📄 লুকমান হাকীমের কিস্সা
হযরত লুকমান হাকীম হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের সমসাময়িক একজন অত্যন্ত জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি ছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাঁর নাম উল্লেখ করতঃ তাঁর কতিপয় উপদেশ উদ্ধৃত করা হয়েছে। নবী না হয়েও কুরআনে তাঁর মত এত গুরুত্ব আর কোন ব্যক্তি পাননি। নবী বা রাসূল না হওয়া সত্ত্বেও তার কথাবার্তা ও আচরণে নবীসুলভ বিজ্ঞতা, বিচক্ষণতা ও সততা প্রতিফলিত হতো। এজন্য তিনি লুকমান হাকীম নামে পরিচিত ছিলেন。
হযরত লুকমানের জন্মস্থান বা বংশ পরিচয় সংক্রান্ত কোন তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে তাঁর সম্পর্কে শুধু নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ জানা যায়ঃ প্রথম জীবনে তিনি সিরিয়ার এক ধনবান ব্যক্তির অধীনে গোলামীর জীবন যাপন করেন। তারপর তার মধ্যে অসাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে তাঁর মনিব তাকে মুক্ত করে দেয়।
গোলামী জীবনের পূর্বে তিনি মেষ রাখাল ছিলেন বলে জানা যায়। সেই সময় তাঁর সমবয়সী আর এক রাখালও তাঁর সাথে মেষ চরাতো। তাঁদের মধ্যে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল।
পরবর্তীকালে যখন হযরত লুকমান একজন হাকীম অর্থাৎ জ্ঞানী ব্যক্তিরূপে প্রসিদ্ধি লাভ করেন, তখন তাঁর সেই বাল্য বন্ধুটি একদিন তাঁকে একটি বিরাট জনসমাবেশে ওয়ায নসিহত করতে দেখে। সে সমাবেশ শেষে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে যে, তুমি কি সেই ব্যক্তি নও, যার সাথে আমি মাঠে বকরী চরাতাম। হযরত লুকমান বললেন, তা তুমি আমাকে ঠিকই চিনেছ। আমি বাল্যকালে বকরী চরাতাম। সে জিজ্ঞাসা করলো, তুমি এই মর্যাদা কিভাবে অর্জন করলে? তিনি বললেনঃ আমি চারটি স্বভাব দ্বারা এই মর্যাদা লাভ করেছিঃ (১) কখনো হারাম সম্পদ উপার্জন করিনি। (২) কখনো মিথ্যা বলিনি। (৩) কখনো আমানতের খেয়ানত করিনি। (৪) কখনো সময়ের অপচয় করিনি।
অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা প্রসূত ও জ্ঞানদীপ্ত কথা ও কর্মকান্ডকে হিকমত বলা হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনে ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতে হযরত লুকমানের যে সব হিকমত বর্ণিত হয়েছে, তার কিছু কিছু নিম্নে তুলে ধরা হচ্ছেঃ
• পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হিকমতের বাণীঃ
• নিজ পুত্রকে প্রদত্ত উপদেশাবলী
১. হে বৎস। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। আল্লাহর সাথে শরীক করা একটা মারাত্মক জুলুম।
২. হে বৎস! তুমি যদি একটি তিলেরমত ক্ষুদ্র আকার ধারণ কর, অতঃপর কোন পাথরের অভ্যন্তরে অথবা আকাশের ওপরে অথবা ভূগর্ভে আত্মগোপন কর, তবুও আল্লাহ সেখান থেকে তোমাকে বের করবেন।
৩. হে বৎস! তুমি নামায কায়েম কর, সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর এবং এই পথে যে বিপদ আপদের সম্মুখীন হও, তাতে ধৈর্য ধারণ কর।
৪. মানুষের সাথে আচরণের সময় মুখ বিকৃত করো না এবং পৃথিবীতে অহংকারের সাথে চলাফেরা করো না। ধীরস্থিরভাবে চলাফেরা কর এবং অনুচ্চ কন্ঠে কথা বল।
• রেওয়ায়েত থেকে প্রাপ্ত হিকমতের বিবরণঃ
১. হযরত লুকমান যখন গোলামীর জীবন যাপন করতেন, তখন একই মনিবের অধীন তার সাথে আরো একটি গোলাম কর্মরত ছিল। একবার সেই গোলামটি মনিবের কোন খাদ্যদ্রব্য চুরি করে খেয়ে ফেলে। মনিব উভয়কে দোষারোপ করেন। এতে হযরত লুকমান ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন, তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। অতঃপর মনিবকে পরামর্শ দিলেন যে, আপনি আমাদের দু'জনকে গরম পানি খাইয়ে দিন। এতে উভয়ের বমি হবে এবং যে প্রকৃত চোর, তার পেট থেকে বমির সাথে ভক্ষিত জিনিসের অংশ বেরিয়ে পড়বে। মনিব তার পরামর্শ মত কাজ করলেন এবং হযরত লুকমান নির্দোষ সাব্যস্ত হলেন।
এই ঘটনা থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, কোন মিথ্যা অপবাদ মাথায় নিয়ে কারো চুপ করে বসে থাকা উচিত নয়। তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ করা উচিত এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করা উচিত।
২. একবার হযরত লুকমানের মনিব তার বন্ধুর সাথে পাশা খেলে হেরে যায়। খেলার যে বাজী পূর্বাহ্নে নির্দ্ধারিত হয়েছিল, সে অনুসারে হয় তাকে তার সমস্ত সম্পদ বিজয়ী বন্ধুকে দিতে হবে নতুবা পার্শ্ববর্তী নদীর সমস্ত পানি তাকে খেয়ে ফেরতে হবে। খেলায় হেরে যাওয়ার পর বন্ধুটি তার মনিবকে এই দুটি শর্তের একটি অবিলম্বে পালন করার জন্য চাপ দিতে লাগলো। মনিব অতিকষ্টে তার বন্ধুর কাছে একদিন সময় নিয়ে বাড়িতে চলে এল এবং লুকমানকে সমস্ত বিষয় খুলে বললো। লুকমান একটু চিন্তা করেই তাকে বললেনঃ আপনি আপনার বন্ধুকে এক কানাকড়িও দেবেন না। বরং নদীর পানি খেয়ে ফেলার শর্তটাই পালন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করবেন। তবে তাকে বলবেন, প্রথমে সে যেন নদীর দু'পাশে বাঁধ দিয়ে দেয়। তা না হলে এক দিক দিয়ে পানি খেয়ে ফেললে অন্য দিক থেকে নদীতে আরো পানি ঢুকে পড়বে। হযরত লুকমানের শিখানো এই বুদ্ধিতে তাঁর মনিব বিপদ থেকে রক্ষা পেল এবং তার বন্ধু অবৈধভাবে বন্ধুর অর্থ আত্মসাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো। এতে খুশী হয়ে মনিব তাকে মুক্তি দিলেন।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, মানুষকে অন্যের জুলুম ও শোষণ থেকে বাঁচানোর জন্য যেখানে শক্তি প্রয়োগের পথ বন্ধ, সেখানে কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।
৩. আর একদিন হযরত লুকমান হাকীমের মনিব তাঁকে আদেশ দিল যে, আমার জন্য একটি বকরী যবাই করে তার দেহের সর্বোত্তম অংশ রান্না করে নিয়ে এস। হযরত লুকমান বকরীর হৃদপিন্ড ও জিহ্বা রান্না করে আনলেন। পরদিন মনিব আবার নির্দেশ দিলেন বকরীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট অংশ রান্না করতে। লুকমান আবারও জিহ্বা ও হৃদপিন্ড রান্না করে খাওয়ালেন। মনিব জিজ্ঞাসা করলোঃ কি হে লুকমান! আজও দেখি, তুমি একই অঙ্গ রান্না করে এনেছ। একই অঙ্গ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও সবচেয়ে নিকৃষ্ট কিভাবে হয়? হযরত লুকমান বললেনঃ যে কোন জীবের জিহ্বা ও হৃদপিন্ডই তার সর্ব প্রধান অঙ্গ। এই দুটি যখন ভালো থাকে, তখন সেও হয় উৎকৃষ্ট জীব। আর এ দুটি যখন খারাপ হয়, তখন সে হয় নিকৃষ্ট জীব।
এই ঘটনা থেকে প্রকারান্তরে হযরত লুকমান শিক্ষা দিলেন যে, মানুষের বেলায়ও এই কথা প্রযোজ্য। সে যদি তার হৃদয় দিয়ে সৎ চিন্তা করে এবং জিহ্বা দিয়ে সৎ কথা বলে, পবিত্র জিনিস পানাহার করে, তবে সে সর্বোত্তম প্রাণীকে পরিণত হতে পারে, নতুবা নিকৃষ্টতম প্রাণীতে পরিণত হবে। বলা বাহুল্য, তাঁর এ হিকমতটি হাদীস কুরআনের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. আর একদিন হযরত লুকমানের মনিব তাকে নির্দেশ দিল তাঁর যমীনে তিল বপন করতে। হযরত লুকমান চালাকী করে তিলের পরিবর্তে সরিষা বপন করলেন। পরে যখন ফসল জন্মালো তখন মনিব বললো, আমি তো তোমাকে তিল বপন করতে বলেছিলাম। তুমি সরিষা বপন করলে কেন? হযরত লুকমান বললেনঃ আমি তো ভেবেছিলাম, সরিষা বুনলেই তিল হবে। মনিব বললেনঃ তা কি করে হয়? তখন হযরত লুকমান বললেনঃ আপনি যখন সব সময় পাপ কাজ করে উত্তম ফল বেহেশ্ত পাওয়ার আশা করেন, তখন সরিষা বুনে আমি তিল পাওয়ার আশা করলে দোষ কী? এ কথা শুনে মনিব চমকে উঠলো এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে তওবা করলো।
৫. আর একবার লুকমান হাকীম একটি জাহাজে আরোহন করে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিলেন। জাহাজে একজন সওদাগর ও তার সাথে একটি বালক ভৃত্য ছিল। জাহাজ সমুদ্রের মাঝখানে গেলে তার উত্তাল তরঙ্গমালা দেখে বালকটি বিকট চিৎকার করে কান্নাকাটি জুড়ে দিল। সে জীবনে আগে কখনো সমুদ্র দেখেনি। তাই সমুদ্রের মাঝখানে এসে সে ভয়ে কাঁদতে লাগলো। সওদাগর অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনই লাভ হলো না। এই অবস্থা দেখে লোকমান হাকীম সওদাগরের কাছে এগিয়ে গেলেন এবং তাকে বললেন, 'আপনি বোধ হয় বালকটির কান্নাকাটি থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদি কিছু মনে না করেন, আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি। সওদাগর সানন্দে রাযী হলো। লুকমান বালকটিকে নিয়ে জাহাজের এক প্রান্তে চলে এলেন। তারপর তার কোমরে একটি রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধলেন। অতঃপর তাকে সাগরের পানির মধ্যে ফেলে দিয়ে কিছুক্ষণ রশি ধরে টেনে নিয়ে চললেন। বালকটি পানিতে পড়বার সময় গগণবিদারী একটা চিৎকার দিল। কিন্তু তারপরই নিরবে হাবুডুবু খেতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে লুকমান তাকে টেনে তুললেন এবং সওদাগরের কাছে রেখে এলেন। এবার সে আর কান্নাকাটি করলো না। শান্ত হয়ে বসে থাকলো। সওদাগর বিস্মিত হয়ে লুকমানকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ অসম্ভবকে আপনি কিভাবে সম্ভব করলেন? লুকমান বললেনঃ ব্যাপারটা কঠিন কিছু ছিল না। বালকটি সমুদ্র কখনো দেখেনি। তাই সমুদ্রের ভয়াল চেহারা দর্শনই তাকে ভয়ে দিশেহারা করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যখন সে দেখলো, সমুদ্রের পানিতে পড়ে যাওয়া বা ডুবে যাওয় আরো ভয়াবহ ব্যাপার। তখন তার কাছে জাহাজে বসে সমুদ্র দেখা অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক কাজ বলে মনে হতে লাগলো। এ জন্যই সে এখন শান্ত। আমি বিষয়টা প্রথমেই বুঝে নিয়ে এই কৌশল প্রয়োগ করেছি।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, বিপদ দেখেই অস্থির হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মনে রাখতে হবে যে, যে বিপদ এখন সামনে এসেছে ভবিষ্যতে তার চেয়েও বড় বিপদ আশা বিচিত্র কিছু নয়।
📄 নামায সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনা
বর্ণিত আছে যে, বনী ইসরাইলের এক মহিলা একবার হযরত মূসার (আঃ) কাছে এল। সে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল। আমি একটি ভীষণ পাপের কাজ করেছি। পরে তওবাও করেছি। আপনি দোয়া করুন যেন আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেন। মূসা (আঃ) বললেনঃ তুমি কি গুনাহ করেছ? সে বললোঃ আমি ব্যভিচার করেছিলাম। অতঃপর একটি অবৈধ সন্তান প্রসব করি এবং তাকে হত্যা করে ফেলি। মূসা (আঃ) বললেনঃ "হে মহাপাতকিনী। এক্ষুনি বেরিয়ে যাও। আমার আশংকা আকাশ থেকে এক্ষুনি আগুন নামবে এবং তাতে আমরা সবাই ভস্মীভূত হবো।" মহিলাটি ভগ্ন হৃদয়ে বেরিয়ে গেল। অল্পক্ষণ পরেই জিবরীল (আঃ) এলেন। তিনি বললেনঃ "হে মুসা। আল্লাহ আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছেন কী কারণে এই তওবাকারিণীকে তাড়িয়ে দিলেন? তার চেয়েও কি কোন অধম মানুষকে আপনি দেখেননি?” মূসা বললেনঃ “হে জিবরীল। এর চেয়ে পাপিষ্ঠ কে আছে?” জিবরীল (আঃ) বললেনঃ "ইচ্ছাকৃতভাবে নামায তরকারী।"
অপর একটি ঘটনায় বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি তার বোনের দাফন কাফন সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখলো তার মানিব্যাগটি নেই। পরে তার মনে হলো, ওটা কবরের ভেতরে পড়ে গেছে। তাই সে ফিরে গিয়ে কবর খুড়লো। দেখলো, কবর জুড়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সে পুনরায় মাটি চাপা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ী গেল। তার মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনা জানালে তিনি বললেন, মেয়েটি নামাযের ব্যাপারে খামখেয়ালী করতো এবং সময় গড়িয়ে গেলে নামায পড়তো। বিনা ওজরে নামায কাযা করলে যদি এরূপ পরিণতি হতে পারে তাহলে বেনামাযীর পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে। তা ভাবতেও গা শিউরে উঠে।
শুধু নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে নামায পড়াই যথেষ্ট নয়। নামাযকে সুষ্ঠুভাবে ও বিশুদ্ধভাবে পড়াও জরুরী। নচেত অশুদ্ধ নামায পড়া নামায না পড়ারই সমতুল্য। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে, একদিন এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলো। রাসূল (সাঃ) তখন মসজিদেই বসে ছিলেন। লোকটি নামায পড়লো। অতঃপর রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং নামায পড়। কারণ, তুমি নামায পড়নি। সে চলে গেল এবং আগের মত আবার নামায পড়ে রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে আবার বললেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং নামায পড়। কেননা, তুমি নামায পড়নি। এরূপ তিনবার নামায পড়ার পর লোকটি বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল। আমি এর চেয়ে ভালভাবে নামায পড়তে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ "প্রথমে নামাযে দাঁড়িয়ে তাকবীর বল। অতঃপর যতটুকু পার কুরআন পাঠ কর। অতঃপর রুকু কর এবং রুকুতে গিয়ে স্থির হও। অতঃপর উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াও। তারপর সিজদা দাও এবং সিজদায় গিয়ে স্থির হও। তারপর স্থির হয়ে বস। অতঃপর আবার সিজদা দাও এবং সিজদায় স্থির হও। এভাবে নামায শেষ কর।"
শিক্ষা: ঈমানের পরেই নামায সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। সময়ানুবর্তিতার সাথে ও বিশুদ্ধভাবে নামায না পড়লে আখেরাতে নাজাত লাভের আশা করা যায় না।
📄 উদ্যানের মালিকদের ঘটনা
হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, ইয়ামানে একটি চমৎকার ফলের বাগান ছিল। হযরত ঈসা (আঃ) এর উম্মতের জনৈক মুমিন ও সৎকর্মশীল ব্যক্তি এই উদ্যানটি তৈরি করেছিলেন। তাঁর নিয়ম ছিল যে, ঐ উদ্যানের ফল মূল আহরণের সময় তিনি দরিদ্র লোকদের জন্য তার একটা অংশ রেখে দিতেন। ফলে সেখান থেকে খাদ্য শস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল এবং ঐ বাগানের ওপর অনেকাংশে তাদের জীবিকা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। এ জন্য প্রতি বছর ফসল কাটার মওসুমে সেখানে ফকীর মিসকীনদের ভীড় লেগে যেত।
হযরত ঈসা (আঃ) এর আকাশে উত্থিত হওয়ার কিছুকাল পর এই পূন্যবান ব্যক্তিও ইন্তিকাল করেন। তাঁর তিন পুত্র ঐ বাগান ও ক্ষেতের উত্তরাধিকারী হলো। তারা পরস্পর এই মর্মে শলা পরামর্শ করলো যে, এখন আমাদের সদস্য বেড়ে গেছে। সেই অনুপাতে ফসলের ফলন হচ্ছে না। তাই এখন আর পিতার আমলের মত ফকীর মিসকীনদের জন্য ফসল ও ফলমূল রেখে দেয়া সম্ভব নয়। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে, কোন কোন পুত্র এও পর্যন্ত বললো যে, আমাদের পিতাতো বোকা ছিল বলে ফকীর মিসকীনদেরকে ফল-মূল বিলাতো। এখন আমাদের ঐ প্রথা বন্ধ করে দিতে হবে। তারা স্থির করলো যে, ভোর বেলা বেশ খানিকটা রাত থাকতে উঠে ফসল কেটে আনা হবে, যাতে ফকীর-মিসকীনরা টের না পায় এবং বাগানের কাছে ভীড় না জমায়। তারা দৃঢ়ভাবে সংকল্প নিল যে, ফকীর-মিসকীনদের জন্য কোনই অংশ রাখা হবে না।
কিন্তু ভোররাতের নির্দিষ্ট সময় ঘনিয়ে আসার আগেই ঐ বাগানে এক ভয়াবহ আগুনে ঝড় এসে সমস্ত ফসলকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিল। অথচ বাগানের মালিকরা এ ঘটনার বিন্দু বিসর্গও টের পেল না। কারণ তারা ঘুমিয়ে ছিল এবং ঐ ঝড় নির্দিষ্ট বাগান ছাড়া অন্য কোথাও আঘাত হানেনি।
ভোররাতে তারা যথাসময়ে বাগানে গিয়ে দেখে সেখানে একটা ফাঁকা ময়দান ছাড়া আর কিছু নেই। প্রথমে তারা ভাবলো তারা পথ ভুলে অন্য কোথাও এসে পড়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা সব কিছু বুঝতে পারলো এবং অনুশোচনা করতে লাগলো। পরে তারা তওবা করে। ইমাম বাগাওয়ী বর্ণনা করেন যে, তওবা করার পর আল্লাহ তাদেরকে আরো ভালো একটা উদ্যান দান করেছিলেন এবং তারা তাদের পিতার নীতি অনুসরণ করে আরো সমৃদ্ধশালী হয়েছিল।
শিক্ষা : এই ঘটনাটি পবিত্র কুরআনের সূরা কালামে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। এর শিক্ষা এই যে, আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ থেকে আল্লাহর পথে দান করতে থাকলে আল্লাহ সেই সম্পদ বাড়িয়ে দেন, তেমনি দান বন্ধ করলে তা তিনি ধ্বংসও করে দিতে পারেন। বিশেষত, যেখানে কোন সৎকর্ম আগে থেকে চালু রয়েছে সেখানে তা বন্ধ করে দিলে আল্লাহর গযব নাযিল হওয়া অবধারিত হয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা যদি আমার নিয়ামতের শোকর আদায় কর, তবে আমি তা আরো বাড়িয়ে দেব। আর যদি নাশোকরী কর তবে জেনে রেখ, আমার আযাব অত্যন্ত ভয়ংকর।" (সূরা ইবরাহীম) এ কথা সহজেই বোধগম্য যে, আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে দরিদ্রদেরকে বঞ্চিত করা এবং শুধু নিজেই সম্পূর্ণটা ভোগ করা চরম নাশোকরী ও অকৃতজ্ঞতার শামিল।
📄 আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিরুদ্ধে শত্রুতার পরিণাম
হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত মূসা (আঃ) এর আমলে বনী ইসরাইল গোত্রে একজন নামকরা আলেম ছিলেন। তাঁর নাম ছিল বালয়াম বাউরা। তিনি তাওরাতের হাফেয ও মুফাসসির ছিলেন এবং ইসমে আযম জানতেন। তাঁর একটি বিশেষ মর্যাদা ছিল এই যে, আল্লাহর ইসমে আযম উচ্চারণ করে তিনি যে দোয়াই করতেন, তা আল্লাহ কবুল করতেন এবং এ বিষয়টি বনী ইসরাইল ও অন্যান্য গোত্রের লোকদের জানা ছিল।
হযরত মূসা (আঃ) যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন বালয়াম বাউরা কিনানে বনী ইসরাইলের ঘনিষ্ট সান্নিধ্যে বাস করতেন এবং তাদের ও হযরত মূসার (আঃ) সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হযরত মূসা (আঃ) এর ইন্তিকালের পর যখন তাঁর ভাগ্নে হযরত ইউশা ইবনে নূন (আঃ) বনী ইসরাইলের শাসক ও খলীফা নিযুক্ত হন, তখন বালয়াম বাউরা তাঁর সরকারের একটি উচ্চ পদ লাভের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু হযরত ইউশা (আঃ) তা দিতে অস্বীকার করায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে পার্শ্ববর্তী মোশরেক রাজ্য বেলকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করেন। এই রাজ্যের রাজা তাকে বসবাসের জন্য একখন্ড জমি দান করেন এবং সেখানে তিনি বাড়ী বানিয়ে বসবাস করতে থাকেন।
ওদিকে হযরত ইউশা (আঃ) এর নেতৃত্বে বনী ইসরাইল পার্শ্ববর্তী ইল্লিয়া রাজ্য জয় করে বেলকা রাজ্যের সীমান্তে উপনীত হয়। বেলকার মোশরেক রাজ্য দখল করে সেখানে ইসলামের পতাকা উত্তোলন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আদেশ দেন। তদনুসারে হযরত ইউশা বেলকা রাজ্যের মোশরেক রাজাকে ইসলাম গ্রহণ নতুবা আত্মসমর্পণের জন্য চরমপত্র দেন। বেলকার রাজা চরমপত্র প্রত্যাখ্যান করে হযরত ইউশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হয় এবং তাতে হযরত ইউশার বাহিনী বিজয়ী হয়। বেলকার রাজার সৈন্যদের একাংশ নিহত হয় এবং অপরাংশ পালিয়ে যায়। এই অবস্থায় অনন্যোপায় হয়ে উক্ত রাজা বালয়াম বাউরার শরণাপন্ন হয়। সে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে যে, আমার এই বিপদের দিনে আপনার সাহায্য আমার একান্ত প্রয়োজন। আপনি আপনার আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন আমরা ইউশার সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়লাভ করতে পারি ও তাকে তাড়িয়ে দিতে পারি।
বালয়াম বাউরা বললেন, হযরত ইউশা (আঃ) আল্লাহর নবী ও প্রিয় ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে দোয়া করা আমার পক্ষে ঘোরতর পাপের কাজ হবে। তাছাড়া এরূপ দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় না। আপনি বরঞ্চ ইসলাম গ্রহণ করুন। আপনার রাজ্য নিরাপদ থাকবে।
রাজা ভীষণ ক্রুদ্ধ হলো। সে বালয়াম বাউরাকে একদিকে হত্যার ভীতি প্রদর্শন করতে লাগলো, অপরদিকে বালয়াম বাউরার স্ত্রীর কাছে গোপনে দূত পাঠিয়ে বিপুল অর্থ প্রদানের প্রলোভন দিতে লাগলো। বালয়াম বাউরা দেখলেন, তিনি আপনজনদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি কাফের রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে তাদের মুঠোর মধ্যে চরম অসহায় অবস্থায় পতিত হয়েছেন। এখানে রাজার বিপুল শক্তির মোকাবিলা করা তার সাধ্যাতীত। অপরদিকে অর্থের প্রলোভনেও তিনি দিশাহারা হয়ে পড়লেন। তাই তিনি রাজাকে বললেন, আমাকে একদিন সময় দিন। রাজা তাকে সময় দিল। বালয়াম বাউরার নিয়ম ছিল, কোন বিষয়ে দোয়া করতে হলে প্রথমে আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইতেন। আল্লাহ তাকে স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে, আমার নবীর বিরুদ্ধে কোন দোয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং এরূপ দোয়া করলে তোমার দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যাবে।
বালয়াম বাউরা রাজাকে তার স্বপ্নের কথা জানালেন। রাজা তাকে বললেন, আপনাকে আরো একদিন সময় দেয়া গেল। আবার অনুমতি প্রার্থনা করুন। বালয়াম বাউরা আবারও অনুমতি প্রার্থনা করে ঘুমিয়ে গেলেন। এবার তাকে স্বপ্নে কিছুই জানানো হলো না। বালয়াম বাউরা কিছুটা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে গেলেন। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে আছেন এমন সময় রাজার দূত এসে তাকে আবার তাড়া দিল দোয়া করার জন্য। এই সময় শয়তান তাকে এই মর্মে প্ররোচনা দিল যে, গত রাতে আল্লাহ যে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তাকে মৌন সম্মতি ধরে নেয়া যায়। তাছাড়া দোয়ার মাধ্যমে কাফের বাদশাকে বিজয়ী হতে সাহায্য করলে সে হয়তো তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে এবং পরবর্তী সময়ে তাকে হেদায়াত করা সহজ হবে। অথচ তিনি একথা ভেবে দেখলেন না যে, আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে শত্রুতার আচরণ করা কত বড় মারাত্মক গুনাহর কাজ এবং এরূপ কাজ করে কোন বাতিল শক্তিকে সত্যের দিকে আকৃষ্ট করার আশা দুরাশা মাত্র। তাছাড়া যে কাজ আল্লাহর কিতাবে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, স্বপ্নের মাধ্যমে তার রদবদল হতে পারে না। আসলে দুনিয়াবী স্বার্থের মোহে অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি এ দিকটি ভেবে দেখার প্রয়োজন বোধ করেননি।
বালয়াম বাউরা চিরাচরিত নিয়মে তার গাধার পিঠে চড়ে পাহাড়ের ওপর নির্মিত তার নির্জন ইবাদতখানায় রওনা হলেন রাজার পক্ষে দোয়া করার মতলবে। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে, এই সময় আল্লাহর হুকুমে গাধাটির চলনশক্তি রহিত হয়ে যায়। বালয়াম বাউরা তাকে প্রহার করতে আরম্ভ করলে সে বাকশক্তি প্রাপ্ত হয় এবং বলে যে, তুমি যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছ, আল্লাহ আমাকে সেজন্য তোমাকে বহন করে নিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন। এই সময় রাজার লোকজনদের একটি বিরাট দল বালয়াম বাউরার সঙ্গে যাচ্ছিল। বালয়াম বাউরা অগত্যা সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই দোয়া করলেন। কিন্তু তিনি যে দোয়া করলেন, তার মুখ দিয়ে ঠিক তার বিপরীত কথা তার অজান্তেই উচ্চারিত হতে লাগলো। তিনি বললেন, “রাজাকে বিজয়ী কর।” কিন্তু সবাই শুনতে পেল, যেন তিনি বলছেন “হযরত ইউশাকে বিজয়ী কর।” তাই রাজার লোকেরা চিৎকার করে প্রতিবাদ করতে লাগলো। তার বললো, ওহে বালয়াম, আপনি তো উল্টা দোয়া করছেন। বালয়াম বললেন, আমি ঠিকই দোয়া করছিলাম। কিন্তু আমার জিহ্বা এখন আমার আয়ত্বের বাইরে চলে গেছে। এই সময়ে বালয়াম বাউরার জিহ্বা হঠাৎ কুকুরের জিহবার মতো লম্বা হয়ে বুকের উপর ঝুলে পড়লো। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে, শুধু জিহবা নয়, তার শরীরের ওপরের অর্ধাংশ কুকুরের মতো হয়ে যায় এবং নিম্নাংশ মানুষের মত বহাল থাকে।
এবার বালয়াম বাউরা বললো, আমার তো দুনিয়া ও আখেরাত দু'টোই বরবাদ হয়ে গেল। এখন তোমরা একটি কাজ কর। তোমরা তোমাদের সুন্দরী নারীদেরকে বনী ইসরাইলী সৈন্যদের মধ্যে লেলিয়ে দাও। এতে তারা ঐ নারীদের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে এবং তাদের পরাজয় অবধারিত হবে। রাজা এই পরামর্শ অনুসারে কাজ করলো এবং সকল সুন্দরী যুবতীদেরকে সৈন্য বাহিনীর মধ্যে ছড়িয়ে দিল। বনী ইসরাইলী বাহিনী এই পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারলো না। তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হলো এবং তাদের মধ্যে প্লেগ ছড়িয়ে পড়লো। ফলে বহু সংখ্যক সৈন্য মারা গেল এবং পরাজয়ের সম্মুখীন হলো। আল্লাহর নবী হযরত ইউশা (আঃ) এই অবস্থা দেখে সেনাবাহিনীর মধ্যে আল্লাহর ভীতি জাগিয়ে তুললেন এবং বেহায়া নারীগুলিকে ধরে ধরে হত্যা করলেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃংখলা ও খোদাভীতি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর তিনি পুনরায় সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ চালালেন। এবার তার বাহিনী জয়যুক্ত হলো এবং বেলকার রাজ্য থেকে মোশরেক রাজার রাজত্ব সমূলে উৎখাত করা হলো। বালয়াম বাউরা যুদ্ধে মারা না গেলেও তার কাছ থেকে ইসমে আযম কেড়ে নেয়া হলো এবং অতঃপর তার আর কোন দোয়া কবুল হতো না। আর তার দেহাকৃতিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা তার মৃত্যু পর্যন্ত বহাল রইল। (তাফসীরে খাযেন, কাসাকুল আম্বিয়া, তাফসীরে মায়ারিফুল কুরআন)
শিক্ষা: এই ঘটনা থেকে নিম্নলিখিত শিক্ষাসমূহ গ্রহণ করা যায়ঃ
১. নিজের জ্ঞান গরিমা ও ইবাদাত উপাসনার ব্যাপারে কারো গর্বিত হওয়া উচিত নয়। কারণ শয়তান ও খোদাদ্রোহী মানুষদের প্ররোচনায় বিপথগামী হওয়া মোটেই বিচিত্র নয়, যদি আল্লাহ সাহায্য ও রহমত না করেন।
২. এমন পরিবেশ ও কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা উচিত, যাতে ঈমান ও চরিত্র বিপন্ন হবার আশংকা থাকে। বিশেষতঃ দুনিয়াবী স্বার্থের ক্ষতির কারণে উত্তেজিত হয়ে সৎ লোকদের সংসর্গ ত্যাগ করে অসৎ ও বাতিলপন্থীদে সংসর্গ গ্রহণ করা নিজের ঈমান ও চরিত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার শামিল।
৩. কোন অবস্থাতেই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত লোকদের সাথে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করা উচিত নয়। হাদীস কুদসীতে আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কোন প্রিয়জনের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করি।
৪. অসৎ ও পথভ্রষ্ট লোকদের সাথে সম্পর্ক রাখা এবং তাদের নিমন্ত্রণ ও উপহার-উপঢৌকন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ কাজ করেই বালয়াম বাউরা আল্লাহর গযবে পতিত হয়েছিল।
৫. অশ্লীলতা ও হারামের অনুসরণ গোটা জাতির ধ্বংস ও পতন ডেকে আনে。
৬. অসৎ কাজে ও অশ্লীলতায় প্ররোচনাদানকারীকে চাই সে নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন, কঠোর হস্তে দমন করা কর্তব্য।
৭. আল্লাহর প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা, মেধা, প্রতিভা এবং ক্ষমতা ও পদমর্যাদাকে আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও আল্লাহর দ্বীনের ক্ষতি সাধনে, ব্যবহার করা আল্লাহর গযবকে ডেকে আনার শামিল। এ ব্যাপারে সকলের সতর্ক থাকা উচিত।