয়ায় আমি অনুতপ্ত।” হযরত খিজির বললেনঃ "তাতে আপনার কোন দোষ হয়নি। আপনি যা করেছেন সততার সাথে ও সুষ্ঠুভাবেই করেছেন।" মনিব বললোঃ "হে আল্লাহর নবী! আপনি আমার সহায় সম্পদ ও পরিবার পরিজন সম্পর্কে যেমন ভালো মনে করেন, আদেশ দিলে আমি তদনুযায়ী কাজ করবো, নচেত আপনি মুক্তি চাইলে মুক্ত করে দেবো।"
হযরত খিজির বললেনঃ "আমার প্রত্যাশা এই যে, আমাকে মুক্তি দিন যাতে আমি নিজের আসল মনিব আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত হতে পারি।" অতঃপর লোকটি তাকে মুক্ত করে দিল। তখন হযরত খিজির বললেনঃ "মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। যিনি আমাকে মানুষের গোলামীর বন্ধনে আবদ্ধ করার পর তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।” (তাবরানী-তারগীব ও তারহীব)
শিক্ষা: উল্লিখিত কেসসাটি থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যেঃ
১. কোন অধিনস্ত ব্যক্তি বেশভূষায় যত মামুলী ও নগন্য মনে হোক না কেন, বয়সে প্রবীণ ও আচরণে ন্যায়পরায়ন হলে তার সাথে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তার দৈহিক খাটুনি যথাসম্ভব কমিয়ে দিতে হবে। ইসলামের ইতিহাসে এমন অজস্র দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, জ্ঞানীগুণী ও চরিত্রবান ব্যক্তি দাস বংশোদ্ভূত বা স্বয়ং কোন ক্রীতদাস হলেও তাকে সমাজ ও রাষ্ট্রে যথোপযুক্ত মর্যাদাপূর্ণ আসন দান করা হয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তি খিলাফাতে রাশেদার আমলে রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি, সেনাপতি, মুফতী ও মুহাদ্দীস এবং ভারতে দিল্লীর শাহী মসনদেও আসীন হয়েছেন।
২. বিশেষতঃ কোন দুস্থ ব্যক্তি যদি আল্লাহর দোহাই দিয়ে কোন সাহায্য প্রার্থনা করে, তাহলে তাকে কিছুতেই খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়া উচিত নয়। কারণ তার আল্লাহর দোহাই দেয়ার অর্থ এও হতে পারে যে, সে নিজের অভাবের সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর নামে শপথ করছে বা আল্লাহকে সাক্ষী হিসাবে পেশ করছে। কাজেই তাকে বঞ্চিত করার অর্থ হবে তার শপথকে অগ্রাহ্য বা অবমাননা করা। তবে যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, সে ব্যক্তি স্বয়ং অভাবী বা অসমর্থ হলে সেটা অবশ্য স্বতন্ত্র কথা।
৩. মানুষ মূলতঃ একমাত্র আল্লাহর গোলাম বা দাস। কোন মানুষের গোলামী- চাই তা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত যেভাবেই হোক না কেন, তা তার জন্য এক শোচনীয় অভিশাপ ছাড়া আর কিছু নয়। তাই যে কোন মানুষের গোলামী বা পরাধীনতা ঘুচানো ও তাকে স্বাধীন মানুষের মর্যাদা দানের জন্য সাধ্যমত সব কিছু করা ও সব রকমের ত্যাগ স্বীকার করা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য।
৪. নিয়োগকারীর যেমন কর্তব্য শ্রমিক ও কর্মচারীদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য না করা, তেমনি শ্রমিক কর্মচারীদেরও উচিৎ কাজে ফাঁকি না দেয়া এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা। অধিনস্থদের ওপর ক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ চাপানো যেমন গুনাহ, তেমনি বেতনভুক কর্মচারীরা কাজে ফাঁকি দিয়ে বেতন ও পারিশ্রমিক গ্রহণ করলে তা হারাম ও অবৈধ উপার্জনে পরিণত হবে।
৫. পরোপকার ও জনসেবা চিরদিন আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ ও নবীগণের একটি মহান ব্রত। আলোচ্য ঘটনায় আল্লাহর নবী হযরত খিজির ক্রীতদাসের ছদ্মবেশ ধারণ করে একজন দাসকে মুক্ত করার যে অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অনুকরণীয়। হযরত ঈসা, হযরত ইবরাহীম এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সহ প্রায় সকল নবীর জীবনে আমরা এ ধরনের মহানুভবতার নজীর দেখতে পাই। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই যে, মুসলিম জাতির বিশেষতঃ সচ্ছল ও বিত্তশালী লোকদের মধ্যে এই শিক্ষার প্রভাব ক্রমশঃ লোপ পেতে চলেছে। ফলে দরিদ্র মুসলমানগণ সর্বত্র নিগৃহীত ও খৃস্টান ধর্মযাজকদের প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে।